কাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে?

অনলাইন ডেস্ক

কাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে?

জাকাত ইসলামের পাঁচটি ফরযের একটি। কালিমায়ে শাহাদাত ও সালাতের পর জাকাতের স্থান। জাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করল অথবা কম আদায় করল সে জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ও আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত।

আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য। আর তোমরা যা আমল কর সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত’। সূরা আলে-ইমরান: (১৮০)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার জাকাত প্রদান করল না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে, যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁচিয়ে ধরবে, অতঃপর তার দু’চোয়াল পাকড়ে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন’। (সহীহ বুখারি)

কাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে:

পবিত্র কুরআনেই বলা হয়েছে কারা কারা জাকাত পাবার অধিকার রাখে। সেখানে আট শ্রেণীর লোকের কথা বলা হয়েছে। তবে এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, বরাদ্ধের পরিমাণ, কোন পদ্ধতিতে দিতে হবে তার ব্যাখ্যা এসেছে পবিত্র হাদিস শরীফে। এ ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেখানে জাকাত পাবার অধিকারীদের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শ্রমবিন্যাস, পণ্যের বাজার ও উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং নানান বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে জাকাতের বিধান কেমন হবে সেসব বিষয়েও রাসুল (সা.) হাদীস শরীফে আলোকপাত করেছেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় খাত : ফকির ও মিসকিন

আরবিতে ফুকারা এবং মাসাকিন দুটি শব্দ দিয়েই দারিদ্রকে নির্দেশ করলেও এ দুটির অর্থ ভিন্ন। ফেকাহ শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে এর সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এভাবে, ফুকারা বা ফকির হলেন এমন শ্রেণীর দরিদ্র ব্যাক্তি যে তার আয় থেকে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। অনেক জায়গায় এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ফকির হলো এমন মানুষ যার জীবিকা নির্বাহ করার মতো সম্পদ নেই এবং আয়েরও ব্যবস্থা নেই।

আর মিসকিনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে কিন্তু তার জীবিকা নির্বাহের মতো পর্যাপ্ত আয় হয় না। অনেক পরিশ্রম করেও যে তার অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খায় সেই হচ্ছে মিসকিন।

কেউ কেউ আবার বলেছেন, ফকির মিসকিনের পার্থক্য হলো সাহায্য চাওয়ার দিক থেকে। ফকির হচ্ছে সে যে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়ায়। আর মিসকিন হলো যে ফকিরের মতই অর্থাভাবে থেকেও কারো কাছে সাহায্য চায় না আত্মসম্মানের জন্য।

তবে সাহায্য চাওয়া বা না চাওয়ার চেয়ে বড় হলো এই দুই শ্রেণির মানুষই জাকাত পাবার অধিকার রাখে। তবে এখানে একটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে যারা আয় করে মৌলিক প্রয়োজন মিটাতে পারছে কিন্তু তাদের সম্পদের পরিমাণ নিসাব পরিমাণ নয় তারা জাকাত দেবেও না এমনকি নেবেও না।

তৃতীয় খাত : আমিলীন

আমিলীন শব্দটি আরবি। এর সহজ বাংলা করলে দাঁড়ায় এমন কর্মচারী যারা জাকাত ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত। পবিত্র কুরআনের ভাষ্যমতে এই শ্রেণিও জাকাত পাবার অধিকার রাখে। যারা সরকারি বা বেসরকারিভাবে জাকাত আদায় এবং বণ্টনের কাজে লিপ্ত তারাও জাকাতের অর্থ গ্রহণ করতে পারে। তবে বেশিরভাগ শরিয়ত বিশেষজ্ঞের মতে , এই ক্ষেত্রে আদায়কৃত জাকাতের সাড়ে ১২ ভাগের বেশি খরচ করা যাবে না এই খাতে।

চতুর্থ খাত : হৃদয় জয় করা উদ্দেশ্য

পবিত্র কুরআনে এ খাতের উল্লেখ এসেছে মুয়াল্লাফাতু কুলুবুহুম বা তাদের ঝুঁকে থাকা অন্তরকে জাকাত দাও। অর্থাৎ কোন অমুসলিমের অন্তরকে ইসলামের সুশীতল পরশের শান্তি দানের উদ্দেশে তাকে জাকাত দেয়া যায়। এর ফলে তার অন্তর ইসলামের প্রতি আরও আকৃষ্ট হবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে এমন কাউকেই জাকাত দিতে হবে যে জাকাত দিলে ইসলাম গ্রহণ করতে পারে এবং ইসলামের জন্য কোন ক্ষতির কারণ হবে না।

পঞ্চম খাত : দাসত্ব থেকে মুক্তি

সোজাসুজি অর্থে এই খাতটি দাস প্রথার দিকে ইঙ্গিত দিলেও এই খাতটির আরেকটি ব্যবহার হচ্ছে মানুষের শরীর, মানস, পরিশ্রম, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদিতে কোনরূপ বাধা থাকলে তা জাকাতের মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করা। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, যখন পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল সে সময় সমগ্র বিশ্বেই দাসপ্রথা বিরাজমান ছিল। তখন নানাভাবে মানুষ আরেকজনের কাছে পরাধীন হয়ে পড়তো। ধীরে ধীরে সারা বিশ্বেই এই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটেছে মনে করলেও আসলে দাস প্রথার কেবল বিবর্তনই ঘটেছে। এখনো ভূমিদাস, শ্রমদাস। যৌনদাস, পণবন্দী, মানব পাচারের শিকার হচ্ছে মানুষ। এসব জায়গা থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য জাকাত দেয়ার বিধান রয়েছে। মিথ্যা মামলায় যে সব মু’মিন জেল খাটছেন তাদের মুক্তির জন্যও জাকাতের অর্থ ব্যয় করা বৈধ।

ষষ্ঠ খাত : ঋণগ্রস্তকে ঋণ মুক্ত করা

গরিব বা অভাবী মুসলিম ব্যক্তিকে ঋণ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশে জাকাত দেয়া যাবে। তবে একজন উপার্জনশীল ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে তখনই অভাবী বা গরিব বলা যাবে যখন তার মূল সম্পদের ও ঋণের পার্থক্য নেসাবের চেয়ে কম হয়। এক্ষেত্রে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির বেশকিছু দিক বিবেচনা করতে হবে। যেমন পাপ কাজের জন্য ঋণগ্রস্ত থাকলে তাকে জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। ঠিক তেমনই কেউ যদি বৈধ কাজেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচের কারণে ঋণগ্রস্ত হয় তবে তাকেও জাকাত দেয়া ঠিক হবে না। ঋণগ্রস্তের জাকাতের টাকা ঋণগ্রস্ত কিংবা পাওনাদার যাকেই দেয়া হোক জাকাত আদায় হবে।

সপ্তম খাত : আল্লাহর পথে ব্যয় করা

ফী সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে বলতে সত্যিকার অর্থে কী বোঝানো হয়েছে এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। কারো মতে এ খাতটি দিয়ে জিহাদের ব্যয় নির্বাহের কথা বলা হয়েছে। আবার হানাফি আলেমদের মতে, কল্যাণকর প্রত্যেক কাজেই এই খাতের মাধ্যমে জাকাত প্রদান করা যাবে। তবে বর্তমান সময়ের অনেক ইসলামী পণ্ডিত মনে করেন মসজিদ তৈরি, রাস্তাঘাট বানানো এসবের কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না। কেননা এগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা যেমন ওয়াকফ, হেবা এবং সাদাকাহ এর মতো আমল রয়েছে।


চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

ইসরায়েলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নিহত ৩৮

কে এই মুফতি হারুন ইজহার?

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ


অষ্টম খাত : ইবনুল সাবিল

ইবলুন সাবিল বা পথের সন্তান দ্বারা এই খাতে মুসাফিরকেই বোঝানো হয়েছে। সফরে থাকাকালীন একজন মুসাফিরের নানা রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সর্বস্ব হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এছাড়া নাগরিকত্ব হারিয়ে অভিবাসী হয়ে ভিনদেশে বাস করা লাগে অনেককেই। এরকম বিপদে মুসাফিরকে জাকাত দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে ইসলাম। দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে অনেক মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে তাদেরকেও জাকাত দেয়া বৈধ। রাজনৈতিক সংকটের কারণে যারা গৃহহীন হয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের জাকাত দেয়া বৈধ।

পবিত্র কুরআনে জাকাতের এই আটটি খাতের বাইরে জাকাত পাবার অধিকার দেয়া হয়নি কাউকে। বিশেষ করে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, অমুসলিম, আত্মীয়-স্বজন, শিশু, সেবার প্রতিদানে, কর্মচারীকে, মসজিদে, মৃত ব্যক্তির দাফনের কাজে, ঋণ হিসেবে, উপহার হিসেবে এবং পাপী ব্যক্তিকে জাকাত দেবার বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি

অনলাইন ডেস্ক

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি

দুনিয়া হচ্ছে পরকালের শস্যক্ষেত্র। পরকালে সবাইকে দুনিয়ার জীবনের সব কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। হাশরের মাঠে, মাথার খুব নিকটে যখন থাকবে সূর্যটা, সমস্ত মানুষ থাকবে পেরেশান, তখন কিছু মানুষকে আল্লাহ তায়ালা পরম যতনে স্থান দিবেন তার আরশের ছায়ায়। আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামত দিবসে সাত (ধরনের) ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা তার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত ভিন্ন কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলো..

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক। যারা ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন কাজ পরিচালনা করে তারা আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। এখানে শাসক বলতে সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র বা কোনো দলের নেতা যাই হোন না কেন, নেতৃত্বের ব্যাপারে ন্যায় ও ইনসাফ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব না হলে তা অধীনস্তদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। নেতৃত্বের প্রতি অনীহা সৃষ্টির ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের যাবতীয় ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়ার পর তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবে, আল্লাহ তার জন্য বেহেশত হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। যৌবনকাল মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময় মানুষ যেকোনো দিকে ধাবিত হতে পারে। আর এই সময়ে যে আল্লাহর ইবাদত করবে, সে এই ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে।

৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলে থাকে। অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলে থাকার অর্থ হলো আল্লাহর সঙ্গে সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারে তার ব্যাকুলতা। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ার জন্য ব্যাকুলতা। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পর আরেক ওয়াক্ত নামাজ কখন মসজিদে গিয়ে আদায় করবে যার মনের মধ্যে এমন অস্থিরতা কাজ করবে সে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ মুমিনদের জন্য মেরাজস্বরূপ।’ মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব অনেক।

৪. সেই দুই ব্যক্তি যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই বন্ধুত্ব রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়, তারা আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। মুসলমানদের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে এবং ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্যই হওয়া উচিত। কোনো কিছুকে ভালোবাসলে তা আল্লাহর জন্য এবং পরিত্যাগ করলে তাও আল্লাহর জন্য হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বলুন আমার নামাজ (ইবাদতে বদনি বা শারীরিক ইবাদত), আমার কোরবানি (ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত), আমার জীবন, আমার মরণ সবই একমাত্র আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৩২)। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসা, ঘৃণা করা, দান করা ও দান না করা নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার। (বুখারি)

৫. যে ব্যক্তিকে কোনো অভিজাত ও সুন্দরী রমণী ডাকে (ব্যভিচারের জন্য), তখন সে তা প্রত্যাখ্যান করে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই ব্যক্তি পাবে আরশের ছায়া। যৌবনকালে নারী-পুরুষ একজন অন্যজনের সান্নিধ্য চায়। সৃষ্টিগতভাবে এটা একটা স্বাভাবিক কামনা। তখন সম্ভ্রান্ত ঘরের কোনো সুন্দরী রমণী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব করলে শুধু আল্লাহর ভয়েই তা থেকে বিরত থাকা যায়। এভাবে চরিত্রের হেফাজত করলেই আরশের ছায়ায় স্থান লাভ করা যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং অসৎ পন্থা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত 

৩২)। তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জাহীনতার যত পন্থা আছে তার কাছেও যেও না, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে হোক।’ (সুরা আনআম: আয়াত ১৫২)। ইসলাম বিবাহের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে।


রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

নিয়োগ দেবে এসিআই


৬. যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে বাম হাত জানে না। তার মানে সে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই দান করে, মানুষের কাছে দাতা সাজার জন্য নয়। দান করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ কর মৃত্যু আসার আগেই।’ (সুরা মুনাফিকুন : আয়াত ১০)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুগুলোকে আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ৯২)। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হবে দান করার মূল লক্ষ্য। প্রকাশ্যে দান করলে মনে অহঙ্কার আসতে পারে, এ জন্যই গোপনে দান করার কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সৌন্দর্য ও সম্পদের দিকে লক্ষ করেন না বরং তোমাদের অন্তঃকরণ ও কাজের দিকে লক্ষ করেন।’

৭. আর যে ব্যক্তি গোপনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চোখের পানি ফেলে। এর অর্থ হলো সে গোপনে আল্লাহকে স্মরণ করে নিজের পাপ মার্জনার জন্য চোখের পানি বের করে। নির্জনে আল্লাহর ভয়ে দুই কারণে চোখের পানি ফেলা হয়।

ক. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের জন্য।

খ. নিজের অপরাধ স্মরণ করে মুক্তিলাভের জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি ফেলেছে, তার জাহান্নামে প্রবেশ করা তেমনি অসম্ভব, যেমনি অসম্ভব দোহন করা দুধকে পুনরায় ওলানে প্রবেশ করানো। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার পথে জিহাদ করেছে সে ব্যক্তি আর জাহান্নামের ধোয়া একত্র হবে না।’ (তিরমিজি)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘দুই প্রকার চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না।

১. ওই চোখ যা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয়। ২. ওই চোখ যা আল্লাহর পথে পাহারাদারিতে রাত জাগে।’ (বুখারি)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

যে নামাজে বার বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি পড়া হয়, ওই নামাজকে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহ-এর নামাজ। এ নামাজের ফজিলত বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্ম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা তিনি তাঁর চাচা হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বর্ণনা করে শোনান। হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সাথে দশটি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ দশটি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না)

যখন আপনি তা (আমল) করবেন তখন আল্লাহ তাআলা আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সব প্রকার গোনাহ, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গোনাহ, সগিরা গোনাহ, কবিরা গোনাহ, গুপ্ত ও প্রকাশ্য গোনাহ মাফ করে দেবেন।

আপনি চার রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সূরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

আরও পড়ুন

  যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

  ইসরায়েলি বাহিনী যা করছে, তা যুদ্ধাপরাধ : ইসরায়েলের সাবেক পাইলট

  ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ‘হতবাক’ জাতিসংঘ মহাসচিব

  ইসরায়েলের স্বয়ংক্রিয় লাইকের সেই পেইজ রিমুভ করল ফেসবুক

 

নামাজের যে সব স্থানে এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে। তাহলো-

- প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলানোর পর রুকুর আগে দাঁড়ানো অবস্থায়
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
(সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) ১৫ বার।

- অতঃপর রুকুর তাসবিহ-এর পর রুকু অবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- তারপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (এ সাতবিহ) ১০ বার।
- অতঃপর সেজদার তাসবিহ-এর পর মাথা নত করবেন এবং সেজদাবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- তারপর দুই সেজদার মাঝে বসে (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- অতঃপর পুনরায় দ্বিতীয় সেজদায় ১০ বার এবং
- পুনরায় সেজদা থেকে মাথা ওঠিয়ে ১০ বার। মোট প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাআতে মোট ৩০০ বার এ তাসবিহ পাঠ করা।

(হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে।

তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

এ হলো ফজিলতপূর্ণ সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ ‘সালাতুত তাসবিহ’। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাসবিহ নামাজসহ যে কোনো নামাজ এবং ইবাদত-বন্দেগি যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

অনলাইন ডেস্ক

যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

পবিত্র কুরআনুল কারিমের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এই মহাগ্রন্থের যে কোন আয়াতই ফজিলতপূর্ণ। আমরা অনেকেই কুরআনের সূরাগুলোর আমল সম্পর্কে জানি না। তাই এসব সূরার ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানলে জান্নাতের পথ আরও সুগম হবে।

মহাগ্রন্থ আল কুরআনের প্রতিটি সূরার রয়েছে আলাদা আলাদা ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য। যেগুলোর আমল করা মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সূরাগুলোর আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

সূরা যুখরূফ-এর আমলের ফজিলত

তাফসিরে দুরারুন নজমে এসেছে, এ সূরাটি লিখে বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে পান করলে কফ-কাশি দূর হয়।

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সূরা যুখরূফ তেলাওয়াত করছে, তার অর্থ দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে সফল হবে আর পরকালে সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।

সূরা দুখান-এর আমলের ফজিলত

ইবনে মারদুবিয়া হজরত আবু উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে অথবা জুমআর দিনে সূরা দুখান তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করেন।

বাইহাকি বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে এ সূরা এবং সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে। সে সকালে এমন অবস্থায় জাগ্রত হবে যে, তার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে।

ইমাম তিরমিজি ও বাইহাকি হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা দুখান তেলাওয়াত করবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় সূরা দুখান, সূরা গাফের ও আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করবে, সকাল পর্যন্ত তাঁর হেফাজত করা হবে এবং সে কোনো প্রকার মন্দ কিছু দেখবে না।

আরও পড়ুন

  ইসরায়েলি বাহিনী যা করছে, তা যুদ্ধাপরাধ : ইসরায়েলের সাবেক পাইলট

  ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ‘হতবাক’ জাতিসংঘ মহাসচিব

  ইসরায়েলের স্বয়ংক্রিয় লাইকের সেই পেইজ রিমুভ করল ফেসবুক

  আল-জাজিরা ভবনে ‘ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের’ গোয়েন্দা অফিস ছিল : নেতানিয়াহু

 

সূরা ঝাছিয়া-এর আমলের ফজিলত

যে ব্যক্তি স্বপ্নে এ সূরাকে পাঠ করতে দেখে, তার মধ্যে দুনিয়া ত্যাগের ভাব তৈরি হবে এবং সে পরহেজগার তথা আল্লাহভীরু হবে।

সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর কেউ যদি এ সূরা লিবিপদ্ধ করে তার দেহে বেঁধে রাখে, তবে সব ধরনের কষ্টদায়ক বস্তু থেকে নবজাতক শিশু হেফাজত থাকবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ সূরাগুলোর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। আামিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে কাজগুলো করলে আরও বেশি অভাব ও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন আল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

যে কাজগুলো করলে আরও বেশি অভাব ও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন আল্লাহ

অলসতা-অবহেলা কিংবা বেখেয়াল সব কাজের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো কাজের জন্যই এগুলো কল্যাণকর নয়। ভূলবশতঃ কোনো কাজে দেরি হওয়া অলসতা নয়। তবে ইচ্ছাকৃত অলসতা করা বা কোনো কাজে গুরুত্ব না দেয়ায় রয়েছে মানুষে অনেক ক্ষতি। এমনকি এ কাজে আল্লাহ তাআলা মানুষের উপর অভাব-দুর্ভোগ ও ব্যস্ততা চাপিয়ে দেন।

কুরআনুল কারিমে অলসতা ও বেখেয়াল হওয়াকে ধ্বংসাত্মক দুর্ভোগের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তা হোক ইবাদত-বন্দেগি কিংবা দুনিয়ার জীবনের প্রয়োজনীয় যে কোনো কাজ।

এ কারণেই কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী অলসতা, বেখেয়াল, ইচ্ছাকৃত দেরি, কাজের সময় হয়নি ভেবে বসে থাকা কিংবা পরে করলেও কোনো ক্ষতি হবে বলে রেখে দেয়া কোনোটিই সঠিক কাজ নয়।

কুরআনের সতর্কতামূলক নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ সব বিষয়ে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি ও তার বিধি-বিধান পালনের বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন আর যারা অলসতা বা অবহেলাকারী তাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছেন। তিরমিজি ও ইবনে মাজাহর বর্ণনায় হাদিসে কুদসিতে এসেছে-
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদতে মন দাও; তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর; তবে- তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর হবে না।’ (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক)

হাদিসের এ ঘোষণা অনুযায়ী ইবাদত-বন্দেগিসহ ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান পালনে নিজেকে যেমন তৈরি করা আবশ্যক, আবার এসব কাজ করার জন্য সময় বের করাও ঈমানের একান্ত দাবি। আবার দুনিয়ার জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে অলসতা না করে সময়ের কাজ সময়ে করাও জরুরি।

কুরআনুল কারিমের বেখেয়াল লোকদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বে-খবর।' (সূরা মাউন: আয়াত ৪-৫)

মনে রাখা জরুরি

ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজের অজুহাত দিয়ে নামাজের পর যেমন মসজিদে বসে অলস সময় কাটানো যাবে না। তেমনি সাংসারিক কাজ-কর্মের অজুহাত দিয়ে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রেও ব্যস্ততা দেখানো যাবে না।

কেননা মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাকে উদ্দেশ্যে করেই বলেছেন যেন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে নামাজের উদ্দেশ্যে রেব হয়। আবার নামাজ শেষ হলেই জীবিকার সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দ্রুত বেরিয়ে পড় এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতপর নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)

‘যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগির জন্য সময় বের করতে পারবে না আল্লাহ তাআলা তার পুরো সময়কে এমন ব্যস্ততায় ভরে দেবে যে, তার অভাব ও ব্যস্ততা কখনই শেষ হবে না।'

অথচ আল্লাহর স্মরণই মানুষকে সব কাজে সুন্দর ও সঠিক পথ দেখায়, কল্পনাতীত জায়গা থেকে উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দেয়। আর তাতে সুন্দর ও উত্তম জীবন লাভ করে মুমিন।

আরও পড়ুন


যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া নিয়ে বাইডেনকে যা বললেন নেতানিয়াহু

আগ্রাসনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেনকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ!

প্রথমবারের মতো মাহমুদ আব্বাসকে বাইডেনের ফোন


তাই মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার এ সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির জন্য নির্ধারিত সময় বের করে তাঁর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত করা। আর এ কাজে মহান আল্লাহ মুমিন মুসলমানকে দান করবেন প্রাচুর্য আর তাকে অভাব-দুর্যোগ ও ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দেবেন।

সুতরাং ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়ো বা অলসেমি নয় বরং সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ইবাদত পালন করে দুনিয়ার স্বচ্ছলতা ও স্বচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন লাভের পাশাপাশি পরকালের সফলতা লাভ করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের উপর আমল করে দুনিয়ার জীবনে ইবাদত-বন্দেগি ও বিধি-বিধান পালনের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বচ্ছলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। অবহেলা, অলসতা ও বেখেয়াল হওয়া থেকে মুক্তি দিন। দুনিয়ার ব্যস্ততা, অভাব ও দুর্যোগ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

যে খাবার নিজেও খেতেন না অপরকেও না খাওয়ার পরামর্শ দিতেন বিশ্বনবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বের সকল মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত। তার চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুই তার আদর্শ। খাবারের ক্ষেত্রেও বিশ্বনবী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। সব সময় সাধারণ খাবার খেতেই ভালোবাসতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানুষকে সব সময় কম খাবার গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তিনি বলতেন, 'একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট।'

তবে এমন খাদ্য খেতে বলতেন যে, যা সাধারণভাবে খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। শরীরের জন্য ক্ষতিকর, হজমের জন্য ক্ষতিকর, পরিপাকতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবারই তিনি গ্রহণ করতেন না। যেমন- পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে এমন খাবার তিনি খেতেন না। কাউকে খেতেও বলতেন না। আবার ফুসফুসের কার্যকারীতা হ্রাস পাবে এমন খাবার ও পাণীয় তিনি গ্রহণ করতেন না। অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচির জন্য বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া বিরত থাকার উপদেশ দিয়েছেন তিনি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পছন্দ করতেন। আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবার তিনি খেতেন না। আর তাহলো-

- চালাবিহীন আটার রুটি পছন্দ করতেন। কিন্তু মিহি ময়দার পাতলা চাপালা পছন্দ করতেন না।
- স্বাদ ও রুচির জন্য অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
- যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় না তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
- অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচিকর খাবার বেশি না খাওয়া।
- অতিরিক্ত গরম খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকা। যে খাদ্য থেকে ধোঁয়া বের হয়, এরূপ খাবার খেতেন না প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতিরিক্ত গরম খাবার ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন।

অতিরিক্ত গরম খাবার সম্পর্কে তিনি কখনও বলতেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাদের আগুন খাওয়ায়নি।' আবার কখনও বলতেন, 'গরম খাদ্যে বরকত নেই।'

আরও পড়ুন


সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া নিয়ে বাইডেনকে যা বললেন নেতানিয়াহু

আগ্রাসনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেনকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ!

প্রথমবারের মতো মাহমুদ আব্বাসকে বাইডেনের ফোন

হামাসের রকেটের মুখে উপকূলীয় অঞ্চল বন্ধে বাধ্য হলো ইসরায়েল


শুধু তা-ই নয়, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও অতিরিক্ত খাবার খেতেন না। এক নাগাড়ে খাবার খাওয়ার উপর থাকতেও নিষেধ করেছেন। অতিরক্তি খাবার খাওয়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

'মুমিন এক অন্ত্রণালীতে খাবার খায়। আর কাফের অবিশ্বাসীরা সাত অন্ত্রণালীতে খাবার খায়।' (তিরমিজি)

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তিনি কোনো খাবার পছন্দ হলে খেয়েছেন আর অপছন্দ হলে তা ত্যাগ করেছেন।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপছন্দনীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা। যেসব খাবার সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারি তা খাওয়া। খাবার গ্রহণেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। তবেই সুস্থ শরীর, দেহ ও মনের অধিকারী হবে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক নিয়মে যথাযথ খাবার গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। অতিরক্তি গরম ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। খাবারের সময় নিজেদের সংযত রাখার তাওফিক দান করুন। খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর