হুইপ পুত্রের কাণ্ড: আত্মহত্যা করা ব্যাংকারের স্ত্রীর কান্না ‌‘আমরা কি বিচার পাব না’

অনলাইন ডেস্ক

হুইপ পুত্রের কাণ্ড: আত্মহত্যা করা ব্যাংকারের স্ত্রীর কান্না ‌‘আমরা কি বিচার পাব না’

আত্মহত্যা করা তরুণ ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী জুলি বলেন, আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাঁকে যারা আত্মহত্যায় বাধ্য করেছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য। এখনো আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। 

মামলার আট দিন পরও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কেন আসামিরা আটক হচ্ছে না, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? পুলিশ কি তাদের খুঁজে পাচ্ছে না? নাকি খোঁজার কোনো চেষ্টাই নেই? আমাদের আকুতি কি তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না? মামলার তদন্তে কী হচ্ছে তার কোনো আপডেটও আমি জানতে পারছি না। আমরা কি বিচার পাব না?’

এ ছাড়া তিনি জানান, মোর্শেদ চৌধুরীকে হুইপপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী ওরফে শারুন ফোন করে র‌্যাডিসন হোটেলে দেখা করতে বলেছিলেন। মোর্শেদ চৌধুরী আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, “আপনার সঙ্গে তো আমার কোনো লেনদেন নেই। তাহলে কেন মিট করতে বলছেন? মোর্শেদের এ কথায় শারুন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘লেনদেন নেই, এখন হবে। মিট করেন।’ শারুনের ওই ফোনকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মোর্শেদ এবং ওই দিনই অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২৯ মে তাঁদের ফ্ল্যাটে হামলা চালানো হয়। এরপর ওই রাতেই ব্যবসায়ী আযম খানের বাসায় মোর্শেদকে ডেকে নেওয়া হলে সেখানেও শারুন ছিলেন।

ইশরাত জাহান চৌধুরী আরো বলেন, “সেদিনের সেই ফোনের হুমকির তথ্য আমি ভুলিনি। আমি আমার স্বামীর পাশে থেকে ফোনালাপ শুনছিলাম। মোর্শেদ বলছিলেন, ‘শারুন এ বিষয়ে কেন ফোন করছে?’

জানা যায়, ফোনে হুমকি দেওয়ার পর চিটাগাং চেম্বারের সাবেক দুই পরিচালক হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে দুটি গাড়িতে করে ১০-১২ জন যুবকসহ ব্যাংকার মোর্শেদের বাসায় যান। চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক পারভেজ ইকবাল দলের অন্যদের নিয়ে লিফট দিয়ে ওপরে উঠে বাসার দরজা ধাক্কাতে থাকেন। এ সময় দরজা খুলতে না চাইলে লাথি মারতে থাকেন। নিজের ও শিশুকন্যার নিরাপত্তার জন্য দরজা খুলতে না চাইলেও দরজার অন্য প্রান্ত থেকে হুমকি দিয়ে পারভেজ ইকবাল দরজা খুলতে চাপ দিতে থাকেন। উত্তেজিত পারভেজ ব্যাংকারের স্ত্রীর উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আমরা আপনাকে আটকে রেখে ওকে (মোর্শেদ) আনব।’ এ সময় ভবনটির নিচে নম্বর প্লেটবিহীন গাড়িতে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু বসা ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়। ওই দিনের হামলায় ভীতসন্ত্রন্ত হয়ে ব্যাংকার মোর্শেদ তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ পালিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। সহযোগিতা চান পুলিশের কাছে। থানায় জিডিও করেন।

ইশরাত জাহান জানান, সেদিন তাঁদের ফ্ল্যাটে যারা হামলা চালায় তারা ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী রাসেলকেও মারধর করে। মারধরের সময় হামলাকারীরা বলেছিল, তারা বাচ্চু ভাইয়ের লোক এবং গাড়ির ভেতরে বাচ্চু ভাই ও শারুন রয়েছেন। এ ছাড়া ওই রাতেই ব্যবসায়ী আজম খানের বাসায় যে বৈঠক হয় সেখানেও শারুন উপস্থিত ছিলেন। এর কয়েক মাস পর শারুনের একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর ভিডিও এবং আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরীকে প্রাণনাশের হুমকিসহ কুরুচিপূর্ণ কথা বলার অডিও ব্যাপক আলোচনায় আসে। সেসব আলোচনার পর মোর্শেদকে মোবাইল ফোনে বা সরাসরি কিছু বলা হয়েছিল কি না, তা তাঁর জানা নেই।

উল্লেখ্য, প্রভাবশালী একটি চক্রের গোপন ব্যবসার বলি হতে হয় তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ চৌধুরীকে। ২৫ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেও নিষ্কৃতি মেলেনি তাঁর। তাঁকে বেছে নিতে হয়েছে আত্মহননের পথ। ঘটনাটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। অনেকের প্রশ্ন, কার গোপন ব্যবসার বলি হতে হলো মোর্শেদকে? যে বিপুল পরিমাণ টাকার কথা বলা হচ্ছে সেই টাকার উৎস কী?

গত ৭ এপ্রিল আত্মহননের আগে সুইসাইড নোটে মোর্শেদ উল্লেখ করেন - ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানুষিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’

ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, ‘৭ এপ্রিল আমার স্বামী যেদিন আত্মহত্যা করেন সেদিনই টাকা নিতে পারভেজ ইকবালদের আসার কথা ছিল। কিন্তু আর টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার স্বামীর ছিল না।’

তিনি এ বিষয়ে বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে মো. পারভেজ ইকবাল, জাভেদ ইকবাল, সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দীন, রাসেলসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৮-১০ জনকে আসামি করেন। গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের পরিদর্শক মইনুর রহমানকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শারুনের নাম মামলায় উল্লেখ কেন করেননি এ প্রসঙ্গে ইশরাত জাহান চৌধুরী আগেই জানিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নেপথ্যের ওই ব্যক্তিদের নির্দেশেই সব কিছু হয়েছে। পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে এজাহারভুক্ত আসামি পারভেজের কাছ থেকে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সহজেই পেয়ে যাবে। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।

আসামিদের পক্ষ থেতে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ আসছে কি না—এ প্রশ্নে ইশরাত জাহান বলেন, ‘ফোনে কোনো হুমকি পাচ্ছি না। আমি আমার মোবাইল ফোন খোলা রেখেছি। সব কল রিসিভ করছি। মোবাইল ফোনের সব কথার রেকর্ড থেকে যায় বলে হয়তো এতে হুমকি পাচ্ছি না। তবে বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি ওরা ওপর মহলে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছে। পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।’

আরও পড়ুন


ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে ককটেল হামলা কাদের মির্জার সাজানো: উপজেলা আ.লীগ

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কবরী

নিজ বাসা থেকে অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমানের লাশ উদ্ধার

সহিংসতার দায় কোনোভাবেই হেফাজতের উপর বর্তায় না: মাওলানা মামুনুল হক


এদিকে কেন আসামিরা আটক হলো না—সেই প্রশ্নের উত্তরে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলছেন, মামলা হলেই আসামি ধরতে হবে এমন বিধান নেই। তদন্ত হচ্ছে, শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ইন্সপেক্টর মাইনুর রহমান বলেন, ‘আমি মাত্রই তদন্তভার বুঝে পেয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সার্বিক এ পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না, নাকি নেপথ্য শক্তির চাপে করছে না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখার বিষয়। নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের দাবি, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সম্পাদক ও বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেছেন, এমন মামলায় অপরাধী আসামির গ্রেপ্তার না হওয়া প্রশ্নবোধক। এর নেপথ্যে কোনো প্রভাশালী লোকের হাতে হাত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার এ বিষয় নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় চলছে। নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, নাগরিক কমিটির অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলছেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে আসামিদের ধরতে হবে। তিনি বলেন, এই মামলায় তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধের সব উপাদান উদঘাটন করতে হবে। কেন তিনি (মোর্শেদ) আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন, কেন বা কিভাবে তাঁকে প্ররোচিত করা হয়েছিল, তার সত্যাসত্য তুলে এনে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অপরাধী যিনিই হোন, তিনি সরকারদলীয় বা বিরোধীদলীয় যা-ই হোন, প্রচলিত আইনেই তাঁকে শাস্তি দিতে হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

জাতীয় মসজিদে ঈদের ৫ জামাত, মানতে হবে যে নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় মসজিদে ঈদের ৫ জামাত, মানতে হবে যে নির্দেশনা

প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১১ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবার (১৩ বা ১৪ মে) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।

গত ২৬ এপ্রিল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনার কারণে এবারও ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা যাবে না। ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে। একইসঙ্গে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমাম থাকবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি কাজী মাসুদুর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি হাবিবুর রহমান মেশকাত।

সকাল ৯টার তৃতীয় জামাতের ইমাম হবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসহাক।

চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমাম থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান। মুকাব্বির হবেন বায়তুল মোকাররমের খাদেম হাফেজ মো. শহীদুল্লাহ।

পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৬ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মসজিদের ইমাম-খতিব, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পরবর্তী খবর

৫০০ টাকা কমল বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ফি

অনলাইন ডেস্ক

৫০০ টাকা কমল বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ফি

বেসরকারি পর্যায়ে দেশে করোনা পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা কমিয়ে ২হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

বিদেশগামীদের সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ল্যাব থেকে পরীক্ষা করলে তিন হাজার টাকা লাগত। এখন তা কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ লোকজনের বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করাতে লাগত ৩ হাজার ৫০০ টাকা, তা কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর বেসরকারিভাবে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করালে ৪ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে এখন লাগবে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

সরকারি পর্যায়ে পরীক্ষা করাতে গেলে আগের মতো ১০০ টাকাই লাগবে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া থেকে গরু-ছাগলের জন্য ৩৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়া থেকে গরু-ছাগলের জন্য ৩৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি

গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া থেকে উন্নতমানের ৩৫ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১১ মে) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের গবাদিপশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ভোলা জেলায় আমদানিকৃত এ ভ্যাকসিনের যথাক্রমে ৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০০ ডোজ, ১০ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০০ ডোজ, ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ডোজ এবং ৭ লক্ষ ৯৫ হাজার ডোজ প্রেরণ করা হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের নিশ্চয়তা প্রদান ও বিশ্ববাজারে দেশের প্রাণিজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। এ রোগে দেশের ডেইরি খাত ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিধায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি করছে সরকার। ইতোমধ্যে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ১৪ হাজার ২৮৬ ডোজ ভ্যাকসিনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে যার প্রথম ধাপে ৩৫ লক্ষ ডোজ অতিসম্প্রতি রাশিয়া থেকে দেশে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক গরু, ছাগল, মহিষ এবং ভেড়া ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হচ্ছে যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। করোনা মহামারীর এ সময়ে খামারিদের ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে এ ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। করোনা সংকটে সরকার খামারিদের ক্ষয়-ক্ষতি কমানো ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতার দিক থেকে গবাদিপশুর সবচেয়ে মারাত্বক সংক্রামক ব্যাধি ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ যা সংক্ষেপে এফএমডি নামে পরিচিত। সাধারণত গবাদিপশুর ক্ষুরে বেশি হয় বলে একে ক্ষুরা রোগ বলা হয়। এ রোগ দেশের ডেইরি শিল্পের অন্যতম প্রধান ক্ষতিকারক রোগ। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি এ ভ্যাকসিন আমদানি করা হয়েছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত

অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত

প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

মঙ্গলবার (১১ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমাম থাকবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি কাজী মাসুদুর রহমান। আর দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি হাবিবুর রহমান মেশকাত।

পাঁচটি জামাতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৬ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মসজিদের ইমাম-খতিব, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সেই কনস্টেবল পুরস্কৃত হলেন

আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী

সেই কনস্টেবল পুরস্কৃত হলেন

নোয়াখালীর মাইজদীতে সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া ১৪ হাজার টাকা মালিককে ফেরত দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল ওয়ালি উল্যাহকে পুরস্কৃত করেছে নোয়াখালী পুলিশ সুপার।

মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জেলা ট্রাফিক কনস্টেবল ওয়ালি উল্যার হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা, নোয়াখালী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে, সোমবার (১০ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের পৌর কাঁচাবাজারের প্রধান সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া ১৪ হাজার টাকা নোয়াখালী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমানের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিকের কাছে টাকা ও এটিএম কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফেরত দেন কনস্টেবল ওয়ালি উল্যাহ।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকালে মাইজদী শহরের পৌর কাঁচাবাজারে বাজার করতে গিয়ে মানিব্যাগ হারিয়ে পেলেন ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তিনি মানিব্যাগ না পেয়ে চলে যান। পৌর বাজারের প্রধান সড়কে কর্তব্যরত অবস্থায় টাকাসহ একটি মানিব্যাগ পেয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমানকে অবগত করেন কনস্টেবল ওয়ালি উল্যাহ। পরে মানিব্যাগে থাকা কাগজ দেখে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে জেলা ট্রাফিক পুলিশ অফিস থেকে টাকার মালিক মো. ফারুক হোসেন টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ মানিব্যাগটি নিয়ে যান।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, কনস্টেবল ওয়ালি উল্যাহ সততার পরিচয় দেয়ায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর আগেও সততার দৃষ্টান্ত রাখায় অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর