প্রতি কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী হতো ৪শ মাত্র !

আরিফ জেবতিক

প্রতি কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী হতো ৪শ মাত্র !

কিশোর বেলা থেকে আমার বরযাত্রা মিস যায় নি। আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের আত্মীয় স্বজন, পাড়াতুতো তালুইতুতো সব ভাই বেরাদারদের বিয়েতে আমাকে স্পেশাল দাওয়াত দিয়ে বরযাত্রায় নিয়ে যায়। 

এর বিশেষ কারণ হলো, আমি বিভিন্ন ধরনের মুলামুলি করে গেটের টাকা প্রায় না দিয়ে বা অত্যল্প দিয়ে বরকে গেটের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে পারি। ( আমার নিজের বিয়েতে আমি একদম বিনাটাকায় গেট পার হয়ে ঢুকে গিয়েছিলাম, পরে দরিদ্র শালাশালীদের আর্ত চিৎকারে হৃদয় ভেঙে গেলে কিছু টাকা পয়সা দিয়েছিলাম বটে।) 


হেফাজতের বিক্ষোভ, পুলিশের রাবার বুলেট-লাঠিচার্জ, আহত ১৫

নৌ পথে আগের মতোই গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন, অথচ ভাড়া বৃদ্ধি

ভ্যানে চাকায় ওড়না পেচিয়ে স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু

দেশে করোনা শনাক্তে ফের রেকর্ড


তো, এইবার আমার আত্মীয় স্বজনের মাঝে যেসব মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার্থী আছে, তারা আমারে বরযাত্রা না নিয়েই পরীক্ষা দিতে চলে গেছে! ছবি দেখে যা বুঝলাম, প্রত্যেক পরিক্ষার্থীর সাথে ৩/৪ জন করে গেছে। আমারে কেউ সাথে নেয় নি কেন জানি না। অবশ্য এটা নতুন চল হয়েছে।

আমরা ক্লাস ফাইভের পরীক্ষা দিতেও একা একা গেছি। এসএসসি পরীক্ষার সময় এক পরিক্ষার্থীর বাসা থেকে দুই পরীক্ষার মাঝে ডাব নিয়ে এসেছিল, সেটা নিয়ে তাকে ব্যাপক হাসিঠাট্টায় পড়তে হয়েছে। সুতরাং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীর সাথে একাধিক অভিভাবক যাওয়া নিয়ে আমরা যারা যাওয়ার সুযোগ পাই নি, এরা হিংসা করে হাসিঠাট্টা করছি।

কিন্তু আমাদের আসলে প্রশ্ন তোলা উচিত সরকারের এফিশিয়েন্সি নিয়ে। পরীক্ষার্থী সোয়া লাখ, কেন্দ্র মাত্র ৫৫টি ! ঢাকায় ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র মাত্র ১৫টি ! দেশ জুড়ে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ২২০০ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন নিতে হবে এই মহামারীর কালে!

সারাদেশে যদি ৩০০ কেন্দ্র করা হতো, তাহলে গড়ে জেলাপ্রতি কেন্দ্র পড়ত ৪.৫ টা। প্রতি কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী হতো ৪শ মাত্র ! 

মুরগির খাঁচার মতো করে হাতে গোনা কয়েকটা কেন্দ্রে সবাইকে জড় করবে সরকার, কিন্তু সরকারের এই ফাতরামির দিকে আঙুল না তুলে, কেন্দ্রে কেন অভিভাবক যাবে, সেটা নিয়ে আহাজারি করার কিছু নেই। 

সরকারের যেসব ভোদাই এই সিস্টেম তৈরি করেছে, সেই ভোদাইদেরকে জোরে গালি দেয়া দরকার।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ধর্মের নামে অধর্ম

চৌধুরী জহিরুল ইসলাম

ধর্মের নামে অধর্ম

অনেকটা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মত। গ্রাম থেকে শহর অভিমুখে হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোটা, বন্দুক উঁচিয়ে রওয়ানা হলো। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আগুন জ্বললো! তারপর দেশটি নিমজ্জিত হলো চিরস্থায়ী গৃহযুদ্ধে। 

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের এক দশক হতে চলল। নিউইয়র্কে বহু মুদি দোকান এবং গাড়ি চালিয়ে জীবন নির্বাহ করা বহু ইয়েমেনী। তাদের গৃহযুদ্ধের কারণ জিজ্ঞেস করেছি। কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারে না- কেন এই গৃহযুদ্ধ? অশিক্ষা, কুশিক্ষা এবং অপুষ্টিতে জর্জরিত একটি জাতি কেন দিনদিন অন্ধকারের গহ্বরে নিমজ্জিত হচ্ছে!

কোনো কোনো ইয়েমেনী বলেছে- হুতিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ইরানী ভাবধারার বিস্তৃতি ঘটেছে। অনেক সুন্নী ইরানী টাকার লোভে শিয়া হয়ে গেছে। এখন তাই রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলটাই বাকি। ইরান যেহেতু এসেছে, তাই বিপরীতে সৌদি আরবের অংশগ্রহণ অবধারিত। হাতি-ঘোড়ার লডাইয়ে প্রাণ যাচ্ছে উলু-খাগড়ার!

আফগানিস্তানের তালেবান কিংবা পাকিস্তানের তালিবানদের কথাই ধরুন। আফগানিস্তান পুরোটাই জিম্মি তালেবান দমন পীড়নে। পাকিস্তান মাঝেমাঝেই বিস্ফোরিত হয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আস্ফালনে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অঁকেজো করে দেয়ার মত! 

চলতি সপ্তায় এরা লাহোর নগরীকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ১১ জন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে বুঝিয়ে দিয়েছে, এরা ইচ্ছে করলে সিভিল প্রশাসনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে! বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে সেদিকেই যাচ্ছে!

বাংলাদেশের ভেতরে বাইরে থেকে ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে অনৈতিক কাজে মদত দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করি। একটি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে এই মদত দেয়ার পেছনে। আড়ালের রাজনৈতিক নেতারা কেবল ব্যবহার করে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের। 

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজনৈতিক নেতাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও মিথ্যাচার ধরে ফেলেছে। তাই ব্যাপকভাবে অন্তত ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী আর নেতাদের বিশ্বাস করে না। তাদের কথায় এক মিনিটও সময় নষ্ট করতে চায় না। 

বাকি থাকে ১০ শতাংশ। এদের কেউ কেউ সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের আখের গোছানোর মতলবে। এবং খুব সামান্য একটি অংশ হয়ত ন্যায়ের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের নষ্টালজিয়ায় ভোগে। কাজেই নষ্ট রাজনীতির আকাঙ্খা পূরণে এখন তাই মাদ্রাসার ছাত্ররাই একমাত্র ভরসা। 

মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের উস্তাদের উস্কানিতে শ্রেণীকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় আগুন জ্বালায়। জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করে। কয়েকজন হয়ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেয়। বাকিরা আবার ফিরে যায় মাদ্রাসায়। গত এক দশকে এটিই বাংলাদেশের চালচিত্র। 

বাংলাদেশের এইসব মাদ্রাসার ছাত্র কারা? এদের মোচ-দাড়িও গজায়নি ঠিকমত। উস্তাদের রক্তচক্ষু ও উস্কানিকে এরা বিধাতার আদেশ মনে করে। সামাজিকভাবে এরা হীন ও দরিদ্র। উস্তাদ এবং মাদ্রাসার কল্যাণে এদের অন্তত ৮০ শতাংশের ভাত-কাপড়ের সংস্থান হয়েছে!

বাংলাদেশের উঠতি ধনীক শ্রেণীর বদান্যতায় চলে মাদ্রাসাগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত প্রবাসীদের অর্থানুকূল্য। এই দু’টি উৎসই জানে না বাংলাদেশের উত্থান ও জন্মলাভের ইতিবৃত্ত। এরা জীবনযাপনে আধুনিক হলেও পশ্চাদপদ মানসিকতার। 

মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার যে সব সরলপ্রাণ বাংলাদেশী বিনাবাক্য ব্যয়ে বাংলাদেশের মসজিদ মাদ্রাসায় টাকা ঢালেন, তারা কোনোদিন ঘুণাক্ষরেও জানতে চান না সেসব মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়। সেখানে শিক্ষক হিসেবে কারা কর্মরত। 

পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। সেখানে হুজুরদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা ব্লাসফেমী আইনের সমতুল্য। এক পাকিস্তানীকে আমি একদিন প্রশ্ন করেছিলাম- এই যে তোমাদের দেশে শিয়া মসজিদে সুন্নীরা গুলি করে মানুষ হত্যা করে, কিংবা শিয়ারা সুন্নী মসজিদে গুলি চালায়, এসব কি ইসলাম সম্মত? 

উত্তরে সে বলেছিল- এরা পরস্পরকে মুসলমানই মনে করে না! বলে ‘ফেৎনা’ সৃষ্টিকারী। আর ‘ফেৎনা’ সৃষ্টিকারীদের ধ্বংস করা না গেলে আসল ইসলাম নাকি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না! 

এই যে ধর্মের নামে অধর্ম চলে, এর বিস্তার শুরু হয়েছে আমাদের দেশেও। এই বিষধর সাপকে রুখবেন কী দিয়ে? কারা বলবে- ধ্বংস, বিভিষিকা, হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও ধর্মের মর্মবাণী নয়! সমাজকে শান্তি ও কল্যাণের পথে ধাবিত করাই ধর্মের কাজ। 

পরস্পরকে জানা, বুঝা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মধ্যেই ধর্মের মর্মবাণী নিহিত। যতদিন পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে আত্মপোলব্ধি জাগ্রত না হবে, যতদিন পর্যন্ত সমাজের অপশক্তিকে সততা ও সাহসিকতা দিয়ে মোকাবিলার প্রস্তুতি অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত অন্ধকার এবং কুসংস্কার আমাদের পিছু ছাড়বে না! 

ধর্মকে নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের উপলব্ধির সময় হয়েছে বহু আগেই যে, এই বাড়াবাড়ি ধর্মের কোনো কাজে লাগে না। বরং ধার্মিক মানুষেরা তাদের আচরণে হয় বীতশ্রদ্ধ। যারা সমাজের মঙ্গল এবং কল্যাণ কামনা করেন- উন্নাসিকতা ও নীরবতার দিন শেষ হয়েছে তাদেরও। একটিবার গর্জে উঠুন এবং বলুন- ধর্মের নামে সমাজে অধর্ম চলতে পারে না!

লেখক: চৌধুরী জহিরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

হারুন আল নাসিফ

কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: একটি তরলপাঠ

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ এমনটি মনে করেন সবাই। কোনো গণ্ডমূর্খও এ কথার বিরোধিতা করবে না। কিন্তু এটা কি সবাই বুঝে বলেন? এমন প্রশ্ন সচরাচর মাথায় আসার কথাই না। এলেও হয়তো উত্তর হবে: এটা না বোঝার কী আছে? আসলেই কি? বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ প্রযুক্তিকেই বিজ্ঞান ঠাওরে বসে আছেন!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পর ঘনিষ্ট সম্পর্কযুক্ত বলেই হয়তো এ দুটোর পার্থক্য এড়িয়ে যাই আমরা। কিন্তু এতে বিপত্তি ঘটতে পারে। আবার প্রযুক্তি ও এর ব্যবহার এক নয়। দুটো গুলিয়ে ফেললে সমস্যা হয়। আর এই দ্বিবিধ কারণেই আমরা প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারকে বিজ্ঞানের অভিশাপ বলে ভুল করি, গাল পাড়ি।

সাধারণভাবে বলা হয় বিজ্ঞান হলো বিশেষ জ্ঞান। কিন্তু এই বিশেষ জ্ঞানটা কী? এটা থাকে কোথায়? আর আমরাই বা কীভাবে এটি পাই? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে বিজ্ঞানের সূচনা পর্বের দিকে নজর দিলে সুবিধা হবে বলে মনে হয়। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি বিজ্ঞানের সঙ্গে আবিষ্কারের একটা সম্পর্ক আছে গোড়া থেকেই।

তো আবিষ্কার জিনিসটা কী? শব্দটি বেশ ভারী ও গুরুগম্ভীর। বই-পুস্তকের সুবাদে এই শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত হলেও বাস্তবে দেখা যায় যে এর অর্থ সম্পর্কে অনেকের ধারণা স্বচ্ছ নয়। শব্দটি সংস্কৃত। এর সহজ বা খাঁটি বাংলা অর্থ হলো কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া বা খুঁজে বের করা। হঠাৎ কোনো কিছু খুঁজে পাওয়াকেও আবিষ্কার বলা হয়।

পৃথিবীতে বসবাসের শুরুতেই মানুষের সবকিছু জানা থাকলে কোনো কিছুই আবিষ্কার হতো না বা করার প্রয়োজন পড়তো না। জগতে আবিষ্কারের সূচনা আছে, কিন্তু শেষ আছে মনে হয় না। এটি একটি চলমান বিষয়। তো কখন ও কীভাবে আবিষ্কারে সূচনা হয়? কোন জিনিসটি মানুষ প্রথম আবিষ্কার করে?

আবিষ্কারে সূচনা ঠিক কখন হয় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ধারণা করা হয় মানুষ প্রথম যেসব জিনিস আবিষ্কার করে তার মধ্যে আগুন অন্যতম। কীভাবে? মানুষ অবিষ্কার করলো বা দেখতে পেলো যে জঙ্গলে বিজলী বা বজ্রের আঘাতের ফলে আগুন জ্বলে। এটি দেখে তার মধ্যে বিস্ময় ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। 

মানুষ দেখতে পায় আগুন জ্বললে আলো বিচ্ছুরিত হয়। গাছ-পালা পুড়ে যায়। এসময় তাপ নির্গত হয়। এগুলোকে আধুনিক ভাষায় বলে আগুনের ধর্ম। এক পর্যায়ে সে পাথরে পাথর ঘঁষে আগুন জ্বালাতে শেখে। এখানে মূলসূত্র হলো ঘর্ষণ। পরে মানুষ আরো নানাভাবে আগুন জ্বালাতে শেখে। শেখে এর নানা ব্যবহার। উদ্ভাবন করে আগুন জ্বালানোর নানা কৌশল বা প্রযুক্তি।

আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ, আগুনে মাংস সিদ্ধ করা এবং পরে মশাল জ্বালিয়ে অন্ধকার দূরীকরণ রপ্ত করে সে। এই যে মশাল এটি কিন্তু একটি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সহজে আগুন পরিবহন করা সম্ভব। এছাড়া এর আরো বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। সে ব্যবহার যেমন ইতিবাচক হতে পারে, হতে পারে নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক।

সে যাই হোক, এতক্ষণ ধরে যে আগুন আগুন করছি সেটি আসলে কী? এটি আসলে এক ধরনের শক্তি। এ শক্তি প্রাকৃতিক। মানুষ তা খুঁজে বের করেছে মাত্র। মানুষ দেখতে পেয়েছে বাতাসে থাকা অক্সিজেন ও জ্বালানি উৎসের মধ্যে বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আগুন উৎপন্ন হয়। আগুন কী ও কীভাবে জ্বলে তা খুঁজে বের করতে গিয়ে সে যে চিন্তা-ভাবনা করেছে এটাকে বলা যায় গবেষণা।
কথায় কথায় অনেক কথা তো হলো। কিন্তু বিজ্ঞান কী তা কি পরিষ্কার হলো? আমরা দেখতে পেলাম বিজ্ঞান প্রকৃতিতেই নিহিত থাকে। মানুষ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা খুঁজে বের করে মাত্র। আধুনিক অর্থে এই বিদ্যাকেই বিজ্ঞান বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, বিধাতা আমাদের চারপাশের জগৎ বা প্রকৃতিতে যে জ্ঞান নিহিত রেখেছেন তা উদ্ঘাটন করার নামই বিজ্ঞান।

আর প্রযুক্তি? এটি হলো বিজ্ঞানের ব্যবহারের নানা কৌশল। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য মানুষের কাজ-কর্ম সহজ করে তোলা। ঢেঁকিও একটি প্রযুক্তি, পুরানো হলেও। অটো রাইসমিল যার আধুনিক সংস্করণ। বিজ্ঞান ব্যবহার করেই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। কিন্তু তাই বলে প্রযুক্তি বিজ্ঞান নয়। 

প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে। তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর।

আগুন পোড়ায়। এটা তার ধর্ম। আমরা পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আগুনের পুড়ানোর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এর উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে রান্না করি। এটি প্রযুক্তি। পাত্র ও চুলা দুটোই এক্ষেত্রে প্রযুক্তি। এবং ভালো প্রযুক্তি। এখন কেউ যদি কোনো প্রযুক্তি, যেমন ম্যাচ বা লাইটার ব্যবহার করে কারো ঘরে আগুন দেয়, তাহলে দোষ কি আগুনের না প্রযুক্তির? নাকি বিজ্ঞানের?

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

সোহেল সানি

করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

প্রাণঘাতী করোনা মানুষের ভেতরের খোলসটা উন্মোচন করে দিয়েছে। কঠিন এক সত্যের সঙ্গে দিয়েছে পরিচয় করিয়ে। পিতৃত্ব, মাতৃত্ব, ভগ্নি-ভ্রাতৃত্ব, স্বামিত্ব ও স্ত্রীত্ব সর্বপরি সব সম্পর্কই নিছক এক স্বার্থের সুতোয় বাঁধা। স্নেহ, শ্রদ্ধা, প্রেম ভালবাসা এ সবই স্বার্থান্বেষণ ব্যতীত কিছুই নয়। মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক সত্তায় বেড়ে ওঠে, নিজের সুখশান্তি বর্ধনের জন্য সে সমষ্টিগত রূপে কেবল রূপদান করে - যা নিতান্তই অভিনয়। এ অভিনব চরিত্র দিয়েই ঘরেবাইরে তার আধিপত্য বিস্তার করে। রক্তের উত্তরাধিকার বলে পারিবারিক যে সম্পর্কের বেড়াজাল তা যে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষায় ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে, প্রাণঘাতী করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। ‘রক্তের টান’, প্রাণের টান বা ‘আত্মার টান’ এগুলো কথার কথা।

দু-চারটি ব্যতিক্রম ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও তা তো বিরল বিদগ্ধ প্রাণের টান -যেমন অবচেতন মনে প্রেমের টানে কপোত-কপোতীর স্বপ্রনোদিত আত্মাহুতি। মানুষ স্বার্থান্ধ। সে নিজের স্বার্থে অন্যকে ভালবাসে বা আত্মীয়পরিজনকে সূত্র ধরে ব্যবহার করে। রক্তেরের অপেক্ষা অনেকে আত্মার সম্পর্ককে বড় বন্ধন বলে জাহির করি। অবশ্য সমাজবাদীরা রক্তের বন্ধন-কে এগিয়েই রেখেছেন। সমাজের চোখও রক্তকেই প্রকৃত বন্ধন বলে বিবেচনা করে আসছে। সেটাও পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সহায়সম্পদের ভাগবাটোয়ার বিষয়।

প্রত্যেকটি বন্ধন আজ ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে। বন্ধনের কোনই স্থায়ীত্ব নেই। মানুষ নিজের সুখবর্ধনের জন্যই স্বার্থান্ধে পরিণত হন। ফলে ঘটে বিপত্তি। স্বার্থে বেঘাত ঘটলেই যেকোন ধরণের বন্ধন চুকে যাওয়ার ঘটনা অহরহ। করোনা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে পিতার–আর পিতার লাশ রাস্তায় কিংবা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে পুত্রকন্যা! করোনায় আক্রান্ত হচ্ছ স্বামী-স্ত্রী পালিয়ে যাচ্ছে বাপের বাড়ি। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ঘটনা যদি হয় নিষ্ঠুর, মর্মান্তিক তাহলে করোনায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকে কি বলবো?

আমার মানবমনের বন্দরঘাঁটে এখন একটি প্রশ্ন নোঙ্গর করেছে,আসলে রক্তের, বা দৈহিক বন্ধনটা আসলে কি সুখপ্রদ প্রশান্তির হাতিয়ার মাত্র? এর আইনানুগ, সামাজিক, আর্থিক ভিত্তির মূল্য আছে- তবে কেন?

রক্তের বন্ধনের সূত্র, যে উৎস হতে উদ্ভূত সেই জন্মদাতা ও জন্মধাত্রীর সম্পর্কের অবস্থান কি? রক্তের উত্তরাধিকারের সঙ্গে তুলনীয়? রক্তের বন্ধন অবিছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অথচ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্ক তা নয়। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনের স্থায়ীত্ব বরং সর্বদা হুমকীর সম্মুখীন। তাকে বিচ্ছিন্ন হবার আশঙ্কা নিয়ে অগ্রসরমান হতে হয়। মায়ের গর্ভে ও বাবার ঔরস্যে পুত্র কন্যার জন্ম, অর্থাৎ বাবা-মা’র রক্তের সংমিশ্রণের ফসল পুত্রকন্যা।

স্বামীস্ত্রীর দৈহিক বন্ধন রক্তের বন্ধন অপেক্ষা নগণ্য বলেই বিবেচ্য হচ্ছে। অদ্ভূত এক সমীকরণ। দৈহিক সম্পর্কধারী স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে এবং হয়, কিন্তু রক্তের সম্পর্কটা অবিচ্ছেদ্য। তা হত্যা কিংবা ধ্বংসেও পরিত্যক্ত হয় না। স্বামীস্ত্রীর বন্ধনকে আত্মিক বন্ধন বলা হলেও এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বড় কঠিন যেহেতু আত্মার সম্পর্ক অদৃশ্যমান।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলস্থলভাগ বলে পরিচিত প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ণয়হীন গভীরতার মতোও যদি হয় রক্তের বা আত্মার সম্পর্ক তাকেও আজ ম্লান করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। আজ রক্তের বা আত্নার বন্ধনের গভীরতা কতটুকু তা আমরা অনুভব করছি করোনা কবলে পড়ে।

আরও পড়ুন


‘আইনগত কোনো জটিলতা নেই সুপার লিগ আয়োজনে’

কষ্টটা ডায়রির পাতায় শব্দে শব্দে বুনে রেখেছিলাম

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র বাবু মারা গেছেন


অবশ্য আত্মার সম্পর্ক বিধাতার সঙ্গে হয় মহামানবের সেই মহামানবের দেখা মিললেও কি আমরা করোনার করুণ ট্রাজেডির কথা কখনো ভুলতে পারবো? পুরুষরাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা মূল শেকড় উপরে ফেলে পৃথিবীর বুকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চালু করেছে। ‘মা’ প্রধান পারিবারিক ঐতিহ্যের অবলুপ্ত ঘটিয়ে। মা’র স্থলে সন্তানদের রক্তের সম্পর্ককে পিতা’র সূত্রে গেঁথে দেয়া হয়েছে। সেই কালের ‘জননী বিধি’র সমাজব্যবস্থাকে বলা হয় অসভ্য যুগ। তখন নারী ছিল পরিবারের অভিভাবক। পুরুষকে ‘দেবী’ হিসাবে নারীকে পুজো দিতে হতো। মায়ের উত্তরাধিকারী হতেন মেয়েরা। ছেলেরা ছিলেন শোষিত। সম্পদ ঐশ্বর্যের অধিকারীও মা সূত্রে মেয়েরা হতো।

পুরুষরা যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার শেকড় উপরে ফেলে চালু করে বর্বর যুগের। মেয়ে বা কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য মা’র ওপর নেমে আসতো অকথ্য নির্যাতন, নিপীড়ন। উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠলো ছেলেরা। কায়েম করা হলো জনক বিধি আইন। মানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। তারপর মধ্যযুগের শুরু ধর্ম-গীর্জা কেন্দ্রিক শোষণ ব্যবস্থা। তারপর ফরাসী বিপ্লব ও রুশবিপ্লবের মাধ্যমে যে সনাতন বা আধুনিক যুগের শুরু। কিন্তু মানুষ কি মানুষ হতে পেরেছি আমরা? করোনা আজ দিচ্ছে কঠিন শিক্ষা। আর আমরা এমন শিক্ষার সাথে তো আগেই পরিচিত যে, ভাই ও বোনের সম্পর্ক রক্তের। অথচ, আমরা দেখছি, কত ভাই সেই রক্তের বন্ধনকে দু’পায়ে মাড়িয়ে দুচার হাত জমির জন্য বোনকে বিধবাও বানিয়ে দেয়। ধনসম্পত্তির লোভে ভাই- ভাইকে হত্যা রাজ-রাজ্য নিয়ে বিবাদ বিগ্রহ সেও কিন্তু করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর নয়। কথায় কথায় মানুষ মানুষকে খুশী করার জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তাহলো ‘আত্মার বন্ধন।’ ওই বন্ধনকে বিধাতা প্রদত্ত বলে সাফাইও গান তারা। বিধাতার সঙ্গে আসলে সাধারণের বন্ধন হয় কিনা আমার বোধগম্য নয়। অবশ্য, মহামানবদের সঙ্গে বিধাতার আত্মার বন্ধনকে অস্বীকার করা যায়না। চলমান মানবসভ্যতায়।

মানুষের আত্মা যেহেতু ঈশ্বরের সন্ধান করে, সেহেতু আত্মার সম্পর্ক রক্ত বা দৈহিক সম্পর্কের শত-অযুত, লক্ষ-কোটি, মিলিয়ন-বিলিয়নেরও অধিক বড়,গভীর, বিস্তৃত। আমরা সেই বিধাতার আত্মার সন্ধান করি, আর বিধাতাকে ভালবাসি। ভালোবাসি বিশ্বের সকল মানুষকে।  সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে। নিশ্চয়ই  বিধাতা কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি করোনা মুক্ত করবেন আমাদের সুন্দর ধরণীকে। 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস বিশ্লেষক।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমার কথাগুলো হয়তো পচ্ছন্দ হবে না, তাও বললাম

নাজনীন আহমেদ

আমার কথাগুলো হয়তো পচ্ছন্দ হবে না, তাও বললাম

নাজনীন আহমেদ

আমার এই কথাগুলো হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না, তাও বললাম।

#করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১৫ বাকি ৮৫ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে অপুষ্টির শিকার হলে ধুকে ধুকে মরতে হবে অনেককে।

#লকডাউনে সচ্ছল ধনী মানুষ তার বড় বাসায় সোশ্যাল ডিসটেন্স মানতে পারবে, কিন্তু ঝুপড়ি ঘরে থাকা মানুষগুলো লকডাউনে একে অন্যের সাথে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হয় দিনের বেশিরভাগ সময়।

#লকডাউন দিলে মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর শান্তিতে থাকে সচ্ছল মানুষ। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভোগা মানুষদের জন্য লকডাউন কোন শান্তির বার্তা আনে না। বরং তারা করোনার ঝুঁকি নিতে রাজি, কিন্তু আশু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগতে রাজি নয়।

#লকডাউনে কল কারখানা খোলা রাখার অনুমতি যারা নিতে পেরেছে তারাই আবার প্রণোদনার অর্থ বেশি আদায় করতে পেরেছে। আর লকডাউনে যাদের কলকারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এদের বেশিরভাগই বঞ্চিত হয়েছে কোন রকম প্রণোদনা পেতে। 

#ধনী দেশগুলোর পক্ষে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব, কিন্তু স্বল্পআয়ের দেশে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তাই স্বল্পোন্নত দেশে লকডাউন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো যাবে না।


করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

জিততে এসেছি, ইনশাআল্লাহ জয় পাব: মুমিনুল

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

কানাডার শীর্ষ নেতাদের সবাই অস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিচ্ছেন


#করোনার কারণে শিক্ষায় যে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য তৈরী হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ আয়-বৈষম্য আরো বাড়তে পারে।‌

#লকডাউন ধনী-বান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয় । সরাসরি খাদ্য সহায়তা দিয়ে অতি দরিদ্রদের হয়তো বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব কিন্তু ছোট ছোট শিল্প উদ্যোগগুলো ধ্বংস হলে সেগুলো আবার গড়ে তোলা মুশকিল।

#জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে বাঁচতে হলে ভাবতে হবে, এখনই নিতে হবে অন্তত এক বছরের সার্বিক পরিকল্পনা। নয়তো বারবার লকডাউনের অপচয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বাড়বে।

নাজনীন আহমেদ: অর্থনীতিবিদ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

অসচেতনতার কারণে আমরা একপেশেভাবে বাঙালিদের গালমন্দ করলেও অসচেতনতা আসলে বিশ্বব্যাপী এক ব্যাধি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত একটি দেশেও করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীর মাঝেও জনঅসচেতনতা দেখে অবাক হয়েছি। 

সরকারের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে মাস্ক পরিধানে না করলে জরিমানা নির্ধারণ করা হলেও রাস্তাঘাটে চলাচলককারী লোকজনকে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করতে দেখছি। শুধু দোকানপাটে প্রবেশ করতে লোকজন পকেট থেকে মাস্ক বের করে নাকে-মুখে এঁটে নেয়। 

রেস্টুরেন্টগুলো চালু থাকলেও সেখানে বসে খাওয়া এখনো নিষিদ্ধ। স্যান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া বা সিলিকন ভ্যালি হিসেবে খ্যাত এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়সম্পন্ন এলাকাগুলোর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার উচ্চ দক্ষ আইটি প্রফেশনালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারের অধিক লোক সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। 

এর বাইরেও ওইসব প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কাজে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক উচ্চ বেতনধারী কর্মী রয়েছে। ফেসবুক, অ্যাপল, অ্যালফাবেট/গুগল, ওরাকল, ভিসা, ওয়েল ফারগো, ইনটেল, ই-বে, ইয়াহু, সিসকো, শেভরন, এনভিডিয়া, নেটফ্লিক্স, হিউলেট প্যাকার্ডের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর ছাড়াও সিলিকন ভ্যালিতে আরও প্রায় ৬৫টি বড় বড় কোম্পানি রয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিম্ন পর্যায়ের কর্মীর গড় বেতন বার্ষিক ৫০ হাজার ডলার এবং সর্বোচ্চ বার্ষিক বেতন সাড়ে ৪ লাখ ডলার। বাড়িঘরের দাম ও ভাড়া অত্যধিক। আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনাকালেও ভালো ব্যবসা করছে এবং সে কারণে গত একবছর যাবত কর্মীরা ভার্চুয়াল অফিস করলেও লোক ছাঁটাইয়ের হার প্রায় শূন্য। 

স্যান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের দক্ষিণ উপকূল ঘিরে বেশ কয়েকটি সিটি স্যান হোজে, পালো আল্টো, মাউন্টেন ভিউ, মেনলো পার্ক, রেডউড, সানিভেল, স্যান্টা ক্লারা, কুপারটিনো সিলিকন ভ্যালির মধ্যে পড়ে। সিটিগুলোর মধ্যে শুধু স্যান হোজে একটি বড় সিটি। তুলনামূলকভাবে ছোট একটি ভৌগোলিক এলাকায় এতো উচ্চ শিক্ষিত লোকজনের বিপুল উপস্থিতি সত্বেও করোনার ভয়াবহতার মধ্যে তাদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা খাপছাড়া লাগছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ আঘাত হেনেছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক মৃতের হার ৭০০ জনে নেমে এসেছিল তা থেকে বেড়ে গত ১৯ এপ্রিল মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে ১,২৭৫ জন। সংক্রমণ হার ও হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনায় ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ৫,৬৭,৮৭১ জন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৬১,০৪৫।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যে কোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনকে অনেক ধকল পোহাতে হয়। করোনার বিস্তার প্রতিহত করতে লকডাউন জারি করে, কান ধরে উঠবস করানো, লাঠিচার্জ বা জরিমানা আদায় করেও লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসা থেকে বিরত রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন্ন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে।   

করোনাকালে আমাকে দ্বিতীয় দফা আটলান্টিক উপকূল থেকে প্রায় তিন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ায় আসতে হলো। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মাঝেও এসেছিলাম। তখনও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হয়নি। 

করোনা টেস্টও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। বিমান যাত্রার প্রাক্কালে করোনা টেস্ট করার কড়াকড়ি ছিল না। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া করোনা সংক্রমণের হটস্পট ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট সরকার নির্দেশ জারি করেছিল যে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত স্টেটগুলো থেকে কেউ যদি নিউইয়র্কে আসে তাহলে তাকে করোনা টেস্ট করাতে হবে এবং ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। আমাকেও তা করতে হয়েছিল। তা না হলে আমাকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হতো। 

আইসোলেশনে থাকার প্রতিদিন সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ফোন করে খবর নিয়েছে আমি ঠিক আছি কিনা। আমার কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। গতবছরের অক্টোবরে আমার অফিসের একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আমাকে দ্বিতীয় দফা টেস্ট করাতে হয়। 

ইতোমধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের উভয় ডোজ নিয়েছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এয়ার টিকেট কেনার সময় দেখা গেল বিমান যাত্রার দশ দিনের মধ্যে টেস্ট করানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কাজেই আবারও টেস্ট করাতে হলো। 

১৫ অক্টোবর নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌছে যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখতে পেলাম। চেক-ইন কাউন্টারগুলোতে বেশ ভিড়। গতবছরের জুনে এয়ারপোর্ট অনেকটাই জনমানবশূন্য ও রীতিমতো ভূতুড়ে পরিবেশ ছিল। ফ্লাইটে প্রতি সারিতে তিন আসনের মাঝেরটি ছিল যাত্রীশূন্য। এবার যাত্রী ও  ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে। 

প্রতি সারির প্রতিটি আসন যাত্রী পূর্ণ। এবার মাঝখানের আসন ফাঁকা নেই। পাইলট বার বার মাস্ক পরে থাকার ফেডারেল গাইডলাইন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সাড়ে ছয় ঘন্টা পর স্যান ফ্রান্সিসকো এয়ারপোর্টে পৌছে সেখানেও প্রচুর যাত্রী দেখতে পেয়েছি। সবার নাক মুখ মাস্কে ঢাকা। 


জিততে এসেছি, ইনশাআল্লাহ জয় পাব: মুমিনুল

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

কানাডার শীর্ষ নেতাদের সবাই অস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিচ্ছেন

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদের নামাজ


স্যান ফ্রান্সিসকো এয়ারপোর্ট থেকে বের হই দুপুরের আগে। হাইওয়ে ছেড়ে জনবসতি এলাকা অতিক্রম করার সময় খুব কম লোকের মুখেই মাস্ক দেখেছি। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ লোকদের একজনও মাস্ক পরা ছিল না। এশিয়ান চেহারার দু’চারজনের মুখে মাস্ক চোখে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসম রাজ্যজুড়ে মাস্ক পরিধান না করার যে জরিমানা ধার্য করেছেন, তা উচ্চ। বাড়ির বাইরে বের হলে ও অন্য লোকজনের কাছাকাছি এলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। 

নির্দেশ ভঙ্গ করলে ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথম বার জরিমানা ১০০ ডলার, একই ব্যক্তি দ্বিতীয় বার নির্দেশ ভঙ্গ করলে জরিমানা ২০০ ডলার এবং তৃতীয় বার ৫০০ ডলার। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানা ধার্যের নিয়ম একটু ভিন্ন। সেখানে প্রথমবারের নির্দেশ ভঙ্গের জরিমানা ২৫০ ডলার, দ্বিতীয় বার ৫০০ ডলার এবং তৃতীয় বার ১,০০০ ডলার। কোনো কোনো কাউন্টিতে নির্দেশ লংঘনে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তৃতীয় বারের জরিমানা ২,০০০ ডলার পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তৃতীয় বারের জরিমানা ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত। 

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ বছর বয়সের অধিক সকলের জন্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও মহামারী নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মাস্ক পরার নির্দেশ বহাল রয়েছে। স্যান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ও গ্ল্যাডস্টোন সেন্টার ফর এইডস রিসার্চের ডাইরেক্টর ড. মনিকা গান্ধী বলেছেন, “কেউ যদি ভ্যাকসিন নিতে না চায় তাহলে সেটি তার অধিকার, কিন্তু মহামারীর বিস্তার রোধে মাস্ক পরা জরুরী।” 

তাঁর সহকর্মী ড. জর্জ রাদারফোর্ড ২০২২ সাল পর্যন্ত মাস্ক পরার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। নিউইয়র্কে পথেঘাটে, যানবাহনে মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখিনি। ক্যালিফোর্নিয়ায় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা থাকা ও প্রশাসনের সতর্কতা সত্বেও মাস্ক পরিধানে ব্যাপক নির্লিপ্ততা আমাকে বিস্মিত করেছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর