ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম

জুনাইদ আহমেদ পলক

ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম

ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম।

সত্যতা ও সততা ইসলামের মূল চালিকা শক্তি।

মুমিন বা মুসলিম হলো সত্যের অনুসারী।

জীবনের সব ক্ষেত্রে, সর্বাবস্থায় সত্যের অনুসরণ করাই হলো ঈমান ও ইসলাম। আল্লাহ তাআলা কোরআন কারিমে বলেন,

‘তুমি বলো: সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা দূরীভূত হবেই’ (১৭: ৮১)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন,

‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে সংমিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না’ (২: ৪২)।

সংবাদ যাচাই জরুরি

সঠিক তথ্য বা সংবাদ জ্ঞানের উৎস।

তাই কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, ভুল তথ্যের ওপর নেওয়া সিদ্ধান্তও ভুল হবে এবং এর পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়াবহ হবে।

এ বিষয়ে মুমিনদের সতর্ক করে আল্লাহ বলেন,

‘হে মুমিনগণ! যদি তোমাদের কাছে কোনো ফাসিক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তখন তোমরা তা যাচাই-বাছাই করো (তথ্যানুসন্ধান ও সঠিক সূত্র সন্ধান করো), না হলে তোমরা (এ অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে) অজ্ঞতাবশত কারও প্রতি আক্রমণ করে বসবে

(যা যথাযথ নয়), ফলে তোমরা পরে তোমাদের স্বীয় কর্মের জন্য লজ্জিত হতে হবে’ (৪৯: ৬)।

রটনাকারী মিথ্যাবাদী

সত্য-সুন্দর হলো ইসলাম, মিথ্যা হলো কুফর এবং জাহেলিয়াত বা মূর্খতা হলো অন্ধকার।

মিথ্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে হাদিসে আছে,

‘মিথ্যা সব পাপের জননী’ (বুখারি)। স্বরচিত মিথ্যাকে ‘ইফতিরা’ বলা হয়। তথ্য যাচাই-বাছাই না করে অসত্য তথ্য বা ভুল সংবাদ প্রচার করাও মিথ্যার শামিল এবং প্রচারকারী ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিগণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

‘কোনো মানুষ মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শুনে (সত্যাসত্য যাচাই না করে) তাই বলতে বা প্রচার করতে থাকে’ (বুখারি)।


আরও পড়ুনঃ


বাইডেনের প্রস্তাবে রাজি পুতিন

২৮ হাজার লিটার দুধ নিয়ে নদীতে ট্যাঙ্কার!

গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

মৃত্যুতে যারা আলহামদুলিল্লাহ বলে তারা কী মানুষ?


কোনো মিথ্যাবাদী কখনো প্রকৃত মুমিন হতে পারে না।

মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সত্যের পথে শান্তির পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

অন্ধকার আছে বলেই আলো এতো মূল্যবান

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

অন্ধকার আছে বলেই আলো এতো মূল্যবান

একটা বেশভূষা কৃষক।

কপালটায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল বোনে সে।

এই ফসল কৃষককে স্বপ্ন দেখায়, আনন্দিত করে।

অথচ ফসলের ভেতরে ভেতরে জন্ম নেয় কিছু সুবিধাভোগী উদ্ভিদ।

নিজেদের অনেকটা আড়াল করে রেখে উদ্ভিদগুলো ধীরে ধীরে ফসলের উপর আঘাত হানে। ফসলের জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে কেড়ে নিয়ে ফসলকে নিঃশেষ করে দেয়।

ভেঙে যায় কৃষকের আগামীদিনের টুকরো টুকরো স্বপ্ন।
এই উদ্ভিদগুলোই আগাছা।
কৃষক জানতেও পারে না ফলসের সাথে সাথে সে তার স্বপ্ন, আশা, বিশ্বাসের ঘাতকদের বড় করে তোলে।
যারা কৃষকের দুধ কলা খেয়ে একদিন কৃষকের সর্বনাশ করে।
খুব কৌশলে  কৃষক ও ফসলের মধ্যে ঢুকে পড়ে আগাছা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জন্ম নেয়।
মানুষের মধ্যেও এমন তৃতীয় শক্তি জন্ম নিচ্ছে প্রতিদিন। যারা খুব কৌশলে মানুষের মধ্যে ঢুকে মানুষের বিপর্যয় ডেকে আনে। এরা খুব স্বার্থপর হয়। সুবিধাবাদী হয়। বিশ্বাসঘাতক হয়।
এদের মুখ থাকে না মুখোশ থাকে।

পৃথিবীতে অনেক বড় বড় সম্পর্কের ফাটল ধরেছে এই তৃতীয় শক্তির জন্মের কারণে।
লাইলী-মজনু, রোমিও -জুলিয়েট, দেবদাস-পার্বতী, শিরি-ফরহাদ এর মতো ভালোবাসাগুলো সফল হতে পারেনি তৃতীয় শক্তির কারণে। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো ভালোবাসাগুলো সফল না হলেও অমরত্ব পেয়েছে।  কাগজে কিংবা পাথরে লেখা এই ভালোবাসাগুলোর ঘটনাগুলো হতে পারে নিছক গল্প, উপন্যাস, লোকগাথা কিংবা রূপকথা তবে এমনটাই প্রতিদিন ঘটছে মানুষের জীবনে। হয়তো  ভিন্নমাত্রায়, সময়ের রকম ফেরে। সম্পর্কের এক একটা টানাপোড়েন উঁচু উঁচু ইট পাথরের দালান কোঠায় হয়তো নীরবে, নিভৃতে কাঁদছে, বিড়ম্বিত জীবন থেকে পালানোর পথ খুঁজছে।

বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর, মোশতাক,  নরওয়ের ভিদকুন কুইজলিং, রোমের মার্কাস জুলিয়াস ব্র“টাস এরা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জন্ম নিয়ে সভ্যতার গতিপথকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। এখনো এমন বিশ্বাসঘাতকদের দল আমাদের আশেপাশেই আছে। কারণ ইতিহাস বলছে বিশ্বাসঘাতক খুব কাছের মানুষেরাই হয়। মার্কিন লেখক ও ঔপন্যাসিক মার্ক টোয়েন একটা কথা প্রায় বলতেন, ‘যদি তুমি রাস্তা থেকে কোনো ক্ষুধার্ত কুকুরকে বাড়িতে নিয়ে যাও এবং লালন-পালন কর, তবে কুকুরটি কখনও তোমাকে কামড়াবে না। এটাই হলো মানুষ ও কুকুরের মধ্যে পার্থক্য।’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি কবিতায় বলেছেন, আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি তার ভেতেরের কুকুরটাকে দেখব বলে।

কথাগুলো জীবনের ভেতরটাকে কেমন করে যেন হু হু করে আঘাত করে। এমনটা দেখতে দেখতে নির্বিকার চোখে কেমন যেন একটা অসহিষ্ণু রক্তপাত ঘটে। তারপরও জীবনের এই প্রতিশব্দগুলো হয়তো সেই নেতিবাচক তৃতীয় শক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করছে। কংক্রিটের ঢালায় করা কৃত্রিম পৃথিবীতে তা  খুঁজতে গিয়ে হয়তো শব্দগুলোই খেই হারিয়ে ফেলছে। সে খোঁজাটা এখন দিনে দিনে অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। যেন পিচ ঢালা রাস্তাকে উত্তপ্ত আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো। কি অর্থনীতি, কি রাজনীতি, কি সমাজ ব্যবস্থা, কি শিক্ষা, কি সম্পর্ক, কি বিশ্বায়ন, কি মনস্তত্ব, কি দর্শন, কি মানবিকতা-সবখানেই তৃতীয় শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

তবে কি আমরা থেমে যাব। মনুষ্যত্ব কি তবে তৃতীয় শক্তির দানবের হাতে বন্দী হয়ে যাবে?

সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেই। সব অমীমাংসিত ঘটনার মীমাংসা করতে নেই। সমঝোতা সবখানে হতে নেই। উপসংহার সবখানে টানতে নেই। তবে মনে মনে একটা আশাহত স্বপ্ন রাখতে হয়, সেটা কি তা কখনো জানতে নেই। তবে সেটার অস্তিত্ব আছে খুব গভীর থেকে গভীরে, যে অস্তিত্ব আলোতে নেই, অন্ধকারে আছে। কারণ অন্ধকার আছে বলেই আলো এতো মূল্যবান।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগ, ডুয়েট

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

মঞ্জুরে খোদা টরিক

আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

ধর্মান্ধদের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে- আজ সময় টিভিতে চঞ্চল চৌধুরীর আক্ষেপ-অভিযোগ শুনলাম! তিনি বলছেন, কোন শিল্পীকে আমার বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ-ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখলাম না! দশজন শিল্পীও কি নেই, আমার পক্ষে দাড়ানোর মত? 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রিয় চঞ্চল, যখন জয়া আহসানকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দেয়- তখন আপনি কোথায় ছিলেন? তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখন আপনি ভেবেছিলেন এটা আমার কোন বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? মোশাররফ করিমকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দিল তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখনো আপনি চুপই ছিলেন তাই না?

এভাবেই জয়া আহসানে উপর যখন ধর্মান্ধরা চড়াও হয় তখন মোশাররফ করিম চুপ থাকেন, প্রতিবাদ করেন না! তিনি ভাবেন এটা তো আমার বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? জয়া আহসানও অন্যদের ক্ষেত্রে তাই করেন! তেমনি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে যখন হুমকি দেয়া হয় তখন আপনারা চুপ ছিলেন, কেউ কথা বলেননি, প্রতিবাদ করেননি! এভাবে আপনাদের বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে ধর্মান্ধরা। তারা আরো সংঘবদ্ধ হচ্ছে এবং আপনাদের ঘিরে ফেলছে। এখন যা দেখছেন এগুলো তার সিমটম মাত্র!

এ ঘটনাগুলো আমাকে আর মোটেই অবাক করে না, কারণ আমি-আমরা জানতাম এমনটা ঘটবে এবং একটা পর্যায়ে এগুলো আর ঠোকাঠুকির পর্যায়ে থাকবে না আরো ভয়াবহ হবে।  

কবি মার্টিন নিম্যোলার জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন জার্মানের হিটলারের সমর্থক, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার পক্ষে ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তাঁর এক বিখ্যাত কবিতায় পাওয়া যায় আমাদের এ সময়ের সেই করুণ চিত্র! 
“যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল, আমি নীরব ছিলাম,
কারণ আমি শ্রমিক নই।

তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,
কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,আমি টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করিনি,
কারণ আমি ক্যাথলিক নই।

শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না, কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) লেখক, গবেষক ও অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

“আইলারে নয়া দামান” গানটির কিছু কথা !

প্রীতম

“আইলারে নয়া দামান” গানটির কিছু কথা !

আমাদের দেশের শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের প্রচলিত মোড়ল মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শুধু “আইলারে নয়া দামান” গানটির কথাই বলি। শুনলাম এই গানটি ৫০ বছরের বেশি সময় আগের। 

সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মা দিব্যময়ী দাশের রচনা বলে জানিয়েছেন এবং তিনি তার পুরনো রেকর্ডও শুনিয়েছেন। মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট আইন আনুসারে দিব্যময়ি মৃত্যুর ৬০ বছর পর্যন্ত এই গানটির কপিরাইট তার সন্তান সংগীতজ্ঞ রাম কানাই দাশ বা তার পরিবারের নামে। 

ছোট করে বলে রাখা ভালো মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট দুটো ভিন্ন অধিকার ও আইন। মেধাস্বত্ব বিক্রি বা পরিবর্তন যোগ্য নয় কিন্তু চাইলে কপিরাইট হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেবন। যেহেতু মুজা নতুন মিউজিক এরেঞ্জ করেছেন এবং তোশিবা কাভার গেয়েছেন আইন অনুসারে এই গানে মুজার র‍্যাপ অংশ ছাড়া অন্য অংশে অধিকার না থাকলেও এই গানের এই ভার্শনে তোশিবার পারফর্মিং রাইটস রয়েছে। 

এরা দুজনেই বলেছেন যে গানটি তাদের নিজেদের লেখা বা সুর করা নয় তাহলে এতো ঝামেলা না করে রাম কানাই দাশ এর পরিবার মুজা এবং তোশিবার সাথে ৫/১০ বছরের কপিরাইট চুক্তি করে নিলেই ঝামেলা মিটে যেতো।

এখন পর্যন্ত এই গানে YouTube, Amazon, Spotify, Tiktalk, Facebook, Instagram এ যে মিলিয়নস Streaming হয়েছে তাতে ১৫/২০ হাজার ডলার রয়েলিটি পাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। মনে রাখতে হবে। এই যুগে মানুষ মরে গেলে তাকে মনে রাখে ৭ দিন আর গান হিট হলে ১৫/২০ দিনের বেশি না। তাই সম্মানের সাথে রয়েলিটি যোগ হলে দিব্যময়ি যেমন সম্মান পেতেন। মুজা এবং তোশিবাও হয়তো নতুন আরেকটা গান উপহার দেবার উৎসাহ পেতেন। বাংলা গানের একটা উদাহরণ ও তৈরি হতো। 

বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সকল দেশেই গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও লেবেল প্রতিষ্ঠান গান থেকে আয়ের অংশ সমান ভাবে ভাগ করে নেন। শুধু বাংলাদেশেই যে কোন এক পক্ষ একাই রয়েলিটি দখল করতে চান। এই মানসিকতা লালন করে বলেই বাংলাদেশে সংগীত ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হতে পারেনি। যদি এভাবেই চলে আরও ১০০ বছরেও পারবে না।

news24bd.tv / কামরুল   

পরবর্তী খবর

পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই ‘পুকুর সমান মধু’

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই ‘পুকুর সমান মধু’

ছবিতে কলকাতার গড়ের মাঠ। অন্য নাম ময়দান। এত বড় যে ময়দানের মাঝখানে গেলে নগরের কোলাহল শোনা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক সন্ধ্যায় আমি খিদিরপুর রোডে ট্রাম থেকে নেমে গড়ের মাঠ আড়াআড়ি হেঁটে পেরিয়ে পার্ক স্ট্রিটে পৌঁছেছিলাম।

কম-বেশি ১০০০ একরের এই বিশাল মাঠের অংশে বিভিন্ন ক্লাবের খেলার মাঠ, ইডেন গার্ডেনের মতো বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রভৃতি গড়ে উঠলেও বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো ঐতিহাসিক ভবন থাকলেও খোলা মাঠের মূল চরিত্র দু শ বছরেও নষ্ট করা হয়নি।

কারণ এটা কলকাতা মহানগরের 'ফুসফুস'। তারপরও আর যাতে কোনো স্থাপনা না হয় সেজন্য কলকাতাবাসীর উদ্বেগ রয়েছে। ময়দানে বইমেলা, বাণিজ্যমেলার আয়োজন হতো, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। গত বছরই ময়দানের অংশে মোটরসাইকেল পার্কিং ও আবর্জনা দেখে কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারক স্যুয়োমটো রুল করেন।

আমাদের জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ ঢাকায় ছোট একটি 'ফুসফুস' ছিল, কম-বেশি ৬৮ একর, স্বাধীনতার পর ঘোড়দৌড় তুলে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু চারদিকে শুধু নারকেল গাছ লাগিয়ে উদ্যানরূপে রাখতে বললেন। তারপর আমরা উদ্যানটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। প্রথমেই  এলোপাতাড়ি গাছ লাগানো হলো। ছেলেপেলেদের ফুটবল-ক্রিকেট খেলে ও দৌড়াদৌড়ি করে শরীরচর্চার সুযোগ বিলুপ্ত হলো। পরপরই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের সরকার অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার জন্য, সংস্কৃতি বলয় নির্মাণের জন্য উদগ্রীব হয়ে দফায় দফায় প্রকল্প আনতে লাগলেন। আমাদের দেশে নগর উন্নয়নের কাজ পরিকল্পনাবিদরা করেন না, করেন প্রভাবশালী ঠিকাদার ও আমলারা এবং রাজনীতিবিদরা সায় দেন। তাই দূরদৃষ্টি দিয়ে পরিকল্পনা নয়, প্রাধান্য পায় খণ্ড খণ্ড প্রকল্প। তাতে অনেক মধু চুঁইয়ে চুঁইয়ে নয়, স্রোতধারার মতো পড়ে। তাই যা হবার তাই হচ্ছে। এখন মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মারকসমূহ পর্যটকদের দেখানোর জন্য উদ্যানের ভেতরে রাস্তা ও হোটেল-রেস্তোঁরা দরকার। ব্যস্, এক সময় এলোপাতাড়ি গাছ লাগিয়ে যে পাতলা  বন তৈরি হয়েছিল তা এখন কেটে সাফসুতরো করো। উভয়তে লাভ। পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই পুকুর সমান মধু।

বিশ্বে কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের মতামত না নিয়ে, বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও নিরীক্ষা ছাড়া এলাকার ভৌত অবস্থা ও পরিবেশ এভাবে প্রকল্পের নামে বদলে দেওয়া বা ধ্বংস করা যায় না।

দেশে এখন রাজনীতির যে ভারসাম্যহীনতা ও সুশীল বা নাগরিক সমাজের দুর্বলতা তাতে ঠিকাদারি উন্নয়নের কুঠারাঘাত থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অবশেষটুকু রক্ষা করতে পারা দূরাশা। তবু তরুণদের দ্বারা যেটুকু নাগরিক প্রতিবাদ হচ্ছে সেটুকুর প্রতি অভিনন্দন।

গড়ের মাঠের তিনটি ছবি নেটে উইকিপিডিয়া ও অন্য সূত্র থেকে নেওয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের  ছবি তিনটি অতিসম্প্রতি ঢাকার সংবাদপত্রে প্রকাশিত।।

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু: সিনিয়র সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

শওগাত আলী সাগর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

এই যে মানুষ পরি কি মরি করে গ্রামে ছুটছে তার অন্তর্নিহিত রহস্য কি! প্রতি বছর ঈদের সময় সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়- ‘নাড়ির টানে গ্রামে ছুটছে মানুষ’ এই কি সেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটা! সেই নাড়িটা আসলে কি!

অনন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতিটা অনেক ভিন্ন। তবু মানুষ ছুটছে, পরি কি মরি করে ছুটছে। ফেসবুকে বিভিন্নজনের পোস্ট করা সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি, টিভি চ্যানেলের ভিডিও চিত্রগুলো গভীর মনোযোগসহকার দেখছিলাম। 

মনে হচ্ছিলো শহর থেকে তাড়া খেয়ে মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কোথাও ছুটছে। অনেকটা যুদ্ধ সময়ের মতো। শহরের কি কোনো যুদ্ধ হচ্ছে তা হলে! ওই যে রশি বেয়ে বেয়ে ফেরিতে উঠছে মানুষ- কিসের তাড়া খেয়ে? কিসের তাড়নায়?

বাচ্চা মতো একটা ছেলে কোনো একটা টিভি চ্যানেলকে বলছিলো- সারা বছর আমরা কষ্ট করে যাই আয় রোজগার করি। বছরের একটা দুইটা ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে এ সাথে নিয়ে ঈদ করতে না পারলে কি ভাবে হবে! আমরা মুসলমান তো!  ‘আমরা মুসলমান তো’- কথাটা খট করে বেজে উঠলো কানে। এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা! যারা গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের সবার মনে কি এই একই অনুভুতি- ‘আমরা মুসলমান তো!’।


খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্রে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন খালেদা জিয়া

কাবুলে স্কুলের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫৫


বিশ্বাস করুন, টেলিভিশনের ভিডিওচিত্রগুলো দেখতে দেখতে একবারের জন্যও কোভিড, স্বাস্থ্যবিধি- এইসব মনে পড়েনি। পৃথিবীতে এখন মহামারী চলছে- এই সত্যটাই যেনো ভুলে গিয়েছিলাম। বার বার মনে হচ্ছিলো- এই মানুষগুলো এইভাবে ‘তাড়া খেয়ে ছুটে পালানোর মতো করে’ ছুটছে কেন? এর মনস্তত্বিক, সমাজতাত্বিক কোনো ব্যাখ্যা কি কারো কাছে আছে!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর