স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ময়দান মৌলবাদীদের, নীরব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ময়দান মৌলবাদীদের, নীরব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি

ড. মো. আওলাদ হোসেন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ময়দান মৌলবাদীদের, নীরব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি

Other

মৌলবাদী গোষ্ঠীকে এখন আর আলাদা করে খুঁজতে হয় না, আওয়ামী লীগের ভেতরেই তারা বাসা বেঁধেছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম নামের মৌলবাদী গোষ্ঠী ঢাকায় তাণ্ডব চালাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে, তাদের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তু হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্বে হেফাজত আরও উগ্রবাদী হয়ে উঠেছে।

এখন তারা কথায় কথায় সরকারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দর কষাকষি করছে।  

রাজধানীর দোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা নিয়ে হেফাজতের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য আমরা শুনেছি, ওদের বক্তৃতার সময়ের ‘Body language‘ দেখেছি। প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিবেদিত তৃণমূল নেতাকর্মী-শুভানুধ্যায়ীরা বিক্ষোভ করলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ইনিয়ে-বিনিয়ে এ নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে হেফাজতের সাথে আপোস করার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘ভাস্কর্য বিরোধী বিক্ষোভের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। এটা আওয়ামী লীগ এর কর্মসূচি নয়। বিক্ষোভকারীরা কারা, আমরা চিনি না। ' অনেক নেতা মনে করেন হেফাজত কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন। এর কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। বরং হেফাজতকে বশে রাখতে পারলে বিএনপি-জামায়াত এ শক্তিকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু আসলে হেফাজত মৌলবাদীদেরই আরেকটি ‘মিউটেশন’। এরা ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি জামাতেরই একটি ভিন্ন রূপ। এরা আর যা-ই হোক আওয়ামী লীগের মিত্র হবে না। সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগকেই ছোবল মারবে। হেফাজতের সঙ্গে বা কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ আপস করলে তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিরই কারণ হবে।  

২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অনেক নেতার পরামর্শে ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কয়েকটি ধর্মান্ধ মৌলবাদী সংগঠনের সাথে সমঝোতা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যদিও এই সমঝোতাটি বাতিলও করা হয়েছিল।
জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পরিচয়। আর ধর্মান্ধ মৌলবাদী যে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীই হলো প্রগতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে। এরা কখনো কোনো দিন আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে না। আওয়ামী লীগ যদি ভুল করে তাদের আপন মনে করে, তা হলে সুযোগ মত তারা আওয়ামী লীগের ঘাড় মটকাবে।  

বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো দিন মৌলবাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করবেন না। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা-আদর্শ শেখ হাসিনা ধারণ করেন। জীবন থাকতে তিনি বঙ্গবন্ধুর দর্শন থেকে একচুলও সরবেন না। কিন্তু ইদানীং বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সুকৌশলে আওয়ামী লীগে ঢুকে গেছে। ওরা অনুপ্রবেশকারী। ওরা আসল আওয়ামী লীগারদের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাবান। এসব ‘সুসময়ের আওয়ামী লীগারদের’একটি বড় অংশই মৌলবাদী চিন্তা-চেতনার ধারক-বাহক। এরা না বুঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, না জানে আওয়ামী লীগের নীতি, এদের না আছে জনসেবার মানসিকতা। এদের লক্ষ্য একটাই-নিজেদের আখের গোছানো এবং আওয়ামী লীগ এর মধ্যে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে বিএনপি-জামায়াত এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এরা হেফাজত ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপোস করে নিরাপদে থাকতে চায়।


জানাজার নামাজের জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

গণপরিবহনে আবারো যাত্রী অর্ধেক করার নির্দেশ

করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫১৮১ জন


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এটা করার সুযোগ ও সাহস কোথায় পেল? কারণ তৃণমূল পর্যায়ে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কোলাহলে প্রতিটি এলাকা আনন্দমুখর থাকা উচিত ছিল। তবে বিভিন্ন স্থানে রাজপথের সরকারি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাঁধা মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজলেও নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল না, কোলাহল ছিল না, ছিল না উচ্ছাস। আওয়ামী লীগ এর ভেতর জামায়াত-বিএনপি অনুপ্রবেশকারীদের আধিক্যের কারণে এমন হয়েছে। আওয়ামী লীগ এর তৃণমূল পর্যায়ের পদ-পদবীগুলো বিভিন্ন কৌশলে অনুপ্রবেশকারীরা দখল করে নিয়েছে। ফলে ৭ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ইত্যাদি দিবসগুলো উদযাপনে উৎসাহসহ উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীরা মাঠে নামে না। গত ২৬ মার্চ এই ঐতিহাসিক দিনে আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি থাকলে ওরা সাহস পেত না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে স্বাধীনতা বিরোধীদের এই আস্ফালন অত্যন্ত দুঃখজনক।

এমনি পরিস্থিতিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করার পাশাপাশি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপশক্তি এবং সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী যারা, মৌলবাদীদের সঙ্গে এক ধরনের আপোষ রফা করতে চাইছে তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে এখনই। অন্যথায় ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

লেখক: ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী।

news24bd.tv নাজিম