‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি

মনে বিজ্ঞান বিদ্বেষ পোষণ করেন, এরকম কয়েকজন বাংলাদেশীর সাথে আমার কথা হয়েছে। তাদের দাবি— ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এরকম একটি কথা না কি বিজ্ঞান বলেছে, এবং এ কারণে তারা বিজ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। শুনে আমি খুব অবাক হলাম। তাদের জিগ্যেস করলাম, এটি আপনারা কোথায় শুনেছেন বা পড়েছেন? তারা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও পত্রপত্রিকার রেফারেন্স দিলো, এবং বললো— ডারউইন নামের একজন নাস্তিক বিজ্ঞানী এটি বলেছেন। আমি বললাম, কথাটি সত্য কি না তা কি আপনারা যাচাই করেছেন? তাদের উত্তর— না। যেহেতু কথাটি ছাপা অক্ষরে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, এবং ওয়াজ মাহফিলের সত্যবাদীরা কথাটিকে বিজ্ঞানের বলে প্রচার করেছে, সেহেতু তারা ধরে নিয়েছেন যে কথাটি সত্য! 

তারপর আমি ওয়াজ করেন, এরকম একজন ভালো মৌলানার সাথে কথা বললাম, যিনি ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এ কথাটি বিভিন্ন মাহফিলে প্রচার করেছেন। জিগ্যেস করলাম, আপনি ডারউইনের ‘দি অরিজিন অব স্পিসিস’, ‘দি ডিসেন্ট অব ম্যান’, এবং ‘দি ভয়েজ অব দি বিগল’ বই তিনটি পড়েছেন কি না? তিনি স্বীকার করলেন, পড়া দূরের কথা, বই তিনটির নামও কখনও শোনেন নি। একই প্রশ্ন কয়েকজন শিক্ষককে করলাম, তারাও না-বোধক উত্তর দিলেন, কিন্তু তারা জানালেন যে এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন টেক্সট বইয়ে পড়েছেন, কিন্তু ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এরকম কোনো কথা তারা পান নি। 

এ পর্যায়ে আমার একটি ছবির কথা মনে পড়লো। ছবিটি প্রথম দেখেছিলাম গাজী আজমলের একটি বইয়ে (সম্ভবত অন্যদের বইয়েও ছবিটি ছিলো)। বইটি উচ্চ মাধ্যমিকে আমাদের টেক্সট বই ছিলো। 

ওই বইয়ে একটি ছবি ছিলো এরকম:
বানর সদৃশ বা গরিলা সদৃশ একটি প্রাণী, ধীরে ধীরে, লাখ লাখ বছরের ব্যবধানে, তার আদল বদলিয়ে মানুষে পরিণত হচ্ছে।
ওয়ালেস, ডারউইন, ও ল্যামার্কের কাজের পর এ ধরণের ছবি বা ইলাস্ট্রেশন অনেক শিল্পীই এঁকেছেন। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিটি এঁকেছিলেন রুডলফ জালিঙ্গার। ছবিটির নাম ছিলো ‘মার্চ অব প্রোগ্রেস’। গাজী আজমল সম্ভবত ওই ছবিটিকেই, কোনো প্রকার ডিসক্লেইমার ছাড়া, তার বইয়ে ব্যবহার করেছিলেন। আমাদের যেহেতু কোনো কিছুকেই গভীরভাবে তলিয়ে দেখার অভ্যাস নেই, তাই আমরা ধরে নিলাম যে ওই ছবিটি নিশ্চয়ই ডারউনের আঁকা! ডারউইন নিশ্চয়ই বলেছেন ‘মানুষ এসেছে বানর থেকে! 

সত্য হলো, ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি। ডারউইনের তিনটি বইয়ের কোথাও আমি এমনটি লেখা পাই নি। এটি রটিয়েছে কবিরাজেরা। কবিরাজেরা তাদের নিজেদের স্বার্থে, ধর্মপাগল মানুষদের লেলিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানের পেছনে। ডারউইনের কোনো বই এ কবিরাজদের পক্ষে পড়া সম্ভব নয়। তারা পড়েছে তাদের আকৃতির পত্রিকা, তারা শুনেছে তাদের আকৃতির রটনা, আর মগজ ধুইয়েছে কোটি কোটি তরুণ ও বৃদ্ধের। এ অঞ্চলে মগজের ময়লা এতো দূর থেকে দেখা যায় যে, তা ধুইয়ে দিতে কাছে আসার প্রয়োজন নেই। দূর থেকে থুথু ছিটিয়ে দিয়েই এ মগজ ধুইয়ে দেয়া সম্ভব। 

যারা এ থুথু ছিটাচ্ছে, তাদের বিজ্ঞানভীতির প্রধান কারণ— বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়। গামছার আড়ালের সত্যটুকো যেন মানুষ দেখে না ফেলে, এ জন্যই তাদের এ আয়োজন। একবার যদি মানুষ প্রশ্ন করা শিখে ফেলে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব যে বিপন্ন হয়ে যাবে, তা তারা জানে। এজন্য সাধারণ মানুষদের তারা, বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে নানা কৌশলে উস্কে দিচ্ছে। এ কৌশলগুলোর একটি হলো, মানুষের কিছু অপকর্মকে বিজ্ঞানের অপকর্ম হিশেবে প্রচার করা, এবং বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলা, যদিও তারা জানে, বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক মানুষ চলতে পারবে না একটি মিনিটও। 

বিজ্ঞান কোনো প্রাণী নয়, এর হাত পা চোখ দাঁত কোনোটিই নেই। এটি কোনো ভূতও নয় যে মানুষের শরীরে আছর করে, তাকে দিয়ে করিয়ে নেবে অপকর্ম। এটি একটি ধারণা মাত্র। এটি চিন্তা করার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, এবং মানুষের এটি অংশ, যাদের শরীরে মাংসের চেয়ে মগজের ক্রিয়া বেশি চলে, আদিকাল থেকে এ প্রক্রিয়ায় চিন্তা করে আসছে। এ প্রক্রিয়াতেই তারা পাথরের সাথে পাথর ঘষে আগুন জ্বালিয়েছে, রান্না করেছে, এবং মাঝে মাঝে দুর্ঘটনায় নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

মানুষের সাথে বিজ্ঞান কতোটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তা বুঝতে একটি সাধারণ উদাহরণ দিই:
ধরা যাক আধুনিক বিজ্ঞানের সকল অবদান থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন, এবং চলে গেলেন জঙ্গলে। আপনি ন্যাংটো। গায়ে শার্ট নেই, পরনে লুঙ্গি নেই, কোমরে ঘুনসি নেই। গোসলের জন্য সাবান নেই, চুল ধোয়ার জন্য শ্যাম্পু নেই। এ নিয়ে আপনি চিন্তিত নন, কারণ বেঁচে থাকাই আপনার কাছে মুখ্য। আপনি একটি বড়ই গাছ দেখলেন। বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে বড়ই খেতে হবে। গাছে উঠতে গিয়ে দেখলেন কাঁটা আর কাঁটা। কী করা যায় কী করা যায় ভাবছেন। একদিন দুইদিন তিনদিন পর, ক্ষুধায় যখন প্রাণটি খাঁচাছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন হঠাৎ দেখলেন আপনার অদূরে পড়ে আছে একটি পাথরের নুড়ি। বিদ্যুতের মতো আপনার মাথায় খেলে গেলো, আরে, এটি দিয়ে তো বড়ই গাছে ঢিল ছোঁড়া যাবে! 
এই যে আপনি বড়ই গাছ থেকে বড়ই পেড়ে খাওয়ার একটি মামুলি কৌশল আবিষ্কার করলেন, এটিই বিজ্ঞান। বিজ্ঞান মানে শুধু তা নয়, যা ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পারমাণবিক বোমা বানানো যায়। 

ধর্ম পালন করতে বিজ্ঞানের সাথে কলহে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম করেও ধর্ম পালন করেছেন। সম্ভবত তারা কবিরাজ নন বলেই পেরেছেন। 

কিন্তু কবিরাজদের জন্য এটি কঠিন। কবিরাজদের প্রধান কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। প্যারাসিটামল নয়, জ্বরে একটি ফুঁ অধিক কার্যকরী, এটি কাউকে না বুঝানো গেলে সে কবিরাজের কাছে যাবে না। এজন্য কবিরাজেরা, নানা প্রলাপ বকে, ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এ রটনায় বিশ্বাসীদের কাছ থেকে বাহ্বা কুড়াচ্ছে, এবং নিজেদের বামন মূর্তিটিকে পূজনীয় রাখতে, মানুষকে নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করছে।

তারা জানে যে, বৈজ্ঞানিকভাবে চিন্তা করা বেশ পরিশ্রমের কাজ, এবং এ কাজে দরকার পড়ে পড়াশোনোর। এজন্য তারা, নিজেদের হীনমন্যতাকে ঢাকতে গামছা ছুঁড়ে দিয়েছে বিজ্ঞানের গায়ে। মুশকিল হলো, এ গামছা একটু ফুঁ দিলেই উড়ে যাচ্ছে। 
এ কবিরাজদের বলতে চাই, নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথম্যাটিকা গ্রন্থটি শুরু হয়েছে এডমুন্ড হ্যালির একটি কবিতা দিয়ে। হ্যালি, নিউটনের এ অসামান্য কাজের প্রশংসা করে কবিতাটি লিখেছিলেন। কবিতাটির শিরোনাম— “Ode on This Splendid Ornament of Our Time and Our Nation, the Mathematico-Physical Treatise by the Eminent Isaac Newton”। আমার কাছে প্রিন্সিপিয়ার যে-সংস্করণটি আছে, তার ২৫ পৃষ্ঠায় কবিতাটি আছে। আমি ছবি দিয়ে দিলাম। কোনো কবিরাজের পক্ষে নিউটনের প্রশংসা করা সম্ভব নয়। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

করোনাকালে সঠিক তথ্য হচ্ছে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের ব্যবধান

শওগাত আলী সাগর

করোনাকালে সঠিক তথ্য হচ্ছে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের ব্যবধান

সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি স্টেটমেন্টই ইমেইলে এসেছে। কানাডায় এটি ’মানসিক স্বাস্থ্য সপ্তাহ’- মেন্টাল হেলথ উইক, সে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। কোভিড মহামারীর সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার নজর ছিলো ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘ উপলক্ষে কানাডীয়ান প্রধানমন্ত্রী কি বলেন, সেদিকে। 

জাস্টিন ট্রুডোর বিবৃতিটা কয়েকবার পড়লাম। বাংলাদেশের গত কয়েকদিন ’সাংবাদিকতা যে কতো নিকৃষ্টতম পেশা’ আর ‘সাংবাদিকরা কতো নিকৃষ্ট’ তার বয়ানের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অনেক সংবাদকর্মীও ‘নিজেরা সাংবাদিক হয়েছেন বলে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলেছেন’- এমন একটা  সেন্স দেয়ার চেষ্টা করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।  ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস  ফ্রিডম ডে’ তেও তার ব্যতিক্রম হয়েছে বলে চোখে পরেনি।

ট্রুডোর বিবৃতিটার দিকে মনোযোগ দেই। বিবৃতিটা শুরু হয়েছে এইভাবে“Today, on World Press Freedom Day, we celebrate the invaluable role that journalists play in Canada and around the world, and honour all those who have lost their lives in pursuit of the truth. We also rededicate ourselves to a fairer and more inclusive future where everyone, everywhere, is free to make their voices heard.” কানাডা এবং সারা বিশ্বে প্রতিটি সংবাদকর্মী আলাদা আলাদাভাবে যে ভূমিকা রাখেন সেটিকে উদযাপনের কথা বলছেন কানাডীয়ান প্রধানমন্ত্রী।

ইউনেস্কো এবারের ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘র মূল প্রতিপাদ্য ঘোষনা করেছে জনস্বার্থে তথ্য- ‘Information as a Public Good’. সমাজ বিনির্মানের কথা বাদ দেই, গত এক বছরের করোনা মাহামারীতে সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার কি কোনো ভূমিকা ছিলো? জাস্টিন ট্রুডো অবশ্য তার বিবৃতিতে  কভিডে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। 

তিনি বলছেন, ‘‘গত প্রায় এক বছর ধরে অসংখ্য সাংবাদিক দিনে রাতে কভিডের তথ্য - উপাত্ত বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা করে, ভুল এবং মিথ্যা তথ্যের বিপরতে সঠিক তথ্য তুলে ধরে আমাদের সুস্থ থাকতে, জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।যেই সময়ে যে কোনো তথ্য বিকৃত করা এবং ভুল তথ্য জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া খুবই সহজ , সেই সময়ে আমাদের জীবন এবং সমাজকে  সুস্থ রাখতে সাংবাদিকরা যে ভুমিকা রাখছেন তা অনন্য।” 

তিনি মনে করিয়ে দেন, করোনা মাহামরীকালে সঠিক তথ্য হচ্ছে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের ব্যবধান।জাষ্টিন ট্রুডো কানাডা এবং বিশ্বের প্রত্যেক স্থানের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন  সটিক তথ্য তুলে ধরায় তাদের ভুমিকার জন্য। 

’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ তে জাস্টিন ট্রুডোর বিবৃতিটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম বাংলাদেশের সাংবাদিকতার কি এমন সামান্য অবদান নেই যার জন্যে ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘র মতো বৈশ্বিক একটি দিনে তাদের সব সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে হলেও কেউ তাদের  বলবে- তোমাদের এই ভুমিকাটার জন্য জাতি হিসেবে তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তোমাদের ধন্যবাদ দেই।

 ট্রুডোর মতো ” They are democracies’ first line of defence, and the cornerstone of any fair, strong, and vibrant society.” বলতে না পারি,  একটি আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনে উল্লেখ করার মতো একটি অবদানও কি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার নেই! থাকলে সেটি কি আমরা স্বীকার করেছি! স্বীকার করছি!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকতা কেন করি?

খালেদ মুহিউদ্দীন

সাংবাদিকতা কেন করি?

আমরা সাংবাদিক, খুব অল্প লোকই আমাদের ভাল বলে। আজকে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস বলে হয়ত আমাদের আরও বেশি গালাগাল হজম করতে হচ্ছে। 

কিন্তু কেন? অনেকরকম উত্তর হয়। আমি একটু ঘুরিয়ে বলি, এখনকার বাংলাদেশে আপনি একটি পেশা দেখাতে পারবেন না যে পেশার মানুষেরা সমালোচিত নন। হয়ত আপনি পারবেন, আমি পারছি না। 

আমি দেখি, পুলিশ, আমলা, মিলিটারি, উকিল, ডাক্তার, যাজক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জেলে, চাষী, রিক্সাওয়ালা, গৃহকর্মী, নাপিত, দারোয়ান, পালোয়ান, নায়ক, গায়ক, পাচক, বিচারক, লেখক, প্রকাশক, ব্যাংকার বা ক্রিকেটার সবাই একেকজন যেন একেকটি ভয়াল অধ্যায় আর ভয়ঙ্কর এক চরিত্র। এই জঙ্গলে আমরা সকলেই উদ্যত হায়েনা চোখ রাখি সারাক্ষণ মৃত আর জখমের উপর।

বন্ধুরা, আপনাদের মধ্যে যারা এমন পেশায় আছেন, যা নিয়ে সমালোচনা নেই বা যা করার জন্য কোনো গ্লানি বোধ করতে হয় না, আমাকে একটু জানাবেন।

আমি সাংবাদিকতা করি, কারণ আমি ১৯৯৩ সাল থেকে সাংবাদিকতা পড়ি-পড়াই, করি-করাই। অন্তত আরও তিনটি ভিন্ন ধরনের চাকরি চেষ্টা করেছি, পারি নাই। সাংবাদিকতা করি, কারণ তা আমার জন্য সহজ। আমার কোনো বাড়তি গুণের জন্য আমি তা করি না। অন্যকিছু বেশি ভাল পারলে বা এককথায় বেশি পোষালে বা সরল করে বললে কম কাজ করে বেশি পয়সা পেলে হয়ত অন্য কিছু করব।

মুক্ত বা চাপমুক্ত গণমাধ্যম আমার কাছে সোনার পাথরবাটির মত লাগে। আপনি সকলের ফুটো অনুসন্ধান করবেন আর কেউ আপনাকে চাপ দেবে না এটা হতেই পারে না। চাপে না থাকলে বুঝবেন আপনি এখন খানিক ইতিহাস পুরাই অপ্রাসঙ্গিক। 

সেই চাপের মুখে আপনি, আমি কি করি তাই হয়ত লেখা থাকে স্পর্শের বাইরে কোনো মলাটে অথবা কোনো অদৃশ্য ললাটে। আমি অবশ্য সবসময় মনে করি, না পোষালে মানে আপনার পছন্দ না হলে ছেড়ে দেওয়া ভাল। যেকোনো অজুহাতে ধরে রাখলে ধরে নিতে হবে আপনি কাজটি পছন্দ করছেন।
আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা!

 

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

রাজনীতির হেফাজত! যেখান থেকে পচন শুরু

আশরাফুল আলম খোকন

রাজনীতির হেফাজত! যেখান থেকে পচন শুরু

আশরাফুল আলম খোকন

২০১৩ সালের ৫ মে’র আগেও হেফাজত ছিল। হয়তো রাজনীতির অন্দর মহলের হিসাব নিকাশে ছিল। রাজনীতির মাঠে তাদের প্রকাশ্য পদচারণা ছিলো না। তাদেরকে সবাই কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হিসাবেই জানতো। ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরের আশপাশ এলাকায় দিনব্যাপী সহিংসতা দিয়েই তারা আলোচনায় আসেন। তখনো আগের ধর্মীয় ইমেজের কারণে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্বলতা ছিল। 

তারা কিভাবে মসজিদ মাদ্রাসার আঙ্গিনা ছেড়ে সহিংসতা নিয়ে রাজপথে আসলো এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়লো- এটা নিয়ে আমার কোনো গবেষণা নাই। ঘটনা প্রবাহ যতটুকু মনে পড়ে সেটাই বলবো। আজকে কেন তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ওই দুর্বলতাটুকু যে নাই এর জন্য হেফাজত নেতৃত্বই দায়ী। এর বিন্দুমাত্র দায় অন্যকারও নেই। 

দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তখন উত্তাল শাহবাগ। সারা দেশের সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী, মিডিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শুধু যুদ্ধাপরাধী ও বিএনপি-জামাতের মুখপাত্র দৈনিক আমারদেশ, দৈনিক সংগ্রাম, দিগন্ত টেলিভিশনসহ কিছু মিডিয়ার অবস্থান ছিল শুরু থেকেই শাহবাগের বিপক্ষে। তারা শুরু থেকেই শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে আসছিল। গণজাগরণের অবস্থান কিছুদিন অতিবাহিত হবার পরই তারা মিডিয়াতে এসে বলতে থাকেন শাহবাগে সব নাস্তিকদের সম্মিলন হয়েছে। এই নাস্তিকরা জাতিকে ধর্মহীণ করতে চায়। 

আমার দেশ পত্রিকাতে শাহবাগের নেতৃত্বিদানকারী কিছু তরুণকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা সাংবাদিকতার কোনো নীতি নৈতিকতার মধ্যে পরে না। ওই সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গিয়ে হেফাজত নেতৃত্বের সাথেও বৈঠক করেন আমাদের দেশের তৎকালীন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। যেই বৈঠকের ছবিগুলো পরে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমা কিছু এম্বাসির কর্মকর্তাদের বৈঠকের ছবিও পরে প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগের অভিযোগও আছে। 


পশ্চিমবঙ্গ কার, জানা যাবে আজ

আজ হতে পারে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন আজ


আমার পাশের গ্রামের একটা ছেলে যাত্রাবাড়ীতে একটি কওমি মাদ্রাসাতে পড়তো। শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েতে গিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছে। আমি তখন আমেরিকা থেকে দেশে বেড়াতে গিয়েছি। তার বাবা দিন আনে দিন খায়। আমার কাছে এসেছে চিকিৎসার সাহায্যের জন্য। আমি প্রথম প্রশ্নই ছিলো, আপনার ছেলে ওই খানে গেলো কেন? ওনার উত্তরে অবাক হইনি। উনি বললেন ঐটা নাকি ছিল তাদের ঈমানী দায়িত্ব। হেফাজতের হুজুররা তাদেরকে নাকি বলেছিলো ঢাকা শহর নাস্তিকরা দখল করে নিয়েছে। এই নাস্তিকদের খতম করতে হবে। একটা গল্প বললাম। সবগুলো গল্প এই রকমই ছিল। 

হেফাজতের এই নেতারা কোমলমতি শিশুদের বিভ্রান্ত করেছে। স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে তাদের মাথা বিক্রি করে দিয়ে নিজেরা ফায়দা লুটেছে। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার হয়েছে। বাংলাদেশকে মূল চেতনা থেকে সরিয়ে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছে। মূলত তাদের ক্ষমতা লিপ্সা, অন্যের হাতিয়ার হিসাবে রাজনীতিতে ব্যবহার হওয়াই হেফাজত ইসলামকে বিতর্কিত করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার আগ পর্যন্ত হেফাজত কোনো আলোচনায়ই ছিল না। আগেও তাদের সংগঠন ছিল, লোকবলও ছিল। তবে, মাঠে তাদের নিয়ে খুব একটা বিতর্ক ছিল না। 

মূলত: তারা ওই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের কলাকুশলীরা জানতো যে, বিএনপি-জামাতের আন্দোলন জনগণ গ্রহণ করবে না। তাই সেখানে তারা হেফাজতকে কিনে নিয়েছিল। যদি সরকারকে অস্থিতিশীল করা যায় তাহলে হয়তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভেস্তে যাবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও রাজনীতির চালের কাছে সবই ধরা খেয়েছে। 

এরপর দীর্ঘ দিন তারা চুপ ছিল। হেফাজতের নতুন কমিটি হবার কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে মামুনুল হকের মত কিছু ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা লাইম লাইটে আসে। সেই প্রভাবের পুরোটাই তারা কমিটি হবার সময় ব্যবহার করেছে। মূলত: হেফাজত ছিল অরাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু হেফাজতের গত কমিটির প্রায় অর্ধেক নেতার সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা ছিল। অনেকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ততার শক্ত অভিযোগও আছে। 

বিএনপি-জামাত জোটের কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে না পেয়ে তারা হেফাজত ইসলামকেই নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছিলো। 
হেফাজতকে তারা ব্যবহার করেছে এবং সফলও হয়েছে। যেমন, মামুনুল হকের এতো অপকর্মের পরও হেফাজতের পুরা কমিটি তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিছু নেতা বিপক্ষে থাকলেও বাবুনগরী- মামুনুল গংদের তোপের মুখে অসহায় ছিলেন। তাই তারা গণহারে পদত্যাগ শুরু করে দিয়েছিলেন। আর এটা বুঝতে পেয়েই তড়িঘড়ি করে বাবুনগরী কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। 

হেফাজতের নতুন কমিটি হবার পরদিন আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। লিখেছিলাম “এই কমিটি অনুমোদন করে হেফাজত তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছে। কারণ এই কমিটির মাধ্যমে হেফাজত ইসলাম একটি রাজনৈতিক ও জঙ্গিবাদী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। জনগণের সহানুভূতিটাও হারিয়েছে।” হিসাবটা খুব সহজ। যেমন, নিরীহ ভালো ইমেজ সম্পন্ন একজন মানুষ। সন্ত্রাসীরা যদি তাকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে নিরাপত্তার জন্য ওই বাসায় আশ্রয় নেয় এবং তিনি আশ্রয় দেন।

পরে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে যদি ওই আশ্রয়কারী ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন কিন্তু মানুষ ওই নিরীহ ভালো ইমেজ সম্পন্ন মানুষটির পক্ষে অবস্থান নিবে না। তখন জনগণই বলবে উনি এইসব বাজে মানুষগুলোকে আশ্রয় দিলেন কেন। নিশ্চয়ই কোনো স্বার্থ আছে। দেখেন, এখন হেফাজতের এতো নেতা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার হচ্ছে কিন্তু তারা কারো কোনো সহানুভূতি পাচ্ছে না। কারণ তাদের পচনটা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। এখন সেই পচনের গন্ধ বের হচ্ছে। সেই পচনের গন্ধে সহানুভূতিগুলোও দূরে সরে গেছে।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

লোকে পাগল বলে বলুক তবুও হাসুন, হাসিটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে

মুম রহমান

লোকে পাগল বলে বলুক তবুও হাসুন, হাসিটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে

তিনজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন। কেউ তাদের নাম জানে না। তাদের পরিচয়ও জানে না। কারণ তারা কখনো কথা বলেনি। তারা কখনো কোন উপদেশ দেয়নি, পরামর্শ, আদেশ, বাণী কিচ্ছু দেইনি। তারা তিনজন একসাথে ঘুরতো আর একটি কাজই করতো। একে কাজ বলা যায় কি না, সেটাও অনেকের জানা ছিলো না। এই তিন বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যেতো আর হাসতো। এই তিনজনকে সবাই ‘হাসিমুখো তিন সাধু’ হিসাবেই চিনতো।

গ্রামের বাজার কিংবা কোন ভিড় এলাকায় তারা যেতো। তারপর হাসা শুরু করতো। কোন কারণ ছাড়াই। এমনভাবে হাসতো মনে হতো কি যেন মজার কিছু ঘটে গেছে। ক্রমে লোকজন জড়ো হতো। নানা প্রশ্ন, দ্বিধা, কৌতুহল তৈরি হতো মানুষের মনে। কিন্তু তিন ভিক্ষু কোন কথা বলতো না, তারা কেবল হেসেই যেতো। কে না জানে, হাসি সংক্রমক। ক্রমশ তাদের হাসি সংক্রামিত হতো। একে একে সবাই সেই হাসিতে যোগ দিতো। যখন গ্রামের লোকজন হেসে উঠতো তখন এই তিন ভিক্ষু চলে যেতো, অন্য কোন গ্রামে। আবার সেখানে বইয়ে দিতো হাসির হুল্লুড়। এভাবেই চলছিলো বেশ।

তারপর এক ভিক্ষু সাধক মারা গেলেন। বাকী দুইজন আরেক গ্রামে এলো। এতো দিনে চীনের লোকেরা এই তিন ভিক্ষুর কথা জেনে গেছে, তারা লোকমুখেই বিখ্যাত হয়ে গেছে। এইবার যখন গ্রামে দুই ভিক্ষু এলেন গ্রামের লোক তখন স্তব্ধ, শংকিত, কৌতুহলী তো বটেই। তারা দুই ভিক্ষুর কাছাকাছি এলো। তাদের ধারণা ছিলো বন্ধু, সঙ্গী হারানোর ব্যথায় তারা কাতর থাকবে। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখলো, দুই ভিক্ষু খুব হাসছেন, ঠিক তিনজন যেভাবে হাসতেন সেইভাবেই।

বিস্মিত লোকেরা এইবার সহজে হাসিতে যোগ দিতে পারলো না। গ্রামের প্রায় সব লোক এগিয়ে এলো, তারা জিজ্ঞেস করলো, আপনারা হাসছেন কেন? আপনাদের তো মন খারাপ থাকার কথা। 

এই একবার, এই প্রথমবার তারা কথা বললেন। দুই সাধুর একজন বললেন, ‘আমরা হাসছি কারণ মানুষটা জিতে গেছে। আমরা সব সময়ই ভাবতাম আমাদের মধ্যে প্রথম কে মারা যাবে। কে প্রথম হবে মৃত্যুর যাত্রী। তো ও জিতে গেলো, আমাদের হারিয়ে দিয়ে গেলো। আমরা হাসছি আমাদের পরাজয় আর বিজয় দেখে।’

‘আমরা আরো হাসছি কারণ আমরা বহুকাল একসাথে এসেছি, আমরা একত্রে উপভোগ করেছি এই পৃথিবী, আমরা একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করেছি। তাকে বিদায় উপহার হিসাবে হাসির চেয়ে ভালো কিছু আমাদের কাছে নেই। আর আমরা কেবল হাসতেই শিখেছি।’ কিন্তু এই কথাতেও গ্রামের লোকের মন ভরলো না। তারা তখনও বিষন্ন।

তিন সন্নাসীর একজনের অভাব বোধে তারা ব্যথিত। তো সেই সন্নাসীর দেহ রাখা হলো শেষকৃত্যের জন্য। মৃত ভিক্ষু সন্নাসী আগেই জানিয়ে গিয়েছিলেন, তার পোশাক যেন বদলানো না হয়। কারণ তিনি সদাই পরিস্কার পোশাক পরতেন। এটা অনেকের মতো চীনা রীতিও যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া হয় আর নতুন কাপড় দেয়া হয়। কিন্তু তিনি মানা করে গিয়েছিলেন গোসল দিতে, নতুন পোশাক পরাতে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকিনি, নোংরা থাকিনি। আমার জীবনে এতো এতো হাসি ছিলো যে আমার মধ্যে কোন অশুদ্ধতাই নেই। আমি কোন ধূলা ময়লা লাগতে দেইনি এই গায়ে। হাসি সদাই তাজা আর সুন্দর। তাই আমার পোশাক বদলাবেন না, আমাকে গোসল দেবেন না।’ লোকে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী যেভাবে সে ছিলো সেভাবেই তাকে পোড়াতে নিলো। আর যখন তার শরীরে আগুন ধরানো হলো, তখনই সবাই বিস্মিত হলো। কারণ বৌদ্ধ ভিক্ষু তার কাপড়ের, শরীরের নানা জায়গায় আতশবাজি রেখে দিয়েছিলো। আগুনের আঁচ পেয়ে সেইসব আতশবাজি আকাশে ওঠে ফুটতে লাগলো। আকাশ যেন আলোর ফুলকিতে হাসতে শুরু করলো। এক ভিক্ষু বললেন, ‘দেখো ও আমাদেরকে আবারও পরাজিত করেছে, শেষ যাত্রাতেও সে আমাদের হাসি দিয়ে গেলো।’ গ্রামবাসী বুঝতে পারলো এই যে দুই সন্নাসী হাসছে তার সঙ্গে তাদের মৃত বন্ধুটিও হাসছে। আর সবাই হাসতে শুরু করলো।

যারা বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানেন, তারা এটুকু জানেন যে, বুদ্ধ কোন একক ব্যক্তি নয়। সাধনার চূড়ান্তে পৌঁছালে বুদ্ধ হওয়া যায়। আর এই যে গল্পে তিন বুদ্ধ ভিক্ষু তারা ছিলেন বুদ্ধের হাসির তিন রূপ। হাসিরও তিনটি ধরণ আছে। সেটা সম্পর্কে একটু বলে নেই।

প্রথম হাসি হলো, অন্যের উপর হাসা, যেটা আমরা সব সময় করি। অন্যকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা, ইয়ার্কি-ফাজলামো। এটাকে বলা হয় সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণীর হাসি।

দ্বিতীয় হাসি হলো নিজের উপর হাসতে পারা। যখন কেউ নিজেই নিজেকে হাসির পাত্র মনে করে তখন সেই হাসি জ্ঞান আর প্রজ্ঞায় চালিত হয়। আত্ম অহংকার, নৃশংসতা, লোভ, ঘৃণা ইত্যাদির উর্দ্ধে উঠতে পারলেই নিজেকে নিয়েই হাসা যায়। যে মানুষ নিজের উপর হাসতে পারে সে মানুষ ক্ষুদ্র কামনা-বাসনার উর্দ্ধে উঠতে পারে।

আর তৃতীয় হাসি নিজের উপরও নয়, অন্যের উপরেও নয়। এ হাসিকে বলে মহাজাগতিক হাসি। বলা হয়ে থাকে একমাত্র বুদ্ধই এই হাসি হাসতে পারে। কারণ এই হাসি হাসতে হলে মহা জগতের লীলাখেলা বুঝতে হয়। এই জগতের শুরু কোথায়, এই জগত কোথায় শেষ, মানব জন্ম কীভাবে শুরু হয়, কখন কীভাবে শেষ হয়-- এর কিছুই আমরা জানি না। অজানা অচেনা এক রহস্যময় পৃথিবীতে অনিশ্চিত একটা জীবন পার করি আমরা। এই অসীম রহস্য, অনিশ্চয়তা, অনিত্যতা যে অনুধাবন করতে পারে সে হাসতে পারে যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সময়। এই বিশাল মহাজগতের রূপ, লীলা বড়ই আনন্দময়, এর অংশ হতে পারাও বড় আনন্দের। সেই যে আমাদের রবীন্দ্রনাথের গানে আছে--

আকাশভরা সূর্য-তারা,
বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি
পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
অসীম কালের যে হিল্লোলে
জোয়ার-ভাঁটার ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায়
লেগেছে তার টান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি
বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে
উঠেছে মন মেতে,
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি,
ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥

আরও পড়ুন


ছোট বয়সের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রেম করছেন আনুশকা

শ্রীলেখার ফোন নম্বর ফাঁস, নেটাগরিকদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণের শিকার সেই তরুণী ফেসবুক লাইভে এসে যা বললেন (ভিডিও)

খুলনায় ভিমরুলের চাকে আগুন দিতে গিয়ে পান বরজ পুড়ে ছাই (ভিডিও)


সত্যি বলছি, আমার নিজের কাছে এ গান প্রার্থনার মতো, ওষুধের মতো, কখনোবা আদরের মতো। আমি ফুলের গন্ধ, ঘাসে ঘাসে পা ফেলার আনন্দ, কান পেতে পাখির গান শোনা, চোখ মেলে ফুলের রূপ দেখার মধ্যেই জগতের সব আনন্দ পাই। আনন্দে কখন নিজের অজান্তেই আমার হাসি আসে। কখনো মুচকি হাসে, আশেপাশে কেউ না থাকলে অট্টহাসি। কিন্তু হাসি আমি দেই। নানা অজুহাতেই। কারণ, আমার বিবেচনায়, মানুষ এবং সত্যিকারের মানুষই পারে হাসতে। জীব-জন্তুর মধ্যে সে অর্থে হাসি নেই। তারা তো ফুলের রূপে, জোছনা আর সমুদ্রের ঊর্মিমালায় আনন্দ খুঁজে পায় না। তারা তো কৌতুক করতে জানে না। কিন্তু হয়তো জানে। কখনো কোন কুকুরের কা-কারখানা দেখেও খুব রসিক মনে হয় তাদের। গরুর চাহনির মধ্যেও হাসি থাকতে পারে। একটা বিড়াল যে মগ্নতায় নিজের পরিচর্যা করে সেই মগ্নতা দেখার আনন্দও আছে। একটা ব্যঙের লাফের মধ্যেও হাসি আছে। বার্টান্ড রাসেল একবার একদল আদিবাসীর সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি দেখেছেন তারা কতো ছোট্ট ছোট্ট বিষয়ে খুশি। তাদের কাপড় নেই, পর্যাপ্ত খাদ্য নেই, শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর অথচর তারা সুখি, তারা হাসতে জানে। অথচ জগতের সকল আরাম আয়েশ নিয়েও আমরা কতো বিরক্ত, উদাস, বিষণ্ণ। বাড়িতে খাবার আছে, আলমারিতে কাপড় আছে, কারো কারো একাধিক গাড়ি বাড়ি আছে, কিন্তু মনে সুখ নেই, মুখে হাসি নেই।

একটা গাছ কি বিষণ্ণ হয়, একটা পাখি কি টাকা জমায়, একটা বাঘের কি মনোচিকিৎসক আছে? প্রকৃতিও চিকিৎসা আর এই মহাজগতই আনন্দ। এইটুকু বুঝতে গেলে আমরা হাসতে পারবো সেই তিন সাধকের মতো। আসুন হাসির সাধনা করি।

যারা করোনা নিয়ে আতঙ্কে আছেন, তাদের জানিয়ে রাখি দুঃশ্চিন্তা, আতঙ্ক শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দূর্বল করে। সবল ইমিউন সিস্টেমের জন্য হাসিটা খুব দরকারী। হাসি ফুসফুস আর হৃদয়ের জন্যও উপকারী। আমি নিজে যখন করোনাক্রান্ত ছিলাম ক্রমাগত কপিল শর্মা শো দেখতাম, খুঁজে খুঁজে হাসির সিনেমাগুলো দেখতাম। আইসোলেশনে, নিজের ঘরে বসে একা একাই হাসতাম। যে পাগল বলে বলুক, হাসিটা চলুক, যে কোন পরিস্থিতিতেই, যে কোন সময়েই।

লেখাটা শেষ করছি ওশো’র একটা উদ্ধৃতি দিয়ে, ‘কেবল জীবনকে আরো আমোদের চোখে দেখো। একদম রাশভারী হয়ো না। গুরুগম্ভীর হওয়াটা অনেকটা অন্ধত্বের মতো। ভাবুক, দার্শনিক সাজার চেষ্টা করো না। কেবল একজন মানুষ হয়ে ওঠো। এই পুরো বিশ্ব নানাভাবেই তোমাকে কতো আমোদ-প্রমোদ দেখাচ্ছে, কিন্তু তুমি এতো বেশি রাশভারী যে নিজের হৃদয়ই খুলতে পারো না।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ডাক্তারি জীবন নিয়ে কিছু কথা

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

ডাক্তারি জীবন নিয়ে কিছু কথা

আমার অধিকাংশ সহকর্মী সারাবছর ফ্রাস্ট্রেটেড থাকে। কোভিড সময়ে ভিন্ন পরিস্থিতি। এটার জাজমেন্ট আলাদা। কিন্তু ইন জেনারেল বলছি।

সদ্য এমবিবিএস পাশ করে যারা বিভিন্ন ক্লিনিকে চাকরি করছেন ডিউটি অফিসার হিসেবে তারা ফ্রাস্ট্রেটেড। কারণ বললে অনেক কথা। পোস্ট গ্রাডে ঢুকতে পারছেন না। এমডি এম এস বা এফসিপিএস কোর্সে যেতে পারছেন না। বিসিএসটাও ধরা দিচ্ছেনা। এভাবে কদ্দিন চলবে কে জানে? ক্লিনিকের চাকরিতে সম্মান মিলেনা। সিনিয়রদের বকাঝকা আর সহ্য হচ্ছেনা।

যারা ফ্রাস্ট্রেটেড তাদের একটা বড় অংশ এফসিপিএস এবং এম এস/এমডি দুরকম ডিগ্রিরই প্রথম পর্ব সম্পন্ন করে বসে আছে। কেউ কেউ বিসিএসও। আবার ডিগ্রী পুরো সম্পন্ন করেও এবং বিসিএস হবার পরও অনেকে হতাশ। প্রফেশন থেকে কাংক্ষিত মর্যাদা তারা পাচ্ছেন না৷

নতুন বিশেষজ্ঞরা হতাশ। ভাল জায়গায় চেম্বার পাচ্ছেননা। রোগী আসে তো আসেনা। রোগীরা প্রফেসর কিনা জানতে চায়। দিনে হয়ত তিন চারটা রোগী পায়। শুক্রবারে দূর জেলায় খ্যাপে যায়। মাসে সাকুল্যে এক লাখ থেকে তিন লাখ রোজগার। কিন্তু তা দিয়ে তো চলছেনা।

খুব বিজি প্র্যাক্টিশনার গুলশান-বারিধারায় ফ্ল্যাট আছে এমন মানুষও ফ্রাস্ট্রেটেড। সামাজিকতা রাখতে পারেননা, ছেলে মেয়েদের সময় দিতে পারেননা বলে হতাশ। মানুষের মনের অশ্রদ্ধা পড়তে পারেন অনেকেই। সেটা পড়েও হতাশ। আর কিছু না হোক দেশে পুলিশ আর এডমিনের লোকেরা এত ক্ষমতাবান এটা দেখেও কেউ কেউ হতাশ।

এক বিখ্যাত প্রফেসর চিকিৎসক মারা গেলেন। বিএসএমএমইউ তে জানাজা হলো। জানাজায় মানুষ হলো সব মিলিয়ে গোটা পঞ্চাশ। তার এক সহকর্মী বললেন স্যারের চেম্বারেও তো ডেইলি সিরিয়াল পড়ত এর চেয়ে বেশি। এই শুনে তার বাকি সহকর্মীরা হতাশ। কি করতেছি আসলে?

এভাবে হতাশা গভীর হয়। আচরণে প্রভাব পড়ে। মেজাজ গরম থাকে বেশিরভাগ সময়। অন্যকে এক হাত নিতে পারলে ভাল লাগে।

এই হতাশার চক্র থেকে মুক্তি আসবে কিভাবে? কেন এই হতাশা?

আমি কারণ জানার চেষ্টা করি। কয়েকটা কারণ আমার মাথায় আসে। ভুল হতে পারে। আবার ঠিকও হতে পারে। অন্তত চিন্তার খোরাক হতে পারে।

অধিকাংশ ডাক্তার প্রফেশনটাকেই তার লাইফ ভেবে বসে থাকে। তার জীবনে যে আরো কিছু করার আছে, তার চিত্ত আরো কিছু চায় সেটা সে অনুসন্ধান করেনা। বাচ্চাদের ক্ষুধা লাগলে বুঝতে পারেনা তার ক্ষুধা লেগেছে। ঘ্যান ঘ্যন করে, তিরিক্ষি করে। খাবার দিলে পরে খেয়ে শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ডাক্তারদের চিত্ত অস্থির হয়, কিন্তু বুঝতে পারেনা তার কি করা উচিত।

অধিকাংশ ডাক্তার সপ্তাহের সাতদিনই কাজ করে। তার চিত্তবিনোদনের সুস্থ মাধ্যম নেই। সেটাতে সে অভ্যস্তও না। ছেলেবেলা থেকে তাকে এগুলোতে অভ্যস্ত করানো হয়নি। বরং তাচ্ছিল্য ও ঘৃণার চোখে দেখেছে। মন প্রফুল্ল করার প্রক্রিয়াটি তার কাছে ফূর্তিবাজি বলে বোঝানো হয়েছে৷ এই কাজটি এক শ্রেনীর গার্জিয়ানরাই করে।

ছোটবেলা থেকেই " পড়, নাইলে রিকশাওয়ালা হবি" এসব বলে বলে তাকে মানসিকভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। খেলতে গেলে বলা হয়েছে "আজাইরা কামে টাইম নষ্ট করস ক্যান? পড়লে কামে দিবে" । এই ভাবনার চক্র থেকে সে বের হতে পারেনা। সে কাজ করে, ডাক্তারি করে, পড়ে। কিন্তু ভাল লাগেনা, যা করলে ভাল লাগতো তা করলেও মনে হয় "এইটা কি ঠিক হইল? পড়লে বা চেম্বারে গিয়ে দুইটা রোগী দেখলেও কামে দিতো"।

জীবন ভারসাম্যের খেলা। ভাল লাগা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্য, কাজ সব মিলিয়ে চলতে পারলেই জীবন সুন্দর।

এক জীবনে সব পাওয়া যায়না। আপনি দরবেশের সম্মান, ব্যাবসায়ীর প্রাচুর্য, পুলিশের ভীতি, সচিবের ক্ষমতা এক জীবনে পাবেন না। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কি চান? যা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন তা গ্রহন করুন। বাকিদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। একে অপরে মিলে জীবনের প্রয়োজনগুলো মিটিয়ে নিন। এককভাবে সব অর্জন হবেনা।

ডাক্তাররা আশা করে সে যেহেতু মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, কঠিন সিলেবাস পড়েছে সুতরাং সে সমাজের সবচেয়ে বেশি সম্মান পাবে। কিন্তু বাস্তবে এটা হয় মেডিকেল স্টুডেন্ট থাকা অবস্থা পর্যন্তই। সমাজের সবাই খুব আদর করে। মেডিকেলে পড়ে- কি ব্রিলিয়ান্ট! কিন্তু এরপরই সামাজিক বাস্তবতা পালটে যায়। ডাক্তারের কাছে সমাজ সার্ভিস চায়। এখানে ব্রিলিয়ান্সের মর্যাদা দেবার সময় নেই। কারণ সমাজের সাথে তার সম্পর্কটা এখন দেওয়া নেওয়ার।

কেউ আপনাকে সেধে কিছু দেবেনা। না অর্থ, না সম্মান। যুদ্ধ করেই পেতে হবে। যুদ্ধ মানে গৌরব। যুদ্ধে হতাশার স্থান নেই। আপনি আপনার উপযোগিতা বোঝাতে পারলে সম্মান আপনাকে দিতে বাধ্য৷

ডাক্তাররা সারাক্ষণ প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকে। তার লাইফ একটা ভিডিও গেইমের মত। একেকটা লেভেল পার হবে, পরের লেভেলটা আরো কঠিন হবে। কিন্তু এই লেভেল ক্রসিংকে খেলা বা গেইম হিসেবে নিলেই কিন্তু আপনি উপভোগ করতে পারবেন। যেটা ভিডিও গেমাররা করে। কিন্তু ডাক্তাররা ভাবে গেইমের পরের স্টেপে না গেলে " এই জীবন লইয়া কি করিব?"


আরও পড়ুনঃ


কলার পুষ্টিগুণ

নির্জনতা কখনো আমাদের শূন্য হাতে ফেরায় না

৩ লাখ ছাড়ানোর নয় দিনের মাথায় ৪ লাখ সংক্রমণে ভারত!

শপিংয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরদিন কিনলেন নতুন গাড়ি


আমাদের সমাজে ইন্ট্রোভার্ট, ঘরকুনোরা পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে। এদের একটা বড় অংশকে বাপ, মায়েরা ঠেলে ঠুলে ডাক্তার বানায়। এটা আমার কাছে আরেকটা ডিজেস্টার মনে হয়।

যে ছেলেটা ইন্ট্রোভার্ট তার জন্য ডাক্তারি জীবন অনেক বৈরি হতে বাধ্য। এটা পাবলিক রিলেশন টাইপের জব। দামী কার্পেটের অফিস, জ্বি হুজুর করা পিওন আর্দালির স্বপ্ন নিয়ে এই পেশায় আসলে আপনি হতাশ হতে বাধ্য। ন্যুনতম ফ্যাসিলিটিজ আপনি চাইতে পারেন। সেটা ভিন্ন জিনিস। কিন্তু নিজের মাইন্ড সেটিং টা নিজেই আপনি বুঝে নেবেন।

অনেক কথা বললাম। আরো অনেক কথা হয়ত আছে। এইসব ব্যাখ্যার পরও মানুষ হতাশ হবে। এমনকি আমিও হতাশ হতে পারি। এটাই হিউম্যান নেচার। একই প্রাপ্তিকে একাধিক মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিচার করে। যেমন আমার কাছে মনে হয় দেশ আমার মত দরিদ্র পিতার সন্তানকে ডিগ্রি দিয়েছে। আর কি দেবে? এবার আমার দেবার পালা। আবার এই আমারই মনে হতে পারে আমি এত মেধাবি হয়ে এই দেশে কি পাইলাম?

তবে আসল মোরালটা হলো হতাশ হওয়া যাবেনা। হতাশ মানুষ সবাইকে ভারাক্রান্ত করে। যা সমস্যা না তাকেও সমস্যা বানিয়ে ফেলে। এই যেমন হাসপাতালে নাচার বিষয়টাকেই দেখুননা। এর তেমন কোন নেতিবাচক দিক না থাকলেও কতিপয় তরুনের আনন্দ বার্তাটিতেও কেউ কেউ রেগে গেছেন। কারণ হতাশ মানুষ অন্যকে আনন্দিত দেখলেও বিরক্ত হয়। এদের কনে তখন কাজ করে "জগতে এত সমস্যা, এদের এত সুখ আসে কইত্তে? "

অবশ্য হাসপাতালে নাচার কারণে কোন রোগী মারা গেলে বা স্বাভাবিক কার্যক্রমে অসুবিধা হলে অন্য কথা। মনে হয় তেমন কিছু হয়নি। হয়েছে কি?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর