দুই রমণীই মামুনুলকে প্রভু মানে: তসলিমা নাসরীন

অনলাইন ডেস্ক

দুই রমণীই মামুনুলকে প্রভু মানে: তসলিমা নাসরীন

হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আলোচনা চলছেই। এবার এই আলোচনায় নিজের ব্যাখ্যা নিয়ে যোগ দিয়েছেন  নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি মনে করেন, মাওলানা মামুনুল হক দুই নারীর সঙ্গেই প্রতারণা করছেন । news24bd.tv এর পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিনের ফেইসবুক স্টেটাস হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন: 

ভেবেছিলাম মামুনুল হক প্রেমিকা নিয়ে প্রমোদ বিহারে গেছে, যেতেই পারে, প্রেম সেক্স করা কোনও অন্যায় নয়। আসলে লোকটি প্রেম নয়, দুটি মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করছে। কিছু ফোনালাপে প্রমাণ পাওয়া গেল যে সে তার স্ত্রী আমিনা বা রাবেয়াকে  ধোঁকা দিচ্ছে এবং ঝর্ণার অসহায়তার সুযোগে ঝর্ণাকে, যাকে সে আল্লাহর কসম কেটে বলেছে যে বিয়ে করেছে, আসলে যাকে সে বিয়ে করেনি, নেহাত যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করছে। এত ভয়ঙ্কর নারী বিদ্বেষী লোক নারীর সঙ্গে প্রেম করে না, নারীকে নিজের বীর্য ফেলার ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করে। দুই রমণীই কিন্তু তাকে আপনি সম্বোধন করে। দুজনই তাকে প্রভু মানে।


মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে মানতে হবে যে নির্দেশনা

লকডাউন কি বাড়বে?

টাকা আছে বলেই সব কিনে ফেলতে হবে!

করোনা টেস্টের ফল পেতে কেন ৬ দিন লাগবে?


হেফাজতি নেতাদের মধ্যে ফোনালাপ, স্ত্রীর সঙ্গে মামুনুলের ফোনালাপ, ঝর্ণার সঙ্গে মামুনুলের ফোনালাপ, মামুনুলের বোনের সঙ্গে মামুনুলের স্ত্রীর ফোনালাপ, ঝর্ণার সঙ্গে তার পুত্রের ফোনালাপ, ঝর্ণার সঙ্গে কাবিননামা বিষয়ে এক ভাইয়ার ফোনালাপ, মামুনুলের সঙ্গে তৃতীয় মহিলার ফোনালাপ, মামুনুল সম্পর্কে ঝর্ণার পুত্রের বক্তব্য ভিডিও। এগুলো শুনলেই প্রতারক মামুনুলের চরিত্র উন্মোচিত হয়। মাত্র দুটি প্রতারণার গল্প বেরোল। এরকম কত গল্প আছে, কে জানে।

নারী নির্যাতন, নারী হেনস্থা, নারীর সঙ্গে প্রতারণা বাংলাদেশের বদ পুরুষলোকেরা অহরহই করে। মামুনুল যেহেতু নেতা, যেহেতু তার আদেশে লক্ষ পঙ্গপাল চারদিক ছাই করে দেয়, নিজেরা শুধু খুন করতে নেমে পড়ে না, নিজেরা খুন হতেও নেমে পড়ে,   ---সেহেতু মামুনুলের আগপাশতলা দেখা জরুরি। পঙ্গপালগুলোর জানা জরুরি কোনো নিকৃষ্ট লোকের, কোনো প্রতারকের, মিথ্যুকের, কোনো স্বার্থান্ধ বদ লোকের আদেশ তারা মেনে চলে।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি?

মনিজা রহমান

জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি?

ঢাকায় আগে বাসের ভিতরে অনেক কিছু লেখা দেখতে পেতাম- ‘বাকী চাহিয়া লজ্জ্বা দেবেন না’, ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’ … ‘জনাব কিছু ফেলে গেলেন কি’… । তখন কথাগুলো অতটা মনোযোগ আকর্ষণ করত না। আজ এত কাল পরে মনে হয়- এই বাক্যগুলোতে মানুষের নিগুঢ় বিশ্বাস কিংবা চিরায়ত মূল্যবোধের প্রকাশ থাকতো। যেমন মেয়েরা সূচিকর্মে নানাকিছু লিখে টাঙ্গিয়ে রাখত বাড়ির বৈঠকখানায়! কথাগুলো আমাদের সামান্য সময়ের জন্য হলেও থমকে দিত, গভীর ভাবনায় ফেলে দিত! 

 ‘জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি!’ এই কথাটা তো আমার প্রায়ই মনে হয়। খুব সকালে যখন বাসা থেকে কাজের জায়গার উদ্দেশ্যে বের হই, দরজার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি! চারপাশে তাকাই। কখনও ব্যাগ হাতড়াই। ঠান্ডা মাথায় ভাবার চেষ্টা করি। আইডি কার্ড, মোবাইল, কফির বোতল, মেট্রোকার্ড… আরও কত কি… সবকিছু ঠিকঠাকভাবে নিয়েছি তো! কিছু ফেলে গেলাম নাতো! 

দিনশেষেও এভাবে থমকে যেতে হয়। ক্লাসরুমে ছাত্ররা চলে গেলে চেয়ারগুলি টেবিলের ওপর রাখা থাকে। জানালার পর্দা নামানো। দিনের তুমুল কোলাহল শেষে শান্ত চারদিক। ক্লাসরুম ছাড়ার আগে আবারও চারদিকে তাকাই, থমকে যাই, মনে মনে ভাবি- ‘কিছু ফেলে গেলাম কি!’ 
প্রতি বারই যখন বাইরে যাই, আবার ফিরে আসার সময় এই কথাটাই বার বার কেন মনে হয়! আমি একটু বেশীরকম ভুলোমনা বলেই হয়ত বেশী সতর্ক থাকার চেষ্টা করি! গত বছর আগস্টে নিউইয়র্ক থেকে এক রোড ট্রিপে বের হয়েছিলাম আমরা। সাতদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্টেটের অনেকগুলো শহর ভ্রমন করেছিলাম। বাফেলো হয়ে ওহাইও’র রাজধানী কলম্বাস, শিকাগো, ডেট্রয়েট, হ্যারিসবার্গ, ফিলাডেলফিয়া হয়ে আবার নিউইয়র্কে ফিরে আসি। 

প্রতিটি শহরে গিয়ে এক রাতের জন্য হোটেলে উঠতাম। লাগেজ থেকে সব কিছু বের করে সংসার সাজাতাম। আবার সকালে সব গুটিয়ে রওনা হতাম নতুন শহরের উদ্দেশ্যে। যাবর আগে হোটেল রুমের সবকিছু তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখতাম। দরজা থেকে বের হবার সময় বার বার পিছনে ফিরে তাকাতাম, শুধু মনে হত- ‘কিছু ফেলে গেলাম কি!’ 

আজকাল রৌদ্রোজ্জ্বল দিন থাকলে বাড়ি ফেরার পথে ইস্ট রিভারের  তীরে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকি। রোজার দিন বলে অত তাড়া থাকেনা ঘরে ফেরার। বসে বসে কি করি জানেন? নদীর ধারে বেড়াতে আসা বৃদ্ধ মানুষদের দেখি। একেকজন মহামারী জয় করতে চলেছেন দুর্জয় সাহসে। মমতা মাখানো ভালোবাসায়  দুই চোখ ভিজে আসে। 

বাংলাদেশ থেকে এখন প্রতিদিন মৃত্যুর খবর আসে। ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মিতা হক, শামসুজ্জামান খান, কবরী, তারেক শামসুর রহমান, ওয়াসিম, এসএম মহসিন… যাদের শুন্যস্থান কোনদিন পূর্ণ হবার নয়। এক শোকের হাহাকার না নিভতেই, আরেকটি দু:সংবাদ। নিউইয়র্কে বাস করতেন আহমেদ মুসা ভাই, তিনিও না ফেরার দেশে নাম লেখালেন। ওনার সাংবাদিকতার সময় আমার দেখা হয়নি। তবে ওনার বই পড়েছি, খুব ভালো লিখতেন। যদিও এই শহরে সেভাবে কেউ লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করত না তাঁকে। 
মৃত্যু সংবাদ শুনি আর মনে হয়, আমি যে শোকে কাতর হচ্ছি, আমাকেও তো চলে যেতে হতে পারে যে কোন সময়। যতই মনে হবে, কিছু ফেলে গেলাম কি, কিন্তু ফেলে তো যেতেই হবে সব। 

মনিজা রহমান নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হেফাজতের কর্মকাণ্ড যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক: জায়েদুল আহসান পিন্টু

অনলাইন ডেস্ক

হেফাজতের কর্মকাণ্ড যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক: জায়েদুল আহসান পিন্টু

ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকাণ্ডকে যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক বলে উল্লেখ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এখানে তিনি হেফাজতের আমির বাবুনগরীর একটি ভিডিওবার্তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এই মন্তব্য করেন।

News24bd.tv -র পাঠকদের জন্য তার পোষ্টটি তুলে ধরা হলঃ

“Interesting Enough:

কয়দিন আগে শুনলাম সরকারকে টেনে হিচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে হেফাজত। আজ হেফাজতের আমির বাবুনগরী ভিডিওবার্তা দিয়ে বললেন, কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানোর কাজ হেফাজতের না। একটি কুচক্রি মহল নাকি গুজব ছড়াচ্ছে। সরকার যেন এসব গুজবে কান না দেয়। আরো বললেন কোন পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নও হেফাজত করতে দিবে না।”

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মিডিয়া এবার কানাডার অর্থমন্ত্রীর জুতার দিকে তেমন একটা নজর দেয়নি

শওগাত আলী সাগর

মিডিয়া এবার কানাডার অর্থমন্ত্রীর জুতার দিকে তেমন একটা নজর দেয়নি

কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড

হাউজ অব কমন্সে জাতীয় বাজেট পেশ করার আগে কানাডার অর্থমন্ত্রী নতুন জুতা কেনেন। সেই জুতা পায়ে দিয়ে তিনি সংসদে যান এবং বাজেট পেশ করেন। এটিই হচ্ছে কানাডার ঐতিহ্য। 

অর্থমন্ত্রী কোন ধরনের জুতা কিনছেন মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজর থাকে সেদিকে। বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রীর কেনা জুতা দেখে বাজেটে কী গুরুত্ব পাচ্ছে সে ব্যাপারে সবাই একটা ধারনা নেয়। 

এবার অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের পরিবেশে ফেডারেল সরকার তাদের বাজেট পেশ করেছে। সংসদ স্থগিত করে দিয়ে নতুন যাত্রার পর লিবারেল সরকার কোনো বাজেট পেশ করেনি। গত দুই বছরে এটিই তাদের প্রথম বাজেট। ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর এটি হচ্ছে তাঁর প্রথম বাজেট। কানাডার ইতিহাসে কোনো নারী অর্থমন্ত্রীর দেয়া প্রথম বাজেটও এটি। 

করোনার কারণেই হোক আর নারী অর্থমন্ত্রী বাজেট দিচ্ছেন বলেই হোক- মিডিয়া এবার অর্থমন্ত্রীর জুতার দিকে তেমন একটা নজর দেয়নি। কোভিডকালীন বিপুল ব্যয়, অকল্পনীয় ঘাটতির আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর জুতার আলোচনাটি আড়ালই হয়ে গিয়েছিলো।তাতে কি। 

ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রীদের চিরায়ত ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করেননি। বাজেট পেশের আগের দিন রোববারই তিন বাজেট অধিবেশনে পায়ে  দেয়ার জন্য জুতা কিনে ফেলেন।

টরন্টোর ডাউন ডাউনে তার নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাজেট অধিবেশনের জুতা কিনেন তিনি। ’ভাজেল’ নামের এই জুতা কোম্পানিটি টরন্টোয় যাত্রা শুরু করেছিলো ২০১৫ সালে। অপেক্ষাকৃত নতুন এবং ক্ষুদ্র একটি কোম্পানি থেকে বাজেট অধিবেশনের জুতা কিনে নিয়ে আসেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। 

জুতা কিনে এনেই তিনি ফোন করেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর  এল আইয়ুবজাদেহকে। ইরানী বংশোদ্ভূত তরুণী ’এল’কে অর্থমন্ত্রী জানান, তার ডিজাইন করা, তার প্রতিষ্ঠানের জুতা পরে তিনি এবার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। 


কী পরিণতি হলো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই যুবকের

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

সোনারগাঁয়ের সেই ওসি রফিকুল এবার অবসরে


বাজেট অধিবেশনে পায়ে দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের বাছাই করা জুতার তাৎপর্য কি? বাজেটপূর্ব সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোষ্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করতে চান।  

বাজেট অধিবেশনে পায়ে দেয়ার জন্য  কিনি বেছে নিয়েছেন ক্ষুদ্র একটি কোম্পানি আর কানাডার ‘ওয়ার্কিং উইম্যান’দের পায়ে দেয়ার জুতা। কোভিড থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধারের কর্মসূচীকে তিনি ‘ফেমিনিস্ট রিকভারি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন আগেই। বাজেটে নজর দিয়েছেন কানাডার ‘ওয়ার্কিং উইম্যান’দের দিকে।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মামুনুল করলে সমস্যা নেই, বললেই বিরাট সমস্যা: মোজাফ্ফর হোসেন

মোজাফ্ফর হোসেন

মামুনুল করলে সমস্যা নেই, বললেই বিরাট সমস্যা: মোজাফ্ফর হোসেন

মামুনুল হক বলেছেন, তিনি পরের দুইজনকে বিয়ে করেননি। তবে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে মামুনুলের চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির কপিও উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। চুক্তিতে বলা হয়েছে, মামুনুল হক তাদের বিয়ে করবেন না। স্ত্রীর মর্যাদাও দেবেন না। তবে তাদের ভরণপোষণ দেবেন। এই শর্তে যে, তিনি স্ত্রীর মতো করে তাদের সঙ্গে মিশবেন। যেখানে যেতে বলবেন, সেখানে যেতে হবে এবং তার সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে হবে।

এ বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, এটা শরীয়তসম্মত। স্ত্রীর মর্যাদা না দিলেও তাদের ভরণপোষণ দেওয়ার বিনিময়ে তারা তাকে সঙ্গ দিচ্ছে। এটা ইসলামের বিধিবিধানের মধ্যেই আছে।

আরও পড়ুন


রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে শ্বশুড় বাড়িতেও পদ-পদবীর দাপট

ভুয়া আইডির জ্বালায় থানার শরণাপন্ন নায়ক আমিন খান

রাজনীতির চেয়েও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করছে বিজ্ঞান

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা


বাহ! এরা এসেছে ইসলামের হেফাজত করতে; হেফাজতে ইসলাম! যারা এখনো মামুনুলের পক্ষে আছেন, তারা নিজের বোন বা কন্যাকে মামুনুলদের যৌনদাসী হিসেবে লিখে দিতে রাজি আছেন তো? অবশ্য অনেকেই থাকবেন, আছেন সে তো দেখতেই পাচ্ছি, বউকেও দিয়ে দিচ্ছে ‍হুজুরের খেদমতে। আর একজন পুরুষও দেখলাম মামুনুলের খেদমত করার জন্য হাউমাউ করে কান্নাকাটি করছে, কী খেদমত কে জানে!

মামুনুল অবশ্য করলে সমস্যা নেই। কিন্তু সে করেছে এইটা বললে বিরাট সমস্যা। অন্তত বৌয়ের সামনে তো বলাই যাবে না। বললেই, যত দোষ নাকি সব আমার মনে!!

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে শ্বশুড় বাড়িতেও পদ-পদবীর দাপট

রউফুল আলম

রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে শ্বশুড় বাড়িতেও পদ-পদবীর দাপট

স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে কাজ করার সময় আমার এক সহপাঠী ছিলো, যার বাবা ছিলো স্থানীয় এমপি। ছেলেটার সাথে পরিচয়ে প্রায় সাত-আট মাস পর সেটা জেনেছিলাম। তাও প্রসঙ্গত কারণে। ছেলেটা একটা সাইকেল চেপে আসতো প্রতিদিন। এমনকি সামার ব্রেইকে, সুপারস্টোরে কাজ করতো।

২০১৭ সালে, ওয়াশিংটনে, আমেরিকান কেমিক‍্যাল সোসাইটির (ACS) মিটিং ও এক্সপোজিশনে গেলাম। এক্সপোজিশনে মূলত বিভিন্ন পাবলিশার্স ও কোম্পানিগুলোর ছোট ছোট স্টল থাকে। ওয়াইলি (Willy) পার্বলিশার্স থেকে একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন নোবেল বিজয়ী কেমিস্ট স্টুডার্ট ফ্রাসের (Stoddart Fraser)। ফ্রাসেরের সাথে আমি কথা বলবো এবং ইন্টারভিউর জন‍্য আলোচনা করবো, এই লক্ষ‍্যে আমিও এক্সপোজিশনের গেইটের দিকে ছুটলাম। মূল এন্ট্রেসের কাছে যেতেই দেখি তিনিও সেখান দিয়ে ভিতরে চলে যাচ্ছিলেন। ঘড়ির দিকে হয়তো তার নজর ছিলো না। ঠিক তখনই সিকিউরিটির লোকটা তাকে আটকে দিলো। এক্সপোজিশন শুরু হবে সকাল দশটায়। তখনও পাঁচ-সাত মিনিট বাকী। সিকিউরিটির লোক তো আর জানে না, সে কি নোবেল বিজয়ী নাকি অন‍্যকিছু। আর প্রফেসর ফ্রাসেরও নিশ্চয় সিকিউরিটির কাছে বলতে যাবে না - তুই জানিস, আমি কে?
 
আমাদের দেশের মতো ক্ষমতার প্রর্দশন দুনিয়ার কোথাও নেই! রাস্তা-ঘাট, অফিস আদালত এমনকি শ্বশুড় বাড়িতেও পদ-পদবীর প্রদর্শন, পদের নাম বেঁচে খাওয়ার প্রবণতা, পৃথিবীর আর কোথাও দেখবেন না। ২০১৮ সালে যখন বাংলাদেশে গিয়েছি, ঢাকার রাস্তায় দেখেছি, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার পরিচয় দিয়ে গাড়িতে স্টিকার লাগানো। আমি অবাক হলাম, এই সংস্কৃতি কবে থেকে চালু হলো! ওয়ার্ডের নেতাও গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে? গ্রামের যে ছেলেটা নকল করে মেট্রিক পাশ করতে পারেনি, আমি তাকে দেখেছি নেতা হয়ে যেতে। গ্রামের বিচার-আচার ঠিক করতে। গ্রামের স্কুল কমিটি চালাতে। মধ‍্যপ্রাচ‍্য থেকে কিছু টাকা কামাই করে এসে, স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে নেতা হয়েছে। সেই নেতা কথায় কথায় বলে - তুই চিনস, আমি কে? —এই হলো আমাদের সমাজের প্রকৃত চিত্র!
 
বিদেশে আপনি মুদির দোকানদার হলেও যা, হার্ভাডের প্রফেসর হলেও তা। অনেক বড়ো ডাক্তার হলেও যা, হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় হলেও তাই। এখানে কেউ কারো সাথে ক্ষমতা প্রর্দশন করতে যায় না। বরং এটা যে করতে যায়, তাকে সবাই স্টুপিড মনে করে! আপনি কারো কাছ থেকে পাত্তা আশা করার দরকার নেই। কাউকে আপনার পাত্তা দেয়ারও দরকার নেই। এই হলো সংস্কৃতি। যার যখন যে কাজ, যে দায়িত্ব, সে সেটা করে যাবে নিয়ম মাফিক। আলগা ভাব বা আলগা পাত্তার আশা করার প্রবণতাটাই এখানে গড়ে উঠেনি। আর আমার যে বন্ধু বুয়েটে পড়তো, সে পরিচয় দিতে গিয়ে তার নাম বলার আগে বলতো, বুয়েটে পড়ে। সেই রকমের বহু ছেলে-পেলে দেখেছি, বিদেশে এসে বিড়াল হয়ে যেতে। কারণ, সেসব আলগা ভাব তো নেয়ার আর সুযোগ থাকে না।  

বিদেশে আমার সাথে এক সচিবালয়ের কর্মকর্তার পরিচয় হয়েছিলো। ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে বললেন, আসলে বিদেশে শান্তি নাই। জানতে চাইলাম কেন। বললো, দেশে কতো আরামে থাকি। সরকারী কর্মচারী থাকে। ড্রাইভার থাকে। যেখানে যাই সেখানেই সবাই একটা সমীহ করে। বিদেশে তো কেউ কাউরে কেয়ার করে না। মনে মনে বললাম, বৃটিশরা একসময় বাঙালীর সাথে যা করেছিলো, আপনারা মূলত এখন স্বজাতির সাথে তাই করছেন। দায়িত্ব নিয়ে মাথ‍া ব‍্যাথা নেই। কিন্তু পদ-পদবি বেঁচা-কেনায় কোথায় কমতি হলো, সে নিয়ে একেবারে ষোল আনা হিসাব!

আরও পড়ুন


ভুয়া আইডির জ্বালায় থানার শরণাপন্ন নায়ক আমিন খান

রাজনীতির চেয়েও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করছে বিজ্ঞান

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

সিঙ্গাপুরগামী বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ছে আজ


পদ-পদবী যে একটা দায়িত্ব, একটা কর্তব‍্য সেটা আমারা বুঝি না। উপলব্ধি করি না। আমাদের কথা হলো পদ-পদবীর টিকেট নিয়ে ক্ষমতার প্রদর্শন করে বেড়াও। রাষ্ট্রের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত এই চর্চা। দায়িত্ব পালনের বেলায় মুলোটা হলেও, ক্ষমতা প্রদর্শনের বেলায় একেবারে ওস্তাদ। এবং এইটা হলো একটা কেইয়টিক সোসাইটির অন‍্যতম প‍্যারামিটার। যেখানে সকল ব‍্যবস্থাপনা খুব নাজুক থাকে। সহজেই ভেঙ্গে পড়ে। এ ফ্রেজাইল ম‍্যানেজম‍্যান্ট!

এই ধরণের ফ্রেজাইল ম‍্যানেজম‍্যান্ট তৈরি হয় বহু কারণে। অন‍্যতম কারণ হলো, রাজনীতি যখন তার স্বার্থে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষটিকেও কাছে টানে, তখন সেটা হয়। রাজনীতি যখন নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ন‍্যাংটা ভাবে ব‍্যবহার করে তখন সেটা হয়। স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান বলে কিছুই গড়ে উঠে না। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে পর্যন্ত আমেরিকার পুলিশ প্রধান বলতে পেরেছিলো, চুপ থাকার জন‍্য। অপ্রয়োজনীয় কথা না বলার জন‍্য। কারণ, এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বতন্ত্রভাবে গড়ে উঠেছে। এটা হলো মৌলিক ভিত্তি। দেশের অন‍্যান‍্য বহু সমস‍্যা থাকলেও, এই মৌলিক বিষয়গুলোকে আগে দাঁড়া করাতে হয়। ব‍্যবস্থাপনা যদি সিস্টেমেটিক এবং স্বতন্ত্র-স্বাধীনভাবে গড়ে না উঠে, পদ-পদবির চেয়ে দায়িত্ববোধের চর্চা যদি বড়ো না হয়, তাহলে শুধু কামড়া-কামড়িই থাকে। পারস্পরিক রেস্পেক্ট কখনো গড়ে উঠে না। সমাজটা হয়ে যায় পদ-পদবী বেচা কেনার হাট।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর