তারাবির নামাজ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

তারাবির নামাজ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

করোনার সংক্রণে রোধে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’র বিষয়ে আদেশ জারি করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ বন্ধ থাকবে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। এমন অবস্থায় প্রতি ওয়াক্তে নামাজ ও তারাবীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আসন্ন রমজানে দেশের সব মসজিদে তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ চালু থাকবে। রমজানে ইমাম, মুয়াজ্জিন, হাফেজসহ সর্বমোট ২০ জন মুসল্লি এতে অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। 

সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়..

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের  প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

তারাবীর নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদিমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

জুম'আর নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন।

সম্মানিত মুসল্লিগণকে পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও যিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির জন্য দু'আ করার অনুরোধ করা হলো।

নির্দেশনায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানায় মন্ত্রণালয়।

এর আগে ৬ এপ্রিল এক নির্দেশনায় রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন না করার বিষয়ে বলা হয় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। এছাড়া যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ না করার বিষয় যুক্ত করে একটি অফিস আদেশ জারি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমলের বিশেষ ফজিলত

আল্লাহর নামে শুরু করা মুমিনের প্রতিটি কাজই ইবাদত। ঘুমও এর মধ্যে একটি। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসির রয়েছে কার্যকরী আমল ও বিশেষ মর্যাদা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। কী সেই ফজিলত ও মর্যাদা?

আল্লাহর নামে ঘুমও একটি শান্তিময় ইবাদত। ঘুমের সঙ্গে আরও অনেক ইবাদত জড়িত। তন্মধ্যে এটি আয়াতুল কুরসির আমল করে ঘুম যাওয়া। আর এতে ফেরশতারা সারারাত ওই ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তার দোয়া করতে থাকেন। হাদিসের দীর্ঘ এক বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে-

‘যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে। তাহলে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’

এ সংক্রান্ত হাদিসের পুরো বর্ণনা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার দেখতে পেলেন একজন ব্যক্তি সাদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি তার হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব।’ তখন ওই ব্যক্তি বলল যে, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়াবশত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘গতকাল অপরাধীকে কী করেছে?’

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবারও আসবে।

এভাবে ওই চোর পরপর ৩দিন সাদকার মাল চুরি করতে আসে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও তাকে প্রত্যেকবার ছেড়ে দেন। সর্বশেষ সে (ওই চোর) আয়াতুল কুরসির আমলের কথা বর্ণনা করে বলে-

আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব; যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা জানতে চাইলে (ওই) চোর বলল-

‘রাতে যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন ফেরেশতাকে পাহারাদার নিযুক্ত করবেন। যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ঘটনা শুনে বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘তুমি কি জান সে কে?’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘না’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারি)

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’


আয়াতুল কুরসি ও অর্থ

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। (সূরা বাকারা ২:২৫৫)

আয়াতুল কুরসি কুরআনের অন্যসব আয়াতের সর্দার বা নেতা। আয়াতটি যে ঘরে পড়া হবে, সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যাবে।’এছাড়া আয়াতুল কুরসী অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ একটি আয়াত। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী কুরআন মাজীদের সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আয়াত এটি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ঘুমের আগে নিয়মিত আয়াতুল কুরসির আমল করা। সুন্নাতের আলো জীবন পরিচালনা করা। আর এতে মুমিনের জীবন হবে শান্তিময়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসির আমল যথাযথভাবে নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ২০-২৭, যেসব বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ২০ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ২০ ও ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

  وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ (20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)

“অতঃপর শহরের শেষ প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল (এবং) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (আল্লাহর) রাসূলগণকে অনুসরণ কর।” (৩৬:২০)

“তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (৩৬:২১)

গত আসরে আমরা একটি পথভ্রষ্ট জাতির লোকজনকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য কয়েকজন নবীর আগমন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে: কোনো কোনো মুমিন ব্যক্তি অত্যাচারী লোক ও শাসকের হাত থেকে নবী-রাসূলদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এখানে যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ছিল হাবিব নাজ্জার। তিনি শহরের শেষ প্রান্তে বসে শুনতে পান লোকজন আল্লাহর রাসূলদের নির্যাতন করে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নবীদের রক্ষা করার জন্য উপস্থিত জনতার সাহায্য চান। হাবিব নাজ্জার একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে জানতেন যে, কাফেরদেরকে ঈমানের পথে আহ্বান করতে হয়। তিনি উপস্থিত জনতাকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়ে বলতে থাকেন তারা যেন এসব রাসূলের আনুগত্য করেন যারা তাদের হেদায়েতের বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ চান না।

এ দুই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য।
২. ধর্ম রক্ষা করার ক্ষেত্রে সঙ্গীহীন ও একা থাকা কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে একাই লড়াই করতে হবে। দ্বীন রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সংখ্যার অপ্রতুলতা দেখে ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।
৩. আমরা তাদেরই অনুসরণ করব যারা সঠিকপথ প্রাপ্ত হয়েছেন।

সূরা ইয়াসিনের ২২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (22) أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آَلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (24)

“কেন আমি তাঁর এবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা সবাই প্রত্যাবর্তিত হবে?” (৩৬:২২) 

“আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব, করুণাময় (আল্লাহ) যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে যাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না?" (৩৬:২৩)

“এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।”(৩৬:২৪)  

যিনি নবীদের রক্ষা করার জন্য শহরের মাঝখানে ছুটে যান এবং উপস্থিত জনতার সাহায্য চান তিনি নিজের একত্ববাদী বিশ্বাস তুলে ধরে বলেন: তোমাদের মূর্তি ও কল্পিত উপাস্যদের উপাসনা করার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ আমি জানি, দয়াময় আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন। যদি কারো উপাসনা করতে হয় আমি একমাত্র তাঁর উপাসনা করব। মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং যুক্তি উভয়ই বলে যিনি সৃষ্টিকর্তা তাঁর ইবাদত করতে হবে। কিন্তু তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করো সেগুলো কোনো যুক্তির ধোপে টেকে না। কারণ, কেউ যদি আমার ক্ষতি করতে চায় তাহলে এসব মূর্তি আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং কেউ যদি আমার উপকার করতে চায় তাহলেও তাতে বাধা দেয়ার কোনো শক্তি এসব উপাস্যের নেই। কাজেই বিবেকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আমি তোমাদের হাতে তৈরি মূর্তির উপাসনা করতে পারব না। যদি করি তাহলে সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. যেকোনো যুক্তির বিবেচনায় সৃষ্টিকর্তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অন্য কারো উপাসনা কোনো যুক্তির বিচারেই টেকে না।
২. আল্লাহ তায়ালা শুধু আমাদের সৃষ্টিকর্তাই নন একইসঙ্গে আমাদের জীবন পরিচালনাও হয় তাঁর নির্দেশে। কাজেই ইবাদতের একমাত্র যোগ্য ও দাবিদার হচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন


বারডেম হাসপাতালের নীচে আগুন

ওই নারী যত উপরে পা তুলে আঘাত করল, শতকরা ৯৮ জনই এটা পারে না: টিপু

পরীমনির পোশাক নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্য, সাংসদ টিপু বললেন ‌‘নাসিরকে চিনি’

ভারতের নতুন আতঙ্ক ‘গ্রিন ফাঙ্গাস’


সূরা ইয়াসিনের ২৫ থেকে ২৭ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

  إِنِّي آَمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ (25) قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)

“আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার বক্তব্য শুনে নাও।” (৩৬:২৫)

“(শেষ পর্যন্ত তাকে শহীদ করা হলো এবং) তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনক্রমে জানতে পারত-”(৩৬:২৬) 

“যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (৩৬:২৭)

নবীদের রক্ষার্থে ছুটে যাওয়া ব্যক্তি ঘোষণা করেন, আমি এই নবীদের প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাদের সাহায্য করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু গোঁড়া ও অন্ধ কাফেররা তার এ সত্যবাণী শুনতে মোটেই আগ্রহী ছিল না। তারা তাকে হত্যা করে এই ভেবে যে, এই ব্যক্তির কণ্ঠে আর উপদেশবাণী শুনতে হবে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেন। এটি হচ্ছে বারযাখি জান্নাত যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল্লাহর যেসব বান্দা শহীদ হয়েছেন তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এই জান্নাতে অবস্থান করবেন।

শহীদদের জীবিত থাকা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলেন: যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তুমি কখনো তাদেরকে মৃত মনে করো না। বরং তারা জীবিত ও নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিকাপ্রাপ্ত। কাজেই নিজ জাতির লোকদের হাতে নিহত ওই ঈমানদার ব্যক্তি তার হত্যকারীদের জন্যও দোয়া করেছেন যেন তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এবং জান্নাত লাভ করতে পারে।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিতে হবে।
২. আল্লাহর প্রেমে মত্ত ব্যক্তিরা সব মানুষের হিতাকাঙ্ক্ষী। মানুষ তাদেরকে কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা কষ্ট দানকারী ব্যক্তিদের মঙ্গল কামনা করেন। এসব মানুষ কষ্ট পাক তা তারা চান না।
৩. আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণ কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বারযাখি জগতে বিশেষ জীবন ও জীবিকাপ্রাপ্ত হন। তারা ওই জগতে জান্নাতের সব আরাম আয়েশ ভোগ করেন।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে সঙ্গে নেক আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ঈমানদার ও নেক আমলকারীদের জন্য নিয়ামাতের সুসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক

ঈমানদার ও নেক আমলকারীদের জন্য নিয়ামাতের সুসংবাদ

মহাগ্রন্থ আল কুরআনে বিশ্বে এমন কিছু সৃষ্টি হয়নি যে সেটা নেই। সকল সমস্যার সমাধান এই মহাগ্রন্থ আল কুরআন। পবিত্র ‍কুরআনুল কারিমে মুমনদের জন্য চিরকালীন সুখের ব্যবস্থা আর কাফিরদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আগুনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আলোচ্য আয়াত ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন-

وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

আর (হে রাসুল!) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোনো ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ২৫)

অত্র আয়াতে দুই শ্রেণীর লোকের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ১. ঈমানদার এবং ২. সৎকাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি। নেক আমল এবং ঈমান একটা আরেকটার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঈমান ব্যতিত নেক আমল তথা দুনিয়ার কোন ভালো কাজই গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ঈমানের সহিত সুন্নাত তরিকায় নেক আমল করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যথায় প্রত্যাখাত হবে।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১৩-১৯, শিক্ষাণীয় দিক

কুমিল্লায় নকল বিটুমিন-মবিল-ডিজেল তৈরির কারখানার সন্ধান

মদ পানে গভীর রাতে যুবক-যুবতী নিয়ে ক্লাবে যেতেন পরীমনি

বোট ক্লাবের আগের রাতে গুলশানে আরেক পরীকাণ্ড


ঈমানদার ও নেক আমলকারীর জন্য সুসংবাদ হচ্ছে-

১. তাঁরা বেহেশতে থাকবে, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত;
২. সেখানে তারা ফলমূলপ্রাপ্ত হবে। এ ফল দেখতে এবং আকার দুনিয়ার ফলের মতোই হবে। কিন্ত স্বাদের বেলায় দুনিয়ার ফলের কোনো তুলনাই হবে না। হাদিসে এসেছে, ‘এমন নিয়ামত- যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো মানুষের অন্তরে তার সঠিক ধারণা উদয় হয়নি। (বুখারি)
৩. তাঁদের জন্য থাকবে রক্তস্রাবমুক্ত, নিফাসমুক্ত এবং ঘৃণিত ও অপবিত্র জিনিস হতে মুক্ত পবিত্র রমণীগণ।
৪. তাঁরা চিরকাল জান্নাতের বসবাস করবে- হাদিসে এসেছে- ‘জান্নাতিরা জান্নাতে আর জাহান্নামিরা জাহান্নামে চলে যাওয়ার পর একজন ফেরেশতা ঘোষণা দেবেন, ‘হে জাহান্নামবাসীগণ! আর মৃত্যু নেই। আর হে জান্নাতবাসীগণ! আর মৃত্যু নেই। যে দল যে অবস্থায় আছে, সব সময় ঐ অবস্থায়ই থাকবে। (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে সঙ্গে নেক আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১৩-১৯, শিক্ষাণীয় দিক

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১৩-১৯, শিক্ষাণীয় দিক

সূরা ইয়াসিন পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ১৩ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ (13) إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ (14)

“আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রাসূলগণ আগমন করেছিলেন।” (৩৬:১৩)

“আমি তাদের নিকট দুজন রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তৃতীয়জনের মাধ্যমে (যিনিও ছিলেন নবী) তাদেরকে শক্তিশালী করলাম। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল হিসেবে) প্রেরিত হয়েছি।” (৩৬:১৪)

এই দুই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবীজীকে উদ্দেশ করে বলছেন, হে রাসূল! অতীত থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য মক্কার মুশরিকদের সামনে অতীতের একটি জাতির ঘটনা বর্ণনা করুন যে জাতির কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য কয়েকজন নবীকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই জাতির লোকজন গোঁড়ামি ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে তাদের বিরোধিতা করে। তারা ভেবেছিল মহান আল্লাহ তাদেরকে এমনিতেই ছেড়ে দিয়েছেন এবং তারা মন যা চায় তাই করতে পারে।

কিন্তু নবী-রাসূলগণ এসেছেন মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে। তাঁরা সব সময় একথাই বলেছেন যে, তারা নিজে থেকে নয় বরং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর দিকে আহ্বান জানানোর দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন। নবীরা বলেছেন, আমরা আল্লাহর বার্তা বহন করে এনেছি এবং এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো কিছু কামনা করি না।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় কয়েকটি দিক হলো:

১. অতীত জাতিগুলোর জীবনযাপন পদ্ধতি ও তাদের সেই জীবনের পরিণতিতে বর্তমান ও ভবিষ্যত জাতিগুলোর জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

২. নবী-রাসূলগণ তাদের রিসালাতের দায়িত্ব পালনের জন্য মানুষের কাছে ছুটে যেতেন; মানুষ তাদের কাছে আসবে- এই আশায় বসে থাকতেন না।

এই সূরার ১৫ থেকে ১৭ নম্বর পর্যন্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ (15) قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ (16) وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ (17)  

“মুশরিকরা বলল, তোমরা আমাদের মতই মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, রহমান আল্লাহ (তোমাদের প্রতি) কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলে যাচ্ছ।” (৩৬:১৫)

“(রাসূলগণ) বললেন, আমাদের পরওয়ারদেগার জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি (রাসূল হিসেবে) প্রেরিত হয়েছি।” (৩৬:১৬)

“পরিস্কারভাবে আল্লাহর বাণী পৌছে দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই।” (৩৬:১৭)

নবী-রাসূলদের দাওয়াতের বাণী প্রত্যাখ্যান করার জন্য যুগে যুগে কাফিররা যে অজুহাত দেখিয়েছে তা হলো- তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ। আল্লাহর যদি আমাদেরকে হেদায়েত করার ইচ্ছা থাকত তাহলে আমাদের মতো মানুষ না পাঠিয়ে অবশ্যই ফেরেশতাদেরকে পাঠাতেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের কাছে ফেরেশতা পাঠালেও এই মানুষগুলিই বলত: খাওয়া, পরা এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের বিষয়ে যেসব দিক-নির্দেশনা তারা নিয়ে এসেছে এগুলো তো তারা নিজেরা পালন করে না। শুধু আমাদেরকেই করার নির্দেশ দেয়।

আল্লাহতায়ালা এ বিষয়টি জানেন বলেই মানুষের মধ্য থেকেই তাদেরকে হেদায়েতের জন্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন যাতে তারা কোনো অজুহাত দেখাতে না পারে। পাশাপাশি তিনি চেয়েছেন, নবী-রাসূলগণ আগে আল্লাহর নির্দেশ পালন করবেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। মুশরিকরা যদি আল্লাহর অস্তিত্বকে স্বীকার করে তাহলে তাদেরকে একথাও মেনে নিতে হবে যে, প্রজ্ঞাবান ও দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত করার জন্য তাদেরই মতো একজন মানুষকে তাদের কাছে পাঠাবেন। অথচ মুশরিকরা আল্লাহকে রহমান বলে ডাকত এই আশায় যে, তিনি তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করবেন না এবং তাদেরকে যা খুশি তাই করার অনুমতি দেবেন। কিন্তু তাদের এ আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে নবী-রাসূলরা মুশরিক ও কাফিরদের বলেন, যে আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাকে তোমরা বিশ্বাস করো তিনিই আমাদেরকে পাঠিয়েছেন তাঁর নির্দেশাবলী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিতে। আমরা যদি মিথ্যা বলতাম তাহলে আল্লাহ অবশ্যই আমাদেরকে অপদস্থ করতেন এবং মিথ্যা নবী দাবি করার অনুমতি আমাদেরকে দিতেন না।

এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. অনেক মানুষ মনে করে আল্লাহর রহমতের অর্থ হলো তিনি এই রহমত নামের গুণে মানুষের কাছ থেকে হিসাব নেবেন না। অথচ পারিবারিক জীবনেও যে পিতামাতা সন্তানের প্রতি দয়ালু তারাও সন্তানকে যা খুশি তাই করার অনুমতি দেন না। বরং তাকে স্কুলে পাঠান, আদব কায়দা শেখান এবং কথামতো না চললে প্রয়োজনে শাস্তি দেন।

২. নবী-রাসূলগণ মানুষকে উদাসীনতার ঘুম থেকে জাগিয়ে আলোর পথ দেখান। তবে মানুষ হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নবীরা দিতে পারেন না। বেশিরভাগ মানুষ ঈমান না আনলেও নবীরাসূলগণ আমৃত্যু দ্বীনের দাওয়াত চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন


কুমিল্লায় নকল বিটুমিন-মবিল-ডিজেল তৈরির কারখানার সন্ধান

মদ পানে গভীর রাতে যুবক-যুবতী নিয়ে ক্লাবে যেতেন পরীমনি

বোট ক্লাবের আগের রাতে গুলশানে আরেক পরীকাণ্ড

গুলশানের ক্লাবে রাতে ভাঙচুর : পরীমনি যা বলছে


সূরা ইয়াসিনের ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ (18) قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَئِنْ ذُكِّرْتُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ (19)

“তারা (নবীদেরকে) বলল, আমরা তোমাদের (উপস্থিতিকে) অশুভ-অকল্যাণকর দেখছি। যদি তোমরা (আহ্বান জানানো থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।” (৩৬:১৮)   

“রাসূলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! সদুপোদেশ দেয়া হয়েছে বলে কি (তোমরা আমাদেরকে অশুভ-অকল্যাণ মনে করছে?) বস্তুতঃ তোমরা সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায় ছাড়া কিছু নও।” (৩৬:১৯)   

এই আয়াতে কাফিরদের যুক্তি খণ্ডন করে বলা হচ্ছে, তারা নবীদের বক্তব্য এবং তাদের মানবিক ও নৈতিক উপদেশ না শুনে উল্টো তাঁদের সঙ্গে অবজ্ঞা ও ধমকের সুরে কথা বলে। তারা নবীদেরকে হুমকি দিয়ে বলে, তোমাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। হয় তোমাদের বকবকানি বন্ধ করো অথবা আমাদের জনপদ ছেড়ে চলে যাও। তা না হলে তোমাদেরকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হবে।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. দ্বীনের দাওয়াতের বিরোধীরা সব সময় অবজ্ঞা ও হুমকির ভাষায় কথা বলে।

২. মানুষ দৃশ্যত আরাম-আয়েশে থাকা সত্ত্বেও কুফর ও গোনাহের কাজ তার জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনে।

৩. মানব জাতিকে আল্লাহ তায়ালা নানাভাবে সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

প্রস্রাব-পায়খানার বেগ নিয়ে কি নামাজ পড়া যাবে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রস্রাব-পায়খানার বেগ নিয়ে কি নামাজ পড়া যাবে?

প্রস্রাব-পায়খানা ও বায়ু চাপ রেখে অনেকেই নামাজ আদায় করে থাকেন। এটি রাসুল (সা.) পছন্দ করেননি, এ জন্য ওলামায়ে কেরাম এটাকে মাকরুহ বলেছেন। প্রস্রাব-পায়খানা ও বায়ু চাপ রেখে নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়। আর তাই হাদিস ও ফেকাহের কিতাবে এটি করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যখন নামাজ দাঁড়িয়ে যায়- আর তোমাদের কারও প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দেয়; সে যেন প্রথমে প্রয়োজন সেরে নেয়। -জামে তিরমিজি, হাদিস- ১৪২

হজরত সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য হালাল নয় কারও গৃহাভ্যন্তরে অনুমতি ব্যতীত দৃষ্টিপাত করা... এবং কেউ যেন প্রস্রাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজ না পড়ে। -জামে তিরমিজি, হাদিস- ৩৫৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস- ৯১

হজরত নাফে রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, এক ব্যক্তি পেটে বায়ুর চাপ বোধ করে। তিনি বললেন, বায়ুর চাপ বোধ করা অবস্থায় সে যেন নামাজ না পড়ে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস- ৮০২২

উপরোক্ত হাদিস ও বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, প্রস্রাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ আরম্ভ করা মাকরূহে তাহরিমি। আর স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ শুরু করার পর নামাজের মাঝে এমন চাপ সৃষ্টি হলে নামাজের পর্যাপ্ত ওয়াক্ত বাকি থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যাওয়া মাকরূহ। এ ধরনের ক্ষেত্রে নামাজ ছেড়ে দিয়ে প্রয়োজন শেষ করে পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করা কর্তব্য।

তবে হ্যাঁ, নামাজের ওয়াক্ত যদি এত কম থাকে, যাতে প্রয়োজন সারতে গেলে নামাজ কাজা হয়ে যাবে; তাহলে সম্ভব হলে এ অবস্থায়ই নামাজ পড়ে নিবে।

অবশ্য পর্যাপ্ত ওয়াক্ত থাকার পরও কোনো ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী যদি এ অবস্থায় নামাজ পড়ে নেয় তবে এমনটি করা মাকরূহ হলেও তাদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়া জরুরি নয়। তবে ভবিষ্যতে এরূপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ১/৩৪১, ৬৪৪

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর