অ্যাক্সেল আর্ল্যান্ডসন, তার চমকপ্রদ চারুবৃক্ষ

হারুন আল নাসিফ

অ্যাক্সেল আর্ল্যান্ডসন, তার চমকপ্রদ চারুবৃক্ষ

সুইডিশ আমেরিকান অ্যাক্সেল আর্ল্যান্ডসন ছিলেন পেশায় সিমচাষী। গাছের প্রতি ভালোবাসা ও প্রাকৃতিক কলম পর্যবেক্ষণ থেকে নিজের বাড়িতে তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে জোড়া দেওয়ার মাধ্যমে গাছকে শৈল্পিক আকৃতি দেওয়ার এক জৈব-অভিযাত্রার সূচনা করেন। পররর্তীতে তার অনন্য আকৃতি দেওয়া গাছগুলো বিশ্বকে চমকে দেয়। গাছকে বাঁকানো এবং তাদের নানা ছলে অস্বাভাবিক দিকে বাড়তে প্ররোচিত করার ম্যাজিক আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন তিনি। আর এর ফলে তার হাতে-গড়া গাছগুলো রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

অ্যাক্সেল ১৮৮৪ সালে এক সুইডিশ দম্পতির ঘরে জন্ম নেন। তিনি বেড়ে ওঠেন মিনিসোটায়। কিন্তু তার বয়স যখন ১৭ বছর তখন তার পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার টারলকেরর কাছে হিলমার কলোনিতে চলে আসে। প্রথম জীবনে তিনি ভূমি-জরিপ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি গাছের কাণ্ড ও শাখার গ্রাফটিং করার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ১৯২৮ সালে মেয়ে উইলমার জন্মের অল্প ক’দিন আগে হিলমারে তার গ্রাফটিংয়ের মায়াবী জগতে ডুবে যান তিনি। আলেক্স দৈবনির্দেশেই এ কাজে উদ্বুদ্ধ হন বলে দাবি করেন। এরপর জীবনের টানা ৪০টি বছর এই গ্রাফটিংই ছিল তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।

অ্যাক্সেল আর্ল্যান্ডসন ছোট ছোট কচি গাছগুলোকে নিজস্ব পন্থায় দেন অভিনব আকৃতি। তিনি গাছকে ছেঁটে, বাঁকিয়ে, জোড়া দিয়ে আকার-আকৃতি এমন করে ফেলেছিলেন যে, সেগুলো দেখে তাজ্জব বনে যাবে যে কেউ। অ্যাক্সেল ইচ্ছেমতো গাছের বৃদ্ধি মন্থর ও দ্রুত করতে পারতেন। শিশুরা তাকে এ কাজ কীভাবে করেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন, ‘ও, আমি এদের সঙ্গে কথা বলি।’ গাছেরা সত্যি সত্যি তার কথা মতো আকৃতি গ্রহণ করতো। অল্প দিনের মধ্যেই দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ তার অনন্য ‘দারুকলা’র ফসল এসব নান্দনিক চারুতরু বা চারুবৃক্ষ দেখতে ভিড় জমায়।

১৯৪৫ সালে আর্ল্যান্ডসনের স্ত্রী-কন্যা ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে বেড়াতে গিয়ে দেখতে পায় লোকজন মিস্টেরি স্পটে গাঁটের পয়সা খরচ করে সারবেঁধে হেলানো ভবনের মতো অদ্ভুত জিনিস দেখছে। তারা বাড়ি ফিরে এসে অ্যাক্সেলকে পরামর্শ দেন তিনি যদি তার গাছগুলো যথেষ্ট সংখ্যক পর্যটক চলাফেরা করে এমন কোনো রুটে রাখেন, তাহলে সেগুলো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তারা টাকার বিনিময়ে সেগুলো দেখবে।

কথাটি অ্যাক্সেলের মনে ধরে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা ও সাগরের মাঝখানের স্কটস ভ্যালির প্রধান সড়কে একটি ছোট জমি কিনে নেন। গাছগুলো  নিজের খামার থেকে তুলে এনে সেখানে রোপণ করেন। অ্যাক্সেল এখানেই তার সেরা গাছগুলোর কলম প্রক্রিয়া শুরু করেন। মিডিয়া অচিরেই তার এই অভিনব গাছগুলোকে সার্কাস ট্রি নামে ডাকতে শুরু করে।

অ্যাক্সেল ছয়টি সাইকামোর প্রজাতির গাছের চারা এক জায়গায় বৃত্তাকারে একটু দূরে দূরে লাগান। চারাগুলো বাড়তে শুরু করলে তিনি পাশাপাশি দুটি চারাকে টেনে কাছাকাছি নিয়ে এলেন। মাটি থেকে একটু ওপরে গাছের বাকল চেঁছে গাছ দুটি একসঙ্গে বেঁধে রাখলেন। এভাবে ছয়টি গাছ তিনটি জোড়ায় বাঁধলেন। গাছগুলোর মাথা কিন্তু আলাদাই থাকল। এবার প্রতি জোড়া লাগানো গাছ থেকে একটি গাছ টেনে পাশেরটির সঙ্গে আগের মতো একইভাবে বেঁধে দিলেন। এভাবে ধাপে ধাপে বিপরীতক্রমে একই কাজ করে তিনি পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করলেন।

এভাবে বাঁধতে বাঁধতে একসময় দেখলেন সব গাছ মিলে এক অসাধারণ রূপ নিয়েছে। বেঁধে দেয়া অংশটুকু এমনভাবে জোড়া লেগে গেছে যে, ওই অংশটুকু একটি গাছই মনে হচ্ছে। ওভাবেই গাছগুলো বাড়তে থাকল। এর কিছুদিন পর আবার তিনি জোড়া লাগানোর কাজ শুরু করলেন, তবে একটু অন্যভাবে। ছয়টি গাছকেই একটি গাছ মনে হচ্ছে। যতটুকু জোড়া বাঁধা, সে অংশটুকু হীরকাকৃতির খোপবিশিষ্ট একটি ঝুড়ির মতো হয়েছে। তাই তিনি সে গাছগুলোর নাম দিয়ে দিলেন ‘বাস্কেট ট্রি’ বা ঝুড়িগাছ।

এভাবে তিনি দুটি গাছকে জুড়ে করলেন দ্বিপদী গাছ বা ‘টু-লেগড ট্রি’ এবং চারটি গাছকে বেঁধে সৃষ্টি করলেন চতুষ্পদী বৃক্ষ বা ‘ফোর-ফুটেড ট্রি’। পাশাপাশি দুটি গাছ লাগিয়ে একটির সঙ্গে অন্যটির ডাল জোড়া দিয়ে তৈরি করলেন মই বৃক্ষ বা ‘ল্যাডার ট্রি’। এভাবে তিনি আরো অনেক অদ্ভুত ও বিস্ময়-জাগানিয়া গাছের বৃক্ষশিল্প সৃষ্টি করেন। বৃক্ষজগতে এটা প্রাকৃতিকভাবে কিছুতেই সম্ভব নয়। ১৯৪৬ সালের ১ এপ্রিল তার সৃষ্টি সবার দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেন অ্যাক্সেল। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। দলে দলে সবাই গাছের সার্কাস দেখার জন্য ভিড় করতে লাগল।

১৯৫৭ সাল নাগাদ অ্যাক্সেল ৭০টির বেশি অভিনব গাছ সৃষ্টি করেছিলেন। গাছগুলো ব এতটাই নান্দনিক আর আকর্ষণীয় হয়েছিল যে ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে ‘রিপ্লি’স বিলিভ ইট অর নটে’ স্থান করে নিয়েছিল বারো বার। লাইফ ম্যাগাজিনে গাছগুলো নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রতাশিত হলে এগুলোর খ্যাতি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রকাশনায় এই নান্দনিক ও অনন্য বৃক্ষশিল্পের কথা প্রকাশিত হয়, প্রশংসা কুড়ায়। এমনকি ডিজনি গাছগুলো কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলো।

১৯৬৩ সালে অ্যাক্সেল তার সারা জীবনের মেধা-মনন ও পরিশ্রম ও অনন্য দক্ষতার ফসল প্রিয় সার্কাস ট্রিগুলো আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এর পর তার স্বাস্থের অবনতি হতে থাকে। অবশেষে ১৯৬৪ সালে অ্যাক্সেল মারা যান। বন্ধ হয়ে যায় জীবিত গাছের অভিনব শিল্পচর্চা। কেননা এ শিল্পের ফর্মুলা তিনি কাউকে জানাননি। সারা জীবন এ ব্যাপারে তিনি একেবারে কুলুপ এঁটে ছিলেন। এ কাজে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করতেন তিনি। গুপ্তচরদের কাছে কোনো মতে তার কাজের রহস্য ফাঁস না হওয়ার জন্য পর্দার আড়ালেই সম্পন্ন করতেন যাবতীয় কাজ।

অ্যাক্সেলের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকবার গাছগুলোর মালিকানা পরিবর্তন হয়। দুঃখজনকভাবে বিভিন্ন সময় অধিকাংশ গাছ মারা যায়। অবশেষে এক ধনাঢ্য ব্যক্তি মাইকেল বোনফেন্টি চড়া দামে গাছগুলো কিনে নেন। তার সৃজনশীল মেধার কারণে বাকি গাছগুলোর মধ্যে অধিকাংশের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। ১৯৮৫ সালের ১০ নভেম্বর গাছগুলোকে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য গিলরয় গার্ডেন ফ্যামিলি থিম পার্কে নিয়ে আসা হয়। এখন মাত্র ২৫টি গাছ বেঁচে আছে পার্কের প্রধান আকর্ষণ হয়ে। সার্কাস ট্রিগুলো একনজর দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিবছর অনেক পর্যটক ভিড় করেন।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

অনলাইন ডেস্ক

রুপকথার বাস্তব গল্প ধ্বংস করছে ফেসবুকের নকল বিজ্ঞাপন

কেরি সিবার্ট থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। তিনি রবিন উইট নামে এক ভাস্করের কাজের বেশ বড় ভক্ত। ফেসবুকে প্রতিদিনই তার ভাস্কর্যের কিছু বিজ্ঞাপন তার সামনে আসে। ফলে তিনি একরকম নিশ্চিত হয়েই তার বাগানে সাজিয়ে রাখার জন্য অনলাইনে চারটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে এখনো কিছুই পাননি।

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বাস করা ভিকি কানিংহ্যাম। ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে এটি তাকে আরেকটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি একই রকম দেখতে দুইটি ভাস্কর্যের অর্ডার দেন। তবে তিনিও এখনো কিছুই হাতে পাননি। পাবেন কিনা এটি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

আরও একজন ২৮ ইউরো দিয়ে দুটো ভাস্কর্যের অর্ডার দিয়ে পেয়েছেন নিম্নমানের প্লাস্টিকের তৈরি এক ভাস্কর্য, ছবির সাথে যার কোন মিলই নেই।

এক দশক আগে রবিন রাইট ''ফ্যান্টাসিওয়্যার'' নামে শখের বশে একটি প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। যেখানে তিনি স্টিলের তার ব্যবহার করে কিছু ভাস্কর্য তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে তার কিছু ভাস্কর্য বিক্রিও হয়। এরপর একদিন অনলাইনে তার ভাস্কর্যের ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে ফুলে ফেঁপে ওঠে রবিনের ব্যবসা। তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়ে যায়। খুলে ফেলেন নিজস্ব ওয়েবসাইটও। একেকটি ভাস্কর্য তিনি বিক্রি করেন ১৫ হাজার পাউন্ডে।

তবে এখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। তার ভাস্কর্যের ভুয়া বিজ্ঞাপন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রবিনের ওয়েবসাইট থেকে ছবি নিয়ে প্রতারকেরা আরও কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। ফলে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারিত হন অনেকেই। কেউ হয়তো নিম্নমানের প্লাস্টিকের পণ্য হাতে পান। কেউ কিছুই পান না।

তবে ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুকে সঙ্গে কথা বলেছেন রবিন। ফেসবুক তাকে সব বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদা করে রিপোর্ট করতে বলে। কিন্তু এসব বিজ্ঞাপন সংখ্যায় এতো বেশি যার প্রত্যেকটিতে আলাদা করে রিপোর্ট করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেসবুক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ভুয়া বিজ্ঞাপন দিতে নিরুৎসাহিতও করে না।


আরও পড়ুনঃ

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


বিজ্ঞাপনগুলো ভুয়া জানায় পরও ফেসবুক সরিয়ে নেয় নি। এর কারণ হিসেবে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন নিয়ে অতিরিক্ত অর্থের লোভকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, বিজ্ঞাপনের জন্য মোটা অর্থ পায় ফেসবুক।

এই বিজ্ঞাপন কেলেঙ্কারির জন্য শুধু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভোক্তারাই নন, তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

ফ্যান্টাসিওয়্যার: ড্যান্ডেলিয়ন ফুল আর পরীর রাজ্য

মাত্র ১০ বছর আগে শখের বসে রবিন ‘ফ্যান্টাসিওয়্যার’ নামে ছোট্ট একটি পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেন। রবিন উইট একজন ভাস্কর। তিনি স্টেইনলেস স্টিলের তার ব্যবহার করে পরী ও ড্যান্ডেলিয়ন ফুলের ভাস্কর্য তৈরি করে থাকেন। তার স্ত্রী ও তার দুই ছেলে-মেয়ে একাজে সাহায্য করে তাকে।

অনলাইনে তার তৈরি ভাস্কর্য বেশ বিখ্যাত। এগুলো প্রশংসিত হয়েছে লাখো মানুষের কাছে। এমনকি কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই ইন্টারনেটে তার তৈরি ভাস্কর্যের ছবি অহরহ দেখা যায়।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রবিনের তৈরি ভাস্কর্য বাচ্চাদের খেলার মাঠে ব্যবহারের চিন্তা ট্রেন্থাম গার্ডেনসের মার্কেটিং ম্যানেজার অ্যামান্ডা ডসনের মাথায় আসে। তিনি রবিনের কাছ থেকে কয়েকটি ভাস্কর্য কিনে তা বাগানে সাজিয়ে রাখেন।

অ্যামান্ডা জানান, এরপর থেকেই বাগানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এমনকি ৭২৫ একর আয়তনের এই বিশাল বাগানে অবিস্কার করার মতো আরও অনেক কিছু থাকলেও শুধুমাত্র ভাস্কর্য রাখা জায়গাগুলোতেই ভিড় হতে থাকে।

একদিন এক দর্শনার্থী ভাস্কর্যগুলোর কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় রবিনের ভাস্কর্যগুলো। ফেসবুকে তার রয়েছে ৪৪ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার। তার একেকটি ভাস্কর্য বিক্রি হয় ১৫ হাজার ইউরোতে।

বিশ্বজুড়ে তার ভক্তেরা ফেয়ারি ফ্যানস নামে পরিচিত। তার ফেসবুক গ্রুপে প্রতি সপ্তাহে তিনি তার বর্তমান কাজের আপডেট জানান।


আরও পড়ুনঃ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলে নারী এনে জরিমানার মুখে চিলির ফুটবলাররা

বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে নুসরাতের লুকোচুরির ইতি

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন


তবে এসবের সাথে সাথে একটি সমস্যাও দেখা দেয়। নেটদুনিয়ায় তার ভাস্কর্যের ছবি চুরি ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হয়! তার ওয়েবসাইটের ছবিগুলো অপরাধীরা চুরি করে তা বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করে।

এই প্রতারণায় ফেসবুকে তার ছবির ওপর ক্লিক করলে তা অন্য একটি পেইজ বা ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় যেখানে হুবহু তার ছবিগুলো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। পরে তাদেরকে নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দেওয়া হয়, অথবা তারা কিছুই পান না।

এই বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধের জন্য বারবার ফেসবুকের কাছে আবেদন করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি রবিন। মানুষের ভোগান্তি দূর করার চেয়ে বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থই ফেসবুকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ধূমপান ছাড়তে চান?

অনলাইন ডেস্ক

ধূমপান ছাড়তে চান?

ধূমপান ক্ষতিকর সেকথা সবাই জানে। মৃত্যুর কারণও হতে পারে  ধূমপান। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলছে হৃদরোগের জন্য ৫৪ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হলো ধূমপান। গবেষনায় দেখা গেছে, সাধারণের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে ছয় গুণ বেশি।

সুস্থ থাকতে চাইলে ধূমপান বর্জন করা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ধূমপান ছাড়তে চাইলেও পারেন না। আর এটা চাইলেই একদিনে ছাড়া সম্ভব হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ধূমপান ছাড়ার কার্যকরী কিছু উপায়-

#ধূমপান ছাড়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি। আপনি যদি একবার সিদ্ধান্ত নেন যে ধূমপান ছেড়ে দেবেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। 

#নিজের পকেটেই সিগারেট রাখুন। এতে অন্যের কিাছ থেকে চাওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে সিগারেট খাওয়া থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#খেয়াল করুন, কোন সময়টাতে আপনার সিগারেট খেতে বেশি ইচ্ছা করে। হতে পারে তা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে, ফোনে কথা বলার সময়, টিভি দেখার সময়, খাবারের পর কিংবা চায়ের সঙ্গে। যে সময়েই হোক, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। 

#কাজ করতে করতে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস? আজ থেকে বাদ দিন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’

ময়ূর সবাই চিনে, তবে জলময়ূর অনেকের অচেনা। এই পাখি সাধারণত জল ময়ূর, নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি, মেওয়া নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাখি। লম্বালেজী অনিন্দ্য সুন্দর পাখিটি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’। 

প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক-ঢাকনি সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি- হলুদ, পিঠ গাড় বাদামি, বুক-পেট কালচে বাদামি ও লেজ কালচে। এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জলাধারের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। বন বিভাগ জল ময়ূরের জাত রক্ষায় নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি লম্বা লেজী।

বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’। এ পাখির তিন ধরনের প্রজাতি রয়েছে। নেউ, নেউপিপি এবং পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত। প্রজননকালে জল ময়ূর অত্যন্ত সুন্দর হয়ে ওঠে। এ সময় ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা লেজসহ পাখির দেহের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৯ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ১১৩ থেকে ১৩৫ গ্রাম। স্ত্রী প্রজাতির পাখি ২০৫ থেকে ২৬০ গ্রাম হয়। প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি-হলুদ, পিঠ গাঢ় বাদামি, বুক-পেট কালচে-বাদামি ও লেজ কালচে হয়। একটি কালচে-খয়েরি রেখা মাথা ও ঘাড়-গলার সাদা ও সোনালি-হলুদ রংকে পৃথক করেছে। ঠোঁট নীলচে হয়। চোখ বাদামি ও পা নীলাভ-কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

আরও পড়ুন


কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইসরাইলি সেনাদের মনোবল চাঙ্গা হবে না: হামাস

বিবস্ত্র করা ছবি তুলে ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রী, মামলায় আ.লীগ নেতাও আসামি

‘নিখিলকে আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’

বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগ মূহুর্তে যে কারণে বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন সালমান


জল ময়ূর হাওর, বিল, হ্রদ এবং মিঠাপানির জলাভূমিতে বাস করে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই দেখা যায় এ পাখিটি। গ্রীষ্মকালে একাকী বা জোড়ায় ও শীতকালে ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে হেঁটে জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকা-মাকড় ও অমেরুদন্ড প্রাণী খায়। এ ছাড়াও জলজ উদ্ভিদের কচি পাতা, অংকুর ও বীজ খেয়ে থাকে। 

সচরাচর ওড়ার সময় করুণ সুরে নে...উ...ইউ...,  নে...উ...ইউ..., নে...উ...ইউ স্বরে ডাকতে থাকে। প্রজননকালে পুরুষ শাপলা ও পদ্মপাতা বা এ জাতীয় ভাসমান কোনো উদ্ভিদের পাতার ওপর বাসা বানায়। স্ত্রী এতে চারটি জলপাই-বাদামি চকচকে ডিম পেড়ে চলে যায়। পুরুষ একাই ডিমে ২৩ থেকে ২৬ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। ডিম থেকে ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চা হাঁটতে, সাঁতরাতে ও ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানে থাকে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সাইকেল দিয়ে পদ্মা পাড়ি!

অনলাইন ডেস্ক

সাইকেল দিয়ে পদ্মা পাড়ি!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পাইকপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইফুল। একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিরত। পাশাপাশি নেশা হিসেবেই নতুন কিছু আবিষ্কারের কাজে মত্ত থাকেন। আরও অনেক কিছু তৈরির চেষ্টা চলছে তার।

কর্মজীবন শুরু করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৌর শক্তি আলোর একটি উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে। পরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে সিনিয়র মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
সাইফুল ইসলাম জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎচালিত বাস তৈরি করেন। তার তৈরি করা সাইকেলের হ্যান্ডেল ও ক্যারিয়ারে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল রয়েছে। দুই চাকার দুই পাশে রয়েছে চারটি গোলাকার টিউব। এর সাহায্যে সাইকেলটি পানিতে ভেসে থাকতে পারে। সাইকেল চালাতে প্যাডেল ব্যবহার করতে হয় না। কারণ এটি সৌর বিদ্যুতে চলে। সাইকেলটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা আর সময় লেগেছে ছয় মাস।


আরও পড়ুন

আবু ত্ব-হাকে খুঁজে বের করার দাবিতে সমাবেশ

ক্লাবে ঢুকে মদ না পেয়ে তারা ভাংচুর চালায় : ক্লাব কর্তৃপক্ষ (ভিডিও)

টিকা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: চীনের আশ্বাস

জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে পরীমণিকে

এছাড়া সে নিজের বানানো সৌরচালিত সাইকেল চালিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদী পাড়ি দিয়েছেন। 

news24bd.tv/এমিজান্নাত            

পরবর্তী খবর