মানুষকে পাত্তা দিলে জীবনকে গড়া হবে না, মানুষের কথা নিয়েই থাকতে হবে

রউফুল আলম

মানুষকে পাত্তা দিলে জীবনকে গড়া হবে না, মানুষের কথা নিয়েই থাকতে হবে

বর্তমান বিশ্বে, বৈশ্বিক চ‍্যালেঞ্জ নেয়ার মতো তরুণ সমাজ না থাকলে, কোন দেশ দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আর বৈশ্বিক চ‍্যালেঞ্জ নিতে হলে দরকার বিশ্ব মানের তরুণ। আমাদের এজুকেইশন এবং ট্রেনিং কোনটাই এখনো বিশ্বমানের হয়ে উঠে নি। পঞ্চাশ বছরে আমরা সেটা পারি নি। এখন আগামী পঞ্চাশ বছরের লক্ষ‍্য নিয়ে কাজের সূচনা করতে হবে।

চীনের প্রায় ত্রিশ লক্ষ তরুণ গত দশ বছরে আমেরিকায় প্রবেশ করেছে। ভারত থেকে প্রবেশ করেছে প্রায় পনের লক্ষ‍। সেসব দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব‍্যবস্থা বিপুল সংখ‍্যক তরুণ তৈরি করছে, যারা সারা দুনিয়ায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বমানের তরুণ না থাকলে, কোন দেশ ভ‍্যাকসিন তৈরি করতে পারবে না। কোন দেশ ওষুধ আবিষ্কার করতে পারবে না। কোন দেশ মহাকাশ গবেষণা করতে পারবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামী পৃথিবীতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারবে না। উন্নত মানের যানবাহন তৈরি করতে পারবে না। বিশ্ব মানের চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবে না। বিশ্বমানের প্রোগ্রামিং, ডেটা বেইজ, সফটওয়ার, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি বিল্ড করতে পারবে না। 

দেশের এজুকেইশন ও ট্রেনিং বিশ্বমানের হয়ে উঠেনি বলে কিন্তু আমরা চুপ করে বসে থাকলে হচ্ছে না। সুতরাং বিকল্প পথ হলো, তরুণদেরকে নিজ প্রচেষ্টায় বেড়িয়ে পড়া। আমাদেরকে বাহির থেকে শিখতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। একজন মানুষ তার নিজ পরিবারে খাবার পায় না বলে কি অনাহারে থাকে? সে বেড়িয়ে পড়ে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দুই দশকে কয়েক লক্ষ তরুণ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। তারা বিশ্বমানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করবে। সেসব তরুণদের দেশমুখী একটা স্রোত, সমাজে পরিবর্তন আনবেই। দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে একটা বিপ্লব আনবেই। আপাতত এর বিকল্প কিছু আমাদের হাতে নেই।

আরও পড়ুন


সকল তথ্য ফাঁস করে দেব ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে কাদের মির্জা

জুস খাইয়ে ক্ষেতে নিয়ে দুই পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ

মামুনুল ইস্যু: ফেসবুকে উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ায় গ্রেপ্তার ২

পথ হারানো জীবনটা আবার চলুক জীবনের গতিতে


পৃথিবীতে বেড়িয়ে পড়ার জন‍্য দরকার কমিউনিকেশন। সুতরাং ভাষা শেখো। ইংরেজি, চাইনিজ, কোরিয়ান, জার্মান, এরাবিক - যেটাই প্রয়োজন। প্রত‍্যেকটা কাজে একটা স্কিল সেট থাকে। সেটা খুব ভালোভাবে অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সেই স্কিল সেট অর্জন করলে, সেটাকে ধীরে ধীরে কাজের মাধ‍্যমে শাণিত করা যায়। যেমন, একটা ভিডিও এডিটিং করতেও একটা স্কিল সেট লাগে। যে যতো ভালোভাবে স্কিল সেট ডিভেলপ করতে পারে, সে ততো দ্রুত এবং ইন্টারেক্টিভ একটা ভিডিও তৈরি করতে পারবে। যে কোন কাজের স্কিল সেটের উপর নির্ভর করে সেই কাজের প্রোডাক্টিভিটি। দিন শেষে, যে যতো প্রোডাক্টিভ, তার মূল‍্য ততোই বেশি। যে কোন কিছুর প্রধান ড্রাইভিং ফোর্স হলো প্রোডাক্টিভিটি! 

চোখ খোলা রাখো। লুক এরাউন্ড! মানুষ যখন চোখ খোলা রাখে, তার হাতে সুযোগ ধরা দেয় বেশি। চোখ খোলা রাখলে কালের ট্রেন্ড বুঝা যায়। তোমার এক বন্ধু তোমার পাশে থেকেই চলে যাচ্ছে ইউরোপের কোন সেরা স্কুলে। কিংবা কোরিয়ার কোন ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটে। এবং এটা এমনি এমনি হয়নি। সে তার চোখ খোলা রেখেছিলো। ধৈর্য‍ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছে। সময় দিয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা। সারা দুনিয়ায় প্রচুর সুযোগ আছে, সেগুলোকে লুফে নেয়ার মতো চোখ থাকতে হবে। সময় দিতে হবে। মাটির দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখা যায় না। সুতরাং ফোকস খুবই ইম্পরটেন্ট।

মানুষ কি বলে, সেটা উপেক্ষা করা শিখতে হবে। দ্বন্দ্ব নয়, উপেক্ষা! মানুষকে পাত্তা দিলে নিজের জীবনকে গড়তে হবে না। মানুষের কথা নিয়েই থাকতে হবে। মানুষের পথেই হাঁটতে হবে। নিজের পথ আর তৈরি করা হবে না কখনো। কেউ বলবে, হবে না! কেউ বলবে, কি হবে এসব! কেউ বলবে, কি দরকার এতো প‍্যারা! কেউ বলবে, ভালোই আছি বেশ! কেউ বলবে, বাদ দে! এইসব ঝেড়ে হাঁটলেই হবে স্বীয়পথ!

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

লিফি সি ড্রাগন

হারুন আল নাসিফ

লিফি সি ড্রাগন

সাগরে আমাদের পরিচিত মাছ ও প্রাণীগুলো ছাড়াও অসংখ্যা মাছ ও প্রাণী আছে। কোনোটা অপূর্ব সুন্দর, কোনোটা বেশ অদ্ভুত। অনেক সময় তাদের রঙ-রূপ, আকার-আকৃতি আমাদের ধারণা বা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।

ছবির সামুদ্রিক মাছ বা প্রাণীটিও তেমন। দেখলে মনে হয়, সামুদ্রিক কোনো উদ্ভিদ বা আগাছা। এর নাম লিফি সি ড্রাগন। গা-জুড়ে পাতার মতো পাখনা আর অনেকটা ড্রাগনের মতো দেখতে। তাই এই নাম।


আরও পড়ুনঃ


বিক্ষোভে বাড়ল ঈদের ছুটি

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

ভারতে শ্মশান থেকে মৃতদের কাপড় চুরি, আটক ৭

মৃত্যুর আগে বাবাকে ফোনে জানালেন ধর্ষণের কথা!


news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

মহামারীতে আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

শওগাত আলী সাগর

মহামারীতে আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

শওগাত আলী সাগর

ভারতে কোভিডে মানুষ মরছে, নাগরিকদের টিকা দিতে পারছে না সে দেশের সরকার। বাংলাদেশে টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ কবে পাবেন- তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। 

যারা এক ডোজও পান নাই- তারা কবে পাবেন, সেটাও এই  মুহূর্তে  বলা  কঠিন। পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ টিকার জন্য হা পিত্যেশ করছে। অথচ আমেরিকা করোনার টিকার উপর বসে আছে।

জো বাইডেনের পরিকল্পনা ছিলো তাদের নাগরিকদের টিকা দেয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকায় উৎপাদিত কোনো টিকা আমেরিকার সীমান্তের বাইরে যেতে পারবে না। 

আমেরিকার টিকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। এখন আর তার টিকা মজুদ করার দরকার নাই। তবু আমেরিকা শত শত মিলিয়ন ডোজ করোনার টিকা মজুদ করে রেখেছে। টিকার কাঁচামালে উপরও রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সারা পৃথিবী যখন মহামারীতে তখন আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

জানি, বাইডেন প্রেমিক অনেকেই এই কাজের পেছনেও বাইডেনের দেশপ্রেম খুঁজে  পাবেন। তারা হয়তো (আমেরিকানরা না) যুক্তি দেখাবেন- আমেরিকা নিজের প্রয়োজনে টিকা মজুদ করলে দোষের কিছু না। এটা অত্যন্ত ফালতু যুক্তি। 

মুক্তবাজার আর বিশ্বায়নের যুগে এই লাইনে আলোচনা হালে পানি পায় না। কেউ এই লাইনে আলোচনা তুলেও না। তবে আমেরিকার চিকিৎসকরাই বলতে শুরু করেছেন- আমেরিকার এখন আর  টিকা মজুদ করে রাখার দরকার নাই। তা হলে আমেরিকা  কেন টিকা মজুদ করছে?


চীনা উপহারের ৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে বুধবার

৩ হাজার যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছাড়লো ফেরি

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৬ দিন বন্ধ


আমেরিকার টিকা মজুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসাীর সরব হওয়া দরকার। টিকার অভাবে মানুষ মরছে, আর জো-বাইডেন শতাধিক মিলিয়ন ডোজ টিকার উপর বসে আছেন- এমন একটি দৃশ্য ভালো দেখায় না।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি

মুম রাহমান

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি

১.

আম্মার যদি একটা মেন্যু বুক থাকতো তার উপরে কী লেখা থাকতো? বোকার মতো প্রশ্ন হয়ে গেলো? আমার মা’র মেন্যু বুকে কি লেখা থাকবে তা তো আপনার জানার কথা নয়? কিন্তু, সত্যিই কি জানার কথা নয়। জগতের সব মা তো একই। কি বলেন? আচ্ছা আমার মায়ের মেন্যুতে লেখা থাকতো ‘খাইলে খা, না খাইলে যা।’ আমি খেতে বসে সবচেয়ে বেশি শুনেছি এ কথা। 
- আম্মা, আজকেও ডাল, সবজি! আমি খামু না।
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- পুঁইশাক! 
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- এইটা কি! মূলা! আমি খাই না।
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- এইসব। হাবিজাবি আমি খাই না! 
- খাইলে খা, না খাইলে যা।

ছোটবেলায় আমার এক নম্বর শত্রু ছিলো আম্মা। পৃথিবীতে তারচেয়ে নিষ্ঠুর মহিলা আমি দেখি নাই। আমার মতো লক্ষ্মী ছেলেও আমি পৃথিবীতে দেখি নাই। একটুকরা মুরগির মাংস, দুই টুকরা গরুর মাংস কিংবা একটা ডিম ভাজি করে দিলে যেখানে আমি সোনামুখ করে খাই সেখানে আমাকে দেয়া হতো পাট শাক ভাজি, ঢেড়শ দিয়ে চিংড়ি মাছ, করল্লা ভাজি, কাকরোল ভর্তা, পটলের তরকারি, কাচাকলা দিয়ে ইলিশ--এমনি সব ভয়াবহ খাবার! 

ইয়াক থু! কিন্তু থু বলার উপায় নেই। একবার বলছিলাম। আম্মা বললো, তোর খাওয়া লাগবো না, যা। দুইবেলা না খাইলে বুঝবি! বলাবাহুল্য একবেলা না-খেয়েই ‘ইয়াক থু’ বলার অপরাধ বুঝে গেছিলাম। মাবুদ সাক্ষী, আমি আর এই জীবনে খানাখাদ্য দেখে ‘ইয়াক থু’ বলি নাই।  

মানুষের জীবন বৈপরীত্বে ভরপুর। আমি ভাবতাম বড় হয়ে নেই একবার, তারপর আমারে আর পায় কে? নিজে বাজার করবো। মুরগি, গরু, খাসি কিনবো। প্রতিদিন মাংস ভুনা, কষানো খাবো। নিজের বেতনের টাকায় ডেইলি মাংস খাবো। কিসের কি! বড় হয়ে দেখি, আমিও মলা, কাচকি, চাপিলা মাছ কিনে ফেলি। 

বউরে বলি, ইয়ে, তুমি কলার থোড় রাঁধতে পারো? রাধা আমার আগুন চোখে তাকিয়ে বলে, আইনো। আমিও কলার থোড়, কচুর লতি, কচু শাক একদিনে বাসায় কিনে আনি। ঢেড়শ আর কচুরমুখির মতো পিছলা খাবারে আমার কেমনে এতো পিরীতি হইলো আমি তা বুঝতেই পারি না! বড়বেলাটা সত্যিই কনফিউজিং। এখন মনে হয় আম্মার হাতের রান্নাই সেরা। 

ইলিশ মাছের লেজ মাথা সহযোগে মূলা, বেগুন, আলু, পটল, ডেঙ্গা (ডাটা) দিয়ে আম্মা যে ঘাটা রাঁধেন তার তুলনা এই মহাবিশ্বে নাই। বউরে বলি, আম্মা যে ঘাটা রাঁধছে তেমনটা রাঁধতে পারো না! মনে মনে ভাবি, হায়রে আমার জীবন, কই গেল মাংস খাওয়া একরোখা ছোটবেলা। 

আম্মার রান্নাঘরটা একটা সামরিক সংগ্রহশালাও বটে। আম্মা রেগে গেলে তার খন্তা, ডাল ঘুটনি দিয়েই জায়গায় বেজায়গায় মারতেন। রান্নাঘর তার অস্ত্রের কারখানা ছিলো। আর আমি বলতাম, মাছ খায় বিলাইয়ে, মাংস খায় বাঘ, সিংহে, বুঝছো? আম্মা বুঝে না বুঝেই ভাজাকাঠি দিয়ে আমাকে আদর করে দিতেন। সেই আদরের ঠেলায় পাছা ডলতে ডলতে কোন কোণায় গিয়ে মায়ের নিষ্ঠুরতা আর জগতের সবচেয়ে ভালো রান্নার কথা ভাবতাম আর চোখের পানি ফেলতাম লুকিয়ে। পুরুষ মানুষ যে প্রকাশ্যে কাঁদতে পারে না সেই শিক্ষা ততোদিনে অবশ্য পেয়ে গিয়েছিলাম!

বড় হয়ে দেখলাম, আম্মার রান্নাঘরটাই ছিলো বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষাগার। শুধু নীরিক্ষাগার নয়, আম্মার রান্নাঘর ছিলো রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরপুর। সেখানে এক পাতিল পেপের ঝোলে লুকানো থাকতো কয়েক টুকরা শিং মাছ, সেখানে লাউ পাতার অন্তরে মোড়ানো থাকতো নোনা ইলিশ, সেখানে প্রচুর বুটের ডালের তলায় লুকিয়ে থাকতো গরুর মাংসের পিচ্চি পিচ্চি টুকরা। সেই টুকরার দু’চারখান পাতে পেয়ে যাওয়া কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের চেয়ে কম আনন্দের ছিলো না নিশ্চয়ই।  

এখন মনে হয়, পৃথিবীর সেরা রান্নাঘর আমার মায়ের রান্নাঘর আর পৃথিবীর সেরা রাঁধুনি আমার আম্মা। কিন্তু এ কি আমার একার মনে হয়? না, জগতের সকল মানুষই একবাক্যে বলবে, ‘আমার মায়ের হাতের রান্নাই সেরা।’ এমনকি জগত সেরা সেফও বলবে, তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার মায়ের হাতের যে কোন রান্না। ঋত্বিক অভিনীত সেই ‘মাছের ঝোল’ সিনেমাটার কথা খুব মনে পড়ছে। মায়ের প্রিয় মাছের ঝোল রান্না করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এ ছবির নায়ক। 

আমরা কি কখনো চেষ্টা করেছি, মায়ের পছন্দ মতো রাঁধতে? জানি, মায়ের মতো কেউ রাঁধতে পারে না। কিন্তু মাকে নিজের মন মতো রেঁধে খাওয়ানোর ভাগ্য পাওয়াই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া। মায়ের জন্য একটা ডিম ভাজি করতে পারাও বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই সৌভাগ্য যারা পায় তারা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী সন্তান। এই বিবেচনায় আমি একজন ধনী লোক। 

তবে ধনী, গরীব, সুখি, অসুখি সব মানুষই এক বাক্যে স্বীকার করবে, মা হলেন জগতের সবচেয়ে বড় রাঁধুনি। সত্যিই কি জগতের সব মা সেরা রাঁধুনি? কিন্তু কারণটা কি? সব মাই কি রান্নায় জগত সেরা? মনোবিজ্ঞানীরা কিন্তু অন্য কথা বলছে। 

বিজ্ঞানীরা মায়ের রান্নাকে জগত সেরা মনে করার পেছনে মন কিংবা মগজের কারসাজি বলছেন। তাদের মতে মায়ের রান্না সেরা মনে করার কারণ লুকিয়ে আছে মগজের গভীর কোষে, নিউরনে নিউরনে। মনে করে দেখুন এই রুক্ষ্ম, কঠিন পৃথিবীতে জন্মের সময় কতো অসহায় ছিলেন আপনি? সেই অসহায় শিশুটিকে কে খেতে দিয়েছিলো? মা দিয়েছিলো তার বুকের সুধা। 

নিজের শরীরের অংশকে নিজের শরীর, প্রাণ দিয়েই বাঁচিয়েছে মা। প্রথম মুখে ভাত, প্রথম খিচুড়ি, প্রথম স্কুলের টিফিন, বিকালের নাস্তা, সকাল, দুপুর, রাতের খাবার-- সবই মায়ের হাত থেকেই পেয়েছি আমরা। অসুখ হলে মায়ের হাতে স্যুপ, জাও, উৎসবে মায়ের রান্না করা পোলাও কোরমা, নানার মৃত্যু বার্ষিকীতে নানার প্রিয় পাতলা খিচুড়ি, জন্মদিনে চুলায় বানানো কেক-- মোদ্দা কথায় রোগে, শোকে, সুখে আম্মার রান্নাই প্রথম ভরসা। আমাদের সবার স্মৃতি জুড়ে তাই মায়ের রান্নার ঘ্রাণ। মায়ের হাতের রান্না আর মায়ের রান্নাঘরই আমাদের বাঁচিয়েছে। 

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি। তার রান্নার কোন রেসিপি নেই। কোন বই পড়ে, টিভি দেখে, ইউটিউব দেখে মা রান্না শেখেনি। তার কোন মেজারমেন্ট টুল নেই। মা যা রেঁধেছে, রান্নায় যা কিছু উপাদান দিয়েছে সবই পরিমাণ মতো অথবা আন্দাজ মতো। শুধু আন্দাজ মতোই না মায়ের রান্নার আরেকটা কৌশল ছিলো। সেই কৌশলটা অনেকটা যেমন খুশি তেমন সাজোর মতো। 

আমরা যা কিছু রাঁধি একটা তালিকা করি। এটা রাঁধতে ওটা লাগবে, তারপর ছোটো বাজারে। চিনিগুড়া চাল না-হলে খিচুড়ি হবে না, পেঁয়াজ ছাড়া পোলাও হবে না, ঘি ছাড়া সেমাই হবে না-- এইসবের তোয়াক্কা করেনি আম্মা। কি রাঁধতে কি কি লাগবে তার ধার ধারেনি আম্মা। যা আছে তা দিয়েই রাঁধে আম্মারা। 


ঈদের রাতের ফজিলত

মমতার মন্ত্রিসভায় শপথ নেবেন ৪৩ জন, নাম আছে ৬ মুসলিমের

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৬ দিন বন্ধ

জিহাদী বইসহ উল্লাপাড়া জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার


আম্মারা দেখেন, কী কী আছে হাতের কাছে, সে অনুযায়ী মেন্যু সাজায়। রেসিপির গোলামি করে না আমাদের আম্মা, রেসিপি তার গোলাম হয়ে থাকে। তাই আম্মা নিজের আন্দাজে যা রাঁধেন তাই সেরা। তার রান্নার মসলা, উপাদানের পরিমাণ কিংবা আন্দাজ সদাই নির্ভুল। দুজন হোক কিংবা বিশজন মা অব্যর্থভাবেই রেঁধেছে সেরা রান্নাটি। 

প্রশ্নটা হলো, মা নিজে এই অব্যর্থ রান্নাবান্না শিখলেন কই? 
তার মা’র কাছে। 
তার মা তার মার কাছে। 
এইভাবে মা থেকে মা বাঙলার রান্না ঘুরেফিরে আসে প্রতিটি রান্না ঘরে। 
বাঙালির সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হলো মায়ের রান্নাঘর।

২.

আম্মা মানেই ডাইল ঘুটনি, 
পাঙ্খা আর ঝাড়ুর বাড়ি...
: আম্মা আর মাইরো না...
: না মারলে তুই সিধা হবি না...
: উফ্, এ্যাম্মা... মা, মা, মা... 
: থাপ্পড় খাবি, ম্যা ম্যা করিস না, কাজ করতে দে।
(একটু পরে)
: খাইছস? তাড়াতাড়ি খা। নাইলে আরেকটা দিমু। 
জানি, আরেকটা মাংস কিংবা ডিম না, ঝাড়ুর বাগি দিবো। তাই তাড়াতাড়ি পেঁপের ঝোল খায়া উঠি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইউরোপ-আমেরিকা বেশি দূর, নাকি বাড়ির পাশের কবর?

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপ-আমেরিকা বেশি দূর, নাকি বাড়ির পাশের কবর?

আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিক বলেছেন, ইউরোপ-আমেরিকা। সবখান থেকেই এখন নিমেষের মধ্যে অনলাইন-ফোন-স্কাইপেতে যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ ও আপডেট পাঠানো সম্ভব। দেশ কিংবা বিদেশ। মহাদেশ কিংবা মহাকাশ। কাছের কিংবা দূরের। সবারই খোঁজখবর আমরা নিমেষেই জানতে পারছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কি কিছু জানতে পেরেছি? বাড়ির পাশে কবরে শুয়ে থাকা প্রিয়জনের এতটুকু কোনো সংবাদ?

তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন। তার সেই স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘আপনি যদি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অথবা পাশের কোলকাতা বেড়াতে যান। কিংবা দূরের ইউরোপ বা আমেরিকায় বেড়াতে যান। তাহলে যাত্রাপথের দূরত্ব, টিকেটের দাম, ভ্রমণ সময় ও খরচ। কক্সবাজার-কোলকাতার জন্য যা লাগবে। তার চেয়ে বহু গুণ বেশি লাগবে ইউরোপ-আমেরিকার জন্য। অর্থাৎ গন্তব্য যত দূরের। খরচও তত বেশি। লাগেজ-ব্যাগেজের সাইজও তত বড়।’

এবার একটু ভাবুন। কাছের কক্সবাজার-কোলকাতা। কিংবা দূরের ইউরোপ-আমেরিকা। সবখান থেকেই এখন নিমেষের মধ্যে অনলাইন-ফোন-স্কাইপেতে যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ ও আপডেট পাঠানো সম্ভব।

দেশ কিংবা বিদেশ। মহাদেশ কিংবা মহাকাশ। কাছের কিংবা দূরের। সবারই খোঁজখবর আমরা নিমেষেই জানতে পারছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কি কিছু জানতে পেরেছি? বাড়ির পাশে কবরে শুয়ে থাকা প্রিয়জনের এতটুকু কোনো সংবাদ?

তাহলে, ইউরোপ আমেরিকা বেশি দূরে। নাকি বাড়ির পাশের কবর? যার বিন্দুমাত্র কোনো সংবাদ। খোঁজখবর। অনলাইন-ফোন-স্কাইপে যোগাযোগ। কোনো রকমের কোনো আপডেট। কি কারো জানা আছে? তাহলে নিশ্চিতভাবেই, সেই অজানা দেশটা ইউরোপ-আমেরিকা বা মহাকাশের চাইতেও অনেক অনেক বেশি দূরে।

তাই সেই অনন্তযাত্রার। অজানা দূরদেশে যাওয়ার টিকেট মূল্য। সঙ্গে প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা। লাগেজ-ব্যাগেজ-জিনিসপত্র। কল্পনাতীতভাবে অনেক অনেক গুণ বেশি প্রয়োজন হবে। অকল্পনীয় সীমাহীন.....

তাই, আমাদের সীমিত আঁয়ুর এই স্বল্পদিনের হায়াতের জীবনে। শবে ক্বদর আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ এক নেয়ামত। সেরা উপহার। মহা বাম্পার বোনাস। সাথে আল্লাহর দেওয়া ক্ষমার প্রতিশ্রুতিটা হচ্ছে, সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ গিফট। যে যত বেশি পাবে। সে ততই বড় ভাগ্যবান।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের ক্ষেত্রে এইসব কতোটা স্মরণে রাখি!

অনলাইন ডেস্ক

মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের  ক্ষেত্রে এইসব কতোটা স্মরণে রাখি!

বিশ্ব মা দিবস আজ। জন্মদাত্রী মা, যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখা হয় সন্তানের। সেই মায়ের স্মরণে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একজন মা তার সন্তানের সুখের জন্য যে কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করে সে ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

‌‘মা’কে নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। ‘মা দিবসে দিন ভর মাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আর উচ্ছ্বাসের প্লাবন বইছে। কিন্তু এর বাইরেও মা এর আরেকটা মূর্তি আছে, প্রতিচ্ছবি আছে। সেটি হচ্ছে স্ট্রাগলের, লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

সন্তানের সুখের জন্য, সংসারের সুখের জন্য, পরিবারের সুখের জন্য তার স্যাক্রিফাইসের প্রতিচ্ছবি। মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের  ক্ষেত্রে এইসব আমরা  কতোটা স্মরণে রাখি!

কোভিড মহামারীতে দেশে দেশে, ঘরে ঘরে মায়েদের কতোটা বাড়তি চাপ পোহাতে হচ্ছে, তা কি কখনো আমরা ভেবে দেখেছি। হোম ফ্রম ওয়ার্ক, কিংবা ঘরে থাকো’র বাড়তি চাপটা তো মায়েদের উপরই। সে নিজের মা হোক আর সন্তানের মা হোক। সেই চাপ কমানোয় নিজের ভূমিকা স্থির করতে না পারলে মা কে নিয়ে উচ্ছ্বাসে লৌকিকতাই করা হয় কেবল, মাকে, মায়েদের সম্মান জানানো হয় না। (ফেসবুক থেকে)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর