কুরআন ও হাদিসের মানদন্ডে এরা কী মু’মিন?

জাকির হোসেন

কুরআন ও হাদিসের মানদন্ডে এরা কী মু’মিন?

কুরআন ও হাদিসে মু’মিনদের কতিপয় ইতিবাচক ও নেতিবাচক মানদন্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য হল যেমন, মুমিনরা বিনয়ের সাথে নামাজ আদায় করে, অনর্থক সময় ব্যয় করে না, যাকাত দেয়, ধৈর্যশীল ইত্যাদি। আর নেতিবাচক মানদন্ডের দু’য়েকটি উল্লেখ করছি- আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, মুমিন কটুভাষী হতে পারে না, লা’নতকারী হতে পারে না এবং অশ্লীল ও অশালীন কথা বলতে পারে না। (আল আদাবুল মুফরাদ, ৩১২; জামে তিরমিযী, ১৯৭৭) অশ্লীল ও অশালীন কথা ঈমানের ও মু’মিনের বৈশিষ্টের পরিপন্থী। 

মুমিনের কর্তব্য, এগুলো থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা। (মা’আরিফুল হাদীস, খ. ১, হিস্যা. ১, পৃ. ১০২) হারেছা বিন ওহাব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি লোক জান্নাতে যাবে না।’ (আবু দাউদ, ৪১৬৮) তর্ক বা ঝগড়ায় অশ্লীল বাক্য উচ্চারণকে ইসলাম খাঁটি মুনাফিকের আলামত হিসেবে গণ্য করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। এগুলো হচ্ছে- ১. আমানতের খেয়ানত করে ২. কথা বললে মিথ্যা বলে ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি করেঅ’ (বুখারী-২২৫৯, মুসলিম ১/২৫) আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করবে।” (সুরা নিসা: ১৪৫) 

অবিশ্বাসীরা রাসুল (সাঃ)কে অপবাদ দিয়ে বলেছে তিনি ধর্মদ্রোহী, পাগল, জাদুকর, কবি, গণক, নিন্দিত ব্যক্তি। তারা তাঁকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে, নামাজরত অবস্থায় তাঁর মাথায় উটের পচা-গলিত নাড়িভুঁড়ি ও আবর্জনা নিক্ষেপ করেছে, তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে, তাঁকে পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। এর বিরুদ্ধে রাসুল (সাঃ) কি কোনো গালাগাল করেছেন? চাচা আবু তালিব ও স্ত্রী খাদিজার (রাঃ) মৃত্যুর পর কুরাইশরা রাসুলের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের মাত্রা আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। মক্কার মাটিতে তিনি আর টিকতেই পারছিলেন না। তাই তিনি মক্কার ৭০ মাইল দূরে তায়েফবাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। 

দীর্ঘ ১০ দিন পর্যন্ত তিনি ঘুরে ঘুরে ইসলামের আহ্বান জানাতে থাকেন। কিন্তু তারা তাঁর কথায় কোনোই কর্ণপাত করল না; বরং তারা রাসুল (সাঃ)-এর সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিল। অবশেষে তারা সন্ত্রাসী দুষ্ট যুবকদের লেলিয়ে দিল। যুবকরা রাসুল (সাঃ)কে পাথরের আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করে তুলল। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর জীবন-আশঙ্কা দেখা দিল। মহানুভব রাসুল (সাঃ) তায়েফবাসীদের এহেন আচরণ সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য ক্ষমা ও করুণা প্রার্থনা করেন। অশ্লীল ভাষায় রাসুল (সাঃ)-কে যারা গালাগাল করত, বিষাক্ত বর্শা হাতে তাঁকে হত্যা করতে ওত পেতে থাকত, তাঁর দেহ মুবারক থেকে রক্ত ঝরাত, নামাজে নাড়িভুঁড়ি চাপা দিত, মাতৃভূমি ত্যাগ করতে যারা বাধ্য করেছিল, মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে যারা বিতাড়ন করেছে, লুটপাট করেছে, মুসলমানদের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে, রাসুল (সাঃ)-এর চাচা হামজা (রাঃ)-এর কলিজা যে চিবিয়ে খেয়েছে, উহুদের যুদ্ধে শহিদ সাহাবাগণের মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে যারা খণ্ড-বিখণ্ড-বিকৃত করেছে, মক্কা বিজয়ের পর হাতের কাছে পেয়েও তিনি তাদের থেকে কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি।

বরং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে সবাইকে উদারতা ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিয়ে বলেছিলেন, আজ তোমাদের ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত। মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। যে অন্যকে ক্ষমা করে তাকেও ভালোবাসেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (সুরা আল ইমরান: ১৩৪) 

ইসলামের এ ভালোবাসা, ক্ষমা, সম্প্রীতি, সহনশীলতার পরিবর্তে যারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে  অশ্লীল গালাগাল করছে, উগ্র আচরণ করছে, অত্যন্ত মারমুখী ও আক্রমনাত্মক ভাষায় মন্তব্য লিখছে  তারা কী রাসুল (সা.) এর ইসলাম অনুসরণ করছেন? মহান আল্লাহ বলেন, “মুহাম্মদ (সা.) এর মাঝেই তোমাদের জন্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” (সুরা আহজাব: ২১) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর রসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।” (সূরা হাশর: ৭) মহান রব আরও বলেছেন, “যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।” (সূরা নিসা: ৮০) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসুল (সা.)বলেন,‘………. সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোন জিনিস থেকে নিষেধ করব, তখন তোমরা তা হতে দূরে থাক। আর যখন আমি তোমাদেরকে কোন কাজের আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন কর।’ (বুখারী ৭২৮৮, মুসলিম ৩৩২১)

ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমে লক্ষ্য করবেন মুসলমানের লেবাস ও লিবাসধারী কিছু ব্যক্তি আপনার সাথে মতের অমিল হলেই তার যৌক্তিক ইসলামিক ব্যাখ্যা না দিয়ে ভয়ংকর রকম অশ্লীল গালাগাল ও উগ্রতার বহি:প্রকাশ ঘটাবে। আপনাকে ইয়াহুদীর দালাল, কাফির, নাস্তিক, সরকারের দালাল আখ্যা দিবে। এরা একবারেই অসহনশীল ও মারমুখী। কুরআন ও হাদিসের মানদন্ডে এরা কী মু’মিন? রাসূল (সা:) এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি (সা.) বলেন, শেষ যামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্পবয়স্ক যুবক ও নির্বোধ। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম কথা থেকে আবৃত্তি করবে। অথচ তাদের ঈমান তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না...’। (বুখারী, ৬৯৩০; মিশকাত, ৩৫৩৫) 

মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে রাসূল (সা.) আরো বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের মধ্যে মতানৈক্য ও ফিরক্বা সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায় এমন এক সম্প্রদায় বের হবে, যারা সুন্দর ও ভাল কথা বলবে আর কাজ করবে মন্দ। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।…….( আবু দাউদ, ৪৭৬৫; মিশকাত, ৩৫৪৩) 
রাসূল (সা.)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর সকল ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এরা আত্মপ্রকাশ করে। হিজরী ৩৭ সালে একটি ঘটনার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে সকল ধারণা স্পষ্ট হয়ে যায়। আলী (রাঃ)-এর শাসনামলে খলীফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক দল আলী (রাঃ)-এর এবং অন্য দল মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর পক্ষাবলম্বন করে। ক্রমে অবস্থা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যায়। অবশেষে ৬৫৭ সালের জুলাই মাসে ‘সিফ্ফীন’ নামক স্থানে আলী (রাঃ)-এর সাথে মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর যুদ্ধ শুরু হয়। 

যুদ্ধকালে সমস্যার সমাধানের লক্ষে দু’জন বিচারক নির্ধারণ করা হয় এই মর্মে যে, তারা দু’জনে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা উভয় পক্ষ মেনে নিবে। আলী (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) এবং মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে আমর ইবনুল আছ (রাঃ)-কে নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে ‘তাহকীম’ বা সালিস নির্ধারণ নামে পরিচিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শাম ও ইরাকের সকল সাহাবীর ঐক্যমতে বিচার ব্যবস্থা পৃথকীকরণ এবং আলী (রাঃ)-এর কুফায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে তখনই আলী (রাঃ)-এর দল থেকে কিছু লোক বের হয়ে যায় এবং ‘হারুরা’ নামক প্রান্তরে এসে অবস্থান করে। তাদের সংখ্যা মতান্তরে ৬, ৮, ১২ অথবা ১৬ হাযার হবে। বিচ্ছিন্নতার সংবাদ পেয়ে আলী (রাঃ) দূরদর্শী সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ)-কে তাদের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাদের সংশয়গুলিকে বিচক্ষণতার সাথে খন্ডন করায় বেরিয়ে যাওয়াদের মধ্য থেকে প্রায় ৪ অথবা ৬ হাযার লোক আলী (রাঃ)-এর আনুগত্যে ফিরে আসেন। 

অতঃপর আলী (রাঃ) কুফার মসজিদে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলে মসজিদের এক কোনায় ‘লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ’ ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানি না’ স্লোগানে তারা মসজিদ প্রকম্পিত করে তুলে। তারা আলী (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলে যে, আপনি বিচার ব্যবস্থা মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন! অথচ বিচারের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ। আপনি সূরা আন‘আমের ৫৭নং আয়াত ‘আল্লাহ ব্যতীত কারো ফায়সালা গ্রহণযোগ্য নয়’-এর হুকুম ভঙ্গ করেছেন। আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের দরুন আপনি মুশরিক হয়ে গেছেন ইত্যাদি। তাদের মতে আলী, মু‘আবিয়া, আমর ইবনুল আছ সহ তাহকীমকে সমর্থনকারী সকল সাহাবী কুফরী করেছেন এবং কাফের হয়ে গেছেন। ৪০ হিজরীর ১৭ই রামাযান জুম‘আর রাতে ফজরের সময় আলী (রাঃ)  বাড়ী থেকে বের হয়ে যখন ‘সালাত’ ‘সালাত’ বলে মানুষকে ডাকতে ডাকতে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তারা আলী (রাঃ)-এর মাথায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁর দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনদিন পর ৪০ হিজরীর ২১শে রামাযান ৬৩ বা ৬৪ বছর বয়সে তিনি শাহাদত বরণ করেন।


বাংলাদেশের জিহাদি সমাজে 'তসলিমা নাসরিন' একটি গালির নাম

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা

কুমারীত্ব পরীক্ষায় 'ফেল' করায় নববধূকে বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ

বাদশাহ সালমানের নির্দেশে সৌদিতে কমছে তারাবির রাকাত সংখ্যা


 

 ঐ দিন একই সময় মু‘আবিয়া (রাঃ)-কে আঘাত করলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আমর ইবনুল আছ (রাঃ) ভীষণ অসুস্থ থাকায় তিনি সেদিন মসজিদে আসতে পারেননি। ফলে তিনি বেঁচে যান। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত ইমাম খারেজাহ ইবনু আবী হাবীবাকে ঐ ঘাতক হত্যা করে। এভাবেই এরা খুলাফায়ে রাশেদার মত জান্নাতী ও বিশিষ্ট সাহাবীগণের প্রাণনাশ ঘটিয়ে ইসলামের সোনালী ইতিহাসকে কলংকিত করে। এই হত্যারও আগে আব্দুল্লাহ বিন খাববাব (রাঃ) রাসূল (সা.)-এর ফিৎনা সংক্রান্ত হাদীস শুনালে তারা তাঁকে হত্যা করে। তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীর পেট ফেড়ে বাচ্চা বের করে ফেলে দেয় এবং দু’টুকরো করে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। 

এদের কিছু বৈশিষ্ট্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরুপ – ১. তারা হবে নবীন, তরুণ ও নির্বোধ, অথচ নিজেদেরকে অনেক জ্ঞানী ভাববে। ২. তারা সর্বোত্তম কথা বলবে, কিন্ত সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ করবে। ৩. বাহ্যিকভাবে সুন্দর কথা বলবে। ৪. মুখে ঈমানের কথা বললেও তাদের অন্তরে ঈমানের লেশমাত্র থাকবে না। ৫. তাদের ঈমান ও সালাত তাদের গ্রীবাদেশ অতিক্রম করবে না। ৬. পথভ্রষ্ট হওয়ার পর এরা আর ঈমানের দিকে ফিরে আসবে না। যেমন তীর আর ধনুকের ছিলাতে ফিরে আসে না। ৭. তারা হবে ইবাদতে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী কিন্তু নিজেদের ইবাদতের জন্য হবে অহংকারী। লোকেরা তাদের ইবাদত দেখে অবাক হবে। ৮. তারা মানুষকে কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করবে। কিন্তু সে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই থাকবে না। অর্থাৎ কিতাবুল্লাহ দিয়ে দলীল গ্রহণ করবে। কিন্তু না বুঝার কারণে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল করবে। 

৯. মতভেদ ও মতানৈক্যের সময় এদের আবির্ভাব হবে। ১০.তাদের আগমন ঘটবে শেষ যামানায়। ১১. তারাও কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েই কথা বলবে কিন্তু অপব্যাখ্যা করবে। শান্তি, সম্প্রীতি, মৈত্রী, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম। মানবতার ধর্ম ইসলাম। সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের জন্য ইসলাম। উগ্রতা, অশ্লীল গালমন্দ, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধপরায়ণতা, সাম্প্রদায়িকতা ইসলাম নয়। ক্ষমা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার নাম ইসলাম। রমজানের দ্বারপ্রান্তে দাাঁড়িয়ে সকলকে আহ্বান জানাই ভুল পথ পরিহার করে   সঠিক ইসলাম অনুশীলন করুন। নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচুন, অন্যকে বাাঁচতে উদ্বুদ্ধ  করুন।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ডেল্টার চেয়ে ডেল্টা প্লাস ভারতকে বেশি উদ্বিগ্নতায় ফেলেছে

শওগাত আলী সাগর

ডেল্টার চেয়ে ডেল্টা প্লাস ভারতকে বেশি উদ্বিগ্নতায় ফেলেছে

ভারত তার নাম দিয়েছে- ‘ডেল্টা প্লাস’। ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট থেকে তার পোশাকি নাম হয়েছিল- ’ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’। জন্মস্থান ভারত তার নামের সাথে ‘প্লাস” যোগ করে দিয়েছে। 

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডেল্টা প্লাস’কে ’ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ডেল্টার চেয়ে ডেল্টা প্লাস ভারতকে বেশি উদ্বিগ্নতায় ফেলেছে।’ ডেল্টা’ না ’ডেল্টা প্লাস’-বাংলাদেশে কোনটা আছে এখন?

আরও পড়ুন:


সারাদেশে লকডাউনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত

বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবেদন সরকারি কর্মচারীদের

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

এই কাণ্ডটা দেখে খুব মন খারাপ হয়েছে

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

এই কাণ্ডটা দেখে খুব মন খারাপ হয়েছে

এই কাণ্ডটা দেখে খুব মন খারাপ হয়েছে। বাঙালির সময়জ্ঞান যে এতো কুৎসিতভাবে ফুটে উঠবে তা ভাবিনি। ছবির ছেলেটি, নোয়াম চমস্কির একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছে, এবং দেখিয়ে দিয়েছে যে সৌজন্যতা ভদ্রতা এগুলো আমাদের জন্য নয়। 

চমস্কি হয়তো নিতান্তই ভদ্রতার খাতিরে ছেলেটিকে সময় দিয়েছিলেন, কিন্তু চমস্কি অনুষ্ঠানে সঠিক সময়ে হাজির হলেও বাঙালি হাজির হয়েছে দেরিতে! এই বয়সের একটা মানুষ, এরকম একটি ফালতু ছেলেকে (ছেলেটির প্রশ্নের ধরণ শুনলেই আপনারা বুঝবেন কেন আমি তাকে ফালতু বলছি) সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করে আছেন, আর ছেলেটি তেল মেখে ঘুমোচ্ছে, তা ভাবতেই আমার গা ঘিনঘিন করে উঠছে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই চমস্কি বলেছেন যে আপনি দেরি করে ফেলেছেন, অনুষ্ঠানটি আরেকদিন করেন, কিন্তু ছেলেটি বারবার তাঁকে জবরদস্তি করতে লাগলো। বাঙালি সবসময় বাঙালির মতো চিন্তা করে। সে ভেবেছে, পরে যদি চমস্কি আর হাজির না হন! চমস্কি হয়তো রিস্কেজিউল করার কথা বলে আমাকে ফাঁকি দিতে চাইছে! 

যাইহোক, সে প্রশ্ন করা শুরু করলো, এবং একাত্তর টেলিভিশন হয়ে উঠলো। সে নির্ঘাত চমস্কির কোনো বই বা লেখা কখনো পড়ে নি, এবং পড়লেও বুঝে নি। কার সাথে কী নিয়ে আলোচনা করতে হয়, এই কাণ্ডজ্ঞানটুকোও যদি না থাকে, তাহলে কী বলার থাকে? আমি যে বলি, গাধা তার ঈশ্বরকেও গাধা ভাবে, এটি এমনি এমনি বলি না। 

যে দুটি প্রসঙ্গে সে প্রশ্ন করেছে, সে-প্রশ্নগুলোও যদি স্কলারলি করা হতো, তাহলেও ইজ্জত কিছুটা বাঁচতো। উত্তরদাতা কী বলবেন, তা অনেকখানি নির্ধারিত হয় প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন দ্বারা। চমস্কির সাথে কথা বলতে হলে চমস্কির মাপের প্রশ্ন আগে তৈরি করতে হবে। 

আরেকটা কথা না বললেই নয়। এই ছেলেটি যদি তার প্রেমিকার সাথে ভিডিও সাক্ষাতে আসতো, তাহলে কিন্তু এভাবে আসতো না। খুব সাজুগুজো করে আসতো, এবং তার কক্ষটিকেও ভালো করে গোছগাছ রাখতো। সে ক্যামেরাটিকে পর্যন্ত নিজের দিকে তাক করতে পারে নি। তাক করে রেখেছে কমলাপুর রেলস্টেশনের একটি ব্যাগের দিকে। তবে এগুলো কোনো বিষয় নয়, যদি মাথায় ঘিলু থাকতো। মাথায় ঘিলু না থাকলে, রাজপ্রাসাদের মালিককেও দরিদ্র দেখায়। 

চমস্কিকে আমরা জানিয়ে দিলাম, বাঙালির মাথায় কোনো ঘিলু নেই (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, তবে তা এখানে ধর্তব্য নয়)। 

আরও পড়ুন:


এবার নিষিদ্ধ পরীমণি‍!

করোনা: খুলনা বিভাগে একদিনে রেকর্ড ৩২ জনের মৃত্যু

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!

প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে সুইজারল্যান্ডে এমপি হলেন সুলতানা খান


আমি একবার এক বিয়ের দাওয়াতে গেলাম। গিয়ে দেখি পুরো কমিউনিটি সেন্টার খালি। বিয়ের কার্ডে লেখা ছিলো ১২ ঘটিকা। আমি ১২ ঘটিকায় গিয়ে উপস্থিত। আমি আবার তাদের কাছের কোনো আত্মীয়ও নই। সবাই আমাকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু করলো, আমি না কি খাওয়ার লোভে তাড়াতাড়ি চলে এসেছি! 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের নিরংকুশ ক্ষমতা পেলো কানাডা সরকার

শওগাত আলী সাগর

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের নিরংকুশ ক্ষমতা পেলো কানাডা সরকার

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের নিরংকুশ ক্ষমতা সরকারকে দিয়ে আনা প্রস্তাবিত বিলটি কানাডার হাউজ অব কমন্সে পাশ হয়েছে। এটি এখন সিনেটে যাবে।

সিনেটের অনুমোদন পেলে বিলটি আইনে পরিণত হবে। জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি হাউজ অব কমন্সে এই বিল আনে।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরলতা আমারে মাঝে মধ্যে ভীত করে

ইশরাত জাহান উর্মি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরলতা আমারে মাঝে মধ্যে ভীত করে

মানবাধিকারের কথা বলা দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখে বাংলাদেশকে খুব বাহবা দেন। বলেন, বাংলাদেশ খুব ভালো করেছে কিন্তু বাস্তব হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এইসব দেশ মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়িয়েছে গত চার বছরে তিন গুণ। 

সব বড়লোক দেশ নিজেদের লোকসংখ্যার চেয়েও বেশি টিকা নিয়ে বসে আছে। মুখে খালি বলে তোমাদেরে দেবো দেবো, দ্যায় না। মুলা ঝুলায়ে রাখে। আবার কোনও কোনও দেশ শর্ত জুড়ে দ্যায় যে টিকা দেবো তাইলে তোমরা ওই ওই ক্ষেত্রে আমাদের সাপোর্ট করবা? এইটা আমাদের মনে হয় যে নিউ টুল অব এক্সপ্লয়টেশন। 

আজকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই লোকটার সরলতা আমারে মাঝেমধ্যে ভীত করে।

ইশরাত জাহান উর্মি, সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আপু আপনি হেটারস ডিল করেন কিভাবে?

রাখী নাহিদ

আপু আপনি হেটারস ডিল করেন কিভাবে?

- আপু আপনি হেটারস ডিল করেন কিভাবে?

- হেটারস নানা পদের হয়। একেটার জন্য এক এক পদ্ধতি। সব অসুখ যেমন প্যারাসিটামল খেলে সারে না সব হেটারসকেও তেমন এক ট্রিটমেন্ট দিলে হয়না।অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা।

ধরেন কিছু হেটারস আছে যারা মুখে কিছু বলবেনা কিন্তু আপনার সমস্ত পোষ্টে এংরি রিয়েক্ট দিবে।

আপনি ধরে নিবেন এরা নিজের জীবন এবং এই জগত সংসার সবকিছুর উপর বিরক্ত। এরা কোন কিছুতেই ভাল দেখতে পায়না। আপনিও এদের দেখবেন না। জাস্ট ইগ্নোর।

একদল আছে সমস্ত আশাবাদী পোষ্টেও হতাশার কথা বলবে।

মনে রাখবেন An individual’s comment is the reflection of his or her personality. Not yours. সে দুনিয়াকে যেভাবে দেখে সেভাবেই তো বলবে। সেটা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই। আপনার ধৈর্য থাকলে তার কমেন্টে একটা স্মাইলি দিয়ে দেন। ইচ্ছা না হলে তাও দিয়েন না।

তিন নম্বর প্রজাতী অর্থাৎ সবচেয়ে ভয়ংকর প্রজাতী, যারা বাজে কমেন্ট করে।they are the ultimate losers and sick people. তারা মানসিক রোগী। অন্যকে বাজে কথা বলার মধ্যে দিয়ে তারা বিকৃত আনন্দ লাভ করে।

তাদের নিজেদের life এ কোন life নাই, happiness নাই, achievement নাই। তাই তারা অন্যদের ভালো সহ্য করতে পারে না।এরা ফেসবুকের ইবলিশ শয়তান। এদের সাথে কখনো পাল্লা দিতে যাবেন না, বোঝাতে যাবেন না, কমেন্ট এর রিপ্লাই দিতে যাবেন না। শয়তান এর কুমন্ত্রণা থেকে যেমন দূরে থাকতে হয়, এদের তেমন দূরে রাখেন। Just block them.

সবচেয়ে বড় বিষয় কোন মানুষের পক্ষে সবাইকে সুখী করা সম্ভব না।

আপনি মহান আল্লাহর স্তুতি গাইলেও একদল হা হা দিবে, আল্লাহর existence নিয়ে তর্ক করবে। আপনি ধর্ম নিরপেক্ষ পোষ্ট দিলে একদল বলবে শিরক করতেসেন।

রাজনৈতিক পোষ্ট দিলে কেউ বলবে আওয়ামীলীগের দালাল কেউ বলবে বিএনপির।মেয়েদের পক্ষে দিলে বলবে নারীবাদী, পুরুষদের পক্ষে দিলে বলবে পুরুষদের তেল দিতেসেন।

সুখের স্ট্যাটাস দিলে বলবে, সব লোক দেখানো। দুঃখের স্ট্যাটাস দিলে বলবে ভণ্ডামি।

আপনি যাই বলেন না কেন একদল কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করবেই।

ধরেন এখনই একদল বলবে আপনি মানুষকে কুকুরের সাথে তুলনা করলেন কেন?

আমার উত্তর হলো, যারা ঘেউ ঘেউ করবে তাদের আমি এর থেকে ভালো উপমা দিতে পারছিনা।এতে কুকুরের সামান্য অপমান যদিও হয়েছে কিন্তু কিছু করার নাই।

আমি ইদানিং জিরো টলারেন্স নীতি হাতে নিয়েছি।শুধু আমার পোষ্টে না অন্যের পোষ্টেও কারো খারাপ কমেন্ট দেখলেও, স্বপ্রনোদিত হয়ে সেই খারাপ কমেন্টকারীর প্রোফাইলে ঢুকে তাকে ব্লক দিয়ে আসি।


আরও পড়ুনঃ

জম্মু-কাশ্মীরে সংঘর্ষ: লস্কর-ই-তাইয়্যেবার কমান্ডারসহ নিহত ৩

যদি নারী অল্প পোশাক পরে ঘোরে তার প্রভাব পুরুষের উপর পড়তে বাধ্য: ইমরান

পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সাইফুলকে ধরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে: ফখরুল

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ


কারন, যাকে তার বাবা মা, শিক্ষক, স্কুল কলেজ এমনকি সমাজ কোন সুশিক্ষা দিতে পারে নাই, তাকে এই বয়সে আর কারো পক্ষেই মানুষ করা সম্ভব না।

যারা সমাজে নেগেটিভিটি ছড়ানো ছাড়া আর কোন অবদান রাখতে পারেনি তাদের জন্য জাতীয় স্লোগান হোক।

"বন্যেরা বনে সুন্দর, অসুস্থরা ব্লক লিস্টে"

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর