বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে তাকে কে আটকে রাখবে?

শরিফুল হাসান

বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে তাকে কে আটকে রাখবে?

পাকিস্তানি সেনাবা‌হিনীর ব‌ন্দিদশা থেকে পালিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে। অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধ করেছিলেন। দারুণ একজন ক্রিকেটার ছিলেন তি‌নি। ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট। সেনা কর্মকর্তা কিংবা একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সন্তান হয়েও খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। কিন্তু আফসোস মাত্র ২১ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে স্বপরিবারে তাকেও হত্যা করা হয়।

বল‌ছি শেখ জামালের কথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে শেখ জামাল। বড় ছেলে শেখ কামাল সম্পর্কে মোটামুুটি তথ্য পাওয়া গে‌লেও অনলাই‌নে শেখ জামাল সম্পর্কে খুব বে‌শি তথ্য নেই। আচ্ছা আওয়ামী লীগ কী শেখ জামাল সম্পর্কে বিস্তা‌রিত কোন বই প্রকাশ করেছে? জানা নেই। 

বহু খোঁজাখুঁজি বিশেষ করে করে প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম মুসার বই‌ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ারের  শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের দুঃসাহসিক জীবন থেকে যা পেলাম তাই নিয়ে তিন বছর আগে লেখাটা লিখেছিলাম। আসলে শেখ জামাল সম্পর্কে জানলে মুগ্ধ হতে হয়।‌ সে কারণেই আবার শেয়ার করা। 

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহন করেন শেখ জামাল। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ম্যাট্রিক পাস ক‌রে, এরপর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্য‌মিক। বিনয়ী শেখ জামাল সবার খুব প্রিয় ছিলেন। 
১৯৭১ সা‌লে মহান মু‌ক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে গ্রেপ্তার করা হয় শেখ জামালকে। এরপর ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডে পাকিস্তানী বন্দিদশায় ছিলেন। সেখানে সব সময় চিন্তা করতেন কি করে এখান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া যায়। পাকিস্তানি সেনাদের ফাঁকি দিয়ে সত্যি সত্যি একদিন পালিয়ে যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধে। 

 বঙ্গবন্ধুর বড় ‌ছে‌লে শেখ কামাল কামাল ২৫ মার্চের পর যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান। ভারতের বেলুনিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাচের ক্যাডেট হিসেবে পাসিং আউট ক‌রে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্ণেল এম এ জি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন ক‌রেন। আর শেখ জামাল বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সেস (বিএলএফ) সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লং কোর্সের প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার হিসেবে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হন।

তবে শেখ কামাল শুরুতে ভারতে পালাতে পারলেও শেখ জামালের জন্য বিষয়টা ছিল খুবই ক‌ঠিন। কারণ পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে তাকে গ্রেপ্তার করে ধানম‌ন্ডির বাড়িতে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পালাবেন কোথায়? কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে তাকে কে আটকে রাখবে? সুযোগ পেয়ে ১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট ধানমণ্ডির তারকাঁটার বেড়া দেওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে ভারতে যান। 

১৯৭১ সালের আগস্টের একদিন সকালে মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আবিষ্কার করলেন, তার সন্তান জামালকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বামী এবং এক সন্তানকে আদৌ আর কখনো দেখতে পাবেন কিনা জানেন না, এর মধ্যেই শেখ জামালকে খুঁজে না পেয়ে চরম আতংকিত হ‌য়ে উঠ‌লেন। 

উদ্বিগ্ন ফজিলাতুন্নেন্সা মুজিব তার সন্তানকে অপহরণের অভিযোগ তুললেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তার এই অভিযোগ আলোড়ন তুললো সারা বিশ্বে। অনেকগুলো বিদেশী পত্রিকা নিউজ করলো, পাকিস্তানীরা গুম করেছে বন্দী শেখ জামাল‌কে। 

শেখ জামাল তখন কোথায়? বুকের মধ্যে তখন তার মুক্তির গান। ধানমন্ডি থেকে আশুগঞ্জ হয়ে গেলেন আগরতলা গিয়ে যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ট্রেনিং শেষ করবার পর তাকে মুজিব বাহিনীতে নেওয়া হয়। এরপর শুরু ক‌রেন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ। 
শেখ জামালের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার খবরটা নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন রাখে প্রবাসী সরকার। পাশাপাশি পা‌কিস্তা‌নি বা‌হিনী ব‌ন্দি মু‌জিব প‌রিবা‌রের কাউ‌কে হত্যার কথা ভাবতে যেন না পারে সেটাও ভাবনায় ছিল। আর বন্দী অবস্থায় পাক বা‌হিনীর হেফাজত থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছেলের গায়েব হয়ে যাওয়ার খব‌রে প্রচন্ড সমালোচনার মুখে পড়েছিলপা‌কিস্তা‌নিরা। 

তবে ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধের যেসব আলোকচিত্র ছাপা হয়েছিল, তার একটিতে সীমান্তের ১০ মেইল ভেতরে সাবমেশিনগান হাতে শেখ জামালকে যুদ্ধ করতে দেখা যায়। এই ছ‌বিটা প্রকাশ হলে সবাই জানতে পারে শেখ জামাল পালিয়ে যোগ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। আর এই ছবিটা তু‌লে‌ছি‌লেন প্রয়াত খ্যাতিমান সাংবাদিক এবিএম মুসা। 
এবিএম মুসা ভাই তাঁর মুজিব ভাই বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় শেখ জামাল সম্পর্কে লিখেছেন, “জামাল সবসময় চুপচাপ থাকতো। কোনদিন ৩২ নম্বরে গেলে খাবারঘরের পশ্চিমকোনে একটা ছোট্ট কক্ষে তাকে লেখাপড়া করতে দেখতাম। সেই মুখচোরা লাজুক তরুণকে যুদ্ধের ময়দানে পেলাম এক অসমসাহসী জামাল হিসেবে। যুদ্ধ এলাকায় একটা পরিখায় চাইনিজ রাইফেল হাতে জামালকে দেখলাম। সাংবাদিকরা যাকে বলে স্কুপ সেই সুযোগ ছাড়তে আছে। আমার ক্যানন এসএলআরে ছবি তুললাম। পাঠালাল লন্ডনের দা টাইমসে। সেই খবর আর ছবি ছাপা হওয়ায় মুজিবনগর সরকার আমার উপর ক্ষিপ্ত হলো। তাদের রুষ্ট হওয়ার কারণ জামাল নিঁখোজের খবর দিয়ে তারা পাকিস্তান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার ছবির পর সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হলো।”

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু বি‌রোধী অনেকই কথায় কথায় বলে, মু‌ক্তিযুদ্ধের সময় তো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যরা গ্রেপ্তার ছিলেন। কী করেছেন তারা? অথচ বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের জেলে ফাঁ‌সিতে ঝুলিয়ে হত্যার হুম‌কি দেওয়া হচ্ছে। ও‌দিকে তাঁর দুই ছেলেই তখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করছে। পুরো পরিবার বন্দি। কেউ কারও খোঁজ জা‌নেন না। একদম জানেন না আরেকজন বেঁচে আছে কিনা। একটা প‌রিবা‌র দে‌শের জন্য আর ক‌তোটা আত্মত্যাগ কর‌তে পারে! 

যাই হোক দেশ স্বাধীন হল। যুদ্ধের পোশাকেই যুদ্ধের ফ্রন্ট থেকে শেখ জামাল ফিরলেন ঢাকায়। ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর। বড় বোন শেখ হাসিনা, ছোট বোন শেখ রেহানা ও ছোট ভাই শেখ রাসেলের সে কী আনন্দ!ওই দিনই বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীন বাংলায় ঢাকার পল্টনে প্রথম জনসভায় উপস্থিত হন শেখ জামাল।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে শেখ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কমিশন পেয়ে লেফটেন্যান্ট হন। সেনাবাহিনী খুব ভালো লাগতো শেখ জামালের। ২৯ জানুয়ারি ১৯৭৪ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সফরে এসে যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো সেনাবাহিনী সম্পর্কে শেখ জামালের আগ্রহ জানতে পারেন। এরপর মার্শাল টিটো তাঁকে যুুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে মার্শাল টিটোর পরামর্শে শেখ জামাল ছয় মাসের প্রশিক্ষণে যান ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্টে।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সামরিক একাডেমির মধ্যে স্যান্ডহার্স্ট অন্যতম। ১৯৭৪ সালের শরতে স্যান্ডহার্স্টে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে শেখ জামাল লন্ডনে এসে পৌঁছেন। তবে স্যান্ডহার্স্টের পূর্বশর্ত হিসেবে জামালকে (ব্রিটেনের) আর্মি স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজ, বেকনসফিল্ড থেকে প্রয়োজনীয় পূর্ব-প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ারের একটা লেখা থেকে পেয়েছি, প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন পাসিং আউট হয়। সেদিন অতিথি ছিলেন রাজকুমারী এলিস। বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কমিশন লাভ করেন তিনজন গর্বিত তরুণ। তাঁদের দুজন হলেন অফিসার ক্যাডেট আলাউদ্দিন মো. আবদুল ওয়াদুদ ও মাসুদুল হাসান। তৃতীয় তরুণের নাম শেখ জামাল। ব্রিটিশ পত্রপত্রিকায় কমিশনপ্রাপ্ত বাংলাদেশের এই তিনজন তরুণের ছবিটি বিশ্বকে এক প্রতীকী বার্তা দিয়েছিল—লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে চায়। 
স্যান্ডহার্স্ট একাডেমি থেকে ফিরে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের পোস্টিং হলো ঢাকা সেনানিবাসস্থ দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ব্যাটালিয়নের চার্লি কম্পানির কম্পানি কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম ভূঁইঞা, বীরপ্রতীক (পরবর্তীকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল, প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সংসদ সদস্য)। ক্যাপ্টেন নজরুলের অধীনে শেখ জামালের রেজিমেন্টজীবনের হাতেখড়ি হলো ‘কম্পানি অফিসার’ হিসেবে। 
দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলে শেখ জামালের চাকরিকাল ছিল প্রায় দেড় মাস। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে অফিসার ও সৈনিকদের মাঝে তিনি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা ও আন্তরিকতার ছাপ রেখেছিলেন। কয়েক সপ্তাহেই জামাল অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে তাঁদেরই একজন হয়ে যান। 

ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, রণকৌশলের ক্লাসে, অবস্টাকল ক্রসিংয়ে অংশ নিয়ে সৈনিকদের মুগ্ধ করেন। সন্ধ্যায় কখনো কখনো সৈনিক মেসে সৈনিকদের সঙ্গে খাবার খান। নিজের অর্থে কম্পানির সৈনিকদের জন্য উন্নত মানের প্লেটের ব্যবস্থা করেন। ইউনিটের অফিসাররা বিস্মিত হন নবাগত কনিষ্ঠতম অফিসারের সাবলীল রেজিমেন্টাল কর্মকাণ্ডে। মনে হতো সেনাবাহিনীই যেন তাঁর নিয়তি। আফসোস সেই সেনাবাহিনীর কতোগুলো দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ দিতে হয় তাকে। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট যেদিন শহীদ হন, তার আগেরদিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এবিএম মুসা লিখেছেন,“১৪ আগষ্ট রাতেই তার চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু বেগম মুজিব স্নেহভরা মুখে বলেছিলেন আজ রাতটুকু থেকে ভোরে যাস”। কিন্তু তাকে আজীবনের জন্য চলে যেতে হয়। 

ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে শেখ জামালের কক্ষে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে (সাতক্ষীরার) কালীগঞ্জ রণাঙ্গনে তোলা রাইফেল কাঁধে শেখ জামালের মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি ছবি। দেখলেই মনে হবে দেশপ্রেমিক এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। 

আমার মাঝে মধ্যে মনে হয়, শেখ কামাল, শেখ জামাল বেঁচে থাকলে কেমন হতো আজকের বাংলাদেশ? আফসোস এই দু'জনকে তো হত্যা করা হয়েছেই সাথে আট বছরের শিশু  রাসেলকেও হত্যা করা হয়েছে‌। মৃতদের বয়স বাড়ে না। যে বয়সে মারা গেছেন সেই বয়সেই আজীবন স্মরণ করা হয়‌। ২১ বছ‌রের এক তরুণের শেখ জামালের জন্য আজ শু‌ভেচ্ছা। স্যালুট মু‌ক্তি‌যোদ্ধা শেখ জামাল।

শরিফুল হাসান, উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মৃত্যু মনে হয় হাতের তালুতে থাকে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

মৃত্যু মনে হয় হাতের তালুতে থাকে: তসলিমা নাসরিন

মৃত্যুটা মনে হয় হাতের তালুতে থাকে। অসাবধানে হাত কাত হয়ে গেলে মৃত্যুটা উড়ে হৃদপিণ্ডে চলে যায়, ওখানে এমন নৃত্য শুরু হয় তার, যে, হৃদপিণ্ডও সব কাজকম্ম থামিয়ে মৃত্যুর নৃত্য দেখে।

লেখক শীর্ষ বন্দোপাধ্যায়ের হৃদপিণ্ডও তাই করেছে। মাত্র ১১ ঘণ্টা আগে শীর্ষ তাঁর স্মৃতি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে, স্মৃতিতে ছিল আকাশ কালো হয়ে যাওয়া একখানা ছবি, ক্যাপশান দিয়েছিলেন, 'ওরে ঝড় নেমে যায়'। ঝড়ের বদলে মৃত্যু নেমে এলো।

শীর্ষ সবে ৫০। অথচ ৮০ বছর বয়সী অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন। শীর্ষকে যুদ্ধ করতে হয়নি। শীর্ষের হাত শুধু একটুখানি কাত হয়েছিল। ওদিকে জয় গোস্বামী সিসিইউতে। জয়   ৬৬। এমন কোনও বয়স নয়। উনিও সন্ধ্যা রায়ের মতো বেঁচে ফিরুন।


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

রোজিনার কোন দল নেই, বাহিনী নেই; তার পিছনে এত পুলিশ!!

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস


শুভকামনায়, প্রার্থনায় সত্যি কি কিছু হয়? হয় না। মৃত্যু আসলে হাতের তালুতেই থাকে। আমরা যারা হাতের তালুতে মৃত্যুকে নিয়ে খাচ্ছি দাচ্ছি গল্প করছি ঘুরে বেড়াচ্ছি ঘুমোচ্ছি জাগছি, তারা ভুলেই যাই যে মৃত্যু আমাদের হাতের তালুতে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

রোজিনার কোন দল নেই, বাহিনী নেই; তার পিছনে এত পুলিশ!!

পীর হাবিবুর রহমান

রোজিনার কোন দল নেই, বাহিনী নেই; তার পিছনে এত পুলিশ!!

স্বাস্থ্যখাতে ভয়াবহ দূর্নীতি সরকারের ইমেজে বহু আগেই আঁচড় বসিয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারীর কিছু হয়নি। পালাবদলে তারা আরও বেপরোয়া হয়েছেন। এতে লাভ কার ক্ষতি কার?

সোমবার সাহসী পেশাদার রিপোর্টার রোজিনাকে স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে আটকে ৬ ঘন্টা মানসিক শারীরিক নিপীড়ন অপমান করা হয়েছে। এতে সরকারের লাভ কতখানি?

আমলা ও কর্মচারীদের মালিকের প্রতি সীমাহীন ঔদ্ধত্য সমাজে অসন্তোষ তৈরি করেছে। লাভ হলো না ক্ষতি হলো সরকারের?

রাতে নথি চুরির মামলায় থানায় নিয়ে আটক, দিনে কারাগারে। তাকে জেলের ভাত খাইয়ে সরকার লাভবান নাকি আমলা কর্মচারীদের ক্ষমতার দম্ভের তৃপ্তির ঢেকুর?


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ


সচিবালয় বিটের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন বয়কট করে পাল্টা অপমান করেছে। নির্লজ্জদের কিছু এসে যায়না। রোজিনার কষ্ট হলেও সে এখন দেশ ছেড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খবর হবে। এতে সরকারের লাভ না লোকসান? রোজিনার কোন দল নেই, বাহিনী নেই। তার পিছনে এত পুলিশ!!!!! আমি রোজিনার মুক্তি চাই।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

প্রতিকার অন্যভাবে করলে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতো

আশরাফুল আলম খোকন

প্রতিকার অন্যভাবে করলে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতো

এই ঘটনা সারা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজ ক্লাসে আমার কোর্স টিচারও এই ঘটনা আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন। ক্লাসের সবাই যেহেতু বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত তাদেরকেও আমার অনেকভাবে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। ব্যাখ্যা যাই দেই না কেন, লজ্জিত হয়েছি।

বিশ্বের সব দেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাই অনেকভাবেই তথ্য সংগ্রহ করেন। মানলাম রোজিনা ইসলাম চুরি করে মোবাইল দিয়ে ফাইল থেকে ছবি নিয়েছেন কিংবা কাগজ নিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি চুরি করে রুমে প্রবেশ করেননি। অনুমতি নিয়েই প্রবেশ করেছেন। যিনি প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন তিনিতো জানতেনই রোজিনা ইসলাম একজন ঝানু সাংবাদিক। তারও সতর্ক থাকা দরকার ছিল।

পুরো ঘটনাচক্র দেখে মনে হয়েছে বিষয়টির প্রতিকার অন্যভাবেও করা যেত। এতে সরকার লজ্জিত না হয়ে সাংবাদিকরা লজ্জিত হতেন। রোজিনা ইসলাম হিরো না হয়ে জিরো হয়ে যেত। যখন রোজিনা ইসলামকে ধরেই ফেললেন তখন সুশিক্ষিত একটি পেশার লোকজনের এরকম উদ্ভট আচরণ করা ঠিক হয়নি। ভিডিও দেখে তাই মনে হয়েছে।


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ


তাদের উচিত ছিল রোজিনা ইসলামকে বসিয়ে রেখে তার অফিস, এবং সাংবাদিক নেতাদের খবর দেয়া। রোজিনা ইসলামের অন্যায়(!) তাদেরকে বিস্তারিত জানানো। বিচারের দায়িত্ব তাদেরকে দিয়ে রোজিনা’র অফিসের জিম্মায় লিখিত নিয়ে তাকে দিয়ে দেয়া। এরপর অফিস ওনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেয় সেটার জন্য অপেক্ষা করা। যদি রোজিনার প্রতি ব্যাক্তিগত আক্রোশও থাকে তাহলে প্রেস রিলিজ দিয়ে পুরো বিষয়টি মিডিয়াকেও জানিয়ে দেয়া যেতো। এককাজে অনেক কাজ হয়ে যেতো। সাংবাদিক বান্ধব একটি সরকারকে বিব্রত হতে হতো না, উল্টো সাংবাদিকরা বিব্রত থাকতেন। আজকে যেসব সাংবাদিকরা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, তাঁরাই রোজিনা’কে ছি ছি করতেন।

আইনগত বিষয়ে যাওয়ার বিষয়ে এরপরও সিদ্ধান্ত নেয়া যেত।

(এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

একরামুল হক

স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

আপনারা কি জানেন, এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকার নামিদামি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১৪/১৫ নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে?

কারা কমিয়েছে, জানেন? স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যারা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক। কেন কমিয়েছে, জানেন? ঢাকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে লাভজনক করে দিতে।

মানে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবে চান্স না পাওয়া নামিদামি কলেজের শিক্ষার্থীরা। যদিও ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে গিয়েছেন।


আরও পড়ুনঃ


ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ


দেশের সবচেয়ে করাপ্ট জায়গা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানকার পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক। এরা দানব। দানবের দমন কি এত সহজে হবে?

একরামুল হক, সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

(এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে

পীর হাবিবুর রহমান

আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়

রোজিনা ইসলাম একজন জাত রিপোর্টার। তার মতোন রিপোর্টার একালে মিলেনা। তার একেকটি তরতাজা রিপোর্টের পেছনে মেধা ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকে।

চমকে দেয়া সব খবর আনতেন বের করে। আমার অনুজ ছোটবোন রোজিনাকে নিয়ে গর্ব করতেই পারি। কিন্তু সোমবার স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে গেলে পিএসের রুমে তাকে আটকে রেখে যেভাবে নাজেহাল করে রাতে তথ্য চুরির দায়ে থানায় নিয়ে মামলা করা হয়েছে তা নজিরবিহীন।

একজন কর্মকর্তা তার গলা চেপে ধরেছেন। সে অসুস্থ হলেও হাসপাতালে নেয়া হয়নি।গলাটি রোজিনার নয়, আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে।

পেশাদারিত্বের কন্ঠ চেপেছে ঔদ্ধত্য নিয়ে। দেশের স্বাস্হ্যখাতের ভয়াবহ দুর্নীতির কথা দেশ জানে। জানেনা কেবল স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে কি ছিলো যা রোজিনা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন? 


যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


দলকানা সুবিধাভোগী চেনা সাংবাদিকরাই পেশাদারদের পথ শ্বাপদশংকুল করেছেন।আমলারা বাজাচ্ছেন সরকারের বারোটা। এ ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কেবল বলছি রোজিনার মুক্তি চাই। যারা তাকে আটকে হেনস্তা করেছে তাদের বিচার চাই।

পীর হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক  (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর