অমিত শাহ’র বক্তব্যের ‘উচিৎ জবাব’ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ’র বক্তব্যের ‘উচিৎ জবাব’ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অমিত শাহ’র বক্তব্যের ‘উচিৎ জবাব’ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

‌‘বাংলাদেশের গরিবরা খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে’ আনন্দবাজারকে দেওয়া বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র এমন বক্তব্যের জাবাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।  

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত। আমাদের দেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে চাইলে ড. মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে এগিয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী লোক আছেন, দেখেও দেখেন না। জেনেও জানেন না। তবে তিনি (অমিত শাহ) যদি সেটা বলে থাকেন, আমি বলব, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত। বরং ক্ষেত্র বিশেষে বাংলাদেশ তাদের দেশ থেকে অনেক এগিয়ে।


করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার লকডাউনের নামে চালাচ্ছে শাটডাউন: ফখরুল

আব্দুল মতিন খসরু লাইফ সাপোর্টে

ওবায়দুল কাদের কিংবা জাহিদ মালেক যদি এই ডিগ্রিটা পেতেন, তখন কী করতাম: সুমন্ত আসলাম

শ্রীপুরে মসজিদে অচেতন থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধা


ড. মোমেন জানান, ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের ভালো কোনো বাথরুম নেই। আর আমাদের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো বাথরুম ব্যবহার করেন। আমার দেশের শিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব আছে। তবে অশিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব নেই। আর ভারতের লক্ষাধিক লোক বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই আমাদের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, তারা যদি এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আমি বলব, তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। আর তাদের মনে হয় আমরা সঠিক তথ্য জানাতে পারিনি। এটা আমাদের দীনতা। তাদের সঠিক তথ্য জানাতে আমরা সচেষ্ট থাকব।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। অমিত শাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সমস্যা অনুপ্রবেশ। এটি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী একটি রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থের কারণে প্রথমে কমিউনিস্ট এবং পরে তৃণমূল অনুপ্রবেশকে মদত দিয়েছে, তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিরোধ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের জন্য চিন্তার। আগামী ১০ বছর পর কলকাতার নাগরিকও অনুপ্রবেশ থেকে বাঁচতে পারবে না।

তিনি বলেন, এখানে অনেক মানুষ শরণার্থী হয়ে এসে বেআইনিভাবে বসবাস করছে। আমরা এখানে ক্ষমতায় এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তাদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার অধিকার দেব। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের জীবনযাত্রারও অনেক পরিবর্তন হবে।

এরপর ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে?

জবাবে অমিত শাহ বলেন, এর দুটি কারণ। এক, বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় নিচুতলায় পৌঁছায়নি। যেকোনও পিছিয়ে-পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটি প্রথমে কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছায়, গরিবদের কাছে নয়। বাংলাদেশে এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সেই কারণেই অনুপ্রবেশ চলছে। আর যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই থাকছে, তা নয়। তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

‘দ্বিতীয়, আমি মনে করি, এটি প্রশাসনিক সমস্যা। প্রশাসনিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে। সেটি পশ্চিমবঙ্গের সরকার করেনি। ’

news24bd.tv তৌহিদ

সম্পর্কিত খবর

;