সুখি মানুষের জামা
সুখি মানুষের জামা

সুখি মানুষের জামা

Other

প্রাইমারি স্কুলে আমাদের একটি গল্প পড়তে হত। এক যে ছিল বিশাল ধনী এক মানুষ। কয়দিন ধরে তার হাড় মড়মড় ব্যারাম হয়েছে।  
হাজার বৈদ্য লাখ কবিরাজের পরামর্শ মেনেও আরাম হল না তার, দিনে দিনে আরও ব্যথায় একেবারে বিছানায় লম্বালম্বি।

 

ফকির ধরনের একজন সব দেখে টেখে বললেন, সুখি মানুষের জামা গায়ে দিলেই কেবল এ ব্যারাম সারবে। চারদিকে চারজন গিয়েও ফিরে এল। সুখি লোক পাওয়া যায় না।   এরপর পুরস্কারের লোভে ১০ দিকে ছুটে তবে সুখি লোকের দেখা মিলল। বনের ধারে কোনো এক নদীর কিনারে থাকে হাসিহাসি সুখি লোক; বালকই বলা চলে।  

যত টাকা চাও নাও আর বিনিময়ে তোমার গায়ের জামাখানা দাও। কাতর এ আহ্বানে ছেলেটি জানাল তার কোনো জামা নাই।  
আমাদের জন্য মোরাল অফ দা স্টোরি হল, সুখি লোকের গায়ে জামা থাকে না।  

আমাদের দুই তিনটে করে জামা ছিল। আব্বার তিন চারটা অফিস যাওয়ার শার্ট। আম্মারও ঘরে বাইরে মিলিয়ে গোটা পাঁচেক শাড়ি।  
কৌতূহল চেপে না রেখে আব্বার কাছে জানতে চাইলাম, আমরা সবাই অসুখি তাই না? 
অফিসফেরত আব্বা জানতে চাইলেন আম্মার কাছে, এগুলা কী জাতের প্রশ্ন? 

আম্মা আমাদের পড়াতেন, বললেন বইয়ে আছে সুখি লোকের গায়ে জামা থাকে না। ও তাই, চা দাও। আব্বা মনে হয় ভাবতে বসেন।  
ঘরের রেডিও হঠাৎ বেজে ওঠে, কে যেন গায়, সবাই তো সুখি হতে চায় তবুও..

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

news24bd.tv/আলী