আবার কি মিল‌বে গণত‌ন্ত্রের দেখা?

মাসুদ করিম

আবার কি মিল‌বে গণত‌ন্ত্রের দেখা?

মাসুদ করিম

এক:

‌রোম যখন পুড়‌ছিল, নী‌রো তখন বাঁ‌শি বাজা‌চ্ছি‌লেন।

সম্রাট নি‌রোর ওই পা‌র্টি যেখা‌নে তি‌নি বাঁ‌শি বাজা‌চ্ছি‌লেন; কেমন ছিল ওই পা‌র্টি। কীভা‌বে পুড়‌ছিল রোম। নী‌রোইবা কেমন শাসক ছি‌লেন।

নী‌রোর জন্ম ৩৭ খ্রিস্টাবে। ৫৪ থে‌কে ৬৮ খ্রিস্টাব পর্যন্ত রোমান সাম্রা‌জ্যের পঞ্চম সম্রাট ছি‌লেন তি‌নি। জু‌লিও-ক্ল‌ডিয়াস রাজত‌ন্ত্রের সর্ব‌শেষ সম্রাট নী‌রো। 

নী‌রোর মা এ‌গ্রো‌পিনা তার চাচা ক্ল‌ডিয়াস‌কে বি‌য়ে ক‌রে‌ছি‌লেন পুত্র‌কে সম্রাট বানা‌নোর জন্য। এ‌গ্রো‌পিনার প্রাসাদ ষড়য‌ন্ত্রের কার‌ণে ক্ল‌ডিয়াস নি‌জের পুত্র‌কে সম্রাট কর‌তে পা‌রেন‌নি। মাত্র ১৬ বছর বয়‌সে ক্ল‌ডিয়া‌সের পা‌লিত পুত্র হিসা‌বে সিংহাস‌নে ব‌সেন নী‌রো। 

ওই সম‌য়ে প‌শ্চি‌মে স্পেন, পূ‌র্বে সি‌রিয়া, উত্ত‌রে ব্রি‌টেন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল রোমান সাম্রাজ্য। বালক বয়‌সে শাসক হলেও খেলাধুলা, গান বাজনা, থি‌য়েটার, এস‌ব ক‌রে জন‌প্রিয় হ‌য়ে‌ছি‌লেন নী‌রো। কারণ মা এ‌গ্রো‌পিনা পেছ‌নে উপ‌দেষ্টা হিসা‌বে থে‌কে তা‌কে প‌রিচালনা ক‌রেন।

এক পর্যা‌য়ে মা‌য়ের স‌ঙ্গে দূরত্ব হয়। মা‌কে লোক পা‌ঠি‌য়ে হত্যা ক‌রেন নী‌রো। এ‌কের পর এক স্ত্রী‌কে হত্যা ক‌রেন। সৎ ভাই‌কে হত্যা ক‌রেন। সাম্রাজ্য চালা‌নোর নিষ্ঠুরতা আর খাম‌খেয়া‌লিপনা চর‌মে ও‌ঠে।

৬৪ খ্রিস্টাবে রো‌মে আগুন লা‌গে। ৬০ ভাগ পু‌ড়ে ছাই হ‌য়ে যায়। নী‌রো তখন পা‌র্টি বসান। মিউ‌জিক পার্টিতে নি‌জে বাঁ‌শি বাজান। তি‌নি ক‌বিতা লিখ‌তেন। গান গাই‌তেন্ থি‌য়েটার কর‌তেন। অ‌ভিনয় কর‌তেন। 

‌রো‌মের আগুন নি‌জে লা‌গি‌য়ে ছি‌লেন ব‌লে চাউর থাক‌লেও নী‌রো আগুনের জন্য খ্রিস্টানদের দায়ী ক‌রেন। তা‌দের নিষ্ঠুরভা‌বে হত্যা ক‌রেন। 

নী‌রো বড় বড় প্রাসাদ বানা‌তে পছন্দ কর‌তেন। মৌজ মা‌স্তি কর‌তে পছন্দ ক‌র‌তেন। রোম পু‌ড়ে যাবার পর তি‌নি এমন এক প্রাসাদ বানানোর কা‌জে হাত দেন যার ভেত‌রে থাকার কথা সোনার ই‌ন্টে‌রিয়র, ঘূর্ণায়মান টে‌বিল, পাইপ দি‌য়ে ছড়া‌তে থাক‌বে সুগ‌ন্ধি, বিলা‌সিতার চূড়ান্ত মাত্রা। 

রো‌মের মানুষ তখন পোড়াবা‌ড়ি থে‌কে ক‌ষ্টে উ‌ঠে দাঁড়া‌নোর চেষ্টা কর‌ছে। নী‌রোর বিলা‌সিতা দে‌খে ক্ষুব্ধ জনগণ তাড়া ক‌রে। ৬৪ সা‌লে তি‌নি পা‌লি‌য়ে যান। তা‌কে তাড়া ক‌রে হত্যার উ‌দ্যোগ নি‌লে নী‌রো নি‌জে আত্মহত্যা ক‌রেন ।

মাত্র ৩০ বছর বয়‌সে নী‌রো এভা‌বে মারা যান।

দুই :

‌মিয়ানমা‌রের সেনাপ্রধান জেনা‌রেল মিন অং হ্লাইং ২৭ মার্চ এক‌টি পা‌র্টি দি‌য়ে‌ছেন। সশস্ত্র বা‌হিনী দিবস উপল‌ক্ষে ডিনার পা‌র্টি। দি‌নে সেনাবা‌হিনী হত্যা ক‌রে‌ছে ১০০ জ‌নের বে‌শি মানুষ। রা‌তে ডিনার পা‌র্টি। ফেব্রুয়া‌রির প্রথম দিন ভো‌রে তি‌নি নেতৃ‌ত্বে সেনাবা‌হিনী বেসাম‌রিক সরকা‌রের কাছ থে‌কে ক্ষমতা কে‌ড়ে নেয়। তারপর বি‌ক্ষোভকারী‌দের ওপর গু‌লি চালা‌তে থা‌কে । এ পর্যন্ত ৪০০ জন‌কে হত্যা ক‌রে সেনাবা‌হিনী। 

২০১৭ সা‌লে রো‌হিঙ্গা‌দের ওপর হত্যাযজ্ঞ চা‌লি‌য়ে মিয়ানমা‌রের সেনাবা‌হিনী জন‌প্রিয় হ‌য়ে ও‌ঠে। কারণ উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদা‌য়ের দেশ মিয়ানমা‌রে মুসলমান‌দের হত্যা, ধর্ষণ, আগুন লাগা‌লে জন‌প্রিয়তা বা‌ড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালতে হ্লাইং অ‌ভিযুক্ত হন। 


শেফ’স টেবিলের ৩৬ রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব

জানাজার নামাজের জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

গণপরিবহনে আবারো যাত্রী অর্ধেক করার নির্দেশ


চল‌তি বছ‌রের মাঝামা‌ঝি অবস‌রে গে‌লে আগামীতে ভা‌গ্যে কী হ‌বে তা নি‌য়ে শঙ্কায় ছি‌লেন। তাই ক্ষমতাটা নি‌য়ে নি‌য়ে নি‌জেই নি‌জের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কর‌ছেন। এক‌দি‌নে দেশ‌টির ৪১ জায়গায় গু‌লি ক‌রে সেনাবা‌হিনী। জনগ‌ণের কা‌ছে তার জন‌প্রিয়তা কম‌ছে।

‌মিয়ানমা‌নের রাস্তায় শবযাত্রা। শো‌কের মি‌ছিল। স্বজ‌নের আহাজারিতে ভা‌রি হ‌চ্ছে বাতাস। জেনা‌রেল তখন পা‌র্টি দি‌য়ে‌ছেন। লে‌ভিস পা‌র্টি। জাঁকজমকপূর্ণ। ‌জৌলু‌শে ভরপুর। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ এক ডজন দে‌শের প্র‌তিরক্ষা মন্ত্রী বলছেন, পেশাদার সেনাবা‌হিনী নি‌জের দে‌শের জনগণ‌কে সুরক্ষা দেয়। জনগণ‌কে ক্ষ‌তি ক‌রে না। 

তার চে‌য়ে এক ডিগ্রী বা‌ড়ি‌য়ে বি‌দে‌শে থাকা মিয়ানমা‌রের নাগ‌রিকরা টুইট কর‌ছেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চল‌ছে জনগ‌ণের বিরু‌দ্ধে। 

‌মিয়ানমা‌রে সেনা শাসন নতুন কিছু নয়। ১৯৪৮ সা‌লে স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৬২ সাল থে‌কে টানা ৫০ বছর সেনাশাসন চ‌লে‌ছে। তারপর গণতন্ত্র উঁ‌কি দি‌য়ে‌ছিল। আবার সেনাশাসন। আবার গণত‌ন্ত্রের জন্য আন্দোলন। আবার কি মিল‌বে গণত‌ন্ত্রের দেখা? ক‌ঠিন প্রশ্ন। উত্তর অজানা।

মাসুদ করিম, সিনিয়র সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

শওগাত আলী সাগর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

ক্রিকেটার সাকিবকে নিয়ে নানা জনের নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার কোনোটাই পড়িনি, পড়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাকিব একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যে কোনো পরিস্থিতিতে তার আচরণ হবে খেলোয়াড়সুলভ- এটিই হচ্ছে বটমলাইন। এর ব্যত্যয় হলে সেটিকে অবশ্যই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় ‘বিহেভিয়ারাল নর্মস’ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকেন, থাকতে হয়। সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পরে। 

সাকিব আল হাসানের ঘটনাকে আমি এই আঙ্গিকে দেখার পক্ষপাতি। একজন খেলোয়াড় হুটহাট রেগে যান না, রেগে গেলেও তারা ভায়োলেন্ট রিঅ্যাকশন দেখান না। যখন এগুলো ঘটে তখন তার মানসিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী হয়ে পরে। সাকিব কী কোনো স্ট্রেসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন? তার মানসিক সুস্থতায় কোথাও কী কোনো ধরনের আচড় লেগেছে? কোভিডকালে অনেক মানুষই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অবসাদে ভোগছেন, মানসিক চাপের মধ্যে পরেছেন। সাকিবেরও সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমি মনে করি, সাকিবের সবার আগে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শ্মরণাপন্ন হওয়া দরকার। সাকিবের যারা শুভাকাংখী তারা নিশ্চয়ই তাকে এই পরামর্শটা দেবেন। 

বাই দ্যা ওয়ে,মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর শ্মরণাপন্ন হওয়ার কথা শুনে  নাক সিটকাবেন না যেনো। উন্নত দেশগুলোতে যে কোনো মানুষের মানসিক স্বাস্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেক বড় বড় সেলিব্রেটিকেও এমন কি গবেষক, শিক্ষাবিদদেরও  অনেক সময় ’অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’ এর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ‘ওয়েলনেস প্রসিডিউর’।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ও তো একটা বেশ্যা

তসলিমা নাসরিন

ও তো একটা বেশ্যা

মেয়েদের আন্দোলনে ''আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত'' স্লোগানটা কেমন লাগে?
ভীষণ ভালো। 
সমর্থন করো?
ভীষণ। 

এই যে  তোমার শহরে একটি মেয়ে বিবাহিত অবস্থায় স্বামী নয়, অন্য কারো  সঙ্গে শুয়ে প্রেগনেন্ট হলো, একে কিভাবে দেখ? 
ওর কথা বলো না, ও  তো একটা বেশ্যা। 
হলিউডের নায়িকা ''বি'' কে তোমার ভালো লাগে? 
ভীষণ। 

''বি'' তো বিবাহিতা, কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের বাচ্চা তার পেটে। তারপরও ভালো লাগে? 
ওর অভিনয়ের কোনও তুলনা হয়? হয় না। 
আর বাচ্চা যে পেটে, একে অবৈধ বলবে না? 
এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। 
নাকি ও তোমার শহরের বা দেশের  মেয়ে নয় বলে মেনে নিচ্ছ? 
পাশ্চাত্যে ওসব চলে। 
এখানে চলে না? 
মোটেও না। 

তাহলে তোমার শহরে  'আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত' স্লোগান দিয়ে যখন মিছিল  বের হয়, সেই মিছিলে কেন সামিল হও? 
হবো না কেন? 
প্রগতিশীল বনার জন্য? 
এ কেমন অদ্ভুত প্রশ্ন? গেট লস্ট।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর