কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

হারুন আল নাসিফ

কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: একটি তরলপাঠ

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ এমনটি মনে করেন সবাই। কোনো গণ্ডমূর্খও এ কথার বিরোধিতা করবে না। কিন্তু এটা কি সবাই বুঝে বলেন? এমন প্রশ্ন সচরাচর মাথায় আসার কথাই না। এলেও হয়তো উত্তর হবে: এটা না বোঝার কী আছে? আসলেই কি? বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ প্রযুক্তিকেই বিজ্ঞান ঠাওরে বসে আছেন!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পর ঘনিষ্ট সম্পর্কযুক্ত বলেই হয়তো এ দুটোর পার্থক্য এড়িয়ে যাই আমরা। কিন্তু এতে বিপত্তি ঘটতে পারে। আবার প্রযুক্তি ও এর ব্যবহার এক নয়। দুটো গুলিয়ে ফেললে সমস্যা হয়। আর এই দ্বিবিধ কারণেই আমরা প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারকে বিজ্ঞানের অভিশাপ বলে ভুল করি, গাল পাড়ি।

সাধারণভাবে বলা হয় বিজ্ঞান হলো বিশেষ জ্ঞান। কিন্তু এই বিশেষ জ্ঞানটা কী? এটা থাকে কোথায়? আর আমরাই বা কীভাবে এটি পাই? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে বিজ্ঞানের সূচনা পর্বের দিকে নজর দিলে সুবিধা হবে বলে মনে হয়। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি বিজ্ঞানের সঙ্গে আবিষ্কারের একটা সম্পর্ক আছে গোড়া থেকেই।

তো আবিষ্কার জিনিসটা কী? শব্দটি বেশ ভারী ও গুরুগম্ভীর। বই-পুস্তকের সুবাদে এই শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত হলেও বাস্তবে দেখা যায় যে এর অর্থ সম্পর্কে অনেকের ধারণা স্বচ্ছ নয়। শব্দটি সংস্কৃত। এর সহজ বা খাঁটি বাংলা অর্থ হলো কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া বা খুঁজে বের করা। হঠাৎ কোনো কিছু খুঁজে পাওয়াকেও আবিষ্কার বলা হয়।

পৃথিবীতে বসবাসের শুরুতেই মানুষের সবকিছু জানা থাকলে কোনো কিছুই আবিষ্কার হতো না বা করার প্রয়োজন পড়তো না। জগতে আবিষ্কারের সূচনা আছে, কিন্তু শেষ আছে মনে হয় না। এটি একটি চলমান বিষয়। তো কখন ও কীভাবে আবিষ্কারে সূচনা হয়? কোন জিনিসটি মানুষ প্রথম আবিষ্কার করে?

আবিষ্কারে সূচনা ঠিক কখন হয় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ধারণা করা হয় মানুষ প্রথম যেসব জিনিস আবিষ্কার করে তার মধ্যে আগুন অন্যতম। কীভাবে? মানুষ অবিষ্কার করলো বা দেখতে পেলো যে জঙ্গলে বিজলী বা বজ্রের আঘাতের ফলে আগুন জ্বলে। এটি দেখে তার মধ্যে বিস্ময় ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। 

মানুষ দেখতে পায় আগুন জ্বললে আলো বিচ্ছুরিত হয়। গাছ-পালা পুড়ে যায়। এসময় তাপ নির্গত হয়। এগুলোকে আধুনিক ভাষায় বলে আগুনের ধর্ম। এক পর্যায়ে সে পাথরে পাথর ঘঁষে আগুন জ্বালাতে শেখে। এখানে মূলসূত্র হলো ঘর্ষণ। পরে মানুষ আরো নানাভাবে আগুন জ্বালাতে শেখে। শেখে এর নানা ব্যবহার। উদ্ভাবন করে আগুন জ্বালানোর নানা কৌশল বা প্রযুক্তি।

আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ, আগুনে মাংস সিদ্ধ করা এবং পরে মশাল জ্বালিয়ে অন্ধকার দূরীকরণ রপ্ত করে সে। এই যে মশাল এটি কিন্তু একটি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সহজে আগুন পরিবহন করা সম্ভব। এছাড়া এর আরো বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। সে ব্যবহার যেমন ইতিবাচক হতে পারে, হতে পারে নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক।

সে যাই হোক, এতক্ষণ ধরে যে আগুন আগুন করছি সেটি আসলে কী? এটি আসলে এক ধরনের শক্তি। এ শক্তি প্রাকৃতিক। মানুষ তা খুঁজে বের করেছে মাত্র। মানুষ দেখতে পেয়েছে বাতাসে থাকা অক্সিজেন ও জ্বালানি উৎসের মধ্যে বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আগুন উৎপন্ন হয়। আগুন কী ও কীভাবে জ্বলে তা খুঁজে বের করতে গিয়ে সে যে চিন্তা-ভাবনা করেছে এটাকে বলা যায় গবেষণা।
কথায় কথায় অনেক কথা তো হলো। কিন্তু বিজ্ঞান কী তা কি পরিষ্কার হলো? আমরা দেখতে পেলাম বিজ্ঞান প্রকৃতিতেই নিহিত থাকে। মানুষ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা খুঁজে বের করে মাত্র। আধুনিক অর্থে এই বিদ্যাকেই বিজ্ঞান বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, বিধাতা আমাদের চারপাশের জগৎ বা প্রকৃতিতে যে জ্ঞান নিহিত রেখেছেন তা উদ্ঘাটন করার নামই বিজ্ঞান।

আর প্রযুক্তি? এটি হলো বিজ্ঞানের ব্যবহারের নানা কৌশল। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য মানুষের কাজ-কর্ম সহজ করে তোলা। ঢেঁকিও একটি প্রযুক্তি, পুরানো হলেও। অটো রাইসমিল যার আধুনিক সংস্করণ। বিজ্ঞান ব্যবহার করেই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। কিন্তু তাই বলে প্রযুক্তি বিজ্ঞান নয়। 

প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে। তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর।

আগুন পোড়ায়। এটা তার ধর্ম। আমরা পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আগুনের পুড়ানোর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এর উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে রান্না করি। এটি প্রযুক্তি। পাত্র ও চুলা দুটোই এক্ষেত্রে প্রযুক্তি। এবং ভালো প্রযুক্তি। এখন কেউ যদি কোনো প্রযুক্তি, যেমন ম্যাচ বা লাইটার ব্যবহার করে কারো ঘরে আগুন দেয়, তাহলে দোষ কি আগুনের না প্রযুক্তির? নাকি বিজ্ঞানের?

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

মঞ্জুরে খোদা টরিক

আপনি চুপই ছিলেন তাই না? এতে ধর্মান্ধরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘিরে ফেলছে

ধর্মান্ধদের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে- আজ সময় টিভিতে চঞ্চল চৌধুরীর আক্ষেপ-অভিযোগ শুনলাম! তিনি বলছেন, কোন শিল্পীকে আমার বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ-ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখলাম না! দশজন শিল্পীও কি নেই, আমার পক্ষে দাড়ানোর মত? 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রিয় চঞ্চল, যখন জয়া আহসানকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দেয়- তখন আপনি কোথায় ছিলেন? তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখন আপনি ভেবেছিলেন এটা আমার কোন বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? মোশাররফ করিমকে যখন ধর্মান্ধরা হুমকি দিল তখন কি আপনি প্রতিবাদ করেছিলেন? তখনো আপনি চুপই ছিলেন তাই না?

এভাবেই জয়া আহসানে উপর যখন ধর্মান্ধরা চড়াও হয় তখন মোশাররফ করিম চুপ থাকেন, প্রতিবাদ করেন না! তিনি ভাবেন এটা তো আমার বিষয় না, সেই বুঝুক, তাই না? জয়া আহসানও অন্যদের ক্ষেত্রে তাই করেন! তেমনি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে যখন হুমকি দেয়া হয় তখন আপনারা চুপ ছিলেন, কেউ কথা বলেননি, প্রতিবাদ করেননি! এভাবে আপনাদের বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে ধর্মান্ধরা। তারা আরো সংঘবদ্ধ হচ্ছে এবং আপনাদের ঘিরে ফেলছে। এখন যা দেখছেন এগুলো তার সিমটম মাত্র!

এ ঘটনাগুলো আমাকে আর মোটেই অবাক করে না, কারণ আমি-আমরা জানতাম এমনটা ঘটবে এবং একটা পর্যায়ে এগুলো আর ঠোকাঠুকির পর্যায়ে থাকবে না আরো ভয়াবহ হবে।  

কবি মার্টিন নিম্যোলার জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন জার্মানের হিটলারের সমর্থক, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার পক্ষে ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তাঁর এক বিখ্যাত কবিতায় পাওয়া যায় আমাদের এ সময়ের সেই করুণ চিত্র! 
“যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল, আমি নীরব ছিলাম,
কারণ আমি শ্রমিক নই।

তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,
কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,আমি টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করিনি,
কারণ আমি ক্যাথলিক নই।

শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না, কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) লেখক, গবেষক ও অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

“আইলারে নয়া দামান” গানটির কিছু কথা !

প্রীতম

“আইলারে নয়া দামান” গানটির কিছু কথা !

আমাদের দেশের শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের প্রচলিত মোড়ল মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শুধু “আইলারে নয়া দামান” গানটির কথাই বলি। শুনলাম এই গানটি ৫০ বছরের বেশি সময় আগের। 

সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মা দিব্যময়ী দাশের রচনা বলে জানিয়েছেন এবং তিনি তার পুরনো রেকর্ডও শুনিয়েছেন। মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট আইন আনুসারে দিব্যময়ি মৃত্যুর ৬০ বছর পর্যন্ত এই গানটির কপিরাইট তার সন্তান সংগীতজ্ঞ রাম কানাই দাশ বা তার পরিবারের নামে। 

ছোট করে বলে রাখা ভালো মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট দুটো ভিন্ন অধিকার ও আইন। মেধাস্বত্ব বিক্রি বা পরিবর্তন যোগ্য নয় কিন্তু চাইলে কপিরাইট হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেবন। যেহেতু মুজা নতুন মিউজিক এরেঞ্জ করেছেন এবং তোশিবা কাভার গেয়েছেন আইন অনুসারে এই গানে মুজার র‍্যাপ অংশ ছাড়া অন্য অংশে অধিকার না থাকলেও এই গানের এই ভার্শনে তোশিবার পারফর্মিং রাইটস রয়েছে। 

এরা দুজনেই বলেছেন যে গানটি তাদের নিজেদের লেখা বা সুর করা নয় তাহলে এতো ঝামেলা না করে রাম কানাই দাশ এর পরিবার মুজা এবং তোশিবার সাথে ৫/১০ বছরের কপিরাইট চুক্তি করে নিলেই ঝামেলা মিটে যেতো।

এখন পর্যন্ত এই গানে YouTube, Amazon, Spotify, Tiktalk, Facebook, Instagram এ যে মিলিয়নস Streaming হয়েছে তাতে ১৫/২০ হাজার ডলার রয়েলিটি পাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। মনে রাখতে হবে। এই যুগে মানুষ মরে গেলে তাকে মনে রাখে ৭ দিন আর গান হিট হলে ১৫/২০ দিনের বেশি না। তাই সম্মানের সাথে রয়েলিটি যোগ হলে দিব্যময়ি যেমন সম্মান পেতেন। মুজা এবং তোশিবাও হয়তো নতুন আরেকটা গান উপহার দেবার উৎসাহ পেতেন। বাংলা গানের একটা উদাহরণ ও তৈরি হতো। 

বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সকল দেশেই গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও লেবেল প্রতিষ্ঠান গান থেকে আয়ের অংশ সমান ভাবে ভাগ করে নেন। শুধু বাংলাদেশেই যে কোন এক পক্ষ একাই রয়েলিটি দখল করতে চান। এই মানসিকতা লালন করে বলেই বাংলাদেশে সংগীত ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হতে পারেনি। যদি এভাবেই চলে আরও ১০০ বছরেও পারবে না।

news24bd.tv / কামরুল   

পরবর্তী খবর

পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই ‘পুকুর সমান মধু’

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই ‘পুকুর সমান মধু’

ছবিতে কলকাতার গড়ের মাঠ। অন্য নাম ময়দান। এত বড় যে ময়দানের মাঝখানে গেলে নগরের কোলাহল শোনা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক সন্ধ্যায় আমি খিদিরপুর রোডে ট্রাম থেকে নেমে গড়ের মাঠ আড়াআড়ি হেঁটে পেরিয়ে পার্ক স্ট্রিটে পৌঁছেছিলাম।

কম-বেশি ১০০০ একরের এই বিশাল মাঠের অংশে বিভিন্ন ক্লাবের খেলার মাঠ, ইডেন গার্ডেনের মতো বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রভৃতি গড়ে উঠলেও বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো ঐতিহাসিক ভবন থাকলেও খোলা মাঠের মূল চরিত্র দু শ বছরেও নষ্ট করা হয়নি।

কারণ এটা কলকাতা মহানগরের 'ফুসফুস'। তারপরও আর যাতে কোনো স্থাপনা না হয় সেজন্য কলকাতাবাসীর উদ্বেগ রয়েছে। ময়দানে বইমেলা, বাণিজ্যমেলার আয়োজন হতো, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। গত বছরই ময়দানের অংশে মোটরসাইকেল পার্কিং ও আবর্জনা দেখে কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারক স্যুয়োমটো রুল করেন।

আমাদের জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ ঢাকায় ছোট একটি 'ফুসফুস' ছিল, কম-বেশি ৬৮ একর, স্বাধীনতার পর ঘোড়দৌড় তুলে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু চারদিকে শুধু নারকেল গাছ লাগিয়ে উদ্যানরূপে রাখতে বললেন। তারপর আমরা উদ্যানটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। প্রথমেই  এলোপাতাড়ি গাছ লাগানো হলো। ছেলেপেলেদের ফুটবল-ক্রিকেট খেলে ও দৌড়াদৌড়ি করে শরীরচর্চার সুযোগ বিলুপ্ত হলো। পরপরই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের সরকার অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার জন্য, সংস্কৃতি বলয় নির্মাণের জন্য উদগ্রীব হয়ে দফায় দফায় প্রকল্প আনতে লাগলেন। আমাদের দেশে নগর উন্নয়নের কাজ পরিকল্পনাবিদরা করেন না, করেন প্রভাবশালী ঠিকাদার ও আমলারা এবং রাজনীতিবিদরা সায় দেন। তাই দূরদৃষ্টি দিয়ে পরিকল্পনা নয়, প্রাধান্য পায় খণ্ড খণ্ড প্রকল্প। তাতে অনেক মধু চুঁইয়ে চুঁইয়ে নয়, স্রোতধারার মতো পড়ে। তাই যা হবার তাই হচ্ছে। এখন মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মারকসমূহ পর্যটকদের দেখানোর জন্য উদ্যানের ভেতরে রাস্তা ও হোটেল-রেস্তোঁরা দরকার। ব্যস্, এক সময় এলোপাতাড়ি গাছ লাগিয়ে যে পাতলা  বন তৈরি হয়েছিল তা এখন কেটে সাফসুতরো করো। উভয়তে লাভ। পুকুর যতবার কাটবে আর ভরবে ততই পুকুর সমান মধু।

বিশ্বে কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের মতামত না নিয়ে, বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও নিরীক্ষা ছাড়া এলাকার ভৌত অবস্থা ও পরিবেশ এভাবে প্রকল্পের নামে বদলে দেওয়া বা ধ্বংস করা যায় না।

দেশে এখন রাজনীতির যে ভারসাম্যহীনতা ও সুশীল বা নাগরিক সমাজের দুর্বলতা তাতে ঠিকাদারি উন্নয়নের কুঠারাঘাত থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অবশেষটুকু রক্ষা করতে পারা দূরাশা। তবু তরুণদের দ্বারা যেটুকু নাগরিক প্রতিবাদ হচ্ছে সেটুকুর প্রতি অভিনন্দন।

গড়ের মাঠের তিনটি ছবি নেটে উইকিপিডিয়া ও অন্য সূত্র থেকে নেওয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের  ছবি তিনটি অতিসম্প্রতি ঢাকার সংবাদপত্রে প্রকাশিত।।

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু: সিনিয়র সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

শওগাত আলী সাগর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

এই যে মানুষ পরি কি মরি করে গ্রামে ছুটছে তার অন্তর্নিহিত রহস্য কি! প্রতি বছর ঈদের সময় সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়- ‘নাড়ির টানে গ্রামে ছুটছে মানুষ’ এই কি সেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটা! সেই নাড়িটা আসলে কি!

অনন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতিটা অনেক ভিন্ন। তবু মানুষ ছুটছে, পরি কি মরি করে ছুটছে। ফেসবুকে বিভিন্নজনের পোস্ট করা সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি, টিভি চ্যানেলের ভিডিও চিত্রগুলো গভীর মনোযোগসহকার দেখছিলাম। 

মনে হচ্ছিলো শহর থেকে তাড়া খেয়ে মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কোথাও ছুটছে। অনেকটা যুদ্ধ সময়ের মতো। শহরের কি কোনো যুদ্ধ হচ্ছে তা হলে! ওই যে রশি বেয়ে বেয়ে ফেরিতে উঠছে মানুষ- কিসের তাড়া খেয়ে? কিসের তাড়নায়?

বাচ্চা মতো একটা ছেলে কোনো একটা টিভি চ্যানেলকে বলছিলো- সারা বছর আমরা কষ্ট করে যাই আয় রোজগার করি। বছরের একটা দুইটা ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে এ সাথে নিয়ে ঈদ করতে না পারলে কি ভাবে হবে! আমরা মুসলমান তো!  ‘আমরা মুসলমান তো’- কথাটা খট করে বেজে উঠলো কানে। এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা! যারা গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের সবার মনে কি এই একই অনুভুতি- ‘আমরা মুসলমান তো!’।


খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্রে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন খালেদা জিয়া

কাবুলে স্কুলের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫৫


বিশ্বাস করুন, টেলিভিশনের ভিডিওচিত্রগুলো দেখতে দেখতে একবারের জন্যও কোভিড, স্বাস্থ্যবিধি- এইসব মনে পড়েনি। পৃথিবীতে এখন মহামারী চলছে- এই সত্যটাই যেনো ভুলে গিয়েছিলাম। বার বার মনে হচ্ছিলো- এই মানুষগুলো এইভাবে ‘তাড়া খেয়ে ছুটে পালানোর মতো করে’ ছুটছে কেন? এর মনস্তত্বিক, সমাজতাত্বিক কোনো ব্যাখ্যা কি কারো কাছে আছে!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মা কিংবা মন খারাপের গল্প

তারিক শামমি

মা কিংবা মন খারাপের গল্প

করোনা সংক্রমণের আগে প্রায় প্রতি শুক্রবার সকালে আমরা রেসিডেনসিয়াল মডেলের স্কুলের বন্ধুরা স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলতাম। সবার বয়স প্রায় চল্লিশের আগে পিছে। টানা অনেকক্ষণ খেলতে পারি না। খেলার ফাঁকে বিরতির সময় আড্ডা হয়। অনেক গল্প হয়। সবই মজার গল্প। একদিন পাভেল বললো, ক্লাস থ্রি তে হাউসে আমরা একসাথে কাঁদতাম। হাউসের পাশে একটা গাছের আড়ালে গিয়ে কাঁদতাম। তপু এসে বলতো, এই কার কার মন খারাপ? চলে আসো। আমরা এখন কাঁদতে যাবো। তারপর সবাই গাছের পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে কাঁদতাম।

পুরোনো সেই কাহিনী শুনে খেলার মাঠে সবাই হো হো করে হাসলাম। কিন্তু বাসায় ফিরে ঘটনাটা যখনি ভাবতাম মনটা কেমন যেন হু হু করে  উঠতো। মায়ের জন্য মন কেমন করা ক্লাস থ্রি'র ছোট ছোট বাচ্চাগুলো গাছের আড়ালে লুকিয়ে একত্রে কাঁদছে। আহারে কি করুণ দৃশ্য!

আমার ক্যাডেটে পড়ার শখ ছিল। চান্স পাইনি। নাইনে রেসিডেনসিয়ালে চান্স পেয়ে তাই খুব খুশি ছিলাম। হাউসে থাকবো। অনেক বন্ধু। অনেক মজা। এক বিকেলে বাবা মা আমাকে ফজলুল হক হাউসে রেখে আসতে গেলেন। আরো ছেলেরা ও তাদের গার্ডিয়ানও এসেছে। সন্ধ্যায় সব গার্ডিয়ানকে চলে যেতে বলা হলো। একমাত্র ছেলেকে রেখে যাচ্ছেন। বিদায় নেয়ার সময় মা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। এক পলক মা'র দিকে তাকালাম। মা'র দু"চোখ বেয়ে দুই সারি অশ্রুধারা। ওই এক পলকই। আর একবারও পেছনে ফেরেনি মা। বা পারেনি। এরপর কতো কিছুই শুরু হলো। ভোরে পিটি, সকালে ক্লাস, বিকেলে গেমস, রাতে আড্ডা, কিন্তু এক পলকের সেই অশ্রুজল মুখটা কিছুতেই মন থেকে মুছতে পারিনি। আজও।

সিনেমার অনেক দৃশ্য আমি ঠিক নিতে পারি না। 'তারে জামিন পার' সিনেমায় দারশিলকে যখন বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে বাবা মা ফিরে আসে আর 'মেরি মা' গান শুরু হয়-

Main Kabhi Batlaata Nahi, Par Andhere Se Darta Hoon Main Maa
Yuun To Main Dikhlaata Nahi, Teri Parwaah Karta Hoon Main Maa
Tujhe Sab Hai Pata, Hai Na Maa
Tujhe Sab Hai Pata... Meri Maa…

তখন আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারিনা। সারাজীবন আবেগের সাথে লুকোচুরি খেলেছি। কিছুতেই ধরা দেই না। কান বন্ধ করার উপায় নাই। তবে খুব সংগোপনে ল্যাপটপের স্ক্রীণে চোখ না রেখে একটু উপরে তাকিয়ে থাকি। আড়চোখে অন্যদের দিকে তাকাই। ওদের চোখ টলোমলো। পলকেই চোখ সরিয়ে নেই। দ্বিতীয়বার তাকানোর সাহস করি না। চোখের জল যে বড্ড ছোঁয়াচে!

আমার মা বাবা বেঁচে আছেন। তাই সত্যিই জানি না যাদের মা বেঁচে নেই তারা কিভাবে নিতে পারে যখন জেমস গেয়ে ওঠে-

সবাই বলে ঐ আকাশে লুকিয়ে আছে
খুঁজে দেখো পাবে দূর নক্ষত্র মাঝে
রাতের তারা আমায় কি তুই বলতে পারিস
কোথায় আছে কেমন আছে “মা”
ওরে তারা রাতের তারা “মাকে” জানিয়ে দিস
অনেক কেঁদেছি আর কাঁদতে পারি না।

কিংবা যখন ফকির আলমগীর এর সেই বিখ্যাত গান শুনতে পায়-

মায়ের একধার দুধের দাম
কাটিয়া গায়ের চাম
পাপোশ বানাইলে ঋণের শোধ হবে না
এমন দরদি ভবে, কেউ হবেনা আমার মা-গো।

কিংবা যখন জলদ গম্ভীর কন্ঠের আবৃত্তি কানে আসে-

মাকে আমার পড়ে না মনে
শুধু যখন বসি গিয়ে
শোবার ঘরের কোণে,
জানালা থেকে তাকাই দূরে 
নীল আকাশের দিকে
মনে হয়, মা আমার পানে
চাইছে অনিমিখে।
কোলের  পরে ধরে কবে
দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
সারা আকাশ ছেয়ে।

আরও পড়ুন


বাড়িতে যেতে চাইলে হাসবেন-ভয় দেখাবেন, এই আপনাদের বিচার!

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় সীমিত পরিসরে চলছে ফেরি, অপেক্ষায় শতশত যাত্রী

নিয়ন্ত্রণ হারানো চীনের রকেট পড়লো ভারত মহাসাগরে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন


কবি বলেছেন, ''মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, মায়ের চেয়ে নামটি মধুর ত্রিভুবনে নাই''। তবুও সন্তানেরা মা'কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। মাকে ফেলে আসে রেলস্টেশনে। জঙ্গলে।

আজ প্রতিটা প্যারা লিখতে বড় সমস্যা হচ্ছে। বারবার দুচোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এতো জল যে কোত্থেকে আমদানি হয়? আর বুকের ভেতর কোথায়ইবা লুকিয়ে থাকে?

চোখের জলের হয় না কোনো রঙ 
তবু কতো রঙের ছবি আছে আঁকা।

পুনশ্চ: মাকে নিয়ে লেখা কখনো পুরোনো লেখা হয়না। আমার মা, শ্বাশুড়ি মা থেকে শুরু করে বেঁচে থাকা এবং দূর আকাশের তারা হওয়া সকল মায়েদের প্রতি জ্ঞাপন করি বিনম্র শ্রদ্ধা। মা তো নিত্যদিনের, তাই বছরে একদিন মা দিবস নিয়ে অনেকেরই আপত্তি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমার মতামতটা বলি, নিস্তরঙ্গ মায়ের জীবনে একটা দিনে আসুক না একটু উদ্বেলিত তরঙ্গ। সন্তানেরা একটা দিন মা'কে নিয়ে করুক না একটু বাড়াবাড়ি। কোনো ক্ষতিতো নেই তাতে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর