জুমার খুতবা শোনার গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

জুমার খুতবা শোনার গুরুত্ব ও ফজিলত

খুতবার শাব্দিক অর্থ বক্তৃতা করা বা ভাষণ দেয়া। জুমার নামাজের আগে খুতবা পাঠ নামাজেরই অংশবিশেষ। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় খুতবা বলা হয় এমন বক্তৃতা, যাতে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি দরুদ এবং উপস্থিত সাধারণের প্রতি উপদেশ বিদ্যমান থাকে।

জুমার দিন জুমার নামাজে খতীবের খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের জন্য কথাবার্তা বলা নিষেধ। নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করলে আমরা জুমার খুতবার ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাই-

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করল, এরপর জুমায় গেল, নির্ধারিত সালাত আদায় করল, মন দিয়ে খুতবা শেষ পর্যন্ত শুনলো, এরপর ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করল, তার সেই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (বুখারী, মুসলিম)


আরমানিটোলা অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ গেল আরও একজনের

ভারতে অক্সিজেন সংকট, পাশে দাঁড়াল সৌদি আরব

বিচারক পরিচয়ে প্রেম, অত:পর ধর্ষণ

ফিতরার গুরুত্ব ও ফজিলত


খুতবা জুমার নামাজের শর্ত বা ফরজ। খুতবা ব্যতীত জুমার নামাজ হয় না। উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে নিরর্থক কাজে মশগুল থাকা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন খুতবা প্রদানের সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো, ‘চুপ করো’ তখন তুমি অনর্থক কথাই বললে। (বোখারী)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঋণ পরিশোধে বিশ্বনবীর মুজিজা

অনলাইন ডেস্ক

ঋণ পরিশোধে বিশ্বনবীর মুজিজা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ব মানবতার জন্য রহমতস্বরুপ। উম্মতের ব্যথায় তিনি ব্যথিত হতেন। তাদের সমস্যার সমাধানে থাকতেন সক্রিয়। উম্মতের সমস্যা সমাধানে রয়েছে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য মুজিজা। এমনই একটি মুজিজায় ঋণ থেকে মুক্তি পেল এক সাহাবি। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন এবং অনেক ঋণ রেখে যান। এ ঋণ পরিশোধের মতো কোনো সামর্থ আমার ছিল না। আমার কাছে পিতার রেখে যাওয়া সামান্য খেজুর ছিল।

ঋণ পরিশোধের সময় হলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরি। তিনি আমাকে বললেন, খেজুরগুলো পৃথক পৃথক স্থানে স্তুপ করে রাখ।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে বড় খেজুরের স্তুপের চারদিকে ৩ বার প্রদক্ষিণ করলেন অতঃপর এক স্থানে বসে গেলেন। তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, পাওনাদারদের ডাক।

এরপর পাওনাদাররা একের পর এক তাদের ঋণের পরিমাণ হিসাব করে বড় স্তুপ থেকে খেজুর নিয়ে গেল। আমি খুবই আনন্দিত ও সন্তুষ্ট হতে থাকলাম এই ভেবে যে, (আমার পিতার) সব ঋণ পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

গোল করে মেসির রেকর্ড, তবুও জয়ের মুখ দেখলো না আর্জেন্টিনা (ভিডিও)

ওরা যখন পরীমনিকে গালাগাল করছিল তখন আমার হাত কাঁপছিল : জিমি

১৫ সেকেন্ডের ভিডিও শুনলে সহ্য করতে পারবেন না : পরীমণি


আল্লাহ তাআলার অসীম কৃপায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্তুপের কাছে বসে ছিলেন; সে স্তুপের একটি খেজুরও হ্রাস পায়নি। (বুখারি)

এ ছিল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ, দোয়া ও পবিত্র হাতের বরকত। এটি ছিল বিশ্বনবীর একটি অন্যতম মুজিজাও।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবীর আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের তাওফিক দান করুন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রহমত ও বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ১০-১২, কাফিরদের শাস্তি

পবিত্র কুরআনের মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা সূরা ইয়াসিন। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার প্রথমে বর্ণিত দুই মুকাত্তায়াত হরফের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরায় রয়েছে ৮৩টি আয়াত। সূরা ইয়াসিনে বিশ্বাসগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আজ এই সূরার ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ১০ ও ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (10) إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ (11)  

১০. “আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুটিই সমান; তারা ঈমান আনবে না।”
১১. “আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ (অর্থাৎ কুরআন) অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে গোপনে ভয় করে। অতএব আপনি তাকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।”

আগের আয়াতগুলোতে কিয়ামতের দিন কাফির ও মুশরিকদের ভয়াবহ শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে, কাফিররা আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ ও গোঁয়ার্তুমির কারণে সত্য গ্রহণ করতে পারেনি। তারা হয় আল্লাহর রাসূলের যুক্তপূর্ণ কথা শুনতেই অস্বীকার করেছে অথবা যদিও বা শুনেছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। ভাবখানা এমন যেন কিছুই শুনতে পায়নি। কাজেই এ ধরনের লোকদের সতর্ক করা বা না করা দু’টিই সমান। কারণ, তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ঈমান আনবে না। তাদের অন্তর হচ্ছে সেই শক্ত মাটির মতো যার মধ্যে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে না। এ ধরনের মাটি স্বাভাবিকভাবে সতেজ হয় না এবং তাতে কোনো উদ্ভিদও গজায় না।

পরের আয়াতে বলা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করলে কাজ হয় যে উপদেশ গ্রহণ কোরে তা মেনে চলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। গোটা পবিত্র কুরআনই হচ্ছে উপদেশবাণী এবং এই মহাগ্রন্থের বহু আয়াতে বিশ্বনবী (সা.)কে মুযাক্কির বা উপদেশ প্রদানকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে চেনা ও সত্য গ্রহণের ক্ষমতা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিতে দিয়ে দেয়া হয়েছে। নানা কারণে মানুষ নিজের ভেতরে থাকা সেই উপলব্ধি ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে। সেই সহজাত প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসূল ও আসমানি কিতাব পাঠিয়েছেন। যার অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত সে অবশ্যই রাসূল ও কুরআনে কারিম থেকে উপকৃত হয়। এ ধরনের মানুষ প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর কথা স্মরণে রাখে এবং গোনাহর কাজ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করে। এধরনের মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালা দয়ালু আচরণ করবেন। তাদের গোনাহগুলোকে ঢেকে রাখবেন এবং নেক কাজের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. প্রতিটি মানুষকেই পরকালের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।  এই সতর্কবাণী শুধুমাত্র উপদেশ গ্রহণে প্রস্তুত ব্যক্তিকেই সঠিক পথের দিশা দিতে পারে অন্য কাউকে নয়।
২. প্রকৃত ঈমান হচ্ছে গোপনে ও অন্তরে আল্লাহকে ভয় করা; শুধুমাত্র বাহ্যিক আচরণ ও পোশাক-আশাকে ঈমানদারি যথেষ্ট নয়।
৩. যারা আল্লাহর রাসূলের সতর্কবাণী গ্রহণ করে তারাই আল্লাহর রহমত লাভ করবে এবং তাদেরকেই জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

সূরা ইয়াসিনের ১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآَثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ (12)

১২. “নিঃসন্দেহে আমি মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তারা যা আগে পাঠিয়েছে ও যেসব কাজ করেছে তা লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।”

নবী-রাসূলরা মানুষের প্রতি যেসব সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কিয়ামত দিবসের হিসাব-নিকাশ। মৃত্যুর পর মানুষ কিয়ামতের দিন আবার জীবিত হবে এবং তাদেরকে পার্থিব জীবনের কৃতকর্মের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই সেদিনের বিচারের জন্য দুনিয়ার কৃতকর্মগুলো লিখে রাখা বা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পৃথিবীর আদালতে শুধুমাত্র মানুষের খারাপ কাজের বিচার করা হয়। এ ধরনের আদালতে শুধুমাত্র ওই খারাপ কাজের বাহ্যিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু কিয়ামতের বিচার দিবসে খারাপ কাজের জন্য যেমন মানুষকে শাস্তি পেতে হবে তেমনি ভালো কাজের জন্য তাদেরকে দেয়া হবে মহা পুরস্কার। সেই আদালতে মানুষের কৃতকর্মের বাহ্যিক ফলাফলকে যেমন বিবেচনা করা হবে তেমনি তার যেসব কাজের প্রভাব তার মৃত্যুর শত শত বছর পরও পৃথিবীতে পড়েছে সেটিও বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন


গোল করে মেসির রেকর্ড, তবুও জয়ের মুখ দেখলো না আর্জেন্টিনা (ভিডিও)

ওরা যখন পরীমনিকে গালাগাল করছিল তখন আমার হাত কাঁপছিল : জিমি

১৫ সেকেন্ডের ভিডিও শুনলে সহ্য করতে পারবেন না : পরীমণি

পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


উদাহরণস্বরূপ, দুনিয়ার আদালতে একজন খুনিকে মানুষ হত্যা করার অপরাধে শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু যাকে খুন করা হয়েছে দেখা যাবে তার স্ত্রী ও পরিবার তাদের অভিভাবক হারানোর কারণে বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হয়। পৃথিবীতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিবারটির জন্য নেমে আসা সমূহ বিপদকে বিবেচনায় নেয়া হয় না। খুনি ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় যাতে নিহত ব্যক্তির পরিবার মানসিক তৃপ্তি ছাড়া বাহ্যিকভাবে লাভবান হয় না। কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে ব্যক্তির কৃতকর্ম সেটা ভালো হোক কিংবা খারাপ, তার দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারি প্রভাবকে বিবেচনা করা হবে।

আয়াতের পরবর্তী অংশে মানুষের কৃতকর্ম লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে বলা হচ্ছে: লৌহে মাহফুজে সব কিছু হিসাব করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো কিছুই বাদ পড়ছে না। কিয়ামতের দিন যেহেতু এই লৌহে মাহফুজকে মানুষের ভালো ও মন্দ কাজের হিসাব নেয়ার জন্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে তাই এই আয়াতে একে ‘ইমাম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. মানুষের কৃতকর্মের হিসাবের খাতা তার মৃত্যুর পর কিয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকে। তার কৃতকর্মের যেসব প্রভাব মৃত্যুর পরেও মানবজাতির উপর পড়তে থাকে সেসব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
২. ইসলামে মানুষকে শুধুমাত্র তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহী করতে হয় না সেইসঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ওপর তার কৃতকর্মের প্রভাবের জন্যও কৈফিয়ত দিতে হয়।
৩. কিয়ামত দিবসের কোনো বিচার অনুমান নির্ভর হবে না বা সেখানে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ভুল বিচারেরও কোনো আশঙ্কা নেই। বরং সেদিনের বিচার হবে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আমলনামার ভিত্তিতে যাতে কোনো ধরনের কমবেশি করা হবে না।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে পাঁচটি রাতের ইবাদতে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক

যে পাঁচটি রাতের ইবাদতে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়

মহান আল্লাহ আমাদেরকে শুধুমাত্র তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আর তাই আমরা তার করুনা, অনুগ্রহ ও ক্ষমা পাবার আশায় সর্বদা ইবাদতে মগ্ন থাকার চেষ্টা করবো। আজ আমরা আলোচনা করবো এমন পাঁচটি রাত নিয়ে যে রাতে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। 

হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল [রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে ইবাদত করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। পাঁচটি রাত হলো—

১. জিলহ্বজ মাসের আট তারিখের রাত।
২. জিলহ্বজের ৯ তারিখের রাত।
৩. ঈদুল আযহার রাত।
৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. ১৫ই শাবানের রাত।

আরও পড়ুন:


করোনা: দেশে একদিনে মৃত্যু ছাড়াল অর্ধশতক, বেড়েছে শনাক্তও

পুলিশ বাহিনী আজ জনগণের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে: আইজিপি

পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার


 

শায়খুল হাদিস জাকারিয়া (রা.) বলেন, অন্তর সজীব থাকার অর্থ হলো, তাদের হৃদয় পাপে আচ্ছাদিত হবে না। এমনকি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তেও সিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দিন তারা সজ্ঞান থাকবে (ফাযায়েলে রমজান)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ভোরে উঠে যে দোয়া পড়লে সারা দিন ভালো যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোরে উঠে যে দোয়া পড়লে সারা দিন ভালো যায়

ভোরে ঘুম থেকে ওঠা : ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ, যা রাতের শেষাংশে আদায় করতে হয়। রাসুল (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে উদ্বুদ্ধ করতেন। ভোরে উঠে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করতে পারলে প্রফুল্লচিত্তে এবং পবিত্র মনে সকাল শুরু হয়। 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথার শেষভাগে তিনটি গিরা দেয়। প্রতিটি গিরার সময় সে এ কথা বলে কুমন্ত্রণা দেয় যে এখনো রাত অনেক রয়ে গেছে, শুয়ে থাকো। অতঃপর সে ব্যক্তি যদি জেগে ওঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর যদি সে অজু করে, তবে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। আর যদি সে নামাজ আদায় করে, তাহলে সব গিরাই খুলে যায়। ফলে প্রফুল্লতার সঙ্গে পবিত্র মনে তার সকাল হয়, অন্যথায় আলস্যের সঙ্গে অপবিত্র মনে তার সকাল হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩০৯৬)

সকালের ঘুম বরকত নষ্ট করে : ফজরের নামাজের পর সকালের ঘুম জীবন-জীবিকার বরকত নষ্ট করে দেয়। দিনের শুরুটা ঘুমে কেটে যাওয়ার ফলে দিন সংকীর্ণ হয়ে যায়। কাজের সময় ও পরিধি কমে যায়। পক্ষান্তরে ফজরের নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত এবং ইশরাক নামাজ আদায়ের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করতে মহান আল্লাহ সারা দিনের জন্য বান্দার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে দিনটি হয়ে ওঠে বরকতময়। হাদিসে সকালের ঘুম বর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। সাখর আল-গামিদী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে ভোরের বরকত দান করুন।’

তিনি কোনো ক্ষুদ্র বা বিশাল বাহিনীকে কোথাও প্রেরণ করলে দিনের প্রথমভাগেই প্রেরণ করতেন। বর্ণনাকারী সাখর (রা.) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর পণ্যদ্রব্য দিনের প্রথমভাগে পাঠানোর ফলে অনেক সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৮)

দিনে হালকা বিশ্রাম নেওয়া : মহান আল্লাহ দিনকে বানিয়েছেন মানুষের জীবন-জীবিকা ও সার্বিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘এবং করেছি দিনকে জীবিকা আহরণের সময়।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ১১)

তবে দিনের বেলায় দুপুরে হালকা বিশ্রাম নিলে রাতে ইবাদতের শক্তি অর্জন হয়। তাউস (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দিনে বিশ্রাম নিয়ে রাতের ইবাদতের শক্তি অর্জন করো আর সাহরি খেয়ে দিনের রোজার শক্তি অর্জন করো।’ (বায়হাকি, হাদিস : ৪৭৪১; মুসান্নাফে আবদির রাজজাক, হাদিস : ৭৬০৩)

ঘুমানোর কয়েকটি সুন্নত ও আদব :

১.   আল্লাহর নাম স্মরণ করে খাবারের বাসনপত্র ঢেকে রাখা, ঘরের দরজা বন্ধ করা এবং বাতি নিভিয়ে ঘুমের অনূকুল পরিবেশ তৈরি করে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৩১০৬)

২.   হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমানো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৫৪)। অজু করে নেওয়া আরো উত্তম।

৩.   বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৬১)

৪.   ডান কাত হয়ে শোয়া। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৬)

৫.   ঘুমানোর দোয়া ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া’ পড়ে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৬৫)।

৬.   ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস : ৩১০)

৭.   সুরক্ষার জন্য সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে মাথা থেকে দেহ পর্যন্ত যত দূর হাত যায় বুলিয়ে ঘুমানো। (বুখারি, হাদিস :  ৪৭২৯)

৮.   ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ‘আলহামদু লিল্লাহি-ল্লাজি আহয়্যানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর’ পাঠ করা। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৬৫)

পরিশেষে বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাবারের মতো ঘুম একান্ত প্রয়োজন। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং মনের প্রশান্তি বৃদ্ধি করতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঘুমের জন্য রাত আর কাজের জন্য দিন অতি সমীচীন সময়। ইশার নামাজের পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়ে ভোরে উঠে যেতে হবে।

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

সাহু সিজদা কী?

অনলাইন ডেস্ক

সাহু সিজদা কী?

ঈমানের পর নামাজ হচ্ছে মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজে মানুষের ভুল হয়ে গেলে সাহু সিজদা দেয়া ওয়াজিব। আমাদের অনেকেরই জানা নেই সাহু সিজদা কী।

নামাজে কিছু বিষয় আছে, যা ভুলক্রমে হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে নামাজ শেষে দুটি অতিরিক্ত সিজদা আদায় করতে হয়। এই সিজদাকেই সাহু সিজদা বলা হয়। 

শরয়ি দৃষ্টিকোণে এটি ওয়াজিব। যেমন-নামাজের কোনো ফরজ ভুলক্রমে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আদায় করলে, এক ফরজ ডাবল আদায় করলে, নামাজের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা তা আদায়কালে কোনো পরিবর্তন অথবা বিলম্ব করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। এই সিজদা নামাজের শেষে আদায় করতে হয়। অনেকে মনে করেন, নামাজের কিরাতে কোনো ভুল হলেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়, এটি ভুল ধারণা।

এর পদ্ধতি হলো, শেষ রাকাতে তাশাহুদ পড়ে শুধু ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর তাকবির বলে যথারীতি দুটি সিজদা আদায় করবে। এরপর বসে আবার তাশাহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ করে দুই সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবে।

হজরত ইমরান ইবনে হুসনাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিলেন। নামাজে ভুল হয়ে যায়। তারপর দুটি সিজদা করলেন, এরপর তাশাহুদ পড়লেন, তারপর সালাম ফেরালেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৯৫)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর