ভূতুড়ে চেহারার অদ্ভুত প্রাণী লেমুর

হারুন আল নাসিফ

ভূতুড়ে চেহারার অদ্ভুত প্রাণী লেমুর

লেমুর হলো প্রাইমেট গোত্রভুক্ত কিছু প্রাণীর সমষ্টিগত নাম। লাতিন শব্দ lemurs থেকে লেমুর শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ ভূতের মতো। রাতের আঁধারে লেমুরের মুখে আলো ফেললে অনেকটা ভূতের মতো দেখায়। তাই এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে লেমুর সাধারণত আফ্রিকার মাদাগাস্কারেই দেখতে পাওয়া যায়।

ধারণা করা হয়, এই প্রজাতিটি খুব সম্ভবত সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে মাদাগাস্কারে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন থেকেই এ প্রজাতিটি মাদাগাস্কারের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এরা মূলত মাদাগাস্কারেই উৎপন্ন ও বিকশিত হয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী কোমোরো দ্বীপেও লেমুর বসবাস করে থাকে।

বড় আকারের লেমুররা সচরাচর দিনে ঘোরাফেরা করলেও ছোট আকারেরগুলো নিশাচর হয়। এরা দলবদ্ধভাবে থাকে, তবে খাদ্য সংগ্রহের জন্য একা বিচরণ করে, খাদ্য গ্রহণ শেষে আবার দলে ফিরে আসে। একটি দলে সর্বোচ্চ ১৫টি লেমুর থাকতে পারে। এরা জোড়ায় বা একাধিক পুরুষবিশিষ্ট পরিবারেও থাকতে পারে।

লেমুররা ফলভোজী প্রাণী হলেও এদের খাদ্য তালিকায় কীটপতঙ্গও থাকে। সচরাচর লেমুররা অনেক ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে। তবে ছোট আকারের লেমুররা পতঙ্গ এবং ফলফলাদি খেয়ে থাকে। অন্যদিকে বড় আকারের লেমুররা গাছপালা ও লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে ক্ষুধার্ত লেমুররা হজমযোগ্য প্রায় সবকিছুই খেতে পারে।

লেমুররা শারীরিক সংকেত, ঘ্রাণ এবং বিভিন্ন প্রকার শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে শারীরিক সংকেত এরা খুব একটা ব্যবহার করে না। এ প্রজাতির লেমুরকে হাই তুলে অপর লেমুরকে হুমকি দিতে দেখা গেছে। যোগাযোগ করতে এরা অনেক সময় মুখাবয়বেরও পরিবর্তন করে।

লেমুরের ছিল অসংখ্য প্রজাতি। বর্তমানে পাঁচটি পরিবারে বাস করা ৩০ প্রজাতির কিছু বেশি লেমুর খুঁজে পাওয়া যায়। সবচেয়ে ছোট লেমুর এক পাউন্ড ওজনের হয়ে থাকে। কিন্তু বড়গুলো ১৫ পাউন্ড অর্থাৎ একটি বড় বিড়ালের ওজনের সমান হয়ে।


আরও পড়ুনঃ


ইফতারে প্রশান্তি পেতে বাঙ্গির শরবত

করোনা ঠেকাতে গোয়ায় চার দিনের লকডাউন

করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে পাওনা টাকা আদায়!

খেলা কি বন্ধ হয়? খেলবো মনে করলেই খেলা হবে: অনুব্রত মন্ডল


লেমুর সাধারণত পানি পছন্দ করে না। মজার ব্যাপার হলো, সহজে তাই পানিতেও নামে না। সাঁতার তো জানেই না! রিং টেইল প্রজাতির লেমুরের বেশিরভাগ সময় কাটে মাটিতে। বাদবাকি সব প্রজাতির লেমুর গাছেই বসবাস করে থাকে।

লেমুরদের প্রায় সব ক'টি প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার পথে৷ লেমুরদের পক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মানুষ৷ কেননা লেমুররা যে জঙ্গলে থাকে, মানুষ সে জঙ্গল কেটে ভুট্টা আর চীনেবাদামের চাষ করে, যদিও মাটি খুব উর্বর নয়৷ জঙ্গল উজাড় হবার ফলে কোনো কোনো প্রজাতির লেমুরের দেখা পাওয়াই মুশকিল৷

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায়

দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার চরাঞ্চলের কৃষক

আব্দুস সালাম বাবু:

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার চরাঞ্চলের কৃষক। পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ ছাড়াই কাউনের ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে চাষের জমি। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদা বাড়ায় কৃষকও ভালো দাম পাচ্ছেন। 

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হওয়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীর চরাঞ্চলে কাউন চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সারিয়াকান্দিতে গত বছর ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হলেও এবছর তা বেড়ে ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

চরাঞ্চলের জমিতে বন্যার কারণে পলি জমে, উর্বর জমিতে কাউনের বীজ বপনের পর থেকেই গাছ বেড়ে উঠতে থাকে। অগ্রহায়ন থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত বীজ বপন এবং বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে কাউন কাটা-মাড়াই হয়। আর চলতি বছর কাউনের বাম্পার ফলনে লাভের আশা চাষিদের।

প্রতি মন কাউন ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরাও ঝুঁকছেন কাউন চাষে। কাউন থেকে তৈরি হয় পায়েশ, পোলাও, খিচুড়ি, মলা ও বিস্কুটসহ মজাদার বিভিন্ন খাবার। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদাও বর্তমানে অনেক বেশি বেড়েছে।

চলতি বছর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১হাজার ৭শ ১০ হেক্টর এবং সোনাতলা উপজেলার  ৪০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর

বিশ্বের বৃহত্তম আনারসের কথা

হারুন আল নাসিফ

বিশ্বের বৃহত্তম আনারসের কথা

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপের ব্যাটহার্স্ট জেলা আনারস চাষের জন্য সুপরিচিত। এখানকার সামারহিল খামারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আনারসটি অবস্থিত। ১৬.৭ মিটার বা ৫৫ ফুট উঁচু আনারসটি এ অঞ্চলের আনারস চাষের ঐতিহ্য ও গৌরব তুলে ধরার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পর্যটক আকর্ষষণ করে থাকে। 

ব্যাটহার্স্ট এলাকার ইতিহাস বেশ পুরানো। সেই ১৮২০ সালের কথা। এখানে বিটেন থেকে আসা কৃষকরা বসতি স্থাপন করেন। কয়েক দশক ধরে নানা ফসল চাষ করেও সাফল্যের মুখ দেখছিলেন না তারা। অবশেষে ১৮৬৫ সালে প্রথম আনারস চাষ করে তাদের ভাগ্য খুলে যায়।

সেই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে শতাব্দীরও বেশি সময় পথ চলার পর ১৯৮০’র দশকে ব্যাটহার্স্টের কৃষক সমাজের সদস্যরা এ অঞ্চলের আনারস শিল্পকে আরও বেশি পরিচিতি দিতে এবং এই রসালো ও সুমিষ্ট ফলের সুনাম তুলে ধরতে সামারহিল খামারে একটি বিশাল আনারস-সৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত বৃহত্তম আনারসটির ভবন-নকশা কেনার উদ্যোগ নিতে পরিদর্শনের জন্য সেখানে দু’জন প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অনুদান ও একটি সরকারি তহবিলও যোগাড় হয়। কুইন্সল্যান্ডের ১৬ মিটার বা ৫২ ফুট উঁচু আনারসটির নকশা করেন পেডল থ্রপ ও হার্ভে, পল লাফ, এবং গেরি স্মলকম্বে এন্ড অ্যাসোসিয়েটস। এটি ১৯৭১ সালে নির্মাণ করা হয়।

সফর সফল হয়। প্রতিনিধিরা ফিরে আসার পর ১৯৯০ সালে ব্যাটহার্স্টের বিশাল আনারসটির নির্মাণ শুরু হয়। স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোর ওপর ফাইবার গ্লাসের আবরণ দিয়ে নির্মাণ করা হয় এটি। টানা ১২ মাস ধরে পরিশ্রমের পর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। 

আনারসটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বিগ পাইনাপেলের প্রতিরূপ হলেও এটি প্রায় ৩ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও উঁচু আনারসের তকমা পায়। এছাড়া কুইন্সল্রান্ডের আনারস ভবনে রয়েছে দু’টি তলা, আর সামারহিলের আনারসটিতে রয়েছে তিনটি তলা।
 
ভবনটির প্রথম তলায় রয়েছে একটি গিফট শপ। এখানে আনারস ও আনারস থেকে তৈরি নানা খাদ্য সামগ্রী এবং আনারস থিমের টি-শার্ট, ব্যাাগ ইত্যাদি সুভেনির কিনতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি মিউজিয়াম, যেখানে পর্যটকদের তথ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ‘আনারস কাহিনি’ প্রদর্শন করা হয়।

তৃতীয় তলায় আনারস চাষ ও এর ইতিহাস সম্পর্কে বিরতিহীন ও ধারাবাহিকভাবে ভিডিও উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এর পর রয়েছে ভবনের শীর্ষে পর্যবেক্ষণ ডেক। এখান থেকে চারপাশের চাষের জমির ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য অবলোকন করা যায়। এমনকি পরিচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এখানকার অবারিত বিস্তীর্ণ ক্ষেতের ওপর দিয়ে দৃষ্ট চলে যায় সুদূর ভারত মহাসাগর পর্যন্ত।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

হারুন আল নাসিফ

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

ইউরোপে অনেক অনন্য ভবন এবং সাংস্কৃতিক বিস্ময় রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কিছু একবারেই অনন্য-সাধারণ। এর মধ্যে ইকুইহেন বিচের বাড়িগুলো অন্যতম। বিচটি উত্তর ফ্রান্সের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। 

ইউরো টানেলর ঠিক নিচে এই শান্তিপূর্ণ জায়গায় রয়েছে সুন্দর সৈকত, সুন্দর ক্যাম্পিং সাইট এবং স্থানীয় জেলেদের একটি ছোট্ট অদ্ভুত গ্রাম. যেখানকার সব ঘর উল্টানো নৌকা দিয়ে বানানো।

এ গ্রামের বাসিন্দারা উল্টানো নৌকার নিচে ঘর বানিয়ে বাস করে থাকেন। আধুনিক যুগে বাড়ির পরিবর্তে এতো ছোট জায়গায় বাস করা অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। তবু, স্থানীয়রা তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

১৯ শতকের শুরুতে ইকুইহেন বিচ মাছ ধরার অন্যতম সেরা স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল। অনেক নৌকা উপকূলে পড়ে থাকতে নষ্ট হয়ে যেতো। স্থানীয় জেলেরা তাদের হাতে তৈরি আশ্রয়স্থলের ছাদ হিসাবে এগুলো ব্যবহার করতো

দুর্ভাগ্যক্রমে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বোটহাউস ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয় পরিবারগুলো তাদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। গ্রামের বাসিন্দারা কিছু পুরানো বোটহাউস পুনরুদ্ধার করে এবং কয়েকটি নতুন বোটহাউস তৈরি করে।

বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশি লোক এই উল্টানো নৌকার নিচে বানানো ঘরে বাস করে। পর্যটকদের থাকার জন্যও কিছু উল্টানো নৌকাঘর পাওয়া যায়।

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কোভিডের ভারতীয় ধরণ কী, এর বিরুদ্ধে টিকা কতোটা কার্যকর?

অনলাইন ডেস্ক

কোভিডের ভারতীয় ধরণ কী, এর বিরুদ্ধে টিকা কতোটা কার্যকর?

যে কোনো ভাইরাসই ক্রমাগত নিজের ভেতরে নিজেই মিউটেশন ঘটাতে করতে থাকে অর্থাৎ নিজেকে বদলাতে থাকে, এবং তার ফলে একই ভাইরাসের নানা ধরন তৈরি হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথার প্রয়োজন হয়না, কারণ নতুন সৃষ্ট অনেক ভ্যারিয়েন্ট মূল ভাইরাসের চেয়ে দুর্বল এবং কম ক্ষতিকর হয়।

কিন্তু কিছু ভ্যারিয়েন্ট আবার অধিকতর ছোঁয়াচে হয়ে ওঠে - যার ফলে টিকা দিয়ে একে কাবু করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

করোনাভাইরাসের ভারত ভ্যারিয়েন্ট - যেটার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭ - প্রথম ভারতে শনাক্ত হয় অক্টোবর মাসে।

ভারত ভ্যারিয়েন্ট কি অধিকতর সংক্রামক বা বিপজ্জনক?

বিজ্ঞানীরা এখনও জানতে পারেননি যে ভারতে প্রথম শনাক্ত এই করোনাভাইরাসটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় কিনা, বা এটির বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর কিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভাইরোলজিস্ট ড. জেরেমি কামিল বলেন ভারত ভ্যারিয়েণ্টে শনাক্ত একটি মিউটেশনের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত মিউটেশনের মিল রয়েছে।

এই মিউটেশনটি দেহে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তৈরি অ্যান্টিবডিকে পাশ কাটিয়ে যেতে ভাইরাসকে সাহায্য করতে পারে। সংক্রমণ এবং ভ্যাকসিন নিয়ে আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি দেখা গেছে।

কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন, বর্তমানে ব্রিটেনে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ কাজ করছে। ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টটি এখন ৫০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন ভারতে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ এত বিধ্বংসী

ওয়েলকাম স্যাংগের ইন্সটিটিউটের ড. জেফরি ব্যারেট বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের সাথে ভারতের বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির যোগসূত্র থাকতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখনও নেই।

তিনি বলেন, “ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্টটি গত বছরের শেষ দিক থেকেই সেদেশে রয়েছে। যদি সত্যিই ঐ ভ্যারিয়েন্টের কারণেই বর্তমানের এই উঁচু সংক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কাজ করতে কয়েক মাস সময় নিয়েছে। তার অর্থ এটির চেয়ে কেন্ট বি ১১৭ ভ্যারিয়েন্টটি (ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট) অনেক বেশি সংক্রামক।”

টিকা কি কাজ করবে?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বর্তমানে করোনাভাইরাসের যেসব টিকা রয়েছে তা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের চরম অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে।

তবে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত অধ্যাপক গুপ্ত এবং তার সহযোগীদের করা একটি গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এখন যেসব টিকা রয়েছে করোনাভাইরাসের কিছু ভ্যারিয়েন্ট সেগুলোতে মরবে না। ফলে, নতুন ধরণের ভ্যাকসিন আনতে হবে এবং বর্তমানের টিকাগুলোকে অদল-বদল করতে হবে।


আরও পড়ুনঃ


ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়াঘাট ছাড়লো ফেরি

শত বছরের পুরনো বিয়ের রীতি ভাঙলেন ‘হার্ডকোর ফেমিনিস্ট’ যুবক

করোনা ঠেকাতে বিজেপি নেতার গোমূত্র পান, দিলেন পরামর্শও (ভিডিও)


তবে, যেসব টিকা এখন তৈরি হয়েছে সেগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বা বিপদ কমাতে সক্ষম।

ড কামিল বলেন, “সিংহভাগ মানুষের ক্ষেত্রে যেটা সত্য তা হলো, ভ্যাকসিন নেওয়া বা না নেওয়ার ওপর নির্ভর করবে - তারা সংক্রমণ মুক্ত বা বড়জোর স্বল্পমাত্রায় সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকবেন, নাকি প্রাণ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে যাবেন।”

তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন দেওয়ার সুযোগ পেলে দয়া করে তা লুফে নিন। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবেন না। শতভাগ অব্যর্থ কোনো ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকার মত ভুল করবেন না।”

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে ‘মিনি সুন্দরবন’

আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার :

কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগর ও বাকঁখালী নদীর মিলন মোহনায় সবুজ আর জীববৈচিত্রের অপূর্ব প্রাকৃতিক স্থান প্যারাবনটি যেন ‘মিনি সুন্দরবন’। এই বনে রয়েছে বাইন, কেওড়াসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছ। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৈকতের নুনিয়াছড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। 

সংশ্লিস্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাগরের প্রাকৃতিক দেয়াল বা রক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করছে পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে এই বনটি। 

কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগর ও বাকঁখালী নদীর মিলন মোহনায় ২০০৬ সালে প্রায় ৩১ একর জায়গা জুড়ে প্যারাবন সৃজনের উদ্যোগ নেয় বন ও পরিবেশ অধিদফতর। এই বনে রয়েছে বাইন, কেওড়াসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছ। এছাড়া পানকৌড়ি, মাছরাঙ্গাসহ সামুদ্রিক পাখি ও অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে এই বনটি।  

পর্যটকদের কাছে এই ‘মিনি সুন্দরবন’কে আকৃষ্ট করতে সৈকতের নুনিয়াছড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রও।এছাড়া এখানে রয়েছে মিনি সামুদ্রিক মিউজিয়ামও। এসব কিছু রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে সংরক্ষণকর্মীরা।

 সংশ্লিস্টরা বলছেন, এ প্যারাবনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করছে।  পাশাপাশি জীববৈচিত্য  রক্ষায়ও  গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে।  

জলবায়ুর পরিবর্তনে গেল কয়েক বছরে বহুপ্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই কারণে এই রকম বন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সুফলও মিলেছে এমন দাবি এই কর্মকর্তার। 

অনেকটা সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্থানটি কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও মনে করেন অনেকে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর