নজিব ভাইয়ের জীবনও কেড়ে নিল করোনা

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

নজিব ভাইয়ের জীবনও কেড়ে নিল করোনা

(ছবি-বাঁদিক থেকে) আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, নজিবুর রহমান

এসএসসির সার্টিফিকেট অনুযায়ী নজিবুর রহমান ভাই আমার চেয়ে এক বছরের বড়। উনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ১৯৬৮ সালে, আমি দিয়েছি ১৯৬৯ সালে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বাংলাদেশে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। 

তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় আট বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল। ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি দিন আমরা এক সঙ্গেই ঘুরেছি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি’র বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। মাত্র তিন দিনে আমাদের মাঝে যে নিবিড় হয়েছিলাম, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা সাক্ষাতেও সে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। তাঁর নাম নজিবুর রহমান। আমার পরিচিত জগতে অত্যন্ত সহজ-সরল, নির্মোহ-নিরহঙ্কার ব্যক্তিত্ব। 

তিনি ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: এর হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বশীল সাবেক এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর। ব্যাংকের চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি জিএমএস নিটিংয়ের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার পরিস্থিতির  অবনতি ঘটে। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং গতকাল ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদৌসে দাখিল করুন।

নজিবুর রহমান ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে তাঁর মেয়ে তাজকিয়া বিনতে নাজিবের Tazkia Binte Najib মাধ্যমে। তাজকিয়া দিগন্ত টেলিভিশনে সংবাদ পাঠক ছিলেন। এটি ছিল তার খন্ডকালীন কাজ। তিনি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন। 

সংবাদ মাধ্যমের অনেক কর্মী আমার ফেসবুক বন্ধু। তাজকিয়াও আছেন। ঢাকায় থাকাকালে তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। ফেসবুকে টেক্সট বিনিময় বা টেলিফোনে কথা হয়নি। ২০১২ সালের শেষ দিকে তাজকিয়া আমাকে জানান যে তার আব্বা ফ্লোরিডায় আসছেন কোনো বাংকিং সেমিনারে। সেখান থেকে নিউইয়র্কে যাবেন এবং ব্রঙ্কসে তাঁর এক বোনের বাড়িতে উঠবেন। আমার সময় সুযোগ হলে আমি যাতে তাকে কিছু দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাই। 

ফ্লোরিডার কনফারেন্স শেষে তিনি নিউইয়র্কে আসার পর আমি ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সকালে ব্রঙ্কস থেকে তাঁকে নিয়ে ম্যানহাটানের কিছু স্থান, ব্রুকলিনের ওয়াল স্ট্রিট, সাউথ ফেরি, কুইন্সের বাঙালি এলাকা জ্যাকসন হাইটস ঘুরিয়ে দেখাই। ওয়াশিংটন ডিসিতে যেতে চান কিনা জানতে চাইলে তিনি সম্মত হন। আমরা পরদিন সকালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। 

আমার ওই সময়ের সকল কাজে সহায়তাকারী কামাল ভাইকে ফোন করে ওয়াশিংটনে পরিচিত কাউকে জানাতে বলি যাতে ১২ এপ্রিল তিনি আমাদের বাস স্টপেজ থেকে নিয়ে রাত্রিযাপন ও পরদিন নগরী ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। কামাল ভাই করিৎকর্মা মানুষ। সকল আয়োজন সম্পন্ন করে তিনি আমাকে একটি ফোন নাম্বার দেন। ওই নাম্বারে কল কলেই কেউ এসে আমাদের নিয়ে যাবেন। 

১২ এপ্রিল দুপুরের পর ব্রঙ্কস থেকে নজিবুর রহমান ভাইকে নিয়ে লোয়ার ম্যানহাটানের চায়না টাউনে এসে ক্যানাল স্ট্রিট থেকে বাসে ওঠে ওয়াশিংটন ডিসি’র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। তিনি বাস ভাড়া এবং আগের দিন ঘোরাঘুরি ও চা-নাশতা খেতে যা খরচ হয়েছে তা আমার পকেটে গুঁজে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বার বার বলছিলেন, ‘আপনাকে খরচ করিয়েছি শুনলে আমার মেয়ে আমাকে খুব বকাবকি করবে। এমনিতেই আপনার অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছি।’ আমি তাঁকে নিরস্ত করে বলি, ‘আপনার মেয়ে আমারও মেয়ে। 

ফেসবুকের কথাবার্তায় আমি ওর নাম ধরে নয়, ‘মা’ বলে সম্বোধন করি। তাছাড়া আমি আপনাকে বিমানে তুলে নিয়ে যাচ্ছি না।’ চায়না বাসে অবিশ্বাস্য কম ভাড়ায় যাতায়াত করা যায়। যাত্রী পিছু রিটার্ন টিকেট মাত্র ২৬ ডলার। ওয়ানওয়ে ভাড়া একটু বেশি ১৭ ডলার। রিটার্ন টিকেট ব্যবহারের দিন তারিখ নির্ধারিত থাকে না; যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়। 

নিউইয়র্ক থেকে বাসে ওয়াশিংটন ডিসি চার ঘন্টার দূরত্ব। আমাদের বাস সন্ধ্যার পর পৌঁছে। কামাল ভাইয়ের দেয়া নাম্বারে কল করার কিছুক্ষণ পরই রেজাউল নামে একজন আসেন। তার বাড়ি পাবনা। নজিবুর রহমান ভাইয়ের বাড়িও পাবনায়। অতএব স্বচ্ছন্দ হতে সময় লাগে না। তিনি আমাদের এক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান। আমাদেরকে উপলক্ষ করে ওয়াশিংটনের আরও কয়েকজন বাংলাদেশীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। আমরা বিব্রত বোধ করলেও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা জানান যে আমাদের পক্ষে ডিসি’র অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান দেখা সম্ভব হবে না। কারণ পরদিন ১৩ এপ্রিল চেরি ফেস্টিভ্যাল। সিটির অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে চেরি উৎসব দেখতে পারবো এবং হাঁটা দূরত্বে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দেখতে পারবো। এর আগে আমি বেশ ক’বার ওয়াশিংটন ডিসি গেলেও চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখা হয়নি। এবার দেখতে পাবো। নজিবুর রহমান ভাইকেও বললাম যে, আমরা ভালো একটি সময়ে এসেছি। ওয়াশিংটনের চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে তো বটেই, বাইরের দেশগুলো থেকেও অনেকে আসে। কারণ চেরি ফেস্টিভ্যাল শুধু চেরি ফুল ফোটা দেখা নয়। সপ্তাহ জুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হোটেলগুলো অগ্রিম বুকড হয়ে যায়। রেস্টুরেন্টে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়। 

ডিসি থেকে কয়েক মাইল দূরে ভার্জিনিয়ার ছোট্ট এক সিটিতে আমরা এক বাংলাদেশী ভদ্রলোকের বাড়িতে রাত কাটালাম। সকালে রেজা ভাই এসে আমাদের নিয়ে ডিসি’র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। দূরত্ব কম হলেও ডিসিমুখী গাড়ির ভিড়ে পথ শেষ হচ্ছিল না। তিন মাইল যেতে বোধ হয় এক ঘন্টার বেশি সময় লেগেছিল। যেখান থেকে ডিসিতে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে রেজা ভাই আমাদের সেখানে নামিয়ে পথের দিশা বলে দিলেন। তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একজন বাংলাদেশী ছাত্রকেও বলে দেবেন, যিনি চেরি ফেস্টিভ্যাল ছাড়াও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো যথাসম্ভব ঘুরিয়ে দেখাবেন। 

নজিবুর রহমান ভাই না এলে আমার চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখা হতো কিনা জানি না। কারণ তিনি আসার আগেও আমি এ ফেস্টিভ্যাল দেখিনি, পরেও আর দেখা হয়নি। প্রতিবছর চেরি ফেস্টিভ্যাল আসে। নজিবুর ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। আমরা একসঙ্গে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অবলোকন করেছি। অন্য কোনো সৌন্দর্যের সঙ্গে এর তুলনা হয় না। কয়েক ঘন্টা ধরে আমরা চেরির সৌন্দর্য দেখলাম ছবি তুললাম। ইতোমধ্যে বাংলাদেশী ছাত্রটি (দু:খিত  তার নাম ভুলে গেছি) চলে এসেছিলেন। তিনি আমাদের লিঙ্কন মেমোরিয়াল, অ্যারোস্পেস মিউজিয়াম, ভিয়েতনাম ওয়ার মেমোরিয়াল, ক্যাপিটল হিল, হোয়াইট হাউসসহ আরও কিছু স্থাপনা দেখানোর পর ন্যাশনাল প্রেস বিল্ডিংয়ে নিয়ে যান লাঞ্চ করাতে। 


রাহমানিয়া মাদ্রাসায় রাজনীতি ঢোকান বাবা আজিজুল, দখল করে রাখেন ছেলে মাওলানা মামুনুল, অভিযোগ শিক্ষকদের

ফর্মুলা দেবে রাশিয়া, করোনার টিকা উৎপাদন করবে বাংলাদেশ

আরমানিটোলায় কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে বাড়লো নিহতের সংখ্যা

নিয়োগ দেবে আজকের ডিল ডটকম


দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা একটি টেবিল পাই। ভিড়ের কারণে সার্ভিসও বিলম্বিত ছিল। লাঞ্চ সেরে আমরা তাকে বিদায় জানিয়ে নিউইয়র্কের বাস ধরতে চলে আসি। নিউইয়র্ক পৌছতে রাত ৯টার মতো বেজে গিয়েছিল। তাঁকে সাবওয়ের ব্রঙ্কসগামী সিক্সথ ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে, একটি ম্যাপ ধরিয়ে বার বার বলে দেই কোন্ স্টেশনে নামতে হবে। বাড়ি ফিরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোন করি যে তিনি তার বোনের বাড়িতে ঠিকঠাক পৌঁছেছেন। 

পরদিন ১৪ এপ্রিল তিনি কারও সঙ্গে জ্যাকসন হাইটসে এসে আমাকে কল করেন। তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় এসেছেন। আমি সেখানে নিয়ে আবার বের হই এবং জ্যাকসন হাইটসে ঘুরে চা সিঙ্গারা খেয়ে তাকে পৌছে দেই এবং বিদায় নেই। তিনি আর দু’দিন থাকবেন। তাজকিয়ার এক সময়ের সহকর্মী স্পোর্টস রিপোর্টার আলমগীর হোসেন, তার বাড়িও পাবনা, তিনি নজিবুর ভাইকে সিটির আরও কিছু দর্শনীয় স্থান দেখাবেন। 

তাঁর সঙ্গে এই সম্পর্ক পারিবারিক পর্যায়ে পৌছে। আমি তাকে কল করি, তিনিও কল করে আমার খোঁজখবর নেন। আমার গিন্নি ঢাকা গেলে তিনি ও তার কন্যা দাওয়াত করেন। ঘোরার জন্য নিজের গাড়ি দিয়ে দেন। তাঁর স্ত্রী ও কন্যা আমার জন্য উপহার পাঠান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আমার ছেলে সাদের স্ত্রী নাইমা কন্যা সন্তানের জন্ম হয় মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। নজিবুর রহমান ভাই তখন ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। 

তিনি সার্বক্ষণিক আমার ছেলের স্ত্রী ও নবজাত কন্যার অবস্থার খবর নিয়েছেন। ভাবি ও তাজকিয়া হাসপাতালে গিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ রেখেছেন। এমনকি হাসপাতালের বিলে যা ছাড় দেয়া সম্ভব সে ব্যবস্থাও করেছেন। আমরা পুরো পরিবার তার কাছে কৃতজ্ঞ। নানা ব্যস্ততায় আমি অনেকদিন পর্যন্ত তাঁর খোঁজ নিতে পারিনি। তাঁর ইন্তেকালের খবরে গ্লানি বোধ করছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। নাজিব ভাইয়ের পরকালীন শান্তি কামনা করি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফেসবুক: রচনা ও পাঠ

খালেদ মুহিউদ্দীন

ফেসবুক: রচনা ও পাঠ

প্রতিদিন আপনি আমি ফেসবুক রচনা করি, পড়ি, খুঁজি। কী লিখি-পড়ি কী খুঁজি? আমরা কি তথ্যপ্রেমী তথ্যকাঙাল না তথ্য সওদাগর? 

আমরা তথ্য দেই, তথ্য নেই, তথ্য গিলি, তথ্য বমি করি। আমরা কি এখন পৌরাণিক দুমুখো সাপ - দুই অংশে দ্বিধা হয়ে খেতে থাকি নিজেকেই? কী হয় তথ্য জেনে তথ্য জানিয়ে? এইসব তথ্য কী সেই সব রহস্য বোঝার জন্য জরুরি?

নাকি আপনি আমি আমাদের বিচারের দাঁড়িপাল্লা হাতে বের হই? দেখি কে কে কত বোকা আর খারাপ, কারা কারা নৃশংস আর দুর্নীতিবাজ, কারা ভাল মানুষের মুখোশ এঁটে গলা কাটে আর মানুষের।

সম্ভবত আমরা বিপ্লবী দ্রোহী আর প্রতিবাদী খুব। সব অন্যায়কে আমি আপনি রুখে দেই। আমরা শত্রু খুঁজে পাই, সবাই মিলে তাকে শেষ করি। তারপর দারুণ ভালবেসে বন্ধুদের বানাই নতুন শত্রু।

নাকি আমি আপনি কল্যাণকামী খুব, মহান সংস্কারক একেক জন? তিলে তিলে পঁচে যাওয়া এই সমাজকে আমার পূর্বপুরুষ আর আমার মত মর্যাদাবান করে তুলতে চাই; তাইত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেই কে কে শয়তান?

আরও পড়ুন


বান্দরবানে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

যে দিন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে চীনের অনিয়ন্ত্রিত রকেট

৯ বছর পর ফাইনালে চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়

নাজাতের ১০ দিন ও বরকতময় শবে কদর


এমনও কি হতে পারে আপনি সতর্ক আর সাবধানী শ্রেষ্ঠ? খালি আপনিই পেয়েছেন সত্যের পথ! তাই আপনি দেখিয়ে দেন কী কী বিপদ আসছে আমাদের দিকে।

আপনি শিখিয়ে দেন শেখাতে থাকেন নিরলস কীভাবে এইসব ক্লেদ আর পাঁক বাঁচিয়ে কীভাবে আপনি শুধু আপনি আর হয়ত আপনার ভক্তকূল থেকে গেছেন পবিত্র।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন কানাডায়

শওগাত আলী সাগর

১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন কানাডায়

১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য ফাইজারের ভ্যাকসিন ব্যবহারের  অনুমোদন দিয়েছে হেলথ কানাডা।এর আগে  ১৬ বছর এবং ততোর্ধ্ব বয়সীদের এমআরএন্এ ভ্যাকসিন দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছিলো। তবে মডার্না, অ্যাষ্ট্রেজেনেকা এবং জনসন ১৮ বছর বয়স এবং তারচেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদিত ছিলো। 

 কানাডায় সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরেই ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ার  সঙ্গে সঙ্গে বয়সসীমা কমিয়ে  এখন ১২ বছরে নিয়ে  আসা হয়েছে। ।

প্রথম দিকে ভ্যাকসিনের সংকট থাকলেও কানাডায় এখন সরবরাহ বেড়েছে। জুলাইয়ের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এবং তার উপরের সবাইকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে কানাডা। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বারো বছর পর্যন্ত সবার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে চায় লিবারেল সরকার।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

টেস্টে দিনব্যাপী বোলিং করেও কোন বোলারই সফল হয়নি

ড. তুহিন মালিক

টেস্টে দিনব্যাপী বোলিং করেও কোন বোলারই সফল হয়নি

টেস্ট ক্রিকেটে দিনব্যাপী বোলিং করেও যখন কোন বোলারই সফল হয়নি। দিনশেষে তখন মাত্র কয়েক ওভার বল করেই বিজয় নিশ্চিত করলো আরেক বোলার। একদিকে সবাই যখন শত শত বল ছুঁড়েও উইকেটের দেখা পায়নি। অন্যদিকে একজন তখন অল্পকিছু বল খরচ করেই সফল।

উদাহরণটা দিলাম, কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটির তফাৎটা বোঝানোর জন্য। অর্থাৎ কোন কর্মের কোয়ালিটি বা মান তার কোয়ান্টিটি বা পরিমানের চাইতে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

পয়েন্টটা কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে নয়। এটা উদাহরণ মাত্র। আসল পয়েন্টটা হচ্ছে, শবে ক্বদরের ইবাদত নিয়ে। অর্থ্যাৎ সারারাত জেগে দ্রুতগতিতে শত শত রাকাত মনোযোগবিহীন নামাজের চাইতে। ধীরে সুস্থে লম্বা রাকাতের। লম্বা রুকু-সেজদার।  কোয়ালিটিসম্পন্ন অল্প নামাজই আল্লাহর সাথে অনেক বেশী কানেক্টেভিটি বা যোগাযোগ তৈরি করতে সক্ষম। আর ক্বদরের রাতে আল্লাহর সাথে এরকম কোয়ালিটি বা মান সম্পন্ন কানেক্টেভিটিই তৈরি করতে হবে। যেমনটা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে নামাজ আদায় কর, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ; যদি তুমি দেখতে অক্ষম হও, তাহলে মনে কর আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।’ 

প্রশ্ন হচ্ছে— আল্লাহর সাথে এই কানেক্টেভিটির পরিমাপটা মাপবো কিভাবে? হিসাবটা সোজা। সেজদায় গিয়ে যতটুকু চোখের পানি ফেলতে পারি। কানেক্টেভিটির পরিমাপটাও ততটুকু বাড়বে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সিজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ 

অনেকেরই জিজ্ঞাসা। ক্বদরের এই মহিমান্বিত রাতে কি কি ইবাদত করবো? এর সরল ও সহজ উত্তর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজেই দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘একদা আমি রাসুল (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি ক্বদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি; তবে আমি কি করব? তখন রাসুল (সাঃ) আমাকে এই দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। দোয়াটি হলো: اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوُّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُوْ عَنَّا ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’। অর্থাৎ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

আসলে আল্লাহর পছন্দই হচ্ছে, তাঁর বান্দারা যেন ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর তিনি ক্ষমা করতেই থাকেন। করতেই থাকেন....। আর আল্লাহ তো ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। কিন্তু শয়তান মানুষকে সারাজীবন ধোঁকার মধ্যে রাখে। যাতে সে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে না পারে। আজকে কালকে করতে করতেই যেন মৃত্যু চলে আসে। অথচ আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন?’ ‘আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।’  ‘যে খারাপ কাজ করে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করে, তারপর আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহ্‌কে ক্ষমাশীল ও দয়ালু পাবে।’

তাই এ রাতে নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে বেশি বেশি তাওবা, এস্তেগফার, দোয়া, মোনাজাত করার পাশাপাশি। অবশ্যই আল্লাহর ফরজ বিধান এ রাতের মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। সাথে তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, কিয়ামুল লাইল, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকারসহ নেক আমলে সময় কাটানো। কোরআনের অনেকগুলো পারা দ্রুতগতিতে তিলাওয়াত করার চাইতে। পরিমানে অল্প হলেও ধীরে সুস্থে শ্রুতিমধুর ভাবে। আয়াতের অর্থ বুঝে। শুদ্ধভাবে আদবের সাথে। পরিপূর্ণ তৃপ্তির সাথে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করি।

এ রাতে দান, খয়রাত, সাদাকাহ, চ্যারেটি বা সৎকর্ম বেশী পরিমানে করি। কারন, দোয়া ও চ্যারেটির মাধ্যমে মানুষের তাকদিরের পরিবর্তন হয়ে থাকে। 

হায়েজা মা-বোনরা এ মহিমান্বিত রজনীর সাওয়াব-সৌভাগ্য অর্জন থেকে বঞ্চিত থাকবেন না। তারাও বেশি বেশি দোয়া-ইস্তিগফার-তাওবা ও জিকির-আজকার করতে পারবেন এবং দান-সাদাকাহ, চ্যারেটি বা সৎকর্ম করতে পারবেন।
রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কোমর বেঁধে ইবাদত করতেন। তিনি নিজে রাত জাগতেন এবং উনার পরিবারবর্গকে জাগিয়ে দিতেন। তাই অবশ্যই আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকেও জাগিয়ে দিয়ে এ রাতের সৌভাগ্য লাভে উৎসাহিত করতে হবে। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল আমরা অনেকেই করে থাকি। তা হলো, অনেকেই মনে করি ক্বদরের রাত বুঝি শুরু হয় এশার পর থেকে। তাই মাগরিবের পর ইফতার শেষে দুনিয়াবি হাসি-তামাশা কিংবা পরচর্চার মত খোশগল্পে ব্যাস্ত থাকি। অথচ ক্বদরের রাত মাগরিবের পরই শুরু হয়ে যায়। চলে ফজর পর্যন্ত। টিভি বা মোবাইল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখি। এগুলোর সঠিক ব্যবহারও করতে পারি। প্রয়োজনে বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারের লেকচার শুনি। মোবাইল স্ক্রিনে সূরা, তরজমা, তাফসির শিখি। 

অর্থাৎ সারাংশ একটাই। অনুতপ্ত হয়ে, চোখের পানি ফেলে, গুনাহ মাফ চেয়ে। ভবিষ্যতের জন্য পুরোপুরি সংশোধিত হয়ে। নিজের ভিতরের ইগো বা অহংকারের এখনই দাফন করি। কাল থেকে অবশ্যই নিজের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনি। মানুষের হক ফিরিয়ে দিয়ে ও মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে। আমৃত্যু আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সাঃ)এর প্রদর্শিত জীবন বিধান মত বাকি হায়াতের জীবনটুকু অতিবাহিত করতে পারাটাই হচ্ছে শবে ক্বদরের আসল প্রাপ্তি। সাথে অবশ্যই বোনাস হিসাবে পাচ্ছি, একনাগারে ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চাইতেও অধিক পরিমানের সওয়াব।
আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

লেখাচোর প্রসঙ্গে

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

লেখাচোর প্রসঙ্গে

লেখা চুরি একটি গর্হিত অপরাধ। অতীতে অনেকবার আমি এ জাতীয় লেখাচোরদের চুরির শিকার হয়েছি। এদেরকে তেমন গণ্য করিনি। ভেবেছি এরা এমনিতেই সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হবে। আমার কিছু করতে হবে না।

তবে সমস্যা হচ্ছে লেখাচুরিকে আমাদের সমাজ ‘হালকা সমস্যা’ বলে মনে করে। কেউ কেউ ‘সমস্যাই না’ মনে করে। বরং এর বিরুদ্ধে কথা বললে বিরক্ত হয়।

কিছু তথাকথিত প্রফেসর আমার লেখাচুরি করেছে। তারচেয়েও বড় সমস্যা বলার পর আমাকে ব্লক মেরেছে। কিছু ইঁচড়ে পাকা এদেরকেই ‘স্যার স্যার’ বলে ফেনা তোলে।

লেখাচোরকে সামাজিকভাবে হেয় করা কর্তব্য বলে আমি মনে করি। অন্যায়কারীকে সমাজ যখন মাথায় তুলে নাচে তখন সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে প্রবেশ করে বলে আমার আশঙ্কা হয়। অন্তঃসারশূন্য ফেইম সিকার আর তাদের আন্ডা বাচ্চাদেরকে এই পোস্টের মাধ্যমে ঘৃণা জানালাম।

চোরের শিষ্যরা চোর হবে এটা ভাবলে খারাপ লাগে। আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।  কারণ এরা সেরকম প্রজন্মই তৈরি করবে যাদের নিজেদের ভেতরে কিছু নেই।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সেলিব্রিটি নিউজ বনাম বাস্তব দুনিয়া

হারুন আল নাসিফ

সেলিব্রিটি নিউজ বনাম বাস্তব দুনিয়া

বিল গেটস ও মেলিন্ডা

বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদের ঘোষণা একটি সেলিব্রিটি নিউজ। সাধারণ মানুষের বিবাহবিচ্ছেদের খবর নয়। সাধারণ হলে খবরই হতো না।

আমেরিকাতে প্রতি ১৩ সেকেন্ডে একটি বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এ হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় ২৭৭, প্রতিদিন ৬ হাজার ৬৪৬ প্রতি সপ্তাহে ৪৬ হাজার ৫২৩ এবং প্রতি বছর ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৬টি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে। 

এই বিপুল সংখ্যক বিবাহবিচ্ছেদের কয়টার খবর আপনি পান? পান না বললেই চলে। যদি পেয়েও থাকেন, সেটাও অন্য কোনো সেলিব্রিটির।

আমেরকিার সাধারণ কারো বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনো ঘটনার খবর আপনি হয়তো ইহজনমে পাবেন না। কারণ পাওয়ার কথা নয়।

সেলিব্রিটিদের জীবনযাপন, হিসেব-নিকেশ কি আপনার-আমার মতো? না। তাই তাদের খবর দিয়ে সাধরণের কোনো কাজ নেই। 

অবশ্য এটা একটা সাধারণ জ্ঞান। এ খবর জানার মাধ্যমে আপনি আর দশটা খবরের মতো দেশ-দুনিয়ার খবর রাখলেন। এটা খারাপ না। আবার না রাখলে যে আপনার বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে তাও কিন্তু না।

কিন্তু সেলিব্রিটি ডিভোর্স নিউজ দিয়ে সাধারণের দাম্পত্য হিসেব করলে ভুল করা হবে। মনে রাখতে হবে সেলিব্রিটিরা হচ্ছেন স্টার বা তারকা। তারা থাকেন আকাশে। অচিন্তনীয় উচ্চতায়।

মাটির মানুষের জীবনের বিবাহ বা বিচ্ছেদ, জন্ম-মৃত্যু খবর হয় না। সমাজ-জীবন বুঝতে চাইলে আকাশ থেকে দৃষ্টি নামিয়ে আনতে হবে মাটিতে, সাধারণ মানুষ যেখানে থাকেন।


আগামী মাসে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেন বাইডেন

বাবা-মা-বোনের পর এবার কোভিড পজিটিভ দীপিকা পাড়ুকোন

সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে ৪টি আবেদন জানালো হেফাজত নেতারা

দুধের ১০ উপকারিতা


ঈথারে বা মিডিয়ায় কান পেতে সাধরণ মানুষের খবর পাওয়া যায় না। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না কিছুই টের পাওয়া যায় না।

মাটির মানুষের খবর পেতে হলে, তাদের বুঝতে হলে আশ-পাশে তাকান, কান পাতুন দেয়ালে। অনেক কিছুই জানা হয়ে যাবে।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর