মঙ্গলের আকাশে উড়লো প্রথম উড়ন্ত যান

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলের আকাশে উড়লো প্রথম উড়ন্ত যান

প্রথমবারের মত মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠ থেকে সফলভাবে একটি ছোট ড্রোন ওড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ইনজেনুয়িটি নামের এই ড্রোন মঙ্গলের আকাশে এক মিনিটের কম সময়ে ওড়ে।

তবে অন্য একটি গ্রহের আকাশে এই প্রথম যন্ত্রচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত কোন যান ওড়ানোর এই সাফল্যে উল্লসিত নাসা। এই সাফল্য সামনের দিনগুলোতে আরও দুঃসাহসিক বিমান ওড়ানোর পথ প্রশস্ত করল বলে জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলের বুক থেকে মাত্র এক দশমিক আট কেজি ওজনের এই ড্রোনটি প্রায় ৩ মিটার উপরে ওঠে, ড্রোনের পাখাগুলো ঘুরতে দেখা যায়, ড্রোনটি এদিক থেকে ওদিকে যায় এবং প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর ড্রোনটি আবার সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইনজেনুয়িটি ড্রোনটির প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা পরীক্ষা করার পর এটিকে এখন তারা আরও উঁচুতে এবং আরও দূর পর্যন্ত ওড়াতে চান।


আরও পড়ুনঃ


বাঙ্গি: বিনা দোষে রোষের শিকার যে ফল

গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

'টিকায় কিছু হবে না, লাভ যা হওয়ার মদেই হবে'

রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে শ্বশুড় বাড়িতেও পদ-পদবীর দাপট


মঙ্গলের মাটি থেকে কোন বায়ুযান গ্রহটির আকাশে ওড়ানো খুবই কঠিন। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল খুবই পাতলা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘনত্বের মাত্র ১% শতাংশ ঘনত্ব গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে ‘মিনি সুন্দরবন’

আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার :

কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগর ও বাকঁখালী নদীর মিলন মোহনায় সবুজ আর জীববৈচিত্রের অপূর্ব প্রাকৃতিক স্থান প্যারাবনটি যেন ‘মিনি সুন্দরবন’। এই বনে রয়েছে বাইন, কেওড়াসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছ। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৈকতের নুনিয়াছড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। 

সংশ্লিস্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাগরের প্রাকৃতিক দেয়াল বা রক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করছে পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে এই বনটি। 

কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগর ও বাকঁখালী নদীর মিলন মোহনায় ২০০৬ সালে প্রায় ৩১ একর জায়গা জুড়ে প্যারাবন সৃজনের উদ্যোগ নেয় বন ও পরিবেশ অধিদফতর। এই বনে রয়েছে বাইন, কেওড়াসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছ। এছাড়া পানকৌড়ি, মাছরাঙ্গাসহ সামুদ্রিক পাখি ও অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে এই বনটি।  

পর্যটকদের কাছে এই ‘মিনি সুন্দরবন’কে আকৃষ্ট করতে সৈকতের নুনিয়াছড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রও।এছাড়া এখানে রয়েছে মিনি সামুদ্রিক মিউজিয়ামও। এসব কিছু রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে সংরক্ষণকর্মীরা।

 সংশ্লিস্টরা বলছেন, এ প্যারাবনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করছে।  পাশাপাশি জীববৈচিত্য  রক্ষায়ও  গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে।  

জলবায়ুর পরিবর্তনে গেল কয়েক বছরে বহুপ্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই কারণে এই রকম বন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সুফলও মিলেছে এমন দাবি এই কর্মকর্তার। 

অনেকটা সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্থানটি কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও মনে করেন অনেকে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

মানচিত্রের আদলে বন: ইতালি ও মিনেসোটা

হারুন আল নাসিফ

মানচিত্রের আদলে বন: ইতালি ও মিনেসোটা

ইতালির উম্বরিয়ার একটি পাহাড়ের ঢালে রয়েছে ইতালির এক বিশাল মানচিত্র। এটি পুরোপুরি পাইন গাছের বাগান দিয়ে তৈরি। গাছগুলো উম্বরিয়ার পাহাড়ের ঢালে থরে থরে সাজানো। সাধারণভাবে তাকালে কারো কাছে এটিকে নিছক পাইনবন মনে হতে পারে। কিন্তু বসকো ইতালিয়ার পাইন গাছগুলো কোনো সাধারণ বন নয়। ইতালির মানচিত্রের আদল ফুটিয়ে তুলতে এ গাছগুলো ছক এঁটে রোপণ করা হয়েছিল। 

আম্বরিয়ার মন্তি সিবিলিনি ন্যাশনাল পার্কের অদূরে দ্য গ্রেট প্লেন অব কাস্তেলুসিওতে এই বসকো ইতালিয়া অবস্থিত। মৌসুমে সমভূমিটি চমৎকার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। তবে বসকো ইতালিয়ার আকর্ষণ সারা বছর জুড়ে শোভা পায়।

১৯৬১ সালে পাইন গাছের চারা লাগিয়ে খুবই চমৎকারভাবে এখানে ইতালির মানচিত্রের আকার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
তবে এটি বিশ্বে গাছ দিয়ে মানচিত্র বানানোর একমাত্র উদাহরণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর মিনেসোটাতে ‘মিনেসোটা ফরেস্ট’ মিনেসোটার মানচিত্রের আদলে তৈরি। 

এটি তৈরি করা হয়েছে গাছ লাগিয়ে নয়, গাছ কেটে। মিনেসোটা রাজ্যের উডস কাউন্টির লেকের গভীরে রাজ্যের মতো আকৃতির এক বিশাল বনভূমি রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে বন বিভাগের ডিএনআর-এর এক প্রকৌশলী এটি তৈরি করেন।

তাকে কাঠ সংগ্রহের জন্য বনের কিছু অংশ সাফ করতে বলা হলে বিল লকার একটি সাধারণ মানচিত্র এবং কম্পাস ব্যবহার করে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন এবং চারপাশের গাছগুলি কেটে সাফ করে রাজ্যের আকৃতি প্রদান করেন।

লেখক : হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

রামসাগর: দেশের বৃহত্তম দিঘি

হারুন আল নাসিফ

রামসাগর: দেশের বৃহত্তম দিঘি

রামসাগর দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দিঘি। এটি জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার (৮,০০০ মি) দক্ষিণে অবস্থিত। তটভূমিসহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার।

দিঘিটির পশ্চিম পাড়ের মাঝখানে একটি ঘাট ছিল। এখন যার কিছু অবশিষ্টাংশমাত্র রয়েছে। বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্ল্যাব দ্বারা নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার এবং ১৮.৩ মিটার। দীঘিটির পাড় ১০.৭৫ মিটার উঁচু।

ঐতিহাসিকদের মতে, দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ (রাজত্বকাল: ১৭২২-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) পলাশীর যুদ্ধের আগে (১৭৫০-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে) এই রামসাগর দিঘি খনন করেছিলেন। তারই নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রামসাগর। দিঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০,০০০ টাকা এবং ১৫,০০,০০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল।

রামসাগর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আসে ১৯৬০ সালে। ১৯৯৫-৯৬ সালে এই দিঘিকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই দিঘি নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন লোককথা। কথিত আছে, ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে প্রচণ্ড এক খরা দেখা দিলে পানির অভাবে নিদারুণ কষ্টে পড়ে হাজার হাজার প্রজা। এসময় দয়ালু রাজা প্রাণনাথ স্বপ্নাদেশ পেয়ে একটি পুকুর খনন করেন। মাত্র ১৫ দিনে এর খনন কাজ সম্পন্ন হয়।

কিন্তু দুঃখ ও আশ্চর্যের বিষয় হলো পুকুরে পানি উঠছিলো না। একসময় রাজা স্বপ্নে দৈববাণী পেলেন যে, তার একমাত্র ছেলে রামকে দীঘিতে বলি দিলে পানি উঠবে। স্বপ্নাদিষ্ট রাজা, দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেন।

তারপর এক ভোরে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোষাকাচ্ছাদিত হয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন সেই দীঘির দিকে। দীঘির পাড়ে পৌঁছে যুবরাজ রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দীঘির তলা থেকে গলগল করে পানি উঠতে লাগলো। চোখের পলকে পানিতে ভরে গেলো দিঘি।

আরো একটি লোককাহিনী হলো: দিঘি খনন করার পর রাজা রামনাথ পানি না উঠলে স্বপ্ন দেখেন রাজা দিঘিতে কেউ প্রাণ বিসর্জন দিলে পানি উঠবে। তখন রাম নামের স্থানীয় এক যুবক দিঘিতে প্রাণ বিসর্জন দেয়। রাজার নির্দেশে সেই যুবকের নামে দিঘির নামকরণ করা হয়।

এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৭টি পিকনিক কর্নার। সেখানে আছে ২টি টয়লেট, ১টি ক্যাফেটেরিয়া, আছে শিশুপার্ক। এছাড়া আছে কিছু হরিণ। এই উদ্যানে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিটের ব্যবস্থা।


আরও পড়ুনঃ


ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

মিষ্টি বিতরণে পুলিশের বাঁধা, ২০ কেজি রসগোল্লা জব্দ

ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় দায়িত্ব: হুথি নেতা

শত বছরের পুরনো বিয়ের রীতি ভাঙলেন ‘হার্ডকোর ফেমিনিস্ট’ যুবক


এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর গড়ে তোলা রামসাগর গ্রন্থাগার নামে ৮ শতাধিক বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে একটি অনুমোদনহীন পাঠাগার আছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অলক্ষে এই উদ্যানটি সন্ত্রাসী এবং মাদকসেবীদের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকব্যবসায়ের স্থান হয়ে উঠেছে এবং কখনো-কখনো তারা পর্যটকদেরও হয়রানিও করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় পিকনিক কর্নারগুলোও ভঙ্গুর, অরক্ষিত এবং প্রায় ব্যবহার-অযোগ্য হয়ে পড়েছে ।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

হারুন আল নাসিফ

মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

লোনার ঝিল ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাই থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূরে বুলধানা জেলার লোনারে অবস্থিত একটি পর্যটন আকর্ষণ। এটি লোনার ক্রেটার নামেও পরিচিত। শুধু স্থানীয় পর্যটক নন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসে এই বিস্ময়কর হ্রদটি দেখতে ভিড় জমান বিজ্ঞানীরাও। প্রাচীন গ্রন্থ পদ্মপুরান ও স্কন্ধ পুরান এবং ষোড়শ শতকে লেখা আইন-ই-আকবরী গ্রন্থেও এই হ্রদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৮২৩ সালে প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে ব্রিটিশ কর্মকর্তা জে. ই. আলেকজান্ডার হ্রদটি পরিদর্শন করেন।

লোনার ঝিল প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হ্রদ নয়। এটি পৃথিবীর কোনো স্থানে অতি-বেগে পতিত উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতে ব্যাসাল্টিক শিলায় সৃষ্ট গর্ত বা ক্রেটারগুলোর অন্যতম। ব্যাসাল্টিক প্রভাবে সৃষ্ট অন্য তিনটি ক্রেটার বা গর্ত রয়েছে দক্ষিণ ব্রাজিলে। উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট এ বিশাল ও গভীর গর্তটি কালক্রমে হ্রদে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা বা উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুটি পূর্বদিক থেকে সেকেন্ডে ১১ মাইল বেগে মহাকাশ থেকে ধেয়ে এসে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি কোণে ভূমিতে আঘাত করেছিলো।

লোনার ক্রেটারটির অবস্থান ডেকান মালভূমিতে। এটি প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ব্যাসাল্ট শিলার বিশাল সমতল। প্রায় ছয় কোটি সাড়ে ৬৫ লাখ বছর আগে এটি গঠন হতে শুরু করে। প্রায় ৩০ হাজার বছর ধরে চলে এ অগ্ন্যুৎপাত। মূল লাভা-বিধৌত অঞ্চলের আয়তন ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার ছিলো বলে ধারণা করা হয়। পরে ক্ষয় ও প্লেটটেকটোনিকের কারণে এটি ছোট হয়ে আসে। এর বর্তমান আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গ কিলোমিটার এবং পুরুত্ব দুই হাজার মিটার বা ছয় হাজার ছয়শ ফুট।

ঊনিশ শতকে যখন এটি আন্তর্জাতিক নজরে আসে তখন কিছু ভূতাত্ত্বিক ব্যাসাল্ট ক্ষেত্রে অবস্থান হওয়ায় এটিকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বলে অভিমত দিয়েছিলেন। তবে, বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভূতাত্ত্বিকরা সন্দেহ করতে শুরু করেন যে এটি উল্কাপিণ্ড, গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অভিঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ স্থানে উচ্চ গতিবেগের অভিঘাতে সৃষ্ট মাস্কেলিনাইট নামক একটি কাঁচ প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের সন্দেহ সত্য পরিণত হয়। ১৯৭৩ সালে সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে হ্রদে এই কাচের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।

গর্তটির বয়স সাধারণত ৫২ হাজার বছর বলে মনে করা হয়। তবে ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, এটির বয়স আনুমানিক পাঁচ লাখ ৭০ হাজার বছর। ২০১৯ সালে আইআইটি বোম্বে পরিচালিত একটি  সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এপোলো প্রোগ্রামের সময় চাঁদের শিলায় প্রাপ্ত খনিজগুলোর সাথে হ্রদের মাটিতে থাকা খনিজগুলোর বেশ মিল রয়েছে। ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে হ্রদটিকে সংরক্ষিত রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়। ভারতের জাতীয় জিও হেরিটেজের তকমাও পেয়েছে লেকটি।

ভূতাত্ত্বিক, বাস্তুবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক, প্রকৃতিবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ হ্রদের বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেছেন। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সাগরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শারীরিক গবেষণা পরীক্ষাগার এ স্থানটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে। ২০০৭ সালে এই হ্রদের জৈব নাইট্রোজেন নির্ধারণ আবিষ্কার হয়। এখানে বসবাসরত অণুজীবগুলো কেবল পিএইচ১১-তেই বেঁচে থাকতে পারে।

হ্রদের পানির রঙ সাধারণত সবুজ। কিন্তু ২০২০ সালের জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে মাত্র দুই-তিনদিনে হ্রদের পানির রঙ বদলে লালচে গোলাপি রঙ ধারণ করে। জানা যায়, আগেও কয়েকবার লোনার হ্রদের পানির রঙে লালচে বা গোলাপি আভা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার রঙের ঘনত্ব বেশি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হৈ চৈ পড়ে যায়। পরিবেশবিদ থেকে বিজ্ঞানী সবাই কারণ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে আগারকার গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় পরিবেশ প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পানির স্তর কমে যাওয়ায় উচ্চ লবণাক্ততার কারণে হ্যালোব্যাকেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায় এবং ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে এই রঙবদল ঘটে।

৭৭.৬৯ হেক্টর আয়তনের হ্রদটি ওভাল বা প্রায় গোলাকার। শীর্ষে এটির পরিধি প্রায় ৮ কিলোমিটার (পাঁচ মাইল)। দেয়ালের মতো হ্রদের পাড় আশপাশের ভূমি থেকে ২০ মিটার বা ৬৫ ফুট উঁচু। প্রায় গোলাকার বেসিন বা অববাহিকা ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি টিলা। বেসিনের পাড়ের ঢাল প্রায় ৭৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করেছে। পাড়ের পাদদেশে হ্রদের পরিধি প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার (তিন মাইল)। হ্রদের গড় ব্যাস ১.২ কিলোমিটার (৩,৯০০ ফুট) এবং এটি ক্রেটার রিমের ১৩৭ মিটার (৪৪৯ ফুট) নীচে অবস্থিত। শীর্ষে উল্কাগর্তের ব্যাস প্রায় ১.৮ কিলোমিটার (৫,৯০০ ফুট)। এর ঢালে রয়েছে অনেক প্রজাতির গাছ-পালা। এছাড়া হ্রদের কিনারে বাজরা, ভুট্টা, ঢেঁড়শ, কলা, পেঁপে ইত্যাদিও চাষ করা হয়।

আরও পড়ুন


ভারতে আজ ১০ হাজার রেমডেসিভির পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতে করোনায় মৃত্যুতে আবারও নতুন রেকর্ড

টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ নিলেন মমতা

আইপিএল স্থগিতে যত টাকা ক্ষতি হলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের


হ্রদের পানি লবণাক্ত এবং ক্ষারযুক্ত। এতে বিভিন্ন লবণ এবং সোডা রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ার সময়, যখন বাষ্পীভবন পানির স্তর হ্রাস করে, তখন এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডা সংগ্রহ করা হয়। হ্রদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে দুটি স্বতন্ত্র অঞ্চল দেখা যায়, একটি বাহ্যিক নিরপেক্ষ (পিএইচ৭) এবং একটি অভ্যন্তরীণ ক্ষারক (পিএইচ১১), এরা একটির সাথে আরেকটি মিশে না। পূর্ণা ও পেঙ্গাঙ্গা নামে দুটি ছোট জলধারা হ্রদে প্রবাহিত হয়। হ্রদের পানির ধারেই দক্ষিণ দিকে একটি মিঠাপানির কূয়া সৃষ্টি রয়েছে।

হ্রদটির আশপাশ বিপুল উদ্ভিদ ও প্রাণীর এক বিশাল আবাসস্থল। এখানে ১৬০ প্রজাতির পাখি, ৪৬ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। আবাসিক পাখির পাশাপাশি এখানে অনেক অতিথি পাখিরও আনাগোনা রয়েছে। রয়েছে ময়ূর ও একাধিক প্রজাতির হরিণ। ভারত সরকার ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর এখানকার ৩.৮৮ বর্গ কিলোমিটার (১.৪৮ বর্গ মাইল) আয়তনের এলাকাকে লোনার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে।

মূল হ্রদ থেকে প্রায় সাতশ মিটার (২,৩০০ ফুট) দূরে একটি ছোট হ্রদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, যে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মূল গর্তটি সৃষ্টি হয়েছিলো তার থেকে ছিটকে আসা একটি ছোট খণ্ডের আঘাতে এটি সৃষ্টি হয়। এর নাম অম্বার হ্রদ। এটিকে কখনো-কখনো ছোট লোনারও বলা হয়। এই হ্রদের কাছে একটি হনুমান মন্দির রয়েছে। এর পাথরের প্রতিমাটি অত্যন্ত চৌম্বকীয় বলে বিশ্বাস করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা এই হ্রদ থেকে পানি সেচে চাষাবাদে ব্যবহার করে থাকেন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

জাদুর পাহাড় আয়ারস রক: রঙ বদলের খিলাড়ি

হারুন আল নাসিফ

জাদুর পাহাড় আয়ারস রক: রঙ বদলের খিলাড়ি

আয়ারস রক হচ্ছে বিশাল আকৃতির এক পাহাড়। এটি অন্যান্য পাহাড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ পাহাড়টির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। সকালে এর এক রঙ তো দুপুরে আরেক। এভাবে অষ্টপ্রহর রঙবদলের খেলায় মেতে থাকে এ পাহাড়। এই পাহাড়ের নাম আয়ারস রক। মানুষ এর নাম দিয়েছে যাদুর পাহাড়। 

ভৌগলিকভাবে আয়ারস রকের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায় নরদার্ন টেরিটোরিতে। জায়গাটিকে সবাই উলুরু নামে চেনে। রহস্যে ঘেরা অদ্ভুত এই পাহাড়টি আসলে সম্পূর্ণ একটি প্রস্তর খণ্ড। এর গঠন কাঠামোই অদ্ভুত। 

সকালে সূর্যের রশ্মি পাহাড়ের গায়ে পড়লেই মনে হয় যেন আগুন ধরে গেছে এর গায়ে। রঙয়ের বিচ্ছুরণ হতে থাকে পাহাড় থেকে। সূর্য আলোর আপতন কোণের পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে এই পাহাড়ের রঙ পরিবর্তন হয়। 

পাহাড়ের রঙ হলুদ থেকে কমলা, পরে লাল ও মাঝে মাঝে বেগুনি আবার গাঢ় কালো রঙও ধারণ করে। সারাটা সময়জুড়ে সময় চলে এই রঙ বদলের খেলা। রঙ বদলের এই রহস্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। রঙ বদলের কারণেই পাহাড়টিকে সবাই জাদুর পাহাড় বলে।
পাহাড়টির এমন অদ্ভুত রঙ বদলানোর রহস্য নিয়ে মতবিরোধ আছে অনেকের মাঝে। ধারণা করা হয়, রহস্য লুকিয়ে আছে পাহাড়টির ভৌগোলিক অবস্থানে। অনেকে বলে থাকেন, পাহাড়ের নিচে এক শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে যার কারণে বিভিন্ন কোণে সূর্যের আলো পাহাড়টির ওপরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের রঙ বদল হয়। 

অনেক কল্পকাহিনীও প্রচলিত আছে এই পাহাড়টিকে নিয়ে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পাহাড়ে আগে জাদুকররা বাস করত তারাই জাদু-মন্ত্র দিয়ে এমনটি করে গেছে। তবে এই পাহাড়ের রঙ বদলানোর আসল রহস্য কারো পক্ষে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। 

বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত বহু পর্যটক আসে পাহাড়টিকে দর্শন করতে। তাই অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিদর্শনের সুবিধার্থে পাহাড়ের আশেপাশে ৪৮৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে মাউন্ট দ্য ন্যাশনাল পার্ক গড়ে তুলেছে। দূরবর্তী জায়গা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা যেটি থেকে খুব সহজেই আয়ারস রকের রূপসৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

লেখক : হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv/আলী

 

পরবর্তী খবর