সেহরিতে বিশ্বনবী যা খেতেন

অনলাইন ডেস্ক

সেহরিতে বিশ্বনবী যা খেতেন

রাসুল (সা.) এর সাহারিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। সেহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। সেহরিতে সময় নিয়ে কঠোরতা করা তিনি পছন্দ করতেন না।

বেশিরভাগ সামান্য ভেজা বা শুকনো খেজুর আর পানি দিয়ে ইফতার করতেন তিনি। ভেজা খেজুর সেহরিতে পছন্দ করতেন তিনি। সেহরি ও ইফতারে কখনো জাঁকজমক কিছু ছিল না তার। রমজানে রাসুলের এ আচরণ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। 

এরকম কয়েকটি হাদিস হলো: হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, (كان النبي صلي الله عليه و سلم يفطر قبل أن يصلي على رطبات، فإن لم تكن رطبات فتميرات، فإن لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء ) রাসুল (সা.) নামাজ আদায়ের আগে কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, যদি ভেজা খেজুর না থাকত, তবে সাধারণ শুকনো খেজুরই গ্রহণ করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানিই হত তার ইফতার। [তিরমিজি : ৬৯৬] 


২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন কাদের মির্জা (ভিডিও)

প্রকৃত কোন মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না: ভিপি নুর

‘মুভমেন্ট পাস’ বিড়ম্বনা, বিবৃতিতে যা বললো ডিএমপি

কামড়ে ধরতেই লাঠি দিয়ে বাঘকে পিটিয়ে ছেলেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা


আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, উপরোক্ত কিছুই যদি না থাকে, তবে রোজাদার যে কোনো হালাল খাদ্য দিয়ে ইফতার করে নিবে। তবে, খাদ্যই যদি না থাকে, তাহলে ইফতারের নিয়ত করবে। ইফতারের নিয়তই হবে তার জন্য ইফতার।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফাতেমার ইসলাম গ্রহণের গল্প

রোজার সৌন্দর্যে ​মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক

রোজার সৌন্দর্যে ​মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যে। কাজ করতেন একজন স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে। বেশ কয়েক বছর আগে রোজার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন বিজয়া লক্ষ্মী নামের এক হিন্দু নারী। ইসলাম গ্রহণের পরে এখন তার নাম ফাতেমা নওশাদ। এখন তিনি স্বামীর সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি খালিজ টাইমসকে নিজের ইসলাম গ্রহণ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দেন ফাতেমা নওশাদ। সাক্ষাৎকারে ফাতেমা বলেন, আমার জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়। আমরা পারিবারিকভাবে হিন্দু ধর্মালম্বী হলেও প্রকৃত পক্ষে হিন্দু ধর্মের প্রতি আমরা উদাসিন ছিলাম।

প্রতিবেশী মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে ইসলাম ধর্মের প্রতি আমি ইতিবাচক আকর্ষণ অনুভব করি। ইসলাম গ্রহণের আগেই রমজানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রোজা পালনের অভিজ্ঞতাও আমার আছে। এরই মধ্যে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়। অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করি। যদিও ভারতে মুসলমান ছেলের সঙ্গে হিন্দু মেয়ের বিয়েকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখা হয় না, তারপরও আমার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আমার ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ে নিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি; বরং খুব সুন্দর উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আমি দুবাইতে থাকছি।’

আরও পড়ুন


ফেসবুক: রচনা ও পাঠ

বান্দরবানে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

যে দিন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে চীনের অনিয়ন্ত্রিত রকেট

৯ বছর পর ফাইনালে চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়


ফাতেমা আরো বলেন, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসলিমদের সভ্যতা, শুচিতা ও শালীনতায় মুগ্ধ হতাম। পরে আমি তাদের সম্পর্কে বিস্তর জানতে ও পড়তে শুরু করি এবং শাশ্বত এই ধর্মের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শিখি। আর এভাবেই ইসলামের সর্বজনীন সত্যতা আমার বন্ধ চোখ খুলে দেয়। যে কারণেই আমি বিজয়া লক্ষ্মী থেকে আজ ফাতেমা নওশাদ। তবে অনেকে অভিযোগ করেন, আমি বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছি। আসলে এটি অসত্য। বরং আমি আগে থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি বিয়ের আগেই।’

ফাতেমা নওশাদ বলেন, সর্বপ্রথম কালিমায়ে তাওহিদ পাঠের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যখন আমি মুখে আল্লাহ-রাসুলের নাম নিলাম, তখন স্বর্গীয় এক প্রশান্তি অনুভব করি। বিগত জীবনের চেয়ে আমার বর্তমান জীবন অনেক বেশি সুখী, শান্তিময় ও সুন্দর। আমি যখন ভোরে ঘুম থেকে জেগে ফজরের সালাত আদায় করি, তখন যে নির্মল একটা সতেজতা অনুভব করি, তা আগে কখনো অনুভব করিনি।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

নাজাতের ১০ দিন ও বরকতময় শবে কদর

অনলাইন ডেস্ক

নাজাতের ১০ দিন ও বরকতময় শবে কদর

রমজানের শেষ দশ নাজাত। পবিত্র রমজানে শুরু থেকে এখন অবধি আমল ও শুদ্ধির নূরানি পরিবেশের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত করছি আমাদের রাত-দিন। রহমত -মাগফেরাত শেষে নাজাতের শেষ দশকে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাচ্ছি আমাদের ক্ষমার। জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের। নিয়মিত বিশ দিন সিয়াম সাধনা পালনের পর রোজাদার এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। যেখানে রয়েছে তার জন্য ক্ষমা।

রাসূল (সা.) বলেছেন, “রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।” (মিশকাতুল মাসাবিহ)

এ দশকে আমরা অপেক্ষা করি পবিত্র শবে কদর পাওয়ার। যে শবে কদরে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ রাতেই পবিত্র মক্কা মুকাররমার `গারে হেরায়` অবতীর্ণ হয় পবিত্র কুরআন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে মহানবী রাসূল (সা.) এর কাছে হযরত জিবরাইল (আ.) নিয়ে আসেন এই ঐশ্বরিক বাণী।

আল্লাহ বলেন, “আমি তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনিতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রজনিতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা: আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৪)

অন্যত্র আছে, নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনিতে। আর মহিমান্বিত রজনি সম্পর্কে তুমি কী জান ? মহিমান্বিত রজনি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা: দুখান)

শেষ দশকে পাওয়া পবিত্র এ রাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয় "যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এ রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। মোচন করা হবে তার সমস্ত অপরাধ।

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত, “রাসূল (সা.) এ রাতে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন। (মুসলিম শরীফ)

রাসূল (সা.) বলেন, "তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর। (বুখারী শরীফ)

আরেক হাদীসে আছে, যে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করে। বর্ণনায়: (বুখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

আরও পড়ুন


লাইলাতুল কদরে যে বিশেষ দোয়াগুলো পড়লে মুক্তি মিলবে

যেসব অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

খালেদার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ


নবী করিম (সা.) এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে অন্যান্য রাতের তুলনায় বেশি সময় ও শ্রম দিতেন। শেষ দশক তথা নাজাতের এ দশদিন রাসূল (সা.) ইতিকাফ ও আমলের জন্য পূর্ণ প্রস্ততি গ্রহণ করে স্ত্রী-পরিজন থেকে আলাদা হয়ে সম্পূর্ণই ইবাদাতে মনোযোগী হতেন। নিবিড়ভাবে সমাহিত হতেন খোদার দাসত্বে। বসে যেতেন এতেকাফে।

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন ততদিন তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী-গণ এতেকাফ করেছেন। (বোখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

তাই আমাদের একান্ত কর্তব্য হল আমলে আমলে রমজানের এ শেষ দিনটিকে রাঙিয়ে তোলা। বিশেষ করে এ দশদিন এতেকাফে বসে একমনে ধ্যান করে নিজের পরকালীন মুক্তির পথে দুনিয়ার জীবনে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর হয়ে যাওয়ার অনুশীলন করা।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

লাইলাতুল কদরে যে বিশেষ দোয়াগুলো পড়লে মুক্তি মিলবে

অনলাইন ডেস্ক

লাইলাতুল কদরে যে বিশেষ দোয়াগুলো পড়লে মুক্তি মিলবে

হাজার মাসের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কদর। মর্যাদাপূর্ণ এই রাতে মহান আল্লাহ বান্দার মুক্তির জন্য নাজিল করেছেন কুরআনুল কারিম। আর কুরআনুল কারিমে রয়েছে ক্ষমা প্রার্থনা অনেক দোয়া। আবার এ রাতে বিশেষ দোয়া পড়েছেন বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ক্ষমা প্রার্থনা সে দোয়াগুলো কী?

বিশেষ দোয়া

রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর যে কোনো একটি রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ সংঘটিত হয়। রোজাদার মুমিন মুসলমান এ রাত পাওয়ার জন্য শেষ দশক ইতেকাফে অতিবাহিত করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আমৃত্যু ইতেকাফ করেছেন। এ রাতে বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথা বলেছেন। তাহলো-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম - হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চার: 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া।

কুরআনে ক্ষমার দোয়া

ক্ষমা প্রার্থনার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে অনেক দোয়া তুলে ধরেছেন। যা নামাজের সেজদা, তাশাহহুদসহ সব সময় পড়া যায়। দোয়াগুলো হলো-

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

উচ্চারণ: 'রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।' (সূরা মুমিনুন: আয়াত ১১৮)

رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: 'রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'

অর্থ: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সূরা মুমিনুন: আয়াত ১০৯)

رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

উচ্চারণ: 'রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।'

অর্থ: '(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।' (সূরা কাসাস: আয়াত ১৬)

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: 'রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।'

অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।' (সূরা আল-ইমরান: আয়াত ১৬)

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

উচ্চারণ: 'রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।'

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।' (সূরা আরাফ: আয়াত ২৩)

رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ: 'রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।'

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।' (সূরা ইবরাহিম: আয়াত ৪১)

سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

উচ্চারণ: 'সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।'

অর্থ: ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২৮৫)

رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ  وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا

উচ্চারণ: 'ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।'

অর্থ: 'হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।' (সূরা বাকারাহ: আয়াত ২৮৬)

আরও পড়ুন


যেসব অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

খালেদার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ

খালেদাকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন


رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ

উচ্চারণ: 'রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।'

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।' (সূরা হাশর: আয়াত ১০)

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

উচ্চারণ: 'রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।'

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।' (সূরা আল-ইমরান: আয়াত ১৪৭)

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

উচ্চারণ: 'রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।'

অর্থ: 'হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।' (সূরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯৩)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, লাইলাতুল কদরে প্রিয় নবী ঘোষিত বিশেষ দোয়াসহ কুরআনে উল্লেখিত ক্ষমা প্রার্থনা দোয়াগুলো সেজদায় গিয়ে তাসবিহ পড়ে কিংবা শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ ও দরূদ পড়ার  পর নিজেদের গোনাহ থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি পড়া। আর তাতেই মহান আল্লাহ রোজাদার মুমিন বান্দাকে গোনাহ থেকে মুক্তি দিয়ে নাজাত দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গোনাহ থেকে ক্ষমা পেতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো শবে কদরের এ ছোট্ট বিশেষ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। নামাজের সেজদা ও তাশাহহুদে ক্ষমা পাওয়ার কুরআনি দোয়াগুলো পড়ার তাওফিক দান করুন। প্রত্যেক রোজাদার মুমিন মুসলমানকে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব

অনলাইন ডেস্ক

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব

আনন্দ ও উৎসবের আরেক নাম ঈদ। এ দিনটিতে আনন্দের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাবগুলো জেনে নেই। 

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব:

(১) মেসওয়াক করা সুন্নত। (২) গোসল করা সুন্নত। (৩) সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। (৪) কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। বিজোড় সংখ্যায় যেকোনো মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া উত্তম; খেজুর অতি উত্তম। (৫) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া উত্তম। এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা মুস্তাহাব। (৬) ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া সুন্নত। (৭) সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। (৮) নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত। (দাতা ও গ্রহীতার সুবিধার্থে রমজানেও প্রদান করা যায়)। (৯) ঈদের দিন চেহারায় খুশির ভাব প্রকাশ করা ও কারো সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলা মুস্তাহাব। (১০) আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৬, ৫৫৭, ৫৫৮; হেদায়া : ২/৭১; বোখারি : ১/১৩০, ইবনে মাজাহ : ৯২)

ঈদের নামাজ দুই রাকাত আর তা ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। তবে মক্কাবাসীর জন্য মসজিদে হারামে উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। (বুখারি : ১/১৩১; ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৫, ১/৫৫৭; আল মুহাজ্জাব : ১/৩৮৮)

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধ হাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বাকি থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত; যেন নামাজের আগেই বেশি থেকে বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির : ২/৭৩, আল মুগনি : ২/১১৭)

মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে আমি এ ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এই ইমাম সাহেবের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির ওয়াজিব।


রায়হান হত্যা: এসআই আকবরসহ ৬ জনের নামে চার্জশিট

ভারতে আজ ১০ হাজার রেমডেসিভির পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

আগামী মাসে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেন বাইডেন

বাবা-মা-বোনের পর এবার কোভিড পজিটিভ দীপিকা পাড়ুকোন


প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ‘ছানা’র পর তিন তাকবির। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির। এ তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুকতাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে। তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রতি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে।

কেউ যদি এ তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে। কেরাতের আগে আদায় করারও সুযোগ রয়েছে। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মাকামে ইবরাহিমের ভেতরের ছবি প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

মাকামে ইবরাহিমের ভেতরের ছবি প্রকাশ

কাবা শরিফের পাশেই চারদিকে লোহার বেষ্টনীর ভেতর একটি ক্রিস্টালের বাক্সে আছে বর্গাকৃতির একটি পাথর। পাথরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান—প্রায় এক হাত। এটিই মাকামে ইব্রাহিম। মাকাম শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে দাঁড়ানোর স্থান। অর্থাৎ, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর স্থান।  ‘মাকামে ইব্রাহিম’ বলতে সেই পাথরকে বুঝানো হয় যে পাথরটি কাবা শরীফ নির্মাণের সময় ইসমাইল (আ.) নিয়ে এসেছিলেন। যার উপর দাঁড়িয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন।

এবার সৌদি আরবের মক্কার কেন্দ্রীয় মসজিদে ‘মাকামে ইব্রাহিম’র ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। যা এর আগে কখনো প্রকাশ করা হয়নি। বুধবার (৫ মে) আল-আরাবিয়া সংবাদের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

ইসমাইল (আ.) পাথর এনে দিতেন এবং ইব্রাহিম (আ.) পবিত্র হাতে সেই পাথরগুলো কাবার দেয়ালে রাখতেন। উপরে উঠার প্রয়োজন হলে পাথরটি অলৌকিকভাবে উপরের দিকে উঠত। (সূরা আলে ইমরান- ৯৭ নং আয়াত)

সৌদির দুই পবিত্র মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এর একদিন আগে ব্ল্যাক স্টোন বা কালো পাথরের অনুরূপ একটি ছবি বিস্তারিত বর্ণনাসহ প্রকাশ করেছিলে। যা আরবীতে ‘হাজরে আসওয়াদ’ নামে পরিচিত। প্রতিটি ছবি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৭ ঘণ্টা সময় এবং ছবিগুলো ১৬০ গেগাবাইটের এবং অবিশ্বাস্য ৪৯ হাজার মেগাপিক্সেলের।

মাকাম ইব্রাহিম সেই পাথর যার উপর দাঁড়িয়ে ইব্রাহিম (আ.) কাবার উচু উচু দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে ইব্রাহিম (আ.)-এর পায়ের ছাপ রয়েছে।

মক্কার উম্মুল জুদস্থ জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত কর্র্মকর্তা সালেহ বিন আবদুর রহমানের সূত্রে জানা গেছে, চার হাজার বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মাকামে ইবরাহিমে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন অপরিবর্তিত রয়েছে। পাথরটির ওপর প্রতিটি ছাপের দৈর্ঘ্য ২৭ সেমি এবং প্রস্থ ১৪ সেমি। পাথরের নিচের অংশে রূপাসহ প্রতিটি পাথরের দৈর্ঘ্য ২২ সেমি এবং প্রস্থ ১১ সেমি। পাথরটিতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পদচিহ্নের গভীরতা পাথরটির উচ্চতার অর্ধেক, ৯ সেমি।

এক মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় করে মাকামে ইবরাহিম রাখার বক্সটি বানানো হয়েছে। পিতল ও ১০ মিলি মিটার পুরো গ্লাস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। ভেতরের জালে সোনা চড়ানো। হাজরে আসওয়াদ থেকে মাকামে ইবরাহিমের দূরত্ব ১৪.৫ মিটার।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর