সাবধান! যেকোন যাদুটোনা হারাম

তুহিন মালিক

সাবধান! যেকোন যাদুটোনা হারাম

[কোরআনটাইম] সূরা ফালাক্ব
সূরা ফালাক্ব। অন্ধকার (মিথ্যা, অন্যায়) ভেদ করে আলো (সত্য) প্রকাশের সূরা। এই সূরায় রাতের অন্ধকারের কথা এসেছে, যা সাধারনভাবে শয়তান বা খারাপ কিছুর পরিচায়ক। এরপর যাদুর কথা এসেছে, যা একটি কালো বস্তু (সম্পূর্ন হারাম কাজ)। শিরক একটি অন্ধকার পর্যায়। হিংসা; চরিত্রের একটি অন্ধকার দিক। সুতরাং এইসব অন্ধকারকে ভেদ করে আলোর প্রকাশকারী আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে এই সূরায়। 
মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সত্তা যেমন জিন, দেবী ও দেবতাদের কাছে এ ধরনের আশ্রয় চাইতো এবং আজো চায়৷ বস্তুবাদীরা এ জন্য বস্তুগত উপায় ও উপকরণের দিকে মূখ ফিরায়৷ কারণ, তারা কোন অতি প্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাসী নয় ৷ কিন্তু মু'মিনরা যেসব আপদ বিপদ ও বালা মুসিবতের মোকাবেলা করার ব্যাপারে নিজেকে অক্ষম মনে করে, সেগুলোর ব্যাপারে তারা একমাত্র মহান আল্লাহর দিকেই মুখ ফিরায়। এবং একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে৷ 

আসুন সূরাটি অর্থ সহ পড়ে নেই-
১) قُلْ أَعُوذُ بِرَ‌بِّ الْفَلَقِ
“কুল্ আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্বি”
‘বলুন, আশ্রয় চাচ্ছি আমি প্রভাতের রবের।’   
১ম শব্দ ‘ক্বুল’ এর তাৎপর্য অনেক। আল্লাহ এখানে ‘ক্বুল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন কারন আল্লাহ চান মানুষ তাঁর দূর্বলতাকে মুখে প্রকাশ করুক। মুখে প্রকাশ করা বা বলার মাধ্যমে অহংকার দূর হয়। আমার কোন সাহায্য, আশ্রয়ের দরকার নাই এমন চিন্তা দূরীভুত হয়। মুখে বলে আশ্রয় চাওয়ার কারনে রবকে মান্য করার বিষয়টি চলে আসে। 

‘ফালাক’ শব্দটি কোন কিছু ভেদ করে নতুন কিছুর আত্মপ্রকাশ বুঝায়। যেকোন সৃষ্টির জন্যই এটি সত্য। বীজ মাটি ভেদ করে গাছ হিসাবে বের হয়। ঝরনা পাহাড় ভেদ করে। বৃষ্টি মেঘ ভেদ করে। মানুষসহ বিভিন্ন প্রানী গর্ভ ভেদ করে আবির্ভুত হয়। অস্তিত্ব জগতের প্রতিটি জিনিস কোন না কোনভাবে আবরণ ভেদ করার ফলে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব লাভ করে৷ এমনকি পৃথিবী ও সমগ্র আকাশ মণ্ডলও প্রথমে একটি স্তূপ ছিল৷ তারপর তাকে বিদীর্ণ করে পৃথক পৃথক অস্তিত্ব দান করা হয়েছে৷ যেমন, “এ আকাশ ও পৃথিবী সবকিছুই স্তূপীকৃত ছিল, পরে আমি এদেরকে আলাদা আলাদা করে দিয়েছি৷” ( আল আম্বিয়া ,৩০) 

" রাব্বুল ফালাক " এর অর্থ যদি প্রভাতের রব ধরা হয়, তাহলে তাঁর আশ্রয় চাওয়ার মানে হবে, যে রব অন্ধকারের আরবণ ভেদ করে প্রভাতের আলো বের করে আনেন আমি তাঁর আশ্রয় নিচ্ছি৷ আর যদি এর অর্থ সৃষ্টিজগতের রব ধরা হয়, তাহলে এর মানে হবে, আমি সমগ্র সৃষ্টির মালিকের আশ্রয় নিচ্ছি৷ তিনি নিজের সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আমাকে বাঁচাবেন৷

২) مِن شَرِّ‌ مَا خَلَقَ
“মিন্ শার রি মা-খলাক্ব”
‘তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।’
অন্য কথায়, সমগ্র সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আমি তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি৷ এ বাক্যে অনিষ্টকারিতা সৃষ্টির ব্যাপারটিকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা হয়নি৷ বরং বলা হয়েছে, আল্লাহ যেসব জিনিস সৃষ্টি করেছেন, তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি৷ এ থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ কোন সৃষ্টিকে অনিষ্টকারিতার জন্য সৃষ্টি করেননি৷ বরং তাঁর প্রত্যেকটি কাজ কল্যাণকর এবং কোন না কোন কল্যাণমূলক প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্যই হয়ে থাকে৷ তবে সৃষ্টির মধ্যে তিনি যেসব গুণ সমাহিত করে রেখেছেন। যেগুলো তাদের সৃস্টির উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন।সেগুলো থেকে অনেক সময় এবং অনেক ধরনের সৃষ্টি প্রায়ই অনিষ্টকারিতার প্রকাশ ঘটে৷

৩) وَمِن شَرِّ‌ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
“অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্”
‘অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়।’
রাতের অন্ধকারের অনিষ্টকারতা থেকে বিশেষ করে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দেবার কারণ হচ্ছে এই যে, অধিকাংশ অপরাধ ও জুলুম রাতের অন্ধকারেই সংঘটিত হয়৷  আর এ আয়াতগুলো নাযিল হবার সময় আরবে রাজনৈতিক অরাজকতা যে অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল তাতে রাতের চিত্র তো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ৷ রাতের অন্ধকারে চাঁদর মুড়ি দিয়ে লুটেরা ও আক্রমণকারীরা বের হতো ৷ তারা জনবসতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তো, লুটতরাজ ও খুনাখুনি করার জন্য। যারা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রাণ নাশের চেষ্টা করছিল, তারাও রাতের আঁধারেই উনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল৷ তাই রাতের বেলা যেসব অনিষ্টকারিতা ও বিপদ আপদ নাযিল হয় সেগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে৷ 

৪) وَمِن شَرِّ‌ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
“অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্”
 ‘গিরায় ফুঁৎকারদানকারীদের (বা কারিনীদের) অনিষ্টকারিতা থেকে৷’
মুফাসসিরের মতে, গিরায় ফুঁক দেয়া শব্দটি যাদুর জন্য রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়৷ কারণ যাদুকর সাধারণত কোন সূতায় বা ডোরে গিরা দিতে এবং তাতে ফুঁক দিতে থাকে৷ কাজেই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমি পুরুষ যাদুকর বা মহিলা যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রভাতের রবের আশ্রয় চাচ্ছি৷ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওপর যখন যাদু করা হয়েছিল, তখন জিব্রীল (আঃ) এসে উনাকে সূরা আল ফালাক ও আন নাস পড়তে বলেছিলেন৷ 


যাদুর ব্যাপারে অবশ্যই একথা জেনে রাখতে হবে যে, যাদুর মধ্যে অন্য লোকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার জন্য শয়তানের সাহায্য চাওয়া হয়৷ এ জন্য কুরআনে একে কুফরী বলা হয়েছে৷ যেমন, "সুলাইমান কুফরী করেনি৷ বরং শয়তানরা কুফরী করেছিল৷ তারা লোকদেরকে যাদু শেখাতো৷" ( আল বাকারা , ১০২ ) 

সাবধান!! যেকোন যাদুটোনা হারাম। এমনকি এগুলোর মধ্যে কোন কুফরী কালাম বা শিরকী কাজ না থাকলেও হারাম। তা সর্বাবস্থায় ও সর্বসম্মতিক্রমে সম্পুর্ন হারাম৷ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাদুটোনাকে এমন সাতটি কবীরা গোনাহের অন্তরভুক্ত করেছেন, যা মানুষের আখেরাত সম্পূর্ন বরবাদ করে দেয়৷  আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।

৫) وَمِن شَرِّ‌ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
“অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্”
‘এবং হিংসুকের অনিষ্টকারিতা থেকে, যখন সে হিংসা করে৷’
হিংসার মানে হচেছ-— কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ যে অনুগ্রহ, শ্রেষ্ঠত্ব বা গুণাবলী দান করেছে তা দেখে অপর ব্যক্তি নিজের মধ্যে জ্বালা অনুভব করে। এবং তার থেকে ওগুলো ছিনিয়ে নিয়ে সেগুলো তাকে দেয়া হোক। অথবা কমপক্ষে তার থেকে সেগুলো অবশ্যই ছিনিয়ে নেয়া হোক।এইসব আশা করতে থাকে৷  তবে কোন ব্যক্তি যদি আশা করে, অন্যের প্রতি যে অনুগ্রহ করা হয়েছে তার প্রতিও তাই করা হোক, তাহলে এটাকে হিংসার সংজ্ঞায় ফেলা যায় না৷ 

এখানে হিংসুক যখন হিংসা করে অর্থাৎ তার মনের আগুন নিভানোর জন্য নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে কোন পদক্ষেপ নেয়, সেই অবস্থায় তার অনিষ্টকারিতা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে৷ 

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কোন রোগে আক্রান্ত হলে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে হাতে ফুঁক দিয়ে সর্বাঙ্গে বুলিয়ে দিতেন। ইন্তেকালের পূর্বে যখন উনার রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়, তখন আমি এই সূরাদ্বয় পাঠ করে উনার হাতে ফুঁক দিতাম। অতঃপর তিনি নিজে তা সর্বাঙ্গে বুলিয়ে নিতেন। আমার হাত উনার পবিত্ৰ হাতের বিকল্প হতে পারতনা। তাই আমি এরূপ করতাম।’ [বুখারী: ৫০১৬, মুসলিম: ২১৯২] 
সারকথা এই যে, যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম সূরা ফালাক ও সূরা নাস এই সূরাদ্বয়ের আমল করতেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

একদিন আমরা মানুষ ছিলাম

জসিম মল্লিক

একদিন আমরা মানুষ ছিলাম


মানুষ বেঁচে থাকতে একবারও ভাবে না জীবন কত ক্ষনস্থায়ী। যদি ভাবত যে ভাল কাজগুলিই শুধু থাকবে, ভাল একটা কথা, মিষ্টি একটা হাসি, কারো একটু উপকার করা, বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, দুঃখের দিনে পাশে থাকা, একটু  স্নেহের পরশ বুলানো, মাথায় একটু ভরসার হাত রাখা, ভালবাসা দেওয়া এসবের মূল্য অসীম। এসবই স্মৃতিতে জাগরুক থাকবে। মৃত্যুর পর বলবে মানুষটা বড় ভাল ছিল। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তাই। ভাল শাসকদের কথা মানুষ শত শত বছর মনে রাখে। আর খারাপ বা অত্যাচারি শাসকদের  চিরদিন ঘৃণার সাথে স্মরণ করে। আমি দারুণ স্নেহ ভালবাসার কাঙাল। বিড়ালের মতো গদ গদ হয়ে যাই কেউ একটু মিষ্টি কথা বললে, ভালবাসার কথা বললে। কেউ ভালবাসার অভিনয় করলেও আমি বিগলিত হয়ে পড়ি। সত্যি মনে হয়। ঠকেও জিতে যাই। পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষই ভাল। বেশিরভাগ মানুষই ভালবাসতে জানে। আমার মতোই।

আমি কারো কাছে কোনোদিন কোনো অনুগ্রহ চাইনি, হাত পাতিনি, মাথাও নত করিনি। আমি শুধু চেয়েছি কেউ যেনো আমাকে অবহেলার চোখে না দেখে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে, আমার সাথে ছল চাতুরি না করে। আমি এসব একদম নিতে পারি না। কিন্তু তা সত্বেও আমি জীবনে অনেকই অবহেলার শিকার হয়েছি। আমার প্রাপ্য থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাকে অপমানিত হতে হয়েছে। এইসব কষ্ট কখনো ভোলা যায় না। আমাকে ঠকিয়েছে অনেকেই। অনেককে বিশ্বাস করেও ঠকেছি। কিন্তু তারপরও মানুষের প্রতি আমার ভালবাসার বা বিশ্বাসের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ওসব থেকে আমি শিখেছি বটে কিন্তু আমি নিজেকে বদলাইনি। এর কারণ হচ্ছে আমি মানুষের কাছ থেকে যতনা অবহেলা আর তাচ্ছিল্য পেয়েছি ভালবাসা পেয়েছি তারচেয়ে বহুগুন।


জীবনে চলার পথে অনেকের সাথেই আমাদের সখ্যতা হয়, ঘনিষ্ঠতা হয়, ভালবাসা হয়, প্রেম হয়। আবার একদিন সেসব হারিয়েও যায়। সে এক রহস্য বটে। জীবন খুবই রহসম্যয়। মানুষ একসাথে অনেক কিছু ধারন করতে পারে না সম্ভবত। আমার শৈশব, কৈশোর বা তারুণ্যের অনেক বন্ধুকে, অনেক চেনা মানুষকে হারিয়ে ফেলেছি আমি, অনেক আত্মীয়দের সাথে দুরত্ব তৈরী হয়েছে। অনেকে আমাকে যেমন খারিজ করে দিয়েছে তেমনি আমিও অনেক সম্পর্ককে ধরে রাখতে পারিনি। আমার অনেক ব্যর্থতা। জীবন সংগ্রামে এতোটাই বিভোর ছিলাম যে অনেক  সম্পর্ক স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। আসলে কি সব হারিয়ে যায় জীবন থেকে! যায় না। 

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পুরনো অনেকের সাথে আবার যোগাযোগ ঘটে যায়। পুরনো বন্ধুরা স্মৃতি হাতরিয়ে অনেক মুক্তো মানিক তুলে আনে। পুরনো অনেক কিছু ভুলে গেছি দেখে নিজেই লজ্জিত হই। নিজেকে বলি ছিঃ আমি এমন! কেমন করে এসব ভুলে থাকলাম! যাদের অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম এক সময় তাদের সাথেও দূরত্ব তৈরী হয়েছে। ভালবাসা করেছিলাম যাদের সাথে তাদের সাথেও বিচ্ছিন্নতা এসেছে। এসব ভাবলে আজকাল খুব কষ্ট লাগে। আর হয়ত সেসব সম্পর্ক জোড়া লাগবে না। আবার আগের জায়গায় ফিরবে না কিছুই। এই অপূর্ণতা নিয়েই একদিন বিদায় হব। জীবন কত ক্ষনস্থয়ী তা কোভিডকালে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কত আপনজন হারিয়েছি আমরা। কারো জন্য শোক প্রকাশের সময়ও পাই না। নিরিবিলি দুফোটা চোখের জল ফেলার ফুরসত পাওয়া যায় না।


প্রকৃতির এই বিপর্যয় থেকে আমরা শিখি না। এখনও পৃথিবীতে কত অনিয়ম, অবিচার, নিষ্ঠুরতা,  প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, ঈর্ষা, ঘৃণার বিষবাষ্প ছাড়ানো। একে অন্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা। মনে হয় পৃথিবী থেকে এসবের মুক্তি নাই। অনেক ক্ষুদ্র সব ব্যাপারে আমরা নিচুতার পরিচয় দেই। ঈর্ষাকাতর হই। অনেক সময় অবচেতন মনেও হই। আচ্ছা ঈর্ষা জিনিষটা কে আবিষ্কার করেছে! কোথায় থাকে! জেলাসি ইজ অল বলস। আমার নিজের মধ্যেও জেলাসি আছে। অবচেতনেই জেলাসি কাজ করে। 
সে এক রহস্য বটে। এখানেই মানুষের সীমাবদ্ধতা, ক্ষুদ্রতা। এসবের উর্ধ্বে একদম উঠতে পারি না  আমরা। ফেসবুকের কথাই ধরা যাক। অনেক হাই প্রোফাইল বন্ধু আছে আমার যাদের সব কিছুতে আমি প্রতিক্রিয়া দেখাই, অনেক তুচ্ছ জিনিস, পাতে নেওয়ার মতো না তাতেও লাইক দেই কিন্তু তারা অনেকেই আমার ব্যাপারে নির্বিকার থাকে। এটাই মনে হয় মানুষের জীবনের ধর্ম। এতে বিষ্মিত হওয়ার কিছু নাই।

কিন্তু আমি আমার সব বন্ধুর প্রতি সমান প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করি। বিশেষ কারো প্রতি পক্ষপাত দেখাই না কারণ আমার কোনো গ্রুপ নাই, বিশেষ কারো নজরে আসার সবিশেষ আগ্রহ নাই। কারো কাছ থেকে কিছু চাওয়ার নাই। মিলিওনিয়ার বন্ধু যেমন আছে আমার তেমনি দোকানদার বন্ধুও আছে। লেখক বন্ধু যেমন আছে, উকিলও আছে। পুলিশের বড় কর্তা যেমন আছে সিকিউরিটি গার্ড আছে, ডেলিভারি ম্যান আছে, ট্যাক্সি চালকও আছে। এমপি, মন্ত্রী যেমন আছে মেম্বার সাবও আছে। কে নাই! সব টাইপই আছে। রুপবতী যেমন আছে তেমনি কুৎসিত দেখতেও আছে, তরুণ যেমন আছে বৃদ্ধও আছে। দশ বিশ হাজার লাইক আর লক্ষ ফলোয়ারের অধিকারী বন্ধু যেমন আছে, দশ বিশটা লাইক কমেন্টস পাওয়া বন্ধুও কাছে। অল আর সেম।

টরন্টো ১১ মে ২০২১

লেখক, জসিম মল্লিক, সাংবাদিক, কানাডা

পরবর্তী খবর

কানাডার পিল রিজিওন'র অভিনব টিকাদান কর্মসূচি

শওগাত আলী সাগর

কানাডার পিল রিজিওন'র অভিনব টিকাদান কর্মসূচি

১. ‘ডোজ আফটার ডার্ক’! শহরে যখন অন্ধকার নেমে আসবে, সারাদিনের ক্লান্তি শেষে সবাই যখন ঘরে ফিরবে, টিকাওয়ালারা (আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা) তখন তারা বেরিয়ে আসবে টিকা দেয়ার জন্য। টানা ৩২ ঘন্টা, দিনে রাতে মিলিয়ে টিকা দিয়ে যাবেন তারা। অভিনব এই কর্মসূচী নিয়েছে কানাডার পিল রিজিওন। এই উইকএন্ড মানে ১৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে এই ‘ডোজ আফটার ডার্ক’ টিকাদান কর্মসূচি।

২.গত পরশু রাতে বন্ধু আজিমকে (আজিমউদ্দিন আহমেদ) যখন ফোন করি, সে তখন থর্নক্লিফ এলাকায় একটা  টিকা কেন্দ্রে ভলান্টিয়ারিং  করছে। ঘড়ির কাটা তখন রাত  সাড়ে এগারোটার ঘর  ছুঁয়ে থেকে ডান দিকে হেলে পরেছে। আজিমই তখন জানিয়েছিলো, রোযা রেখে দিনের বেলায় অনেকেই টিকা নিতে দ্বিাধান্বিত থাকায় সন্ধ্যার পর টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে টিকা দেয়ার বিষয়টা সেদিনই প্রথম নজরে আসে।রাত পৌণে বারোটায় যখন ফোন রাখি, তখনো  কয়েক শত লোক টিকার জন্য লাইনে এবং নতুন নতুন লোক আসছে।

এর আগে লো ইনকাম কমিউনিটির অনেক বিল্ডিং এ দরোজায় দরোজায় নক করে স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা দিয়ে এসেছেন, সে খবর জেনেছিলাম। সেটি ছিলো দিনের ঘটনা। এবার টিকা হচ্ছে রাতে এবং টানা ৩২ ঘন্টা। অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় সবার আগে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সংক্রমণ ঠেকাতে।এখন দিনে রাতে টিকা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
৩. গত পরশু ব্রাম্পটন ইসলামিক সেন্টারের একটি পোষ্ট চোখে পড়েছিলো সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারা বলছিলেন- আমাদের ওখানে পর্যাপ্ত টিকা আছে, আপনারা এসে টিকা নিন, নইলে এগুলো নষ্ট হবে।গতকালই প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে ব্রাম্পটন ইসলামিক সেন্টারে টিকা নিতে যাওয়া নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

৪.  কানাডার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জৈন চাগলা টুইটারে লিখেছেন, আপনার বাহুতে আরো একটা টিকা মানেই হচ্ছে, ভবিষ্যতের আরো একটা স্লিপওভার অথবা পার্টি, যা আমাদের অপেক্ষায় আছে, তার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

নাকি বরাবরের মতই ঘুষকে ‘নিজের জন্য জায়েজ’ বলেই চালিয়ে যাবো?

তুহিন মালিক

নাকি বরাবরের মতই ঘুষকে ‘নিজের জন্য জায়েজ’ বলেই চালিয়ে যাবো?

রমজানের আত্মশুদ্ধির ট্রেনিং তো প্রায় শেষের দিকে। আমরা নিজেদের ভিতরে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? একটু মিলিয়ে নেই:-
• রমজান শেষে নিজের অন্তরের মধ্যে সযত্নে লালন করা অপরের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও প্রতিহিংসার মাত্রা কতটুকু কমাতে পেরেছি?
•কারো ভালো কিছু দেখলেই আমার ভিতরটা জ্বলে পুঁড়ে একাকার হয়ে যায়। রমজান শেষে সেই হিংসার মাত্রা কতটুকু কমাতে পেরেছি?
•যাদের হক্ব মেরে খেয়েছি। সম্পদ আত্মসাৎ করেছি। মান সম্মান নষ্ট করেছি। জুলুম, নির্যাতন, অন্যায় অবিচার করেছি। তাদের হক্ব ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেবার মানসিকতা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি?

•বিশ্বের বিখ্যাত সব বই-পুস্তক পড়ে শেষ। অথচ রমজানে আল্লাহর কিতাব কোরআন কতটুকু পড়তে পেরেছি?
•নামাজ রমজানেও যেমন ফরজ। তেমনি সারাবছর ও সারা জীবনের জন্যও ফরজ। মনেপ্রানে এই উপলব্ধি কতটুকু করতে পেরেছি?
•সারাবছর সুদ-ঘুষ-দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত। রমজানের পর এপথ থেকে কতটুকু সরে আসতে পারবো? নাকি বরাবরের মতই ঘুষকে স্পিডমানি, তদবির, সিস্টেম, পার্সেন্টিজ বা খরচাপাতি বলে নিশ্চিন্তে যথারীতি ‘নিজের জন্য জায়েজ’ বলেই চালিয়ে যাবো?

•সুদকে ইন্টারেস্ট নাম দিয়ে সুদের অর্থনীতি, সুদের ব্যাংকিং এবং সুদভিত্তিক ব্যাবসা আগের মতই দেদার্ছে চালিয়ে যাবো? নিত্যনতুন অযুহাত ও যুক্তি তুলে সুদের পক্ষেই আগের মতই সমানে লড়ে যাবো?

• যারা বিচারক। উপরের নির্দেশ, ফোনকল, তদবির। কিংবা ব্যক্তিগত, দলীয় বা আর্থিক লাভের আশায় মজলুমের হক্ব নষ্ট করা থেকে নিজেকে কতটুকু নিবৃত্ত রাখতে পারবো? 
• যারা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ইচ্ছামত লুটপাট করা থেকে কতটুকু সরে আসতে পারবো?

• যারা রাষ্ট্রীয়, পেশাগত, দাপ্তরিক পদে দায়িত্বরত। কিংবা সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ দায়িত্বশীল কাজে নিয়োজিত। নিজ নিজ দায়িত্বশীলতার জন্য আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হতে হবে- এই উপলব্ধিটুকু  আমাদের মনে কতটুকু জাগ্রত হবে?

• যারা যুবক। ইন্টারনেটে বাজে ভিডিও দেখা। বন্ধু-বান্ধবীর সাথে অশ্লীল চ্যাটিং করা থেকে নিজেকে কতটুকু সংযত রাখতে পারবো?
•জুলুম, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অশ্লীলতা, লুন্ঠনের বিরুদ্ধে। অন্যায়-অবিচার ও গরীবের হক্ব নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কতটুকু প্রতিবাদ জানানোর সাহস পাবো? হাদিসের এই কথার উপর কতটুকু আমল করতে পারবো? -— “তোমরা কোন অন্যায় দেখলে শক্তি দ্বারা তা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হও তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে। এতেও সমর্থ না হলে মন থেকে তা ঘৃণা করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।" 
আসুন, নিজের পরীক্ষা নিজে নেই। নিজেকে নিজেই নাম্বার দেই।

রমজান মাসে আমরা যেভাবে আল্লাহকে ভয় করে চলেছি। বাকি ১১ মাসও যেন সেভাবেই আল্লাহকে ভয় করে চলতে পারি। আমি যেন শুধুই এক মাসের মুমিন না হই।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ভদ্রলোকদের এক কথা!

শোয়াইব জিবরান

ভদ্রলোকদের এক কথা!

ঈদে নাড়ি ও নারীর টানে গ্রামমুখী সাধারণ মানুষের ফেরিতে ভিড় করা নিয়া ভদ্রলোকদের সমাজে বেজায় সমালোচনা চলতেছে।

আমিও এক নারীর টানে, শাড়ি কিনতে আজ উত্তরার আড়ংয়ে গেসিলাম। গিয়া দেখি রীতিমত গুলিস্তানের  নিক্সন মার্কেট দশা। পশ্চিম দিকে গেটে বিরাট ক্যাচালও লাগছে। এক শিক্ষিত দম্পতি (!) তাদের কয়েক মাস বয়েসি শিশু কোলো নিয়া কেনাকাটা করতে আসছেন। শিশুটির মুখে মাস্ক নেই। এতো ছোট বাচ্চার মুখে এটা দিয়া রাখাও সহজ নয়। সিকিউরিটি সে বাচ্চাসহ ঢুকতে দেবে না। আর তারা ঢুকবেনই। এ দিকে আমাদের লাইন পড়ে গেছে। শেষে ভদ্রলোক গেটের বাইরে শিশুটিকে কোলে নিয়া এই শর্তে পাহারা দিতে রাজি হইলেন, যদি আর কোনো দম্পতিতে শিশুসহ ঢুকতে দেয়া হয় তবে তিনি দেখে নেবেন। আড়ংয়ের কারও চাকরিই থাকবে না!

ভেতরে ঢুকে চোখ চড়ক গাছ। বেজায় লোক গিজ গিজ করতেছে। ফলত আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সীমিত পরিসরে কাম সেরে পালায়া আসছি।

অখনে যদি আমরার করোনা হয় তাহলেও দেখে নেবো। আড়ংয়ের কারও চাকরি থাকবে না।

ভদ্রলোকদের এক কথা!

শোয়াইব জিবরান কবি, লেখক, শিক্ষক

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

কাজী নজরুল ইসলামের গুলো কি চুরি, নাকি এডাপ্টেশন..

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

কাজী নজরুল ইসলামের গুলো কি  চুরি, নাকি এডাপ্টেশন..
কাজী নজরুল ইসলামের  তুরস্কের 'কাটিবিম' এর সুরে লেখা  "শুকনো পাতার নুপুর পায়ে",  মিশরীয় গানের সুরে 'মোমের পুতুল মোমের দেশের মেয়ে' দক্ষিণ ভারতীয় বন্দিশের সুরে " কাবেরি নদী জলে কে গো',  উত্তর ভারতীয় প্রচলিত কাজরি গানের সুরে 'রুমঝুম রুমঝুম ঝুম'  প্রচলিত ঠুমরি "বাজু বন্দ খুলে খুলে যায়" এর সুরে 'ভাংগা মন জোড়া নাহি যায়'  কিউবান গানের সুরে 'দুর দীপ বাসিনী' ছায়ানট রাগের বন্দিশ ও  রবীন্দ্রনাথের 'অল্প লইয়া থাকি' গান এর সুরে 'শূন্য এ বুকে পাখি মোর'  ওমর খৈয়ামের রুবাই অবলম্বনে "তরুন প্রেমিক প্রনয় বেদন" (লিখে শেষ করা যাবেনা) - এগুলো কি  চুরি, নাকি এডাপ্টেশন, নাকি ইন্সপিরেশন, নাকি ডাইভারসিটি অব কালচারাল ট্যালেন্ট?
 
 
news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর