সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিয়ে যা বললো খালেদা জিয়ার চিকিৎসক
সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিয়ে যা বললো খালেদা জিয়ার চিকিৎসক

সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিয়ে যা বললো খালেদা জিয়ার চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী তার শরীরে করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন তার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান শেষে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান।  

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য হওয়ার জন্য খালেদা জিয়া তার বাসা থেকে চিকিৎসা নেবেন।

এরআগে, ​সিটি স্ক্যান করার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায় খালেদা জিয়াকে বহন করা গাড়িটি।

শর্তসাপেক্ষেে মুক্তি পাওয়ার এক বছর ২০ দিন পর বাসা থেকে বের হলেন খালেদা জিয়া। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা।

কোভিডের দ্বিতীয় সপ্তাহকে ক্রিটিক্যাল উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) নতুন যে একটুখানি উপসর্গ দেখা দিয়েছে, সেটা হলো গতকাল (বুধবার) রাতে ‘একটু জ্বর’ উঠেছিল।

সেটা থার্মোমিটারে ১০০-এর মতো ছিল। আজ সকালেও উনার একবারের মতো একটু জ্বর উঠেছে। সেটা থার্মোমিটারে ১০০ ছুঁয়েছে। এই জ্বর কিছুক্ষণ ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সকালে বেগম খালেদা জিয়ার জ্বর আসলেও এখন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তার ব্লাড রিপোর্ট ভালো। আমরা তার সিটিস্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে কোনো সময় এ সিটিস্ক্যান করানো হবে। ইতোমধ্যেই আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

গত শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা শেষে রোববার তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিম বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা শুরু করে।   লন্ডন থেকে চিকিৎসক পূত্রবধূ জোবাইদা রহমানও চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

লন্ডনে থেকেই পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান দেশে-বিদেশে বিভিন্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার তদারকি করছেন। এছাড়া তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সমন্বয়ও করছেন ডা. জোবায়দা রহমান।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।  

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।

news24bd.tv/আলী