করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ
করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ পহেলা বৈশাখ। চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে ১৪২৭ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন বছর বঙ্গাব্দ ১৪২৮। আজ সকালের ভোরের আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। স্বাভাবিকভাবেই সে স্বপ্ন করোনাভাইরাসমুক্ত নতুন বিশ্ব, নতুন বাংলাদেশের।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাঙালির জীবনে আরো একবার এলো পহেলা বৈশাখ। গত বছরও মানুষ ঘরে আবদ্ধ ছিল, এবারও বৈশাখ বরণে মেতে ওঠা হবে না। এবারের বৈশাখে নিশ্চয়ই বিশ্ব জুড়ে করোনার সংক্রমণের কারণে যে ‘লকডাউন’ চলছে তা থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান ফুটে উঠবে সবার প্রার্থনায়।

এমন এক বিশ্ববাস্তবতায় বাঙালি তথা ভারতীয় উপমহাদেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর সামনে হাজির হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮। বাংলা নতুন বছরের জন্য যখন এই লেখা তৈরি হচ্ছিল, তার একটু আগে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬০২৮ জন, মারা গেছে ৬৯ জন!

এই মৃত্যুর মিছিল, আক্রান্তের খবর এবং কঠোর লকডাউনের মধ্যে সঙ্গত কারণেই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতে ঢাকার অলি-গলি-রাজপথ, রমনার উদ্যান, চারুকলার বকুলতলা, শাহবাগ মোড়, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিল— কোথাও থাকবে না উৎসবের ছোঁয়া। শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশেই পহেলা বৈশাখ পালনের ক্ষেত্রে থাকবে কৃচ্ছতা।

দেশে দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পহেলা বৈশাখসহ সবধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সারা দেশে আজ ১৪ই এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে ৫ থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম লকডাউন আরো দুইদিন বর্ধিত করে ১৪ই এপ্রিল ভোর পর্যন্ত চলমান করা হয়। যা জারি থাকবে ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে সংক্রমণ অনেক বেশি হওয়ায় গত বছরের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসবের ওপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও থাকছে না ছায়ানটের নতুন বছরের বন্দনা। তবে, রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান থেকে ছায়ানট সরে আসলেও জানা গেছে এ উপলক্ষে নতুন কিছু গান রেকর্ড করা হয়েছে। নববর্ষের দিন সকালে এ গানগুলো সহ সংগঠনের সভাপতি সনজীদা খাতুনের ‘কথন’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সমপ্রচারিত হবে। বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতেও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানটিও হচ্ছে না।


এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

লকডাউনের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিল বাংলাদেশ

এভাবেও ম্যাচ হারে কলকাতা!

আহমদ শফীর মৃত্যু : পিবিআই’র রিপোর্ট পুনরায় তদন্তের দাবি বাবুনগরীর


বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসী সহ বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঘরেই পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ?্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, গত বছরের মতো এ বছরও আমরা বাইরে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারছি না। কারণ, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নতুন করে আঘাত হেনেছে সারা দেশে। করোনাভাইরাস আরো প্রাণঘাতী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের আনন্দ তাই গত বছরের মতো এবারও ঘরে বসেই উপভোগ করবো আমরা। টেলিভিশন চ্যানেল সহ নানা ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। সেসব অনুষ্ঠান উপভোগ ছাড়াও আমরা নিজেরাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করতে পারি। তিনি আরো বলেন, অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করবো। দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাবো সামনের দিকে। গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ-এই হোক এবারের নতুন বছরের শপথ।

news24bd.tv নাজিম