ট্রয় নগরী দেখিনি র‌য়েল রি‌সোর্ট দে‌খে দু‌ধের স্বাদ ঘো‌লে মেটাব

মাসুদ করিম


ট্রয় নগরী দেখিনি র‌য়েল রি‌সোর্ট দে‌খে দু‌ধের স্বাদ ঘো‌লে মেটাব

মাসুদ করিম

এক:

আমি একবার তুরস্ক সফ‌রে গি‌য়ে‌ছিলাম। ট্রয় নগরীটা দে‌খে আসার খুব ইচ্ছা ছিল। হে‌লেন না‌মের পৃ‌থিবীর সেরা সুন্দরী‌কে নি‌য়ে যু‌দ্ধে ধ্বংস হ‌য়ে যায় ট্রয়। ঐ‌তিহা‌সিক নগরী দেখার ইচ্ছা অপূর্ণ থে‌কে যায়।

সফরসূ‌চি‌তে ইস্তাম্বু‌লের বাই‌রে যাওয়ার কোনও সু‌যোগ ছিল না। তাই মি‌থের শহর দেখা হ‌লো না। ট্রয় নগরী তুর‌স্কের আনা‌তো‌লিয়া রা‌জ্যে অব‌স্থিত। ইউ‌নে‌স্কো প্রাচীন ট্রয়‌কে বিশ্ব ঐ‌তিহ্য ঘোষণা ক‌রে‌ছে। অ‌নেক মানুষ হে‌লে‌ন‌কে ঘি‌রে প্রে‌মের লড়াই‌য়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখ‌তে ট্রয় যান।

‌হে‌লে‌নের ট্রয় নগরীর কথা বি‌শেষভা‌বে ফু‌টে ও‌ঠে মহাক‌বি হোমা‌রের দুই মহাকাব্য "ই‌লিয়াড" ও "ও‌ডি‌সি" তে যা গ্রিক মি‌থের অবলম্ব‌নে র‌চিত। কা‌হিনীটা খুব রোমাঞ্চকর।

ফুটফু‌টে কন্যা হে‌লে‌নের জ‌ন্মের পর পরই রাজ জ্যো‌তি‌ষী ব‌লে‌ছিল, মে‌য়েটা পৃ‌থিবী‌তে আলোড়ন সৃ‌ষ্টি কর‌বে। জ্যো‌তি‌ষির কথা অক্ষ‌রে অক্ষ‌রে ফ‌লে গেল। হে‌লেন হ‌য়ে ও‌ঠেন পৃ‌থিবীর সব‌চে‌য়ে সেরা সুন্দরী। দু‌নিয়া তার রু‌পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

গ্রি‌সের স্পার্টা রা‌জ্যের রাজা মে‌নেলা‌সের স‌ঙ্গে হে‌লে‌নের বি‌য়ে হয়। রাজা-রানী স্পার্টার রাজপ্রাসা‌দে সু‌খে শা‌ন্তি‌তে বাস কর‌ছি‌লেন।

ওই সম‌য়ে গ্রিক দেবী এ‌রিস অপর তিন দেবীর কা‌ছে উপহার হিসা‌বে একটা আ‌পেল পাঠান। তিন দেবী হ‌লেন এ‌থেনা, হেরা, আ‌ফ্রো‌দি‌তি। এ‌রিস আ‌পে‌লের ওপর লে‌খেন "শ্রেষ্ঠ সুন্দরীর জন্য"। 

এভা‌বে তিন দেবীর ম‌ধ্যে ঝগড়ার সৃ‌ষ্টি ক‌রেন। দেব‌-‌দেবীরা শ্রেষ্ঠ সুন্দরী বে‌ছে নি‌তে অপারগতা প্রকাশ কর‌লে তিন দেবী পৃ‌থিবী‌তে এ‌সে প্যা‌রিস না‌মের এক মানুষ‌কে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী বে‌ছে দেবার দা‌য়িত্ব দেন। 

প্যা‌রিস হ‌লেন ট্রয় নগরীর রাজা প্রিয়াম ও রানী হেকবার পুত্র। প্যা‌রিস দেবী‌দের ম‌ধ্যে আফ্রো‌দি‌তি‌কে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী ব‌লে ঘোষণা ক‌রেন। আ‌ফ্রো‌দি‌তি খু‌শি হ‌য়ে প্যা‌রিস‌কে বিরাট সক্ষমতা দান ক‌রেন যার ফ‌লে প্যা‌রিস পৃ‌থিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী‌র স‌ঙ্গে প্রেম কর‌তে সক্ষম হন । 
ওই সুন্দরী আর কেউ নন; স্পার্টার রাজা মে‌নেলা‌সের স্ত্রী হে‌লেন। প্যা‌রি‌সের প্রে‌মে হাবুডুব খে‌তে থা‌কেন হে‌লেন। প্রে‌মের এক পর্যা‌য়ে হে‌লেন স্পার্টার রাজপ্রাসাদ ছে‌ড়ে ট্র‌য়ের রাজপুত্র প্যা‌রি‌সের স‌ঙ্গে পা‌লি‌য়ে যান। ট্রয়ের রাজপ্রাসা‌দে ও‌ঠেন।
 
‌ক্রো‌ধের আগুন জ্ব‌লে ও‌ঠে স্পার্টার রাজা মে‌নেলা‌সের ম‌নে। স্পার্টার পা‌শের রাজ্য মাই‌সি‌নের রাজা ছি‌লেন মোনা‌লে‌সের ভাই আগা‌মেনন। তার স‌ঙ্গে বিষয়টা নি‌য়ে আলাপ ক‌রেন। তারা হে‌লেন‌কে ছি‌নি‌য়ে আন‌তে যু‌দ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। হাজার হাজার যোদ্ধা নি‌য়ে সাগর পা‌ড়ি দি‌য়ে ট্রয় নগরী ঘি‌রে ফে‌লেন।

ট্র‌য়ের মানুষ কিছু‌তেই হে‌লেন‌কে দি‌তে রা‌জি হয়‌নি। তুমুল যুদ্ধ হয়। দশ বছর চ‌লে যুদ্ধ। কেউ জয়ী হয়‌নি। শেষ পর্যন্ত ট্রোজান হর্স না‌মের একটা বিশাল কা‌ঠের ঘোড়া রে‌খে ‌দেয় স্পার্টার বা‌হিনী। ট্র‌য়ের বা‌সিন্দারা ম‌নে ক‌রেন মে‌নেলাস পরাজয় মে‌নে নি‌য়ে‌ছেন। 

উপহার হিসা‌বে দি‌য়ে‌ছেন কা‌ঠের ঘোড়া। তারা কা‌ঠের ঘোড়া ট্রয় নগরীরর মা‌ঝে রে‌খে দেন । তারপর ট্র‌য়ের বা‌সিন্দারা ঘুমা‌তে গে‌লে ট্রোজান হ‌র্সের ভেতর থে‌কে সৈন্যরা বে‌রি‌য়ে ট্র‌য়ের প্রায় সব মানুষ‌কে হত্যা ক‌রে। ধ্বংস ক‌রে ট্রয় নগরী।

দুই:

ঐ‌তিহা‌সিক নগরী দেখার প্র‌তি আমার আগ্রহ র‌য়ে‌ছে। আমরা ক‌য়েকজন সাংবা‌দিক মি‌লে একবার ঢাকার কা‌ছে সোনারগাঁ‌য়ে ঐ‌তিহা‌সিক পানাম নগরী দেখ‌তে গি‌য়ে‌ছিলাম। এক হাজার বছ‌রের পুর‌নো সি‌টি। আমার খুব ভাল লাগল। পুর‌নো ঐ‌তিহ্য সংরক্ষ‌ণে বাংলা‌দেশ এ‌ক্ষে‌ত্রে স‌চেষ্ট হ‌য়ে‌ছে।
 
পানাম নগরী দেখার পর আমরা সোনারগাঁ‌য়ের লোক ও কারু‌শিল্প জাদুঘর দেখলাম ।  সেখা‌নে দেখার অ‌নেক কিছু আছে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ঢাকার কা‌ছে ই‌তিহাস, ঐ‌তিহ্য জানার জন্য সোনারগাঁও‌কে বে‌ছে নি‌য়ে থা‌কেন। এটা একটা প্রাচীন রাজধানী। 

‌ঢাকাই মস‌লি‌নের সূ‌তিকাগার। সূক্ষ স্বচ্ছ যে কাপ‌ড়ে বিশ্বব্যা‌পি রমনী‌দের দেহ‌সৌষ্ঠব প্রদর্শ‌নের জন্য আদৃত তার নাম মস‌লিন।


মামুনুল হক সম্পর্কে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একদিনে ঝরল আরও ৫২ প্রাণ

দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড গড়ল করোনা

দেশে ফের করোনা শনাক্তের রেকর্ড


 

আমরা বার‌দি গি‌য়ে উপমহা‌দে‌শের বাম আ‌ন্দোল‌নের প্রবাদ পুরুষ জ্যো‌তিবসুর বা‌ড়ি ঘু‌রে দেখলাম। লোকনাথ ব্রক্ষচা‌রির আশ্র‌মে গেলাম। লিচু বাগা‌নে গি‌য়ে পেট ভ‌রে খাবার পর বা‌ড়ির জন্য কিনলাম। সারা‌দিন ঘুরাঘু‌রির পর রা‌তে একটা রাজকীয় রি‌সো‌র্টে থাকলাম।
র‌য়েল রি‌সোর্ট। মা‌লিক খুব সৌ‌খিন। রি‌সোর্ট নয় যেন প্রাচীন রাজপ্রাসাদ। বিলাস বহুল। আরাম আয়েশের উত্তম স্থান।
 
সম্প্র‌তি এক‌টি প্রে‌মের ঘটনার উত্তা‌পে ওই রি‌সোর্ট ধ্বংসয‌জ্ঞে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছে। আমার খুব আফসোস হলো। আমি ভাবলাম, প্রে‌মের উত্তা‌পে পু‌ড়ে যাওয়া ট্রয় নগরী দেখ‌তে না পার‌লেও র‌য়েল রি‌সোর্ট দে‌খে দু‌ধের স্বাদ ঘো‌লে মেটাব। কিন্তু লকডাউ‌নের কার‌ণে যে‌তে পারলাম না। 

র‌য়েল রি‌সো‌র্টের মা‌লিকরা ওই সব ধ্বংসের চিহ্ন সংরক্ষণ কর‌লে উৎসুক পর্যটকরা সেখা‌নে গি‌য়ে তা দেখ‌বেন। আগ্রায় সম্রাট শাহজাহান প্রে‌মের স্মৃ‌তি ধ‌রে রাখ‌তে তাজমহল বা‌নি‌য়ে‌ছেন। ভালবাসার ইমারত, প্রে‌মের স্মৃ‌তি‌সৌধ। অ‌নে‌কে সেখা‌নে যে‌তে পা‌রেন না। সে অভাব পূর‌নে র‌য়েল রি‌সো‌র্টের অদূ‌রে তাজমহ‌লের রে‌প্লিকা হ‌য়ে‌ছে। অ‌নে‌কে তা দেখ‌তে যান।

আমি আগ্রায় আসল তাজমহল দে‌খে‌ছি। তাই রে‌প্লিকা দেখ‌তে যাই‌নি। ত‌বে পরি‌স্থি‌তি স্বাভা‌বিক হ‌লে অ‌নেক প্রে‌মিক জু‌টি সোনারগাঁও যা‌বেন। নকল তাজমহল ও নকল ট্রয় দেখার জন্য। এক স‌ঙ্গে প্রে‌মের দুই ছ‌বি দেখার সু‌যোগ পৃ‌থিবীর আর কোথাও নেই ! 

ভালবাসা, রোমাঞ্চ, প্রেম, ক্রোধ, জিঘাংসা, ধ্বংস, তাণ্ডব, হিংসা, ঘৃণা, যুদ্ধ, ধর্ম-অধর্ম, ‌সব একাকার সেখা‌নে !

মাসুদ করিম, সিনিয়র সাংবাদিক

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে ছিটকে পড়তে হয়

আরিফ জেবতিক

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে ছিটকে পড়তে হয়

আরিফ জেবতিক

এফডিসির বাংলা সিনেমাওয়ালারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন যে তাঁদের বানানো ঘর দ্রুতই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে। শুধু এফডিসি বলি কেন, কোডাক কিংবা নোকিয়া যে দশক ঘুরতে না ঘুরতেই বিশ্বের শীর্ষস্থান থেকে নেমে একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে, সেটা কি তাঁরা ভেবেছিলেন?

সরি টু সে, আমার পর্যবেক্ষণ বলে, আমাদের সৃজনশীল প্রকাশকরা যদি এখনও বইমেলা কেন্দ্রিক ব্যবসার মডেল থেকে বের হয়ে না আসেন, তাহলে আগামী দশকে এদের কারোই অস্তিত্ব থাকবে কী না আমার সন্দেহ আছে।

আমাদের দেশে প্রকাশনা এখনও পুরোপুরি শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। শিক্ষার হার বেড়েছে সে তুলনায় বই প্রকাশনার বড় অংশই টিকে আছে সৌখিন লেখকদের বাইব্যাক, লেখকদের নিজেদের টাকায় বিজ্ঞাপন দেয়া আর আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের কাছে পুশ সেল করার মধ্যে। 

এই শখের লিটিলম্যাগ বিক্রি সিস্টেমে ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে না। আশি আর নব্বই দশকের রমরমা ভাব একই মডেলে বসে থেকে এই দশকেও পাওয়া যাবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। 

বিদেশে ইতিমধ্যে প্রিন্ট অন ডিমান্ড মডেলটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লেখক ওয়েবসাইটে নিজেদের বই রেখে দেন, আগ্রহী পাঠক অর্ডার দিলে মাত্র সেই এক কপি বইই প্রিন্ট ও বাঁধাই হয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে। যদি বাংলাদেশে প্রিন্ট অন ডিমান্ড কেউ সাকসেসফুলি শুরু করে, তাহলে প্রকাশকদের মাধ্যমে বই প্রকাশ করার ধারা কমে আসবে। 

বই মার্কেটিংয়ের ধারাতেও নতুনত্ব ও চমক আনা দরকার। আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে বটে, কিন্তু পাঠকদের অধিকাংশই প্রিম্যাচিউরড শ্রেণির। প্রথম প্রজন্মের এই শিক্ষিত শ্রেণির কাছে তাই আত্মোন্নয়ন, ধর্মীয় বই, সহজে ইংরেজি শিক্ষা, চাকরি পাওয়া, চাইনিজ রান্না শেখার বইয়ের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হবে। 


খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের খবর জানে না পরিবার ও দল

খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত কি না তা অফিসিয়ালি জানাবো: ফখরুল

চলছে হেফাজতের সভা, সিদ্ধান্ত হতে পারে মাওলানা মামুনুলের বিষয়ে

করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়া


মার্কেটের এই সেগমেন্ট এখন সার্ভ করা হচ্ছে তুলনামূলক দুর্বল কনটেন্ট দিয়ে। শুধুমাত্র ৫ ফর্মার উপন্যাস এখন আর জনপ্রিয়তা পাবে, এই ডিপজল-সাকিবখান-অপু ফর্মুলা থেকে বের হওয়া দরকার।

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে এখানে সবাইকেই ছিটকে পড়তে হয়। আমাদের প্রকাশনা শিল্প সময়ের সাথে তাল মেলাবে, এই প্রত্যাশা করা ছাড়া আর কীইবা করতে পারি!

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মিতাকে প্রণাম

আলোময় বিশ্বাস

মিতাকে প্রণাম

নিরহঙ্কার, সদাহাস্য মিতা হক এমন এক শিল্পী যার কন্ঠ রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভারবস্তুর রস অনাহত রেখে এগিয়ে চলে, গানটিকে ঐশ্বর্যে এমন এক উচ্চ মাত্রায় জাগিয়ে তোলেন যেখানে আমরা এক সুরের-মিতার দেখা পাই আর সেখানেই সকল শ্রোতার ভালোবাসা অনন্য তাৎপর্যে তাঁকে ছুঁয়ে থাকে।

মিতা হকের জন্ম ১৯৬২ সালে, যখন আয়ুব বিরোধী আন্দোললে উন্মাতাল পূর্ববাংলা, আন্দোলনের হাওয়া লেগেছে কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল মনোহরিয়া গ্রামের আবু তৈয়ব মাজহারুল হক সাহেবের বাড়িতেও। জনাব মাজহারুল হক মিতা হকের পিতামহ, তিনি ছিলেন ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির এমএলএ। এই বাড়িতেই এখন মিতা হক তাঁর স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছিলেন। অনেক পরিবর্তন দেখতে দেখতে মিতার জীবন এগিয়ে চলেছে, এখন মনোহরিয়া গ্রাম প্রায় ঢাকা শহরেরই অংশ।

মিতার জন্ম এমন এক পরিবারে যেখানে কণ্ঠে কথা ফোটার আগে সুর খেলেছে। এই সুরের গুরু আর কেউ নন তারই বড়চাচা সংগীতাচার্য ওয়াহিদুল হক, যাঁকে বাঙালি-সমাজ রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্র-গবেষণার অন্যতম পুরোধা পুরুষ হিসাবে গণ্য করে, বাঙালি সঙ্গীতসংস্কৃতি জগতে ওয়াহিদুল হক একেবারেই আলাদা এই কারণে যে তিনি শুধু আত্মমগ্ন হয়ে সংগীত শিক্ষা দেননি, বরং সংগীত শিক্ষা দিতে গিয়ে সংগীতের বাইরের দরজা-জানালাও খুলে রেখেছেন, যেন অন্যান্য আলোও সেখানে প্রবেশ করে।

ওয়াহিদুল হকের হাত ধরেই মিতার সঙ্গীত-যাত্রা, এ এক পরম প্রাপ্তি, মিতার মনন গঠনে ওয়াহিদুল হকের ভূমিকা প্রধান। একটু কান পেতে দাঁড়াতে হবে যদি মিতার কণ্ঠ যদি গেয়ে ওঠে ‘দীর্ঘ জীবনপথ’ কারণ এই সুর মিতা আপনি পেয়ে যান পারিবারিক পরিসরে পায়চারী করতে করতেই। ‘তোমার এই মাধুরী ছাপিয়ে আকাশ ঝরবে’ গানখানি যেন কবিগুরু যত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন মিতাকে দিয়ে গাওয়াবেন বলে। রবীন্দ্রনাথের গানের চিত্রকল্প অনুধাবনে মিতার গানের আগে কান তৈরী হয়ে ছিল।

বাহ্যিক অবয়বে মিতাকে অতি সাধারণ মনে হলেও তিনি অত্যন্ত উচ্চ রুচির কণ্ঠশিল্পী। রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তিনি প্রগতিশীল সাম্যের ও মানবতার পক্ষে পরিবারের ঐতিহ্যকেই লালন করেছেন, তাঁর পিতামহ আবু তৈয়ব মাজহারুল হক ছিলেন ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির এমএলএ।


আরও পড়ুনঃ


সন্তানদের লড়াই করা শেখান

শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়েই হবে প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

বাংলাদেশের জিহাদি সমাজে 'তসলিমা নাসরিন' একটি গালির নাম

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা


মিতা অনেক যত্ন নিয়ে, বুঝে গান করতেন, ফলে এই গানের শক্তি অনেক, যা শ্রোতাকে ছুঁয়ে থাকে, স্পর্শকাতর করে রাখে। নাম যশের জন্য নয়, অর্থ প্রাপ্তির জন্য নয় স্বতঃস্ফূর্ত আবেগই তাঁর সঙ্গীতের পথ নির্মাণ করেছে। বড়চাচার মতই তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের ও ছায়ানটের সাথে থেকে নিরলস কাজ করে গিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

মাত্র এগার বছর বয়সে বার্লিন বিশ্ব-শিশু-উতসবে যোগ দিয়েছিলেন ও গান করেছিলেন সেখানে।

পরিণত মিতা ছিলেন গানের শিক্ষক, তিনি ছায়ানটে গান শেখান, রয়েছে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন সঙ্গীত-প্রতিষ্ঠান ‘সুরতীর্থ’। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসাবে পেয়েছেন একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমির রবীন্দ্র-পদক। এসব ছাপিয়েও বড় বিষয় হলো, রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতে মিতা হক এমন একটি নাম, যাঁকে সবাই ভালোবাসে; তাঁর দরাজ কণ্ঠ, তাঁর বিনয়-উজ্জ্বল মুখ, তাঁর নির্মল হাসি, নিরহংকার ব্যক্তিত্ব সবার কাছে ‘নিকট আত্মীয়’ বলে মনে হয়েছে ।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সন্তানদের লড়াই করা শেখান

শরিফুল হাসান

সন্তানদের লড়াই করা শেখান

তুই একটা অপদার্থ, তোকে দিয়ে কিছুই হবে না- কথায় কথায় অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের এভাবে বকেন। অনেকে তখন ধরে নেয়, ছেলেটা বুঝি আসলেই অপদার্থ। আচ্ছা রোজ সকালে সন্তানের স্কুলের ব্যাগ যেই বাবা মা টেনে দেয়, সন্তানকে স্বাবলম্বী হতে শেখায় না, লড়াই করতে শেখায় না, মূল্যবোধ শেখায় না, সেখানে তো এমনই হওয়ার কথা তাই না? 

চিকিৎসকরা বলে থাকেন, বাচ্চা যখন মাটিতে গড়াগড়ি খায়, এটা সেটা খায় তখন শরীরের ইমুনিটি গ্রো করে। ইন্টেস্টিনাল নরমাল ফ্লোরা শরীরে ঢুকায়। অথচ আজকাল বাচ্চাদের মাটির ছোঁয়া পেতেই দেয় না বাবা মায়েরা। ফলে বডি ইমুনিটি আসবে কীভাবে? 

আজকালকার অনেক বাবা-মায়েরা ভাবে, কমপ্ল্যান, বর্নভিটা, হরলিক্স দিয়া হাড্ডি মাংস সবল হবে। কিন্তু আসলে মিল্ক ইনজুরির শিকার হচ্ছে বাচ্চারা। থলথলে তুলার বস্তার মত বাচ্চা। না আছে শক্তি, না আছে সাহস। এদের কান্না থামাতে আমরা হাতে ধরিয়ে দেই মোবাইল-ট্যাব। এদের শৈশব-কৈশোরের লড়াই থাকেনা। এমনকি বড় হওয়ার পরেও দেখেন বাচ্চারা মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবে, বাবা-মা হাজির। আমরা আসলে এই বাচ্চাদের একা পথ চলতেও শেখাই না। 

কয়েক বছর আগে চিকিৎসক সাঈদ সুজনের একটি লেখা দেখে আমার মাথায় এই কথাগুলো গেঁথে যায়। তাঁর সাথে নিজের ভাবনা যোগ করে গত কয়েক বছর ধরে লিখছি। আচ্ছা শিশু-কিশোরদের কী করে বোধসম্পন্ন লড়াকু মানুষ বানাবো আমরা? পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র কী শিশুদের বড় হওয়ার উপযোগী?

চারপাশে তাকান। উন্নয়নের জোয়ার। আকাশচুম্বি সব ভবন উঠছে। কিন্তু খেলার ব্যবস্থা নেই। আমি ঢাকার একটা আবাসিক এলাকায় থাকি অথচ একটা খেলার মাঠ নেই। স্কুলগুলোতেও একই দশা। শিক্ষা যেন পণ্য। স্কুল আছে খেলার মাঠ নেই।  বাচ্চাদের দৌড়ানোর জায়গা নেই। নিজের ছায়া দেখেও বাচ্চারা ভয় পায়।  

সংকট সমাধানে আজকাল অনেক বাবা মায়েরা  তাদের সন্তানের জন্য অনেক টাকা পয়সা রেখে যেতে চান। দেশে-বিদেশে বাড়ি, গাড়ি ফ্ল্যাট বা  সেভিংস। উদ্দেশ্য ছেলে- মেয়েরা যেন আরামে বসে খেতে পারে। অনেক সময় অসৎ আয়ে এসব হয়। আর এভাবেই একটা সন্তানরে ভবিষ্যত নষ্ট হয়। তৃতীয় জেনারেশনের ক্ষতি হয়ে যায়। কারন আপনার কষ্টের টাকায় বাচ্চা আরাম করে যখন খাবে, তখন সে আর কষ্ট করে আয় করা শিখবে না। 

ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালদের সন্তান দেখুন। কয়জন তারা লেখাপড়া শিখে সেই শিক্ষায় মানুষ হচ্ছ? আবার উল্টো করে দেখুন এই রাষ্ট্রের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-আমলা-কবি প্রায় সবাই মধ্যবিত্ত থেকে আসা যাদের জীবনটা লড়াই করে কেটেছে। প্রায়ই দেখবেন, কমপ্ল্যান- হরলিক্স আর পিৎজা খাওয়া বাচ্চাদের বদলে লড়াই করে বড় হওয়া নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত-মধ্যবিত্তের সন্তানরা লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছে।‌ কাজেই সন্তানদের লড়াই করা শেখান। 

আমার বাবা শৈশব কৈশোরে একটা কথা সবসময় বলতেন। তিনি আমাদের শেখাতেন, এই যে বাড়ি, গাড়ি,‌ সম্পদ যেগুলো দেখা যায় সেগুলো আসলে সম্পদ না। কিন্তু যেগুলো দেখা যায় না শিক্ষা, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, সততা মানবিকতা এগুলিই আসল সম্পদ।‌ কাজেই সন্তানদের জন্য সম্পদ যতো কম রাখতে পারবেন ততো ভালো। 

এর চেয়ে বরং বাচ্চাকে সময় দিয়ে সুশিক্ষিত ও কর্মঠ করে যান। নিজের আয় নিজে খেয়ে যান। বংশসূত্রেই সুখী হবেন। আপনারা সন্তানটাও লড়াই করা শিখবে। আর সেই সাথে মূল্যবোধ শেখাতে হবে। আর এই মূল্যবোধ শেখার সবচেয়ে বড় জায়গা পরিবার। কিন্তু বাবা-মারা সন্তানদের বললেই কী তারা শিখে যাবে? 

মনে রাখবেন, সন্তানকে যতোই ভালো উপদেশ দেই না কেন, ওরা কিন্তু আমাদের জীবনকে অনুসরণ করবে, উপদেশকে নয়। উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আপনি অসৎ পথে আয় করবেন, হারাম খাবেন আর সন্তানকে সততার কথা বলবেন তাতে কাজ হবে না। আপনার সন্তান যখন দেখবে আপনি একটা চাকুরি করেন কিন্তু বেতনের চেয়ে আপনার খরচ বেশি, ঘুষের আয়, আপনার সন্তান কিন্তু আপনাকে শ্রদ্ধা করবে না। তার মধ্যে মূল্যবোধ তৈরি হবে না। 

পাশাপাশি শিশুরা দেখে আপনারা কী নিয়ে কথা বলছেন। আগেও লিখেছি। দেখেন, ১৫ বছর বয়সী সুইডিশ কিশোরি গ্রেটা থুনবার্গের কথা জানি যে সারা বিশ্বের পরিবেশ নিয়ে ভাবছে। পৃথিবীকে বাঁচাবার জন্য লড়ছে। এটা কিন্তু এক দিনে হয়নি। সে তার চারপাশ থেকে শিখেছে কেন পরিবেশের যত্ন নেয়া জরুরী। 

কিন্তু আমাদের এখানে আমরা কী করি? কী নিয়ে আলোচনা করি? কী দেখে আমাদের সন্তানরা চারপাশে? কয়জন আমরা আরেকজনের বিপদে দাঁড়াই আমরা? আমাদের সমাজ আমাদের কী শেখাচ্ছে? এলাকায় কাদের দাপট?  আচ্ছা বলেন তো আমাদের শিশু-কিশোররা কাদের দেখে শিখবে? তাদের সামনে আইকন কে? আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, আমরা নিজেরা ভালো না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভালো করা কঠিন। 

কাজেই চলুন সন্তানদের ভালো মানুষ বানাই। শিক্ষা, সততা, বিনয়, মানবিকতা শেখাই। জীবন বোধ শেখাই। রোদ বৃষ্টি উপভোগ করতে শেখাই। লড়াই করতে শেখাই। ভালোবাসা পৃথিবীর সব শিশুদের জন্য। সব বাবা-মায়েদের জন্য।‌ শুভ সকাল সবাইকে। শুভ সকাল বাংলাদেশ!

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউন আবার দিতে হলে যা ভাবতে হবে

নাজনীন আহমেদ

লকডাউন আবার দিতে হলে যা ভাবতে হবে

* সত্যিকার অর্থে implement করা কী যাবে নাকি ঢিলেঢালা নামমাত্র চলবে! ঢিলেঢালা লকডাউনে লোকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে সংক্রমণ আরও বাড়াতে পারে। এবার কিন্তু গতবছরের  অবস্থা নেই। গতবার সংক্রমণের হার কম ছিল। কিন্তু এবার কোভিডের নতুন ভ্যরাইটিতে সংক্রমণ প্রবণতা অনেক বেশি।

* প্রায় ৪ কোটি দরিদ্র মানুষের (এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ অতি দরিদ্র) মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার প্রস্তুতি থাকতে হবে। গতবারের মানুষের হাতে সঞ্চয় ছিল, এখন কিন্তু  স্বল্প আয়ের মানুষের হাতে সঞ্চয় কম। কাজেই সত্যিকারের লকডাউনে গেলে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের সাহায্য দরকার হবে। এত মানুষের দায়ভার নেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা আমাদের আছে কি?

*অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচিয়ে রাখার উপায় কি হবে? গত এক বছরে যারা ঝণ নিয়েছেন তারা ব্যবসা-বাণিজ্য এখন না করলে ফেরত দিবেন কি করে ? আর এই ধরনের প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের উপায় কি হবে তা ভাবতে হবে। 

*নিম্ন মধ্যবিত্ত , টানাটানিতে চলা লোকজন কারো কাছে হাত পাততে পারবেন না কিন্তু খাদ্য কষ্টে থাকবেন । এদেরও কিন্তু সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন হবে। আবারো বলছি গত বছর এই সংকটে মানুষ যতটা না পড়েছে, এবার তার চেয়ে বেশি হবে। কারণ অনেক মানুষের সঞ্চয় গত বছর কমে গেছে। বিশেষ করে অনেক উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সঞ্চয় থেকে অথবা পারিবারিকভাবে ঋণ করেছেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য খাদ্য কিংবা আয় -এর নিরাপত্তা অথবা কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার দেয়ার উপায় কী হবে! 

*যে ক'দিনের লকডাউন দিলে সত্যিকার অর্থেই তা করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় কার্যকর হবে, ততদিন পর্যন্ত লকডাউন দেয়ার সক্ষমতা না থাকলে অল্প দিনের লকডাউন দিয়ে জীবনেরও তেমন লাভ হবেনা, জীবিকাও হবে ক্ষতিগ্রস্ত । তখন করোনার সাথে সাথে অভাবে পরেও মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এগুলো ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

*আমার মতে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ জনসমাগম বন্ধ করে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক মাস্ক সাবান ইত্যাদি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। এই সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণা জোরদার করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠোরভাবে ইমপ্লিমেন্ট করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।

নাজনীন আহমেদ: অর্থনীতিবিদ

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

থানায় কেন হামলা হবে?

শরীফুল হাসান

থানায় কেন হামলা হবে?

শরীফুল হাসান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন থানায় নিরাপত্তাচৌকি বসানোর ছবি ও খবর দেখলাম। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে এসব এলাকায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মেশিনগান বা এলএমজি দিয়ে নিরাপত্তা চৌকি বানানো হয়েছে। নাগরিক হিসেবে কাউকে কাউকে এ নিয়ে উদ্বিগ্নও হতে দেখলাম। 

ওদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় একাধিক হামলার ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে মাঠ প্রশাসনেও উদ্বেগ বেড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারদের মধ্যে (এসি ল্যান্ড, ভূমি) নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আমি মনে করি এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার। পৃথিবীর আর কোন দেশের মানুষ নিজেদের সম্পদে এভাবে আগুন দেয়? আপনি আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-বাম-না ডান না পূর্ব-পশ্চিম কোন দল করেন দেখার বিষয় নয়, আমার শুধু প্রশ্ন সরকারি দপ্তরে কেন হামলা হবে? থানায় কেন হামলা হবে? 

এই দেশের ডিসি অফিস-ইউএনও অফিস-থানা কী কোন দলের নাকি রাষ্ট্রের? আপনি যেই দলেরই হন না কেন এই দেশটা তো আমাদের সবার। 

একইভাবে প্রাণহানিও কাম্য নয়। কারণ এই দেশের নাগরিকরাও আমাদের স্বজন। এই দেশের সরকারি সম্পদ পুড়ুক সেটা যেমন আমাদের কাম্য নয়, তেমনি কোন মানুষের প্রাণহানিও কাম্য নয়। কারণ এই দেশের সম্পদও আমাদের আবার যিনি মারা যাচ্ছেন তিনিও আমাদেরই কারও না কারও স্বজন। দুটোকেই রক্ষা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

সেই আলাপে যাওয়ার আগে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করি। আমি গত ১৯ বছর ধরে কম-বেশি সাংবাদিকতা করি। এই ১৯ বছরে আমি দেশের এমন কোন জেলা নেই যেখানে যাইনি। সাংবাদিক হিসেবে নানা ধরনের ঘটনা কাভার করার চেষ্টা করেছি। 

নিজের ব্যক্তিগত আদর্শ যাই থাকুক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা শতভাগ মানার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি ঘটনাস্থলে গিয়ে সব দেখার। এমনও হয়েছে মাসের পর মাস আমি ঢাকার বাইরে থেকেছি। অনেক সময় ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যেও গিয়েছি। 

এই ১৯ বছরে আমার কোন সরকারি দপ্তর পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে ফেলা দেখার অভিজ্ঞতা প্রথম ঘটে ২০১৩ সালের মার্চের প্রথম সপ্তায়। ঘটনাস্থল ছিল বগুড়ার নন্দীগ্রাম। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। 

এই রায়ের প্রতিবাদে গাইবান্ধার সুন্দরগেঞ্জে সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে চার পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হক, নজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হযরত আলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের জিহ্বা কেটে ও চোখ উপড়ে ফেলে হত্যা করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বামনডাঙ্গা রেল স্টেশন। 

আমাকে তখন ঢাকা থেকে এই ঘটনা কাভার করার জন্য পাঠানো হয়। আমি সুন্দরগঞ্জে গিয়ে যে বিভৎসা দেখি সেটি আজও মনে পড়ে। এ নিয়ে গাইবান্ধা ঘুরে ঘুরে রিপোর্ট করার চেষ্টা করি। এই ঘটনার তিনদিন পরেই সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়র প্রতিবাদে ৩ মার্চ হরতাল ডাকে জামায়াত-শিবির। আমি তখনো গাইবান্ধায়। 

৩ মার্চের হরতালের আগেরদিন রাতে বগুড়ায় প্রচার করা হয়, ‘সাঈদীর মুখ চাঁদে দেখা গেছে’। মসজিদে মাইকে ঘোষণা করা হয়, সাঈদীকে রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এরপর হাজার হাজার মানুষ বগুড়ার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। 

পুলিশের অস্ত্র লুট করে। বগুড়া শহরের ছয়টি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সে সময় বগুড়ার এসপি ছিলেন মোজাম্মেল হক। আমি নিজে তাঁর সাথেও কথা বলেছি। সেদিন নিজের বাসভবনে তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম আতঙ্কে ছিলেন। 

বগুড়া শহরের ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ির প্রত্যেকটায় সেদিন আগুন দেওয়া হয়েছিল। গাইবান্ধার মতো সেদিনও অনেক পুলিশ মরতে মারতো। এসব ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে ১০ জন মারা যান। সেদিন বগুড়া রেল স্টেশন, আজিজুল হক কলেজ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাসভবন সব জায়গায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ঘটে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায়। 

হরতালের দুদিন পর আমি নন্দীগ্রামে যাই। শুধু সাংবাদিক হিসেবে নয়, আমি বোধহয় এই রাষ্ট্রের গুটিকয়েকজন মানুষদের একজন ছিলাম যে ওই অবস্থার মধ্যও নন্দীগ্রামে গিয়েছিল। আমার আজও সেই দৃশ্যগুলো মনে আছে। পুরো ইউএনও অফিস পুড়ে ছাই। পাশাপাশি কৃষি অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, মৎস্য অফিসসহ সরকারের নানা দপ্তর পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বগুড়ার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সাধারণ সব লোকজন আমাকে বলেছিলেন, এমন বিভৎস ঘটনা তারা কখনো দেখেননি। 

গাইবান্ধায় বগুড়ায় গিয়ে সেই আমার প্রথম দেখা যে হরতাল চলাকালে ইউএনও অফিস পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে দেওয়া যায়। পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া যায়। গাইবান্ধা-বগুড়ায় সেই যে তাণ্ডব শুরু হলো সেই বিভৎসা আজও থামেনি। সর্বশেষ সেই তাণ্ডব দেখা গেল, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আবারও সেই মার্চ মাসেই।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনের সহিংসতায় মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সরকারি স্থাপনা। শহরটির ৫৮টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় হামলা হয়েছে। গানপাউডার ও পেট্টোল দিয়ে পৌরসভা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেল স্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস থেকে শুরু করে ৩১টি সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এই তিন দিনে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হাটহাজারীতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন। 

শুধু চট্টগ্রাম বা  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নয়, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দপ্তরে একই সময়ে হামলা হয়েছে। ফরিদপুরের সালথায় তো শুধুমাত্র গুজব ছড়িয়ে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, ত্রাণের গুদাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনসংলগ্ন গ্যারেজ, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও থানায় হামলা হলো। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় এসব হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে মাঠ প্রশাসনে উদ্বেগ বেড়েছে। 

আমার প্রশ্ন হলো, আপনি আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-বাম-না ডান না পূর্ব-পশ্চিম কোন দল করেন দেখার বিষয় নয়, আমার শুধু প্রশ্ন সরকারি দপ্তরে কেন হামলা হবে? 


১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউননের চিন্তা করছে সরকার: কাদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯ থানা, ১২ পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়িতে এলএমজি নিয়ে প্রস্তুত পুলিশ

মাওলানা মামুনুলের ফেসবুক পেজে নেই সেই লাইভ ভিডিও

খুব অকথ্য এসব ফিলিংস!


থানায় কেন হামলা হবে? এই দেশের ডিসি অফিস-ইউএনও অফিস-থানা কী কোন দলের নাকি রাষ্ট্রের? এই যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্টেশন পুড়লো, পৌরসভা পুড়লো, ভূমি অফিস পুড়লো দুর্ভোগ তো পোহাতে হচ্ছে জণগনের। তাহলে কেন এইসব হামলা? একইভাবে ডিসি-পুলিশ,  ইউএনও-এসিল্যান্ড-ডাক্তার, বা যে কোন সরকারি কর্মকর্তা যে কারও উপর তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য হামলার ঘোর বিরোধী আমি। একইভাবে কোন সাংবাদিকের উপরও হামলা করা যাবে না। 

এই দেশের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ, আপনারা হরতাল করুন, মিছিল সমাবেশ যা ইচ্ছে করেন কিন্তু দয়া করে রাষ্ট্রীয় কোন সম্পদ ধ্বংস করবেন না। কথাটা আওয়ামী লীগের জন্যও প্রযোজ্য। আজকে আপনারা ক্ষমতায় আছেন কিন্তু কোনদিন বিরোধী দলে যাবেন না তা তো না? প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ, সরকারি কোন দপ্তরে যেন হামলা না হয়, সরকারি কোন সম্পদ যেন না পুড়ে। এই অপসংস্কৃতি আমাদের বন্ধ করতেই হবে। আমাদের প্রত্যেকের এই বোধোদয় দরকার।  

একই সাথে রাষ্ট্রকে বলবো, এমন ব্যবস্থা নিন এমন আইন করুন যাতে রাষ্ট্রীয় কোন সম্পদ পোড়ালে বা আগুন দিলে ওই হামলাকারীর কঠোর শাস্তি হয়। ভিডিও ফুটেজ ছবি দেখে প্রতিটা হামলাকারীকে চিহৃিত করুন। কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবে পুড়তে পারে না। 

এবার আসি প্রাণহানির ঘটনায়। গোটা পৃথিবীর বিনিময়েও একজন মানুষের প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। কাজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত যেন মানুষ প্রাণে মারা না যায়। এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত যাতে প্রাণহানি এড়ানো যায়। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা তাদের সদস্যরা এখন প্রশ্ন করতে পারেন,  কেউ যদি পুলিশ-বিজিবি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়? কেউ যদি তাদের হত্যার চেষ্টা করে? আমি মনে করি এদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। 

আমি আপনাদেরও আবারও ফিরিয়ে নিয়ে যাই সেই বামনডাঙ্গায় যেখানে চারজন পুলিশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঘটনার পরদিনও কিন্তু নারায়নগঞ্জে বিজিবির নায়েক সুবেদার শাহ আলম, পুলিশের কনস্টেবল ফিরোজ, জাকারিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের কুপিয়ে, পিটিয়ে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দেওয়া হয়েছিল। আর এসব হামলায় পড়ে সাধারণ অনেক মানুষের প্রাণ গেছে।

এই যে প্রাণহানি এগুলো কী এড়ানো যায় না? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব বিষয়ে সতর্ক হতে বলবো। কিন্তু একই সাথে এই প্রশ্ন তোলাও জরুরী কেন পুলিশ-বিজিবির উপর হামলা চালাতে হবে? নিরাপত্তা চৌকি দেখে আজকে আপনারা যারা উদ্বিগ্ন তারা বলেন তো কেন সরকারি অফিস পোড়াতে হবে? কেন থানায় হামলা চালাতে হবে? এটা কেমন কর্মসূচি?

আমি আজকাল দেখি অনেকেই ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে ওমকু জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে তারপর ওমকু জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এসব খোঁড়া যুক্তি দেবেন না। কোন কারণে কোন অবস্থাতেই আপনি থানায় বা সরকারি কোন দপ্তরে হামলা করতে পারেন না। কোনভাবেই না। এমনকি কোন পরিবারের কেউ যদি মারা যায় তারাও অধিকার রাখেন না সরকারি দপ্তরে হামলা চালানোর। এটাই আইন। এই আইন সবাইকে মানতে হবে। আচ্ছা নিজের পরিবারে কিছু হলে আপনি কী নিজের বাড়িতে আগুন দেন? তাহলে সরকারি দপ্তরে কেন দেবেন?

আরেকটা বিষয় নিয়ে না বললেই নয়। গত কয়েক বছর ধরে দেখি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারি দলের লোকজনও অস্ত্র বা লাঠিসোটা হাতে থাকে। বিশেষ করে কোটা বা সড়ক আন্দোলনে আমরা দেখেছি তাদের তাণ্ডব। এগুলোকেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই সব নিয়ন্ত্রণ করতে দিন। দেশটা মগের মুলুক না যে রাজপথে নেমে মারামারি করবেন। এসব না করে শান্তিপূর্ণভাবে সবাইকে সব কর্মসূচি পালন করতে দেন ।

রাষ্ট্রের ১৭ কোটি মানুষের কাছে অনুরোধ, চলুন আমরা সবাই মিলে এই দেশটাকে বাঁচাই। দেখেন একসময় বাংলাদেশ বন্যা বা দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে খবর হতো। আর এখন কয়দিন পরপর রাজপথে মারামারি-তাণ্ডব-প্রাণহানি-আগুনে পোড়ানোর কারণে খবর হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এগুলো কোনভাবেই কাম্য নয়। 

রাষ্ট্রকে বলবো, এই রাষ্ট্রে কোন সরকারি দপ্তরে বা থানায় যদি কেউ হামলা চালায় কঠোর হাতে সেগুলো দমন করুন। প্রত্যেকটা ঘটনার বিচার করুন। বিচার না হলে এই অপসংস্কৃতি আরও বাড়বে। দেশটা ধ্বংস হবে। একইভাবে সবার কাছে আহবান, আপনারা যা ইচ্ছে কর্মসূচি পালন করেন কিন্তু দয়া করে সরকারি দপ্তরে হামলা, পুলিশ-সাংবাদিকদের উপর হামলা এগুলো বন্ধ করুন। 

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে একটা শান্তিপূর্ণ সুন্দর বাংলাদেশ গড়াটা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন সবাই মিলে আমরা দেশটা বাঁচাই। বাঁচাই দেশের মানুষকে। 

এই দেশের সম্পদ যেমন আমাদের, দেশের মানুষও আমাদের স্বজন। আবার যারা সরকারি দায়িত্ব পালন করে তারাও আমাদেরই স্বজন। কাজেই ভিন্নমত থাকুক, ভিন্ন রাজনীতি থাকুক কিন্তু দেশটা সবার। ভালো থাকুন সবাই। ভালো থাকুক বাংলাদেশ।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর