বিজিএমইএ নির্বাচন: সভাপতি হচ্ছেন ফারুক হাসান

অনলাইন ডেস্ক

বিজিএমইএ নির্বাচন: সভাপতি হচ্ছেন ফারুক হাসান

বিজিএমইএ’র নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। ৩৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ২৪টি পদে জয়ী হয়েছে তার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। বাকি ১১টিতে জয়ী হয়েছে এবিএম সামছুদ্দিন ফোরাম প্যানেল। ফলে বিজিএমইএর পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন ফারুক হাসান।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাত আনোয়ার।

নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিজিএমইএ’র ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য দুই প্যানেলের ৩৫ জন করে মোট ৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে ঢাকা অঞ্চলে ভোটার রয়েছেন ১৮৫৩ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটার ৪৬১ জন। ঢাকা অঞ্চলে মোট ভোট পড়েছে ১ হাজার ৬০৪টি। আর চট্টগ্রাম পড়েছে ৩৯২টি। 


লুকিয়ে বিয়ে করা যায় না, সবাইকে জানিয়ে অ্যানাউন্স বিয়ে করে: আজহারী

সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন শুরু

ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে ‘মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রী’র ফোনালাপ ফাঁস

মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর নাম ঝর্ণা, বাড়ি ফরিদপুরে


প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলের ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে ১৭টিতে জয়লাভ করেছে সম্মিলিত পরিষদ। ৯টিতে জিতেছে ফোরাম। সম্মিলিত পরিষদের ফারুক হাসান পেয়েছেন ১২০৪টি ভোট। 

আর বিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি ফোরামের প্রার্থী রুবানা হক পেয়েছেন ১ হাজার ১৫৭ ভোট। অবশ্য ফোরামের প্যানেল লিডার এবিএম সামছুদ্দিন পরিচালক নির্বাচিত হতে পারেননি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯টি পরিচালক পদের বিপরীতে সম্মিলিত পরিষদ পেয়েছে ৭টি পদ। বাকি দুটি পেয়েছে ফোরাম।

পরিচালক পদে জিতলেন যারা:

সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, ঢাকা অঞ্চলে- ফারুক হাসান, এসএম মান্নান কচি, আরশাদ জামাল দিপু, শহিদুল্লাহ আজিম, শিরিন সালাম ঐশি, আসিফ আশরাফ, মহিউদ্দিন রুবেল, তানভীর আহমেদ, খসরু চৌধুরী, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, হারুন অর রশিদ, রাজিব চৌধুরী, মিরান আলী, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ইমরানুর রহমান, নাসির উদ্দিন ও সাজ্জাদুর রহমান মৃধা।

আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচিত হয়েছেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তানভীর হাবিব, এএম শফিকুল করিম খোকন, হাসান জ্যাকি, আহসানুল হক, রাকিবুল আলম চৌধুরী ও মোহাম্মদ মেরাজ-ই-মোস্তফা কায়সার।

ফোরাম থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- 

ঢাকা অঞ্চলে ড. রুবানা হক, এমএ রহিম ফিরোজ, মাহমুদ হাসান খান বাবু, আসিফ ইব্রাহিম, ফয়সাল সামাদ, নাভিদুল হক, বিদ্যা অমৃত খান, ইনামুল হক খান বাবুল, মিজানুর রহমান। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচিত হয়েছেন এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রমজানে নির্ধারণ করা হলো পেঁয়াজ-চিনি-তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানে নির্ধারণ করা হলো পেঁয়াজ-চিনি-তেলের দাম

আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যৌক্তিক খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। 

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর এই রমজানে ভোক্তারা যাতে ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন সেজন্য খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। 

সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আজ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। রাজধানীর কৃষি বিপণন অধিদফতর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।


একদিনে হেফাজতের ৪ নেতা আটক

বোনকে খুঁজে না পেয়ে ভাইয়ের জিডি, বলছেন তার বোনকেও বিয়ে করেছেন মাওলানা মামুনুল

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

সক্রেটিস আইন মেনে মরলেন, রফিকুল আইন মানেন না


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেঁধে দেওয়া মূল্য অনুসারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা, চিনি ৬৭ টাকা এবং সয়াবিন তেল লিটারে ১৩৯ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা-খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের রেকর্ড আমদানি

নয়ন বড়ুয়া জয়, চট্টগ্রাম

আমদানি বেশি হওয়ায় রমজানের আগে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের পণ্য সরবরাহ বেড়েছে কয়েকগুণ। কমতে শুরু করেছে ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। কমেছে ভোজ্যতেলের দামও। 

পেঁয়াজের দাম কমে ২৭- ২৮ টাকা কেজিতে আসলেও আইপি বন্ধ করে দেয়ায় আবারো পেয়াঁজ সংকটে দাম বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ব্যবসায়ীদের। আর ক্রেতারা বলছেন,বাজারে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের চালবাজির সুযোগ হবেনা। 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙ্গরে অবস্থান করা ১১টি জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে চিনি ছোলা ডালসহ অন্যান্য পণ্য। সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছর সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে ছোলা, খেজুরসহ বিভিন্ন রকমের পণ্য। যা কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।


দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

মাওলানা মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার বড় ছেলের থানায় জিডি

মাওলানা রফিকুল মাদানীর নামে আরেকটি মামলা, আনা হলো যেসব অভিযোগ

স্বাস্থ্যের তথ্য কর্মকর্তা বলছে পজিটিভ, বেগম জিয়ার চিকিৎসক বলছে বিভ্রান্তিকর


দেশের সবচেয়ে বড় নিত্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে পণ্য সরবরাহ দ্বিগুণ হওয়ায় ছোলা মসুরডালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম কমেছে।

আর ভোক্তারা বলছেন, পণ্যের দাম কমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে।

এখন পেঁয়াজের দাম কমলেও আইপি বন্ধ করে দেয়ায় রমজানে পেঁয়াজ সংকটের আশংকা আমদানিকারকদের। এই পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৩শ টন। মসূর ডাল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৭ টন। সয়াবিন তেল ৪০ হাজার টন। পরিশোধিত চিনি ১৫০ টন। আর খেজুর আমদানি হয়েছে ৭৬ হাজার ২২০ টনের বেশি।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউনে শিল্প কারখানা চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক


লকডাউনে শিল্প কারখানা চলবে

৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে চলছে সাতদিনের লকডাউন। যা আজ রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে আবারো এক সপ্তাহের লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার। আর এ লকডাউনেও শিল্পকারখানা খোলা রাখতে গত শুক্রবার থেকেই সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন গার্মেন্টস মালিকরা।

তারা সরকারের সামনে দুটি বিষয় তুলে ধরেছেন। এক: কারখানা বন্ধ করলে ক্রয়াদেশ হারাবে বাংলাদেশ। দুই: শ্রমিকেরা ছুটিতে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। 

আর এই দুইটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে আজ বিকেলে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। 

বৈঠক শেষে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৪ এপ্রিল থেকে সম্পূর্ণ লকডাউন হলেও শিল্প কারখানা চলবে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব আমাদের নিশ্চিত করেছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘লকডাউনে শিল্প কারখানা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংক বন্ধ থাকতে পারে। তাতে আমদানি রপ্তানিতে সমস্যা হবে। এ বিষয়েও পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব।’


মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়কে ব্যক্তিগত বললেন বাবুনগরী

মাওলানা রফিকুল মাদানীর নামে আরেকটি মামলা, আনা হলো যেসব অভিযোগ

দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত ৫ হাজার ৮১৯ জন


অবশ্য সরকার এ বিষয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। আজ বা কাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ হাতেম।

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এলপিজি শিল্প: ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক

এলপিজি শিল্প: ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস- লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি ও বিপণন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্টরা বারবার আবেদন-নিবেদন ও যুক্তি প্রদর্শন সত্ত্বেও ফলোদয় হয়নি। এলপিজি শিল্পসংশ্লিষ্ট মহল অবস্থাটাকে এই শিল্পে ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্ত বলে মনে করছে।

সূত্র জানায়, দেশে এলপিজি বিপণন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সূচনাকালে এ খাতের বিনিয়োগকারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তাতে উত্থান-পতনের ধাপ অতিক্রম করতে হলেও গত এক দশকে এলপিজি শিল্পের দারুণ প্রসার ঘটে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাস ব্যবহৃত হয় ৮০ হাজার মেট্রিক টন আর এখন বছরে এলপিজির চাহিদা ১২ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই চাহিদা ২০২৫ সালে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। অর্থাৎ ৪-৫ বছরের মধ্যে এলপিজির চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে এলপিজি খাতের লক্ষণীয় বিকাশ ঘটছে। আর এই বিকাশে সরকার সব রকম সমর্থনও দিয়ে চলেছে। সরকার ইতিমধ্যে এলপিজি বোতলজাতকরণের জন্য ৫৬টি লাইসেন্স ইস্যু করেছে। বর্তমানে ২৮টি কোম্পানি এই পণ্য বিপণনে বাজারে সক্রিয় রয়েছে।
দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখন বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ঘটছে। এতে বাংলাদেশে মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন কাঠ, কয়লা, কেরোসিন ইত্যাদি জ্বালানির বদলে এলপিজি ব্যবহারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। পাইপে আসা গ্যাসের বিকল্প হয়ে উঠেছে সিলিন্ডার ভর্তি গ্যাস। এই গ্যাসের বাজার শিগগিরই আরও বাড়বে। এলপিজি শিল্প সূত্র বলছে, এ খাতের বিকাশের ধারা টেকসই করার স্বার্থে সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ফলপ্রদ নীতিমালা তৈরি অত্যাবশ্যক। গেল পাঁচ বছরে এ খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ ঘটে গেছে এবং এখানে যে অবিরাম বিনিয়োগ প্রয়োজন তা-ও স্পষ্ট।

বিশ্বের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও অপর্যাপ্ত সমস্যার মোকাবিলা করছে। জ্বালানির চাহিদা ও জ্বালানির সরবরাহের মধ্যকার যে পার্থক্য তার মূলে রয়েছে জ্বালানিসম্পদের অভাব এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎসের সীমাবদ্ধতা। গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য সরকার মোট জনসংখ্যার ৫ থেকে ৭ শতাংশকে পাইপলাইনে সংযুক্ত করেছে। এরা দেশের মোট ব্যবহার্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ১০ থেকে ১২ শতাংশ ব্যবহার করে।

ইদানীং জ্বালানির ঘাটতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সরকার নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ফলত প্রচলিত অন্যান্য জ্বালানির বদলে গার্হস্থ্য কাজে মানুষ এলপিজি ব্যবহারে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য ও শিল্প খাতও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজিনির্ভর হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ ক্রমে কমে আসছে বলে অব্যাহত সরবরাহের জন্য তারা এমন করছে। এলপিজি আগে ছিল ঐচ্ছিক পদার্থ এখন এটা অপরিহার্য।

এলপিজি পুরোপুরি আমদানিভিত্তিক (৯৮ শতাংশের বেশি)। এর অধিকাংশ টার্মিনাল মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরভিত্তিক স্থাপনা। বাংলাদেশে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ এলপিজির ব্যবহার হচ্ছে গার্হস্থ্য ও শিল্প খাতে। চটজলদি সংগ্রহ করা যায়, কার্বন নিঃসরণ খুব কম, নানা কাজে প্রয়োগ সম্ভব, পরিবহনও সহজ- এসব কারণে দেশে এলপিজির ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

সূত্র জানান, বাংলাদেশে এলপিজি শিল্পের সুস্থিতি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম হচ্ছে এর মূল্য স্থিরকরণ। সিলিন্ডারপ্রতি এলপিজির দর বাজারে সরবরাহ ও ব্যবহারকারী পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির পণ্য কতটা বিক্রি হচ্ছে তার ভিত্তিতে নির্ণীত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজি বেশ সস্তা। বাংলাদেশে এলপিজি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এবং এতে কোনো ভর্তুকি নেই। ভারতের মতো বিশাল দেশে তিনটি মাত্র এলপিজি কোম্পানি এবং সে দেশ গৃহকাজে গ্যাস ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট ভর্তুকি দেয়।

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দর বেঁধে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য তারা চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি গণশুনানির আয়োজন করে। তবে এখনো তারা রেগুলেট করেনি। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ও বিতরণে ব্যয় ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলো এবং তাদের ডিলারদের মুনাফার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্য স্থিরকরণ করতে হয়। এলপিজির বাজার বেশ কিছু ফ্যাক্টর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। যেমন-

অধিক প্রতিযোগিতা: দেশের এলপি গ্যাসের বাজারে বেশি কোম্পানির কারণে অনেক কোম্পানিকেই টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা; বাজারে টিকে থাকতে এদের অনেকেই লাভ ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলায় এখন কেউ কেউ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ফলে অনেক ব্যবসায়ীই এ খাত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

সিলিন্ডারে ভর্তুকি: সিলিন্ডারে ভর্তুকি দেওয়ার কারণেও দামের তারতম্য ঘটে। কোম্পানিগুলো সাধারণত সিলিন্ডারে ভর্তুকি সরবরাহ করে। এতে পরিবেশকরা কম মূল্যে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে প্রতিটি সিলিন্ডারের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০০-২২০০ টাকা। অথচ গ্রাহকের কাছে একটি নতুন সিলিন্ডার বিক্রি করা যায় সর্বোচ্চ ৭০০-৮০০ টাকায়। এতেও প্রতি সিলিন্ডারে ১৩০০-১৫০০ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়।

ভ্যাট-ট্যাক্স জটিলতা: এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে এর উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। আর উৎপাদন খরচ কমাতে হলে ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো জরুরি। সরকারের পরিকল্পনা দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে এলপিজি পৌঁছানো। এর জন্য প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক নতুন সিলিন্ডার। এলপিজি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সরকারের জ্বালানিবান্ধব নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বরাবরই সরকারের কাছে একটি দাবি করে আসছেন, তা হলো সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক সুবিধা দেওয়া। বর্তমানে নতুন সিলিন্ডারে ৫ আর পুরনো সিলিন্ডারে ৭ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে।

আরও পড়ুন


এবারও বড় বাজেটের ঘোষণায় কাজ করছেন অর্থমন্ত্রী

টিকার কার্যকারীতা নিয়ে যা বললেন ড. বিজন কুমার শীল

বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, রাজধানীর দুই এলাকায় সংক্রমণ হার বেশি

‘উই’ এর উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের দ্বার উন্মুক্ত: প্রতিমন্ত্রী পলক


উচ্চ পরিবহন ব্যয়: সিলিন্ডার পরিবহনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। এজন্য কারখানা থেকে ডিস্ট্রিবিউটর, খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত যেতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অথচ ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ঢাকায় বিক্রি করা হয় ১১০০ টাকায়। একই দামে দেশের অন্য কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরবরাহ করতে হয়। অথচ এখানে ঢাকার বাইরে গেলে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবহন ব্যয় প্রায় ৫০-১০০ টাকা বেড়ে যায়।

গভীর সমুদ্রবন্দর সংকট: এলপিজি কোম্পানিগুলো বলছে, দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর ও পর্যাপ্ত উত্তোলন অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ের অন্যতম কারণ গভীর সমুদ্রবন্দর ও উপযুক্ত অবকাঠামো সমস্যা। এর ফলে আমদানিকৃত গ্যাস জাহাজ থেকে খালাসে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। এতে বন্দরে বেশি খরচ গুনতে হয় আমদানিকারকদের।

এ ছাড়া এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা করার কারণেও দেশের বাজারে দামের উত্থান-পতন ঘটে। কিন্তু গ্রাহকের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারকে সমন্বিত করা যায় না। এতে কোম্পানিগুলোকে লোকসান গুনতে হয়। এসব জটিলতার ফলে দেশের এলপিজি খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আজ হুমকির মুখে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার উপক্রম এ খাতসংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক জনবলের।

এ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দেশে ব্যবসা করার ব্যয় অন্য যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ফলত এ খাতের ব্যবসায় টিকে থাকাটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের দৌড়ঝাঁপ, চাইছেন ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাও

অনলাইন ডেস্ক

লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের দৌড়ঝাঁপ, চাইছেন ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাও

চলতি মাসের ৫ তারিখ ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে চলছে সাতদিনের লকডাউন। যা আগামীকাল রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে আবারো এক সপ্তাহের লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার। আর এ লকডাউনেও শিল্পকারখানা খোলা রাখতে গত শুক্রবার থেকেই সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন গার্মেন্টস মালিকরা। পাশাপাশি শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চাইছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপানা পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, করোনার পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আর তাই শিল্পকারখানা খোলা রাখার বিকল্প কোনো পথ নেই। করোনায় গোটা অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও খুবই খারাপ। এখন যদি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, শিপমেন্ট করতে না পারি তাহলে তো আরও খারাপ অবস্থা হবে।


প্রপারলি রায় কার্যকর হচ্ছে না, এটা দুঃখের বিষয়: প্রধান বিচারপতি

৬ মাস বন্ধের পর ফের প্যারিসের মসজিদে নামাজ শুরু

জাহাজ আসতে দেখেই নৌকার ২০ যাত্রী নদীতে দিল ঝাঁপ

কেন তিমি মারা যাচ্ছে তার তদন্ত চান স্থানীয়রা


তিনি বলেন, গত বছর প্রণোদনার অর্থে শ্রমিকের বেতন দিয়েছি। এবারও সামনে ঈদ আছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনার প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছি। বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এই প্রস্তাবনা দেবে। আমিও তাদের সঙ্গে থাকবো।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর