পবিত্র শবে বরাতে বায়তুল মোকাররমে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র শবে বরাতে বায়তুল মোকাররমে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত

যথা‌যোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগা‌ম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। পবিত্র এ দিনটি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। একইস‌ঙ্গে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব যাতে রক্ষা পায় ও নিরাপদ থাকে সেজন্যও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

এর আ‌গে আজ বাদ মাগরিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে “পবিত্র শবে বরাত এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 


শেফ’স টেবিলের ৩৬ রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব

জানাজার নামাজের জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

গণপরিবহনে আবারো যাত্রী অর্ধেক করার নির্দেশ


ওয়াজ মাহফিল শেষে বাদ এশা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজ ও দোয়া মোনাজাত করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

অনলাইন ডেস্ক

ওজুর তারতিব ও সুন্নাতসমূহ

পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের মূল শর্ত হল ওজু। আল্লাহ তাআলা ওজুকে ফরজ করেছেন। পাক-পবিত্রতা অর্জনে ওজুর রয়েছে অত্যাধিক গুরুত্ব। এছাড়া ওজু ছাড়া ইবাদত-বন্দেগি করা যায় না। সুন্দরভাবে ওজু করাও একটি ইবাদত। কী ভাবে সুন্নাতি কায়দায় ওজু করা যায় সে ব্যাপারে অনেক হাদিস ও ওলামায়ে কেরামগণ দিয়েছেন সুন্দর সুন্দর পন্থা। ওজুর ফরজগুলো ইতোপূর্বে তুলে ধরা হয়েছে। ওজুর সুন্নাতি তারতিব ও সুন্নাতসমূহ তুলে ধরা হলো-

ওজুর তারতিবসমূহ-

ক. ওজুতে নিয়্যাতে একটু উঁচু জায়গায় বসা যাতে ওজুর পানির ছিটা নিজের শরীরে না আসে।
খ. বিসমিল্লাহ তথা (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) বলে ওজু শুরু করা।
গ. উভয় হাতে কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
ঘ. মিসওয়াক করা। যদি মিসওয়াক না থাকে তবে মোটা কাপড় বা হাতের আঙ্গুল বা অন্য কিছুর দ্বারা উত্তমরূপে দাঁত পরিষ্কার করা।
ঙ. তিনবার কুলি করা। রোযা না থাকলে গড়গড়া করে কুলি করা।
চ. তিনবার নাকে পানি দেয়া। বাম হাতে কণিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা। (রোজাদার না হলে নাকের নরম অংশে পানি পৌঁছানো)
ছ. সমস্ত মুখ অর্থাৎ চুলের গোড়া হতে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
জ. দাড়ি ঘন হলে খিলাল করা।
ঝ. উভয় হাতের কনুইসহ তিন বার ধৌত করা। প্রথমে ডান তারপর বাম হাত। এসম উভয় হাতের আঙ্গুল খিলাল করা।
ঞ. সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা।
ট. কান মাসেহ করা। অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে কানের ভিতর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাহির অংশ মাসেহ করা
ঠ. ঘাড় বা গর্দান হাতের আঙ্গুলের পিঠ দিয়ে মাসেহ করা। কান ও গর্দান মাসেহের ক্ষেত্রে নতুন করে পানি নেয়ার দরকার নেই। মাথা মাসেহ করার পানি দিয়ে করলেই চলবে।
ড. উভয় পায়ের টাখনুসহ তিনবার ধৌত করা। প্রথমে ডান পা এবং পরে বাম পা ধৌত করা। পায়েল আঙ্গুলি খিলাল করার ক্ষেত্রে ডান পায়ের কণিষ্ঠা আঙ্গুল হতে শুরু করে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলিতে এসে শেষ করা এবং বাম হাতের কণিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে খিলাল করা।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা


অজুর সুন্নতসমূহ

১. বিসমিল্লাহ বলা, ২. কবজিসহ উভয় তিন বার ধৌত করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. তিনবার কুলি করা, ৫. নাকে তিন বার পানি দেয়া, ৬. সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা, ৭. প্রত্যেক অঙ্গকে তিনবার করে ধৌত করা, ৮. কান মাসেহ করা, ৯. উভয় হাত এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা, ১০. নিয়্যাত করা, ১১. ধারবাহিকভাবে ওজু করা, ১২. এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বেই পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করা, ১৩. ডান থেকে শুরু করা। এগুলো ওজুর করার সুন্নাত।

ইবাদত-বন্দেগি কবুলের জন্য আল্লাহ শিখানো পদ্ধতিতে আদায়ের ক্ষেত্রে ওজু ফরজ থেকে শুরু করে মোস্তাহাব পর্যায়ে এসে শেষ হয়েছে। সুতরাং আমরা উত্তমরূপে ওজুর করে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করবো। আল্লাহে তা’আলা সবােইকে ওজুর ফরজ ও সুন্নাত সমূহ শিখে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২৮-৩৫, নবীদের অবমাননার শাস্তি

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। আজ এই সূরার ২৮ থেকে ৩৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২৮ থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ (28) إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ (29) يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ (30)

“এবং তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের উপর আকাশ থেকে কোন বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং (এর আগেও) আমি (বাহিনী) অবতরণকারী ছিলাম না। (অর্থাৎ আমার রীতি এর আগেও এরূপ ছিল না।)” (৩৬:২৮)

“বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর হঠাৎ সবাই স্তদ্ধ হয়ে যায়।” (৩৬:২৯)

“বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রাসূলই (হেদায়েতের জন্য) আগমন করেননি যাকে তারা বিদ্রুপ করে নি।” (৩৬:৩০)

গত আসরে আমরা বলেছি, শাম অঞ্চলের আনতাকিয়া শহরের জনগণকে হেদায়েতের জন্য কয়েকজন নবী আগমন করলে সেখানকার লোকজন তাদেরক লাঞ্ছনা করে এবং তাদের নবুওয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে। এ সময় নবীদেরকে রক্ষা করার জন্য হাবিবে নাজ্জার নামক এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে কাফেররা তাকে হত্যা করে। এরপর এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যে জাতি নবীদের অস্বীকার করে এবং এক ব্যক্তিকে শহীদ করে ফেলে তাদের ওপর ঐশী আজাব অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহর আদেশে এমন গগনবিদারী আওয়াজ হয়ে যার ফলে ওই জাতির সব লোক মৃত্যুবরণ করে। এই আজাব ছিল পার্থিব শাস্তি এবং কিয়ামতে তাদের জন্য আরো কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

প্রকৃতপক্ষে কাফের ও গোনাহগার ব্যক্তিদের ধ্বংস করে ফেলা আল্লাহ তায়ালার জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ। এই কাজের জন্য ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আসমান থেকে কোনো বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন নেই। বরং, আল্লাহর ইচ্ছায় আসমান ও জমিন থেকে এমন বিকট শব্দ হয় যে, এর ফলে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।  পরের আয়াতে আল্লাহ তাঁর এ ধরনের বান্দাদের জন্য আক্ষেপ করে বলছেন, তারা আল্লাহর হেদায়েতের বাণী গ্রহণ না করে এমন আচরণ করে যা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। নবী-রাসূলদের ঠাট্টা করা থেকে এই আচরণ শুরু হয় এবং তাদেরকে লাঞ্ছনা করে শেষ পর্যন্ত অনেক নবীকে মেরে ফেলা হয়।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. কোন সমাজ যদি আল্লাহর ওলীদেরকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করে বা তাদেরকে লাঞ্ছিত করে তাহলে সেই সমাজ আল্লাহর শাস্তিতে নিপতিত হতে পারে; যে শাস্তি আসে হঠাৎ করে।
২. দাম্ভিক ও অত্যাচারী ব্যক্তিদের হুমকিতে ভয় পাওয়া বা সত্য ত্যাগ করা যাবে না। আল্লাহ চাইলে অত্যাচারীরা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
৩. অন্যরা সত্যকে বিদ্রূপ করলে আমাদের ঈমান যেন দুর্বল হয়ে না যায় এবং আমরা যেন ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে পিছ-পা না হই। সমস্ত নবী-রাসূল বিদ্রূপের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সত্যের পথে অটল থেকেছেন। 

সূরা ইয়াসিনের ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ (31) وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ (32)

“তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যারা আর তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) কাছে ফিরে আসবে না?” (৩৬: ৩১)

“এবং ওদের সবাইকে (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে উপস্থিত হতেই হবে।” (৩৬:৩২)

আগের কয়েকটি আয়াতের সূত্র ধরে এই দুই আয়াতে সব মানুষকে উদ্দেশ করে আল্লাহ তায়ালা বলছেন: তোমরা কেন অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস ও তাদের পরিণতি সম্পর্কে ভেবে দেখছ না? তোমরা কেন দেখছ না যে, তোমাদের পূর্বে কত শত জাতি এই পৃথিবীতে এসেছিল যাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে? তাদের মধ্যে অনেক জাতির ছিল সমৃদ্ধ সভ্যতা; ধনে-জ্ঞানে তাদের কোনো তুলনা ছিল না। কিন্তু আজ তাদের কোনো চিহ্ন এই পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। আজকের সমাজে ফিরে আসার কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. পবিত্র কুরআন বারবার অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস জানার ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু বিনোদনের জন্য ইতিহাস জানা যথেষ্ট নয়।

২. পৃথিবী পরিচালনায় আল্লাহর রীতি অভিন্ন এবং অতীত জাতিগুলোর পরিণতি প্রায় একই রকম। কাজেই যে জাতি মুক্তি পেতে চায় তার উচিত এসব জাতির পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের চলার পথ সংশোধন করা।

আরও পড়ুন


দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের আভাস, পাহাড় ধসের শঙ্কা

ত্ব-হা ও দুই সফরসঙ্গীর জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নওমুসলিম ইমামকে ডেকে নিয়ে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা

আবু ত্ব-হাসহ সঙ্গীদের রাতেই আদালতে নিল পুলিশ


সূরা ইয়াসিনের ৩৩ থেকে ৩৫ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَآَيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ (33) وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ (34) لِيَأْكُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ (35)   

“এবং তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। (৩৬:৩৩)

“এবং আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তাতে প্রবাহিত করি ঝরনাধারা।” (৩৬:৩৪)

“যাতে তারা তার ফল এবং নিজেদের হাতে উৎপাদিত শস্য খেতে পারে। সুতরাং তাদের কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত নয়?” (৩৬:৩৫)

এই তিন আয়াতে বলা হচ্ছে: আখিরাতের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে মৃত ভূমির প্রাণ ফিরে পাওয়া। শীতকালে মাটি এমনভাবে শুকিয়ে যায় যাতে মনে হয় এখানে আর কোনোদিন শষ্য উৎপাদিত হবে না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বৃষ্টির পানি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মৃত ভূমি আবার সতেজ হয়ে ওঠে এবং তাতে নানারকম শস্য ও ফলমূল উৎপাদিত হয়। প্রতি বছর মানুষ তার চোখের সামনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখে।

আল্লাহর দেয়া খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে পবিত্র কুরআনে খোরমা ও আঙ্গুরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এই দুই ফলকে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হয়ত এ কারণে একথা বলা হয়েছে যে, এই দুই ফলে যেমন মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যগুণ রয়েছে তেমনি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিনের সমাহার এই দুই ফলে ঘটেছে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. প্রকৃতি হচ্ছে আল্লাহকে উপলব্ধি করার কিতাব যার প্রতিটি পৃষ্ঠা অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টাকে আরো ভালোভাবে চিনতে ও বুঝতে পারে।
২. মানুষের পক্ষে পার্থিব জগতে বসে তার মৃত্যু পরবর্তী জীবন উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আখিরাত দিবসের সত্যতা উপলব্ধি করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মাটি, গাছ ও গুল্মলতার জীবন ও মৃত্যু মানুষের সামনে বারবার দেখিয়ে দিয়েছেন।
৩. নানারকম খাদ্য ও ফলমূল ভক্ষণ করার কারণে মানুষের উচিত এসব খাদ্যের স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগ মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।’ (সূরা তাহা, আয়াত: ৮২)

মানবজাতিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।’ (সূরা নাসর, আয়াত: ৩)

ইস্তেগফারের গুরুত্ব:

রাসূল (সা.) ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন (অথচ তিনি মা’সুম-নিষ্পাপ), হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করো। কারণ আমি নিজেও দৈনিক শতবার তাওবা-ইস্তেগফার করি। 

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেন, যার আমলনামায় ইস্তেগফার অধিক সংখ্যায় পাওয়া যাবে তার জন্য রইল সুসংবাদ।

হযরত লোকমান হাকীম তাঁর সন্তানকে উপদেশ দান করে বলেন, হে আমার পুত্র! ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী’ বলাকে অভ্যাসে পরিণত করে নাও। কারণ এমন কিছু সময় আছে যখন আল্লাহ তা’আলা যেকোনো দু’আকারীর দু’আ কবুল করেন।

হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, আমাদের সুরক্ষাদানকারী দুটি জিনিস ছিল, তন্মধ্যে হতে একটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। সেটা হলো আমাদের মাঝে রাসূল (সা.)-এর উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় জিনিস ইস্তেগফার যা এখনো আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। যেদিন এটিও চলে যাবে (করার মতো কেউ থাকবে না) তখন আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। 

হযরত হাসান (রহ.) বলেন, তোমরা ঘরে-দুয়ারে, দস্তরখানে, রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, সভা-সমাবেশে বেশি বেশি ইস্তেগফার করো। কারণ ইস্তেগফার কবুল হওয়ার সময় তোমাদের জানা নেই।

ইস্তেগফারের ফজিলত:

ইস্তেগফারের ফজিলত অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আরও পড়ুন:


বাঁচবো কিনা জানি না, সবাই ক্ষমা করে দিয়েন

দুদককে পরীমণির সম্পদের হিসাব চাওয়ার আহ্বান হেলেনা জাহাঙ্গীরের

গণপরিবহনে অবাধে যাতায়াত করায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপেনে ছিলেন আবু ত্ব-হা: পুলিশ


আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 

ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

আল্লাহর নামে শুরু করা মুমিনের প্রতিটি কাজই ইবাদত। ঘুমও এর মধ্যে একটি। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসির রয়েছে কার্যকরী আমল ও বিশেষ মর্যাদা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। কী সেই ফজিলত ও মর্যাদা?

আল্লাহর নামে ঘুমও একটি শান্তিময় ইবাদত। ঘুমের সঙ্গে আরও অনেক ইবাদত জড়িত। তন্মধ্যে এটি আয়াতুল কুরসির আমল করে ঘুম যাওয়া। আর এতে ফেরশতারা সারারাত ওই ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তার দোয়া করতে থাকেন। হাদিসের দীর্ঘ এক বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে-

‘যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে। তাহলে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’

এ সংক্রান্ত হাদিসের পুরো বর্ণনা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার দেখতে পেলেন একজন ব্যক্তি সাদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি তার হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব।’ তখন ওই ব্যক্তি বলল যে, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়াবশত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘গতকাল অপরাধীকে কী করেছে?’

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবারও আসবে।

এভাবে ওই চোর পরপর ৩দিন সাদকার মাল চুরি করতে আসে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও তাকে প্রত্যেকবার ছেড়ে দেন। সর্বশেষ সে (ওই চোর) আয়াতুল কুরসির আমলের কথা বর্ণনা করে বলে-

আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব; যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা জানতে চাইলে (ওই) চোর বলল-

‘রাতে যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন ফেরেশতাকে পাহারাদার নিযুক্ত করবেন। যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ঘটনা শুনে বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘তুমি কি জান সে কে?’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘না’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারি)

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’


আয়াতুল কুরসি ও অর্থ

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। (সূরা বাকারা ২:২৫৫)

আয়াতুল কুরসি কুরআনের অন্যসব আয়াতের সর্দার বা নেতা। আয়াতটি যে ঘরে পড়া হবে, সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যাবে।’এছাড়া আয়াতুল কুরসী অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ একটি আয়াত। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী কুরআন মাজীদের সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আয়াত এটি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ঘুমের আগে নিয়মিত আয়াতুল কুরসির আমল করা। সুন্নাতের আলো জীবন পরিচালনা করা। আর এতে মুমিনের জীবন হবে শান্তিময়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমল যথাযথভাবে নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ২০ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২০ ও ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

  وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ (20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)

“অতঃপর শহরের শেষ প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল (এবং) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (আল্লাহর) রাসূলগণকে অনুসরণ কর।” (৩৬:২০)

“তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (৩৬:২১)

গত আসরে আমরা একটি পথভ্রষ্ট জাতির লোকজনকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য কয়েকজন নবীর আগমন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে: কোনো কোনো মুমিন ব্যক্তি অত্যাচারী লোক ও শাসকের হাত থেকে নবী-রাসূলদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এখানে যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ছিল হাবিব নাজ্জার। তিনি শহরের শেষ প্রান্তে বসে শুনতে পান লোকজন আল্লাহর রাসূলদের নির্যাতন করে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নবীদের রক্ষা করার জন্য উপস্থিত জনতার সাহায্য চান। হাবিব নাজ্জার একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে জানতেন যে, কাফেরদেরকে ঈমানের পথে আহ্বান করতে হয়। তিনি উপস্থিত জনতাকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়ে বলতে থাকেন তারা যেন এসব রাসূলের আনুগত্য করেন যারা তাদের হেদায়েতের বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ চান না।

এ দুই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য।
২. ধর্ম রক্ষা করার ক্ষেত্রে সঙ্গীহীন ও একা থাকা কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে একাই লড়াই করতে হবে। দ্বীন রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সংখ্যার অপ্রতুলতা দেখে ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।
৩. আমরা তাদেরই অনুসরণ করব যারা সঠিকপথ প্রাপ্ত হয়েছেন।

সূরা ইয়াসিনের ২২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (22) أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آَلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (24)

“কেন আমি তাঁর এবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা সবাই প্রত্যাবর্তিত হবে?” (৩৬:২২) 

“আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব, করুণাময় (আল্লাহ) যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে যাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না?" (৩৬:২৩)

“এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।”(৩৬:২৪)  

যিনি নবীদের রক্ষা করার জন্য শহরের মাঝখানে ছুটে যান এবং উপস্থিত জনতার সাহায্য চান তিনি নিজের একত্ববাদী বিশ্বাস তুলে ধরে বলেন: তোমাদের মূর্তি ও কল্পিত উপাস্যদের উপাসনা করার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ আমি জানি, দয়াময় আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন। যদি কারো উপাসনা করতে হয় আমি একমাত্র তাঁর উপাসনা করব। মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং যুক্তি উভয়ই বলে যিনি সৃষ্টিকর্তা তাঁর ইবাদত করতে হবে। কিন্তু তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করো সেগুলো কোনো যুক্তির ধোপে টেকে না। কারণ, কেউ যদি আমার ক্ষতি করতে চায় তাহলে এসব মূর্তি আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং কেউ যদি আমার উপকার করতে চায় তাহলেও তাতে বাধা দেয়ার কোনো শক্তি এসব উপাস্যের নেই। কাজেই বিবেকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আমি তোমাদের হাতে তৈরি মূর্তির উপাসনা করতে পারব না। যদি করি তাহলে সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. যেকোনো যুক্তির বিবেচনায় সৃষ্টিকর্তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অন্য কারো উপাসনা কোনো যুক্তির বিচারেই টেকে না।
২. আল্লাহ তায়ালা শুধু আমাদের সৃষ্টিকর্তাই নন একইসঙ্গে আমাদের জীবন পরিচালনাও হয় তাঁর নির্দেশে। কাজেই ইবাদতের একমাত্র যোগ্য ও দাবিদার হচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন


বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’

ভারতের নতুন আতঙ্ক ‘গ্রিন ফাঙ্গাস’


সূরা ইয়াসিনের ২৫ থেকে ২৭ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  إِنِّي آَمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ (25) قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)

“আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার বক্তব্য শুনে নাও।” (৩৬:২৫)

“(শেষ পর্যন্ত তাকে শহীদ করা হলো এবং) তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনক্রমে জানতে পারত-”(৩৬:২৬) 

“যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (৩৬:২৭)

নবীদের রক্ষার্থে ছুটে যাওয়া ব্যক্তি ঘোষণা করেন, আমি এই নবীদের প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাদের সাহায্য করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু গোঁড়া ও অন্ধ কাফেররা তার এ সত্যবাণী শুনতে মোটেই আগ্রহী ছিল না। তারা তাকে হত্যা করে এই ভেবে যে, এই ব্যক্তির কণ্ঠে আর উপদেশবাণী শুনতে হবে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেন। এটি হচ্ছে বারযাখি জান্নাত যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল্লাহর যেসব বান্দা শহীদ হয়েছেন তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এই জান্নাতে অবস্থান করবেন।

শহীদদের জীবিত থাকা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলেন: যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তুমি কখনো তাদেরকে মৃত মনে করো না। বরং তারা জীবিত ও নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিকাপ্রাপ্ত। কাজেই নিজ জাতির লোকদের হাতে নিহত ওই ঈমানদার ব্যক্তি তার হত্যকারীদের জন্যও দোয়া করেছেন যেন তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এবং জান্নাত লাভ করতে পারে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিতে হবে।
২. আল্লাহর প্রেমে মত্ত ব্যক্তিরা সব মানুষের হিতাকাঙ্ক্ষী। মানুষ তাদেরকে কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা কষ্ট দানকারী ব্যক্তিদের মঙ্গল কামনা করেন। এসব মানুষ কষ্ট পাক তা তারা চান না।
৩. আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণ কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বারযাখি জগতে বিশেষ জীবন ও জীবিকাপ্রাপ্ত হন। তারা ওই জগতে জান্নাতের সব আরাম আয়েশ ভোগ করেন।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে সঙ্গে নেক আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর