এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

আব্দুর নুর তুষার

এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

আমি করোনা নিয়ে বহু কথা বলেছি। এখনো পর্যন্ত ভুল কিছু বলি নাই।  যা বলেছি কোনটাই নিজের জন্য না। আমি মনপ্রাণ দিয়ে চেয়েছি মানুষের উপকার হোক। আগে থেকে সতর্ক করেছি।  বারবার লিখেছি। বলেছি। প্রতিটি ঔষধ , প্রতিটি বিতর্ক, প্রতিটি নতুন খবর বিশ্লেষণ করেছি।

মৃদু কথায় কাজ না হলে জোরালো কন্ঠে , আঘাত করেও লিখেছি। মানুষ যেন শোনে , বোঝে, বাঁচে। আমি তো জানিই কি করা উচিত বা উচিত না। এসবই করেছি কারণ ভেবেছি সবার জীবন মূল্যবান। জানলে হয়তো ভালো হবে। একজনেরও যদি উপকার হয় তবে হোক। আমি বিবেকের কাছে দায়হীন থাকতে চেয়েছি। কেউ যদি প্রশ্ন করে সব জেনেও চুপ করেছিলেন কেন?

আমি বলতে পারবো , আমি চুপ করে ছিলাম না। গালাগাল দিয়েছেন অনেকে। আক্রমণ করেছেন। জঘন্য ভাষায়। সেটাও সহ্য করেছি। এসব আমাকে কখনো আক্রান্ত করে না। আমি কুকুরের ঘেউ শুনি না। আমি কোকিলের গান শুনি। ডাস্টবিনের ময়লা দিয়ে ভরাট করা জমিতে প্রাসাদের চেয়ে একটি ছিন্ন গোলাপও আমার কাছে অনেক দামী।

গত বছর এর শেষ থেকে যে ইউফোরিয়াতে সবাই ছিলেন সেটা নিয়েও আমি লিখেছিলাম। সাবধান করেছিলাম।  ব্লুমবার্গের রিপোর্টটির অন্তসারশূণ্যতা নিয়েও বলেছি। আমাকে বলা হয়েছে আমি নাকি হুদাই এসব বলি।  জীবন না থাকলে এই জীবিকা কি কাজে লাগবে?

যে পরিমান টাকা আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লুটেরারা লুট করেছে তার অর্ধেক দিয়ে জাতিকে তিনমাস লকডাউনে রাখা সম্ভব ছিলো। লকডাউন বাঁচার জন্য জরুরী। বাঁচলে আবার শুরু করা যায় সব। না থাকলে কোটি টাকাও কিছু না। কি কাজে লেগেছে টাকা তাদের?  যারা ৩০০০ কোটি ৬০০০ কোটি টাকা ধার করে মরে গেছেন? ফিউচার পার্ক কি ফিউচার এর নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে? হাজার হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট জোনের মালিক নিজের ভাইকে সাড়ে তিন হাতের বেশী জমি দিতে পেরেছে?  

এবছরেও সবার আগে লকডাউনের বিষয়ে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম, যখন লুংগী নৃত্যের ভিডিও তে ফেসবুক সয়লাব ছিলো। মৃত্যু যখন হবার তখনই হবে। এটা আমরা বলি কারণ হলো মৃত্যুকে রিভার্স করা যায় না।  কিন্তু আমরা ভুলে যাই জীবনে বহুবার সাবধানতা ও চিকিৎসার কারণে আমরা মৃত্যু থেকে বেঁচে গিয়েছি। 

টিকা না থাকলে আমাদের মধ্যে অনেকে শৈশবে গুটি বসন্ত, হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া , টিটেনাসে মারা যেতাম। চিকিৎসা না থাকলে এখন যাদের হার্টে স্টেন্ট /রিং পরানো তাদের অনেকে থাকতেন না। ডায়ালিসিস এর রোগীরা বহু আগেই বাঁচতেন না।
ইনসুলিন না থাকলে বহু মানুষ ত্রিশ বছর বয়সে পৌঁছাতেন না।

তাই সতর্কতা ও সাবধানতা জরুরী। মৃত্যু যখন আসার তখনি আসে। কিন্তু গত এক বছর টিকা আসার আগেও যারা বেঁচে থাকলেন আর এখন আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছেন, এদের অনেকেই অসাবধান হয়ে গিয়েছিলেন। যেমন এখন জাতীগত ভাবে আমরা অসাবধান হয়ে গিয়েছি।পুরো মানবজাতি নির্মূল হবে না। কিন্তু সংক্রামক রোগের প্রতিটি মৃত্যু হবে মূলত: কারো না কারো অসাবধানতার কারণে।

এখনো বিজ্ঞানকে অবহেলা করে , জীবিকার কথা বলে বলে, যতো ধরনের তুঘলকি কাজ চলছে। ১৬ কোটি মানুষ, তাই সহজে আমরা নি:শেষ হবো না। কিন্তু প্রতিটি প্রাণের অবসানের জন্য কেউ না কেউ দায়ী হবো। সব কাজ ঠিক মতো করার পরেও ব্যর্থ হলে সেটাকে ভাগ্য বলা যায়। ভুল কাজ করে ব্যর্থ হলে সেটা ভাগ্য না, সেটা বোকামী।আমি এখন প্রতিদিন প্রিয়জনদের মৃত্যুর খবর পাচ্ছি আর লাশের হিসাব রাখছি। করোনা নিয়ে আর লিখবো কিনা সেটাও ভাবছি। 

আমার যে খালাতো ভাইটা করোনা হবার পরে নিজের কথা না ভেবে নিজের অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলে কাঁদছিলেন, যিনি প্রতি সপ্তাহে আমার মন ভালো রাখার জন্য আমাকে ফোন করতেন, তিনি ৪ এপ্রিলে দুপুর বারোটায় আমার সাথে কথা বলে , ৮ এপ্রিলে মরে গেছেন। আমার যে বন্ধুটা করোনার মধ্যেও গরীব মানুষের চিকিৎসা করেছে, ফোন করে যার কাছে আমি রোগী পাঠিয়েছি, সে মরে গেছে। আমাকে সারাক্ষন মনের শান্তি খুঁজতে বলতেন যিনি সেই বন্ধুর মতো পর হয়েও আপনের চেয়ে বেশী শাকিল ভাইটাও মরে গেছে। আমার অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালক ফরিদ ভাই মরে গেছে। আমার প্রোডাকশন চিফ সামিউল ভাই মরে গেছে। আমার দুজন দুলাভাই মরে গেছে। 

আমি করোনায় বন্দীদশায় বসে বসে হিসাব রাখি দিন ভালো হলে যদি আমি বেঁচে থাকি তবে মোট কয়টা কবর জিয়ারত করতে হবে। এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু আপনারা নিজেদের মূল্য বুঝতে শিখুন।  নিজেকে বাঁচান। নিজের পরিবার পরিজনকে সুস্থ রাখুন। দয়া করে মানুষের সততা ও সৎচেষ্টাকে সাহায্য করুন। নিজে পারেন না বলতে। দালালী আর ভয় আপনার চামড়া থেকে রক্তে সর্বত্র।  সত্য বলতে না পারলে অসুবিধা নাই । মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকুন। তেলের শিশি পকেটে রেখে, হাতটা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেন।

যার জন্য মিথ্যা বলছেন, তিনি বা তারা আপনার সাথে কোথাও যাবেন না। মৃত্যুর পরে তো দূরের কথা। আপনাকে দেখতে হাসপাতালেও যাবেন না। এই মহামারীতে কোন একজনের জন্য শোকের আগেই আরেকজনকে হারাতে হবে।

শোকের সময় কোথায়? নিজেকে মূল্য দিন। বাঁচার চেষ্টা করেন। প্রিয়জনকে বাঁচাতে নিজের ভোগ উপভোগ কমান। লোভের ওপর লাগাম টানুন।শত্রুতা আর ঘৃণা মেটাবার অনেক সময় পাবেন।  এই মহামারীতে শত্রুকেও ভালোবাসা দিন। হয়তো বিপদের দিনের পরে পৃথিবীটা আরো সুন্দর হবে। হয়তো আজকের সামান্য ভালোবাসার বীজ একদিন মহিরুহ হবে। 

সেই অনাগত দিনের কথা ভেবে বেঁচে থাকুন, নিরাপদে থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানুন।

(এটা সবার জন্য নয়। যাদের জন্য বলা , তারা জানেন তারা কারা, আপনারা অনেকেই জানেন তারা কারা। আমাকে গালি দিতে চাইলে, আমার ওপরে রাগ হলেও তারা বেঁচে থাকুন।)

 লেখক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

মিল্লাত হোসেন

বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

ব্যক্তি বাবারা যদি এতো ভালোই হবেন, সমষ্টির এতো দুঃখ কেনে?

১৮৮৬ সালে প্রকাশিত স্কটিশ লেখক রবার্ট লুই স্টিভেনসনের প্রবাদবাক্যে পরিণত হওয়া "স্ট্রেঞ্জ কেস অব ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড" নামের উপন্যাসের মূল চরিত্র ডাক্তার হেনরি জেকিল এমন একটি ঔষধ আবিষ্কার করেন যা সেবন করলে মানুষ তার স্বভাবের বিপরীত রূপ ধারণ করতে পারতেন। এভাবে ড. জেকিল দিনমানে থাকতেন দয়া, মায়া ও মানবিকতায় উদ্ভাসিত একজন আদর্শ মানুষ। সেই তিনিই আবার রাতে ওই ওষুধটি সেবন করে হয়ে উঠতেন ভীষণ খারাপ মানুষ। হেন অপকর্ম 'নেই তিনি করতে পারেন না। আরেকটি ঔষধ সেবনের মাধ্যমে আবার তিনি স্বাভাবিক ড. জেকিলে রূপান্তরিত হতে পারতেন। এভাবে নিজের মধ্যে এক দ্বৈতসত্তাকে ধারণ করতে থাকেন। এই অশুভ সত্তাটির নাম দিলেন তিনি 'মি. হাইড'।

নিজের সন্তানকে পৃথিবীর সব বাবাই ভালবাসেন, এটা বিরল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বলেই দেয়া যায়। পুত্র-কন্যার কাছেও "পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা"ই হন তারা। আজ বাবা দিবসে সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমের সাথে সাথে ঘরোয়া জীবনেও বাবার প্রতি সন্তানদের আবেগ-ভালবাসার প্রকাশ উথলে উঠতে দেখা যাবে।

আমাদের বাবারা বা আমরা নিজেরাও যারা বাবা, তারা নিজ নিজ সন্তানের জন্য যে কোনো কিছু করতে একপায়ে খাড়া সবসময়। ছেলে-মেয়ে নাতি-নাতকুরের জন্য যে কোনো আত্মত্যাগেই প্রস্তুত থাকেন সব বাবাই। মৃত্যুমুখে থাকা পুত্র হুমায়ুনের জন্য সম্রাট বাবুরের "পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়" এর গল্প তো কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে।

ঠিক আছে, মানুষের ইতিহাসে এর অপরিসীম মূল্য আছে বটে, তবে অনেকখানি তলিয়ে দেখলে নেতি'র দিকটাও উঠে আসবে। যুদ্ধজয় বা রাজ্য পরিচালনার দোহাই দিয়ে কিংবা নিছক খামখেয়ালিতে কতো লক্ষ সন্তানকে পিতৃ-মাতৃহারা করেছিলেন, জীবনকে উল্টে দিয়েছিলেন কতো কোটি সন্তানের- সেই হিসেব ইতিহাসে নেই। "আব্বু, তুমি কান্না কত্তেছো যে" আখ্যান রচয়িতাও তো কাজ শেষে হাত-মুখ ধুয়ে ভাত খেয়ে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছেন নিশ্চিতভাবে।

সন্তানকে কী খাওয়াবেন, কোন স্কুলে পড়াবেন, আদব-কায়দা শেখাবেন, তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অহর্নিশ উদ্বিগ্ন পিতৃশ্রেষ্ঠরা অন্যের সন্তানদের প্রতি কেমন আচরণ করেন, কতোটা ভাবেন- সেটাই বিবেচ্য।

শিশুধর্ষক, নকল N95 মাস্ক গছানো, খাবারে ভেজাল দেয়া, পরের হক মেরে খাওয়া, সুপারি কিলার, নারী পাচারকারী, মাদকের কারবারি, যুদ্ধবাজ সেনাপতি-রাজা-বাদশা, দাসব্যবসায়ী, দুইনম্বরী পয়সা কামানো লোকগুলোও সন্তানদের ভালবাসেন, অকৃপণভাবে। আমাদের মাঝে এই বাবারাও আছেন বা চারপাশে কিলবিল করছেন। সংখ্যায় লক্ষ-কোটি হবেন।


আরও পড়ুনঃ

 

ভাল থাকুক বিশ্বের সকল বাবা, যেভাবে দিবসটির শুরু

বিএনপি থেকে শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিষ্কার

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রায়িসিকে অভিনন্দন জানাল হামাস

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর

 


বাস্তবে, বেশিরভাগ বাবাই কিন্তু ড. জেকিল এন্ড মি. হাইড। কাউকে কখনো বুক দেখান তো, কাউকে কখনো পিঠ! নিয়মিত সেবন করেন 'মি. হাইড' বটিকা!

আপনি যদি ভাল বাবা হন তবে অন্যের সন্তানদের প্রতিও ন্যায্য আচরণ করুন। আর ভাল সন্তান হতে চাইলে নিজের বাবাকেও বলুন, আপনার ভালোর জন্য তিনি যেনো অন্যের সন্তানদের অমঙ্গল না করেন।

এই নিক্তিতে যে বাবা উৎরে যেতে পারেন, তাঁকেই লাখো সেলাম।

(মিল্লাত হোসেন, বিচারক)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

আলী রীয়াজ

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই এই কথা জানানো হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে একটি কার্টুন প্রকাশিত হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য’ এই সিদ্ধান্ত। এই খবর পাঠ করেই আমার স্মরণ হল যে, আর কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী। একশো বছরের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়  গিয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে তার একটি উদাহরণ।

যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার উপাচার্য সামান্য ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করতে পারে না, সেই প্রতিষ্ঠান কী করে শেখাবে সহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার? একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকেই না সহ্য করতে পারে তবে বিশ্ববিদ্যালয় শেখাবে কি? একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আসলে যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও, কেবল ক্লাশরুমের চার দেয়ালের মধ্যে শেখায় না। সবচেয়ে বড় কথা, নাগরিকের করের অর্থে চলা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নাগরিকরা কিছু বললে তার জন্যে ‘আইনি’ ব্যবস্থার হুমকি তো পাকিস্তানী আমলে ষাটের দশকেও শোনা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কি কিছুই অর্জন নেই? অবশ্যই আছে। কিন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী।

কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেন ‘ভাবমূর্তি’ একটা বায়বীয় বিষয়। ভাবমুর্তি তৈরি হয় আচরণ দিয়ে, কর্মকাণ্ড দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে কথিত ‘গণরুমে’ শিক্ষার্থীরা অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিকভাবে জীবনযাপন করে, তাঁদের ওপরে নির্যাতনের ঘটনার কথা জানা যায়, তাঁদের বাধ্য করা হয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হয়ে কাজ করতে, এই রকমভাবে প্রাণ সংহার হয় শিক্ষার্থীর - এইসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি কোথায় যায় তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ নেই।

উদ্বেগ নেই এই নিয়েও যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বরাদ্দ খুব সামান্য – মোট ব্যয়ের ৫ শতাংশের মতো। আর সেই বরাদ্দ করা অর্থও ব্যয় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সক্ষম হয় না। ২০১৯-২০ সালে বরাদ্দ করা ৪০ কোটি টাকার মধ্যে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিলো। অথচ ২০১৯-২০২০ সালে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছিলো। এগুলোই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তৈরি করে। 

ভাবমূর্তির ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে স্বাধীনভাবে জ্ঞান উৎপাদন, জ্ঞান বিতরণ,  জ্ঞান চর্চা  এবং সকলের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা – শিক্ষকের, শিক্ষার্থীর; স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করা। এইগুলো নিয়ে ভাবলে ভাবমূর্তি নিজেই গড়ে উঠবে, তার জন্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে না। আর অন্যভাবে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা করতে পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সেটাই পেরেছে।

লেখক : অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

তাসের ঘরের সন্ধানে

মিল্লাত হোসেন

তাসের ঘরের সন্ধানে

আমি তখন ১ম বা ২য় শ্রেণিতে পড়ি। সময়টা সেই হিসেব ১৯৮৪ বা ৮৫ সাল হবে। আমরা থাকি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়, আব্বুর চাকুরিসূত্রে। একদিন দেখলাম, আম্মা কি যেন শব্দ করে পড়ছেন আর হাপুসনয়নে কাঁদছেন। দুই আপা তাকে ঘিরে শুনছে আর কান্নায় সঙ্গত করছে। আমিও যোগ দিলাম-শ্রোতা, দর্শক উভয় হিসেবেই।

বিষয়টা ছিলো, বেকারি থেকে বেলা বিস্কুট বা পাউরুটি আনার কাগজের ঠোঙ্গা, যা আসলে ছিলো ‘তাসের ঘর’ নামক উপন্যাসের কয়েকটা পাতা। খুবই আবেগাক্রান্ত আর বিয়োগাত্মক ছিলো এটা মনে আছে, তবে কাহিনী কী ছিলো সেটা মনে নেই। 

কিছুক্ষণ পর শহর থেকে মেজোমামা আসলেন বেড়াতে। তিনি তখন চিটাগাং পলিটেকনিকের ছাত্র।

মামাকে, কথ্য ভাষার লাইব্রেরিতে (আসলে বইয়ের দোকান) পাঠিয়ে দেয়া হলো তাসের ঘর খুঁজে আনতে। না পেলে বেকারি থেকে আরো কিছু বিস্কুট ঠোঙ্গায় করে কিনে আনতে বলা হলো। বই মেলেনি, ঠোঙ্গায় আরো কয়েকটা পাতা এলো তাসের ঘরের। কান্নাভেজা পাঠের পুনরাবৃত্তি চললো আরেকদিন। এরপর, বেকারি থেকে পুরো বইটাই আনতে গেলে ৮/১০ পাতার মতো পাওয়া গেলো। তীব্র অতৃপ্তিতে বেশ কিছু দিন খোঁজাখুঁজি চলেছিলো। পাওয়া যায়নি। এক সময় যথারীতি সবাই ভুলে গেলেন।

মেজোমামা অনেকদিন এই পৃথিবীতে নেই; আর এই ঘটনাটাও সম্ভবতঃ আমি ছাড়া আর কারো স্মৃতিতেই অবশিষ্ট নেই। আমি ভুললাম না। মাঝেমাঝেই 'তাসের ঘর' উঁকি দেয় আমার মনের ঘরে, স্মৃতির চিলেকোঠায়।

একটু বয়েস হলে খুঁজে পেতে রবীন্দ্রনাথের "তাসের দেশ" পাই, কিন্তু 'তাসের ঘর' পাই না কিছুতেই। আরো পরে একবার রোখ চেপে গেলো। না, এই বার 'তাসের ঘর' খুঁজে বার করতেই হবে!

খোঁজ, খোঁজ, নেমে পড়লাম তাসের ঘরের সন্ধানে। না, এই নামের কোন বইয়ের হদিস পাই না। বুঝলাম, নেহাত সার্চে কাজ হবে না, রিসার্চই করতে হবে।

সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ধরনের ঢাউস মার্কা বই ধরে খুঁজতে হবে। ক'দিন পরে তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এর "তাসের ঘর" নামের ছোটগল্প পেলাম। তিনি সমগ্র বাংলারই অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, তাঁর লেখায় ঢলঢল আবেগ থাকার কথা না। পেলামও না পড়ে। মোটে ৩ পৃষ্ঠায় শেষ নির্মেদ গল্পের ওস্তাদির। এটা ইপ্সিত "তাসের ঘর" যে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে আগে বাড়লাম।

এরপর "তাসের ঘর" নামের সিনেমার খোঁজ পেলাম। তাতে মহানায়ক উত্তমকুমারের দ্বৈত চরিত্র। প্রচণ্ড ধনী ও সমপরিমাণ অসুখী একজনের বেকারত্বের জ্বালায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া look alike এর সাথে জীবনবদলের গল্প। এতেও আবেগ/বেদনা হাত ধরাধরি করে আছে। এই সিনেমাটাই কি 'তাসের ঘর' উপন্যাস অবলম্বনে বানানো হয়েছে? তাহলে বই একটা তো থাকার উচিত। কিন্তু এ তো সিনেমা, আমারটাতো ছাপা বই। সেটা কই? এই রকম কোনো বইয়ের হদিস পাইনি।

একবার মনে হলো, এমন যদি হয় এই বইটা কোন নামগোত্রহীন লেখকের? অনেকেই তো নিজ উদ্যোগে লেখক হিসেবে নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখার জন্য বই ছাপান। কেউ কেউ সিনেমার গল্প নিয়েই সস্তা বই ফেঁদে বসেন। তেমন বই হলে পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

সর্বশেষ  রাডারে ধরা পড়লো বন্দে আলী মিয়া'র এই নামের একটা বই আছে। তিনি উঁচুমাপের বা জনপ্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন না এবং ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে তার বিষাদে ভরপুর কোন বই ঠোঙ্গা হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা মিলিয়ে আমার মনে হলো- ইউরেকা! ইউরেকা!!

কিন্তু আমার উচ্ছ্বাসে কিছুটা জল ঢলে পড়লো যখন জানলাম যে, ওটা উপন্যাস নয় গল্পগ্রন্থ, যার একটা গল্পের নাম "তাসের ঘর"।

আবার মনে হলো, ২০/২৫ পৃষ্টার বড়্গল্পও'তো হতে পারে। কিন্তু, বন্দে আলী মিয়ার বই আজ আর বইয়ের দোকানে মেলে না। পরে জানা গেলো বাংলা একাডেমি তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করেছে। ২য় খণ্ডে আছে "তাসের ঘর"। একুশে বইমেলায় গিয়ে কয়েকবার বাংলা একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটা আউট অভ প্রিন্ট অনেকদিন ধরে। রচনাবলীর ২য় খণ্ডটি এখনো সংগ্রহ করতে পারিনি...'তাসের ঘর'ও এখনো অক্ষত আছে।

আমি সেই গল্পের পাঠক নয়, শ্রোতা ছিলাম মাত্র। তাও এমন শ্রোতা, কাহিনীও যার মনে নাই! ফলে, শেষ হইয়াও শেষ না হওয়ারও ৬৫/৩৫% সম্ভাবনা আছে।

মিল্লাত হোসেন, বিচারক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পরীমনি এবং....

নজরুল ইসলাম​

পরীমনি এবং....

জাঁ জ্যাক রুশো ১৭৬১ এ-র দিকে ‘জুলি বা ল্য নোভেল এলোইজ’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন। সেখানে তিনি নারীর প্রকৃতি, ভুমিকা, অবস্থা নির্দেশ ও ব্যাখা করেন। রুশোর দর্শনে নারী হবে সুন্দরী, প্রেমপূর্ণ তবে অযৌন ও শীতল সতী। নারী পরিপূর্ণ থাকবে লাজনম্র সতীত্বে। নারী আবেদনময়ী হবে কিন্তু সবার জন্য নয় শুধু স্বামীর জন্য। তার মতে সতীত্বের উপর কোনো গুণ থাকতে পারে না। সঠিক পিতৃত্বের ব্যাপারে তিনি তার দর্শন চর্চায় খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে রুশো নিজে ছিলেন কামার্ত ও অনেক অবৈধ সন্তানের দায়িত্বহীন জনক।

সাম্প্রতিক পরীমনি কাণ্ডে আমাদের মধ্যে অনেকে আছি যারা পরীমনির নাচ উপভোগ করি, তার সিনেমা দেখে ফ্যান্টাসিতে ভুগী,  নিদেন পক্ষে পরীমনির লাস্যময়ী ছবি জুম করে দেখে-টেখে  মন্তব্যের ঘরে গিয়ে প্রচণ্ড অশ্লীলভাবে ট্রিট করে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করছি।  এই ব্যাপারটির মধ্যে কেমন জানি একটা ‌‘রুশো রুশো’ গন্ধ আছে।

চর্চিত সংস্কৃতির কথা বলে, যাপিত প্রণালীর দোহাই দিয়ে কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ কোনো দিক থেকেই এটা করার সুযোগ নাই। ইসলামে অপ্রয়োজনে কোনো নারীর ছবি দেখা, নাচ-গান উপভোগ করা কিংবা কল্পনাতেও কিছু  আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশ্ন আসতে পারে, সবাই তাকে এসবের কোনোভাবেই দেখছেন না শুধু তার কাজের জন্য গালি দিচ্ছেন।তাহলে শুনুন। ইসলামে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি নেই।

হাদিসে আছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)।

যারা মনে করছেন এ ধরনের কাজ করে ‘জিহাদ’ করার মতো অশেষ নেকি হাসিল করে ফেলছেন তারা একটি জীবন ব্যাবস্থাকে অন্যদের নিকট হাস্যকরূপে উপস্থাপন করছেন। অথচ ইসলাম  কোনোভাবেই তার অনুমোদন দেয় না।  ইসলাম আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর কোনো ধর্ম নয়। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে ইসলামের ইন্টারফেয়ারেন্স থাকে এবং তা একদম সুস্পষ্টভাবে। সুতরাং পরীমনির বিষয়ে এত সিরিয়াস না-হয়ে নিজের বিষয়ে ভাবি।

আরও পড়ুন:


যে কারণে গাজার ‘আগুনে বেলুন’কে এত ভয় ইসরাইলের

ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মালয়েশিয়ায় করোনায় প্রবাসীর মৃত্যু


আর যারা পরীমনির এসব ব্যাপার- স্যাপার কে আমাদের কৃষ্টি কালচারের সাথে যায় না বলে গালিগালাজ করছেন কিংবা প্রগতিশীলতার কথা বলে সাপোর্ট করছেন তাদের মধ্যেও শত শত বিভাজন বিদ্যমান। যে ধরনের জীবনবোধে অভ্যস্ত সেভাবেই আমাদের সংস্কৃতিকে দেখছেন। ইতালীয় দার্শনিক বেনেদিত্তো ক্রোচের মতে, প্রতিটি জাতির এমন কিছু সামাজিক আবেগ আছে যার মাধ্যমে জাতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্যাসের আকারে পুরোমাত্রায় বিরাজমান থাকে। কিন্তু সেটা আমাদের ক্ষেত্রে  তা কখনো হয়নি। 

নারীবাদীরা বলছেন, ‘পরীমনিকে সাপোর্ট করুন নাহলে একদম চুপ থাকুন।’ এদের কারণে কতিপয়  সাংবাদিকদের অবস্থা হয়েছে দেখার মতো।

তাদের পরীমনিকে খুব প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে, এত রাতে আপনি ওখানে কেন গিয়েছিলেন? কিনতু তা তারা করছে না কারণ এ প্রশ্ন করলে এ সাংবাদিকের  ক্যারিয়ারই শেষ করে দিবে নারীবাদীরা।

এদিকে সাধারণ জনগণ এটাকে দেখছেন আমাদের ‘যাপীত জীবনের সাথে কোনোভাবেই যায় না’ সে কনসেপ্ট থেকে। আবার যারা সো হোয়াট, ডোন্ট মাইন্ড আর খোলামেলা জীবনে অভ্যস্থ তারা বলছে, ‘অসুবিধা কি!’ আসলে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে  দিনের পর দিনে এদেশে নতুন নতুন ভাবাদর্শ তরঙ্গ তুলেছে কিন্তু আমরা মনের দিক থেকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের মতো বারবার বিচ্ছিন্ন থেকে গিয়েছি। আহমদ ছফা ‘বাঙালি মুসলমানদের মন’ এ লিখছেন, ‘অনেক কিছুর সংবাদ সে জানে কিন্তু কোন কিছুকে যুক্তি দিয়ে,মনীষা দিয়ে আপনার করতে জানে না। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে গোঁজামিল দিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। বাঙালি মুসলমান বিমূর্তভাবে চিন্তা করতেই জানে না এবং জানে না এ কথাটি ঢেকে রাখার যাবতীয়  প্রয়াসকে তারা কৃষ্টি- কালচার বলে পরিচিত করতে কুণ্ঠিত হয় না’।

যদিও সো -কল্ড  নারীবাদিদের কথাগুলোকে তেমন গুরত্ব দেওয়ার কিছু নেই তারপরেও এদের দ্বিচারিতাার নীতিটা সামনে আনার জন্য বলি। এদেরই কোনো আত্মজা, ভগিনী, মাতাকে কখনোই এরা রাত দুটোয় কোনো ক্লাবে যেতে দিবেন না। প্রকৃতিগত হোক  বা বৈষয়িক কোনো কারণেই হোক, তারা তা দেবে না। কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদিতা ও ফাঁপরবাজির জন্য তারা গলা ছড়াবেই। প্র্যাকটিক্যাল প্রমানের কথাই যদি বলি, যিনি ছবি বানায় সে রকম একজন পরিচালক সোনানুর রহমানই বলছেন, পরীমনি অহরহ রাত বারটার পর বের হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। বোঝা যাচ্ছে এ জীবনাচরণে তাদেরও প্রশ্ন আছে।

এরাই ডলি সায়নন্তির সাড়া জাগানো - জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা,
লাল শার্ট গায়ে তার বুক খোলা,
সানগ্লাস কপালে.আছে তোলা,
রাখনা কেন ঢেকে ওই দুটি চোখ,
হেই যুবক  গানে কোমর দোলালেও নিজের বোন বা কন্যা কে পাত্রস্থ করতে  ই. ইন্জিনিয়ারিংএ পি. এইচ. ডি. করা বোস্টন ফেরত ছেলেকেই খুঁজবে; ওই যুবককে নয়।

তাই ধর্মীয়ভাবে নিজের পরিশুদ্ধতার বিষয়ে যত্নবান না হয়ে আর সংস্কৃতির ধোঁয়াটে ভন্ডামি করে পরীমনির জীবনাচরণের এনাটমি বাদ দেওয়া উচিত। এটা চূড়ান্তভাবে মানুষ কে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে না। অন্য একটা ঘটনায় তা বোঝা যায় সহজেই। একজন ইসলামি স্কলার নিখোঁজ হওয়ায় অনেকেই তাঁর কোনো বক্তব্য না শুনেই তার জীবনাচার, মানুষকে সঠিক পথে আহবান করার প্রয়াস তাঁকে তাদের  কাছে হিরো বানিয়ে দিয়েছে। এতেই তো পরীমনির জীবনাচরণের পরাজয় ঘটে গেছে। আপনি এত ‘গাইল পারেন ক্যা?’ বরং এ প্রশ্ন করুন পরীমনির জীবনাচরণে দোষ দেখলেন আর ওই স্কলারে স্বস্তি দেখলেন কোন জাস্টিফিকেশনে? উত্তর দেওয়ার আগে চেমফোর্ডের একটা কথা বলে নেই- নারীরা ফাঁসিতে ঝুলার আগেও প্রসাধনটা একটু দেখে নেয়। এটা নারীর স্বভাবজাত কিন্তু  কেউ যখন বেলেল্লাপনায় সবকিছুই উম্মুক্ত করে দেয় সেক্ষেত্রে অন্যদের কথা বলতে পারছি না তবে তা আমার ও আমার সন্তানদের  মনোজগতকে  Toxic করে নিঃসন্হেহে আর ওই স্কলারের ফিলোসোফি মানুষ হিসেবে আমার ভুলগুলো কোথায় এবং তা  রিফর্ম করার চিন্তাটা মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। উত্তরটা এখানেই। 

অতএব, নিজ নিজ আত্মার পরিশোধনের পর সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে বাস্তব জীবনে তার কাঠামো দাঁড় করিয়ে দিন আর সে বার্তাটিই আপনি যার জীব।

লেখক- সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

এমি জান্নাত

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয়না! ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়। এইটা মাঝে মধ্যে শুনি। এখানে মিডিয়ার লোকজন বলতে যারা চাকরি করেন তারাসহ শিল্পীদের চৌদ্দগোষ্ঠী যে বোঝানো হয় এইটুকু আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই বুঝবে।

সে যাই হোক, ঠিক কোন কিছিমের পেশার লোকজন ভালো আর ভালোর সঠিক ব্যাখ্যা কী এইটা বহুত আপেক্ষিক ব্যাপার।

সাধারণ জ্ঞান মানে কমনসেন্সে দেখতে গেলে ভালো বলতে যাদের মন ভালো, উদার, কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা, সৎ, পরোপকারী, কোনো কুটিলতা, সমালোচনার মধ্যে নাই এগুলোর সমষ্টি যে মানুষগুলোর মধ্যে আছে তাদেরকে ভালো বলা হয়। কিন্তু এই গুণগুলো থাকার পর বেশিরভাগ মানুষের কাছে ভালো থাকলেও সবার কাছে ভালো থাকা যায় কী?

এই যেমন, আপনি সৎ! অসৎ লোকের কাছে আপনি খারাপ কারণ আপনি তার বিরুদ্ধ পক্ষ। আবার আপনি কারও সাতে পাঁচে নেই, আপনার পাশের একজন নানান রঙ মাখানো সমালোচনার ঝুড়ি নিয়ে এসে পাত্তা পেলো না। তার কাছেও আপনি ঠিক সুবিধার না। আপনিও তার সেই ফুলঝুড়ির একটা অংশ।

যে অন্যের ভালো খারাপের বিচার নিয়ে বসে সে নিজের চেহারা আয়নায় কতটা স্পষ্ট দেখতে পায় আমার জানা নেই। মানুষের কাছে ভালো থাকার চেয়ে সবচেয়ে দরকার নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা। যেটাই করছি, ১০০% দিয়ে করছি কিনা। নিজের সম্পর্কে নিজের হিসাবের অংক মিললো কিনা এই ক্লিয়ারেন্সটা থাকা সবচেয়ে জরুরি।


আরও পড়ুনঃ

আবু ত্ব-হা আদনানকে খুঁজে দিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শুভর আহ্বান

গণপূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়া: সেই আ.লীগ নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি

আবারও মিয়ানমারের গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে সেনাবাহিনী

সুইসদের হারিয়ে সবার আগে শেষ ষোল নিশ্চিত করল ইতালি


শুরুর লাইনে আসি, ভালো খারাপ মানুষের পেশায় থাকে না। রক্তে আর মনে মিশে থাকে। আর তাই যেমন ধর্মশালায় বলাৎকার হয়, পরিবারেও রক্তারক্তি হয়, অন্যদিকে কিছু মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় মন উজার করে। সবটাই হয় কিন্তু মনের তাগিদেই। কোনো পেশায় না, মনের ঘরেই ভালো-মন্দের বসবাস।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর