আয়াতুল কুরসি

ড. তুহিন মালিক

আয়াতুল কুরসি

কোরআনুল কারীমের দ্বিতীয় ও বড় সুরা ‘সুরা বাক্বারাহ’র ২৫৫ নং আয়াতটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। 

আল্লাহর গুণ বর্ণনায় ও মর্যাদার দিক থেকে এটি কোরআনের সর্ববৃহৎ আয়াত [মুসলিমঃ ৮১০]। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায়, ফজিলত ও মর্যাদায় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে এই আয়াতটি। এটি মহান আল্লাহর গৌরবময় গুণাবলী, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর পরাক্রমশালীতা ও মহানুভবতা সম্বলিত সংক্ষিপ্ত শব্দে বহুল অর্থবিশিষ্ট অতীব মহান আয়াত। অনেকেই এ সূরার আয়াতুল কুরসিতে “ইসমে আযম” আছে বলে মত দিয়েছেন।

এর অনেক ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, এটা পড়লে রাতে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকা যায়। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর পড়লে বেহেশত যাওয়ার পথে মরণ ছাড়া অন্য কিছু বাধা থাকে না (ইবনে কাসীর)। ‘যে প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল-কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন অন্তরায় থাকে না।’ [নাসায়ী, দিন-রাতের আমলঃ ১০০] 
এ আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি, গুনাবলী ও বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ১০টি অংশ বর্নিত হয়েছে।
আসুন, মর্যাদাপূর্ন এই আয়াতটি পড়ে নেই-

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ
 بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম; ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ; ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি; ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ’আলিয়্যুল আজিম।

(বাংলা উচ্চারণটি কোরআনের আরবী উচ্চারণের সাথে যাচাই করে বিশুদ্ধভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি)
অর্থ:-

“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁরই। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।”

‘কুরসি’র অর্থ কেউ বলেছেন, মহান আল্লাহর জ্ঞান। কেউ বলেছেন, শক্তি ও মাহাত্ম্য। কেউ বলেছেন রাজত্ব এবং কেউ বলেছেন আরশ। তবে মহান আল্লাহর গুণাবলীর ব্যাপারে মুফাস্সীরদের নীতি হল, তাঁর গুণগুলি যেভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলির কোনরকম কল্পকাহিনী, অপব্যাখ্যা ও ধরন-গঠন নির্ণয় না করেই তার উপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস স্থাপন করা। কাজেই এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, এই কুরসির ধরন ও আকৃতি কেমন এবং তাতে মহান আল্লাহ কিভাবে আসীন হন, তা আমাদের পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব না। কেননা, যদিও তার অর্থ জানা সম্ভব হলেও; কিন্তু তার প্রকৃতত্ব আমাদের কাছে সম্পুর্ন অজানা।
ইবনে কাসীর বলেনঃ এ আয়াতটিতে দশটি বাক্য রয়েছে। প্রতিটি বাক্যের সাথেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে।

(১) প্রথম বাক্য (اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ) অর্থাৎ ‘তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতিত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই।’ এতে আল্লাহ শব্দটি অস্তিত্ববাচক নাম (لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ) সে সত্তারই বর্ণনা, যে সত্তা ইবাদাতের যোগ্য। মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্তা-ই ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনিই একমাত্র হক মা’বুদ। আর সবই বাতিল উপাস্য।

(২) দ্বিতীয় বাক্য (الْحَيُّ الْقَيُّومُ) অর্থ্যাৎ ‘তিনি সদা জীবিত এবং বিদ্যমান।’ আরবী ভাষায় حَيٌّ অর্থ হচ্ছে জীবিত। আল্লাহর নামের মধ্য থেকে এ নামটি ব্যবহার করে বলে দিয়েছে যে, তিনি সর্বদা জীবিত; মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। قَيُّوم শব্দ কেয়াম থেকে উৎপন্ন, এটা ব্যুৎপত্তিগত আধিক্যের অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, তিনি নিজে বিদ্যমান থেকে অন্যকেও বিদ্যমান রাখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। ‘কাইয়ূম’ আল্লাহর এমন এক বিশেষ গুণবাচক নাম যাতে কোন সৃষ্টি অংশীদার হতে পারে না। তাঁর সত্তা স্থায়ীত্বের জন্য কারো মুখাপেক্ষী নয়। কেননা, যে নিজের স্থায়ীত্ব ও অস্তিত্বের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী, সে অন্যের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কি করে করবে? 

(৩) তৃতীয় বাক্য لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ অর্থ্যাৎ ‘আল্লাহ তা'আলা তন্দ্রা ও নিদ্রা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।’ পূর্ববর্তী বাক্যে ‘কাইয়ূম’ শব্দে মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আসমান ও যমীনের যাবতীয় বস্তুর নিয়ন্ত্রণকারী হচ্ছেন আল্লাহ্‌ তা’আলা। সমস্ত সৃষ্টিরাজি তাঁর আশ্রয়েই বিদ্যমান। এতে করে হয়ত ধারণা হতে পারে যে, যে সত্তা এত বড় কার্য পরিচালনা করেছেন, তাঁর কোন সময় ক্লান্তি আসতে পারে এবং কিছু সময় বিশ্রাম ও নিদ্রার জন্য থাকা দরকার। পরবর্তী বাক্য দ্বারা সীমিত জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে জানানো হয়েছে যে, আল্লাহকে নিজের বা অন্য কোন সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করবে না, নিজের মত মনে করবে না। তিনি সমকক্ষতা ও সকল তুলনার উর্ধ্বে। তাঁর পরিপূর্ণ ক্ষমতার পক্ষে এসব কাজ করা কঠিন নয়। আবার তাঁর ক্লান্তিরও কোন কারণ নেই। আর তাঁর সত্তা যাবতীয় ক্লান্তি, তন্দ্রা ও নিদ্রার প্রভাব থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

(৪) চতুর্থ বাক্য (لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ) অর্থাৎ ‘আকাশ এবং যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবই আল্লাহর মালিকানাধীন।’ তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইচ্ছাশক্তির মালিক। যেভাবে ইচ্ছা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

(৫) পঞ্চম বাক্য (مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ) অর্থাৎ ‘এমন কে আছে যে, তার সামনে কারো সুপারিশ করতে পারে, তার অনুমতি ব্যতীত?’ এতে বুঝা যায় যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবতীয় সৃষ্ট বস্তুর মালিক এবং কোন বস্তু তাঁর চাইতে বড় নয়, তাই কেউ তাঁর কোন কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করার অধিকারী নয়। তিনি যা কিছু করেন, তাতে কারো আপত্তি করার অধিকার নেই। তবে এমন হতে পারত যে, কেউ কারো জন্য সুপারিশ করে, তাই এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, এ ক্ষমতাও কারো নেই। তবে আল্লাহর কিছু খাস বান্দা আছেন, যারা তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারবেন, অন্যথায় নয়। যেমন হাদীসে এরশাদ হয়েছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম আমি সুপারিশ করব।’ [মুসলিমঃ ১৯৩] একে ‘মাকামে-মাহমুদ’ বলা হয়, যা শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) এর জন্য খাস। অন্য কারো জন্য নয়।

(৬) ষষ্ঠ বাক্য (يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ) অর্থাৎ ‘আল্লাহ্ তা'আলা অগ্র-পশ্চাত যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত।’ অগ্র-পশ্চাত বলতে এ অর্থও হতে পারে যে, তাদের জন্মের পূর্বের ও জন্মের পরের যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলী আল্লাহর জানা রয়েছে। আর এ অর্থও হতে পারে যে, অগ্র বলতে সে অবস্থা বোঝানো হয়েছে যা মানুষের জন্য প্রকাশ্য, আর পশ্চাত বলতে বোঝানো হয়েছে যা অপ্রকাশ্য। আয়াতের ব্যাপকতায় উভয়দিকই বোঝানো হয়।

(৭) সপ্তম বাক্য (وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ) অর্থাৎ ‘মানুষ ও সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের কোন একটি অংশবিশেষকেও পরিবেষ্টিত করতে পারে না।’ কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যাকে যে পরিমাণ জ্ঞান দান করেন শুধু ততটুকুই সে পেতে পারে। এতে বলা হয়েছে যে, সমগ্র সৃষ্টির অণু-পরমাণুর ব্যাপক জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের আওতাভুক্ত, এটা তাঁর বৈশিষ্ট্য। মানুষ অথবা অন্য কোনো সৃষ্টি এতে অংশীদার নয়।

(৮) অষ্টম বাক্য (وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ) অর্থাৎ ‘তাঁর কুরসি এত বড় যার মধ্যে সাত আকাশ ও যমীন পরিবেষ্টিত রয়েছে।’ হাদীসের বর্ণনা দ্বারা এতটুকু বোঝা যায় যে, আরশ ও কুরসি এত বড় যে, তা সমগ্র আকাশ ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। ইবনে কাসীর আবু যর গিফারী (রাঃ)এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি রাসূল (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কুরসি কি এবং কেমন? তিনি (রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম, কুরসির সাথে সাত আসমানের তুলনা একটি বিরাট ময়দানে ফেলে দেয়া একটি আংটির মত। আর কুরসির উপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আংটির বিপরীতে বিরাট ময়দানের শ্রেষ্ঠত্ব।’ [ইবনে হিব্বান: ৩৬১ বায়হাকী: ৪০৫]

(৯) নবম বাক্য (وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا) অর্থাৎ ‘আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষে এ দুটি বৃহৎ সৃষ্টি, আসমান ও যমীনের হেফাজত করা কোন কঠিন কাজ বলে মনে হয় না।’ কারণ, এই অসাধারণ ও একক পরিপূর্ণ সত্তার পক্ষে এ কাজটি একান্তই সহজ ও অনায়াসসাধ্য।

(১০) দশম বাক্য (وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ) অর্থাৎ ‘তিনি অতি উচ্চ ও অতি মহান।’ পূর্বের নয়টি বাক্যে আল্লাহর সত্তা ও গুণের পূর্ণতা বর্ণনা করা হয়েছে। তা দেখার এবং বোঝার পর প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলতে বাধ্য হবে যে, সকল শান-শওকত, বড়ত্ব ও মহত্ব এবং শক্তির একমাত্র মালিক আল্লাহ তা'আলা।

এ দশটি বাক্যে আল্লাহর পরিচয় ও গুনাবলীর পূর্ণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী খবর

লিফি সি ড্রাগন

হারুন আল নাসিফ

লিফি সি ড্রাগন

সাগরে আমাদের পরিচিত মাছ ও প্রাণীগুলো ছাড়াও অসংখ্যা মাছ ও প্রাণী আছে। কোনোটা অপূর্ব সুন্দর, কোনোটা বেশ অদ্ভুত। অনেক সময় তাদের রঙ-রূপ, আকার-আকৃতি আমাদের ধারণা বা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।

ছবির সামুদ্রিক মাছ বা প্রাণীটিও তেমন। দেখলে মনে হয়, সামুদ্রিক কোনো উদ্ভিদ বা আগাছা। এর নাম লিফি সি ড্রাগন। গা-জুড়ে পাতার মতো পাখনা আর অনেকটা ড্রাগনের মতো দেখতে। তাই এই নাম।


আরও পড়ুনঃ


বিক্ষোভে বাড়ল ঈদের ছুটি

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

ভারতে শ্মশান থেকে মৃতদের কাপড় চুরি, আটক ৭

মৃত্যুর আগে বাবাকে ফোনে জানালেন ধর্ষণের কথা!


news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

মহামারীতে আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

শওগাত আলী সাগর

মহামারীতে আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

শওগাত আলী সাগর

ভারতে কোভিডে মানুষ মরছে, নাগরিকদের টিকা দিতে পারছে না সে দেশের সরকার। বাংলাদেশে টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ কবে পাবেন- তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। 

যারা এক ডোজও পান নাই- তারা কবে পাবেন, সেটাও এই  মুহূর্তে  বলা  কঠিন। পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ টিকার জন্য হা পিত্যেশ করছে। অথচ আমেরিকা করোনার টিকার উপর বসে আছে।

জো বাইডেনের পরিকল্পনা ছিলো তাদের নাগরিকদের টিকা দেয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকায় উৎপাদিত কোনো টিকা আমেরিকার সীমান্তের বাইরে যেতে পারবে না। 

আমেরিকার টিকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। এখন আর তার টিকা মজুদ করার দরকার নাই। তবু আমেরিকা শত শত মিলিয়ন ডোজ করোনার টিকা মজুদ করে রেখেছে। টিকার কাঁচামালে উপরও রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সারা পৃথিবী যখন মহামারীতে তখন আমেরিকার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কেন!

জানি, বাইডেন প্রেমিক অনেকেই এই কাজের পেছনেও বাইডেনের দেশপ্রেম খুঁজে  পাবেন। তারা হয়তো (আমেরিকানরা না) যুক্তি দেখাবেন- আমেরিকা নিজের প্রয়োজনে টিকা মজুদ করলে দোষের কিছু না। এটা অত্যন্ত ফালতু যুক্তি। 

মুক্তবাজার আর বিশ্বায়নের যুগে এই লাইনে আলোচনা হালে পানি পায় না। কেউ এই লাইনে আলোচনা তুলেও না। তবে আমেরিকার চিকিৎসকরাই বলতে শুরু করেছেন- আমেরিকার এখন আর  টিকা মজুদ করে রাখার দরকার নাই। তা হলে আমেরিকা  কেন টিকা মজুদ করছে?


চীনা উপহারের ৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে বুধবার

৩ হাজার যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছাড়লো ফেরি

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৬ দিন বন্ধ


আমেরিকার টিকা মজুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসাীর সরব হওয়া দরকার। টিকার অভাবে মানুষ মরছে, আর জো-বাইডেন শতাধিক মিলিয়ন ডোজ টিকার উপর বসে আছেন- এমন একটি দৃশ্য ভালো দেখায় না।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি

মুম রাহমান

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি

১.

আম্মার যদি একটা মেন্যু বুক থাকতো তার উপরে কী লেখা থাকতো? বোকার মতো প্রশ্ন হয়ে গেলো? আমার মা’র মেন্যু বুকে কি লেখা থাকবে তা তো আপনার জানার কথা নয়? কিন্তু, সত্যিই কি জানার কথা নয়। জগতের সব মা তো একই। কি বলেন? আচ্ছা আমার মায়ের মেন্যুতে লেখা থাকতো ‘খাইলে খা, না খাইলে যা।’ আমি খেতে বসে সবচেয়ে বেশি শুনেছি এ কথা। 
- আম্মা, আজকেও ডাল, সবজি! আমি খামু না।
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- পুঁইশাক! 
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- এইটা কি! মূলা! আমি খাই না।
- খাইলে খা, না খাইলে যা।
- এইসব। হাবিজাবি আমি খাই না! 
- খাইলে খা, না খাইলে যা।

ছোটবেলায় আমার এক নম্বর শত্রু ছিলো আম্মা। পৃথিবীতে তারচেয়ে নিষ্ঠুর মহিলা আমি দেখি নাই। আমার মতো লক্ষ্মী ছেলেও আমি পৃথিবীতে দেখি নাই। একটুকরা মুরগির মাংস, দুই টুকরা গরুর মাংস কিংবা একটা ডিম ভাজি করে দিলে যেখানে আমি সোনামুখ করে খাই সেখানে আমাকে দেয়া হতো পাট শাক ভাজি, ঢেড়শ দিয়ে চিংড়ি মাছ, করল্লা ভাজি, কাকরোল ভর্তা, পটলের তরকারি, কাচাকলা দিয়ে ইলিশ--এমনি সব ভয়াবহ খাবার! 

ইয়াক থু! কিন্তু থু বলার উপায় নেই। একবার বলছিলাম। আম্মা বললো, তোর খাওয়া লাগবো না, যা। দুইবেলা না খাইলে বুঝবি! বলাবাহুল্য একবেলা না-খেয়েই ‘ইয়াক থু’ বলার অপরাধ বুঝে গেছিলাম। মাবুদ সাক্ষী, আমি আর এই জীবনে খানাখাদ্য দেখে ‘ইয়াক থু’ বলি নাই।  

মানুষের জীবন বৈপরীত্বে ভরপুর। আমি ভাবতাম বড় হয়ে নেই একবার, তারপর আমারে আর পায় কে? নিজে বাজার করবো। মুরগি, গরু, খাসি কিনবো। প্রতিদিন মাংস ভুনা, কষানো খাবো। নিজের বেতনের টাকায় ডেইলি মাংস খাবো। কিসের কি! বড় হয়ে দেখি, আমিও মলা, কাচকি, চাপিলা মাছ কিনে ফেলি। 

বউরে বলি, ইয়ে, তুমি কলার থোড় রাঁধতে পারো? রাধা আমার আগুন চোখে তাকিয়ে বলে, আইনো। আমিও কলার থোড়, কচুর লতি, কচু শাক একদিনে বাসায় কিনে আনি। ঢেড়শ আর কচুরমুখির মতো পিছলা খাবারে আমার কেমনে এতো পিরীতি হইলো আমি তা বুঝতেই পারি না! বড়বেলাটা সত্যিই কনফিউজিং। এখন মনে হয় আম্মার হাতের রান্নাই সেরা। 

ইলিশ মাছের লেজ মাথা সহযোগে মূলা, বেগুন, আলু, পটল, ডেঙ্গা (ডাটা) দিয়ে আম্মা যে ঘাটা রাঁধেন তার তুলনা এই মহাবিশ্বে নাই। বউরে বলি, আম্মা যে ঘাটা রাঁধছে তেমনটা রাঁধতে পারো না! মনে মনে ভাবি, হায়রে আমার জীবন, কই গেল মাংস খাওয়া একরোখা ছোটবেলা। 

আম্মার রান্নাঘরটা একটা সামরিক সংগ্রহশালাও বটে। আম্মা রেগে গেলে তার খন্তা, ডাল ঘুটনি দিয়েই জায়গায় বেজায়গায় মারতেন। রান্নাঘর তার অস্ত্রের কারখানা ছিলো। আর আমি বলতাম, মাছ খায় বিলাইয়ে, মাংস খায় বাঘ, সিংহে, বুঝছো? আম্মা বুঝে না বুঝেই ভাজাকাঠি দিয়ে আমাকে আদর করে দিতেন। সেই আদরের ঠেলায় পাছা ডলতে ডলতে কোন কোণায় গিয়ে মায়ের নিষ্ঠুরতা আর জগতের সবচেয়ে ভালো রান্নার কথা ভাবতাম আর চোখের পানি ফেলতাম লুকিয়ে। পুরুষ মানুষ যে প্রকাশ্যে কাঁদতে পারে না সেই শিক্ষা ততোদিনে অবশ্য পেয়ে গিয়েছিলাম!

বড় হয়ে দেখলাম, আম্মার রান্নাঘরটাই ছিলো বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষাগার। শুধু নীরিক্ষাগার নয়, আম্মার রান্নাঘর ছিলো রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরপুর। সেখানে এক পাতিল পেপের ঝোলে লুকানো থাকতো কয়েক টুকরা শিং মাছ, সেখানে লাউ পাতার অন্তরে মোড়ানো থাকতো নোনা ইলিশ, সেখানে প্রচুর বুটের ডালের তলায় লুকিয়ে থাকতো গরুর মাংসের পিচ্চি পিচ্চি টুকরা। সেই টুকরার দু’চারখান পাতে পেয়ে যাওয়া কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের চেয়ে কম আনন্দের ছিলো না নিশ্চয়ই।  

এখন মনে হয়, পৃথিবীর সেরা রান্নাঘর আমার মায়ের রান্নাঘর আর পৃথিবীর সেরা রাঁধুনি আমার আম্মা। কিন্তু এ কি আমার একার মনে হয়? না, জগতের সকল মানুষই একবাক্যে বলবে, ‘আমার মায়ের হাতের রান্নাই সেরা।’ এমনকি জগত সেরা সেফও বলবে, তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার মায়ের হাতের যে কোন রান্না। ঋত্বিক অভিনীত সেই ‘মাছের ঝোল’ সিনেমাটার কথা খুব মনে পড়ছে। মায়ের প্রিয় মাছের ঝোল রান্না করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এ ছবির নায়ক। 

আমরা কি কখনো চেষ্টা করেছি, মায়ের পছন্দ মতো রাঁধতে? জানি, মায়ের মতো কেউ রাঁধতে পারে না। কিন্তু মাকে নিজের মন মতো রেঁধে খাওয়ানোর ভাগ্য পাওয়াই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া। মায়ের জন্য একটা ডিম ভাজি করতে পারাও বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই সৌভাগ্য যারা পায় তারা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী সন্তান। এই বিবেচনায় আমি একজন ধনী লোক। 

তবে ধনী, গরীব, সুখি, অসুখি সব মানুষই এক বাক্যে স্বীকার করবে, মা হলেন জগতের সবচেয়ে বড় রাঁধুনি। সত্যিই কি জগতের সব মা সেরা রাঁধুনি? কিন্তু কারণটা কি? সব মাই কি রান্নায় জগত সেরা? মনোবিজ্ঞানীরা কিন্তু অন্য কথা বলছে। 

বিজ্ঞানীরা মায়ের রান্নাকে জগত সেরা মনে করার পেছনে মন কিংবা মগজের কারসাজি বলছেন। তাদের মতে মায়ের রান্না সেরা মনে করার কারণ লুকিয়ে আছে মগজের গভীর কোষে, নিউরনে নিউরনে। মনে করে দেখুন এই রুক্ষ্ম, কঠিন পৃথিবীতে জন্মের সময় কতো অসহায় ছিলেন আপনি? সেই অসহায় শিশুটিকে কে খেতে দিয়েছিলো? মা দিয়েছিলো তার বুকের সুধা। 

নিজের শরীরের অংশকে নিজের শরীর, প্রাণ দিয়েই বাঁচিয়েছে মা। প্রথম মুখে ভাত, প্রথম খিচুড়ি, প্রথম স্কুলের টিফিন, বিকালের নাস্তা, সকাল, দুপুর, রাতের খাবার-- সবই মায়ের হাত থেকেই পেয়েছি আমরা। অসুখ হলে মায়ের হাতে স্যুপ, জাও, উৎসবে মায়ের রান্না করা পোলাও কোরমা, নানার মৃত্যু বার্ষিকীতে নানার প্রিয় পাতলা খিচুড়ি, জন্মদিনে চুলায় বানানো কেক-- মোদ্দা কথায় রোগে, শোকে, সুখে আম্মার রান্নাই প্রথম ভরসা। আমাদের সবার স্মৃতি জুড়ে তাই মায়ের রান্নার ঘ্রাণ। মায়ের হাতের রান্না আর মায়ের রান্নাঘরই আমাদের বাঁচিয়েছে। 

মা এক অদ্ভূত রাঁধুনি। তার রান্নার কোন রেসিপি নেই। কোন বই পড়ে, টিভি দেখে, ইউটিউব দেখে মা রান্না শেখেনি। তার কোন মেজারমেন্ট টুল নেই। মা যা রেঁধেছে, রান্নায় যা কিছু উপাদান দিয়েছে সবই পরিমাণ মতো অথবা আন্দাজ মতো। শুধু আন্দাজ মতোই না মায়ের রান্নার আরেকটা কৌশল ছিলো। সেই কৌশলটা অনেকটা যেমন খুশি তেমন সাজোর মতো। 

আমরা যা কিছু রাঁধি একটা তালিকা করি। এটা রাঁধতে ওটা লাগবে, তারপর ছোটো বাজারে। চিনিগুড়া চাল না-হলে খিচুড়ি হবে না, পেঁয়াজ ছাড়া পোলাও হবে না, ঘি ছাড়া সেমাই হবে না-- এইসবের তোয়াক্কা করেনি আম্মা। কি রাঁধতে কি কি লাগবে তার ধার ধারেনি আম্মা। যা আছে তা দিয়েই রাঁধে আম্মারা। 


ঈদের রাতের ফজিলত

মমতার মন্ত্রিসভায় শপথ নেবেন ৪৩ জন, নাম আছে ৬ মুসলিমের

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৬ দিন বন্ধ

জিহাদী বইসহ উল্লাপাড়া জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার


আম্মারা দেখেন, কী কী আছে হাতের কাছে, সে অনুযায়ী মেন্যু সাজায়। রেসিপির গোলামি করে না আমাদের আম্মা, রেসিপি তার গোলাম হয়ে থাকে। তাই আম্মা নিজের আন্দাজে যা রাঁধেন তাই সেরা। তার রান্নার মসলা, উপাদানের পরিমাণ কিংবা আন্দাজ সদাই নির্ভুল। দুজন হোক কিংবা বিশজন মা অব্যর্থভাবেই রেঁধেছে সেরা রান্নাটি। 

প্রশ্নটা হলো, মা নিজে এই অব্যর্থ রান্নাবান্না শিখলেন কই? 
তার মা’র কাছে। 
তার মা তার মার কাছে। 
এইভাবে মা থেকে মা বাঙলার রান্না ঘুরেফিরে আসে প্রতিটি রান্না ঘরে। 
বাঙালির সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হলো মায়ের রান্নাঘর।

২.

আম্মা মানেই ডাইল ঘুটনি, 
পাঙ্খা আর ঝাড়ুর বাড়ি...
: আম্মা আর মাইরো না...
: না মারলে তুই সিধা হবি না...
: উফ্, এ্যাম্মা... মা, মা, মা... 
: থাপ্পড় খাবি, ম্যা ম্যা করিস না, কাজ করতে দে।
(একটু পরে)
: খাইছস? তাড়াতাড়ি খা। নাইলে আরেকটা দিমু। 
জানি, আরেকটা মাংস কিংবা ডিম না, ঝাড়ুর বাগি দিবো। তাই তাড়াতাড়ি পেঁপের ঝোল খায়া উঠি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইউরোপ-আমেরিকা বেশি দূর, নাকি বাড়ির পাশের কবর?

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপ-আমেরিকা বেশি দূর, নাকি বাড়ির পাশের কবর?

আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিক বলেছেন, ইউরোপ-আমেরিকা। সবখান থেকেই এখন নিমেষের মধ্যে অনলাইন-ফোন-স্কাইপেতে যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ ও আপডেট পাঠানো সম্ভব। দেশ কিংবা বিদেশ। মহাদেশ কিংবা মহাকাশ। কাছের কিংবা দূরের। সবারই খোঁজখবর আমরা নিমেষেই জানতে পারছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কি কিছু জানতে পেরেছি? বাড়ির পাশে কবরে শুয়ে থাকা প্রিয়জনের এতটুকু কোনো সংবাদ?

তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন। তার সেই স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘আপনি যদি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অথবা পাশের কোলকাতা বেড়াতে যান। কিংবা দূরের ইউরোপ বা আমেরিকায় বেড়াতে যান। তাহলে যাত্রাপথের দূরত্ব, টিকেটের দাম, ভ্রমণ সময় ও খরচ। কক্সবাজার-কোলকাতার জন্য যা লাগবে। তার চেয়ে বহু গুণ বেশি লাগবে ইউরোপ-আমেরিকার জন্য। অর্থাৎ গন্তব্য যত দূরের। খরচও তত বেশি। লাগেজ-ব্যাগেজের সাইজও তত বড়।’

এবার একটু ভাবুন। কাছের কক্সবাজার-কোলকাতা। কিংবা দূরের ইউরোপ-আমেরিকা। সবখান থেকেই এখন নিমেষের মধ্যে অনলাইন-ফোন-স্কাইপেতে যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ ও আপডেট পাঠানো সম্ভব।

দেশ কিংবা বিদেশ। মহাদেশ কিংবা মহাকাশ। কাছের কিংবা দূরের। সবারই খোঁজখবর আমরা নিমেষেই জানতে পারছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কি কিছু জানতে পেরেছি? বাড়ির পাশে কবরে শুয়ে থাকা প্রিয়জনের এতটুকু কোনো সংবাদ?

তাহলে, ইউরোপ আমেরিকা বেশি দূরে। নাকি বাড়ির পাশের কবর? যার বিন্দুমাত্র কোনো সংবাদ। খোঁজখবর। অনলাইন-ফোন-স্কাইপে যোগাযোগ। কোনো রকমের কোনো আপডেট। কি কারো জানা আছে? তাহলে নিশ্চিতভাবেই, সেই অজানা দেশটা ইউরোপ-আমেরিকা বা মহাকাশের চাইতেও অনেক অনেক বেশি দূরে।

তাই সেই অনন্তযাত্রার। অজানা দূরদেশে যাওয়ার টিকেট মূল্য। সঙ্গে প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা। লাগেজ-ব্যাগেজ-জিনিসপত্র। কল্পনাতীতভাবে অনেক অনেক গুণ বেশি প্রয়োজন হবে। অকল্পনীয় সীমাহীন.....

তাই, আমাদের সীমিত আঁয়ুর এই স্বল্পদিনের হায়াতের জীবনে। শবে ক্বদর আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ এক নেয়ামত। সেরা উপহার। মহা বাম্পার বোনাস। সাথে আল্লাহর দেওয়া ক্ষমার প্রতিশ্রুতিটা হচ্ছে, সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ গিফট। যে যত বেশি পাবে। সে ততই বড় ভাগ্যবান।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের ক্ষেত্রে এইসব কতোটা স্মরণে রাখি!

অনলাইন ডেস্ক

মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের  ক্ষেত্রে এইসব কতোটা স্মরণে রাখি!

বিশ্ব মা দিবস আজ। জন্মদাত্রী মা, যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখা হয় সন্তানের। সেই মায়ের স্মরণে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একজন মা তার সন্তানের সুখের জন্য যে কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করে সে ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

‌‘মা’কে নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। ‘মা দিবসে দিন ভর মাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আর উচ্ছ্বাসের প্লাবন বইছে। কিন্তু এর বাইরেও মা এর আরেকটা মূর্তি আছে, প্রতিচ্ছবি আছে। সেটি হচ্ছে স্ট্রাগলের, লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

সন্তানের সুখের জন্য, সংসারের সুখের জন্য, পরিবারের সুখের জন্য তার স্যাক্রিফাইসের প্রতিচ্ছবি। মাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের  ক্ষেত্রে এইসব আমরা  কতোটা স্মরণে রাখি!

কোভিড মহামারীতে দেশে দেশে, ঘরে ঘরে মায়েদের কতোটা বাড়তি চাপ পোহাতে হচ্ছে, তা কি কখনো আমরা ভেবে দেখেছি। হোম ফ্রম ওয়ার্ক, কিংবা ঘরে থাকো’র বাড়তি চাপটা তো মায়েদের উপরই। সে নিজের মা হোক আর সন্তানের মা হোক। সেই চাপ কমানোয় নিজের ভূমিকা স্থির করতে না পারলে মা কে নিয়ে উচ্ছ্বাসে লৌকিকতাই করা হয় কেবল, মাকে, মায়েদের সম্মান জানানো হয় না। (ফেসবুক থেকে)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর