জনগনের আস্থা নষ্ট হয় এমন কাজ করতে প্রস্তুত না অন্টারিওর পুলিশ

শওগাত আলী সাগর

জনগনের আস্থা নষ্ট হয় এমন কাজ করতে প্রস্তুত না অন্টারিওর পুলিশ

’ডোন্ট মেক কপস দ্যা ব্যাড গাইজ হিয়ার!’ কোভিডের বিস্তাররোধে লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশকে দেয়া বাড়তি ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাতে রাজি হচ্ছে না অন্টারিওর পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট টুইট করে তাদের এই অস্বীকৃতির কথা সরকারকে জানিয়ে দিযেছে। তবে টরন্টো পুলিশ বলছে, তারা জনগনকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করবে। 

এমনিতেই কোনো নাগরিককে রাস্তায় থামিয়ে জ্ঞিাসাবাদ করার ক্ষমতা কানাডার পুলিশের নেই। কোভিড পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অন্টারিও সরকার পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়। সেই ক্ষমতায় যে কোনো নাগরিক বা গাড়ি থামিয়ে কেন তিনি বাড়ীর বাইরে এসেছেন, কোথায়, কেন যাচ্ছেন, সেটি জরুরী কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা দেয়া হয়। জরুরী নয় এমন কাজে বাড়ীর বাইরে যাওয়া যে কাউকে ৭৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা দেয়া হয় পুলিশকে। 

পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়া নিয়ে কাল থেকেই নাগরিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গণমাধ্যমের তাৎক্ষনিক জরিপে অধিকাংশ নাগরিকই পুলিশেকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়ার সমালোচনা করেন। আজ (শনিবার) সকাল থেকেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট জানিয়ে দেয়- তারা সরকারের দেয়া বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না। 

পুলিশ এসোসিয়েশন বিবৃতি দিয়ে সরকারকে বলেছে, "Don't make cops the bad guys here!". তারা বলছে, পুলিশের প্রতি জনগনের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ তারা করতে প্রস্তুত না। পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন এলে সেটি কার্যকরভাবে প্রয়োগের আগে জনগনকে জানিয়ে দিয়েই সেটি প্রয়োগ করা হবে। তবে রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামানো বা নাগরিকদের থামিয়ে কেন বাড়ীর বাইরে এলো- সে ব্যাপারে খবরদারি করার কাজ পুলিশ করবে না।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

এক ডোজ ভ্যাকসিন নিলে মিলছে ৩৫০ ডলার

শওগাত আলী সাগর

এক ডোজ ভ্যাকসিন নিলে মিলছে ৩৫০ ডলার

নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই নাগরিকরা কোভিডের ভ্যাকসিনের জন্য ছুটছেন। কিন্তু কানাডীয়ান কোম্পানি EACOM Timber Corp তাদের শ্রমিক- ঠিকাদারদের আগ্রহের উপরই বসে থাকতে চায়নি। কোভিডের ভ্যাকসিনের জন্য কোম্পানিটি বিশেষ প্রণোদনা ঘোষনা করেছে- প্রথম ডোজের ভ্যাকসিনের জন্য ২০০ ডলার, দ্বিতীয় ডোজের জন্য ১৫০ ডলার। 

আর এক ডোজের ভ্যাকসিন যারা নেবেন তাদের জন্য ৩৫০ ডলার। 

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্ত এখন ঘোষনা করলেও গত ডিসেম্বর থেকে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং ২০২১ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা নেবেন প্রত্যেকেই এই প্রণোদনা পাবেন।

স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারনে কেউ যদি ভ্যাকসিন নেয়ার অনুপুযুক্ত হন তারাও এই প্রনোদনা পাবেন।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানের ব্যাপারে জনগণের মতামত নেওয়া সমীচীন

শওগাত আলী সাগর

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানের ব্যাপারে জনগণের মতামত নেওয়া সমীচীন

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেশ স্বাধীনতা থেকে পরবর্তী সময়ের অনেক ঘটনার সাক্ষী শান্ত স্নীগ্ধ এ জায়গাটি। এখানকার সবুজ বৃক্ষরাজি বিমোহিত করে মানুষকে। কর্মক্লান্ত বহু মানুষ এখানে হাঁটতে আসেন। আসেন বেড়াতে। এই শহরে এ যেন অক্সিজেন নেওয়ার একটি নির্মল জায়গা। কিন্তু, সেই অক্সিজেনের ভাণ্ডার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক গাছই কেটে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পরিবেশবাদীরাও প্রতিবাদ করছেন। তবে, গাছ কাটা থেমে নেই।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু জনগণের ব্যবহারের জায়গা- এখানে যে কোনো ধরনের কাজ করার আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণকে অবহিত করা, তাদের মতামত নেওয়া সমীচীন।’

তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আগে ছিল রেসকোর্স ময়দান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই রেসকোর্স ময়দানেই লাখো মানুষের মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল এখানেই। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সুহৃদ ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরকালে এই রেসকোর্স ময়দানেই ভাষণ দিয়েছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই? কারা, কেন গাছ কাটছেন, এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত কোন পর্যায়ে হয়েছে? সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় কারা ছিলেন, কেউ আপত্তি করেছিলেন কী না- এই সব বিষয়ে কোনো তথ্য কি কোথাও আছে? নিদেনপক্ষে- সোহরাওয়াদী উদ্যান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাটি আসলে কী - এই তথ্য!

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু জনগণের ব্যবহারের জায়গা- এখানে যে কোনো ধরনের কাজ করার আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণকে অবহিত করা, তাদের মতামত নেওয়া সমীচীন। জনগণকে গুরুত্ব দিলে এটিই করার কথা।

বাই দ্যা ওয়ে, সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানে কী হচ্ছে- তা নিয়ে কোনো মাধ্যম কি বিস্তারিত কোনো রিপোর্ট করেছে? (হয়তো করেছে, আমার চোখ এড়িয়ে গেছে, সেজন্য জানতে চাওয়া)।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রকেট‌‌টি পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে

আনোয়ার সাদী

রকেট‌‌টি পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে

‘এমনিতে মাস্ক পরে ঘরের বাইরে যেতে হয়, এখন কী মাথায় সব সময় হেলমেট দিয়ে রাখবো?’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এমন একটি মন্তব্য দেখে অনেকক্ষন চুপচাপ বসে আছি। আপনারা ভাববেন না, মোটর সাইকেলে চড়ার জন্য এই হেলমেট ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে । বক্তা এখন হেলমেট দিয়ে মাথা বাঁচাতে চাইছেন চীনের তৈরি মহাকাশ যানের ফিরে আসা অংশ থেকে নিজের মাথা বাঁচানোর জন্য। 

এপ্রিলের ২৯ তারিখে চীন একটি রকেট ছুঁড়েছিলো মহাকাশে। তারই একটি অংশ নষ্ট হয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে। ফিরে আসছে বলতে এখনি এটি খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করেনি। এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে। যেমন ঘুরে চাঁদ। আর একটু একটু করে নিচে নামছে। ফলে, এখনি ঠিকঠাক বলা সম্ভব হচ্ছে না, কোথায় এটি নামবে। নামবে মানে আছড়ে পড়বে। 

আশার কথা হলো, পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে। ধ্বংসাবশেষের বিশাল অংশ হয়তো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিন্তু যতটুকু পুড়বে না, তা যেখানে পড়বে, তা ক্ষতি করার কথা। যদি সাগরে পড়ে, মানুষ বেঁচে গেলো। যদি বিরানভূমিতে পড়ে তাহলেও মানুষ বাঁচবে। যদি লোকালয়ে পড়ে তাহলে বিপদ। তা, যে দেশেই হোক না কেন। 

ধ্বংসাবশেষকে ফলো করার প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তারা বেশ খানিকটা বিরক্ত। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন পরোক্ষভাবে চীনের সমালোচনা করেছেন। তিনি  বলেন  ‘যেকোন পরিকল্পনা এবং অভিযান পরিচালনার সময় এই ধরণের বিষয়গুলি বিবেচনায় নেয়াটা বেশ জরুরি।’ মানে যা পারো না  তা কেন করতে যাও টাইপের মনোভাব আরকী। 

চীনও বসে নেই। তারা তাদের আশঙ্কা, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস সহ নানা কিছূ বলছে। রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে নেমে আসতে এক সপ্তাহ লাগবে। আমি অবশ্য মনে করি এটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামিয়ে আনা উচিত। সেটা গোলা ছুঁড়ে বা অন্যকিছু করে। বিজ্ঞানীদের কাছে নিশ্চয়ই সেই প্রযুক্তি আছে । 

যাহোক, এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। আগেও চীনের রকেটের ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে পৃথিবীতে । সেটা ২০২০ সালের মে মাসের ঘটনা। সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছিলো পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টের গ্রামগুলিতে। সেখানে ৩৯ ফুট দীর্ঘ ধাতব পাইপ ছিলো। আশার কথা সেই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।  এবার কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

 

পরবর্তী খবর

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

ড. তুহিন মালিক

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

যে বাঘটি অতিশয় বৃদ্ধ, দূর্বল, রোগাক্রান্ত, ক্ষীন। সে শিকার করার সব শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে। তার সামনে আপনি যতই ঘোরাঘুরি করুন না কেন। সে আপনাকে আক্রমণের জন্য ছুঁটে আসবে না। তার মানে, সেই বাঘটি যে নম্র ভদ্র বা বাধ্যগত। তা কিন্তু নয়। কারন তার আর আক্রমণ করার কোন শক্তি, সামর্থ্য বা ইচ্ছা নাই। ঠিক তেমনি। আমাদের শক্তি, সামর্থ্য,  ইচ্ছা ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলোকে সেক্রিফাইস করার নামই হচ্ছে ঈমান।

তাই বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ অনেক অনেক বেশি খুশি হন তরুণ যৌবন বয়সের ইবাদতে। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, “যেদিন (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। সেদিন তিনি সাত শ্রেনীর লোককে তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মাঝে একশ্রেনীর হলেন এমন যুবক, যারা যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন।” (বুখারি, ৫০৪) 

এই সাত শ্রেনীর মধ্যে সেই শ্রেনীকেও আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। যারা হচ্ছে— “যে যুবককে কোনো সুন্দরী নারী ব্যভিচারের আহবান করলে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।”

রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে- তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন করা হবে যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছো।” (বুখারি)

আমরা অনেকেই বলি, ‘এত বাচ্চা বয়সে এসব করার কি দরকার আছে!’ অথচ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সমাজ সংস্কারে হিলফুল-ফুযুল গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। হযরত আলী (রাঃ) রাসূল (সাঃ)এর সঙ্গী হয়েছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে। 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা।  আসুন, আল্লাহর জন্য সেরাটাই ভাবি। আল্লাহকে সেরা সময়টা দেই। নগদে পাওয়া সহজলভ্য অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখকে, চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে ছেড়ে দেই। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। 

আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এই সেক্রিফাইসের বিনিময় হচ্ছে একটাই। আর তা হলো- জান্নাত। শুধুমাত্র জান্নাত। খুব বেশী কি দুরে? তারুণ্যের পর যৌবন। এরপর বার্ধক্য। এরপর .... ? এরপর সবই চিরস্থায়ী! হয় চিরস্থায়ী জান্নাত। আর না হয় চিরস্থায়ী জাহান্নাম! 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা। আসুন, যৌবনের অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখের বিনিময়ে। চিরস্থায়ী সুখকে কিনে নেই। আত্মশুদ্ধির এই পবিত্র মাসে এটাই হোক তারুণ্যের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর মৃত্যু কিন্তু কারো বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। বয়সের সিরিয়ালও মানবে না। আসুন, আমরা আল্লাহকে সেরা সময়টাই দেই। সেরা সময়টাকে চিরস্থায়ী জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দেই। বিনিময়ে শুধু চিরস্থায়ী জান্নাতই নয়। বরং দুনিয়াটাও বোনাস হিসাবে পেয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

মারুফ কামাল খান

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

‘শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না।’

এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। তিনি এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন। মারুফ কামালের সেই লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মরহুম সাংবাদিক-রাজনীতিক তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে কিছুকালের জন্য আমি সাংবাদিকতায় ঊর্ধ্বতন সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলাম। সেটা দৈনিক দেশ-এ কাজ করবার সময়। সাবেক ছাত্রনেতা তাহের ঠাকুর পাকিস্তান আমলে দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার ছিলেন। সে যামানায় শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তৈরিতে তিনি বিরাট ভূমিকা রাখেন। স্বনামে 'জনতা সাগরে জেগেছে ঊর্মি' শিরোনামে ইত্তেফাকে শেখ সাহেবের ওপর সিরিজ রিপোর্ট করতেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য এবং শেখ সাহেবের কেবিনেটে তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তাহের ঠাকুর।

মুজিবহত্যার পর মোশতাক সরকারে অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে তাহের ঠাকুরের মন্ত্রীত্বও বহাল থাকে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া খোন্দকার মোশতাকের ভাষণসমূহও ছিল তাহের ঠাকুরেরই লেখা।

সুন্দর অভিজাত চেহারা ছিল তার। কণ্ঠস্বর ছিল চমৎকার। বেশভূষায় সব সময় নিপাট পারিপাট্য বজায় রাখতেন। কথাবার্তায় ছিলেন দারুণ চৌকশ। লিখতেনও দারুণ। অধুনালুপ্ত দৈনিক দেশ-এর শেষ পর্বে তিনি উপদেষ্টা সম্পাদক হিশেবে যোগ দিয়েছিলেন।

তাহের ঠাকুর ১৯৭৫ সালের মুজিবহত্যা ও জেলহত্যায় জড়িত ছিলেন বলে ব্যাপক প্রচার ছিল। আওয়ামী ঘরানার লোকজন তাকে অন্যতম চক্রান্তকারী বলে জানতেন। তবে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এবং সম্পাদকীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়ায় আমি তার প্রবল মুজিবভক্তি ও ভারতপ্রীতির প্রমাণ পেতাম। পরে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুজিবহত্যা ও জেলহত্যা উভয় মামলায় আসামি করে এবং গ্রেফতার করে জেলে রাখে। তবে বিচারে তাহের ঠাকুর বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন।

খুব তুখোড় আড্ডাবাজ লোক ছিলেন তাহের ঠাকুর। অফিসে এসেই আমাকে ডাকতেন। বাসা থেকে পিতলের ঝকঝকে পাত্র ভরে আনতেন সাজানো পান। সেটা খুলতেই সুগন্ধী জর্দার সুরভীতে ঘর মৌ মৌ করতো। তার চেয়ারের পাশে একটা পিকদানিও রাখা ছিল। আমারও তখন পান খাবার নেশা ছিল জব্বর। ধুমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কিংবা আয়েশ করে পান চিবুতে চিবুতে জমে উঠত আড্ডা। তাতে শামিল হতেন সহকর্মীদের অনেকেই।

'নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হয়। তখন আ.লীগের প্রতি তাহের ঠাকুরের অনুকূল মনোভাব আরো পরিস্কার হয়ে যায়। আমরা ছিলাম তখন বিএনপির পাগলপারা সমর্থক। একদিন একটু ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে বললাম, এতো বেশি আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ করেন, কিন্তু ওরা তো আপনাকে খুনি ও চক্রান্তকারী বলে। ওরা ক্ষমতায় এলে তো আপনাকে লটকে দেবে।

আমার ডাক নাম ধরে ডাকতেন তিনি। খানিকটা ম্লান হাসি হেসে বললেন, সোহেল ভাই, একটা কথা বলি শোনেন। মনে রাখবেন, জগতের অনেক কিছুর ফয়সালাই কিন্তু মানুষের হাতে নেই। সেগুলোর ফয়সালা হয় আসমানে। আমরা দুনিয়ার মানুষ এক রকম পরিকল্পনা করি কিন্তু আসমানি ফয়সালায় তা সম্পূর্ণ উলটে যায়।

তারপর তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে একটা মেসাল দিয়ে বললেন, ইন্ডিয়ায় মিসেস গান্ধীর ব্যাপারটা দেখুন। তার দুটি ছেলে। বড়টি রাজিব - ধীরস্থির, শান্ত। খুব রোমান্টিক ও শিল্পবোধসম্পন্ন তরুণ। কিছুটা স্বপ্নচারী। এক বিদেশিনী মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে, সুন্দর বেহালা বাজায়। মিসেস গান্ধী ভাবলেন, এই স্বাপ্নিক ছেলেকে দিয়ে রাজনীতি হবেনা। ও ডানা মেলে আকাশে উড়ুক। রাজিবকে পাইলট বানালেন তিনি।

ছোট ছেলে সঞ্জয়। সে ডানপিটে, একটু উগ্র স্বভাবের। রগচটা ছেলেটা সবার সাথে মেশে। একটু মতের অমিল হলেই মারপিটও করে ফেলে। শ্রীমতি গান্ধী এ ছেলেকেই তার রাজনীতির উত্তরসূরী করলেন।

কিন্তু বিধি বাম। আসমানি ফয়সালা ভিন্ন। যাকে তিনি রাজনীতির মাঠের জন্য তৈরি করলেন, সেই ছেলে একদিন ফ্লাইং ক্লাবের একটা প্লেন নিয়ে আকাশে উড়তে গিয়ে দুর্ঘটনায় হুট করে মরে গেলো। এরপর শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে মিসেস গান্ধী নিজেও নিহত হলেন। তখন আকাশে ওড়া সেই পাইলট ছেলেটিকে মাটিতে নেমে এসে হাল ধরতে হলো মায়ের রাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে। আর রাজনীতিতে নামার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েও রাজিবকে জীবন দিতে হলো অন্তর্ঘাতকের বোমা হামলায়!

তাহলে কী দাঁড়ালো? শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না। সব কিছুর ওপরে যে আসমানি ফয়সালা সেই কুদরতের ওপর আমাদেরকে আস্থা রাখতেই হবে।

অনেক দিন আগের গল্প। স্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বার পেরিয়ে তাহের ঠাকুরও অনেক আগেই গত হয়েছেন। তবুও ঘটনার নানা রকমের অভিঘাত দেখলে এখনো তার সে বয়ান মাঝে মাঝে মনে পড়ে। ভাবতে থাকি, মানুষের পরিকল্পনার বিপরীতে অকল্পনীয় আসমানি ফয়সালা যে কোনো মুহূর্তে আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দিতে পারে।

সেই গভীর আস্থাটা মনের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর