বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন...

সাজেদ রহমান

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন...

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। সেই সময় যশোর ছিল আধা গ্রাম, আধা শহরটি ছিল তার অপছন্দ। ম্যালেরিয়া রোগে ভরা। দুষিত পানি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এমন নানা কথা তিনি শুনেছিলেন কলকাতায় বসেই। তবুও তাকে এই শহরে আসতে হয়। কেননা চাকরি বলে কথা। তাছাড়াও এটি তার প্রথম কর্মস্থল। অবশেষে তিনি সেই অপ্রিয় শহরটিকে ভালবেসেও ফেলেন। কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় হয় এখানে এসে। আবার ব্যাক্তিগত জীবনের গভীর শোকাঘাতও পান তিনি এখানে। সেদিনের সেই আধা গ্রাম আধা শহরটি হল আজকের যশোর। 

আর চাকরিজীবী ব্যক্তিটি হলেন প্রথম বাঙালি আমলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়। বাংলা গদ্য যার হাতে আধুনিকতার স্পর্শ পেয়ে পূর্ণতাও পায়।

আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৫৬ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। পরের বছর প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে বিএ পরীক্ষা প্রবর্তিত হলে ১৩ জন এই পরীক্ষা দেন। দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন মাত্র দু’জন। 
১৮৫৮ সালের ২৩ আগস্ট তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান। পরের বছর অবশ্য তিনি আইন পরীক্ষা দিয়ে উর্ত্তীণ হন। যশোর শহরে এসে তিনি এই পদে যোগ দেন। অভিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা ছিল যশোর। ১৭৮১ সালে মি. টিলম্যান হেংকেলকে কালেক্টর হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসনের কাজ শুরু হয়। তখন জেলা সদর কার্যালয় স্থাপিত হয়েছিল যশোর শহরের মুড়লীতে। মুড়লী ছিল এক সময় সমতট রাজ্যের রাজধানী। এখানে বৌদ্ধ মঠও ছিল। হযরত খান জাহান আলীর হাতে যশোর শহর আবার পুনর্নির্মিত হয়। কিন্তু কাল প্রবাহে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল তার অনেক কিছুই। মুড়লী থেকে নতুন কালেক্টর ভবনে প্রশাসনের সমস্ত কর্মকর্তারা চলে আসেন ১৮০১ সালে। ওটিই ছিল যশোরের প্রথম কালেক্টর ভবন। নির্মিত হয় ১৮০১ সালে। 

উল্লেখ্য, বর্তমানে যেটি কালেক্টরেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। পুরনো কালেক্টরেট যেখানে স্থাপিত হয় তার নাম ছিল সাহেবগঞ্জ। এখন অবশ্য ওই এলাকার নাম পুরাতন কসবা। আর সেই কালেক্টরেট পরে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কালেক্টর ভবনে এসেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এই ভবনেরই একটি কক্ষে ছিল তার কার্যালয়।

সে সময় যশোরের সাথে কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল খুবই দুর্গম। রেল লাইন বসেনি। নৌকা পথে যশোরে আসতে ব্যয় হতো তিন থেকে চার দিন। যদিও কলকাতা থেকে যশোরের দূরত্ব মাত্র ১শ’ ১০ কিলোমিটার। কিন্তু এই এলাকার নদী গুলোর অধিকাংশই উত্তর থেকে দক্ষিণবাহী। অথচ যশোর থেকে কলকাতা সোজা দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে। ভাগীরথী, আপার ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কপোতাক্ষ ও লোয়ার ভৈরব দিয়ে যশোরে আসতে হতো। আবার দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেষেও কলকাতার সাথে যশোরের নদী পথে যোগাযোগ ছিল।

প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নৌকা ছাড়াও ব্যবহার করতেন পালকী। যশোর থেকে তখন কলকাতা পর্যন্ত যশোরের কালীপোদ্দারের একক ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি কাঁচা সড়ক। আজ আজকের প্রখ্যাত যশোর রোড নামে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র সাধারণত কলকাতা থেকে যশোরে যাতায়াত করতেন পালকীতে। যশোর শহরে পুরানো ঐতিহ্য থাকলেও তখন তা লুপ্ত। শহরের চারপাশে ঘনজঙ্গল। খানা-খন্দে মশককুল বংশ বিস্তার করে। ম্যালেরিয়ায় হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর শহর জনমানব শূন্য হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলপত্রে যা জানা যায়- তাতে দেখা যায়, প্রথম প্রথম যশোর শহর বঙ্কিমচন্দ্রের কাছে অসহ্য ঠেকত। তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হবার ভয়ে ভীত থাকতেন। কিছু দিন পর এই শহর তার ভাল লেগে যায়। এখানে তার পরিচয় ঘটে ‘নীলদপর্ন’ নাটকের নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের সাথে। দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন যশোর ডিভিশনের পোস্ট অফিস সুপারিনটেনডেন্ট। দু’জন ‘প্রভাকর’ ও ‘সাধুরঞ্জন’ পত্রিকা সূত্রে একে অপরের পরিচিত ছিলেন। তবে চাক্ষুশ সাক্ষাৎ ঘটেনি। যশোরে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়।

১৮৫৪ সালে যশোরে স্থাপিত হয়েছিল পাবলিক লাইব্রেরি। লাইব্রেরির সাথে খেলাধুলার ব্যবস্থাও ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র এই লাইব্রেরিতে যেতেন নিয়মিত। যশোর থাকাকালীন ম্যালেরিয়া রোগের বিরুদ্ধে মানুষজনকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতেও তিনি সচেষ্ট হন। যশোরে বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনের ব্যক্তিগত একটি শোকের অধ্যায় যুক্ত হয়। 

১৮৪৯ সালে বঙ্কিমচন্দ্র তার পাশের গাঁয়ের এক পঞ্চমবর্ষীয় কন্যাকে বিয়ে করেন। তখন বঙ্কিম বাবুর বয়স মাত্র এগারো। তার স্ত্রীর বয়স যখন পনের তখন বঙ্কিম বাবু তাকে যশোরে তার কর্মস্থলে নিয়ে আসেন। তখন বঙ্কিম বাবুর বয়স বাইশ। যশোরে থাকাকালীন তার স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত হন। তাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। কয়েক দিন রোগ ভোগের পর মারা যান তার স্ত্রী। 

বঙ্কিম বাবুর দাম্পত্য জীবন কার্যত যশোরেই শুরু হয় এবং তা ছিল মাত্র এক বছরের। এই বিয়োগযন্ত্রণা বঙ্কিম বাবুকে দারুণ পীড়িত করেছিল। তিনি লিখেছিলেন ‘মনে করি কাঁদিব না রব অন্ধকারে/ আপনি নয়ন তবু ঝরে ধারে ধারে/ গোপনে কাঁদিব প্রাণ সকলি আঁধার/ জীবন একই স্রোতে চলিবে আমার।’

বঙ্কিম বাবুর স্ত্রীর নাম ছিল মোহিনী দেবী। তিনি তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে আরও লেখেন-‘কেন কাঁদিব না শখে, কেন ভাবিব না/ সে কম মোহিনী মূর্তি নয়নরঞ্জন/তুমি কি জানিবে হায়, কতেক বৎসর আজ/ কতসুখ কত আশা দিয়া বিসর্জন/ পাগলের মত আহা বেড়াইয়াছ ছুটি ছুটি/ তীব্র হলাহল বুকে করিয়া ধারণ/ফেটেছে হৃদয় তবু ফোটেনি নয়ন। 

news24bd.tv/আলী

১৮৬০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্কিম চন্দ্র যশোরে ছিলেন। এ সময় সর্বত্র নীলকরদের অত্যাচার শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘটনার বিভিন্ন তদন্তে তিনি কৃষকদের আনুকূল্য দেখাতেন। এ জন্য নীলকররা তাকে প্রাণহানির হুমকিও দিয়েছিল। যশোর থেকে বদলি হয়ে যান মেদিনীপুর জেলার নাগোয়াতে। সেখান থেকে পুনরায় আবার তাকে যশোরে বদলি করা হয়। যশোরে কয়েকদিন থাকার পর তাকে পাঠানো হয় খুলনাতে। খুলনা ছিল তখন যশোর জেলার একটি মহাকুমা। তাকে মহাকুমার আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি খুলনাতে থাকাকালেই ১৮৬১ সালের শেষ দিকে মড়েলগঞ্জের বারুইখালিতে নীলকরদের সাথে রহিমউল্লার নেতৃত্বে কৃষকদের সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এতে রহিমউল্লাহসহ ১৭ জন নিহত হন। এই মামলা তদন্ত করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। তাতে তিনি নীলকরদের দায়ী করেন। যশোরে বঙ্কিমচন্দ্র কোন বাড়িতে থাকতেন, তা আজ জানার উপায় নেই। আছে শুধু তিনি যে ভবনে বসতেন সেই ভবনটি। কোন কক্ষে তার কার্যালয় ছিল সে তথ্যও অজ্ঞাত।  প্রথম বাঙালি আমলা হিসেবে যশোরের মানুষের কাছে তিনি যে প্রিয় ছিলেন, শুধু এই টুকুই জানা যায়। যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন এই ভবনটি সংরক্ষণ করা হোক।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন

টুকরো মিষ্টি স্মৃতি।

মিতা হক প্রয়াত হয়েছেন ১১ই এপ্রিল। রবীন্দ্রসঙ্গীতে আমাদের কালের গায়িকাদের মধ্যে অত্যন্ত সমাদৃত তিনি। ওঁর বড় কাকা ও সঙ্গীতগুরু ওয়াহিদুল হককে কেন্দ্র করে শিষ্যশিষ্যা-গুণগ্রাহীদের পরিম-লে, ছায়ানটের অঙ্গনে, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যাগ-আয়োজনে দেখাসাক্ষাতের বেশি আমাদের পরিচয়ের গ-ি বড় হয়নি। তবে আমি বরাবরই ওঁর গানের মুগ্ধ শ্রোতা। খোলা সুরেলা গলা, গানের ভাব ঠিকমতো ফুটিয়ে তোলা  ও যথা স্বরস্থানে কণ্ঠ রাখায় নিষ্ঠা ও দক্ষতা আমাদের আকৃষ্ট করেছে। 

এক রকম লড়াই করে রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকী উদযাপন থেকে পরের কয়েক দশকে প্রধানত সন্জীদা খাতুন ও তাঁর সহযাত্রীদের নেতৃত্বে ছায়ানটকেন্দ্রিক বিপুল প্রচেষ্টায় আমাদের দেশে এক ঝাঁক গুণী শিল্পী তৈরি হয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। মিতা তাঁদেরই একজন। সাম্প্রতিক অনেক বছর তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। কয়েক বছর আগে ওঁর নিজের গড়া গানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরতীর্থর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে যাদুঘর মিলনায়নে আয়োজিত রবীন্দ্রনাথের ভাঙা গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি নিবিষ্ট শ্রোতা হয়ে উপভোগ করেছি। মূল গান ও রবীন্দ্রনাথের গান পর পর শোনায় খুব উপকার হয়েছে। 

গান ছাড়া মিতার ব্যক্তিত্বের অকপট সরলতা ও অন্যকে আপন করে নেওয়ার মাধুর্য্য আমরা অনেকেই জেনেছি। টুকরো স্মৃতি থেকে দু'ট এখানে উল্লেখ করছি। 

একটি এক পয়লা বৈশাখের। আমাদের দুই কন্যার বয়স তখন এক বছরের সামান্য বেশি। আমার স্ত্রী পারুল ওদেরকে  কোলে-কাঁধে নিয়ে রমনার বটমূলে এসছি ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। শেষ হলে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকটাতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মিতা হকের সঙ্গে দেখা। হৈ হৈ করে উঠলেন যমজ কন্যা দেখে। অনেক আদর করলেন এবং ‘কী দেব কী দেব’ বলে নিজের টিপ খুলে একজনের কপালে সেঁটে দিলেন। সারাক্ষণ যেমন দু’হাত বাড়িয়ে বাবা-মার কোল বদল করে  একে-অন্যে দুষ্টুমি করছিল, তেমনই করতে লাগলো বেয়াদব দু’টো মিতা হককে না চিনে এবং ভ্রুক্ষেপ না করে। 

সেই টিপটা অনেক দিন ছিল আমাদের কাপড়ের আলমারিতে যত্নে রাখা। সময়ের প্রবহমানতায়, বাসা বদলের ঝক্কিতে কবে হারিয়ে গেছে। পরমা-উপমা এখন থাকে নাইরোবিতে। দেখলাম উপমা ১২ই এপ্রিল মিতার গাওয়া ‘মনে রবে কি না রবে আমারে’ গানটি ইউটিউব থেকে ওর ফেসবুক ওয়ালে রেখেছে। 

দ্বিতীয় গল্পটি আরও আগের। ১৯৮২-৮৪’র দিকে ওয়াহিদুল হক তাঁর মাকে নিয়ে হাতির পুলের কাছে একটি বাসায় থাকতেন। সকালে অনেকজন ছেলেমেয়ে আসতো গান শিখতে। ওয়াহিদ ভাইর আস্কারা পেয়ে আমি, সাপ্তাহিক একতার তরুণ সংবাদকর্মী,  কিছুদিন গিয়েছি আমার ব্যক্তিগত বাহন মোটরসাইকেল নিয়ে। এটা ক্লাস বসিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে গানের মাস্টারি না। ওয়াহিদভাই কখনো তা করেননি। গুরুপৃহের দ্বার অবারিত। যার খুশি আসছে, মাঝখানে কেউ বলে চলেও যাচ্ছে। গুরুর কাছে যে যতটুকু নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠা শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী ও বুদ্ধিজীবীদের অনেককে সেখানে দেখেছি।

একদিন ওয়াহিদভাই উঠে ভেতরে গেছেন মায়ের কাছে। মিতার তখন কতই বা বয়স, ‘কানাই মাস্টার’ হয়ে ’বিড়াল ছানাদের’ এটা-ওটা বোঝাচ্ছে। আমি তখন বলে উঠি আমার একটা সমস্যা। বি-ফ্ল্যাটে গাইলে তারার ‘গা’ ছাড়িয়ে উঠতে কষ্ট হয়, ‘মা’-তেই গলা চিরে যায়। জি-শার্পে গাইতে চাই না, নিচের দিকে এলে খারাপ লাগে। মিতা বলে ঊঠলো, জোর করে কিছু গাওয়া যাবে না। স্বচ্ছন্দে যেটা হয়। ‘এ’ স্কেল দেখিয়ে বললো, ‘এখানে বেশ গাওয়া যায়। আমি অনেক গান এই স্কেলে গাই।’ 

সাদা রিডে উদারার ‘সা’ ধরতে হয় বলে আমি ওই স্কেলে হাত বসাতেই পারিনি। স্কেল-চেঞ্জার হারমোনিয়াম সম্পর্কে তখন কোনো ধারনাই ছিল না। দেখিওনি। শিল্পীরা গান ও মিলনায়তনে শ্রোতার সংখ্যা অনুযায়ী স্কেল নির্বাচন করে গেয়ে থাকেন।
আমার গান শেখার প্রগলভতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওয়াহিদ ভাইর বাসার আসরগুলো কেবলই স্মৃতি। কিছু মিষ্টি স্মৃতি রেখে গেছেন মিতা হক। গান শুনিয়ে অগণিত শ্রোতাকে অনেক আনন্দ দিয়েছেন তিনি। রেকর্ডেও রেখে গেছেন। তাঁর গানের রেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। মিতা হকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

 

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু: সিনিয়র সাংবাদিক

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু

পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি। যিনি আমাকে স্নেহ করতেন; অনেকটা অন্ধ স্নেহ। তাঁর মতো বিশাল হিমালয়ের সামনে যখনই যেতাম অসংখ্য মানুষের মাঝ থেকে আমাকে বলতেন, 'অপু আসছো, বসো।' সবসময়ই মানুষে পরিপূর্ণ থাকতো উনার বাসা, চেম্বার। সবাইকে বিদায় দিয়ে তারপর আমার সঙ্গে কথা বলতেন। তেমন জরুরি কথা থাকতো বলে বসিয়ে রাখতেন না। জিজ্ঞেস করতেন 'কামাল ভাই (মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কেমন আছে? প্রধানমন্ত্রী একটা কামের কাম করছে। একটা ভদ্রলোককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাইছে। আস্তে আস্তে কথা কইয়া দেশটারে ক‍্যামনে ঠান্ডা রাখছে দেখছোনি।' 

তারপর আব্বার কথা, আমার দুই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেন। আমার বড় ছেলে সারীম শরীফতো উনার অনেক আদরের ছিলো। আমিও কুশল বিনিময় পযর্ন্তই কথা বলতাম।

আমি উনাকে অনুসরণ করে চলতাম। উনার ব‍্যক্তিত্ব, সর্বস্তরে উনার গ্রহণযোগ্যতা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমার জীবনের যতটুকু সফলতা তার পেছনে উনার উৎসাহ, প্রেরণা ও শক্তি ছিল। উনার অনুপ্রেরণা ও সাহস আমাকে জীবনের অনেক চ‍্যালেঞ্জ নিতে সহযোগিতা করেছিলো। মনে একটা জোর ছিলো সে যে খসরু স‍্যার আমার সাথে আছে।

যে কোন ভালো কাজে উনি উৎসাহ দিতেন। বুড়িচং-ব্রাহ্মণ পাড়ার দড়িয়ার পাড় ঈদগা কবরস্থানটির (কুমিল্লার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ এবং কবরস্থান- প্রায় দুই হাজার কবরের স্থান হবে) সংস্কারের কাজ উনার অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে সম্পন্ন (প্রায়) করতে পেরেছি আমরা। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে আমাকে ফোন দিয়ে আর কি কি কাজ করতে হবে সে নিদর্শনা দিতেন। এভাবে আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিতেন। কাছে টানতেন। প্রায়ই বলতেন, 'যা ই করবি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবি না। আল্লাহর কাছে পাইবি।' কতক্ষণ তুমি করে বলতেন আবার তুই করেও বলতেন। 

কিছু ভালোবাসা, স্নেহ অপ্রকাশিত থাকে; শুধু অনুভব করা যায়। উনার জন্মদিনে, বাবা মায়ের মৃত্যু দিবসে বড় অনুষ্ঠান হলেও বাসার সংক্ষিপ্ত ও ছোট অনুষ্ঠানে যখন আমার ডাক পরতো তখনই আমি অনুভব করতাম তিনি আমাকে কটতা স্নেহ করেন।  কারণ আমাদের মধ‍্যে তেমন রাজনৈতিক আলোচনা হতো না; ছিলোনা কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। 

পিতাকে যতটা মানি খসরু স‍্যারকে ততটা মানতাম। একবার কোন একটি ব‍্যাপারে আব্বাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ' জয়নাল ভাই, অপুকে বইলেন যে..........। 

উত্তরে আমার পিতা বলেছিলেন, অপুতো আমার কথা শুনেই, আমার থেকে বেশি শুনে আপনার কথা।' আজকে হারিয়ে ফেললাম পিতৃতুল্য সেই অভিভাবককে। অনেক কথা বলার ছিলো; সেগুলো অব‍্যক্তই রয়ে গেলো।
 
মৃত্যু অমোঘ সত‍্য। মৃত্যুকে মেনে নিতেই হবে। উনার মৃত্যুটা সইতে কষ্ট হচ্ছে। মৃত্যু শোক সহ‍্য করা কঠিন। সাধারণত আমি একজন কঠিন হৃদয়ের মানুষ। আপনজনের মৃত্যুতে ভেতর ভেঙ্গে গেলেও চোখে জল আসেনা আমার। কিন্তু খসরু স‍্যারের মৃত্যুর সংবাদে বাচ্চার মতো কেদেঁ দিয়েছি। পারিনি নিজেকে ধরে রাখতে।

আপাদমস্তক নিরেট ভদ্রলোক মানুষটিকে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই পরপারে ভালো রাখবেন।

মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু, সিনিয়র তথ‍্য অফিসার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যত বাহাদুরি অবসরের পরে?

শরিফুল হাসান

যত বাহাদুরি অবসরের পরে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ অনেকে এখন টেলিভিশনে বসে টকশোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা যখন সরকারি দায়িত্বে ছিলেন, তখন কী করেছিলেন? তাঁরাও তো সরকারের চাকরি করেছেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।  

বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে আজ কথাগুলো বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। 

কথাগুলো ভাবার মতো। নানা বিষয়ে আমি এই দেশের সাবেক সচিব, সাবেক আমলা, সাবেক পুলিশসহ নানান জনের কথা শুনি। এই একই মানুষই তো কিছুদিন আগে সরকারি দায়িত্বে ছিলেন। তখন কিন্তু তাদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা বা কাজ করতে দেখেছি। অথচ অবসরের পর সেই একই মানুষ দারুন সব কথা বলেছেন। 

এর নাম দ্বিচারিতা। অবসরের পর তারা যত সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, যত সুন্দর সুন্দর পরামর্শ দেন, চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন? নাকি যত বাহাদুরি অবসরের পরে? 

বর্তমানে নানা পদে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা অবসরের আগেই যতো বেশি পারেন ভালো কাজ করে যান। প্রয়োজনে এখন যারা অবসরে গিয়ে ভালো ভালো কথা বলছেন, তাদের কথাগুলোও শুনুন যাতে অবসরে গিয়ে আপনাদের এসব কথা বলতে না হয়। 

মনে রাখবেন আপনার যত ক্ষমতা আপনার বর্তমান পদটার জন্য। যদি ঠিক মত কাজ না করেন তাহলে যেই মুহুর্তে চেয়ার ছাড়বেন সেই মুহূর্ত থেকে দেখবেন সম্মান বা শ্রদ্ধা তো দূরের কথা কেউ আপনাকে এতোটুকুও পাত্তা দিচ্ছে না। আর যদি ভালো কাজ করেন তাহলে বহু বছর পরেও লোকে আপনাকে শ্রদ্ধা করবে।‌ মনে রাখবে। কারণ কীর্তিমানের মৃত্যু নাই।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তারা ফেসবুকে তীক্ষ দৃষ্টি রেখে কারা খাবারের ছবি দিল সেটা পাহারা দিচ্ছে!

আরিফ জেবতিক

তারা ফেসবুকে তীক্ষ দৃষ্টি রেখে কারা খাবারের ছবি দিল সেটা পাহারা দিচ্ছে!

ইফতারের টেবিলে এসে আমার ছোট মেয়ে যখন বসল, তখন তাঁর একটা ছবি তুলতে ইচ্ছে হলো। আমি নিজের চেয়ারে বসেই সেই ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করলাম।

ওরে খোদা, সেই ছবিতে এখন ২৮৯টা কমেন্ট, কেন আমি খাবারের ছবি আপলোড করলাম সেটা নিয়ে চিন্তায় কত্তো লোক যে জেরবার!

আমি এখন মনোযোগ দিয়ে ছবিটা আবার দেখলাম। ছবিতে মেয়ের ছবির পাশপাশি ইফতার টেবিলের একটা সাইডভিউ এসেছে। সেখানে খাবার বলতে শরবত, খেজুর, পিয়াজু, জিলাপি আর হালিম দেখা যাচ্ছে- এমন কোনো আহামরি খাবার নয়। 

কিন্তু লোকজনের কমেন্ট দেখে বুঝলাম যে এদের অধিকাংশই এই পরিমান খাবারও জোগাড় করতে পারছে না, তারা ফেসবুকে তীক্ষ দৃষ্টি রেখে কারা এই সামান্য খাবারের ছবি দিল সেটা পাহারা দিচ্ছে! তাদের হা হুতাশ দেখে লজ্জাই লাগছে।

ফেসবুক এখন কী পরিমান তৃণমূলে পৌঁছেছে, কী পরিমান হতদরিদ্র লোকজন এটি ব্যবহার করছে, সেটা দেখে এমিউজড হলাম। মার্কেটাররা এই সেগমেন্টটাকে এখনও যথেষ্ট পরিমান গুরুত্ব দিচ্ছেন না, দেয়া উচিত।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হেফাজতের সবাই মৌলবাদী নয়: ভিপি নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতের সবাই মৌলবাদী নয়: ভিপি নুর

হেফাজতে ইসলামের সবাই মৌলবাদী নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি মনে করেন হেফাজত সমাজের বড় একটা অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া এক স্টেটাসে তিনি এসব কথা বলেন। নিউজ টোয়েন্টিফোর (news24bd.tv) এর পাঠকদের জন্য ভিপি নুরের স্টেটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন: 

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি সাখাওয়াতকে বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়েছে সাদা পোষাকের রাষ্ট্রীয় গুম বাহিনী। তাতে আমার কি? 
আমাদের সুশীল, প্রগতিশীল, গণতন্ত্রকামীদের একাংশের এই মনোভাবের কারণেই সরকার হয়তো তার ভিন্নমত ও বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে গুম, খুন, গ্রেপ্তার, কারাগারে নির্যাতনেরও একটা ভিত্তী তৈরি করতে পেরেছে। 

শুরুতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর সরকারের হামলা, মামলা, গুম, খুন নিয়ে তাদের খুবই একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা না থাকলেও মাঝখানে যখন তারা ও তাদের সমগোত্রীয়রা আক্রান্ত হলো তখন তাদের চৈতন্যের বোধোদয় হলো।
কিন্তু এখন? 

ভাবছে মৌলবাদী হেফাজতকে দমন করছে করুক। হেফাজতের সবাই যে মৌলবাদী নয়, এরাও যে সমাজের বড় একটা শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে সে বুঝাপাড়া এদের নেই। তাই এরা না পারছে নিজেরা কিছু করতে, না দিছে অন্যদের করতে। মাঝখান থেকে এদের প্রগতিশীলতা আর ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যবহার করে আওয়ামী বয়ান তৈরি করে বিনা ভোটের মাফিয়ারা ১২ বছর ক্ষমতায়। আর প্রতিপক্ষ দমনে যখন-তখন যাকে-তাকে যেখানে-সেখানে গুন্ডালীগ দিয়ে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, গুম! 

গ্রামে একটা প্রচলিত কথা আছে, 'দেশে বালা-মুসিবত আইলে পীরও রেহাই পায় না।' তাই সময় থাকতে সকলের বোধোদয় ঘটুক। 
মাফিয়া বিরোধী ঐক্য ছাড়া এদেশের মানুষের মুক্তি নেই। 
হঠাও মাফিয়া বাঁচাও দেশ।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর