প্রথম বউয়ের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিয়ে করা কি বেআইনি নয়!

প্রথম বউয়ের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিয়ে করা কি বেআইনি নয়!

যারা ভাবছেন যে মামুনুল হকের দুশ্চরিত্র জনসম্মুখে উন্মোচন করে দিলেই তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে, তারা রাজনীতির গভীর পাঠ খেয়াল করছেন না।

মামুনুল হকরা কী করে, না করে তার অনুসারীরা ভালোভাবেই জানে। ১২/১৭ জন কর্মীর কবরের মাটি শুকানোর আগেই এরা বান্ধবী বা তথাকথিত দ্বিতীয় বউ নিয়ে রিসোর্টে যায়, এতে তাদের অনুসারীদের কিছুই যায় আসে না। 

এদের কাছে নারীর কোনো সম্মান নেই, তাই প্রথম বউয়ের অনুমতি না নেয়া অথবা গোপনে কাগজপত্র ছাড়া বিয়ে করা যে বেআইনি এসবকে এরা কোনো ইস্যুই মনে করে না।

এদের অনুসারীদের অনেকেই ডাইরেক্ট এদের ভিকটিম, ছোটবেলা পায়ূ নির্যাতিত কিংবা শারিরীক ভাবে নির্যাতিত এসব অনুসারীরা একই সাথে লূত ( আঃ) এর কওমের ইতিহাসও পড়ে, ইসলামে এরকম নির্যাতন নিষিদ্ধ সে জ্ঞানও লাভ করে কিন্তু আবার তাদের নেতাদের অনুসরণও করে। 

এর পেছনের রাজনীতিটা মূলত বিপ্লবের স্বপ্ন। মামুনুল হকরা এদের সামনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে। এরা টের পেয়েছে যে এনার্কি তৈরি করতে পারলে, শক্তি প্রদর্শন করতে পারলে এরাও ক্ষমতার অংশীদার হতে পারে। 

এই যে লাখো লাখো মাদ্রাসা ছাত্র, এদের কোনো ব্যবহারিক বিদ্যা নেই, তাই এদের সামনে কোনো আশাবাদের কিছু নেই। এদের অধিকাংশই কোনো এক গ্রামের মসজিদে দুই হাজার টাকা বেতনের মোয়াজ্জিন হিসেবে মানুষের বাড়িতে খেয়ে আর মানুষের হাতের দিকে তাকিয়ে জীবন পার করে দেবে। 

জেনেটিক্যালি কয়েক প্রজন্মের অপুষ্টি, প্রায় বন্দি ও নির্যাতিত শৈশব, নানামুখি বিদ্যা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এদেরকে মানসিক ভাবে পুষ্ট মানুষ তৈরি করতে পারে নি। খেয়াল করে দেখবেন যে এদের সামনে যখন কোনো ওয়াজিয়ান ওয়াজে বলে, আমি ৩টা পিএইচডি করেছি কিংবা বলে যে অক্সফোর্ডের সেরা শিক্ষক হয়েছি কিংবা বলে এন্টারকটিক মহাদেশকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে-এরা এইসব গালগল্প অবলীলায় বিশ্বাস করে। 

এসবকে প্রশ্ন বা অবিশ্বাস করার মতো বুদ্ধিজ্ঞান এদের নেই। এই দোষ তাঁদের না, এই দোষ বাদবাকি মানুষদের, যারা দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিয়ে এসব নিন্দার্থাল টাইপ মানুষ তৈরি করতে সহায়তা করেছেন।  সুতরাং এরা কী বিশ্বাস করে কি করে না, নেতার সততায় ও নিষ্ঠায় এরা যতই সন্দেহজনক থাকুক, এই নেতাদেরকে অনুসরণ করে দুনিয়াদারির ফুলসিরাত পার হওয়া ছাড়া এদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

এই যে দেশে হাজার হাজার সোকল্ড 'বঙ্গবন্ধু প্রেমী' বের হয়েছে গত ১০ বছরে, এরা যেমন ক্ষমতার লোভ ছাড়া অন্য কোনো কারনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বপ্ন, চিন্তা-কোনো কিছুতেই কমিটেড না; হেফাজতের নেতা এবং তাঁদের অধিকাংশ কর্মীও সেই একই ফর্মুলায় জমি, দান এসবের লোভে হেফাজতি; ইসলাম হেফাজতের সত্যিকারের স্বপ্ন তাদের কারো নেই। এরা তাই একই সাথে ধর্মের পেজ আর পর্ণগ্রাফির পেজ লাইক দিয়ে চলে।

সুতরাং মৌলবাদী রাজনীতির উত্থানকে মোকাবেলা করার জন্য এসব অডিও ফাঁস, এদের মুখোশ উন্মোচন খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না।
মৌলবাদ বিরোধী রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে হলে মানুষকে কাজ দিতে হবে, এদের জীবন ধারনের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা করতে হবে। মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদেরকে জীবনের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা, এদেরকে কাজেকর্মে লাগানোটাই হচ্ছে কার্যকর পদ্ধতি।

কিন্তু আমরা জানি, সরকার এই পথে যাবে না। সরকার কুলোটা মুলোটা, মুখের সামনে গাজর আর পাছার পিছে বেত-এই সিস্টেমে এদেরকে পালবে পুষবে। রাজনৈতিক ভাবে কম বুঝা, কম জানা; দানবীয় শক্তির অধিকারী অপরিপক্ষ মস্তিস্কের হাজার হাজার মানুষ থাকা, সরকারের নিজের তখতে তাউশ রক্ষার জন্য আপাত সুবিধাজনক। 

এই সুবিধা যে চিরকাল থাকবে না, সেটা সরকারও জানে, তাই  সরকার এই গেইম কতদিন খেলবে সেটাই দেখার বিষয়। যতদিন তাঁরা এই গেইম চালু রাখতে চাইবে, ততদিন কে কারে বিয়ে করল কিংবা না করেই রিসোর্টে নিয়ে গেল-এসব নিয়ে সাময়িক হাসিঠাট্টা করা যাবে বটে, কিন্তু আদতে তাতে মৌলবাদী রাজনীতির কচুটাও হবে না!

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পরবর্তী খবর

মিথের সাম্রাজ্য, হকিংয়ের কচ্ছপ ও প্রমিজডল্যান্ডের কথকতা

মিল্লাত হোসেন

মিথের সাম্রাজ্য, হকিংয়ের কচ্ছপ ও প্রমিজডল্যান্ডের কথকতা

স্টিফেন হকিং তার 'কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস' নামের অতিবিখ্যাত বইটা শুরু করেছেন মজার একটা ঘটনার বয়ান দিয়ে। এক নামজাদা বিজ্ঞানী (অনেকে বলেন তিনি ছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল) একবার জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর একটা বক্তৃতা দেন। তিনি বেশ মনোরম ভাষায় বয়ান দিয়ে যান যে ঠিক কীভাবে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে আর সূর্যই বা কীভাবে আমাদের আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। ভাষণ শেষ হতেই মিলনায়তনের এক কোণ থেকে  শীর্ণকায়া এক বৃদ্ধা উঠে দাঁড়িয়ে মুখঝামটা দিয়ে বললেন- কীসব  গুলগপ্প বলেই যাচ্ছো!

শোনো বাছা, পৃথিবী আসলে একটা চ্যাপ্টা থালা, যা এক অতিকায় কচ্ছপের পিঠে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বুঝলে! বিজ্ঞানী মশায় একখানা বেশ বিজয়ীর হাসি ঠোঁটের তলায় ঝুলিয়ে বললেন- তা যা বলেছেন আন্টি; তাহলে এটাও বলে যান যে, সেই প্রকাণ্ড কচ্ছপটাই বা ঠিক কিসে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে? বুড়িও কম যাননি, বলেন কী না- তুমি বাপু সেয়ানা আছো বটে; তবে জেনে রেখো, পৃথিবীর তলায় খালি কচ্ছপ আর কচ্ছপ আছে! বিজ্ঞানীর দাঁতকপাটি লেগে যাবার দশা। 

 

মার্কিন লেখক বব ফুলযাম তার বেস্ট সেলার 'All I Really Need to Know I Learned in Kindergarten' বইয়ে মিথ নিয়ে বেশ মজার কথা বলেছেন- 'আমার বিশ্বাস কল্পনা জ্ঞানের চেয়েও শক্তিশালী। মিথের ক্ষমতা ইতিহাসের বাড়া। বাস্তবের চেয়েও স্বপ্ন ঢের মজবুত । আর অভিজ্ঞতাকে টেক্কা দিয়ে আশাকেই জয়যুক্ত হতে দেখা যায়।' 

তাহলে, মিথ বা পৌরাণিক ব্যাপারস্যাপার সম্বন্ধেও কিছুটা আলোকপাত করা যাক। এক্কেবারে সাদামাটা কথায়, যে গল্পের কোনো প্রমাণ বা ঐতিহাসিকতা নেই কিন্তু  শুনতে, মানতে ভালোই লাগে,  নানান কাজে বা অকাজে যাকে ভালই লাগানো যায় অথচ আবার উড়িয়ে দেয়া যায় না মিথ্যে বলে দাগিয়ে দিয়ে, তাকেই সম্ভবতঃ মিথ বলে। 

বনু ইসরাইলের আদিনিবাস নাকি ছিলো মিশরে। সেখান তাদের দাস বানিয়ে দেয়া হয়। একসময় তারা ফেরাউনকে ফাঁকি দিয়ে মিশর থেকে মহানিষ্ক্রমণ (exodus) এর মধ্য দিয়ে নীল নদ পেরিয়ে আজাদি লাভ করেন। তাদের অবশ্যি জিহোভাপ্রদত্ত একখানা গ্যারান্টিক্লজ আগে থেকেই ছিলো- কানানে একটি বাসভূমির নিশ্চয়তা (promised land)। ও হ্যাঁ, বলে রাখা ভাল- এত্তগুলা দাবির আবার ঐতিহাসিক সইসাবুদ নেই বলে তা মিথ্যে হবে নাকি; কার ঘাড়ে ক'টা মাথা- এ যে পাক্কা মিথ! জায়নবাদী পণ্ডিতেরা ঠিকই বের করে ফেলেছেন যে-সেই প্রতিশ্রুত কানান'ই হলো আজকের ইসরাইল, গাজা, পশ্চিমতীর, গোলান মালভূমি, সিনাই উপত্যকা ইত্যাদি মিলে। 

সে যাই হোক, মানবজাতি অক্সিজেন আর মিথের সাম্রাজ্যেই বসবাস করে। ইদানিং অক্সিজেন কিঞ্চিৎ কম পড়ে গেলেও রাম জন্মভূমি, প্রতিশ্রুতদেশ, জিহাদ, মসিহা, প্রাণীহত্যা মহাপাপ, সভ্যকরণ প্রকল্প ইত্যাকার নানান মিথের বাজার ভালোই চলছে। 

নামজাদা পুরানতত্ত্ববিদ জোসেফ ক্যাম্পবেল “The Power of Myth” (২০১১, পৃ. ৩০) এ 'ব্যক্তিকে নিছক তার জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নয় তামাম পৃথিবীর মাঝে খুঁজে পেতেই আমাদের মিথের দরকার' বলে দাবি করলেও আমাদের জন্য নিরাপদ হলো- কচ্ছপের গল্পে আস্থা রাখা। পৃথিবীর তলায় কচ্ছপ, তার নিচে কচ্ছপ, এরপর কচ্ছপ, অতঃপর কচ্ছপ ... মিথ, মিথের উপর মিথ, তদুপরি মিথ এবং মিথ, এভাবে যেতে যেতে সবচে' উপরে যা পাওয়া যাবে তার নাম ইসরাইল! মিথ'ই সব, বাকি সব মিথ্যা।

মিল্লাত হোসেন, বিচারক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আমি মরণোত্তর দেহ দান করেছি: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

আমি মরণোত্তর দেহ দান করেছি: তসলিমা নাসরিন

সারাজীবন যে আদর্শে বিশ্বাস করলেন, যে আদর্শের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করলেন, সারাজীবন যে স্বপ্ন দেখলেন, জীবনের শেষে এসে সেই আদর্শ রক্ষাও হলো না, স্বপ্ন পুরণও হলো না। এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কী হতে পারে! 

গণদর্পণের ব্রজ রায় মরণোত্তর দেহদান নিজেও করেছিলেন, মানুষকে করার প্রেরণাও দিয়েছিলেন। অথচ তিনি কোভিড রোগে মারা গিয়েছেন বলে মেডিক্যাল কলেজে তাঁর দেহদান সম্ভব হলো না। সেভাবেই সম্ভবত তাঁর সৎকার হয়েছে, যেভাবে তিনি কখনও চাননি তাঁর সৎকার হোক।

তিনিই ছিলেন গণদর্পণ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা। গণদর্পণের রেজিস্টারে   মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী   শত শত আলোকিত মানুষের মরণোত্তর দেহদান  করার সই বা প্রতিশ্রুতি আছে। তাঁর সংগঠন থেকেই মৃত্যুর পর দেহ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের গবেষণা-কাজের  জন্য দান করা হয়।   গণদর্পণের আপিসে গিয়ে  ২০০৫ সালে আমি  মরণোত্তর দেহদান করেছিলাম  । এরপর ২০০৭ সালে বুদ্ধবাবুরা আমাকে কলকাতা থেকে বিতাড়িত করার পর যেহেতু কলকাতায় ফেরার আর কোনও সম্ভাবনা নেই আমার, মরণোত্তর দেহদান দিল্লির এইমস হাসপাতালে আর নিউইয়র্কের ল্যাংগন হাসপাতালে করেছি।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

কিছুতেই কান্না থামছিলো না বুবলির

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নোয়াম চমস্কির টুইট

হামলায় ইসরাইলের একক আধিপত্যের যুগ শেষ: হামাস


ব্রজ রায়ের মৃত্যুতে আমি দুঃখ পেয়েছি। এই দুঃখ কিছুটা কমবে যদি জানতে পারি তাঁর গণদর্পণ সংগঠনটি আগের মতোই  কাজ করছে। আগের মতোই মানুষকে মরণোত্তর দেহদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলছে, ধর্মবাদের অসারতার চেয়ে মানববাদের মহানুভবতা যে মূল্যবান,  বলছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সমাজে গা বাঁচিয়ে লেখাই সহজ, কোন বার্তা থাকে না, দায়বোধ থাকে না

রউফুল আলম

সমাজে গা বাঁচিয়ে লেখাই সহজ, কোন বার্তা থাকে না, দায়বোধ থাকে না

আমার বেশিরভাগ লেখা (৬০% ফেইসবুক পোস্ট) দেশের শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে। পৃথিবীর তুলনায় বাংলাদেশ, শিক্ষা ও গবেষণায় কোথায় কিভাবে কতটুকু পিছিয়ে আছে, সেগুলো নিয়ে। এই পিছিয়ে থাকা থেকে কি করে উঠে আসতে পারি, সেইসব দিকনির্দেশনা নিয়ে। আমার যেহেতু ইউরোপ এবং আমেরিকায় শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ হয়েছে—সে অভিজ্ঞতার আলোকে, আমাদের দেশের শিক্ষা-গবেষণার দুর্বল দিকগুলোকে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমি লিখি।

এই লেখাগুলোতেও অনেকে আহত হন। আমি খুব অবাক হই। এতে আহত হওয়ার কি আছে? আমি একটা চলমান সিস্টেমের দুর্বলতা নিয়ে লিখি। একটা পশ্চাৎপদ নিয়ম-নীতি ও ধারার পরিবর্তনের লক্ষ‍্যে লিখি। ব‍্যক্তিপর্যায়ে কাউকে আঘাতের কোন সামান‍্যতম উদ্দেশ‍্যে নয়। এই ধরণের লেখাগুলোতে অনেকে আমাকে ইনবক্স করে কিংবা কমেন্ট করে। “তাদের অনেকেই বলে—বিদেশ থেকে লেখা সহজ। দেশে এসে শিক্ষক হিসেবে জয়েন করে পরিবর্তন করে দেখান।” —এটা একধরণের লজিক‍্যাল ফ‍্যালাসি (Logical Fallacie)।

আমি বিদেশে থাকি বলেই যে এগুলো বলতে পারবো না, লিখতে পরবো না, পরামর্শ দিতে পারবো না—এমন কোন কথা নেই। তাছাড়া, আমি দেশে গেলে কি আমাকে ইউজিসির চ‍েয়ারম‍্যান করা হবে? আমাকে কি শিক্ষামন্ত্রী করা হবে? তারচেয়ে বড়ো কথা আমাকে কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিবে? দেশে বসেও অনেকেই এসব বিষয়ে লিখছেন। আমি সবার নাম জানি না। সবাইকে চিনি না। অন্তত প্রফেসর কামরুল হাসান মামুনকে (Kamrul Hassan Mamun) চিনি। —তাকেও কি বলবেন, দেশে গিয়ে শিক্ষক হিসেবে জয়েন করে পরিবর্তন করার জন‍্য? —হাস‍্যকর!

কোন পরিবর্তন একদিনে হয় না। বহু জাতি হারিয়ে শিখে। কারণ তাদের দুরদর্শীতা থাকে না। সঠিক নেতৃত্ব থাকে না। তারা অন‍্যকে দেখে শেখে না। দেশের শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে আমার মতামত একদিন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবেই। সেটা আমি জানি। কারণ এই পথগুলোতেই সারা বিশ্ব হেঁটেছে। এগুলো পরীক্ষিত পথ। বাংলাদেশও যদি বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে হয় তাহলে তাকেও একই পথে হাঁটতে হবে। কখন সে পথে হাঁটবে, সেটাই দেখার বিষয়। যতো আগে বোধদয় হয়, ততোই ভালো। তারপরও আমি বলবো, যদি আমার লেখা নিয়ে তর্ক করতে চান কোন সমস‍্যা নেই। উদাহরণ দিয়ে, মতামত বিশ্লেষণ করুন। কোন কারণ ছাড়াই যদি ব‍্যক্তিগতভাবে নিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হন, তাহলে বিস্মিত হওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই। আমি দেশের জন‍্য বলি। অনাগত প্রজন্মের জন‍্য বলি। পঞ্চাশ-একশো বছরের ভবিষ‍্যতের কথা ভেবে লিখি। আপনাকে আঘাতের জন‍্য নয়।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নোয়াম চমস্কির টুইট

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


সমাজে গা বাঁচিয়ে লেখাই সহজ। গা বাঁচিয়ে লেখার মধ‍্যে কোন নির্দেশনা থাকে না। বার্তা থাকে না। কোন দায়বোধ থাকে না। সবসময় মিথ‍্যে মিথ‍্যে আশার কথা বলা সহজ। কঠিন কাজটা হলো গা বাঁচিয়ে না লেখা। গা বাঁচিয়ে না বলা। যে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ গা বাঁচিয়ে লেখে বা বলে—সে সমাজ মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধ‍্যাত্বতায় ভুগে। সে সমাজে নতুন ধারণা, নতুন চিন্তা, পরিবর্তনের ধারা এগুলো স্থবির হয়ে থাকে। সেখানে নতুন আলো সহজে প্রবেশ করে না।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের সমস্যা আজকের নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র তৈরী হওয়ার পর থেকে। এই রাষ্ট্র  তৈরির পেছনে ছিল ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর  ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাস করা অত্যাচারিত ইহুদিরা নিজেদের জন্য একটি স্বদেশ চেয়েছিল। সেই স্বদেশই তাদের গড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা যে অঞ্চলে হাজার বছর ধরে বাস করতো, সেই অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের  উৎখাত ক’রে, উদবাস্তু ক'রে। যারা ইসরায়েল তৈরি করেছিল, তাদের উচিত ছিল ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। ১৯৬৭ সালে  ইসরায়েল ছয় দিন ব্যাপী একটি যুদ্ধ করে মিশর আর জর্দানের  আরও ভূমি দখল করে নিয়েছিল,  তারপরও ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো বন্ধ করেনি।

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়, তা অসম যুদ্ধ। ইসরায়েল পৃথিবীর অন্যতম মিলিটারি মহাশক্তি, আর ফিলিস্তিনিদের হাতে কিছু ইট পাটকেল, কিছু  হাত বোমা, কিছু রকেট। নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে, আর অসহনীয় শরণার্থী-জীবনের ইতি ঘটাতে যুগে যুগে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে। জঙ্গিরা ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুঁড়ে মারে, ২ জন নিহত হয়, আর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল যুদ্ধ-বিমান পাঠায়, মিসাইল ছুঁড়ে ফিলিস্তিনি জঙ্গিসহ সাধারণ মানুষ, তাদের ঘর বাড়ি  সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে আসে, ২০০০ জনের মৃত্যু হয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন দেখে অন্যান্য দেশের মুসলিমরা ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলকে সমর্থন করা ইউরোপ আর আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জঙ্গি হয়ে ওঠে।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নোয়াম চমস্কির টুইট

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


আজ ইউরোপ আর আমেরিকা চেষ্টা করে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে। কিছুদিন শান্তি বিরাজ করে, আবার শুরু হয়ে যায় সংঘাত। আমার মনে হয় না এই সংঘাত-সংঘর্ষ অচিরে শেষ হবে। এ আরও দীর্ঘকাল চলবে। ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্র চায়, তবে যে  ভূমিতে তারা বাস করতো, সেই ভূমির কিছুটা হলেও ফেরত চায়। কিন্তু সেই ভূমিতে এখন বাস করছে ইসারেয়েলিরা। এরাও দেবে না, ওরাও ছাড়বে না। এই সম্পর্কের মধ্যে এখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের অধিকার নিয়ে আগুন জ্বলছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কালো ধোঁয়া। দূর থেকে এই অসম যুদ্ধ দেখতে হবে আমাদের, এ ছাড়া উপায় কী? যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে আজ, তাদের যদি ফিলিস্তিনিদের মতো অবস্থা হতো, তারাও জানে তারা তখন ফিলিস্তিনিরা যা করছে, তাই করতো। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইতো।

যুদ্ধ অনেক দেখেছি, আর দেখতে ইচ্ছে করে না। আর দেখতে ইচ্ছে করে না বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা। শান্তি দেখতে  চাই সর্বত্র। কিন্তু শান্তি বোধহয় মানুষ নামক প্রাণীর জন্য খুব সহজ নয় পাওয়া।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

হারুন আল নাসিফ

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করার পর রোজাদার তথা মুসলিম পুরুষদের জন্য রয়েছে ইদ বা আনন্দ। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুমিন মুসলমান পুরুষরা দলে দলে ইদগাহে একত্রিত হন। ইদের নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। 

কিন্তু নারীদের বেলায় করণীয় কী? তারা কি ইদগাহে যেতে পারবেন বা ইদের নামাজ আদায় করতে পারবেন? নারীদের ইদের নামাজ আদায়ের হুকুমই বা কী? হাদিস অনুযায়ী মুসলিম নারীরা ইদগাহে যেতে পারবেন, ইদের নামাজ পড়তে এবং দোয়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 

এ প্রসঙ্গে বুখারির ৩২৪ নং ও মুসলিমের ৮৯০ নম্বর হাদিসে এসেছে: হজরত উম্মে আতিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ(সা,) প্রাপ্তবয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনীসহ সকল নারীকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহার নামাজের জন্য বের হওয়ার এবং নামাজে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঋতুবতী মেয়েরা নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবেন কিন্তু কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নেবেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। রাসুলুল্লাহ(সা.) বললেন, তিনি তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরবেন।

তবে নারীদের ইদের নামাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, সুন্নাত। এ নিয়ে আবার মাজহাবগুলোতে মতভেদ রয়েছে। 
১. ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে নারীদের ঈদগাহে নামাজ আদায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

 ২. হানাফি মাজহাব মতে, নারীর জন্য ঈদের নামাজ পড়া নফল। আর নফল নামাজ জামাতে আদায় মাকরূহ। অবার ফেতনার আশংকায় নারীদের ইদের নামাজ আদায় করাও মাকরুহ।

আমাদের দেশে নারীরা সাধারণত ইদের জামাতে অংশ নেন না। এ ব্যাপারে কেউ তেমন কিছু জানেন না, আবার জানার আগ্রহও দেখা যায় না। এ নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনা হলে আমাদের জানার সুযোগ হতো। এ নিয়ে আমরা কোনো ভুলে থাকলে তা থেকে বাঁচা যেতো।
নিচের ছবিটি ২০১৬ সালের ৬ জুলাই ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি ইদগাহে নারীদের জামাতের একাংশ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর