জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি?

মনিজা রহমান

জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি?

ঢাকায় আগে বাসের ভিতরে অনেক কিছু লেখা দেখতে পেতাম- ‘বাকী চাহিয়া লজ্জ্বা দেবেন না’, ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’ … ‘জনাব কিছু ফেলে গেলেন কি’… । তখন কথাগুলো অতটা মনোযোগ আকর্ষণ করত না। আজ এত কাল পরে মনে হয়- এই বাক্যগুলোতে মানুষের নিগুঢ় বিশ্বাস কিংবা চিরায়ত মূল্যবোধের প্রকাশ থাকতো। যেমন মেয়েরা সূচিকর্মে নানাকিছু লিখে টাঙ্গিয়ে রাখত বাড়ির বৈঠকখানায়! কথাগুলো আমাদের সামান্য সময়ের জন্য হলেও থমকে দিত, গভীর ভাবনায় ফেলে দিত! 

 ‘জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি!’ এই কথাটা তো আমার প্রায়ই মনে হয়। খুব সকালে যখন বাসা থেকে কাজের জায়গার উদ্দেশ্যে বের হই, দরজার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি! চারপাশে তাকাই। কখনও ব্যাগ হাতড়াই। ঠান্ডা মাথায় ভাবার চেষ্টা করি। আইডি কার্ড, মোবাইল, কফির বোতল, মেট্রোকার্ড… আরও কত কি… সবকিছু ঠিকঠাকভাবে নিয়েছি তো! কিছু ফেলে গেলাম নাতো! 

দিনশেষেও এভাবে থমকে যেতে হয়। ক্লাসরুমে ছাত্ররা চলে গেলে চেয়ারগুলি টেবিলের ওপর রাখা থাকে। জানালার পর্দা নামানো। দিনের তুমুল কোলাহল শেষে শান্ত চারদিক। ক্লাসরুম ছাড়ার আগে আবারও চারদিকে তাকাই, থমকে যাই, মনে মনে ভাবি- ‘কিছু ফেলে গেলাম কি!’ 
প্রতি বারই যখন বাইরে যাই, আবার ফিরে আসার সময় এই কথাটাই বার বার কেন মনে হয়! আমি একটু বেশীরকম ভুলোমনা বলেই হয়ত বেশী সতর্ক থাকার চেষ্টা করি! গত বছর আগস্টে নিউইয়র্ক থেকে এক রোড ট্রিপে বের হয়েছিলাম আমরা। সাতদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্টেটের অনেকগুলো শহর ভ্রমন করেছিলাম। বাফেলো হয়ে ওহাইও’র রাজধানী কলম্বাস, শিকাগো, ডেট্রয়েট, হ্যারিসবার্গ, ফিলাডেলফিয়া হয়ে আবার নিউইয়র্কে ফিরে আসি। 

প্রতিটি শহরে গিয়ে এক রাতের জন্য হোটেলে উঠতাম। লাগেজ থেকে সব কিছু বের করে সংসার সাজাতাম। আবার সকালে সব গুটিয়ে রওনা হতাম নতুন শহরের উদ্দেশ্যে। যাবর আগে হোটেল রুমের সবকিছু তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখতাম। দরজা থেকে বের হবার সময় বার বার পিছনে ফিরে তাকাতাম, শুধু মনে হত- ‘কিছু ফেলে গেলাম কি!’ 

আজকাল রৌদ্রোজ্জ্বল দিন থাকলে বাড়ি ফেরার পথে ইস্ট রিভারের  তীরে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকি। রোজার দিন বলে অত তাড়া থাকেনা ঘরে ফেরার। বসে বসে কি করি জানেন? নদীর ধারে বেড়াতে আসা বৃদ্ধ মানুষদের দেখি। একেকজন মহামারী জয় করতে চলেছেন দুর্জয় সাহসে। মমতা মাখানো ভালোবাসায়  দুই চোখ ভিজে আসে। 

বাংলাদেশ থেকে এখন প্রতিদিন মৃত্যুর খবর আসে। ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মিতা হক, শামসুজ্জামান খান, কবরী, তারেক শামসুর রহমান, ওয়াসিম, এসএম মহসিন… যাদের শুন্যস্থান কোনদিন পূর্ণ হবার নয়। এক শোকের হাহাকার না নিভতেই, আরেকটি দু:সংবাদ। নিউইয়র্কে বাস করতেন আহমেদ মুসা ভাই, তিনিও না ফেরার দেশে নাম লেখালেন। ওনার সাংবাদিকতার সময় আমার দেখা হয়নি। তবে ওনার বই পড়েছি, খুব ভালো লিখতেন। যদিও এই শহরে সেভাবে কেউ লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করত না তাঁকে। 
মৃত্যু সংবাদ শুনি আর মনে হয়, আমি যে শোকে কাতর হচ্ছি, আমাকেও তো চলে যেতে হতে পারে যে কোন সময়। যতই মনে হবে, কিছু ফেলে গেলাম কি, কিন্তু ফেলে তো যেতেই হবে সব। 

মনিজা রহমান নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

প্রতিকার অন্যভাবে করলে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতো

আশরাফুল আলম খোকন

প্রতিকার অন্যভাবে করলে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতো

এই ঘটনা সারা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজ ক্লাসে আমার কোর্স টিচারও এই ঘটনা আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন। ক্লাসের সবাই যেহেতু বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত তাদেরকেও আমার অনেকভাবে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। ব্যাখ্যা যাই দেই না কেন, লজ্জিত হয়েছি।

বিশ্বের সব দেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাই অনেকভাবেই তথ্য সংগ্রহ করেন। মানলাম রোজিনা ইসলাম চুরি করে মোবাইল দিয়ে ফাইল থেকে ছবি নিয়েছেন কিংবা কাগজ নিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি চুরি করে রুমে প্রবেশ করেননি। অনুমতি নিয়েই প্রবেশ করেছেন। যিনি প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন তিনিতো জানতেনই রোজিনা ইসলাম একজন ঝানু সাংবাদিক। তারও সতর্ক থাকা দরকার ছিল।

পুরো ঘটনাচক্র দেখে মনে হয়েছে বিষয়টির প্রতিকার অন্যভাবেও করা যেত। এতে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতেন। রোজিনা ইসলাম হিরো না হয়ে জিরো হয়ে যেত। যখন রোজিনা ইসলামকে ধরেই ফেললেন তখন সুশিক্ষিত একটি পেশার লোকজনের এরকম উদ্ভট আচরণ করা ঠিক হয়নি। ভিডিও দেখে তাই মনে হয়েছে।


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ


তাদের উচিত ছিল রোজিনা ইসলামকে বসিয়ে রেখে তার অফিস, এবং সাংবাদিক নেতাদের খবর দেয়া। রোজিনা ইসলামের অন্যায়(!) তাদেরকে বিস্তারিত জানানো। বিচারের দায়িত্ব তাদেরকে দিয়ে রোজিনা’র অফিসের জিম্মায় লিখিত নিয়ে তাকে দিয়ে দেয়া। এরপর অফিস ওনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেয় সেটার জন্য অপেক্ষা করা। যদি রোজিনার প্রতি ব্যাক্তিগত আক্রোশও থাকে তাহলে প্রেস রিলিজ দিয়ে পুরো বিষয়টি মিডিয়াকেও জানিয়ে দেয়া যেতো। এককাজে অনেক কাজ হয়ে যেতো। সাংবাদিক বান্ধব একটি সরকারকে বিব্রত হতে হতো না, উল্টো সাংবাদিকরা বিব্রত থাকতেন। আজকে যেসব সাংবাদিকরা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, তাঁরাই রোজিনা’কে ছি ছি করতেন।

আইনগত বিষয়ে যাওয়ার বিষয়ে এরপরও সিদ্ধান্ত নেয়া যেত।

(এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

একরামুল হক

স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

আপনারা কি জানেন, এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকার নামিদামি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১৪/১৫ নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে?

কারা কমিয়েছে, জানেন? স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যারা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক। কেন কমিয়েছে, জানেন? ঢাকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে লাভজনক করে দিতে।

মানে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবে চান্স না পাওয়া নামিদামি কলেজের শিক্ষার্থীরা। যদিও ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে গিয়েছেন।


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ


দেশের সবচেয়ে করাপ্ট জায়গা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানকার পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক। এরা দানব। দানবের দমন কি এত সহজে হবে?

একরামুল হক, সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

(এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে

পীর হাবিবুর রহমান

আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়

রোজিনা ইসলাম একজন জাত রিপোর্টার। তার মতোন রিপোর্টার একালে মিলেনা। তার একেকটি তরতাজা রিপোর্টের পেছনে মেধা ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকে।

চমকে দেয়া সব খবর আনতেন বের করে। আমার অনুজ ছোটবোন রোজিনাকে নিয়ে গর্ব করতেই পারি। কিন্তু সোমবার স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে গেলে পিএসের রুমে তাকে আটকে রেখে যেভাবে নাজেহাল করে রাতে তথ্য চুরির দায়ে থানায় নিয়ে মামলা করা হয়েছে তা নজিরবিহীন।

একজন কর্মকর্তা তার গলা চেপে ধরেছেন। সে অসুস্থ হলেও হাসপাতালে নেয়া হয়নি।গলাটি রোজিনার নয়, আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে।

পেশাদারিত্বের কন্ঠ চেপেছে ঔদ্ধত্য নিয়ে। দেশের স্বাস্হ্যখাতের ভয়াবহ দুর্নীতির কথা দেশ জানে। জানেনা কেবল স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে কি ছিলো যা রোজিনা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন? 


যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


দলকানা সুবিধাভোগী চেনা সাংবাদিকরাই পেশাদারদের পথ শ্বাপদশংকুল করেছেন।আমলারা বাজাচ্ছেন সরকারের বারোটা। এ ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কেবল বলছি রোজিনার মুক্তি চাই। যারা তাকে আটকে হেনস্তা করেছে তাদের বিচার চাই।

পীর হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক  (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ডাকাতদের শলাপরামর্শে সময় লেগেছে বলেই রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল

রাজীব নূর

ডাকাতদের শলাপরামর্শে সময় লেগেছে বলেই রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়

এই কাজী বেগমের ধনসম্পদ নিয়ে বিস্তর কথা লেখা হচ্ছে। সেই সব আমার জানা নেই। তবে তিনি যে একার সাহসে কাণ্ডটা করেননি, এটা জানার জন্য জ্যোতিষী হওয়ার দরকার নেই। তাঁর পেছনে বড় বড় সব ডাকাত আছেন। ডাকাতদের শলাপরামর্শে সময় লেগেছে বলেই রোজিনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

অবশেষে রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। এজাহারে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি আর রাষ্ট্রের গোপন নথি নিজ দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে বলা আছে, যদি কেউ নিষিদ্ধ স্থানে যায়, আর কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ করে তাহলে তিনি অপরাধী হবেন। এসব ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছর সাজার বিধান রয়েছে।

এই তো চাই, ডাকাতদলের ডাকাতির তথ্য বের করে আনার নাম গুপ্তচরবৃত্তি। সত্যিকারের রিপোর্টার যারা তাদের মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হলে এমন আরও অনেক গুপ্তচর পাওয়া যাবে। তথ্য পাওয়া যে দেশে দুরূহ করে রাখা হয়, সেখানে নথিপত্র চুরি করা ছাড়া অন্য উপায় কি আছে?

সাংবাদিকদের অন্য সংগঠনগুলো কি করবে জানি না। রিপোর্টারদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সব সদস্যের বলা উচিত, 'আমি একজন রিপোর্টার, জীবনে অনেক বার তথ্য চুরি করে প্রকাশ করেছি, একই অপরাধে রোজিনাকে জেলে আটকে রাখা হলে আমাকেও জেলে নেওয়া হোক।'

ফুটনোট : শাহবাগ থানা ঘুরে বাসায় ফেরার পর তনুজা বলল, 'তোমার মেয়েকে ডাক্তার রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবার পরামর্শ দিয়েছেন।'


যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি

নিয়োগ দেবে এসিআই


আমাদের মেয়ে অপার সর্বজয়াকে নিয়ে বিকেলে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল ওর মা তনুজা আকবর। অপার ডাক্তারকে বলেছে, 'বাবা বাসায় না ফিরলে আমি ঘুমাতে পারি না।'

রোজিনার বাচ্চাটা কি ঘুমিয়েছে আজ?

এই সব সাত-সতেরো ভাবনায় ঘুম এলো না আমার। নির্ঘুম রাতযাপন শেষে মনে হলো, দুই যুগের বেশি সাংবাদিকতা জীবনে সাংবাদিকতার এমন খারাপ সময় আর দেখিনি আমি।

রাজীব নূর, বিশেষ প্রতিনিধি, সমকাল (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

চাপাবাজিকে সম্বল করে এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের নেতা

ডা. আমিনুল ইসলাম

চাপাবাজিকে সম্বল করে এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের নেতা

১. ইসরাইলের সাথে তুরস্কের বিরাট অংকের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, সেটা চলছে  চলবে এবং দিন দিন বাড়বাড়ন্ত। গাজায় হামলার জন্য এরদোয়ান কিন্ত বলে নাই ইসরাইলে সে কোন কিছু আমদানি-রপ্তানি কমিয়ে দেবে বা বন্ধ করবে। ইজরাইলি সৈন্যদের মিলিটারি বুট এবং ইউনিফর্মগুলি তুরস্কের সাপ্লাই করা।
এরদোয়ান ভালো করেই জানে practically যাই করুক মুসলিমদের পক্ষে একটু তর্জন গর্জন করলেই, তাদের ইমোশনে একটু ঘুটা দিতে পারলেই এই আবেগি জাতি তাকে নেতা হিসাবে মেনে নেবে, বাঘ নামে ভূষিত করবে।

২. এরদোয়ানের স্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাথায় হাত বুলিয়ে কান্নাকাটি করে পুরো মুসলিম বিশ্বের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলমানদের। আয়রনি হলো কোন রোহিঙ্গাকে তুরস্ক আশ্রয় দিতে নিয়ে যায়নি। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার কিছু নন মুসলিম দেশে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা কিন্তু ঠিকই আশ্রয় পেয়েছে। আর যা করার তা তো বাংলাদেশ ই করলো।

৩. বছর কয়েক আগে মুসলিম গণহত্যায় আইএসের নিষ্ঠুরতার কথা কারো ভুলে যাবার কথা নয়।
তারা যখন ইরাক সিরিয়ায় নিষ্ঠুরভাবে মুসলিমদের হত্যা করছিল, ইয়াজিদি নারীদেরকে ফতোয়া জারি করে বৈধ গণিমতের মাল হিসাবে উপভোগ করতে ছিল- এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, হ্যাশট্যাগতো দূরের কথা উল্টো IS এ যোগদানের জন্য বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব থেকে মুসলিম যুবক যুবতীরা তুরস্ক হয়ে ইরাক-সিরিয়া যাচ্ছিল।

এই আইএস ইজরাইল তুরস্কের সীমানা পর্যন্ত চষে বেড়িয়েছিল কিন্তু এ দুটি দেশে একটা পাথরও কখনো ছুড়ে মারেনি (আমি বলছি না পাথর ছোড়াটা উচিত ছিল, just IS এ join করা, তাতে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিল এমন বলদ গুলির insight কে প্রশ্ন করার জন্য বললাম)।

৪. আইএসের কাছ থেকে কম দামে চোরাই তেল ক্রয় করে বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হয়েছে এই এরদোয়ান, এই তুরস্ক। 
 ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে  ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায় IS। ইরাক-সিরিয়ার সৌভাগ্য আরব বসন্তের নাটের গুরু ওবামা ও হিলারি দৃশ্যপট থেকে বিদায় নিয়েছিল।

৫. এতকিছুর পরও শুধু তর্জন-গর্জন ও চাপাবাজিকে সম্বল করে এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের নেতা। তার fake হুংকারকে তুলনা করা হয় বাঘের গর্জনের সাথে। কেমন করে যেন সে বাংলার মুসলিমদের নমস্য।

ডা. আমিনুল ইসলাম

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর