তারপরও জীবনের উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে যাক অপূর্ণতার গন্তব্যে

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

তারপরও জীবনের উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে যাক অপূর্ণতার গন্তব্যে

পৃথিবীতে অপূর্ণতা বলে খুব মহামূল্যবান একটা কথা আছে। মানুষের জীবনে এই অপূর্ণতা আছে বলেই মানুষ জীবনে পূর্ণতা পেতে চায়। ছোট ছোট স্বপ্ন থেকে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখার পথে পা বাড়ায়। যদি এই স্বপ্নযাত্রাকে জয়যাত্রায় রূপান্তরিত করে অধরাকে ধরা যায়, অসীম শুন্যতার বুকে জীবনের পদচিহ্ন এঁকে দেওয়া যায়। কারণ মানুষই তো পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।

কলমের কালিটা শুকিয়ে গেলেও মানুষ তার কল্পনার শক্তি দিয়ে অদৃশ্যমান কাগজে লিখে যেতে পারে মনের দুহাত ভরে। মানুষ সব পারে, তারপরও মানুষ অনেক কিছু পারেনা। একটা যতিচিহ্ন কেমন করে যেন জীবনের যাত্রাপথে দাঁড়িয়ে যায়। মানুষ যত ছোট কিংবা বড় হোক না কেন অপূর্ণতা মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেটা মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। জীবনে অপূর্ণতা থাকা ভালো। মানুষ যদি সব পেয়ে যায় তবে ইচ্ছেটাও মরে যায়, জীবনের সব স্বাদ ফুরিয়ে যায়।

প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, “সব মানুষের জীবনেই অপূর্ণতা থাকবে। অতি পরিপূর্ণ যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ও অতি দুঃখের সঙ্গে তার অপূর্ণতার কথা বলবে। অপূর্ণতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক ও মহা পুরুষদের।” একজন বড় চিত্রশিল্পীর কথা মনে পড়ে গেলো। পাবলো পিকাসো। তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্মগুলোর মধ্যে ছিল ল্য মুঁল্যা দ্য লা গালেৎ, দ্য ব্লু রুম, ওল্ড গিটারিস্ট, সেল্ফ-পোট্রেট, টু নুডস, মডেল অ্যান্ড ফিশবৌল, গের্নিকা, উইমেন অব আলজিয়ার্স, দ্য উইপিং ওম্যান, লেস ডেমোঁয়সেলেস ডি’এভিগনন, থ্রি মিউজিশিয়ানস ইত্যাদি।

তাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনার আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে আপনার সবচেয়ে প্রিয় ছবি কোনটি ? প্রশ্নটা  খুব সহজ মনে হলেও এর উত্তরটা কতটা কঠিন, যে সৃষ্টি করে সে হয়তো তা জানে। কারণ সব  প্রশ্নের উত্তর থাকেনা। একটা অদেখা উত্তরকে ভবিষ্যতের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। যেমনটা এই প্রশ্নের উত্তরে পিকাসো বলেছিলেন, "প্রতিটি ছবি আঁকার সময়ই মনে হয়েছিল এরপরে যে ছবিটি আঁকবো সেটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবি।" অপূর্ণতার শক্তিটা এমনই যা মানুষকে দিয়ে একটার পর একটা সৃষ্টি করিয়ে নেয় কিন্তু তার প্রিয় ছবি আঁকার অতৃপ্তিটা আমৃত্যু থেকে যায়। তারপরও পরের প্রিয় ছবিটা আর কখনো আঁকা হয়না। সৃষ্টির অপুর্ণতাটা এভাবেই থেকে যায় সভ্যতা থেকে সভ্যতায়। সাধারণ মানুষ ভাবে লোকটা তো তার সর্বশ্রেষ্ঠ ছবিগুলোই একেঁছিলো কিন্তু সে তা বুঝতে পারেনি। হয়তো লোকটা বোকা ছিল। যারা সৃষ্টি করে তাদের বোকা হতে হয়, বিনীত  হতে হয়, ছোট হতে হয়। ইচ্ছে করে নয়, প্রকৃতিগতভাবে। কারণ বোকারাই পৃথিবীর পরিবর্তন আনে, সেটা ভোগে নয় ত্যাগের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার "পিতৃস্মৃতি" গ্রন্থে তার সাথে জগদীশ চন্দ্র বসুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলে ধরে "আচার্য জগদীশ চন্দ্র আমার বাল্যস্মৃতি" শিরোনামে প্রবন্ধে বলেছেন, আমি মনে মনে কল্পনা করতুম বড় হলে আমি জগদীশ চন্দ্রের মতো বিজ্ঞানী হবো। তিনি তো বিজ্ঞানী হননি। হয়তো এটা একটা অপূর্ণতা। 

তবে তিনি যদি বিজ্ঞানী হতেন তবে কি আমরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পেতাম ? পেতাম না। পূর্ণতা আর অপূর্ণতার রহস্যটা এমনই। অপূর্ণতা মানুষের চিন্তার শক্তিকে পরিবর্তন করতে পারে যা পূর্ণতা পারে না। আব্রাহাম মাসলোর মোটিভেশন থিওরিতে "নিড ফর সেলফ একচুয়ালাইজেশন" নামে মানুষের একটা চাহিদার কথা উল্লেখ করেছেন। পিকাসোর কথাটার সাথে এর সাদৃশ্য চোখে পড়ার মতো। যেমন- পৃথিবীর বিখ্যাত কবিকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কি আপনার শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লিখতে পেরেছেন। তবে সে বলবে না অনেক কবিতা লিখলেও আমার বিখ্যাত কবিতাটা এখনও লেখা হয়নি।

একজন বিশ্বসেরা অভিনেতাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে আপনি কি আপনার শ্রেষ্ঠ চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন। এখানেও উত্তর আসবে নাহ, অনেক অভিনয়তো করলাম শ্রেষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় তো এখনো করা হলো না। মানুষ যতই বড় হোক, যত বড় তার অর্জন হোক, সবখানেই একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। এই অপুর্ণতাটা মানুষকে টানতে টানতে মৃত্যু পর্যন্ত এগিয়ে নেয়। বাংলাদেশের মঞ্চ ও টেলিভিশন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি ফেরদৌসী মজুমদারকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, এমন কোনো চরিত্র আছে, যেটা করার লোভ ছিল, কিন্তু করতে পারেননি? তিনি যেন অপূর্ণতাকে ধারণ করে মন থেকে বলেছিলেন, "হ্যাঁ, ইচ্ছা ছিল সাদামাটা মুখে একটা খুনির চরিত্র করব। সে একজন নারী, যাকে বাইরে থেকে বোঝা যাবে না, কিন্তু ভেতরে সে আসলে ঠান্ডা মাথার খুনি"। কি বিস্ময়কর ভাবনা। ভাবনাটাই যেন দর্শন । যে দর্শন অপূর্ণতার উপর ভর করে  মানুষের ভিতর ও বাহিরটার সত্তাটা তাকে চিনতে শিখিয়েছে। যে মানুষটাকে আমরা যা ভাবছি সে তো তা নয় । তার বাহিরের মুখটা ভিতরের মুখোশটাকে কোনোভাবেই কেন যেন বাইরে বের করে আনতে পারছেনা। হয়তো অদ্ভুত এক আধার নেমে এসেছে পৃথিবীতে।

আরও পড়ুন


বড়দের দায়িত্বহীনতার জন্য সন্তানদের মূল্য দিতে হয়

মুন্সিগঞ্জে পৌর মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণে আহত ১২, দাবি পরিকল্পিত বিস্ফোরণ

ইথিওপিয়া সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত কমপক্ষে ১০০

দু’দিন বন্ধের পর আবারও শুরু হল গণপরিবহন চলাচল


যেমন জীবনানন্দ অদ্ভুত আঁধার এক কবিতায় বলেছেন, অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই - প্রীতি নেই - করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়। এই আঁধার পূর্ণতা অপূর্ণতা বুঝেনা। মানুষকে অন্ধ বানিয়ে দেয়। যে অন্ধত্ব চোখে থাকেনা, মানুষের চিন্তায় থাকে। সে চিন্তার অন্ধত্ব মানুষকে ক্রীতদাস বানায়। মানুষের নিজের চিন্তাশক্তিকে কেড়ে নিয়ে অন্ধকার  চিন্তাশক্তি দ্বারা মানুষকে পরাধীন করে। সেখানে যুক্তি তর্ক বলে কিছু থাকেনা। বিজ্ঞানের প্রমাণও অন্ধত্বের কাছে অসহায় হয়। তবে সব আঁধার কেটে আলোর মুঠো মুঠো স্বপ্ন তো গভীর ভালোবাসায় হাত বাড়িয়ে আছে। সেখানে অপূর্ণতার মায়াবী আলো শীতে কাতর  পূর্ণতার  দেহে খান্দানি চাদর পরিয়ে দিবে হয়তোবা কোনো একদিন।

সারাজীবন লেখাপড়া  ও গবেষণায় বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন এতটাই মগ্ন ছিলেন যে মিস স্টোরির সাথে বাগদানের পরও তার আর বিয়ে করা হয়ে উঠেনি। তার সংসার করতে না পারার অপূর্ণতা মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের পূর্ণতা এনে দিয়েছে। সেই পূর্ণতাও আবার সময়ের সাথে সাথে অপূর্ণতায় পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবর্তন রূপান্তরের হাত ধরে প্রকৃতির সাথে মানুষকে মিতালি করতে বলেছে। সেটা যা হওয়ার কথা ছিল তা হয়তো তা হয়নি। যা হবার কথা ছিলোনা সেটাই হয়তো হয়েছে। তবে নিউটন বিশ্বাস করতেন একমাত্র বিজ্ঞানের মাধ্যমেই প্রকৃতির এই গোপন রহস্যকে উদ্ঘাটন করা সম্ভব। মানুষ হাত ছেড়েছে প্রকৃতির, বিজ্ঞান হাত ধরেছে প্রকৃতির। আর নিউটন এতো বড় মহাবিজ্ঞানী হয়েও নিজেকে  কখনো পণ্ডিত বা জ্ঞানী ভাবেননি।

মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে তিনি লিখেছিলেন, পৃথিবীর এই বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারকে জানার ক্ষেত্রে আমি সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর মতো, যে শুধু সারাজীবন নুড়িই কুড়িয়ে গেল। সমুদ্রের জলরাশির মতো বিশাল এই জ্ঞান আমার অজানাই থেকে গেল। এই ছোটত্বের দাবি নিউটনকে বড় করেছে। অথচ মানুষ ঠিক তার উল্টো ভাবছে। বড়ত্বের দাবি নিয়ে মানুষ প্রতিদিন ছোট হচ্ছে। সব বুঝি খেলা। সবাই যেন খেলোয়াড়। তবে ফুটবলটা কারো পায়ে নেই। এ যেন অপূর্ণতার চার রাস্তার মাঝে এসে কোন পথে যাবো এমন একটা অবস্থা। তারপরও বিন্দু বিন্দু আশা। বেকার ছেলেটার চাকরির আশা, মধ্যবিত্তের দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশা, তরুণ ছেলেটার আকাশ ছোয়ার আশা. সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটার বাসযোগ্য পৃথিবীর আশা এমন অনেক আশা। ঠিক উল্টো পথে দেখছি নিরাশা। প্রতিদিন মানুষের চেয়ে মানুষের আত্মার মৃত্যু বেশি দেখছি। মানুষের লোভে জনপদের পর জনপদের মৃত্যু দেখছি। মানুষের রঙ্গলীলায় মানবিক মূল্যবোধের মৃত্যু দেখছি। টাকার কাছে সত্যের মৃত্যু দেখছি। অন্ধ বিশ্বাসের কাছে উন্নত চিন্তার মৃত্যু দেখছি। তারপরও জীবনের উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে যাক অপূর্ণতার গন্তব্যে। একটা গান সেই গন্তব্যকে দোলা দিয়ে যাক আকুল প্রাণের ব্যাকুলতায়। যেমনটি গানে আছে সেটাই রয়ে যাক অরণ্যের টানে এভাবেই-

"পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব মাগো, বলো কবে শীতল হবো কত দূর আর কত দূর …বল মা?"

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগ, ডুয়েট

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিজের জন্মস্থানে সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না তারেক শামসুর রেহমান

মারুফ কামাল খান

নিজের জন্মস্থানে সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না তারেক শামসুর রেহমান

ড. তারেক শামসুর রহমানের এমন মৃত্যুর সংবাদে আমি স্তম্ভিত। একা বাসায় থাকতেন। নিঃসঙ্গ অবস্থায় সেখানে মারা গেছেন তিনি। সেই ফ্ল্যাটের দরোজা ভেঙ্গে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন একা থাকতেন তিনি? স্ত্রী-কন্যাকে দূরদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পিরোজপুরে পৈত্রিক বাড়িতেও ইচ্ছে সত্বেও যেতে পারতেন না। এসব আমি জানতাম না। জানলাম একটু আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনের স্ট্যাটাস পড়ে।

সরোয়ারও পিরোজপুরের সন্তান। তিনি লিখেছেন: তারেক ভাই আমাদের স্কুলের এ্যালামনাই। একই শহরের বাসিন্দা। এ্যালামনাই অনুষ্ঠানেই বেশির ভাগ সময় দেখা হত। তার ছোট বোন আমেরিকা প্রবাসী দিপু আমার সহপাঠী। বছর ৫/৬ আগে পিরোজপুরে গিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী গডফাদারের ইংগিতে, সাথে থাকা সুন্দরী মেয়ে সদস্যদের সাথে বেয়াদবি করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। নিজের জন্মস্হান ত্যাগ করলেন সাথে সাথেই। আইনের আশ্রয় নিলেন না। কেননা আইন তো সন্ত্রাসীদের কথায় চলে। এই সন্ত্রাসীরাই তার পিতার সম্পত্তির একাংশ বেআইনী ভাবে দখল করে রেখেছেন। বলেছিলাম একটু ধৈর্য ধরুন। পিরোজপুরে থাকতে চেয়েছিলেন। সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না।

আমরা কোন সমাজে বাস করছি ওপরের বিবরণগুলো তার একটা ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, একজন জনপ্রিয় কলাম লেখক, একজন কৃতি গবেষকের পারিবারিক নিরাপত্তা আজ এ পর্যায়ে!

তারেক শামসুর রহমানের এই নিঃসঙ্গ মৃত্যু কারো পরিকল্পিত কিনা সে রহস্য হয়তো আমরা কখনো জানব না। যদি এর পেছনে কোনো ব্যক্তির সরাসরি হাত নাও থাকে তবুও এমন করুণ মৃত্যুর পরিবেশ ও আয়োজন যে বর্তমান রাজনীতি ও সমাজ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

খুব নিবিড় নৈকট্য ছিল আমাদের মধ্যে একটা সময়ে। বিশেষ করে ১৯৯০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। প্রেসক্লাবে, পত্রিকা অফিসে, বিভিন্ন বাসায় ও চেম্বারে এবং রেস্তরাঁয় বসে চায়ের কাপে কত ঝড় তুলেছি আমরা। রাতে-দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা চলেছে আড্ডা। আমি, ড. তারেক, আহমেদ মুসা, কাজী সিরাজ, মাহমুদ শফিক এবং কখনো আবু সাঈদ জুবেরী কিংবা আরো কেউ কেউ আমাদের আড্ডাসঙ্গী হতেন। রাজনীতি, সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও সামাজিক নানা প্রসঙ্গ হতো আড্ডার বিষয়বস্তু। কত উত্তপ্ত বিতর্ক, কত তত্ত্বকথা, কত ঐকমত্য ও ভিন্নমতের মধ্য দিয়ে আমরা অনুভব করতাম পারস্পরিক নৈকট্য ও হৃদয়ের উষ্ণতা।

নানান বাস্তবতার কারণে আমাদের সেই বন্ধন ২০০৬ এর পর থেকে কিছুটা শিথিল হয়ে এসেছিল। এক-এগারোর সেই বিভীষিকার দিনগুলোতে পরিস্থিতির মূল্যায়নে আমাদের অবস্থানও কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে সিরাজ ভাই তো মরেই গেলেন, আহমেদ মুসা মার্কিন মুলুকে প্রবাস গড়লেন, আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। সম্পর্ক ঝুলে থাকলো ডিজিটাল যোগাযোগের সূতোয়। সেই ক্ষীণ সুতোটাও ছিঁড়ে চলে গেলেন তারেক শামসুর রহমান। মানুষ হিসেবে খুব উঁচুদরের ছিলেন। তার পাণ্ডিত্য ও বিশ্লেষণী সামর্থ্যের প্রতিও আমার আস্থা ছিল যথেষ্ট। আমি তার পারলৌকিক কল্যাণের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি।

লেখক, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তাদের আলাপের মূল জায়গাটি বিদেশে তারা কত ভালো আছেন

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

তাদের আলাপের মূল জায়গাটি বিদেশে তারা কত ভালো আছেন

যারা উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী এবং বিদেশে থাকেন তাদের একটা বড় অংশ দেশ সম্পর্কে সাংঘাতিক নেতিবাচক চিন্তা পোষণ করেন। যেমন এদেশের ভবিষ্যৎ নেই। এদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা যা তা, চিকিৎসা ব্যবস্থা জঘন্য, ভাল হবার কোন সম্ভাবনা নাই এবং আল্টিমেটলি আগামি একশ বছর পর এদেশ শেষ হয়ে যাবে। প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে অবশ্য এরকম চিন্তা খুব একটা দেখিনি।

সম্ভবত এক ধরণের অপ্রাপ্তি, হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে তারা এ কাজটি করেন। লক্ষ্য করলে দেখবেন তাদের পারিবারিক আলাপের মূল জায়গাটিই হয় যে বিদেশে তারা কত ভাল আছেন সেই গল্প। তারা আপনাকে এটা বিশ্বাস করাতে মরিয়া যে বিদেশ না গেলে আপনার সব শেষ হয়ে যাবে।

আসলে হয় কি, তারা যেকোন কারণেই হোক দেশ ছেড়েছেন কিন্তু এই দেশ ছাড়াটা তাদের স্বস্তি দেয়না। কোথাও একটা বেদনা তারা অনুভব করেন। আত্মগ্লানি হয়ত অনুভব করেন। দেশ ছাড়ার পেছনে কারো থাকে অভিমানের গল্প, কারো থাকে 'যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে না পাওয়ার কষ্ট'। কারো থাকে স্রেফ পশ একটা লাইফ লিড করার ইচ্ছা। সেন্স অব সিকিউরিটিও হয়ত একটা ইস্যু।

উচ্চাভিলাসী মানুষ ক্রমাগত মুভ অন করতে পছন্দ করে৷ কুড়িগ্রামের অজ পাড়াগাঁয়ের মেধাবি ছেলেটা প্রথমে ঢাকায় আসে। তারপর ইউরোপ বা আমেরিকা যায়। আমেরিকার ডিগ্রী নিয়ে এই আত্মপ্রসাদে ভোগে যে আমি 'কোথা থেকে কোথায় এলাম'। এটা তার কাছে সাফল্যের মইয়ে ওঠার মত মনে হয়। সে আবার কুড়িগ্রামে ফিরে যাওয়াটাকে সাপলুডুর সাপে খাওয়া গুটির মত মনে করে৷ আবার অনেকে একারণেও দেশে আসেননা যে, দেশে এলে তারা কি করবেন এই ভেবে৷ তারা যে আসতে চাননা অনেক ক্ষেত্রে তাও না। কিন্তু একটা সময়ের পর দেশে এসে আসলেই কিছু করা যায়না।

একইসাথে এমন মানুষও এই পৃথিবীতে আছে যারা আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে এসে এদেশের সংষ্কৃতিতে জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। জীবনবোধের ব্যাপারটা যে আপেক্ষিক এই সত্যটা ঐসব সফল মানুষেরা বুঝতে চাননা।

একটা মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশে থাকে। নিজের দেশের কোন ভবিষ্যত নেই বলে ভাবে। কিন্তু তার সমস্ত চেতনাজুড়ে থাকে তার দেশ। সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা বললেও সেটা সে বলে তার দেশ নিয়েই। বিশ্ব নাগরিক বলে নিজেকে চালিয়ে দিলেও বিশ্ব নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা দেখা যায়না। সে বলে সে দেশপ্রেমিকের প্রচলিত সংজ্ঞায় বিশ্বাস করেনা, দেশপ্রেম নামের সস্তা আবেগে সে বিশ্বাস করেনা কিন্তু দেশটাকে একবার দেখার জন্য, দেশের চেনা গলিতে ফুচকা খাবার জন্য তার মন আনচান করে।

পৃথিবী যদ্দিন থেকে আছে, মানুষ যদ্দিন থেকে আছে তদ্দিন থেকেই মাইগ্রেশন আছে। মানুষ মাইগ্রেট করবে। এটাই নিয়ম। বিদেশে গিয়ে দেশের মানুষ যখন অনেক ভাল করে তাতে দেশেরই নাম হয়। আমরাও গর্বিত হই।


আরও পড়ুনঃ


২৮ হাজার লিটার দুধ নিয়ে নদীতে ট্যাঙ্কার!

গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

ভারতে যেতে আর বাধা নেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের

করোনায় কাজ না থাকলেও কর্মীদের পুরো বেতন দিচ্ছেন নেইমার


তবে মাইগ্রেশন যেমন সত্য মাইগ্রেট করা মানুষের মানসিক দ্বন্দ্বও হয়ত তেমনই সত্য। যাদের ভেতর এই দ্বন্দ্ব প্রকট হয় তাদের থেকে আমি দূরে থাকি।

হঠাৎ এই লেখাটা কেন লিখলাম? NRB এক এক্স ক্যাডেট এবং সাবেক বিতার্কিকের কিছু লেখা ও ভিডিও দেখে আমার মনে হলো এর থেকে দূরে থাকতে হবে। ভয়ানক এই নেতিবাচক মানুষটি আমাকে হতাশ বানিয়ে দিতে পারে।

বিঃদ্রঃ উপরের কথাগুলো সকল NRB এর জন্য প্রযোজ্য নয়। সবেচেয়ে খুশি হব কারো অনুভুতিতে যদি আঘাত না লাগে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

আনোয়ার সাদী

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার আমি একটা পোস্ট লিখেছিলাম লকডাউন মানার তাগিদ দিয়ে । ফেইসবুকে তার নিচে কিছু কমেন্ট পেয়েছি। কমেন্টদাতারা মানুষের ক্ষুধার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ভালো, মানুষ মানুষের জন্য দরদ দেখাবে এটা স্বাভাবিক। কমেন্টগুলো আমি ইতিবাচকভাবে নিতে চাই। 

লকডাউন দেওয়া হয় মানুষের জীবন বাঁচাতে। এটাও মানুষের জন্য একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। আবার না খেয়ে কেউ মারা যাবে তা মানতে না পারাও মানুষের প্রতি একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। এখন মুশকিল হলো ভালোবাসার দুই ধরনকে পরষ্পরের বিপরীতে ব্যবহার করার প্রবণতা কাউকে কাউকে পেয়ে বসেছে। একদল বলছে লডডাউন কড়াকাড়ি বাস্তবায়িত না হলে মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারাবে। অপর দল বলছে লকডাউনের নামে সব বন্ধ রেখে মানুষকে ক্ষুধার কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। কাজেই এই বিষয়ে বলার মতো আরো কিছু কথা আমার আছে। আমি সেগুলো আপনাদের কাছে বলতে চাই। 

প্রথম কথা হলো, মানুষ না খেয়ে থাকবে এমন কোনো পরিস্থিতির পক্ষে আমি নই। এই লকডাউনে দেশের সব মানুষ না খেয়ে থাকবে এটা ঠিক নয়। কতোজনের অর্থ বা খাবার সহায়তা লাগবে তার একটা হিসাব সরকারের কাছে থাকা উচিত। সরকারের নানা সামজিক কার্যক্রম আছে, তার আওতায় তাদের খাবার সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। আচ্ছা, এবার সমালোচকরা বলবে, ত্রাণ হাপিস হয়ে যায়। গত লকডাউনে ত্রাণ মেরে দেওয়ার অভিযোগে বেশ কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা না থাকলে, এনজিওর মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের লকডাউনের দিনগুলোতে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যায়। 

আমাদের দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি আছে। গ্রামে গ্রামে তাদের নেতা আছে, কর্মী আছে । তারা চাইলে এই জনবল কাজে লাগিয়ে, ত্রানও দিতে পারে, মাস্ক ব্যবহার করতে আগ্রহী করতে পারে , আরো অনেক কিছু পারে। চাইলে খাবারও দিতে পারে।  এবার একটু ইসলামি প্রসঙ্গ টানি। এখন রমজান মাস চলছে। আল হাদীস অনুযায়ী আশপাশের চল্লিশ বাড়ি আমার বা আপনার প্রতিবেশি। প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখার বিষয়ে ধর্মে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার বা জনপ্রতিনিধি বা এনজিও  কেউ যদি সহায়তা না করে তাহলে আপনি আপনার আশপাশের চল্লিশ বাড়ির খবর নিতে পারেন। এভাবে পুরো দেশেই্ সবাই সবার নজরে চলে আসতে পারে। সবাই মিলে এই মহামারী তখন সহজেই কাটিয়ে উঠা যাবে। তাই না?  কারোর তো আর না খেয়ে থাকার কথা নয়। 

এবার আসি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। কেন আপনাকে আমাকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হচ্ছে । ভাইরাসটি বহন করে মানুষ। আক্রান্ত মানুষ কথা বলার সময় বা হাঁচি -কাঁশি দেওয়ার সময় মুখ থেকে যে পানি বের হয়, পানির যে অতি ছোট কণা বের হয় তাতে সেই ভাইরাস থাকে। ফলে, মাস্ক ছাড়া হাঁচি-কাশি দিয়ে একজন আক্রান্ত ব্যাক্তি কোটি কোটি ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং তার আশপাশে যারা থাকে তাদেরকে আক্রান্ত করে। এটাকে ড্রপলেট ছড়ানো বলে। আবার নাকদিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়ার সময় অতি সূক্ষ্ম পানির কণা বের হয়। এটাকে বলে এরোসল। এতে অনেক ভাইরাস থাকতে পারে। ফলে, মাস্ক ব্যবহার করে ও  তিনি ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায়কে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা। তাহলে প্রশ্ন হলো এটা করে ভাইরাস ঠেকানো গেলে লকডাউন কেন দরকার হলো। দরকার হলো কারণ অনেকেই মাস্ক পরেন না। পরলেও সঠিক নিয়মে পরেন না। আবার বেশ কিছু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষকে আমি দেখেছি মাস্ক পরে ঘুরছে, হাঁচি দেওয়ার সময় মাস্ক খুলে হাঁচি দিচ্ছে। তাহলে  স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে না জানা, জানলেও অবহেলা করা, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়।  

যাহোক, যেখানে নাগরিকরা নিজেরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন সেখানে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। অনেক উন্নত দেশে এই ভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য এমনকী কার্ফিও জারি করা হয়েছে। 

এখন প্রিয় নাগরিক ভাই ও বোনেরা, ভেবে দেখুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচাবেন নাকি নিজেও আক্রান্ত হয়ে অন্যের মৃত্যুর কারণ হবেন? ভেবে দেখুন লকডাউন কড়াকড়ি বাস্তবায়িত করবেন নাকি রোগের বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন? ভেবে দেখুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু কমেন্ট করেবেন নাকি প্রতিবেশির জন্য আপদকালীন খাবারের ব্যবস্থা করবেন। আর সরকার কী করছে তা দেখার জন্য প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ছি। 
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

শরিফুল হাসান

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘন্টায় আরও ১০১ জন মানুষ মারা গেলেন। একদিনে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১০১ জন মানুষের মৃত্যু মানে ১০১ টা পরিবার শোকের সাগরে। শুধু তো এই ১০১ জন নয়, গত ১৫ দিনে হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বহু পরিবারে মানুষটাই হয়তো ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম। এই যে সর্বগ্রাসী করোনায় এর শেষ কোথায়? আর করোনার বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে লড়ছি তাতে আমাদের ভবিষ্যত কী?  

আমার নিজের মনে হয়, প্রথম দফায় করোনা নিয়ে আমাদের কোন প্রস্তুতি না থাকলেও আল্লাহর রহমতে অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছিল। আমরা তখন ধরে নিয়েছিলাম, আমাদের আর কিছুই হবে না। নাগরিকরা যেমন আমরা অসচেতন ছিলাম সরকারেরও যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। দ্বিতীয় দফার বিপদের মাত্রা আঁচ করতে পারিনি বলেই আমাদের সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেব্রুয়ারির পর মার্চমাসজুড়ে যখন করোনা বাড়ছিল আমরা যা ইচ্ছে করেছি। 

আমাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয়হীনতার অনেক উদাহরণ আছে। আমরা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট আইসিইউ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। প্রতিটা জেলায় আইসিইউ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও হয়নি। আজ চারিদেকে আইসিইউর জন্য হাহাকার। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে রোগী ছুটছে। একেকটা পরিবারের উপর দিয়ে যেন ঝড় যাচ্ছে। আচ্ছা আমরা কেন পারছি না যথাযথ ব্যবস্থা নিতে?
আমাদের কী টাকার অভাব আছে? মোটেও না। এই দেশে এখন হাজার কোটি টাকার নিচে প্রকল্পই হয় না। লাখ কোটি টাকার বাজেট। অথচ স্বাস্থ্যখাতের কী ভয়াবহ দশা! বিশ্বব্যাংকের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আছে অথচ আমরা যন্ত্রপাতি কিনতে পারছি না। আবার যাও বা কিনছি  শত শত ভেন্টিলেটর,  অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ নানা যন্ত্রপাতি পড়ে ছিল বিমানবন্দরে। অন্যদিতে স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের নামে অনিয়ম আর কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের কথা  আসছে। 

একবার ভাবেন! আমাদের এই দেশে এই সমাজে বহু বিত্তশালী আছে যাদের কোটি কোটি টাকা। একদল আছে যারা শুধু সম্পদ করছেনই। অথচ দেখেন আজ হাহাকার করেও আমরা একটা আইসিইউ পাচ্ছি না। কী হবে এতো ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি সম্পদ দিয়ে। আমাদের মৌলিক স্বাস্থ্যখাতের তো বেহাল দশা। কাজেই বহু উন্নয়ন বা সম্পদ গড়ার আগে আমাদের উচিত স্বাস্থ্যখাতের দিকে নজর দেয়া। কাজটা শুধু সরকারের একার না, সবাই মিলেই করতে হবে। 

আসলে করোনার এক বছর হয়ে গেলেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখা যায়নি। বরং অনেকেই এটিকে দুর্নীতি আর লুটপাটের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। নানা কর্তৃপক্ষই যে শুধু দায়িত্বহীন ছিল তাই নয়, আমাদের নাগিরকরাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন চেষ্টাই আমাদের ছিল না। এতো মৃত্যুর পরও যথেষ্ট সচেতনতা বা সতকর্তা নেই। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমি জানি না ভবিষ্যত কী? লকডাউন দিয়ে করোনা সমস্যার সমাধান হবে না। কীসে যে সমাধান হবে সেটাও আমরা জানি না। কিন্তু এটা অত্যন্ত প্রমানিত যে মানুষজন মাস্ক পরলে, দূরত্ব বজায় রাখলে, হাত ধুলে অন্তত ঝুঁকি কমে। কিন্তু সেগুলোও আমরা মানছি না। কাল পুরান ঢাকার ইফতারের একটা ছবি দেখছিলাম। কে বলবে করোনা আছে। আবার ধানমন্ডিতে শিক্ষিত মানুষের জিলাপি কেনার ভীড়ও আছে। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমার আসলে জানা নেই। গত এক বছরে কতো হাজারবার মাস্ক পরার কথা লিখেছি, স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা লিখেছি গুনে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু নূন্যতম সচেতনতা দেখিনি। একইভাবে দায়িত্বশীল যারা, যাদের এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবার কথা ছিল তারাও যথাযথভাবে দায়িত্ববান ছিলেন না। আমার আজকাল ভয় হয়, না জানি আরও কী ভয়ঙ্কর দিন আসছে! 

এই রোযার মাসে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের রহম করুন। ভয়াবহ রুগ্ন স্বাস্থ্যখাতের এই দেশে বড় কোন বিপদ এলে আমরা যে শেষ হয়ে যাবো। কাজেই আল্লাহ আমাদের রহম করুক। সরকারের কাছে অনুরোধ, সংকট মোকাবেলায় এমন কিছু করুন যাতে আমরা করোনার আগে ছুটতে পারি। আর জনগনের কাছে অনুরোধ, প্লিজ চলুন আমরা সতর্ক হই। সচেতন হই। মাস্ক পরি। দূরত্ব বজায় রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহম করুন।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

শওগাত আলী সাগর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

পৃথিবীর কোনো দেশেই হাজার হাজার আইসিইউ থাকে না। সেটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন যেখানেই হোক না। সবদেশেই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার একটা সীমা থাকে। অসংখ্য মানুষের এক সাথে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে, আইসিইউর প্রয়োজন হলে, অক্সিজেনের দরকার হলে - পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও তার ব্যবস্থা করতে পারে না।

আমেরিকার মতো মহাপরাক্রমশালী দেশেও কোভিডে যে হাজার হাজার মানুষ মরে গেছে- তার কারণও কিন্তু  ছিলো একটাই। একসাথে এতো মানুষ অসুস্থ হয়েছে, তাদের হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হয়নি, আইসিইউ দেয়া সম্ভব হয়নি। তার মানে কিন্তু এই না, আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ, সরকার সেখানে অবহেলা করেছে। পুরো দেশ অসুস্থ না হলে কারোই এতো বেশি সংখ্যক আইসিউর দরকার হয় না। আমেরিকারও দরকার ছিলো না।

কানাডার অন্টারিওতেও এখন একই অবস্থা, হাসপাতালে সিট নাই, আইসিইউতে জায়গা নেই। রোগীদের নানাস্থানে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যেই কোভিড মহামারীর শুরু থেকে দেশে দেশে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। লকডাউনের প্রয়োজনীয়তাও এসেছে এই ধারনা থেকেই।

বিজ্ঞান বলছে, মানুষ যতো নানা জায়গায় ঘোরাফিরা করবে, ভাইরাসের সংক্রমণ ততো বিস্তৃত হবে। সেই কারণেই মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়। যাতে কম মানুষ সংক্রমিত হয়, কম মানুষ হাসপাতালে যায়, কম মানুষের জন্য আইসিইউর প্রয়োজন হয়। মানুষ ঘরে থাকলেই আইসিউইর উপর, হাসপাতারের উপর চাপ কমে যায়। কারণ তখন কম মানুষ অসুস্থ হয়।

আরও পড়ুন


মামলা-গ্রেপ্তারে কোনঠাসা হেফাজত, সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

পাঞ্জাবির বোতাম লাগানো নিয়ে গোলাগুলি-হামলা, আহত ৪

জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে এলো মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেডিকেশন নিয়ে সংসার করেছি, কাজের জায়গাতেও একই রকম


হাসপাতালে সিট নেই কেন, আইসিইউ নাই কেন- এই প্রশ্ন আমরা যতোবার তুলি তার চেয়ে সহস্রবার বেশি মানুষ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেই কথা বলা উচিৎ। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হাসপাতালের যে আসন সংখ্যা আছে, যে আইসিইউ আছে তা দিয়েই সবকিছু সামলানো যায়।

কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে, তার অক্সিজেনের দরকার হলে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে সেই খরচ তো সরকার দেয় না। যিনি সংক্রমণের শিকার হোন, তিনিই সেই খরচ বহন করেন। সেই খরচটা বাঁচানোর জন্য হলেও মানুষের কিছু দিন ঘরে থাকা দরকার।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর