করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

সোহেল সানি

করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

প্রাণঘাতী করোনা মানুষের ভেতরের খোলসটা উন্মোচন করে দিয়েছে। কঠিন এক সত্যের সঙ্গে দিয়েছে পরিচয় করিয়ে। পিতৃত্ব, মাতৃত্ব, ভগ্নি-ভ্রাতৃত্ব, স্বামিত্ব ও স্ত্রীত্ব সর্বপরি সব সম্পর্কই নিছক এক স্বার্থের সুতোয় বাঁধা। স্নেহ, শ্রদ্ধা, প্রেম ভালবাসা এ সবই স্বার্থান্বেষণ ব্যতীত কিছুই নয়। মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক সত্তায় বেড়ে ওঠে, নিজের সুখশান্তি বর্ধনের জন্য সে সমষ্টিগত রূপে কেবল রূপদান করে - যা নিতান্তই অভিনয়। এ অভিনব চরিত্র দিয়েই ঘরেবাইরে তার আধিপত্য বিস্তার করে। রক্তের উত্তরাধিকার বলে পারিবারিক যে সম্পর্কের বেড়াজাল তা যে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষায় ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে, প্রাণঘাতী করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। ‘রক্তের টান’, প্রাণের টান বা ‘আত্মার টান’ এগুলো কথার কথা।

দু-চারটি ব্যতিক্রম ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও তা তো বিরল বিদগ্ধ প্রাণের টান -যেমন অবচেতন মনে প্রেমের টানে কপোত-কপোতীর স্বপ্রনোদিত আত্মাহুতি। মানুষ স্বার্থান্ধ। সে নিজের স্বার্থে অন্যকে ভালবাসে বা আত্মীয়পরিজনকে সূত্র ধরে ব্যবহার করে। রক্তেরের অপেক্ষা অনেকে আত্মার সম্পর্ককে বড় বন্ধন বলে জাহির করি। অবশ্য সমাজবাদীরা রক্তের বন্ধন-কে এগিয়েই রেখেছেন। সমাজের চোখও রক্তকেই প্রকৃত বন্ধন বলে বিবেচনা করে আসছে। সেটাও পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সহায়সম্পদের ভাগবাটোয়ার বিষয়।

প্রত্যেকটি বন্ধন আজ ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে। বন্ধনের কোনই স্থায়ীত্ব নেই। মানুষ নিজের সুখবর্ধনের জন্যই স্বার্থান্ধে পরিণত হন। ফলে ঘটে বিপত্তি। স্বার্থে বেঘাত ঘটলেই যেকোন ধরণের বন্ধন চুকে যাওয়ার ঘটনা অহরহ। করোনা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে পিতার–আর পিতার লাশ রাস্তায় কিংবা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে পুত্রকন্যা! করোনায় আক্রান্ত হচ্ছ স্বামী-স্ত্রী পালিয়ে যাচ্ছে বাপের বাড়ি। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ঘটনা যদি হয় নিষ্ঠুর, মর্মান্তিক তাহলে করোনায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকে কি বলবো?

আমার মানবমনের বন্দরঘাঁটে এখন একটি প্রশ্ন নোঙ্গর করেছে,আসলে রক্তের, বা দৈহিক বন্ধনটা আসলে কি সুখপ্রদ প্রশান্তির হাতিয়ার মাত্র? এর আইনানুগ, সামাজিক, আর্থিক ভিত্তির মূল্য আছে- তবে কেন?

রক্তের বন্ধনের সূত্র, যে উৎস হতে উদ্ভূত সেই জন্মদাতা ও জন্মধাত্রীর সম্পর্কের অবস্থান কি? রক্তের উত্তরাধিকারের সঙ্গে তুলনীয়? রক্তের বন্ধন অবিছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অথচ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্ক তা নয়। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনের স্থায়ীত্ব বরং সর্বদা হুমকীর সম্মুখীন। তাকে বিচ্ছিন্ন হবার আশঙ্কা নিয়ে অগ্রসরমান হতে হয়। মায়ের গর্ভে ও বাবার ঔরস্যে পুত্র কন্যার জন্ম, অর্থাৎ বাবা-মা’র রক্তের সংমিশ্রণের ফসল পুত্রকন্যা।

স্বামীস্ত্রীর দৈহিক বন্ধন রক্তের বন্ধন অপেক্ষা নগণ্য বলেই বিবেচ্য হচ্ছে। অদ্ভূত এক সমীকরণ। দৈহিক সম্পর্কধারী স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে এবং হয়, কিন্তু রক্তের সম্পর্কটা অবিচ্ছেদ্য। তা হত্যা কিংবা ধ্বংসেও পরিত্যক্ত হয় না। স্বামীস্ত্রীর বন্ধনকে আত্মিক বন্ধন বলা হলেও এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বড় কঠিন যেহেতু আত্মার সম্পর্ক অদৃশ্যমান।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলস্থলভাগ বলে পরিচিত প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ণয়হীন গভীরতার মতোও যদি হয় রক্তের বা আত্মার সম্পর্ক তাকেও আজ ম্লান করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। আজ রক্তের বা আত্নার বন্ধনের গভীরতা কতটুকু তা আমরা অনুভব করছি করোনা কবলে পড়ে।

আরও পড়ুন


‘আইনগত কোনো জটিলতা নেই সুপার লিগ আয়োজনে’

কষ্টটা ডায়রির পাতায় শব্দে শব্দে বুনে রেখেছিলাম

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র বাবু মারা গেছেন


অবশ্য আত্মার সম্পর্ক বিধাতার সঙ্গে হয় মহামানবের সেই মহামানবের দেখা মিললেও কি আমরা করোনার করুণ ট্রাজেডির কথা কখনো ভুলতে পারবো? পুরুষরাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা মূল শেকড় উপরে ফেলে পৃথিবীর বুকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চালু করেছে। ‘মা’ প্রধান পারিবারিক ঐতিহ্যের অবলুপ্ত ঘটিয়ে। মা’র স্থলে সন্তানদের রক্তের সম্পর্ককে পিতা’র সূত্রে গেঁথে দেয়া হয়েছে। সেই কালের ‘জননী বিধি’র সমাজব্যবস্থাকে বলা হয় অসভ্য যুগ। তখন নারী ছিল পরিবারের অভিভাবক। পুরুষকে ‘দেবী’ হিসাবে নারীকে পুজো দিতে হতো। মায়ের উত্তরাধিকারী হতেন মেয়েরা। ছেলেরা ছিলেন শোষিত। সম্পদ ঐশ্বর্যের অধিকারীও মা সূত্রে মেয়েরা হতো।

পুরুষরা যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার শেকড় উপরে ফেলে চালু করে বর্বর যুগের। মেয়ে বা কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য মা’র ওপর নেমে আসতো অকথ্য নির্যাতন, নিপীড়ন। উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠলো ছেলেরা। কায়েম করা হলো জনক বিধি আইন। মানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। তারপর মধ্যযুগের শুরু ধর্ম-গীর্জা কেন্দ্রিক শোষণ ব্যবস্থা। তারপর ফরাসী বিপ্লব ও রুশবিপ্লবের মাধ্যমে যে সনাতন বা আধুনিক যুগের শুরু। কিন্তু মানুষ কি মানুষ হতে পেরেছি আমরা? করোনা আজ দিচ্ছে কঠিন শিক্ষা। আর আমরা এমন শিক্ষার সাথে তো আগেই পরিচিত যে, ভাই ও বোনের সম্পর্ক রক্তের। অথচ, আমরা দেখছি, কত ভাই সেই রক্তের বন্ধনকে দু’পায়ে মাড়িয়ে দুচার হাত জমির জন্য বোনকে বিধবাও বানিয়ে দেয়। ধনসম্পত্তির লোভে ভাই- ভাইকে হত্যা রাজ-রাজ্য নিয়ে বিবাদ বিগ্রহ সেও কিন্তু করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর নয়। কথায় কথায় মানুষ মানুষকে খুশী করার জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তাহলো ‘আত্মার বন্ধন।’ ওই বন্ধনকে বিধাতা প্রদত্ত বলে সাফাইও গান তারা। বিধাতার সঙ্গে আসলে সাধারণের বন্ধন হয় কিনা আমার বোধগম্য নয়। অবশ্য, মহামানবদের সঙ্গে বিধাতার আত্মার বন্ধনকে অস্বীকার করা যায়না। চলমান মানবসভ্যতায়।

মানুষের আত্মা যেহেতু ঈশ্বরের সন্ধান করে, সেহেতু আত্মার সম্পর্ক রক্ত বা দৈহিক সম্পর্কের শত-অযুত, লক্ষ-কোটি, মিলিয়ন-বিলিয়নেরও অধিক বড়,গভীর, বিস্তৃত। আমরা সেই বিধাতার আত্মার সন্ধান করি, আর বিধাতাকে ভালবাসি। ভালোবাসি বিশ্বের সকল মানুষকে।  সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে। নিশ্চয়ই  বিধাতা কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি করোনা মুক্ত করবেন আমাদের সুন্দর ধরণীকে। 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস বিশ্লেষক।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

শুনেছি রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার আগে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা দেনদরবার করেছেন

শওগাত আলী সাগর

শুনেছি রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার আগে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা দেনদরবার করেছেন

শওগাত আলী সাগর

সরকার কি তা হলে সাংবাদিকদের তথা গণমাধ্যমের কোনো প্রয়োজনীয়তা আর অনুভব করছে না! সরকার আর সাংবাদিকদের মধ্যে একটা দুরত্ব তৈরি হোক- সেটা কি সরকার নিজেও চাচ্ছে! রোজিনার জামিন মঞ্জুর না হওয়ার খবর শোনার পর প্রথম আমার এই কথাটাই মনে পড়লো। 

সচিবালয়ে পাঁচ ঘন্টা আটকে রেখে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন, থানায় সোপর্দ করা, মামলা দায়ের এবং সর্বশেষ জামিন না দিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়ার মধ্যে সুষ্পষ্ট একটা বার্তা আছে। এটি কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষোভের বিষয় হলে ব্যাপারটা এতোটা গড়াতে পারতো বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আগে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা দেনদরবার করেছেন বলে শুনেছি। বেশ কয়েকজন নেতা রাত পর্যন্ত শাহবাগে থানায় উপস্থিত ছিলেন। 

এঁদের সবাই বর্তমান সরকারের সমর্থক। ক্ষোভে বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি যে সাংবাদিকরা সোচ্চার তাদের সিংহভাগই এই সরকারের সমর্থক। রোজিনার স্বামীও সরকার সমর্থক রাজনীতির একজন নেতা। 

রোজিনা যতো নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বা হবেন- তা এই সরকারের সমর্থক সাংবাদিকদেরই সবচেয়ে বেশি আহত করছে, তাদের অনুভুতি অপমানিত হচ্ছে। নিজের সমর্থকদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে রোজিনাকে নিপীড়নের মাধ্যমে কতিপয় আমলার ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রশমনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্ট এতোক্ষণ চলতে পারার কথা না। 

কিন্তু রোজিনাকে জেল হাজতে পাঠানোর পর মনে হলো - সরকার এইসব আবেগ অনুভূতিকে পাত্তা দিচ্ছে না। আমি মনেপ্রাণে চাইবো আমার এই ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হোক। 
এই ঘটনাটি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়েই শেষ হতে পারতো বলে আমি বিশ্বাস করি। হওয়াই উচিৎ ছিলো। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। 


স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


সরকারে, আ্ওয়ামী লীগে বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মানুষের একেবারে আকাল পরে গেছে- এই কথা কিভাবে বিশ্বাস করি! তারা এগিয়ে আসতে পারেন। তথ্যমন্ত্রী নিজেও একটা ভূমিকা নিতে পারেন। রোজিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উঠিয়ে নেয়া, তাকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের যারা তাকে নিপীড়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া -এটি আমার দাবি এবং প্রস্তাব।  

সরকারের মধ্যে যাদের যুক্তিবোধ, বিবেচনাবোধ আছে- তাদের একটু সক্রিয় হতে বলবো। ’রোজিনাকে জেলখানায় পাঠিয়ে আপনারা আপনাদের সমর্থক সাংবাদিকদেরই আসলে পীড়ন করছেন’- এই বাস্তবতাটা আপনাদের বোধে কাজ করুক।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই

জুলহাস আলম

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই

জুলহাস আলম

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দেশকে ভালোবাসেন। রোজিনা আমাদের বন্ধু, আমরা একই ব্যাচের শিক্ষার্থী। 

একবার আমাকে নক করে বললেন: ‘জুলহাস ভাই, বিদেশে যাবার জন্য আপনার কাছ থেকে একটা রিকমেন্ডেশন লাগবে, যদি সম্ভব হয় তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবো।’ 

আমি ভাবলাম হয়তো বিদেশ চলে যাবেন একেবারে। অনেকেই যাচ্ছেন। উত্তরে রোজিনা বললেন: ‘না, না, ভাই, নর্থ আমেরিকায় একটা সাংবাদিকতার উপর একটা স্কলারশীপের চেষ্টা করবো, সেজন্য একটা রিকমেন্ডেশন দরকার, আপনার কাছ থেকে পেলে ভালো হয়।’ 

বললাম: ‘কোনো সমস্যা নেই, অবশ্যই দিব।’ 

তার বক্তব্যে পরিষ্কার আবেগ ছিল যে তিনি দেশকে ভালোবাসেন। বলছিনা যে, কেউ বিদেশে চলে গেলে তিনি দেশকে ভালোবাসেন না। 

আমার কাছে মনে হয়, দেশের মধ্যে বিদ্যমান সকল অরাজকতা, অন্যায়, দুর্নীতি, যা ইচ্ছা তাই থাকার পরও এবং বাইরে চলে যাবার সুযোগ থাকার পরও যারা এখানেই পড়ে থাকতে চান এবং থাকেন, তারা একটু বেশিই দেশপ্রেমিক। 

রোজিনাও সেই দলেই পড়েন। তাছাড়া নারী হয়ে এমন শক্তভাবে সাংবাদিকতা করার সাহস দেখানো অতো সহজ নয়। তার সকল চেষ্টা প্রশাসনের বড় কর্তাদের নানা অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির ভেতরে আঘাত করা। জনগণের সামনে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সেটাকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তার যে সাহস সেই সাহস আমাদের অনেকের আছে কি না সন্দেহ আছে আমার। 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম প্রশাসনের অনেক কর্তা ব্যক্তির কমফোর্ট জোন এলোমেলো করে দেবার একজন সৈনিক। আর তার কাজের ফলে আমার ধারণা সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


যারা উনার চোখের সামনে পর্দা তুলে রাখতে চান যেনো সবকিছু তিনি দেখতে না পান, জানতে না পারেন, তারা একজন রোজিনা ইসলামকে সহ্য করতে পারবেননা, সেটাই কি স্বাভাবিক না? তাই তাকে শায়েস্তা করতে না পারলে বড় বড় নানা দুর্নীতির অভিযোগে নিমজ্জিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেই দুষ্টচক্র শান্তি পায় কি করে? করোনা শুরু হবার পর থেকে এই মন্ত্রণালয় নিয়ে যত রকমের খবর বেরিয়েছে সেগুলোর পোস্ট মর্টেম করলেতো আর কিছুই বাকি থাকেনা। 

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই।

জুলহাস আলম, ব্যুরো চিফ, এপি

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রোজিনা আপার মুক্তি চাই

আশরাফুল আলম খোকন

রোজিনা আপার মুক্তি চাই

আজকের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। দোষ কার, কে দায়ী তা জানিনা। তবে মনে হয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সাথে অন্যভাবে আচরণ করেও বিষয়টি সমাধান করা যেত। গুটি কয়েক কর্মকর্তার জন্য সবসময় সাংবাদিক বান্ধব শেখ হাসিনার সরকার আজ সমালোচনার মুখে। 

সাড়ে সাত বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কাজ করেছি। নিজে চোখে দেখেছি তিনি নিজে কতটা সাংবাদিক বান্ধব। সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য নিজে উদ্যোগী হয়ে কত কত কাজ করেছেন। 

এই রকম পরিস্থিতি আগেও হয়েছে। দুই পক্ষের সাথে কথা বলেই সমাধান হয়েছে। এমন অনেক সমাধান নিজেও করেছি। হয়তো কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি অথবা সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছি। “পেশাদার” আবারো বলছি পেশাদার সাংবাদিকদের চেষ্টা করেছি ঝামেলামুক্ত রাখতে। 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


সদিচ্ছা থাকলে অ-সমাধানযোগ্য কোন কিছুই পৃথিবীতে নাই। পেশাদার আর অ-পেশাদারদের সাথে আচরণ একরকম হওয়া উচিত না। রোজিনা আপার মুক্তি চাই।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

এক রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করেছি তাও সচিবালয়ে! ধিক, শত ধিক!

রউফল আলম

এক রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করেছি তাও সচিবালয়ে! ধিক, শত ধিক!

রউফল আলম

আমরা ছোট জিনিস চোখে দেখি না। তাই ব্যবহার করি মাইক্রোস্কোপ। খালি চোখে যা দেখা যায় না, মাইক্রোস্কোপের নিচে সেটা কি দারুণ দৃশ্যমান হয়ে উঠে। 

অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলো মাইক্রোস্কোপের মতো কাজ করে। সমাজের সাধারণ মানুষ যেটা দেখে না, জানে না—অনুসন্ধান করে তৈরি করা রিপোর্টগুলো আমাদেরকে তা দেখতে, অনুধাবন করতে ও জানতে সাহায্য করে। এজন্যই মনে হয় বলা হয়—Fake news is cheap to produce. Genuine journalism is expensive. 

করোনার মহামারিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথম আলোয় রোজিনা ইসলামের রিপোর্ট পড়তাম! ভাবতাম এই মানুষটার সাহস অনেক। জাঁদরেল সাংবাদিক। 

যে সমাজে কথা বলাই সবচেয়ে বড়ো অপরাধ, সেখানে এমন রিপোর্ট করতে পারা মানুষটিকে নিশ্চয় অনেক ধকল পোহাতে হয়। রিপোর্টারকে না চিনেও তার প্রতি একটা শ্রদ্ধা জাগতো। 

এমন রিপোর্টারকে দুনিয়ার বহু সমাজ সম্মানিত করে। পুরস্কার দেয়! কারণ তারা যোদ্ধা। তারা আলোকিত দেশের স্বপ্নে যুদ্ধ করে। সর্বগ্রাসের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে কলম নিয়ে সংগ্রাম করে। কিন্তু এমন এক রিপোর্টারকে আমরা লাঞ্ছিত করেছি। তাও সচিবালয়ে! কী ভয়ংকর! কী বিভৎস! 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


দেশের সাংবাদিকদের সততা নিয়ে যখন অনেক অভিযোগ, তখন এমন সাহসী রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করা মানে হলো সমাজকে আরো অন্ধকারে ঢেলে দেয়া। অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করা। সমাজের উপর গজবকে আরো তরান্বিত করা। ধিক, শত ধিক! 

রউফল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রোজিনার ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা

আলী রিয়াজ

রোজিনার ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা

একজন সাংবাদিককে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটক করে, হেনস্তা করার পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। প্রথম আলো’র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হেনস্তা করা, তাঁকে আটক করার ঘটনা বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেননি। 

এই ঘটনার নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়, এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদ এবং এই ধরণের নিপীড়নমূলক আচরণের জন্যে যারা দায়ী তাঁদের বিচার নিশ্চিত করার জন্যে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। 

দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো এই বিষয়ে কিছু করবেন, বা বিবৃতি দেয়ার বেশি কোন ধরণের পদক্ষেপ নেবেন তেমন আশা করার কারণ নেই। কিন্ত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্তদের সকলেরই এই মুহূর্তে দরকার সম্মিলিত পদক্ষেপ নেবার কথা বিবেচনা করা। 

দেশের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে অবিলম্বে এই বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি, রোজিনা ইসলামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং এই ধরণের আচরণ বন্ধের নিশ্চয়তা আদায় করা। 

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনা সাংবাদিকদের ওপরে হামলার নতুন অধ্যায়, কিন্ত নতুন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়েই সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছেন। তাঁদের পাশে দাড়ানোর লোক পর্যন্ত নেই। সাংবাদিকদের অনৈক্য, দলীয় বিভক্তি এবং পেশাদারী মনোভাবের অনুপস্থিতি এই ধরণের নির্যাতন নিপীড়নকে ক্রমাগতভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছে।


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


এই ঘটনা এবং আগেও অসংখ্য ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপরে নির্যাতনের কারণ স্পষ্ট – যখনই কোনও সাংবাদিক ক্ষমতাসীনদের – স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে–জবাবদিহির মুখোমুখির চেষ্টা করেছেন সেই সময়েই তাঁদেরকে হয়রানি, নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জবাবদিহির অনুপস্থিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে কোনও ধরণের জবাবদিহি দাবি করলেই তার পরিণতি হয় নির্যাতন, নিপীড়ন। এই ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা – তাঁরা সেটা শুনতে/বুঝতে পারছেন কিনা সেটাই আমার প্রশ্ন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর