পবিত্র শবে বরাত রাতে ইবাদত করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন

অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র শবে বরাত রাতে ইবাদত করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন

ইসলামে শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। হজরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন অর্ধশাবানের রাত আসে তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত কর এবং পরের দিনটিতে রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোনো রিজিক প্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দান করব। কোনো বিপদগ্রস্থ আছে কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করব। আর সুবহে সাদেক পর্যন্ত এ ডাক অব্যাহত থাকে । (ইবনে মাজাহ)।

শবে বরাতের ফজিলত বিষয়ে এ হাদিসটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও গ্রহণীয়। এ রাতের সব ফজিলত এ একটি হাদিসের মাধ্যমেই বুঝে আসে। এ রাতের প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহ তাওবাকারীকে ক্ষমা করে দেবেন, অভাবীকে রিজিক দেবেন, বিপদগ্রস্থকে বিপদ মুক্ত করবেন।

হজরত আয়েশা (রা.) এর ভাষায় কোনো এক শাবান মাসের অর্ধ রাতে নবী করীম (সা.)- কে বিছানায় পাওয়া যাচ্ছিল না। খুঁজে দেখা গেল তিনি মদিনার বাকীউল গারকাদ বা জান্নাতুল বাকীতে কবর জিয়ারত করছেন। (মুসলিম)। প্রকৃতপক্ষে রমযান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণের মাস হিসাবে শাবান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। নবী করীম স. শাবান মাসে এ দোআটি বেশি বেশি করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবানা, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং রমযান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছার তওফীক দিন’। রমজানের প্রস্তুতি হিসাবে নবী করীম এ মাসে বেশি বেশি করে নিজেও রোজা রাখতেন এবং সাহাবীদেরকেও রোজা পালন করতে বলতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত নবী করিম (সা.) শাবান মাসের চেয়ে বেশি আর কোনো মাসে নফল রোজা রাখতেন না। বলতে গেলে প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন। 

অন্য রাওয়ায়াতে বলা হয়েছে তিনি শাবান মাসে স্বল্পসংখ্যক রোজা রাখতেন। (বুখারী ও মুসলিম)। রমজান মাসের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের অন্যতম নফল ইবাদত রোজা পালন হিসাবে নিসফে শাবান তথা বরাতের আগে পরে মিলিয়ে কমপক্ষে দুটো রোজা পালন করা উচিৎ। তাছাড়া প্রতিচন্দ্র মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে ‘আইয়াম বীযের’ তিনটি নফল রোজা পালন করার ওপর নবী করিম (সা.) অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

হজরত আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তুমি মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তখন তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোজা রাখ। (তিরমিযি)। হজরত কাতাদাহ থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) আমাদেরকে আইয়ামে বীযের রোজা রাখার হুকুম দিতেন আর আইয়ামে বীযের দিনগুলো হচ্ছে মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখ। (আবু দাউদ)। কেউ যদি নিসফে শাবান বা বরাতের রাত পালন উপলক্ষে শাবান মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের তিনটি নফল রোজা রাখে তবে সে এই সুবাদে আইয়ামে বীযের নফল রোজার সওয়াবও পেয়ে যায়।

এ রাতের করণীয় :

 ১। ইসলামে নফল ইবাদত ঘরে আদায় করা উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শবে-বরাতে নফল ইবাদতগুলো অতি উত্তম, তবে এবার যেহেতু পরিস্থিতি অন্যরকম এবং প্রায় সর্বত্র মসজিদসমূহে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কড়াকড়ি আরোপিত হয়েছে, সেহেতু শবে-বরাতের যাবতীয় ইবাদত ঘরেই সমাধা করা উচিত। 

২। শবে-বরাতের নফল নামাজ আদায়ের জন্য রাকাতের সীমা ও সূরা নির্ধারিত নয়, তাই যার যার খুশিমত এবং সাধ্যানুযায়ী পাঠ করবেন। 

৩। এ রাতে নফল ইবাদত হিসেবে নামাজ এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা অতি উত্তম। কোরআন তেলাওয়াতে সক্ষম ব্যক্তি ঘরে বসেই যত বেশি সম্ভব তেলাওয়াত করবেন। যারা কোরআনের বিভিন্ন সূরা সমন্বিত দোয়া-দরুদ ও অজিফা পাঠে অভ্যস্ত, তারা এ রাতে এগুলো পাঠ করতে পারেন।

৪। বহু প্রকারের তাসবীহ, তাহলীল, দোয়া, ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ এবং মোনাজাত রয়েছে, যার পক্ষে যা সুবিধাজনক ও সহজ হয় তিনি তা পাঠ করবেন। 

৫। আজকাল বাংলা ভাষায় দোয়া-দরুদ সংক্রান্ত ভালো ভালো বই-পুস্তক পাওয়া যায়। মূল আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদসহ প্রকাশিত এসব বই-পুস্তক হতে শবে-বরাতে পাঠ করা যেতে পারে। 

৬। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সময় অধিক ব্যয় না করে এ পবিত্র রজনীতে আল্লাহর এবাদত বন্দিগীতে আত্মনিয়োগ করাই শ্রেয়। 

৭। এ পবিত্র ও সৌভাগ্যময় রজনী প্রত্যেক মোমেন মুসলমানের স্বীয় গোনাহ মাফ করানোর এবং ভাগ্যোন্নয়নের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে চাওয়া-পাওয়ার উপযুক্ত সময় বলে বিভিন্ন হাদিস হতে জানা যায়। সুতরাং অবহেলায় এ সময় আল্লাহর অসীম বরকত ও রহমত হতে বিরত থাকা উচিত নয়। এরূপ সৌভাগ্যময় রাত জীবনে আর নাও আসতে পারে।

৮। সর্ব প্রকারের রোগ-বালাই, বিপদাপদ, অভাব-অনটন ইত্যাদি হতে সুরক্ষার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার জন্য উপযুক্ত সময় এ রাত। ৯। সর্ব প্রকারের পাপাচার হতে রক্ষা এবং সমগ্র মানবের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দোয়ার মাধ্যমে এ রাত অতিবাহিত করা এবং পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রাখা উচিত।

এ রাতের আরেকটি আমল আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কবর জিয়ারত। দুর্বল হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত হলেও ইসলামী শরীয়ত যেহেতু ‘কবর জিয়ারত দ্বারা জিয়ারতকারীর উপকার হয়। কবর দেখে সে আখেরাতমুখী হওয়ার সুযোগ পায় এ কারণে কবর জিয়ারত বৈধ করেছে সুতরাং শরীয়তের বিধান পালন করে, এরাতেও আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কবর জিয়ারত করা যেতে পারে।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ভোরে উঠে যে দোয়া পড়লে সারা দিন ভালো যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোরে উঠে যে দোয়া পড়লে সারা দিন ভালো যায়

ভোরে ঘুম থেকে ওঠা : ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ, যা রাতের শেষাংশে আদায় করতে হয়। রাসুল (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে উদ্বুদ্ধ করতেন। ভোরে উঠে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করতে পারলে প্রফুল্লচিত্তে এবং পবিত্র মনে সকাল শুরু হয়। 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথার শেষভাগে তিনটি গিরা দেয়। প্রতিটি গিরার সময় সে এ কথা বলে কুমন্ত্রণা দেয় যে এখনো রাত অনেক রয়ে গেছে, শুয়ে থাকো। অতঃপর সে ব্যক্তি যদি জেগে ওঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর যদি সে অজু করে, তবে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। আর যদি সে নামাজ আদায় করে, তাহলে সব গিরাই খুলে যায়। ফলে প্রফুল্লতার সঙ্গে পবিত্র মনে তার সকাল হয়, অন্যথায় আলস্যের সঙ্গে অপবিত্র মনে তার সকাল হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩০৯৬)

সকালের ঘুম বরকত নষ্ট করে : ফজরের নামাজের পর সকালের ঘুম জীবন-জীবিকার বরকত নষ্ট করে দেয়। দিনের শুরুটা ঘুমে কেটে যাওয়ার ফলে দিন সংকীর্ণ হয়ে যায়। কাজের সময় ও পরিধি কমে যায়। পক্ষান্তরে ফজরের নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত এবং ইশরাক নামাজ আদায়ের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করতে মহান আল্লাহ সারা দিনের জন্য বান্দার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে দিনটি হয়ে ওঠে বরকতময়। হাদিসে সকালের ঘুম বর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। সাখর আল-গামিদী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে ভোরের বরকত দান করুন।’

তিনি কোনো ক্ষুদ্র বা বিশাল বাহিনীকে কোথাও প্রেরণ করলে দিনের প্রথমভাগেই প্রেরণ করতেন। বর্ণনাকারী সাখর (রা.) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর পণ্যদ্রব্য দিনের প্রথমভাগে পাঠানোর ফলে অনেক সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৮)

দিনে হালকা বিশ্রাম নেওয়া : মহান আল্লাহ দিনকে বানিয়েছেন মানুষের জীবন-জীবিকা ও সার্বিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘এবং করেছি দিনকে জীবিকা আহরণের সময়।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ১১)

তবে দিনের বেলায় দুপুরে হালকা বিশ্রাম নিলে রাতে ইবাদতের শক্তি অর্জন হয়। তাউস (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দিনে বিশ্রাম নিয়ে রাতের ইবাদতের শক্তি অর্জন করো আর সাহরি খেয়ে দিনের রোজার শক্তি অর্জন করো।’ (বায়হাকি, হাদিস : ৪৭৪১; মুসান্নাফে আবদির রাজজাক, হাদিস : ৭৬০৩)

ঘুমানোর কয়েকটি সুন্নত ও আদব :

১.   আল্লাহর নাম স্মরণ করে খাবারের বাসনপত্র ঢেকে রাখা, ঘরের দরজা বন্ধ করা এবং বাতি নিভিয়ে ঘুমের অনূকুল পরিবেশ তৈরি করে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৩১০৬)

২.   হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমানো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৫৪)। অজু করে নেওয়া আরো উত্তম।

৩.   বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৬১)

৪.   ডান কাত হয়ে শোয়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৬)

৫.   ঘুমানোর দোয়া ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া’ পড়ে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৬৫)।

৬.   ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৩১০)

৭.   সুরক্ষার জন্য সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে মাথা থেকে দেহ পর্যন্ত যত দূর হাত যায় বুলিয়ে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস :  ৪৭২৯)

৮.   ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ‘আলহামদু লিল্লাহি-ল্লাজি আহয়্যানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর’ পাঠ করা। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৬৫)

পরিশেষে বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাবারের মতো ঘুম একান্ত প্রয়োজন। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং মনের প্রশান্তি বৃদ্ধি করতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঘুমের জন্য রাত আর কাজের জন্য দিন অতি সমীচীন সময়। ইশার নামাজের পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়ে ভোরে উঠে যেতে হবে।

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

সাহু সিজদা কী?

অনলাইন ডেস্ক

সাহু সিজদা কী?

ঈমানের পর নামাজ হচ্ছে মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজে মানুষের ভুল হয়ে গেলে সাহু সিজদা দেয়া ওয়াজিব। আমাদের অনেকেরই জানা নেই সাহু সিজদা কী।

নামাজে কিছু বিষয় আছে, যা ভুলক্রমে হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে নামাজ শেষে দুটি অতিরিক্ত সিজদা আদায় করতে হয়। এই সিজদাকেই সাহু সিজদা বলা হয়। 

শরয়ি দৃষ্টিকোণে এটি ওয়াজিব। যেমন-নামাজের কোনো ফরজ ভুলক্রমে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আদায় করলে, এক ফরজ ডাবল আদায় করলে, নামাজের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা তা আদায়কালে কোনো পরিবর্তন অথবা বিলম্ব করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। এই সিজদা নামাজের শেষে আদায় করতে হয়। অনেকে মনে করেন, নামাজের কিরাতে কোনো ভুল হলেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়, এটি ভুল ধারণা।

এর পদ্ধতি হলো, শেষ রাকাতে তাশাহুদ পড়ে শুধু ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর তাকবির বলে যথারীতি দুটি সিজদা আদায় করবে। এরপর বসে আবার তাশাহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ করে দুই সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবে।

হজরত ইমরান ইবনে হুসনাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিলেন। নামাজে ভুল হয়ে যায়। তারপর দুটি সিজদা করলেন, এরপর তাশাহুদ পড়লেন, তারপর সালাম ফেরালেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৯৫)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

আল্লাহ বলেন, 'তোমাদের ঘুম বা নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে। রাত্রিকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়।' (সুরা আন-নাবা; আয়াত -৯, ১০ ও ১১)

দিন ও রাত্রির সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের এক বড় নিদর্শন এবং সকল মাখলুকের জন্য মহা নিয়ামত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অগণিত অসংখ্য মাখলুক সৃষ্টি করে প্রত্যেককে তার পরিধিতে সংসার জীবন প্রতিপালনে ব্যস্ত করে রেখেছেন এবং এ সকল কাজে সকল মাখলুকের মাঝে ক্লান্তি আসে; আবার তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন ঘুমের মাধ্যমে।

ঘুমের মাধ্যমে মানুষের প্রশান্তি লাভের পর ঘুম থেকে উঠার সময় মানুষকে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করার কথা বলেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। (সহিহ বুখারী)

হযরত হুযাইফা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন বলতেন, সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। যিনি আমাদেরকে মারার পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (সহিহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন-৮১৭)।

অতঃপর কালিমাতুশ শাহাদাত পড়বে-

আশহাদুআল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু। সূত্র : ইন্টারনেট

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

দান-সাদকার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দান-সাদকার পুরস্কার

দান-সাদকা মুমিনের অন্যতম গুণগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের অসংখ্য আয়াতে দান-সাদকা তথা তার পথে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আর আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭১)

হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাদকাহ বা দান অবশ্যই কবরবাসীর কবরের উত্তাপ ঠাণ্ডা করে দেবে এবং মুমিন বান্দা কেয়ামতের দিন তার (সাদকা বা দানের) ছায়াতে অবস্থান করবে।’ (বায়হাকি ফি শুআবুল ঈমান, ৩৩৪৭)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় সাহাবি হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকেও দান-সাদকা করার ব্যপারে এ মর্মে বিশেষ নসিহত করেছেন-
وَالصّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النّارَ

অর্থাৎ আর দান সাদকা পাপকে (এমনভাবে নিভিয়ে দেয়) মোচন করে; যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)

আরও পড়ুন: 


এনআইডির দায়িত্ব ইসিতে থাকা উচিত: সিইসি

খুলনায় করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

ফের ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যা করল ইসরায়েল


 

হাদিসে পাকে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিদিন আসমান থেকে ২ জন ফেরেশতা (জমিনে) অবতরণ করেন। তাদের মধ্যে একজন (দানকারীর জন্য) দোয়া করে-

‘হে আল্লাহ! যে (তোমার পথে) ব্যয় করে; তাকে বিনিময় দান কর।’

আর দ্বিতীয় ফেরেশতা (দান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তির জন্য) বদ-দোয়া (অভিশাপ) করে-
‘হে আল্লাহ! যে (তোমার পথে) সম্পদ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকে; তার অর্থ সম্পদ ধ্বংস করে দাও।’ (মেশকাত)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক

৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না

করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ওরস মোবারক উদযাপন করা হয়নি। কিন্তু এবছরও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়াই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে এবছরও ওরস মোবারক উদযাপন হচ্ছে না। গত বছর ৭০১তম ওরস মোবারক উদযাপন হয়নি। এবার ৭০২তম ওরস হচ্ছে না।

শনিবার (১২ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের সরেকওম মোতাওয়াল্লি ফাতেহ উল্লাহ আল আমান।

তিনি বলেন, চলতি বছরে ১১ ও ১২ জুলাই শাহজালাল মাজারের ওরস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওরসের আয়োজন করা হলে প্রচুর ভক্ত-অনুরাগী ভিড় করবেন। এতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে না। যে কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এবারের ওরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ।

মাজার সেক্রেটারি সামুন মাহমুদ খান বলেন, ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের বছরও এখানে ওরস হয়েছে। কিন্তু এবার তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর