ক্রিকেটার সাকিবও বেশ এবিউজ করলেন আমাকে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

ক্রিকেটার সাকিবও বেশ এবিউজ করলেন আমাকে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

টুইটারে হাজার হাজার এবিউজ বিরোধী সেনা আমাকে এবিউজ করছে, আমার দোষ কেন আমি মইন আলীকে 'এবিউজ' করেছি। এর মানে মইন আলীকে এবিউজ করা ঠিক নয়, আমাকে এবিউজ করা ঠিক। 

অপমান অসম্মান অত্যাচার জীবনে কম দেখিনি। যত দিন বাঁচি ততদিন দেখতে হবে জানি। ঝাঁকে ঝাঁকে মুসলিম মৌলবাদি, ফেক বাম, আমাকে না-পড়া লোক, আমার কিছুই না জানা লোক, পঙ্গপালের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, লক্ষ শকুন যেন জীবন্ত আমাকে  খুবলে খাচ্ছে। 

পকেটমার সন্দেহে গরিব নিরীহ ছেলেকে উন্মত্ত জনতা যেমন পিটিয়ে মেরে ফেলে, সেরকম মনে হচ্ছিল আমার, যেন আমি সেই গরিব নিরীহ ছেলেটি। দোষটা কী ছিল আমার?  

একটি জোক। আযান পড়লে যে মানুষ মাঠেই নিজের জায়নামাজ পেতে নামাজ পড়েন, খেলা চলতে থাকলে নাকি আম্পায়ারকে বলে চলেও যান নামাজ পড়তে, বিজয়ের শ্যাম্পেন খুললে দ্রুত সরে যান দূরে, বিয়ার কোম্পানীর লোগো থাকলে সেই জার্সি পরবেন না বলে জানিয়ে দেন, পয়গম্বরের আদেশ মাফিক গোঁফ ট্রিম করতে থাকেন, দাড়ি বড় করতে থাকেন -- তাঁকে নিয়ে যদি কৌতুক করিই, তাহলে কি টুইটারের একাউন্ট উড়ে যাবে? 

হ্যাঁ এমনই থ্রেট এসেছে। আমাকে যারা গতকাল থেকে এবিউজ করছে, তারা তো অনেকেই শার্লি আব্দোকে সমর্থন করে। শার্লি আব্দো তো মস্করা করে বিখ্যাত লোকদের, তাহলে সেটা সমর্থন করে কিভাবে? নাকি ওরা ফরাসি বলে ওদের সমর্থন করা চলে! 

বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিবও বেশ এবিউজ করলেন আমাকে। লিখেছেন, 'ডিজগাস্টিং টুইট, ডিজগাস্টিং ইন্ডিভিজুয়াল'। এর মানে আমার টুইট যেমন খারাপ, আমি মানুষটাও তেমন খারাপ। 


ভাসানটেকে উদ্ধার লাশ নারী যৌনকর্মীর

ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজার

করোনায় মারা গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী

সাধারণ রোগীদের জায়গা নেই সরকারি হাসপাতালে


সাকিব কিন্তু কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদবোধনে গিয়ে বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদিদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, তখন কিন্তু  ওদের আক্রমণকে  ডিজগাস্টিং  বলেননি, ওদেরকেও ডিজগাস্টিং বলেননি। 

আমি তো সাকিবের পক্ষ নিয়ে কলাম লিখেছিলাম, সাকিবের অধিকার আছে যেখানে খুশি যাওয়ার, যা কিছু উদ্বোধন করার, সাকিবকে কৈফিয়ত দিতে হবে কেন। আর সাকিব কী করলেন?, যারা ওঁকে আক্রমণ করেছিল, তাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, বললেন, তাঁর পুজোয় যাওয়াই উচিত হয়নি, তিনি ইসলামে প্রচণ্ড বিশ্বাসী, এবং ইসলামই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমাকে আক্রমণ করে তিনি তাঁর সেই আক্রমণকারীদেরই খুশি করলেন। এমন কৌশল যে আমি জানি না, সে কারণে আমি নিজেকে ভালোবাসি আরও একটু বেশি।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমি একদিন গাছ হবো!

জসিম মল্লিক, টরন্টো, কানাডা

আমি একদিন গাছ হবো!

কানাডায় সাত আট মাস ঠান্ডা থাকে। এই কারণে যারা ঠান্ডা ভয় পান তারা কানাডাকে এভোয়েড করেন। সন্দেহ নেই কানাডা বসবাসের জন্য অতি চমৎকার একটি দেশ। ঠান্ডার সময় বাদ দিলে বাকি কয়েকমাস কানাডা চমৎকার। অতি চমৎকার। সেটা হচ্ছে মে থেকে আগষ্ট।

এরমধ্যে এপ্রিলেও গাছ পালাগুলো একাকী দাঁড়িয়ে আছে। কী ভীষণ নির্জন, নিঃসঙ্গ আর পাতাপল্লবহীন। কোথাও সবুজের চিহ্নমাত্র নেই। মনে হচ্ছে গাছ গাছালিরও লকডাউন চলছে, স্টে এট হোম চলছে।

সেই কবে সেপ্টেম্বর থেকে পাতা ঝড়তে শুরু করেছিল আজও তারা তাদের আসল রূপ ফিরে পায়নি। বলতে গেলে সাত আট মাস ধরে গাছেরা একটি লাঠির মতো দাঁড়িয়ে আছে। শ্রীহীন, নির্জন, কঙ্কাল যেনো।

আরও পড়ুন


সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাস

আবদুল মতিন খসরুর সম্মানে সুপ্রিম কোর্ট বসছে না আজ

সুপ্রিম কোর্টে আবদুল মতিন খসরুর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন

আলেম-ওলামাদের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে হেফাজতের বিবৃতি


যদিও জীবিত কিন্তু মৃতের মতো করুণ আর বিবর্ণ। আমার নিজেকে মাঝে মাঝে এদেশের গাছের মতো মনে হয়। কোভিডের কারণে আরো নিঃসঙ্গ, বন্ধুহীন আর কবরের মতো একাকী লাগে আমার। অনেকের ভীড়েও আমার একাকীত্ব ঘোচে না কখনও। তার উপর দীর্ঘ বন্দীত্ব। আর একবার যদি জন্মাই তাহলে আমি গাছ হবো....।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাস

জুনাইদ আহমেদ পলক

সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাস

রমজান মাস। আরবি মাসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। 

রমজান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা

১. ফরজ রোজা পালন
২. কুরআন নাজিল
৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার মাস
৪. জাহান্নামের দরজা বন্ধ 
৫. শয়তানকে শৃঙ্খাবদ্ধ করা
৬. লাইলাতুল কদর পাওয়া
৭. দোয়া কবুল হওয়া
৮. জাহান্নাম থেকে মুক্তি
৯. ক্ষমা পাওয়া
১০. সৎ কাজের প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যাওয়া
১১. হজের সাওয়াব পাওয়া
১২. রোজাদারের বিশেষ সম্মান

> রোজা পালন ফরজ রমজান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এ মাসজুড়ে রোজা পালন করা ফরজ। কুরআনুল কারিমের রোজা পালনের নির্দেশ এসেছে এভাবে-فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

> কুরআন নাজিলের মাস রহমতের বার্তাবাহী মাস রমজানের অরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- এটি কুরআন নাজিলের মাস। রমজানের এক সম্মানিত রাতে (লাইলাতুল কদরে) আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদির জীবন পরিচালনার গাইড হিসেবে মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। একাধিক আয়াতে তা এভাবে বর্ণিত হয়েছে-- شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِরমজান মাস-ই হল সেই মাস; যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

- وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ - إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَশপথ সুস্পষ্ট (কুরআনের) কিতাবের। আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।’ (সুরা দুখান : আয়াত ২-৩) - إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি শবে-কদরে।’ (সুরা কদর : আয়াত ১)

> জান্নাতের দরজা খুলে দেয়ার মাসরমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। রমজানের সম্মানে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসর বরকত লাভে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। হাদিসে এসেছে-হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করে রাখা হয়।’ (বুখারি, মুসলিম)এ বৈশিষ্ট্যের অন্যতম ফলাফল হলো- রমজান মাসে মানুষ ধর্ম-কর্ম ও নেক আমলের দিকে বেশি তৎপর হয় এবং নতুন-পুরাতন সব মানুষকেই মসজিদমুখী হতে দেখা যায়।

> লাইলাতুল কদরের মাসএ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘লাইলাতুল কদর’। রাতটি হাজার মাসের (৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

এ রাতে কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় যে কোনো একটি রাতই ‘লাইলাতুল কদর’। আল্লাহ তাআলা বলেন-- وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ - إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَশপথ সুস্পষ্ট (কুরআনের) কিতাবের। আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।’ (সুরা দুখান : আয়াত ২-৩) - إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ- وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ - لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ - تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ - سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন কি লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা কদর : আয়াত ১-৫)
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে রমজান মাস আগমন করেছে।

এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’ (নাসাঈ)

> দোয়া কবুল হওয়ার মাসরমজান মাসের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন বলে জানিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হাদিসে এসেছে-‘রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে দোয়া করে। আর তা কবুল হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহামদ)
> জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাসএ মাসকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। হাদিসে এসেছে-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘আল্লাহ তাআলা (রমজান মাসের) প্রতি রাত ও দিনে অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা করেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া ‘মোনাজাত’ কবুল হয়ে থাকে।’ (মুসনাদে আহামদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রমজানের প্রথম রাত আগমন করে, তখন শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের আবদ্ধ করা হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর একটি দরজাও খোলা হয় না। (এ মাসের) প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ডাকতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী! তুমি আরও অগ্রসরহও। হে অসৎ কাজের পথিক! তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ কর। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন?’ (তিরমিজি)

> ক্ষমা পাওয়ার মাসক্ষমার মাস রমজান। রমজান পাওয়ার পরও যারা নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত করতে পারল না; তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৩ ব্যক্তির ব্যাপারে) বলেছেন-- ‘ওই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যার সামনে আমার আলোচনা হলো; কিন্তু সে আমার প্রতি দরূপ পড়লো না।

- ওই ব্যক্তির নাম ধূলায় ধুসরিত হোক, যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল; অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।
- ওই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেল; কিন্তু তাদের মধ্যমে জান্নাত উপার্জন করতে পারল না।’ (তিরমিজি)

> সৎ কাজের প্রতিদান বেড়ে যাওয়ার মাসরমজান মাসে ভালো কাজের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো একটি নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর রমজানে যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করল।’ (ইবনে খুজায়মা)

> হজের সাওয়াব পাওয়ার মাসরমজান মাসে ওমরাহজ পালনে রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা। এ মাসে একটি ওমরাহ করলে পাওয়া যাবে হজের সাওয়াব। আর তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আদায় করার মর্যাদা রাখে। হাদিসে এসেছে-- হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ থেকে ফিরে আসলেন তখন উম্মে সিনান নামক এক আনসারি নারীকে জিজ্ঞাসা করলেন- কে তোমাকে হজ করা থেকে নিষেধ করল?উত্তরে ওই নারী সাহাবি বলল- উমুকে পিতা (তার স্বামী)। তার দুই জন পানি প্রদানকারী রয়েছে, তাদের একজন হজ পালন করবে, অপরজন আমাদের জমিতে সেচ দেবে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘রমজান মাসের ওমরাহ আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি)

আরও পড়ুন


আবদুল মতিন খসরুর সম্মানে সুপ্রিম কোর্ট বসছে না আজ

সুপ্রিম কোর্টে আবদুল মতিন খসরুর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন

আলেম-ওলামাদের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে হেফাজতের বিবৃতি

কানাডায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান


- হজরতিইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন আনসারি নারীকে বললেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন তুমি ওমরাহ কর। কেননা রমজান মাসের ওমরাহ হজের মর্যাদা রাখে।’ (নাসাঈ)

- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক নারী এসে জিজ্ঞাসা করল- কোন ইবাদত আপন সঙ্গী হয়ে হজ করার সমতুল্য সাওয়াব পাওয়া যায়? উত্তরে তিনি বললেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ করা।’ (আবু দাউদ)

> রোজাদারের বিশেষ সম্মানের মাসরমজান মাসের রোজা পালনকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মান। জান্নাতের একটি দরজা শুধু রমজানের রোজা পালনকারীদের জন্যই নির্ধারিত। এ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। হাদিসে এসেছে-হজরত খালেদ ইবনে মাখলাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে ‘রাইয়ান’। কেয়ামতের দিন শুধু রোজাদারগণ এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ব্যতিত অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে করার সুযোগ পাবে না। ঘোষণা করা হবে-রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতিত এ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। তারা জান্নাতে প্রবেশের পর সে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেউ তাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না।’ (বুখারি)

এ ছাড়াও রমজান মাসের অনেক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। যা মেনে চলা প্রত্যেম মুমিন মুসলমানের একান্ত করণীয়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের  ফজিলত ও বিশেষ বেশিষ্ট্যগুলো যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভে তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন

টুকরো মিষ্টি স্মৃতি।

মিতা হক প্রয়াত হয়েছেন ১১ই এপ্রিল। রবীন্দ্রসঙ্গীতে আমাদের কালের গায়িকাদের মধ্যে অত্যন্ত সমাদৃত তিনি। ওঁর বড় কাকা ও সঙ্গীতগুরু ওয়াহিদুল হককে কেন্দ্র করে শিষ্যশিষ্যা-গুণগ্রাহীদের পরিম-লে, ছায়ানটের অঙ্গনে, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যাগ-আয়োজনে দেখাসাক্ষাতের বেশি আমাদের পরিচয়ের গ-ি বড় হয়নি। তবে আমি বরাবরই ওঁর গানের মুগ্ধ শ্রোতা। খোলা সুরেলা গলা, গানের ভাব ঠিকমতো ফুটিয়ে তোলা  ও যথা স্বরস্থানে কণ্ঠ রাখায় নিষ্ঠা ও দক্ষতা আমাদের আকৃষ্ট করেছে। 

এক রকম লড়াই করে রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকী উদযাপন থেকে পরের কয়েক দশকে প্রধানত সন্জীদা খাতুন ও তাঁর সহযাত্রীদের নেতৃত্বে ছায়ানটকেন্দ্রিক বিপুল প্রচেষ্টায় আমাদের দেশে এক ঝাঁক গুণী শিল্পী তৈরি হয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। মিতা তাঁদেরই একজন। সাম্প্রতিক অনেক বছর তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। কয়েক বছর আগে ওঁর নিজের গড়া গানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরতীর্থর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে যাদুঘর মিলনায়নে আয়োজিত রবীন্দ্রনাথের ভাঙা গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি নিবিষ্ট শ্রোতা হয়ে উপভোগ করেছি। মূল গান ও রবীন্দ্রনাথের গান পর পর শোনায় খুব উপকার হয়েছে। 

গান ছাড়া মিতার ব্যক্তিত্বের অকপট সরলতা ও অন্যকে আপন করে নেওয়ার মাধুর্য্য আমরা অনেকেই জেনেছি। টুকরো স্মৃতি থেকে দু'ট এখানে উল্লেখ করছি। 

একটি এক পয়লা বৈশাখের। আমাদের দুই কন্যার বয়স তখন এক বছরের সামান্য বেশি। আমার স্ত্রী পারুল ওদেরকে  কোলে-কাঁধে নিয়ে রমনার বটমূলে এসছি ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। শেষ হলে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকটাতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মিতা হকের সঙ্গে দেখা। হৈ হৈ করে উঠলেন যমজ কন্যা দেখে। অনেক আদর করলেন এবং ‘কী দেব কী দেব’ বলে নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন। সারাক্ষণ যেমন দু’হাত বাড়িয়ে বাবা-মার কোল বদল করে  একে-অন্যে দুষ্টুমি করছিল, তেমনই করতে লাগলো বেয়াদব দু’টো মিতা হককে না চিনে এবং ভ্রুক্ষেপ না করে। 

সেই টিপটা অনেক দিন ছিল আমাদের কাপড়ের আলমারিতে যত্নে রাখা। সময়ের প্রবহমানতায়, বাসা বদলের ঝক্কিতে কবে হারিয়ে গেছে। পরমা-উপমা এখন থাকে নাইরোবিতে। দেখলাম উপমা ১২ই এপ্রিল মিতার গাওয়া ‘মনে রবে কি না রবে আমারে’ গানটি ইউটিউব থেকে ওর ফেসবুক ওয়ালে রেখেছে। 

দ্বিতীয় গল্পটি আরও আগের। ১৯৮২-৮৪’র দিকে ওয়াহিদুল হক তাঁর মাকে নিয়ে হাতির পুলের কাছে একটি বাসায় থাকতেন। সকালে অনেকজন ছেলেমেয়ে আসতো গান শিখতে। ওয়াহিদ ভাইর আস্কারা পেয়ে আমি, সাপ্তাহিক একতার তরুণ সংবাদকর্মী,  কিছুদিন গিয়েছি আমার ব্যক্তিগত বাহন মোটরসাইকেল নিয়ে। এটা ক্লাস বসিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে গানের মাস্টারি না। ওয়াহিদভাই কখনো তা করেননি। গুরুপৃহের দ্বার অবারিত। যার খুশি আসছে, মাঝখানে কেউ বলে চলেও যাচ্ছে। গুরুর কাছে যে যতটুকু নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠা শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী ও বুদ্ধিজীবীদের অনেককে সেখানে দেখেছি।

একদিন ওয়াহিদভাই উঠে ভেতরে গেছেন মায়ের কাছে। মিতার তখন কতই বা বয়স, ‘কানাই মাস্টার’ হয়ে ’বিড়াল ছানাদের’ এটা-ওটা বোঝাচ্ছে। আমি তখন বলে উঠি আমার একটা সমস্যা। বি-ফ্ল্যাটে গাইলে তারার ‘গা’ ছাড়িয়ে উঠতে কষ্ট হয়, ‘মা’-তেই গলা চিরে যায়। জি-শার্পে গাইতে চাই না, নিচের দিকে এলে খারাপ লাগে। মিতা বলে ঊঠলো, জোর করে কিছু গাওয়া যাবে না। স্বচ্ছন্দে যেটা হয়। ‘এ’ স্কেল দেখিয়ে বললো, ‘এখানে বেশ গাওয়া যায়। আমি অনেক গান এই স্কেলে গাই।’ 

সাদা রিডে উদারার ‘সা’ ধরতে হয় বলে আমি ওই স্কেলে হাত বসাতেই পারিনি। স্কেল-চেঞ্জার হারমোনিয়াম সম্পর্কে তখন কোনো ধারনাই ছিল না। দেখিওনি। শিল্পীরা গান ও মিলনায়তনে শ্রোতার সংখ্যা অনুযায়ী স্কেল নির্বাচন করে গেয়ে থাকেন।
আমার গান শেখার প্রগলভতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওয়াহিদ ভাইর বাসার আসরগুলো কেবলই স্মৃতি। কিছু মিষ্টি স্মৃতি রেখে গেছেন মিতা হক। গান শুনিয়ে অগণিত শ্রোতাকে অনেক আনন্দ দিয়েছেন তিনি। রেকর্ডেও রেখে গেছেন। তাঁর গানের রেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। মিতা হকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

 

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু: সিনিয়র সাংবাদিক

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি। যিনি আমাকে স্নেহ করতেন; অনেকটা অন্ধ স্নেহ। তাঁর মতো বিশাল হিমালয়ের সামনে যখনই যেতাম অসংখ্য মানুষের মাঝ থেকে আমাকে বলতেন, 'অপু আসছো, বসো।' সবসময়ই মানুষে পরিপূর্ণ থাকতো উনার বাসা, চেম্বার। সবাইকে বিদায় দিয়ে তারপর আমার সঙ্গে কথা বলতেন। তেমন জরুরি কথা থাকতো বলে বসিয়ে রাখতেন না। জিজ্ঞেস করতেন 'কামাল ভাই (মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কেমন আছে? প্রধানমন্ত্রী একটা কামের কাম করছে। একটা ভদ্রলোককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাইছে। আস্তে আস্তে কথা কইয়া দেশটারে ক‍্যামনে ঠান্ডা রাখছে দেখছোনি।' 

তারপর আব্বার কথা, আমার দুই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেন। আমার বড় ছেলে সারীম শরীফতো উনার অনেক আদরের ছিলো। আমিও কুশল বিনিময় পযর্ন্তই কথা বলতাম।

আমি উনাকে অনুসরণ করে চলতাম। উনার ব‍্যক্তিত্ব, সর্বস্তরে উনার গ্রহণযোগ্যতা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমার জীবনের যতটুকু সফলতা তার পেছনে উনার উৎসাহ, প্রেরণা ও শক্তি ছিল। উনার অনুপ্রেরণা ও সাহস আমাকে জীবনের অনেক চ‍্যালেঞ্জ নিতে সহযোগিতা করেছিলো। মনে একটা জোর ছিলো সে যে খসরু স‍্যার আমার সাথে আছে।

যে কোন ভালো কাজে উনি উৎসাহ দিতেন। বুড়িচং-ব্রাহ্মণ পাড়ার দড়িয়ার পাড় ঈদগা কবরস্থানটির (কুমিল্লার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ এবং কবরস্থান- প্রায় দুই হাজার কবরের স্থান হবে) সংস্কারের কাজ উনার অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে সম্পন্ন (প্রায়) করতে পেরেছি আমরা। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে আমাকে ফোন দিয়ে আর কি কি কাজ করতে হবে সে নিদর্শনা দিতেন। এভাবে আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিতেন। কাছে টানতেন। প্রায়ই বলতেন, 'যা ই করবি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবি না। আল্লাহর কাছে পাইবি।' কতক্ষণ তুমি করে বলতেন আবার তুই করেও বলতেন। 

কিছু ভালোবাসা, স্নেহ অপ্রকাশিত থাকে; শুধু অনুভব করা যায়। উনার জন্মদিনে, বাবা মায়ের মৃত্যু দিবসে বড় অনুষ্ঠান হলেও বাসার সংক্ষিপ্ত ও ছোট অনুষ্ঠানে যখন আমার ডাক পরতো তখনই আমি অনুভব করতাম তিনি আমাকে কটতা স্নেহ করেন।  কারণ আমাদের মধ‍্যে তেমন রাজনৈতিক আলোচনা হতো না; ছিলোনা কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। 

পিতাকে যতটা মানি খসরু স‍্যারকে ততটা মানতাম। একবার কোন একটি ব‍্যাপারে আব্বাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ' জয়নাল ভাই, অপুকে বইলেন যে..........। 

উত্তরে আমার পিতা বলেছিলেন, অপুতো আমার কথা শুনেই, আমার থেকে বেশি শুনে আপনার কথা।' আজকে হারিয়ে ফেললাম পিতৃতুল্য সেই অভিভাবককে। অনেক কথা বলার ছিলো; সেগুলো অব‍্যক্তই রয়ে গেলো।
 
মৃত্যু অমোঘ সত‍্য। মৃত্যুকে মেনে নিতেই হবে। উনার মৃত্যুটা সইতে কষ্ট হচ্ছে। মৃত্যু শোক সহ‍্য করা কঠিন। সাধারণত আমি একজন কঠিন হৃদয়ের মানুষ। আপনজনের মৃত্যুতে ভেতর ভেঙ্গে গেলেও চোখে জল আসেনা আমার। কিন্তু খসরু স‍্যারের মৃত্যুর সংবাদে বাচ্চার মতো কেদেঁ দিয়েছি। পারিনি নিজেকে ধরে রাখতে।

আপাদমস্তক নিরেট ভদ্রলোক মানুষটিকে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই পরপারে ভালো রাখবেন।

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু, সিনিয়র তথ‍্য অফিসার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যত বাহাদুরি অবসরের পরে?

শরিফুল হাসান

যত বাহাদুরি অবসরের পরে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ অনেকে এখন টেলিভিশনে বসে টকশোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা যখন সরকারি দায়িত্বে ছিলেন, তখন কী করেছিলেন? তাঁরাও তো সরকারের চাকরি করেছেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।  

বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে আজ কথাগুলো বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। 

কথাগুলো ভাবার মতো। নানা বিষয়ে আমি এই দেশের সাবেক সচিব, সাবেক আমলা, সাবেক পুলিশসহ নানান জনের কথা শুনি। এই একই মানুষই তো কিছুদিন আগে সরকারি দায়িত্বে ছিলেন। তখন কিন্তু তাদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা বা কাজ করতে দেখেছি। অথচ অবসরের পর সেই একই মানুষ দারুন সব কথা বলেছেন। 

এর নাম দ্বিচারিতা। অবসরের পর তারা যত সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, যত সুন্দর সুন্দর পরামর্শ দেন, চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন? নাকি যত বাহাদুরি অবসরের পরে? 

বর্তমানে নানা পদে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা অবসরের আগেই যতো বেশি পারেন ভালো কাজ করে যান। প্রয়োজনে এখন যারা অবসরে গিয়ে ভালো ভালো কথা বলছেন, তাদের কথাগুলোও শুনুন যাতে অবসরে গিয়ে আপনাদের এসব কথা বলতে না হয়। 

মনে রাখবেন আপনার যত ক্ষমতা আপনার বর্তমান পদটার জন্য। যদি ঠিক মত কাজ না করেন তাহলে যেই মুহুর্তে চেয়ার ছাড়বেন সেই মুহূর্ত থেকে দেখবেন সম্মান বা শ্রদ্ধা তো দূরের কথা কেউ আপনাকে এতোটুকুও পাত্তা দিচ্ছে না। আর যদি ভালো কাজ করেন তাহলে বহু বছর পরেও লোকে আপনাকে শ্রদ্ধা করবে।‌ মনে রাখবে। কারণ কীর্তিমানের মৃত্যু নাই।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর