নরও নয়, নারীও নয়: এমন পাখির দেখা মিলল যুক্তরাষ্ট্রে

অনলাইন ডেস্ক

নরও নয়, নারীও নয়: এমন পাখির দেখা মিলল যুক্তরাষ্ট্রে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়াতে দেখা মিলেখে এক বিরল পাখির। পাখিটি নারীও নয় আবার পুরুষও নয়। উভয়লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য রয়েছে পাখিটির। এককথায় হিজরা পাখি।  

পাখি বিশারদ জেমি হিল এই কার্ডিনালকে শনাক্ত করেছেন। পেনসিলভানিয়ার ওয়ারেন কাউন্টি থেকে জেমি হিলের এক বন্ধু জানান, তার বাড়ির বাইরে অদ্ভুত ধরনের একটি পাখি এসেছে। তিনি নিজের সেলফোনে ছবি তুলে তা হিলকে পাঠান। প্রথমে এই পাখি বিশারদ ভেবেছিলেন, পাখিটি বুঝি পালকের রঙ হারিয়েছে। পরে বুঝতে পারেন আসলে এটি ‘বাইলেটেরাল গায়নানড্রোমরফিজম’ অর্থাৎ এমন এক বিশেষ শারীরিক অবস্থা যেখানে একটি পাখির শরীরে ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয় দুটিই কার্যকর।

বিষযটি বুঝতে পেরে দ্রুত বন্ধুর বাড়ি যান জেমি হিল। তারপর পাখিটির বেশকিছু ছবি তোলেন তিনি। সাধারণত, পুরুষ কার্ডিনালের গায়ের রঙ হয় উজ্জ্বল লাল, আর নারী কার্ডিনালরা হয় ফ্যাকাসে বাদামি রঙের। তবে যে পাখিটির ছবি দেখা যাচ্ছে সেটির গায়ের রঙ লাল ও বাদামি মিশ্রিত। রঙই বলে দেয় যে, এটি অর্ধেক নর, অর্ধেক নারী।


রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার প্রেমিকা

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

কিশোরকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী!

অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং ইসলামে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত


পাখিদের ক্ষেত্রে এমন উভলিঙ্গের হওয়াটা বেশ বিরল বলে জানান ওয়েস্টার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ব্রায়ান পির। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো পাখি উভলিঙ্গ কিনা সেটা জানাও যায় না। তবে নর্দার্ন কার্ডিনালের ক্ষেত্রে এমন হলে সেটা আলাদা করা যায়। কারণ এই পাখির পুরুষ ও নারীর রঙ আলাদা। 

তাই যখন কোনো উভলিঙ্গ কার্ডিনালের জন্ম হয় তখন তাকে বাইরে থেকে দেখেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যায়। সাধারণত, কোষ বিভাজনের সময় কোনো ভুলের কারণে এই ধরনের পাখির জন্ম হয় বলেও জানান এই অধ্যাপক। একটি ডিম্বাণুকে দুটি আলাদা শুক্রাণু নিষিক্ত করলে উভলিঙ্গ প্রাণির জন্ম হতে পারে।

অবশ্য উভলিঙ্গ কার্ডিনাল পাখির শনাক্তের ঘটনা এটিই প্রথম নয়।  ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে এক দম্পতি একই ধরনের পাখি দেখেছিলেন।

news24bd.tv/আয়শা

পরবর্তী খবর

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

হারুন আল নাসিফ

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে হাঙ্গর সমুদ্রে চলাফেরা করতে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের প্রাকৃতিক জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে বিশাল দূরত্ব অতিক্রমকালে পথ চিনতে তাদের কোনো ভুল হয় না।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, তারা মেরিন ল্যাব্রেটরিতে হাঙ্গরের আচরণ পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ধারণার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি সমীক্ষার রিপোর্ট চলতি মাসে Current Biology জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সমীক্ষার অন্যতম গবেষক ব্রায়ান কেলার জানান, আমরা জানতাম যে হাঙ্গর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের প্রতি সাড়া দেয়। তবে এটা জানতাম না যে, পথ অতিক্রমের সময় তারা এটিকে সনাক্ত করে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

আরও পড়ুন

  হামাসের সঙ্গে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে ইরানের সঙ্গে কি হবে?: লিবারম্যান

  ইহুদি উপাসনালয়ের আসন ভেঙে নিহত ২, আহত শতাধিক (ভিডিও)

  পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনা: ২৬ জনের প্রাণহানির মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

  কেউ বেঁচে নেই ১০ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুর, প্রশ্ন ‘আমি এখন কী করব?’ (ভিডিও)

 

তিনি জানান, কোনা কোনো হাঙ্গর সমুদ্রে ২০ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পর আবার একই স্থানে ফিরে আসতে পারে। অনেক বছর থেকে বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে জানতে কৌতুহলী ছিলেন। এ গবেষণায় সেই রহেস্যের দ্বার উন্মোচন হলো।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বাঁশের তৈরি নান্দনিক মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার ‘সাকা বুয়ানা’

হারুন আল নাসিফ

বাঁশের তৈরি নান্দনিক মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার ‘সাকা বুয়ানা’

ইন্দোনেশিয়ায় বাঁশের তৈরি অনেক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য সুন্দর মসজিদও রয়েছে। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি অনিন্দ্য সুন্দর মসজিদ। মসজিদটি  দেশটির জাভা দ্বীপের সর্বপশ্চিমের প্রদেশ বান্টেনের সেরাং রিজেন্সির ক্রাগিলান জেলায় অবস্থিত।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি সোমবার মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। এর নাম রাখা হয়েছে সাকা বুয়ানা মসজিদ। সংস্কৃত শব্দ ‘সাকা’ অর্থ স্তম্ভ এবং ‘বুয়ানা’ অর্থ বিশ্ব। সুতরাং সাকা বুয়ানা অর্থ দাঁড়ায় ‘বিশ্বের স্তম্ভ’।

ইন্দোনেশিয়া বাঁশ ফাউন্ডেশন ২৬০ বর্গমিটার আয়তনের এ মসজিদটিকে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বাঁশের মসজিদ বলে অভিহিত করেছে।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রজ্ঞার প্রয়োগে এটিকে অনন্য করে তুলতে এবং নৈসর্গিক ছোঁয়া দিতে মসজিদ ভবনের নকশায় বাঁশকে প্রধান উপাদান হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কাঠামো নির্মাণের ৬০ শতাংশ বাঁশের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

মসজিদের দেয়াল, ছাদ ও মিম্বর বেতের কারুকাজ ও বার্নিশ করা বাঁশ দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে নির্মাণ বরা হয়েছে। এর মিনারটিও তিনটি ধাপসহ বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি এবং মিনারের চূড়ায় ‘আল্লাহ’ শব্দটির চারুলিপি এবং একটি লাউড স্পিকার স্থাপন করা হয়েছে।

মসজিটি পশ্চিম জাভানিজ স্থাপত্য শৈলীতে ‘পারাহু নাংকুব’ বা উল্টো নৌকার মডেলে নির্মাণে করা হয়েছে। মসজিদে রয়েছে একটি সুদৃশ্য গাজেবো বা আটকোণা দেহলি, যাতে কাঁচের অলঙ্করণ করা ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মাদ’ শব্দদু’টি মুসল্লিদের অভ্যর্থনা জানায়।

মসজিদের পুরো অভ্যন্তর ভাগে বাঁশের অলঙ্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। সজ্জায় রয়েছে একটি ইসলামিক দর্শন, মিহরাবে অবস্থিত পাঁচটি সূঁচালো বাঁশ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ এবং বৃত্তাকার হিজাবের আকারে ছয়টি বাঁশ ঈমানের ছয়টি স্তম্ভ মূর্ত করে তোলে। এছাড়া মিহরাবের দুটি বড় বাঁশের খুঁটি কলেমা শাহাদতের দুটি বাক্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বেলুন-গলা ফ্রিগেটবার্ড: সমুদ্রের রূপবান ডাকু পাখি

হারুন আল নাসিফ

বেলুন-গলা ফ্রিগেটবার্ড: সমুদ্রের রূপবান ডাকু পাখি

ফ্র্রিগেটবার্ড একটি বৃহদাকার সামুদ্রিক পাখি। এর কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্র্রিগেটবার্ড প্রজাতিটি বৃহত্তম। মূলত গ্যালাপোগাস ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফ্রিগেটবার্ড দেখা যায়। তবে ফ্লোরিডা, গাল্ফ কোস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইকুয়েডরের মধ্যবর্তী আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলেও এদের দেখা মেলে।

এদের দেহের পালক তামাটে-কালো এবং পা ধূসর-কালো। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের চেয়ে মর্দা ফ্রিগেটবার্ডকে সহজে চেনা যায়। কারণ এদের ঠোঁটের নিচে একটি উজ্জ্বল লাল রঙের থলে থাকে। তারা এটি বলুনের মতো ফুলিয়ে সঙ্গীকে আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকে। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের গায়ের রঙ কালো। পা গোলাপি। বুক সাদা। পাখায় তামাটে ফুট থাকে। গলার নিচে থলে থাকে না। তবে এরা আকারে মর্দা পাখির চেয়ে বড়ো হয়ে থাকে।

ফরাসি প্রকৃতিবিদ জাঁ-ব্যাপিÍস্ত দু তের্ত্রে ১৬৬৭ সালে এই পাখির নাম রাখেন। তিনি এ পাখিকে জাহাজে ডাকাতি করার জন্য জলদস্যুদের ব্যবহৃত দ্রুতগামী ফ্রিগেট জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেন। চার্লস ডারউইন যখন এই পাখিটি প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি মুগ্ধ হয়ে এটিকে ‘সমুদ্রের কনডর’ নাম দিয়েছিলেন। এরও আগে ব্রিটিশ ও স্প্যানিশরা এদের ম্যান-অব-ওয়ার বা ডাকু পখি বলে ডাকতো। নামের সঙ্গে এদের আচরণের বেশ মিল রয়েছে।

এরা বেশ আগ্রাসী ও ডাকু স্বভাবের হয়। এদের জলদস্যুই বলা যায়। যে কারণে তাদের জলদস্যু জাহাজের নামে এদের নামকরণ করা হয়। এরা অন্যান্য পাখি, বিশেষ করে গাংচিলদের হয়রানি করে এবং তাদেও খাবার ডাকাতি করে। তারা প্রায়ই তাদের ঠোঁট দিয়ে অন্য পাখির লেজ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে তাদের শিকার ফেলে দিতে বাধ্য করে। অন্য পাখির বাসার ডিম চুরি করে খায়। এছাড়া এরা মাছ ধরার নৌকা থেকে ফেলে দেওয়া উড়–ক্কু মাছ, স্কুইড, জেলিফিশ, কচ্ছপ, কাঁকড়াও খেয়ে থাকে। যেভাবেই হোক, ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেটবার্ড বিনাশ্রমে খাবার পেলেই খুশি।

এরা দৈর্ঘে ৩৫ থেকে ৪৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ওজন হয় ২.৪ পাউন্ড থেকে ৩.৫ পাউন্ড বা ১.১ থেকে ১.৫৯ কেজি। এদের পাখার বিস্তার ৭.১ থেকে ৮.০ ফুট (২.১৭ এবং ২.৪৪ মিটার) হয়ে থাকে। ফলে এরা দীর্ঘ সময় ধরে অনায়াসে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে বাতাসে ভেসে চলতে পারে। এর শরীর ও পাখার বিস্তারের অনুপাত পৃথিবীর যে কোনো পাখির চেয়ে বেশি। এরা ১৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এরা যখন এদের পাখা ও দ্বিধা-বিভক্ত লেজ ছড়িয়ে আকাশে ওড়ে, তখন এদের দেখতে ঠিক উড়ন্ত ঘুড়ির মতো মনে হয়।

তবে এরা যে নিজেরা একেবারেই শিকার করে না এমনটি নয়। এরা টুনা মাছ ও ডলফিনের ঝাঁকের খোঁজে থাকে। কারণ এরা ছোট মাছদের তাড়িয়ে পানির উপরিভাগে নিয়ে আসে। এ তখনই সুযোগ মতো ফ্রিগেট বার্ড এর লম্বা ও বঁড়শির মতো বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে ছোঁ মেরে মাছ ধরে ওপরে উঠে যায়। একাজে তারা দারুণ পটু বটে। তবে পালক জল-নিরোধী না হওয়ায় এরা পানিতে ডুব দিতে পারে না বা জলে নামে না। পানিতে বেশি ভিজলে এদের শরীর অতিরিক্ত ভারী হয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। এদের পাজোড়াও ছোট, ফলে পানি থেকে উঠতে সহায়তা করে না।

এরা সাধারণত দল বেঁধে চলে। এরা গাছের ডালে বা ঝোপঁ-ঝাড়ে বাসা বাঁধে। ফ্রিগেটবার্ড প্রজনন মৌসুমে একটি সঙ্গী নির্বাচন করে তার সঙ্গে জোড় বাঁধে। কোনো পুরুষ ও নারী ফ্রিগেটবার্ড যখন জোড় বাঁধতে চায়, তখন পুরুষ পাখিটি বাসা বাধাঁর জন্য ঘাস, লতা-পাতা, গাছের ডাল-পালা, খড়-পালক ইত্যাদি জোগাড় করে দেয়। কখনো-কখনো অন্য পাখির বাসা থেকেও উপকরণ চুরি করে আনে। নারী পাখিটি বাসা বুনে। এক ফুট প্রস্থের একটি বাসা বাধঁতে ১৩ দিন পর্যযন্ত সময় নেয় নারী পাখিটি।

মাদি ফ্রিগেটবার্ড সাধারণত সাত বছর বয়সে ডিম দেয়। এরা বছরে মাত্র একবারই ডিম দেয়। বাকি সময়টা বাচ্চাদের বড় করে তুলতে ব্যয় করে। আর কোনো পাখি এতো দীর্ঘসময় ধরে বাচ্চা লালন-পাল করে না। এরা এক ঋতুতে একটি বা দুটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। ডিমটির দৈর্ঘ ২.৭ ইঞ্চি ও বেড় ১.৯ ইঞ্চি হয়ে থাকে। সাধারণত এই প্রজাতির পুরুষ পাখি বাচ্চা দেওয়ার তিন মাস পর্যন্ত নারী পাখির সাথে যৌথভাবে বাচ্চা দেখাশোনা করে। এরপরে পুরুষ পাখিটি তার সাথীকে ছেড়ে চলে যায়। তবে মা-পাখিটি এক বছর অব্দি তার বাচ্চাদের দেখভাল করে। পুরুষ পাখিটি পরের মৌসুমে অন্য পাখির সঙ্গে জোড় বাঁধে।


আরও পড়ুনঃ


ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

বাড়ছে না ঈদের ছুটি, শুরু আগামীকাল থেকে

ঈদে অর্থ বহনে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের নির্দেশনা

ভারতে বাতিল হল গো-রক্ষা হেল্প ডেস্ক


ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেটবার্ড সম্পর্কে একটি অবাক করা তথ্য হলো এই আশ্চর্যজনক সামুদ্রিক পাখিটি কোথাও না নেমে, না থেমে এবং নামমাত্র ডানা ঝাপটিয়ে দিনে প্রায় ২৫৫ মাইল (৪১০ কিলোমিটার) বেগে কয়েক মাস ধরে উড়তে পারে। এমনকি তারা উড়ালরত অবস্থায় ঘুমায় বলেও মনে করা হয়। এরা তাপীয় কলামে বা উষ্ণ বাতাসের ঊর্ধমুখী স্রোতে নিজেদের ভাসিয়ে দেয়, যা তাদের উচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা ডানা না নেড়েই প্রায় ৪০ মাইল পথ ভ্রমণ করতে পারে। যখন নামতে শুরু করে, তখন তারা ব্যাক-আপ তুলতে কেবল কয়েকবার ডানা ঝাপটায় এবং কিছুক্ষণের জন্য তারা আবারো ভেসে চলতে পারে।

ফ্রিগেটবার্ড সম্পর্কে অনেক গবষণা হয়েছে। তবে এখনো এই পাখিরা উড়ন্ত অবস্থায় কীভাবে ঘুমায় তা কেউ নিশ্চিত নয়। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন পরামর্শ ফ্রিগেটবার্ডদের মস্তিষ্কের কেবল একপাশ ঘুমায়, তখন অপর ভাগ জেগে থাকে এবং কোনো হুমকির জন্য সতর্ক থাকে। অন্য গবেষকরা দাবি করেন যে ফ্রিগেটবার্ডরা দিনে প্রায় ৪৫ মিনিট ঘুমায়। তবে এটি ১০ সেকেন্ডের পর্বে বিভক্ত।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফুলের নাম নাচুনে বালিকা

হারুন আল নাসিফ

ফুলের নাম নাচুনে বালিকা

এই ফুলটির নাম ডান্সিং গার্লস। দেখলে শুভ্রবসনা ছোট্ট বালিকা মনের আনন্দে নাচছে বলে মনে হয়। তাই এটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

এ ফুলের গাছটিও খুব ছোট। সাকুল্যে একফুট মতো বড়ো হয়। ফুলটি হয় আধাইঞ্চি মাত্র। এর রঙ সাদা ছাড়া হালকা গোলাপিও হয়।

এর মাতৃভুমি পূর্ব আফ্রিকা। তবে মাটির নাগাল পেলে সবখানে হয়। কিন্তু এর চারার নাগাল পাওয়া ভার।


বাংলাদেশি নাগরিকদের থাইল্যান্ড ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ফিতরা দেয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

ঝুম বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী

নদীতে ভেসে এল ৪০টির বেশি লাশ


বিশ্বকর্মার মনের খেয়ালে নিজের হাতে গড়া এই ফুলটি খুবই বিরল প্রজাতির। ছবি ছাড়া বাস্তব ফুল চোখে দেখার কথা ভাবাই যায় না।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

হারুন আল নাসিফ

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

মণিপুরীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী সম্প্রদায়টি ‘পাঙন’ বা ‘পাঙ্গান’ বা ‘পাঙ্গাল’ বা মণিপুরী মুসলিম হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নানান স্থানে প্রায় পঁচিশ হাজার মণিপুরী মুসলিম বাস করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাঙনরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য আজো বজায় রেখেছে। তাদের ঘরবাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছেদ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।

কথিত আছে যে, মণিপুর রাজ্যে ভারতবর্ষের কোনো এক অঞ্চলের পাঠান মুসলিম ব্যবসা-বাণিজ্য করতে মণিপুর যান। তাঁদের একজন এক মৈতৈ মণিপুরী মেয়ের সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ হন এবং তাঁকে বিবাহ করে সন্তানাদিসহ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। মৈতৈই  মা ও পাঠান মুসলিম পিতার বংশধররাই পরে পাঙান বা মণিপুরী মুসলিম নামে পরিচিতি পায়। তারা মায়ের ভাষায় কথা বলে এবং পিতার ধর্ম পালন করে। 

ইতিহাসবিদদের মধ্যে মণিপুরে ইসলামের সূচনা এবং পাঙ্গাল নামের উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ আছে। কোনো কোনো সূত্র সূচনা সালটি ৯৩০ সালের আগে-পরে বলে মনে করেন। তবে অধিকাংশ সূত্র সালটি ১৬০৬ বলে নিশ্চিত করেন। এ সালে মুসলিম সৈন্যরা বন্দুক প্রস্তুতকারক হিসাবে বা লবণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মণিপুর প্রবেশ করেন। ঘটনাক্রমে তারা একটি চুক্তির মাধ্যমে মণিপুরে থেকে যান।

 ইতোমধ্যে বার্মার সাথে যুদ্ধ বাঁধলে মণিপুরের রাজা মৈতৈ বাহিনির পক্ষে মুসলিম সৈন্যদের সাহায্য চান। যুদ্ধে তারা বীরত্বের পরিচয় দেন। মৈতৈ বাহিনি জিতে যায়। রাজা খুশি হয়ে তাদের ‘পাঙ্গাল’ উপাধি দেন। মৈতৈ ভাষায় পাঙ্গাল মানে শক্তি বা শক্তিশালী। এই সৈন্যরা মৈতৈ সম্প্রদায়ের মেয়েদের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মৈতৈ সংস্কৃতির ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন দিকগুলো গ্রহণ করেন। কালক্রমে তাদের বংশধররা পাঙ্গাল বা পাঙন নামে পরিচিতি পায়।

পাঙনরা সুন্নী মুসলিম। তবে স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে পাঙনদের সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরণ, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সাথে বাঙালি মুসলমানদের পার্থক্য রয়েছে। পাঙনরা প্রচণ্ড ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল। পাঙন মেয়েরা কঠোর পর্দাপ্রথা মেনে চলে।  পাঙন সমাজ নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক অনুমোদন দেয় না। পাঙান মেয়েরা কুর্তি, সালোয়ার ও ফানেকের মতো নিজস্ব পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো লুঙ্গি ও পায়জামা।

পাঙনদের মসজিদগুলোতে কেবল পাঙন ইমামরাই ইমামতি করেন। নানান সামজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে কোরান শরিফের তর্জমা ও তাফসীর, বিভিন হাদিসের পাঠ ও ব্যাখ্যা সবকিছু মাতৃভাষায় করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিয়ের দিনে ‘কাসিদা’ নামে পরিচিত এক ধরনের লোক ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গান ও নাচের অনুষ্ঠান থাকে যা পাঙনদের একান্ত নিজস্ব।

ঈদ পাঙনদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিনে গোত্র বংশ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর পাঙন এক কাতারে সমবেত হয় এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করার জন্য। ঈদের জামাতও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। বলা বাহুল্য, ঈদের জামাতে ইমামতির ভার থাকে যথারীতি পাঙন সম্প্রদায়েরই কোন মৌলভির ওপর। মসজিদে, দোকানে, হাটবাজারে, খেয়াঘাটে সবখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা চলে। 

আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত জনদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয়। পরিবারের সবার জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন মেয়েদের জন্য পর্দা কিছুটা শিথিল থাকে। ঈদের দিনে পাঙন মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে দল বেঁধে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্য চেয়ে দেখার মতো।

পাঙন জাতির নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাস মণিপুরীদের অপরাপর শাখা বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈদের থেকে আলাদা। যদিও তিনটি জনগোষ্ঠিই অষ্টাদশ শতাব্দিতে আদিভূমি মণিপুর ত্যাগ করে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তোলে। মণিপুরে মুসলমানদের সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ অভিভাসন ঘটে মোগল আমলে। 

পাঙনরা প্রচণ্ড পরিশ্রমী জাতি। ভিক্ষাবৃত্তিকে এরা মনুষ্যজন্মের নিকৃষ্ট পেশা বলে মনে করে। কৃষিকাজ ছাড়াও তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষি সরঞ্জাম ও আসবাব তৈরিতে দক্ষ। পাঙন মেয়েরা কৃষিকাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। এছাড়া তাঁতে কাপড় বোনা এবং সূঁচিকর্মে পাঙন মেয়েদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। মণিপুরীদের পরিধেয় ফানেক বা চাকসাবির ওপর পাঙন মেয়েদের সূঁই সুতার সুক্ষ্ম কারুকাজ দেখে বিস্মিত হতে হয়।

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর