ফুটবলের শৈশব কেটে গেছে ক্রিকেটের প্রতাপে

আনোয়ার সাদী

ফুটবলের শৈশব কেটে গেছে ক্রিকেটের প্রতাপে

এখনকার অনেক বাচ্চাদের মতো আমাদের শৈশব কেবলি ক্রিকেটময় ছিলো না। আমরা ফুটবলের রেশটুকু পেয়েছি। তখনকার তারুণ্য ছিলো আবাহনী মোহামেডানের নীল আর সাদাকালোয় মোড়া। একেকটা খেলা মানে হাজার হাজার গজ কাপড়ের পিন্ডি চটকানো, পাড়া মহল্লা রঙিন হয়ে ওঠা। মানে পতাকার বিরুদ্ধে পতাকার লড়াই। 

আর খেলায় কোনো না কোনো পর্যায়ে মারামারি একটা প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে ওঠতো। সে সবও দারুন উত্তেজনা ছিলো। আমাদের বাড়ির সামনে বিশাল একটা মাঠ ছিলো।তা পেরিয়ে ধান ক্ষেত, সে গিয়ে মিশেছে নদীতে। দিগন্ত আমাদের অনেক পরিচিত কিন্তু রহস্যে ঘেরা হাতছানির অপর নাম ছিলো। 

আমাদের সন্তানরা এখন খোলা মাঠে গেলে ওপরে তাকিয়ে বলে, দেখো বাবা, আকাশ বাঁকা, তার মানে পৃথিবী গোল। আজন্ম আকাশ দেখা চোখে আলাদা কোনো মানে আমাদের মনে তৈরি হতো না। 


তুমি হয়তো ক্ষতি দেখছো না

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে এখন যা জানা দরকার

শিশুকে বেধড়ক পেটানো বন্ধ করুন  

বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন


আমরা ফুটবল খেলতাম মাঠে, দেখতাম মাঠে, শুনতাম রেডিও-তে আর বিশ্বকাপ দেখতাম টিভিতে। এখন বাচ্চারা খেলা দেখে টিভিতে বা কম্পিউটারে বা মোবাইলে। খেলেও কম্পিউটারে বা মোবাইলে। মাঠসংকটের এই পৃথিবী আমরাই তৈরি করেছি। আমরা মানে আমি আপনি আর আমাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা। 

যাহোক, সেটা আমার আলোচনার বিষয় না। আমার আজকের আলোচনার বিষয় খেলোয়াড়। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান।

আজ সাকিব আল হাসানের জন্মদিন। যেকোনো জন্মদিনকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দেই। এটা আমার কাছে একটা রহস্যময় মহাজাগতিক ঘটনা মনে হয়। এর মানে এই পৃথিবীতে একজনের পথচলা শুরু হলো। এই মহাজগত, এই মহাজগতের অফুরন্ত  সময়ের অল্প একটু নিয়ে এই যে আমাদের পথচলা, তার শুরুটা আমি দারুনভাবে উপভোগ করি।

এই যে বলছি, অফুরন্ত সময়ের অল্প একটু সময় আমরা পাই, আমাদের মাঝে কেউ কেউ সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে মহাসময়কে জয় করে নেয়। ব্যক্তি মানুষটা হয়তো থাকে না, কিন্তু কাজের মাধ্যমে কেউ কেউ তার উপস্থিতির জানান দিয়ে যায়। একই সময়ে তারা সমসাময়িক অনেকের অনেক ভালোবাসা নিয়ে পথ চলাকে সহজ করে এগিয়ে যায়। 


পরিচিত অনেকে মরে যাচ্ছে

নোয়াখালীর ঘটনা পশুদেরও লজ্জা দেবে

ছাত্রীর দুঃখজনক মৃত্যু, দিহান ও ভরসার প্রেম


সাকিব আল হাসান এমন একজন ক্রিকেটার যিনি নিজেকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ হয়তো পেয়েছেন। হয়তো পেয়েছেন বলছি, কেননা কিছু চেষ্টা নিজের থাকতে হয়, কিছুটা রাষ্ট্রকে বা সমাজকে বা সম্ভাবনাময় মানুষদের আশপাশে যারা থাকে তাদের ত্যাগ ও সমর্থন দরকার পরে। সাকিব তা পেয়েছেন কী না আমি জানি না। গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে আমি তার বিতর্কে জড়িয়ে পরা দেখি, মাঠে তাকে নানাভাবে দেখি। 

যাহোক, সবকিছু ছাপিয়ে আপাতত তাকে শুভেচ্ছা জানাই। খেলার কথা বলতে গিয়ে আরো একজন ক্রিকেটারকে আমার মনে পড়ে। তিনি আশরাফুল। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ আশার ফুল উপাধি দেয় নাই। তারপরো আশরাফুল মানে আশার ফুল হয়ে ওঠা সমর্থন করেছেন এদেশের মানুষ, তাই না ? যেমনি করে আমরা বলি সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের মান। দু:খের বিষয় দুই ক্রিকেটারেরই বিতর্কে জড়িয়ে পরার, সাজা পাওয়ার নজির রয়েছে। 

যাহোক, আমাদের শৈশবে গ্রামে গঞ্জে খুব কমই ক্রিকেট খেলা হতো। ধান ক্ষেত সমান করে লোকে ফুটবলই খেলতো। ফুটবল কেনার পয়সা না থাকলে জাম্বুরা দিয়ে খেলা হতো। একটা ভালো ফুটবল কেনা কিশোরদের স্বপ্ন ছিলো। 

সেই স্বপ্নে তাড়িত হয়ে আমি একজোড়া বুট জুতা বানিয়েছিলাম। ফুটবল খেলার জন্য। নানা সময়ে সালামি পাওয়া জমানো টাকায় বুট জুতা বানানোর খরচ হাতে না আসায় বাসার কিছু পুরনো বই বিক্রি করে দিয়েছিলাম। 


আপনি কী শেখ হাসিনার ফোন পেয়েছেন?

যুক্তরাষ্ট্রে মারামারি কী হবেই?


মনে পড়ে, তখন আমি সেভেন কী এইটে পড়ি। সেই পুরনো বইয়ের মাঝে আমার বড় ভাইয়ের একটা ইংরেজি গ্রামার বইও ছিলো। মোটা বইয়ে ওজন বেশি হয় বলে টাকা একটু বেশি পাওয়া যেতো। সন্ধ্যায় বড় ভাইয়ের বই খোঁজার আন্তরিকতা দেখে একই সঙ্গে অনেক খানি ভয় পেয়ে, দোকান থেকে আবারো সেই গ্রামার বই ফিরিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু বইটির প্রথম কয়েক পৃষ্টা উদ্ধার করতে পারিনি। হয়তো কারো হাতে মুড়ালি বা বিস্কুটের সঙ্গে চলে গেছে বিদেশি ভাষার নিয়মনীতিগুলো।  

এসবই খেলার প্রতি, খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। সব বিতর্ক কাটিয়ে সাকিব আল হাসান বিশ্ববরেণ্য হয়ে ওঠুন, জন্মদিনে তার জন্য এই শুভকামনা রাখলাম।  

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাল-পরশু হয়তো লকডাউনটা আরো ‘ডাউন’ হয়ে যাবে

শওগাত আলী সাগর

কাল-পরশু হয়তো লকডাউনটা আরো ‘ডাউন’ হয়ে যাবে

করোনায় কেন ঘরে থাকতে হবে- কেন বাইরে যাওয়া যাবে না, কেন সরকারকে লকডাউন দিতে হয়- এই সব প্রশ্নের উত্তর নিজের মনের মধ্যে প্রোথিত করা না গেলে- সরকার শত চেষ্টা করেও মানুষকে আটকে রাখতে পারবে না। গত এক বছরে কোভিডের এই জরুরী বার্তাটা যে সব দেশ মানুষের মনের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে পেরেছে,তারা যথেষ্ট পরিমানে সাফল্যও পেয়েছে। বাংলাদেশে এই ব্যাপারে উদ্যোগ এবং সাফল্য- দুটো নিয়েই প্রশ্ন করার সুযোগ আছে।

মানুষকে, নাগরিকদের সচেতন করবে কে? সরকারের দায়িত্ব অবশ্যই আছে। কিন্তু সরকারের বাইরে যদি সত্যিকার অর্থে সচেতন কোনো জনগোষ্ঠী থাকে- তাদের ভূমিকাও এখানে জরুরী। বিভিন্ন দেশে তাই হয়েছে। মিডিয়া, সমাজের সচেতন অগ্রসর শিক্ষিত মানুষেরা, সেলেব্রেটিরা, সামাজিক, ধর্মীয় নেতারা নিজ উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করার, মানুষের মনের ভেতর বার্তা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব তুলে নিয়েছে।

ঢাকায় ‘মুভমেন্ট পাসে’র আইডিয়াটা কার মাথা থেকে এসেছে জানি না। লকডাউন ঘোষনা দেয়া হয়েছে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য। তার সঙ্গে যখন ’মুভমেন্ট পাসে’র প্রসঙ্গ আসে, তখন ’লকডাউনে বাইরে যাওয়ার সুযোগ আছে’- এই বার্তাটাও ছড়িয়ে পরে। ‘লকডাউনে কেউ বাইরে যাবে না’- এটাই যেখানে হওয়ার কথা মূল বার্তা, সেখানে লকডাউনের প্রথম দিনের মিডিয়া,টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে মুভমেন্ট পাস এবং তার নামে পুলিশের বাড়াবাড়ির কথা।

লকডাউনে জরুরী প্রয়োজনে মানুষ বাইরে যাবে না- তা নয়। কিন্তু সেই ’জরুরী’টা যেনো সত্যিকারের জরুরী হয়- সেই প্রচারনাটাও দরকার। রাষ্ট্র নির্দেশনা দেবে আর সমাজের নানা শক্তি সেই নির্দেশনা প্রচারে আত্মনিয়োগ করবে- মহামারীকালের এটাই তো স্বাভাবিক চিত্র।


আরও পড়ুনঃ


যেভাবে পাওয়া যাবে ‘লকডাউন মুভমেন্ট পাস’

চীনে সন্তান নেয়ার প্রবণতা কমছে, কমছে জন্মহার

কুমারীত্ব পরীক্ষায় 'ফেল' করায় নববধূকে বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ

বাদশাহ সালমানের নির্দেশে সৌদিতে কমছে তারাবির রাকাত সংখ্যা


পত্রিকার খবরে পড়লাম, দ্বিতীয় দিনে পুলিশ একটু ঢিলে দিয়েছে। প্রথম দিনের তুমুল সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার কারনে তারা আর কড়াকড়ি আরোপে উৎসাহ পাচ্ছেন না- ব্যাপারটা এমন কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কাল পরশু হয়তো লকডাউনটা আরো ‘ডাউন’ হয়ে যাবে। তখন আমরা আবার সমালোচনা শুরু করবো। কিন্তু লকডাউনটা কেন দরকার, মানুষ যেনো ঘরে থাকে, নিয়ম মানে- সে ব্যাপারে সোচ্চার হবো না।

নাগরিকরা সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে, ব্যর্থতা নিয়ে অবশ্যই কথা বলবেন, সমালোচনা করবেন। কিন্তু কোভিড মহামারীকালে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করা, সচেতন করাটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আব্দুল মতিন খসরু একজন সহজ মানুষ

খালেদ মহিউদ্দিন

আব্দুল মতিন খসরু একজন সহজ মানুষ

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও বাধ্যবাধকতা নিয়ে একটি স্টোরি করব বলে একমাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

আইনমন্ত্রীর মন্তব্য দরকার। বিষয়টা সরকারেরর জন্য একটু বিব্রতকর বলে মন্ত্রীকে পাই না তো পাই ই না।  অবশেষে তার ব্যক্তিগত সহকারি মারফত জানলাম, মন্ত্রী আমাকে সময় দিয়েছেন শুক্রবার সকাল পাঁচটায়। এইদিন তিনি তার কুমিল্লার বাড়িতে যাবেন। আমি ইচ্ছে করলে তার সঙ্গে যেতে পারি, বিকেলে তিনি ফিরবেন। আসা যাওয়ার পথে তাকে ইন্টারভিউ করা যাবে। 

আমার দরকার একটামাত্র কোট, তার জন্য ছুটির দিনের ছয় থেকে আট ঘণ্টা মাটি করব? ভাবলাম যা আছে কপালে! মন্ত্রী আমার সঙ্গে খেলছেন আমিও তার সঙ্গে খেলি।  চারটা ৫৫ মিনিটে মন্ত্রীর বাসায় হাজির হলাম। মন্ত্রীর এপিএস মাহবুব ভাই ছাড়া কাউকে চিনি না। তিনি অপেক্ষা করতে বললেন। মন্ত্রী সোয়া পাঁচটায় নামলেন। আমাকে দেখে অবাকই হলেন মনে হয়, সত্যি সত্যি ভোর পাঁচটায় আসব বোধহয় ভাবেন নাই। তার  গাড়িতে পাশাপাশি বসে রওনা হলাম কুমিল্লা।

পতাকার গাড়ি কাঁচপুর ধরতেই, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানতে চাইলাম। কড়া প্রস্তুতি ছিল আমার, উনি ডান বাম করতে চাইলেও মন্তব্য করতে একরকম বাধ্য করলাম তাকে। গাড়ি ছুটছে, মন্ত্রী একটু চুপ মেরে গেলেন। আমার রিপোর্ট হয়ে গেছে। আমি ফুরফুরে মেজাজে ঢাকার ধূসর পেছনে রেখে সবুজে ডুবে গেলাম জানালায় চোখ রেখে।

সাংবাদিক সাহেব আপনার বয়স কত? জ্বি ২৫। আইনমন্ত্রী আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে তার মন্তব্য তাকে কতখানি ভোগাবে তাই ভাবছিলেন বোধ হয়। 

অনেকক্ষণ পর নিজেরে সামলে নিলেন, জানতে চাইলেন কী খাব দুপুরে? পুকুর থেকে ধরা তাজা মাছ দিয়ে মাসকলাই এর ডাল আর ভাত খাব। 

এতক্ষণে তার মুখ হাসি হাসি হয়ে উঠল। বললেন উত্তম প্রস্তাব। কিন্তু যাইতেছে মন্ত্রী ওরা কী আর ডালভাত খাওয়াবে? দেখি তবুও। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করে ডিসিরে জানতে চাইলেন, দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা কি? উত্তেজিত ডিসি মহোদয় পোলাও কোর্মা আর রোস্টের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, মন্ত্রী বললেন, একজন বাচ্চা জার্নালিস্ট আজকে আমার মেহমান। সে মাসকলাই এর ডাল আর ভাত খেতে চায়। আমি তারে কথা দিয়ে ফেলছি। আপনারা জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পোলাও কোর্মা খান। আমার আর তরুণ জার্নালিস্টের জন্য ডাল আর ভাত। 

খিদে জিইয়ে রাখার জন্য সকাল থেকে আর কিছু খাইনি। জুমার আগেই দুপুরের খাবার দেওয়া হল। কুমিল্লার মানুষ সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত দৃশ্যের। সবাই খায় তিন চার পদের মাংস বড় মাছ। মন্ত্রী আর ছোট এক সাংবাদিক খায় ডালভাত। ফেরার সময় তার সঙ্গে খাওয়া নিয়ে বেশ হাসাহাসি হল। 

মন্ত্রী বললেন, আমার কল্যাণে তার ফেভারিট ডিশ খাওয়া হল। জানতে চাইলেন, আমার গ্রামের বাড়ি কই। ইনসিডেন্টালি আমরা তখন আমার দাদাবাড়ি পার হচ্ছি। বললাম। তিনি সবিস্ময়ে বললেন এতক্ষণ বল নাই কেন? আমি হাসলাম।

ওই ট্রিপ থেকে ফিরে আমার লিড স্টোরি নামল। সংসদের ভেতরে বাইরে তা নিয়ে কথা হল। সমালোচনার মুখে চুপ করে থাকলেন আইনমন্ত্রী। ঘনিষ্ঠজনেরা বললেন তার বিস্ময় নাকি আকাশ স্পর্শ করল যখন সপ্তাহ না ঘুরতে তিনি দেখলেন তারে নিয়া আমি প্রথম আলোর কমিক সাপ্লিমেন্ট আলপিনে একটা কাভার স্টোরি লিখেছি। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একদিন শিরোনামের ওই লেখায় দেখিয়েছি তিনি কেমন ফানি ক্যারেক্টার। তার মন্ত্রণালয়ের অনেকে হারেরেরে করে উঠলেও তিনি ছিলেন স্বাভাবিক। শুধু বললেন, ছেলেটা মনে হয় ভাল। 

আরও অসংখ্যবার তার পেছনে লেগেছি আমি, টকশোতে বিব্রত করেছি কত বার! কত লোকে কত কথা বলেছে, তিনি কিন্তু বলেছেন, ছেলেটা মনে হয় ভাল।

খসরু ভাই, ২২ বছর ধরে আমার আপনজন, আপনার জন্য আমার খারাপ লাগতেছে!

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিদায় আব্দুল মতিন খসরু

আনোয়ার সাদী

বিদায় আব্দুল মতিন খসরু

আনোয়ার সাদী

আব্দুল মতিন খসরুকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কুমিল্লা বোর্ডে। তখন আমি আইনের ছাত্র। সেখানে একটা সামার স্কুল হচ্ছিল মানবাধিকার বিষয়ে। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মিজানুর রহমান স্যার ও আইন কমিশনের সাবেক সদস্য প্রফেসর শাহ আলম স্যার ছিলেন উদ্যোক্তা। এটি মানবাধিকার ও কমিউনিটি আইন সংস্কার বিষয়ে দেশের প্রথম আবাসিক ক্যাম্প ছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সীমিত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা সেই স্কুলে অংশ নিয়েছিলেন। 

আপনারা বুঝতেই পারছেন, সরাসরি আইনমন্ত্রীর মুখে মানবাধিকার প্রসঙ্গ ও আইনের সংস্কার বিষয়ে জানতে পারা কতো আনন্দের বিষয় ছিলো তখন। অল্প সময়ের জন্য  ফার্স্ট সামার স্কুলের সবাই দাবি করতেই পারি, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর সরাসরি ছাত্র আমরা। এক ঘণ্টার জন্যে হলেও।   

বিশ্ববিদ্যালয় পার করে আমি সাংবাদিকতায় যোগ দেই । চ্যানেল আইয়ে থাকতে কোর্ট বিট করতে অসংখ্য বার উচ্চ আদালতে যেতে হয়েছে। যতবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, ততবারই তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন। সামার স্কুল তার মনে দাগ কেটে ছিলো। 

এরপর নিউজ টোয়েন্টিফোরে তিনি আমার উপস্থাপিত টকশোতে বেশ কয়েকবার গেস্ট হয়েছেন। অনেক অপ্রিয় প্রশ্নের সহজ সাবলীল জবাব দিয়েছেন। ক্যাসিনো কাণ্ডের পর এক শোতে তিনি আ্ওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠ  বাষ্পরুদ্ধ হয়ে যায়। 

বলেন, কতো কষ্ট করে মাঠ পর্যায় থেকে কাজ করে করে, দলের প্রথম সারিতে এসেছেন, কিন্তু হাইব্রিড ও দুর্নীতিবাজদের জন্য বড় দুর্নাম হয়ে গেলো দলের। তার বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠের রেশ ধরে সেদিন আমাকে  শো এর বিরতি টানতে হয়েছিলো।
 
আব্দুল মতিন খসরু বলতেন বেশ ভালো। সংসদে তার সরব উপস্থিতি ছিলো। অনেকে বলেন, মন্ত্রী নয় বরং এমপি থাকাকালে তিনি দলের বিবেচনায় দুর্দান্ত দুটি বক্তৃতা করেছিলেন। একটি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিষয়ে, অপরটি বেগম জিয়ার বাড়ি বিষয়ে। 

যাহোক, আ্ওয়ামী লীগ তাকে দলীয় বিবেচনায় মূল্যায়ন করবে, আর রাজনীতি তাকে সময়ের পরিক্রমায় বিবেচনা করবে। তবে ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি শুরু করে মুল দলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা আব্দুল মতিন খসরু রাজনীতির ছাত্রদের গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণীয় হবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিদায় জনাব আব্দুল মতিন খসরু। 


আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ চলে যাওয়া বেদনার

জুনাইদ আহমেদ পলক

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ চলে যাওয়া বেদনার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত সভাপতি, সাবেক আইন মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

তিনি তৃনমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির চূড়ায় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য। এরপর তিনি অখন্ড কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সর্বশেষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম - সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ‌

১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কিছুদিন পরে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।‌ তিনি ‌জাতীয় সংসদে কালাকানুন ইনডিমিনিটি আইন বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের উপর তিনি জাতীয় সংসদে পরম আবেগ‌ ও যুক্তিনির্ভর যে ভাষণ দিয়েছেন তা সংসদীয় ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি কুমিল্লা বার থেকে উঠে এসে ক্রমশ সর্বোচ্চ আদালতে একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে অপরিহার্য করে গড়ে তুলেছিলেন। ‌যার ফলশ্রুতিতে মাত্র ক'দিন আগেই এই অমর ব্যক্তি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ‌ দুর্ভাগ্য তাঁর এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ হল না।‌

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞ আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারকের অসময়ে চলে যাওয়া বড় বেশী বেদনার।‌

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আমি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই

রউফুল আলম

নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই

রউফুল আলম

স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে যখন গবেষণা শুরু করলাম, আমার বয়স তখন উনত্রিশ। আমি লক্ষ করলাম, ল‍্যাবের অন‍্যান‍্যদের বয়স চব্বিশ-পঁচিশ। এই বিষয়টা আমাকে খুবই কষ্ট দিতো। আমার মাঝে মাঝে অসম্ভব খারাপ লাগতো। ল‍্যাবের যে পোস্টডক স্টুডেন্ট আমাকে শুরুর দিকে গাইড করতো, তার বয়স ছিলো আমার সমান। তার নাম পিলারস্কি। 

এখন সে সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। কাজের আগ্রহ ও অগ্রগতি দেখে, এই ছেলেটা আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলো, আমি কেন দেরি করে কাজ শুরু করেছি। আমি তাকে বহুবার সেশন-জট বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করে ব‍্যর্থ হয়েছি। 

আমার প্রফেসরও আমাকে একই কথা কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলো। তাকেও বুঝাতে পারিনি। সেশন-জট আমার জীবন থেকে প্রায় চার বছর গায়েব করে দিয়েছে। সেই সময়গুলো খোয়া না গেলে হয়তো আরো এগুতে পারতাম। গর্ব করে বলছি না (ক্ষমা করবেন), প্রসঙ্গত বলছি, সেসময়ে আমার প্রফেসরের গ্রুপে বেস্ট কাজ এবং বেস্ট পাবলিকেশন করেছিলাম আমি। পিএইচডির দুই বছর যেতেই আমার থিসিস ডিফেন্স করার মতো পাঁচটা পাবলিকেশন ছিলো (JACS & ACIE সহ)। 

আমাদের দেশের অসংখ‍্য ছেলে-মেয়ের ভিতর একটা অফুরান আগ্রহ থাকে। সুপ্ত একটা জেদ থাকে। নেশা থাকে। লেগে থাকার শক্তি থাকে। এটা আমরা বের করে আনতে পারিনা। আমাদের ছেলে-মেয়েদরকে তো আমরা তেমন কোন সুবিধা দিতেই পারিন না, উপরন্তু জীবন থেকে সময় খেয়ে ফেলি। দুনিয়ার কোন নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই। আমাদের দেশে এখনো আছে। জেলায় জেলায় ইউনিভার্সিটি খুলছি, আর ছেলে-মেয়েদের “সেশন-জট” উপহার দিচ্ছি। জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের কথা তো বলাই বাহুল‍্য!  


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


সেশন-জটের কারণে আমাদের অসংখ‍্য স্টুডেন্টদের স্পিরিট নষ্ট হয়ে যায়। পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে যায়। মটিভেশনটাই ধূলোয় মিশে যায়। এটা বন্ধ করতে হবে, সব প্রতিষ্ঠান থেকে।   

স্টুডেন্টদেরকে বড়ো বড়ো স্বপ্ন দেখান। তাদেরকে দুনিয়ায় ছড়িয়ে যেতে বলুন। তারা যখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে তখনই বলুন, যাদের উচ্চতর গবেষণার আগ্রহ আছে, তারা যেনো মাস্টার্স করে সময় নষ্ট না করে। বিদেশে গিয়ে মাস্টার্স করতে বলুন। বহু স্টুডেন্ট এখন কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, জাপান, ইরান, তুরস্ক—এসব দেশে গিয়ে মাস্টার্স করে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা ও পথ খুঁজে পায়। বহু ছেলে-মেয়ে এখন ব‍্যাচেলর শেষ হওয়ার আগেই জিআরই-টোফেল দিয়ে নর্থ আমেরিকায় চলে আসছে। স্টুডেন্টদের এই গতিস্রোতটাকে আরো জাগিয়ে দিন। 

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সমাজে গবেষণায় একটা রেভুল‍্যুশনের প্রস্তুতি পর্ব চলছে। এবং সেই প্রস্তুতি পর্বে অসংখ‍্য ছেলে-মেয়েকে দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হবে। এছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। কারণ দেশে বসে তো ওরা কাটিং-এজ গবেষণার কিছুই শিখতে পারবে না। সুতরাং তাদের জীবনের সময়টুকু বাঁচিয়ে তাদেরকে বেড়িয়ে পড়তে সর্বাত্বক সহযোগিতা করুন। বিশ্বমানের তারুণ‍্য ছাড়া, বিশ্বমানের সমাজ কখনো গড়া যায় না। অসম্ভব! 

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর