প্রসঙ্গ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক

হারুন আল নাসিফ

প্রসঙ্গ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক: ধর্ষণ না প্রতারণা?
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ না প্রতারণা এ প্রশ্নটি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত একটি প্রসঙ্গ। কিছুদিন আগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুকে জড়িয়ে করা একটি মামলা প্রসঙ্গে এ প্রশ্নটি বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। আজ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরার ঝর্না মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করার খবরে এ প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে এসেছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হলেও ধর্ষণের সংজ্ঞায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের সংজ্ঞাই বহাল আছে।

একই আছে৷ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯(১)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোন পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত [ষোল বছরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করে, অথবা [ষোল বছরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলে গণ্য হইবেন।’

এ আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে ১৬ বছরের নীচে হলে নারীর সম্মতি থাকলেও তা ধর্ষণ৷ কারণ নারী প্রাপ্তবয়স্ক নয়৷ তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই৷ কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়েও কিছুক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিষয়ে। অনেকে এটিকে ধর্ষণ বলতে আপত্তি করছেন। এ প্রসঙ্গে অনেকে পার্শ্ববতী দেশ ভারতে্র আদালতে এ সংত্রান্ত কয়েকটি মামলার রায়কে দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করছেন। এ রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মতিতে দৈহিক মিলন হলে সেটা ধর্ষণ হবে না।
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ক্ষেত্রে যে জোরপূর্বক বা বলপ্রয়োগের বিষয় থাকে তা অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সামনে এনে অনেক আইনজীবী এটা ধর্ষণ নয় বলে যুক্তি তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছেন। তাদের মতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যখন শারীরিক সম্পর্ক হয় তখন সেটা ধর্ষণ নয়৷ কিন্তু পরে যখন বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয় না তখন ধর্ষণ মামলা করা হয়৷ তারা এটিকে ধর্ষণ নয়, প্রতারণা বলে বিবেচনা করতে চান। এবং সে মোতাবেক বিদ্যমান আইনেরও সংশোধন চান।
মানবাধিকার কর্মী ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রেমের সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মতিতে দৈহিক মিলনের পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি বড় ধরনের প্রতারণা৷ তবে আমার বিবেচনায় এটা ধর্ষণ নয়৷ বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে এই ধরনের প্রতারণার বিচার ও শাস্তির বিধান আছে৷ কিন্তু যেহেতু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এটা ধর্ষণ, তাই দণ্ডবিধির ওই ধারায় কেউ মামলা করেন না৷ সরাসরি ধর্ষণ মামলা করেন৷
দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহিত বলে বিশ্বাস করান, কিন্তু আদৌ ওই বিয়ে আইনসম্মতভাবে না হয় এবং ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে অপরাধী সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে৷

এখানে একটি বিষয় নিয়ে দো’চার কথা বলা দরকার। তা হলো বিয়ের প্রলোভন শুধু প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে হয় না। অন্য ক্ষেত্রেও হয়। এ ক্ষেত্রে এক শ্রেণীর নারীলিপ্সু ব্যক্তি নারীকে নিছক ভোগ বা যৌনশোষণের কুমতলবে তাদের বিশেষ কোনো দুর্বলতা বা অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে তাদের বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে থাকে। এটি আদৌ প্রেমের সম্পর্কের মতো বিষয় নয়। তাই কোনো নারী কারো সঙ্গে যৌনসম্পর্কের সম্মতি দিয়ে থাকলে তা তার কাছ থেকে কিভাবে আদায় করা হয়েছে বা ওই নারী কোন পরিস্থিতিতে সম্মতি দিতে বাধ্য হয়েছেন তা দেখার দায়িত্ব আইনকেই নিতে হবে। এটা ন্যায়বিচারের দাবি।

পরিশেষে একটুখানি মাওলানা মামুনুল হকের প্রসঙ্গে আসা যাক। আমারা এতক্ষণ যে আইনের কথা বললাম তা হলো দেশের প্রচলিত আইন। এ আইনেই রাষ্ট্র বিচার করবে। পরকালে আল্লাহর আদালতের কথা নাইবা বললাম,  জনতার আদালত বলতেও তো একটা কথা আছে। এক্ষেত্রে জনতার আদালত নিশ্চয়ই ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক হওয়ার কথা। কেননা তিনি তো আর দেশের আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো নন। তিনি দেশে ইসলামি শাসন তথা ইসলামি শরিয়াহ প্রচলনের অন্যতম প্রবক্তা। ইসলাম প্রিয় মানুষের তো তার শাস্তি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেকই চাওয়ার কথা। তাই না? কিম্বা তার নিজেরও তো শরিয়াহর বিধানকেই বেশি পছন্দ করার কথা। 

মামুনুল হক তাকে বিয়ে করেননি- জান্নাতের এ দাবি সত্যি হয়ে থাকলে ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক এটাতো সুস্পষ্ট জিনা, বিবাহিত পুরুষ হিসেবে যার শাস্তি পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদণ্ড। এদেশের ইসলামপ্রিয় মানুষ এটাকে কিভাবে নেবেন? পরকালে তার কী বিচার বা শাস্তি হবে? আল্লাহই ভালো জানেন।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের সমস্যা আজকের নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র তৈরী হওয়ার পর থেকে। এই রাষ্ট্র  তৈরির পেছনে ছিল ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর  ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাস করা অত্যাচারিত ইহুদিরা নিজেদের জন্য একটি স্বদেশ চেয়েছিল। সেই স্বদেশই তাদের গড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা যে অঞ্চলে হাজার বছর ধরে বাস করতো, সেই অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের  উৎখাত ক’রে, উদবাস্তু ক'রে। যারা ইসরায়েল তৈরি করেছিল, তাদের উচিত ছিল ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। ১৯৬৭ সালে  ইসরায়েল ছয় দিন ব্যাপী একটি যুদ্ধ করে মিশর আর জর্দানের  আরও ভূমি দখল করে নিয়েছিল,  তারপরও ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো বন্ধ করেনি।

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়, তা অসম যুদ্ধ। ইসরায়েল পৃথিবীর অন্যতম মিলিটারি মহাশক্তি, আর ফিলিস্তিনিদের হাতে কিছু ইট পাটকেল, কিছু  হাত বোমা, কিছু রকেট। নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে, আর অসহনীয় শরণার্থী-জীবনের ইতি ঘটাতে যুগে যুগে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে। জঙ্গিরা ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুঁড়ে মারে, ২ জন নিহত হয়, আর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল যুদ্ধ-বিমান পাঠায়, মিসাইল ছুঁড়ে ফিলিস্তিনি জঙ্গিসহ সাধারণ মানুষ, তাদের ঘর বাড়ি  সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে আসে, ২০০০ জনের মৃত্যু হয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন দেখে অন্যান্য দেশের মুসলিমরা ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলকে সমর্থন করা ইউরোপ আর আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জঙ্গি হয়ে ওঠে।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নোয়াম চমস্কির টুইট

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


আজ ইউরোপ আর আমেরিকা চেষ্টা করে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে। কিছুদিন শান্তি বিরাজ করে, আবার শুরু হয়ে যায় সংঘাত। আমার মনে হয় না এই সংঘাত-সংঘর্ষ অচিরে শেষ হবে। এ আরও দীর্ঘকাল চলবে। ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্র চায়, তবে যে  ভূমিতে তারা বাস করতো, সেই ভূমির কিছুটা হলেও ফেরত চায়। কিন্তু সেই ভূমিতে এখন বাস করছে ইসারেয়েলিরা। এরাও দেবে না, ওরাও ছাড়বে না। এই সম্পর্কের মধ্যে এখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের অধিকার নিয়ে আগুন জ্বলছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কালো ধোঁয়া। দূর থেকে এই অসম যুদ্ধ দেখতে হবে আমাদের, এ ছাড়া উপায় কী? যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে আজ, তাদের যদি ফিলিস্তিনিদের মতো অবস্থা হতো, তারাও জানে তারা তখন ফিলিস্তিনিরা যা করছে, তাই করতো। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইতো।

যুদ্ধ অনেক দেখেছি, আর দেখতে ইচ্ছে করে না। আর দেখতে ইচ্ছে করে না বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা। শান্তি দেখতে  চাই সর্বত্র। কিন্তু শান্তি বোধহয় মানুষ নামক প্রাণীর জন্য খুব সহজ নয় পাওয়া।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

হারুন আল নাসিফ

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করার পর রোজাদার তথা মুসলিম পুরুষদের জন্য রয়েছে ইদ বা আনন্দ। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুমিন মুসলমান পুরুষরা দলে দলে ইদগাহে একত্রিত হন। ইদের নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। 

কিন্তু নারীদের বেলায় করণীয় কী? তারা কি ইদগাহে যেতে পারবেন বা ইদের নামাজ আদায় করতে পারবেন? নারীদের ইদের নামাজ আদায়ের হুকুমই বা কী? হাদিস অনুযায়ী মুসলিম নারীরা ইদগাহে যেতে পারবেন, ইদের নামাজ পড়তে এবং দোয়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 

এ প্রসঙ্গে বুখারির ৩২৪ নং ও মুসলিমের ৮৯০ নম্বর হাদিসে এসেছে: হজরত উম্মে আতিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ(সা,) প্রাপ্তবয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনীসহ সকল নারীকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহার নামাজের জন্য বের হওয়ার এবং নামাজে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঋতুবতী মেয়েরা নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবেন কিন্তু কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নেবেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। রাসুলুল্লাহ(সা.) বললেন, তিনি তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরবেন।

তবে নারীদের ইদের নামাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, সুন্নাত। এ নিয়ে আবার মাজহাবগুলোতে মতভেদ রয়েছে। 
১. ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে নারীদের ঈদগাহে নামাজ আদায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

 ২. হানাফি মাজহাব মতে, নারীর জন্য ঈদের নামাজ পড়া নফল। আর নফল নামাজ জামাতে আদায় মাকরূহ। অবার ফেতনার আশংকায় নারীদের ইদের নামাজ আদায় করাও মাকরুহ।

আমাদের দেশে নারীরা সাধারণত ইদের জামাতে অংশ নেন না। এ ব্যাপারে কেউ তেমন কিছু জানেন না, আবার জানার আগ্রহও দেখা যায় না। এ নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনা হলে আমাদের জানার সুযোগ হতো। এ নিয়ে আমরা কোনো ভুলে থাকলে তা থেকে বাঁচা যেতো।
নিচের ছবিটি ২০১৬ সালের ৬ জুলাই ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি ইদগাহে নারীদের জামাতের একাংশ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

চঞ্চল চৌধুরী

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। এতে আমি শুধুই বিব্রত নই, সেই সাথে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি...।

এখন নিশ্চয়ই আমার পরিচয় নিয়ে কারো কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। ভবিষ্যতে নতুন করে আমার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে ইনবক্স করলে ধন্য হবো। তবে পরিচয়ের নামে, এরকম পরিস্থিতি কাম্য নয়।

গুটি কতক মানুষ যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অপরাধ? তাদের জন্য বলছি... অপরাধ নয়, এটা যেমন ঠিক, আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই।

বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে, আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মীসহ, দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন, আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি...। তাঁদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

আর সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও, পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইলো। কারণ তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে, অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করেছেন, বলেছেন...কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি....। এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।

আপনাদের সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টাকে কেউ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউই কাউকে অসম্মান করে কিছু লিখবেন না। পারলে গঠনমুলক কিছু লিখুন। সেটাই হবে সভ্য মানুষের কাজ।

আরও পড়ুন


যার জন্যে মিতুকে হত্যা, কে সেই এনজিও কর্মী গায়েত্রী?

দেশের দুঃসময়ে বিদেশে বসবাসরত ভারতীয় চিকিৎসকদের অনন্য উদ্যোগ

শিমুলিয়া ঘাটে আজও ঘরমুখো মানুষের ঢল, অপেক্ষায় শতশত যান

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রোবাস চালকের লাশ উদ্ধার


শুধু একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, যে পেশারই হোন না কেন, আপনার কর্ম দিয়ে দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল করছেন, সেটাই আসল কথা। সব ধর্মেই ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা, আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক।

আমাকে নিয়ে অতি:সত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক।

আমার পরিচয়....
আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশী,আমি বাঙালী....
আর ধর্ম পরিচয়টা প্রত্যেকের মতই জন্মগত।
এতে কারো কোন আপত্তি থাকলেও, আমার কোন সমস্যা নেই।

আর সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন...। সেটা হলো, আমি একজন শিল্পী....। আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সবাই সমান এবং আপন।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা...
ঈদ মুবারক....

সারা পৃথিবী জুড়ে যে করোনা সংকট চলছে, এই দু:সময়ে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন...। আসুন,আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। 

মানবতার জয় হোক....
সবার জন্য ভালোবাসা।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বাবুল আক্তার: বাদী থেকে প্রধান আসামি!

হারুন আল নাসিফ

বাবুল আক্তার: বাদী থেকে প্রধান আসামি!

স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের মাথায় তিনি আজ শ্বশুরের করা নতুন মামলায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনা সচেতন ও চিন্তাশীল মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপারও যে ঘটতে পারে তা অনেকে ভাবতেই পারেননি!

সে সময় বাবুল আক্তারের কান্নার দৃশ্য দেখে অনেকে আর প্রতি সমবেদনা বোধ করেছিলেন। তাকে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু এ কী কথা! সেই বাবুলই তাহলে স্ত্রী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী? একজন সৎ ও কীর্তিমান অফিসার হিসেবে পরিচিত ও প্রশংসিত ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কথা বিশ্বাস করাকে অন্যায় মনে করেছিলেন বেশির ভাগ মানুষ।

এমন ঘটনা সত্যি না হওয়াই কাম্য। আইন-শৃংখলা বাহিনির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন ছক আঁটা ও তা বাস্তবায়নে যে তিনি তার পদ ও এসংক্রান্ত সুবিধা কাজে লাগিয়েছিলেন তাতে সন্দেহ থাকার কথা নয়। কী ভয়ংকর! ভাবতে গা শিউরে উঠছে। এটাই কি তার একমাত্র অপরাধ সংশ্লিষ্টতা? মনে হয় না। 

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পরকীয়ার জের ধরে পুলিশের এক এসআই আকরাম হোসেনেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে একটি মামলা  করা হয়। আকরামের বোন জান্নাতারা রিনি ঝিনাইদহ আদালতে মামলাটি করেন। এমামলার বিষয়টিও এখন নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রতীয়মান হওয়া বিচিত্র নয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এসআই আকরাম হোসেনের স্ত্রী বনানী বিনতে বছির বর্ণির সঙ্গে বাবুল আক্তারের পরকীয়ার জেরে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মহাসড়কে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় আকরামকে। নিহত আকরাম হোসেন তখন বিমানবন্দরে স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন। তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। 

ওই সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি বলেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। 

এরপর দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় বেশ কয়েকজন কথিত জঙ্গি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। শ্বশুর এসময় বাবুল আক্তারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছিলেন।

তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় মিতু হত্যার তদন্ত নতুন মোড় নেয়। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ, বাবুল আক্তারই মিতুকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু বাবুল আক্তার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর

যদি চালুই করতে হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

রউফুল আলম

যদি চালুই করতে হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

ইউনিভার্সিটিগুলো অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা স্টুডেন্ট নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর তরুণ শিক্ষকদের অনেকেই গড়ে দুই-তিন বছর বা আরো বেশি সময় ব‍্যয় করে বিদেশে মাস্টার্স/পিএইচডি পাওয়ার চেষ্টায়। এতে তাদের পাঠদান ও অন‍্যান‍্য কর্ম ব‍্যাহত হয়। যারা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়, তারা পাঁচ-সাত বছর ডিপার্টমেন্টে উপস্থিত না থেকেই বেতন পায়। এটা বস্তুত কাজ না করেই বেতন! প্রফেসর কামরুল হাসানের এক লেখায় জানতে পারি, অনেকে এই টাকা ফেরত না দিয়ে বিদেশ থাকার চেষ্টা করে বা থেকে যায়। সে টাকা আদায় করতে সরকারের অনেক বেগ পেতে হয়।

ক্ষতিটা যে শুধু আর্থিক তাই নয়। এই যে পাঁচ-সাত বছর একজন শিক্ষক ডিপার্টমেন্টে নেই, সে কারণে শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক সময় পরীক্ষার ফলাফল দিতে দেরি হয়। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে শিক্ষিত করতে গিয়ে বহু তরুণের জীবনকে হুমকিতে ফেলছি আমরা। কী ভয়াবহ! অথচ সেসব তরুণদের মধ‍্যে কতো সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে।

তাহলে, চাকরি জীবনের গড়ে দশ বছরই কাটে উচ্চশিক্ষার পেছনে। আবার এই শিক্ষকদের অনেকেই দেশে ফিরে আর গবেষণার সাথে কোনভাবেই জড়িত থাকেন না। অনেকে করেন রাজনীতি। অনেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার জন‍্য দৌঁড়ান। তাহলে, এই দশ বছরে গড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে বেতন ধরলেও, জনপ্রতি রাষ্ট্রের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা জলাঞ্জলি।

তাহলে সমাধান কি? সমাধান হলো, রাষ্ট্রকে উচ্চ বেতন-ভাতা দিয়ে বিদেশ থেকে দেশিয় ছেলে-মেয়েদের ফিরিয়ে নেয়ার উদ‍্যোগ নিতে হবে। পিএইচডি করা প্রার্থীদের প্রাধ‍ান‍্য দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। তাদেরকে গবেষণার জন‍্য পর্যাপ্ত ফান্ড দিতে হবে। বিদেশ থেকে শিক্ষক ভাড়া করে আনতে হবে। সারা দেশে যদি হাজার হাজার বিদেশি লোক, কর্পোরেটের চাকরি দখল করে রাখতে পারে, বিশ্ববিদ‍্যালয়ে শিক্ষক বা গবেষক আনা যাবে না কেন?

চলমান এই নিয়ম বা ধারা হয়তো নব্বই দশক পর্যন্ত উপযোগী ছিলো। কিন্তু এখন এই ধারাটা রাখার কোন প্রয়োজন নেই। এখন সময় এসেছে সরাসরি পিএইচডি করা প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার। চাইলেই হয়তো দেশের সব ইউনিভার্সিটির জন‍্য এতো শিক্ষক আমরা একসাথে পাবো না, সেটা সত‍্য। কিন্তু আমার যদি এখন থেকে নিয়মটা চালু করি, চর্চাটা ভালোভাবে শুরু করি, তাহলে সেটা সংস্কৃতিতে দাঁড়াতেও প্রায় এক দশক লেগে যাবে। আমি ভাবতেই পারি না, বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিতে ২০৩০ সালে গিয়েও পিএইচডি ছাড়া নিয়োগ হবে! দুনিয়ায় আমরাই হয়তো তখন এ বিষয়ে একমাত্র উদাহরণ হবো।

আরও পড়ুন


বিবেকবোধ বা মানবিকতায় ‘চুজ অ্যান্ড পিক’ ব্যবস্থা নেই

আবারও করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড গড়লো ভারত

পরিচয় পাওয়া গেছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রোবাস চালক ও মালিকের

যে ৮ বিভাগে ভারী বর্ষণসহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে


সীমিত পরিসরে হলেও, দেশেই উন্নত মানের পিএইচডি ডিগ্রি তৈরি করার চেষ্টা শুরু করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এটা হলে, আমাদের কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার মান অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরকে নির্বাচিত করুন। আমরা হয়তো একবারে সব দাঁড় করাতে পারবো না। কিন্তু আগামী দশ-পনের বছরের জন‍্য পাঁচটা সেক্টর বেছে নিতে পারি। এই সেক্টরগুলোতে পনের বছরে পাঁচশ গবেষক তৈরি করার লক্ষ নেন। যারা হবে বিশ্বমানের। তাদের হাত দিয়ে হবে দেশে গবেষক তৈরির সংস্কৃতি। যতোদিন আমরা দেশে বিশ্বমানের গবেষক তৈরি করতে না পারবো, ততোদিন গবেষণায় আত্মনির্ভরশীলতা আসবে না। কখনোই না!

২০৭১ সালে বাংলাদেশের বয়স হবে একশো বছর। একশো বছরের একটা দেশে যদি বিশ্বমানের কুড়িটা ইউনিভার্সিটি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট না থাকে, আমি স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি, সে দেশ সে সময়ে হাবুডুবু খাবে। তাকে বাঁচানোর জন‍্য পর্যাপ্ত লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সে দেশটা পুরোপুরি হয়ে যাবে অন‍্যদের পণ‍্যের বাজার। সারা পৃথিবী যে পথে হেঁটেছে আমাদেরকে টিকে থাকতে হলে সে পথেই হাঁটতে হবে। এই নিয়মগুলো কখনো না কখনো আমাদের দেশেও হবে। একদিন না একদিন যদি চালুই হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর