অজু করা যখন মুস্তাহাব

অনলাইন ডেস্ক

 অজু করা যখন মুস্তাহাব

ইবাদতের উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পবিত্র পানি দ্বারা নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার নাম অজু। ঈমানের পরে ইসলামের সমচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। 

নামাজ আদায় করতে হলে সর্বপ্রথম অজু করতে হয়। অজু ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না। অজু নামাজের চাবিস্বরূপ। তবে নামাজ ছাড়াও অজু করা যায়। অজুকারীকে আল্লাহপাক পচ্ছন্দ করেন।  অজু করা যখন মুস্তাহাব

১. পবিত্রতার সঙ্গে ঘুমানোর জন্য। (বুখারি, হাদিস নং : ২৩৯)

২. ঘুম থেকে জাগ্রত হলে। তখন শুধু মুস্তাহাবই নয়, বরং সুন্নাত (বায়হাকি, হাদিস নং : ৫৮৫)

৩. সব সময় অজু অবস্থায় থাকার জন্য। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ২৭৩)

৪. সাওয়াবের নিয়তে অজু থাকা অবস্থায় অজু করা।

৫. গিবত ও মিথ্যা কথার আশ্রয় নেওয়ার পর। (মুসলিম, হাদিস নং : ৩৬০)

৬.  মন্দ ও অশ্লীল কবিতা পাঠের পর। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং : ১/১৩৫)

৭. নামাজ ছাড়া অন্য অবস্থায় অট্টহাসি দেওয়ার পর। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ৯৩০১)

৮. তবে নামাজে অট্টহাসি দিলে অজু ভেঙে যায়। (দারাকুতনি, হাদিস নং : ৬১৫)

৯. মৃতকে গোসল দেওয়ার পর। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস নং : ১৫১৬)

১০. মৃতের লাশ ওঠানোর জন্য। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস নং : ১৫০৩)

১১. প্রতি নামাজের জন্য নতুন অজু করা। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৭৫০৪, বুখারি, হাদিস নং : ২০৭)

১২. ফরজ গোসল করার আগে। (বুখারি, হাদিস নং : ২৪০)

১৩. গোসল ফরজ হয়েছে, এমন ব্যক্তির খাওয়া, পান করা ও ঘুমানোর আগে। (মুসলিম, হাদিস নং : ৪৬১)

১৪. রাগের সময়। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৪১৫২)


 দেশে আরও ৭ হাজার ৮৭ জনের করোনা শনাক্ত

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৫৩ জনের মৃত্যু

ওই নারী মামুনুল হকের স্ত্রী নন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এই দুর্বলতা কেন, কিসের সমস্যা?: হেফাজত প্রসঙ্গে ইনু


 

১৫. কোরআন তিলাওয়াতের সময়। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস নং : ৪৩৫)

১৬. হাদিস পড়া ও বর্ণনা করার সময়। (আদাবুল উলামা ওয়াল মুতাআল্লিমিনি : ১/৬)

১৭. ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সময়। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৭২৩)

১৮. আজান দেওয়ার সময়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং : ১/২১১)

১৯. ইকামত দেওয়ার সময়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং  : ১/২১১)
২০. খুতবা দেওয়ার সময়। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৭২৩)
২১. মহানবী (সা.)-এর কবর জিয়ারতের সময়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৪)
২২. ওকুফে আরাফা তথা আরাফায় থাকা অবস্থায়। (বুখারি, হাদিস নং : ১৪২৪)
২৩. সাফা ও মারওয়ায় সায়ি করার সময়। (বুখারি, হাদিস নং : ১৫১০)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে কাজগুলো করলে আরও বেশি অভাব ও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন আল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

যে কাজগুলো করলে আরও বেশি অভাব ও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন আল্লাহ

অলসতা-অবহেলা কিংবা বেখেয়াল সব কাজের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো কাজের জন্যই এগুলো কল্যাণকর নয়। ভূলবশতঃ কোনো কাজে দেরি হওয়া অলসতা নয়। তবে ইচ্ছাকৃত অলসতা করা বা কোনো কাজে গুরুত্ব না দেয়ায় রয়েছে মানুষে অনেক ক্ষতি। এমনকি এ কাজে আল্লাহ তাআলা মানুষের উপর অভাব-দুর্ভোগ ও ব্যস্ততা চাপিয়ে দেন।

কুরআনুল কারিমে অলসতা ও বেখেয়াল হওয়াকে ধ্বংসাত্মক দুর্ভোগের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তা হোক ইবাদত-বন্দেগি কিংবা দুনিয়ার জীবনের প্রয়োজনীয় যে কোনো কাজ।

এ কারণেই কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী অলসতা, বেখেয়াল, ইচ্ছাকৃত দেরি, কাজের সময় হয়নি ভেবে বসে থাকা কিংবা পরে করলেও কোনো ক্ষতি হবে বলে রেখে দেয়া কোনোটিই সঠিক কাজ নয়।

কুরআনের সতর্কতামূলক নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ সব বিষয়ে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি ও তার বিধি-বিধান পালনের বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন আর যারা অলসতা বা অবহেলাকারী তাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছেন। তিরমিজি ও ইবনে মাজাহর বর্ণনায় হাদিসে কুদসিতে এসেছে-
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদতে মন দাও; তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর; তবে- তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর হবে না।’ (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক)

হাদিসের এ ঘোষণা অনুযায়ী ইবাদত-বন্দেগিসহ ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান পালনে নিজেকে যেমন তৈরি করা আবশ্যক, আবার এসব কাজ করার জন্য সময় বের করাও ঈমানের একান্ত দাবি। আবার দুনিয়ার জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে অলসতা না করে সময়ের কাজ সময়ে করাও জরুরি।

কুরআনুল কারিমের বেখেয়াল লোকদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বে-খবর।' (সূরা মাউন: আয়াত ৪-৫)

মনে রাখা জরুরি

ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজের অজুহাত দিয়ে নামাজের পর যেমন মসজিদে বসে অলস সময় কাটানো যাবে না। তেমনি সাংসারিক কাজ-কর্মের অজুহাত দিয়ে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রেও ব্যস্ততা দেখানো যাবে না।

কেননা মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাকে উদ্দেশ্যে করেই বলেছেন যেন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে নামাজের উদ্দেশ্যে রেব হয়। আবার নামাজ শেষ হলেই জীবিকার সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দ্রুত বেরিয়ে পড় এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতপর নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)

‘যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগির জন্য সময় বের করতে পারবে না আল্লাহ তাআলা তার পুরো সময়কে এমন ব্যস্ততায় ভরে দেবে যে, তার অভাব ও ব্যস্ততা কখনই শেষ হবে না।'

অথচ আল্লাহর স্মরণই মানুষকে সব কাজে সুন্দর ও সঠিক পথ দেখায়, কল্পনাতীত জায়গা থেকে উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দেয়। আর তাতে সুন্দর ও উত্তম জীবন লাভ করে মুমিন।

আরও পড়ুন


যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া নিয়ে বাইডেনকে যা বললেন নেতানিয়াহু

আগ্রাসনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেনকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ!

প্রথমবারের মতো মাহমুদ আব্বাসকে বাইডেনের ফোন


তাই মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার এ সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির জন্য নির্ধারিত সময় বের করে তাঁর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত করা। আর এ কাজে মহান আল্লাহ মুমিন মুসলমানকে দান করবেন প্রাচুর্য আর তাকে অভাব-দুর্যোগ ও ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দেবেন।

সুতরাং ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়ো বা অলসেমি নয় বরং সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ইবাদত পালন করে দুনিয়ার স্বচ্ছলতা ও স্বচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন লাভের পাশাপাশি পরকালের সফলতা লাভ করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের উপর আমল করে দুনিয়ার জীবনে ইবাদত-বন্দেগি ও বিধি-বিধান পালনের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বচ্ছলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। অবহেলা, অলসতা ও বেখেয়াল হওয়া থেকে মুক্তি দিন। দুনিয়ার ব্যস্ততা, অভাব ও দুর্যোগ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বের সকল মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত। তার চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুই তার আদর্শ। খাবারের ক্ষেত্রেও বিশ্বনবী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। সব সময় সাধারণ খাবার খেতেই ভালোবাসতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানুষকে সব সময় কম খাবার গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তিনি বলতেন, 'একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট।'

তবে এমন খাদ্য খেতে বলতেন যে, যা সাধারণভাবে খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। শরীরের জন্য ক্ষতিকর, হজমের জন্য ক্ষতিকর, পরিপাকতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবারই তিনি গ্রহণ করতেন না। যেমন- পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে এমন খাবার তিনি খেতেন না। কাউকে খেতেও বলতেন না। আবার ফুসফুসের কার্যকারীতা হ্রাস পাবে এমন খাবার ও পাণীয় তিনি গ্রহণ করতেন না। অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচির জন্য বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া বিরত থাকার উপদেশ দিয়েছেন তিনি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পছন্দ করতেন। আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবার তিনি খেতেন না। আর তাহলো-

- চালাবিহীন আটার রুটি পছন্দ করতেন। কিন্তু মিহি ময়দার পাতলা চাপালা পছন্দ করতেন না।
- স্বাদ ও রুচির জন্য অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
- যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় না তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
- অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচিকর খাবার বেশি না খাওয়া।
- অতিরিক্ত গরম খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকা। যে খাদ্য থেকে ধোঁয়া বের হয়, এরূপ খাবার খেতেন না প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতিরিক্ত গরম খাবার ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন।

অতিরিক্ত গরম খাবার সম্পর্কে তিনি কখনও বলতেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাদের আগুন খাওয়ায়নি।' আবার কখনও বলতেন, 'গরম খাদ্যে বরকত নেই।'

আরও পড়ুন


সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া নিয়ে বাইডেনকে যা বললেন নেতানিয়াহু

আগ্রাসনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেনকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ!

প্রথমবারের মতো মাহমুদ আব্বাসকে বাইডেনের ফোন

হামাসের রকেটের মুখে উপকূলীয় অঞ্চল বন্ধে বাধ্য হলো ইসরায়েল


শুধু তা-ই নয়, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও অতিরিক্ত খাবার খেতেন না। এক নাগাড়ে খাবার খাওয়ার উপর থাকতেও নিষেধ করেছেন। অতিরক্তি খাবার খাওয়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

'মুমিন এক অন্ত্রণালীতে খাবার খায়। আর কাফের অবিশ্বাসীরা সাত অন্ত্রণালীতে খাবার খায়।' (তিরমিজি)

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তিনি কোনো খাবার পছন্দ হলে খেয়েছেন আর অপছন্দ হলে তা ত্যাগ করেছেন।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপছন্দনীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা। যেসব খাবার সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারি তা খাওয়া। খাবার গ্রহণেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। তবেই সুস্থ শরীর, দেহ ও মনের অধিকারী হবে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক নিয়মে যথাযথ খাবার গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। অতিরক্তি গরম ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। খাবারের সময় নিজেদের সংযত রাখার তাওফিক দান করুন। খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

নামাজে মনোযোগ ঠিক রাখতে যে কাজগুলো জরুরি

অনলাইন ডেস্ক

নামাজে মনোযোগ ঠিক রাখতে যে কাজগুলো জরুরি

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।’ কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট না হলেও নামাজে দাঁড়ালেই নামাজি ব্যক্তির মনোযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। এটি শয়তানের কাজ। নামাজের সময় হলে যেমন অন্য কাজের স্পৃহা বেড়ে যায়, তেমনি নামাজে বার বার মনোযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। এ থেকে বাঁচতে কিছু আমল করা যেতে পারে। তাহলো-

১. স্থির মনোভাব ও নিয়ত

নামাজের জন্য ওজু করতে যাওয়ার সময়ই এ মনোভাব পোষণ করা যে, মহাবিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার দরবারর হাজিরা দেয়ার জন্য ওজুর করছেন। আর মনকে এ চিন্তা-চেতনায় তৈরি করা যে, নামাজ শুধু আল্লাহর জন্য। সুতরাং নামাজের জন্য শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

২. যথাযথ নিয়ম পরিপূর্ণভাবে ওজু করা

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সুন্দরভাবে ওজু করা জরুরি। ওজু হলো নামাজের সুন্দর প্রস্তুতির প্রথম উৎস। আর নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওজু অন্যতম আমল। এ কারণেই প্রচণ্ড শীত ও গ্রীষ্মের সময় ঠাণ্ডা ও গরমকে উপক্ষো করে ঈমানদার মুমিন নামাজের জন্য ওজু করে থাকে। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি অজু ব্যতিত নামাজ পড়বে, তার নামাজ কবুল হবেনা।'

বিশেষ করে ওজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা। হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ওজুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা না হয় সে ওজু অপরিপূর্ণ! তাই ওজু শুরু করার আগে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে ওজু শুরু করা।

৩. ওজুতে প্রত্যেক অঙ্গ ভালভাবে ধুয়ে নেয়া

ওজু যেন দ্রুত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। ওজুতে যেন শরীরের কোনো অঙ্গ বাদ না পড়ে বা শুকনো না থাকে সেদিকে দৃষ্টি রাখা। হাদিসে এসেছে-
হজরত ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'একবার এক ব্যক্তি নামাজের জন্য ওজু করে এল। কিন্তু নখের সমপরিমাণ ওজুর যায়গা তাতে বাদ পড়ে যায়। আল্লাহর রাসুল সেটি দেখলেন এবং লোকটিকে বললেন, 'আবার ভাল করে অজু করো'। তখন লোকটি আবারও ওজু করে এসে নামাজ আদায় করে।'

বিশেষ করে পা এবং বাহু ধোয়ার সময় ভালোভাবে পানি ব্যবহার করা জরুরি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ওজু করার সময় মুখমণ্ডল খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতেন। তারপর আগে ডান ও পরে বাম বাহু ধুয়েছেন। উভয় হাত বাহুর দিকে একটু বাড়িয়ে ধুয়েছেন। মাথা মাসেহ করেছেন। আগে ডান পা ও পরে বাম পা ধুয়েছেন। পায়ের নলিসহ উভয় পা ধুয়েছেন। আর শেষে তিনি বলেছেন, 'আমি এভাবেই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওজু করতে দেখেছি।'

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'তোমাদের পরিপূর্ণ ওজুর কারণে কেয়ামতের দিন তোমাদের হাত-পা এবং চেহারাকে দীপ্তিমান দেখাবে। তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্যবান, সে যেন তার হাত-পা এবং চেহারার উজ্জল্য বাড়িয়ে নেয়।'

৪. প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করা

এক ওজুতে একাধিক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করে নামাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করা। যদিও ‘অজু ভাঙ্গার কোনো কারণ সংঘটিত না হলে’ এক অজুতেই একাধিক নামাজ আদায় করা যায়। তবে প্রতি ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য সুন্নাত হলো নতুনভাবে ওজু করা। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ওজু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্য আলাদা অজু করতেন আর আমরা একই অজু দিয়ে অনেক নামাজ আদায় করতাম।।'

৫. ওজুতে মেসওয়াক ব্যবহার করা

ওজুর সময় মেসওয়াক ব্যবহারে যত্নবান হওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যদি না আমার উম্মতের জন্য এটি কষ্টকর মনে করতাম, তবে প্রতি নামাজের সময় তাদেরকে মেসওয়াক করার জন্য নির্দেশ দিতাম।'

৬. ওজুর পর দোয়া পড়া

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কেউ যদি পরিপূর্ণভাবে ওজু করার পর নিচের দোয়াটি পড়ে-
اَشْهَدُ ان لاَ اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ
উচ্চারণ : 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুল্লাহ'
অর্থ : 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতিত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর জন্য (এ দোয়াটি যে পাঠ করবে তাঁর জন্য) জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে এবং তাঁর ইচ্ছেমত যে কোনো দরজা দিয়েই সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।'

আরও পড়ুন


যে ৫ আমল করলে জান্নাতের যাওয়ার পথ সহজ হবে

তুরস্ক চুপ করে থাকবে না, ইসরায়েলকে এরদোগান

হামলার জবাবে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে: ফরাসি প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের


মূল বিষয়টি হলো-

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য ভালো ওজু করার বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি যথাযথভাবে আল্লাহর স্মরণে সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্ন করবে তার জন্য নামাজ হবে সুন্দর ও উত্তম।

উল্লেখ্য, উত্তমভাবে ওজু করার ফলে মানুষ অনেক গোনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কারণ হক আদায় করে ওজু করলে হাত ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত দ্বারা করা গোনাহ পানির সঙ্গে চলে যায়। এমনিভাবে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সঙ্গে সে অঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোনাহও ধুয়ে মুছে ওজুকারী ব্যক্তি পাক-সাফ হয়ে যায়। আর তাতে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায়ে সুন্দর ও উত্তমভাবে ধীরস্থিরতার সঙ্গে ওজু করার তাওফিক দান করুন। নামাজে মনোযোগী হয়ে শুধু মহান আল্লাহর জন্য নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সব চিন্তা-চেতনা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে ৫ আমল করলে জান্নাতের যাওয়ার পথ সহজ হবে

অনলাইন ডেস্ক

যে ৫ আমল করলে জান্নাতের যাওয়ার পথ সহজ হবে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে যাওয়ার অনেক আমলের বর্ণনা দিয়েছেন। এসব আমল বান্দার অপরাধ ও পাপ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া সুনিশ্চিত। এর মধ্যে ৫টি আমল অন্যতম। তাহলো-

১. সাইয়েদুল ইসতেগফার

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতেগফার পড়বে আর সন্ধ্যার আগেই সে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে তা পড়বে আর সে ভোর হওয়ার আগে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে।’ (বুখারি)
أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

২. কালেমা শাহাদাত পড়া

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করার পর (কালেমা শাহাদাত) বলে-
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি একক এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, (হজরত) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।’

তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)

৩. আজানের উত্তর দেয়া

হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন (আজান থেকে) থামলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এর (হজরত বেলালের) মতো বলবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।’ (নাসাঈ, মেশকাত)

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি মুয়াজ্জিনের-

- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার-এর জাওয়াবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে এবং
- আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর জওয়াবে আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে এবং
- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ এর জওয়াবে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ বলে, অতপর
- হাইয়্যা আলাস্-সলাহ-এর জওয়াবে যদি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে, তারপর
- হাইয়্যা আলাল-ফালাহ-এর জওয়াবে যদি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলে,
- অতপর যদি আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার এর জওয়াবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার এবং
- লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ-এর জওয়াবে লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ বলে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ, মুসলিম)

আরও পড়ুন


তুরস্ক চুপ করে থাকবে না, ইসরায়েলকে এরদোগান

হামলার জবাবে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে: ফরাসি প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

মালয়েশিয়ায় লকডাউন না মানলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে


৪. আয়াতুল কুরসি পড়া

হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে-
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম।’

ওই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কিছু বাধা থাকবে না।’ (বুখারি, নাসাঈ, তাবারানি)

৫. ৪০ রাত জামাআতে ইশার নামাজ পড়া

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- ‘যে ব্যক্তি মসজিদে এসে জামাআতের সঙ্গে ৪০ রাত তাকবিরে উলাসহ ইশার নামাজ পড়বে, তার বিনিময়ে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির সনদ লিখে দেন।’ (ইবনে মাজাহ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত এ আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। এ আমলগুলোর মাধ্যমে গোনাহমুক্ত জীবন লাভের পাশাপাশি সুনিশ্চিত জান্নাত কবুল করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ঈদের জামাত কোথায় কখন

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় ঈদের জামাত কোথায় কখন

করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের নামাজও ঈদগাহে না পড়ে মসজিদে পড়তে হবে।মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, করা যাবে না কোলাকুলি। সবাইকে বাসা থেকে ওয়ু করে যেতে হবে। আর অবশ্যই নামাজ পড়ার সময় মাস্ক পরতে হবে। কাতারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

করোনার কারণে এবারও হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শুক্রবার (১৪ মে) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া করোনার কারণে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদগুলোতে এক বা একাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা থাকছে সেগুলো হলো- 

পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হবে। বড় কাটরা মাদ্রাসা মসজিদে একটি ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত হবে।

নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে ঈদের জামাত হবে তিনটি- সকাল ৭ টায় , ৮ টায় ও ৯ টায়। আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় চারটি জামাত হবে। আর ছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায়।

মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠি বড় মসজিদে সকাল ৭টায় একটি জামাত হবে এবার। ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সকাল ৯টায়; ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়; ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায় এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়  ঈদ জামাত হবে।

আরও পড়ুন


ঈদের দিনের যে আমলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ

ঈদের দিনের ফজিলত ও করণীয়

যে কারণে ফিলিস্তিনে একটি বাড়ির নাম ‘শেখ হাসিনা’

ঈদের দিন যে কারনে টার্মিনালে অবস্থান ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিকদের


পুরান ঢাকা তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও ৯ টায়; রায়সাহেব বাজার জামে মসজিদে সাড়ে ৮টায়; নিমতলী ছাতা মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায়, আগামছি লেইন জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় এবং বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৮টা ও ৯টায় ঈদের জামাত হবে।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সাড়ে ৭টা এবং সাড়ে ৯টায় ঈদের তিনটি জামাত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর