বিশ্বনবী ছাড়া যে বিশেষ মর্যাদা অন্য কোনো নবীদের দেয়া হয়নি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বনবী ছাড়া যে বিশেষ মর্যাদা অন্য কোনো নবীদের দেয়া হয়নি

আখেরে জামানার সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি সকল নবীদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ নবী। প্রিয় নবী এমন বিশেষ ৫টি বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, যা আগের কোনো নবী-রাসুলদের দেয়া হয়নি। এ বৈশিষ্ট্য ও গুণগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে শুধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য বিশেষ তোহফা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বর্ণনা করেছেন-

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগে অন্য কোনো নবীদের দেয়া হয়নি। তাহলো-

- আমাকে এমন প্রভাব (প্রখর ব্যক্তিত্ব) দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, এক মাস দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়।
- পুরো জমিনকে আমার জন্য নামাজ আদায়ের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে ইচ্ছা নামাজের সময় হলে, যেন (সেখানেই) নামাজ পড়ে নেয়।
- আমার জন্য (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) গনিমত বৈধ করা হয়েছে; যা এর আগে কারো জন্য হালাল ছিল না।
- আমাকে (ব্যাপক) সুপারিশের অধিকার দেয়া হয়েছে।
- আমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য (রহমতস্বরূপ) পাঠানো হয়েছে; যেখানে আগের সব নবীকে তাঁদের স্বজাতি ও গোত্রের জন্য পাঠানো হয়েছিলে।’ (বুখারি)

তবে আগের সব নবী-রাসুলগণই ছিলেন নিজ নিজ গোত্র ও জাতির মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাদের আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণকারীরাও মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের পথের অনুসরণ ও অনুকরণের উপদেশ দিয়েছেন-
‘তাদেরকেই আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেছেন। ফলে আপনি তাদের পথের অনুসরণ করুন।’ (সূরা আনআম: আয়াত ৯০)

এ আয়াতের আলোকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, আগের সব নবী-রাসুলদের সব কল্যাণ ও পূর্ণতার ধারক হলেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশেষ ৫ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো-

বিশেষ ক্ষমতা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা এম শক্তি দান করেছেন যে, মুমিনরা তার সান্নিধ্যে আসলে প্রশান্তি লাভ করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করল। তাদের অন্তরে যা ছিল তিনি তা অবগত ছিলেন। তাদের তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদের পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়।’ (সূরা ফাতাহ: আয়াত ১৮)

বিপরীতে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি বিশেষ সাহায্য লাভ করেছিলেন, যার ফলে ইসলামের শত্রুরা তাঁর মুখোমুখি হওয়াকে চরম ভয় করতো। আল্লাহ তাআলা বিষয়টি এভাবে কুরআনুল কারিমে তুলে ধরেছেন-
‘আমি অবিশ্বাসীদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব, যেহেতু তারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করেছে, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো সনদ পাঠাননি।’ (সূরা আল-ইমরান: আয়াত ১৫১)

ইবাদতের বিশেষ সুযোগ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মানে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য আল্লাহ তাআলা পুরো পৃথিবীকে ইবাদতের জন্য কবুল করে নিয়েছন। আবার এ জমিনের মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করেছেন।
মুমিন মুসলমান চাইলে, যে কোনো স্থানেই নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি কোথাও পানি পাওয়া না যায় তবে চাইলে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করেও নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবে মুমিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কোরো; তা দিয়ে তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসাহ করো।’ (সূরা মায়েদা: আয়াত ৬)

গণিমতের সম্পদ গ্রহণের বৈধতা

আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদিকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভোগ করার অধিকার দিয়েছেন। যাতে রয়েছে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশান্তি। এগুলো আগের কোনো নবী-রাসুলদের উম্মতের জন্য বৈধ ছিল না। তবে এ সব সম্পদ গ্রহণের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণের সওয়াব বা প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে না মুমিন।

আরও পড়ুন


এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় তিন বাংলাদেশি

না ফেরার দেশে চন্দ্রজয়ী মাইকেল কলিন্স

নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া : চিকিৎসক

ঢাকায় ৬০ কি.মি গতিতে ঝড়


শাফায়াতের অধিকার

যখন কোনো নবী-রাসুল কারও ব্যাপারে সুপারিশ করতে ব্যর্থ হবে, তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য সুপারিশ লাভের অধিকার পাবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেয়ামতের দিন সব সৃষ্টির জন্য সুপারিশ করবেন এবং এ কাজের মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুত ‘মাকামে মাহমুদ’ (সম্মানিত স্থান) অর্জন করবেন। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য বিশেষ একটি দোয়ার অধিকার আছে, যা কবুল করা হবে। প্রত্যেক নবীই তাঁর দোয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করেছেন (দুনিয়াতেই তা চেয়েছেন)। আর আমি আমার সে দোয়া কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের জন্য মুলতবি রেখেছি। আমার উম্মতের যে ব্যক্তি শিরক না করে মারা যাবে, ইনশাআল্লাহ! সে তা লাভ করবে।’ (বুখারি)

বিশ্ববাসীর জন্য রহমত

আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)
তিনি শুধু রহমত স্বরূপই নয়, বরং তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা জানে না।’ (সূরা সাবা: আয়াত ২৮)

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য হোক উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা। দুনিয়ার সফলতা ও পরকালের নাজাতের একমাত্র উপায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরূদ ও সালাম পাঠানোর তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের মুক্তিতে তাঁরই আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ঈদের জামাত কোথায় কখন

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় ঈদের জামাত কোথায় কখন

করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের নামাজও ঈদগাহে না পড়ে মসজিদে পড়তে হবে।মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, করা যাবে না কোলাকুলি। সবাইকে বাসা থেকে ওয়ু করে যেতে হবে। আর অবশ্যই নামাজ পড়ার সময় মাস্ক পরতে হবে। কাতারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

করোনার কারণে এবারও হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শুক্রবার (১৪ মে) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া করোনার কারণে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদগুলোতে এক বা একাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা থাকছে সেগুলো হলো- 

পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হবে। বড় কাটরা মাদ্রাসা মসজিদে একটি ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত হবে।

নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে ঈদের জামাত হবে তিনটি- সকাল ৭ টায় , ৮ টায় ও ৯ টায়। আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় চারটি জামাত হবে। আর ছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায়।

মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠি বড় মসজিদে সকাল ৭টায় একটি জামাত হবে এবার। ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সকাল ৯টায়; ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়; ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায় এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়  ঈদ জামাত হবে।

আরও পড়ুন


ঈদের দিনের যে আমলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ

ঈদের দিনের ফজিলত ও করণীয়

যে কারণে ফিলিস্তিনে একটি বাড়ির নাম ‘শেখ হাসিনা’

ঈদের দিন যে কারনে টার্মিনালে অবস্থান ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিকদের


পুরান ঢাকা তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও ৯ টায়; রায়সাহেব বাজার জামে মসজিদে সাড়ে ৮টায়; নিমতলী ছাতা মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায়, আগামছি লেইন জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় এবং বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৮টা ও ৯টায় ঈদের জামাত হবে।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সাড়ে ৭টা এবং সাড়ে ৯টায় ঈদের তিনটি জামাত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঈদের দিনের যে আমলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ঈদের দিনের যে আমলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মার জন্য এক খুশির দিন। এক মাস সিয়াম সাধনাকারীদের জন্য আনন্দ ও উত্সবের দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। রমজানের মতো ঈদের দিনও অনেক ফজিলতপূর্ণ।

আর পাপী-তাপীদের জন্য এই দিনটি হলো শাস্তি ও আজাবের। সাহাবি হজরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রা.) ঈদের দিন কাঁদছিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আজ খুশির দিন ওই ব্যক্তির জন্য, যার রোজা কবুল হয়েছে। ঈদুল ফিতরের দিন হলো পুরস্কার লাভের দিন।

এদিন একদল ফেরেশতা দাঁড়িয়ে যান এবং বলতে থাকেন, ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা দয়াময় প্রভুর দিকে ছুটে চলো। তিনি তোমাদের কল্যাণ দান করবেন। তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন। ’ ঈদের পূর্ণাঙ্গ আনন্দ-খুশি ও কল্যাণ অর্জন করতে হলে আরো ঘনিষ্ঠ করতে হবে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক, ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ করতে হবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক। উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে বন্ধু-বান্ধব স্বজনদের সঙ্গে সহমর্মিতা ও সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে।

ঈদকে একটি পবিত্র উত্সব হিসেবে পালন করতে হবে। এর সুন্নত তরিকা হলো ঈদের নামাজের আগে গোসল করে নেয়া, ভালো পোশাক পরে আতর-সুগন্ধি মেখে ঈদগাহে যাওয়া, সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হলে ঈদের নামাজের আগে তা আদায় করে দেয়া, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, সম্ভব হলে এক রাস্তায় যাওয়া, অপর রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা, ঈদগাহে যাওয়ার আগে মিষ্টিমুখ করে নেয়া, ঈদগাহের দিকে ধীরস্থিরভাবে যাওয়া, নামাজ শেষে আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করা, ঘরে ফিরে চার রাকাত নফল নামাজ পড়া।

আরও পড়ুন


ঈদের দিনের ফজিলত ও করণীয়

যে কারণে ফিলিস্তিনে একটি বাড়ির নাম ‘শেখ হাসিনা’

ঈদের দিন যে কারনে টার্মিনালে অবস্থান ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিকদের

কোয়াডে বাংলাদেশ : নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল চীন


রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঈদকে তাকবির দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত কর। ’ রাসূল (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, পাঁচটি রাত জেগে যে ব্যক্তি ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। রাতগুলো হলো- ১. জিলহজের রাত, ২. আরাফার রাত, ৩. ঈদুল আজহার রাত, ৪. ঈদুল ফিতরের রাত, ৫. মধ্য শাবানের রাত। সুতরাং ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদত করা খুবই পুণ্যময় কাজ।

ঈদের অনাবিল সুখ-আনন্দ শুধু রোজাদারদের জন্য। যারা ইচ্ছাকৃত রোজা ছেড়ে দিয়েছেন তাদের জন্য এ আনন্দ নয়। ঈদের আনন্দ-খুশিতে ভরে উঠুক সারাদেশ, সমগ্র মুসলিম উম্মাহ।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের জামাত কোথায় কখন

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের জামাত কোথায় কখন

আজ বৃহস্পতিবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। শুক্রবার দেশব্যাপী পালিত হবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। করোনার কারণে গত বছরের মতো এবছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

তবে এবারও ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়তে হবে মসজিদে। ঈদের নামাজের পর কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার।

এছাড়া সবাইকে বাসা থেকে ওয়ু করে যেতে হবে। আর অবশ্যই নামাজ পড়ার সময় মাস্ক পরতে হবে। কাতারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

করোনার কারণে এবারও হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শুক্রবার (১৪ মে) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া করোনার কারণে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদগুলোতে এক বা একাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা থাকছে সেগুলো হলো- 

পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হবে। বড় কাটরা মাদ্রাসা মসজিদে একটি ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত হবে।

নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে ঈদের জামাত হবে তিনটি- সকাল ৭ টায় , ৮ টায় ও ৯ টায়। আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় চারটি জামাত হবে। আর ছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায়।

মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠি বড় মসজিদে সকাল ৭টায় একটি জামাত হবে এবার। ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সকাল ৯টায়; ধানমণ্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়; ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায় এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়  ঈদ জামাত হবে।

আরও পড়ুন


সৌদির সঙ্গে মিল রেখে শেরপুরের ৭ গ্রামে ঈদ উদযাপন

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

ইসরাইলের হামলার মধ্যেই আল-আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল


পুরান ঢাকা তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও ৯ টায়; রায়সাহেব বাজার জামে মসজিদে সাড়ে ৮টায়; নিমতলী ছাতা মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায়, আগামছি লেইন জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় এবং বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৮টা ও ৯টায় ঈদের জামাত হবে।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সাড়ে ৭টা এবং সাড়ে ৯টায় ঈদের তিনটি জামাত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঈদের দিনের ফজিলত ও করণীয়

অনলাইন ডেস্ক

ঈদের দিনের ফজিলত ও করণীয়

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দ ও খুশির দিন। যারা দীর্ঘ এই এক মাস ধরে সিয়াম সাধনা করেছেন, তাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এ দিনটি আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার লাভেরও দিন।

ঈদুল ফিতরের দিন একদল ফেরেশতা দাঁড়িয়ে যান এবং বলতে থাকেন, ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা দয়াময় প্রভুর দিকে ছুটে চলো। তিনি তোমাদের কল্যাণ দান করবেন। তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন।’ 

ঈদের পূর্ণাঙ্গ আনন্দ-খুশি ও কল্যাণ অর্জন করতে হলে আরো ঘনিষ্ঠ করতে হবে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে। সুসম্পর্ক, ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ করতে হবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে, হৃদ্যতা ও ভালোবাসার সম্পর্কের মাধ্যমে। উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে বন্ধু-বান্ধব স্বজনদের সঙ্গে সহমর্মিতা ও সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব রেখে যতটা পারা যায় সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন


যে কারণে ফিলিস্তিনে একটি বাড়ির নাম ‘শেখ হাসিনা’

ঈদের দিন যে কারনে টার্মিনালে অবস্থান ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিকদের

কোয়াডে বাংলাদেশ : নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল চীন

ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির আভাস


ঈদের দিনে রয়েছে ১৩টি সুন্নাত। যা রাসূল (সা.) করতেন। জেনে নিন সেগুলো...

১. অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া।
২. মিসওয়াক করা। 
৩. গোসল করা। 
৪. শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা।
৫. সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা।
৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৭. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া।
৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।
৯. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা।
১০. ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় না করা।
১১. যে রাস্তায় ঈদগাহে যাবে, সম্ভব হলে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা।
১২. পায়ে হেঁটে যাওয়া।
১৩. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় আস্তে আস্তে তাকবীর পড়তে থাকা।

ঈদের অনাবিল সুখ-আনন্দ শুধু রোজাদারদের জন্য। যারা ইচ্ছাকৃত রোজা ছেড়ে দিয়েছেন তাদের জন্য এ আনন্দ নয়। ঈদের আনন্দ-খুশিতে ভরে উঠুক সারাদেশ, সমগ্র মুসলিম উম্মাহ।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঈদের নামাজ পড়বেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

ঈদের নামাজ পড়বেন যেভাবে

বছর ঘুরে এল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য দুটি দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারিত করেছেন। এ দিনগুলোতে ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড় এবং নহর করো।’ (সুরা আল কাউছার, আয়াত : ২)

ঈদের নামাজের পদ্ধতি স্বাভাবিক নামাজের মতো নয়। যেমন—ঈদের দুই রাকাত নামাজের কোনো আজান, ইকামত নেই। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির রয়েছে। সেগুলো আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিয়মগুলো হলো:

ঈদের নামাজ আদায় পদ্ধতি

১।  প্রথমত স্বাভাবিক নামাজের মতোই তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর ছানা পাঠ করতে হবে।

২। তারপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলতে হবে। প্রথম দুই তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বাঁধতে হবে।

৩। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ার পর ইমাম সুরা ফাতিহা পড়ে এর সঙ্গে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।

৪। স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু-সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করতে হবে।

৫। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম কিরাত পড়া শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। প্রতি তাকবিরের সঙ্গে হাত ওঠাবেন এবং ছেড়ে দেবেন। তারপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবেন।

৬। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই নামাজ শেষ করবেন।

৭। নামাজ শেষে ইমাম মিম্বারে উঠবেন। দুটি খুতবা দেবেন। এ সময় ইমামের খুতবা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে। কোনো ধরনের কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া যাবে না।

৮।  খুতবা শেষে সবাই ঈদগাহ ত্যাগ করবেন।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর