যে দোয়া পড়লে সকল বালা মুসবিত কেটে যায়

অনলাইন ডেস্ক

যে দোয়া পড়লে সকল বালা মুসবিত কেটে যায়

দুনিয়াটা মেহনতের জায়গা। ঈমান-আমল-নেকির মাধ্যমে দুনিয়ায় মেহনত করে আল্লাহতায়ালার ফায়সালার মাধ্যমে আখেরাতে জান্নাত পাওয়া যাবে।মহান আল্লাহতায়ালা একমাত্র মালিক যিনি সর্বশক্তিমান, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিযিকদাতা। সমস্ত মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহতায়ালার ইবাদত করার জন্য। 

দুনিয়ার জীবনে চলার পথে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিপদের সম্মুখীন হয়ে থাকি। তবে সকল বিপদ সৃষ্টি ও বিপদ থেকে মুক্ত করার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ পাক। তাই বিপদে পড়লে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

পাশাপাশি পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ নিপতিত হয়, তা তোমাদেরই কর্মফল। তিনি অনেক গুনাহ মাফ করে দেন।’ (সুরা আশ্-শূরা: ৩০)। ‘আর যখন তোমাদের ওপর মুসিবত এল, যার দ্বিগুণ তোমরা ঘটিয়েছ, তখন তোমরা বললে, এটা কোত্থেকে এল! (হে নবী) আপনি বলে দিন, এ তো তোমাদের পাপ থেকেই; নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়েই সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আল ইমরান: ১৬৫; মারেফুল কোরআন: ৬৭৫৩)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে ফ্যাসাদ প্রকাশ পায়, যার ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৪১)।

গুনাহ বেশি হলে সবকিছু থেকে বরকত উঠে যায়। ফ্যাসাদ শুরু হয়ে যায়। বিপদ ও বালা-মুসিবত একের পর এক আসতেই থাকে। যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহু তাআলা বিভিন্ন আজাব-গজব দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান, মাল ও ফল-ফলারির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা নিজেদের বিপদ-মুসিবতের সময় বলে “নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)।

পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বালা-মুসিবত দূর করার জন্য নিচের দোয়াটি আমল করতে পারি।

দোয়া: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জোয়ালিমীন।

অর্থ: আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী। -সূরা আল আম্বিয়া: ৮৭

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমি (নবী) ইউনুসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তাকে দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়েছি। অনুরূপভাবে যে মুমিনরা এ দোয়াটি পড়বে আমি তাদেরও মুসিবত থেকে মুক্তি দিব। -সূরা আম্বিয়া : ৮৮

হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে মুসলমান হজরত ইউনুস (আ.)-এর ভাষায় দোয়া করবে; সে যে সমস্যাতেই থাকুক না কেন- আল্লাহতায়ালা তার ডাকে সাড়া দিবেন। -তিরমিজি

হজরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন। (একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয় আমি সীমা লঙ্ঘনকারী)। -জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০০

এটা কোরআনের দোয়া এবং দোয়া ইউনুস নামে প্রসিদ্ধ। এই দোয়া যে যত বেশি পড়বে আল্লাহতায়ালা ওই বিপদ সহজ করে দেবেন।

যদি আমরা এ জাতীয় ছোট ছোট দোয়া বেশি বেশি পাঠ করি এবং নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করি তাহলে আশা করা যায় মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসসহ যাবতীয় বালা-মুসিবত সারা বিশ্বকে আতঙ্কিত করছে। এ সময় দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীকে রক্ষার জন্য বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো সব বিশেষ দোয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

নফল ইবাদত ও দোয়ায় রত থেকে আমাদের রাতগুলো অতিবাহিত করা উচিত। কেননা দুনিয়াতে কল্যাণ ও উপকার যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে আসে তেমনি বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্টও একমাত্র তিনিই দূর করতে পারেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হতেন তখনই তিনি আল্লাহর কাছে একান্তভাবে দোয়া প্রার্থনা করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাযাবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুন।’ (আবু দাউদ)

অর্থ : আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে তার ক্রোধ ও আজাব থেকে, তার বান্দার শত্রুতা থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তারা আমার কাছেই না আসতে পারে।’

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শিক্বায়ি ওয়া সুয়িল কাদ্বায়ি ওয়া শামাতাতিল আদায়ি।’ (বুখারি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, বিপদ-আপদের দুর্বিষহ অসুবিধা থেকে, দুর্ভাগ্যের করাল গ্রাস থেকে, ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে এবং শত্রুতার আনন্দ থেকে।’

বালা-মুসিবত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি ছোট্ট একটি দোয়া সব সময় (সকাল-সন্ধ্যায়) পড়তেন। আর তাহলো-

উচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছু, আসলিহ লি সাঅনি কুল্লুহু, ওয়া লা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইনিন।’

অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব, হে সৃষ্টিকুলের নিয়ন্ত্রক, আপনার রহমতের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, আপনি আমার সকল বিষয় শুদ্ধ করে দিন, এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার উপর ছেড়ে দিয়েন না।’ (নাসাঈ, তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)।

বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে এই দোয়াটি আমাদের সবার প্রতিনিয়ত পাঠ করা উচিত। তিনিই ভালো জানেন কার দোয়া তার দরবারে কখন গৃহীত হয়ে যায়। তাই আমাদের কাজ হচ্ছে দোয়া করতে থাকা। দোয়া কবুল করার মালিক তিনি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দেখতেন কোনো মানুষ বিপদে বা সমস্যায় পড়েছেন, তখন তিনি তাদের বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করতেন। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ বিপদগ্রস্ত লোক দেখলে এ দোয়া পড়বে-

উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আফানি মিম্মানিবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাছিরিম মিম্মান খালাকা তাফদিলা।’ (তিরমিজি)

অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে বিপদাক্রান্ত করেছেন, তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং আমাকে তিনি তার সৃষ্টি থেকে সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’ (তিরমিজি)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন ধরনের আজাব থেকে রক্ষার জন্য এ দোয়াও পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদ্বাবিকা ওয়ালা তুহলিকনা বিআজাবিকা ওয়া আফিনা ক্বাবলা জালিকা।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার ক্রোধ দ্বারা হত্যা করো না আর তোমার আজাব দিয়ে ধ্বংস করো না বরং এর পূর্বে তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর।’

প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত বর্তমান পরিস্থিতিতে আল্লাহর বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। বিশেষ করে করোনার এ দিনগুলোতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়াগুলো পড়া।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই রহমত বরকত মাগফেরাত দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তাই আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী তাকে ডাকলেই আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে সব কল্যাণ দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

‘সেহরি’ আরবি শব্দটি সাহ্রুন মূল ধাতু থেকে নির্গত। সাহ্রুন-এর বাংলা অর্থ রাত্রি জাগরণ করা। বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সমাজে সেহরি শব্দটি একটি ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে বহল প্রচলিত। শাব্দিক দিক দিয়ে রাত্রিকালীন খাবারকে সেহরি বলা হয়। আর ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগে যে খাবার গ্রহণ করে, তাকে সেহরি বলা হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘পানাহার কর যে পর্যন্ত প্রত্যুষে কালো রেখা হতে সাদা রেখা প্রকাশ হয়।’ (সুরা বাকারা- ১৮৭ আয়াত। অর্থাৎ সুবেহ সাদেক উদয় হওয়া পর্যন্ত সেহেরি খাওয়ার শেষ সময়। 

আরেক হাদিসে আছে, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, তিনটি জিনিসে বরকত রয়েছে। জামাআতে, সারিদ এবং সেহেরিতে। (তাবারানী)

বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে একজন সাহাবী এলেন যখন তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে দেখে বললেন, এ খাবার বরকতের। আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তোমাদের তা দান করেছেন। কাজেই তোমরা সেহরি খাওয়া ছেড়ে দিও না। (নাসাঈ)

মুসলিম শরীফে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের এ সিয়াম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খৃষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


সেহরি খাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সেহরি খাওয়া বান্দার ওপর রহমত নাজিল করেন।

হযরত ইয়ালা বিন মুররাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালার কাছে তিনটি বস্তু অধিক পছন্দনীয়। (এক) সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করা। (দুই) সেহরি দেরিতে খাওয়া। (তিন) নামাজে হাত বেঁধে আল্লাহর ধ্যান-খেয়ালে আদবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইফতারের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

ইফতারের গুরুত্ব

রোজা পালনে ইফতারের গুরুত্বও অপরিসীম। আবার সময়মতো ইফতার করার মধ্যেও রয়েছে অশেষ সওয়াব ও কল্যাণ।

রাসূলে কারিম হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা ইফতারের সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে নাও। এতটুকু বিলম্ব করো না।

এ সম্পর্কে তিরমিজি শরীফে উল্লেখ আছে যে, আমি ওই ব্যক্তিকে সর্বাধিক ভালোবাসি যে ইফতারের সময় হওয়া মাত্র ইফতার করে নেয়।


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


আবু দাউদ শরীফে আছে, হযরত রাসূলে পাক (সা.) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন, আমার তৃষ্ণা নিবৃত্ত, আমার শিরা উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহপাক পরওয়ারদেগারের পুরস্কার নির্ধারিত হয়ে গেছে।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তারা ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নেবে। (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। এ মাসেই নাজিল হয় বিস্ময় গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন। যা মানব জাতীর জন্য পথ প্রদর্শক। কুরআন পড়া মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য অপরিহার্য, আমরা কুরআন শুধু তিলাওয়াতই করব না বরং তা বুঝব এবং সেইসাথে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করব।

রাসূল -সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ হবার একটি সহজ পদ্ধতি শিখিয়ে গেছেন-

তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। (আল-বুখারী)

রমজান মাসে পাঠকদের জন্য কোরআনের বাংলা অনুবাদ জানার সুযোগ করে দিচ্ছে নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন। আজ আমরা তুলে ধরব সুরা ফাতিহা ও সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ।

সুরা ফাতিহার বাংলা অনুবাদ

সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সূরা আল ফাতেহা পবিত্র আল কোরআনের প্রথম সূরা। আয়াত সাতটি। মক্কায় অবতীর্ণ। ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়।

আল্লামা ইবনে জরীর (রাঃ) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, সূরা ফাতিহা অর্থাৎ আলহামদু শরীফ হচ্ছে, উম্মুল কোরান, ফাতিহাতুল কিতাব, সাবউমাছানি। 

এ সূরার আরেকটি নাম হচ্ছে “সূরায়ে কাঞ্জ” (ভান্ডার)। হযরত আলী (রাঃ) হতে ইসহাক ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, এ সূরাটি আরশের নিম্নস্থিত ভান্ডার থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।


এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

লকডাউনের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিল বাংলাদেশ

এভাবেও ম্যাচ হারে কলকাতা!

আহমদ শফীর মৃত্যু : পিবিআই’র রিপোর্ট পুনরায় তদন্তের দাবি বাবুনগরীর


আসুন জেনে নিই এই সূরার 

বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

অনুবাদ : শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

অনুবাদ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : আররহমা-নির রাহি-ম।

অনুবাদ : যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণ : মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

অনুবাদ : বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ : ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

অনুবাদ : আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ : ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

অনুবাদ : আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ : সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।

অনুবাদ : সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রমজানে রোজার নিয়ত কখন করবেন

অনলাইন ডেস্ক

রমজানে রোজার নিয়ত কখন করবেন

রমজান মাসের রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ। আমরা যেন আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারি সে জন্য রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও রোজা ফরজ ছিল।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়টি হলো রোজা। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।

রোজা পালন উপলেক্ষ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জনে করতে পার। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

হজরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সাহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না)।’ (মুসলিম, নাসাঈ)

রোজা পালনে সাহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব। সাহরি খাওয়ার পর রোজা নিয়ত করা জরুরি।

রোজার নিয়ত কখন করবেন
যদি কেউ রাতে নিয়ত না করে তাহলে মধ্য আকাশ থেকে সূর্য পশ্চিমে ঢলার দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়তের পূর্ব পর্যন্ত রোযার পরিপন্থী কোনো কাজ না করতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৫, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪১।

রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলে নিয়ত হয়ে যাবে
রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলে সেটাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট হবে। উল্লেখ্য, রাতে রোযার নিয়ত করার পর সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি করা জায়েয আছে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৫, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪১।

পুরো রমযানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়
পুরো রমযানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। বরং প্রত্যেক রোযার জন্য পৃৃথকভাবে নিয়ত করতে হবে। কেননা প্রতিটি রোযা ভিন্ন ভিন্ন আমল।
–বাদায়িউস সানায়ে : ২/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪৪।

রোজার নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়ত : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সফলতা ও জান্নাত লাভে রমজানের রোজার যথাযথ হক আদায় করে তা পালন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর