লোকে পাগল বলে বলুক তবুও হাসুন, হাসিটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে

মুম রহমান

লোকে পাগল বলে বলুক তবুও হাসুন, হাসিটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে

তিনজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন। কেউ তাদের নাম জানে না। তাদের পরিচয়ও জানে না। কারণ তারা কখনো কথা বলেনি। তারা কখনো কোন উপদেশ দেয়নি, পরামর্শ, আদেশ, বাণী কিচ্ছু দেইনি। তারা তিনজন একসাথে ঘুরতো আর একটি কাজই করতো। একে কাজ বলা যায় কি না, সেটাও অনেকের জানা ছিলো না। এই তিন বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যেতো আর হাসতো। এই তিনজনকে সবাই ‘হাসিমুখো তিন সাধু’ হিসাবেই চিনতো।

গ্রামের বাজার কিংবা কোন ভিড় এলাকায় তারা যেতো। তারপর হাসা শুরু করতো। কোন কারণ ছাড়াই। এমনভাবে হাসতো মনে হতো কি যেন মজার কিছু ঘটে গেছে। ক্রমে লোকজন জড়ো হতো। নানা প্রশ্ন, দ্বিধা, কৌতুহল তৈরি হতো মানুষের মনে। কিন্তু তিন ভিক্ষু কোন কথা বলতো না, তারা কেবল হেসেই যেতো। কে না জানে, হাসি সংক্রমক। ক্রমশ তাদের হাসি সংক্রামিত হতো। একে একে সবাই সেই হাসিতে যোগ দিতো। যখন গ্রামের লোকজন হেসে উঠতো তখন এই তিন ভিক্ষু চলে যেতো, অন্য কোন গ্রামে। আবার সেখানে বইয়ে দিতো হাসির হুল্লুড়। এভাবেই চলছিলো বেশ।

তারপর এক ভিক্ষু সাধক মারা গেলেন। বাকী দুইজন আরেক গ্রামে এলো। এতো দিনে চীনের লোকেরা এই তিন ভিক্ষুর কথা জেনে গেছে, তারা লোকমুখেই বিখ্যাত হয়ে গেছে। এইবার যখন গ্রামে দুই ভিক্ষু এলেন গ্রামের লোক তখন স্তব্ধ, শংকিত, কৌতুহলী তো বটেই। তারা দুই ভিক্ষুর কাছাকাছি এলো। তাদের ধারণা ছিলো বন্ধু, সঙ্গী হারানোর ব্যথায় তারা কাতর থাকবে। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখলো, দুই ভিক্ষু খুব হাসছেন, ঠিক তিনজন যেভাবে হাসতেন সেইভাবেই।

বিস্মিত লোকেরা এইবার সহজে হাসিতে যোগ দিতে পারলো না। গ্রামের প্রায় সব লোক এগিয়ে এলো, তারা জিজ্ঞেস করলো, আপনারা হাসছেন কেন? আপনাদের তো মন খারাপ থাকার কথা। 

এই একবার, এই প্রথমবার তারা কথা বললেন। দুই সাধুর একজন বললেন, ‘আমরা হাসছি কারণ মানুষটা জিতে গেছে। আমরা সব সময়ই ভাবতাম আমাদের মধ্যে প্রথম কে মারা যাবে। কে প্রথম হবে মৃত্যুর যাত্রী। তো ও জিতে গেলো, আমাদের হারিয়ে দিয়ে গেলো। আমরা হাসছি আমাদের পরাজয় আর বিজয় দেখে।’

‘আমরা আরো হাসছি কারণ আমরা বহুকাল একসাথে এসেছি, আমরা একত্রে উপভোগ করেছি এই পৃথিবী, আমরা একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করেছি। তাকে বিদায় উপহার হিসাবে হাসির চেয়ে ভালো কিছু আমাদের কাছে নেই। আর আমরা কেবল হাসতেই শিখেছি।’ কিন্তু এই কথাতেও গ্রামের লোকের মন ভরলো না। তারা তখনও বিষন্ন।

তিন সন্নাসীর একজনের অভাব বোধে তারা ব্যথিত। তো সেই সন্নাসীর দেহ রাখা হলো শেষকৃত্যের জন্য। মৃত ভিক্ষু সন্নাসী আগেই জানিয়ে গিয়েছিলেন, তার পোশাক যেন বদলানো না হয়। কারণ তিনি সদাই পরিস্কার পোশাক পরতেন। এটা অনেকের মতো চীনা রীতিও যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া হয় আর নতুন কাপড় দেয়া হয়। কিন্তু তিনি মানা করে গিয়েছিলেন গোসল দিতে, নতুন পোশাক পরাতে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকিনি, নোংরা থাকিনি। আমার জীবনে এতো এতো হাসি ছিলো যে আমার মধ্যে কোন অশুদ্ধতাই নেই। আমি কোন ধূলা ময়লা লাগতে দেইনি এই গায়ে। হাসি সদাই তাজা আর সুন্দর। তাই আমার পোশাক বদলাবেন না, আমাকে গোসল দেবেন না।’ লোকে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী যেভাবে সে ছিলো সেভাবেই তাকে পোড়াতে নিলো। আর যখন তার শরীরে আগুন ধরানো হলো, তখনই সবাই বিস্মিত হলো। কারণ বৌদ্ধ ভিক্ষু তার কাপড়ের, শরীরের নানা জায়গায় আতশবাজি রেখে দিয়েছিলো। আগুনের আঁচ পেয়ে সেইসব আতশবাজি আকাশে ওঠে ফুটতে লাগলো। আকাশ যেন আলোর ফুলকিতে হাসতে শুরু করলো। এক ভিক্ষু বললেন, ‘দেখো ও আমাদেরকে আবারও পরাজিত করেছে, শেষ যাত্রাতেও সে আমাদের হাসি দিয়ে গেলো।’ গ্রামবাসী বুঝতে পারলো এই যে দুই সন্নাসী হাসছে তার সঙ্গে তাদের মৃত বন্ধুটিও হাসছে। আর সবাই হাসতে শুরু করলো।

যারা বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানেন, তারা এটুকু জানেন যে, বুদ্ধ কোন একক ব্যক্তি নয়। সাধনার চূড়ান্তে পৌঁছালে বুদ্ধ হওয়া যায়। আর এই যে গল্পে তিন বুদ্ধ ভিক্ষু তারা ছিলেন বুদ্ধের হাসির তিন রূপ। হাসিরও তিনটি ধরণ আছে। সেটা সম্পর্কে একটু বলে নেই।

প্রথম হাসি হলো, অন্যের উপর হাসা, যেটা আমরা সব সময় করি। অন্যকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা, ইয়ার্কি-ফাজলামো। এটাকে বলা হয় সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণীর হাসি।

দ্বিতীয় হাসি হলো নিজের উপর হাসতে পারা। যখন কেউ নিজেই নিজেকে হাসির পাত্র মনে করে তখন সেই হাসি জ্ঞান আর প্রজ্ঞায় চালিত হয়। আত্ম অহংকার, নৃশংসতা, লোভ, ঘৃণা ইত্যাদির উর্দ্ধে উঠতে পারলেই নিজেকে নিয়েই হাসা যায়। যে মানুষ নিজের উপর হাসতে পারে সে মানুষ ক্ষুদ্র কামনা-বাসনার উর্দ্ধে উঠতে পারে।

আর তৃতীয় হাসি নিজের উপরও নয়, অন্যের উপরেও নয়। এ হাসিকে বলে মহাজাগতিক হাসি। বলা হয়ে থাকে একমাত্র বুদ্ধই এই হাসি হাসতে পারে। কারণ এই হাসি হাসতে হলে মহা জগতের লীলাখেলা বুঝতে হয়। এই জগতের শুরু কোথায়, এই জগত কোথায় শেষ, মানব জন্ম কীভাবে শুরু হয়, কখন কীভাবে শেষ হয়-- এর কিছুই আমরা জানি না। অজানা অচেনা এক রহস্যময় পৃথিবীতে অনিশ্চিত একটা জীবন পার করি আমরা। এই অসীম রহস্য, অনিশ্চয়তা, অনিত্যতা যে অনুধাবন করতে পারে সে হাসতে পারে যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সময়। এই বিশাল মহাজগতের রূপ, লীলা বড়ই আনন্দময়, এর অংশ হতে পারাও বড় আনন্দের। সেই যে আমাদের রবীন্দ্রনাথের গানে আছে--

আকাশভরা সূর্য-তারা,
বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি
পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
অসীম কালের যে হিল্লোলে
জোয়ার-ভাঁটার ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায়
লেগেছে তার টান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি
বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে
উঠেছে মন মেতে,
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি,
ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥

আরও পড়ুন


ছোট বয়সের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রেম করছেন আনুশকা

শ্রীলেখার ফোন নম্বর ফাঁস, নেটাগরিকদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণের শিকার সেই তরুণী ফেসবুক লাইভে এসে যা বললেন (ভিডিও)

খুলনায় ভিমরুলের চাকে আগুন দিতে গিয়ে পান বরজ পুড়ে ছাই (ভিডিও)


সত্যি বলছি, আমার নিজের কাছে এ গান প্রার্থনার মতো, ওষুধের মতো, কখনোবা আদরের মতো। আমি ফুলের গন্ধ, ঘাসে ঘাসে পা ফেলার আনন্দ, কান পেতে পাখির গান শোনা, চোখ মেলে ফুলের রূপ দেখার মধ্যেই জগতের সব আনন্দ পাই। আনন্দে কখন নিজের অজান্তেই আমার হাসি আসে। কখনো মুচকি হাসে, আশেপাশে কেউ না থাকলে অট্টহাসি। কিন্তু হাসি আমি দেই। নানা অজুহাতেই। কারণ, আমার বিবেচনায়, মানুষ এবং সত্যিকারের মানুষই পারে হাসতে। জীব-জন্তুর মধ্যে সে অর্থে হাসি নেই। তারা তো ফুলের রূপে, জোছনা আর সমুদ্রের ঊর্মিমালায় আনন্দ খুঁজে পায় না। তারা তো কৌতুক করতে জানে না। কিন্তু হয়তো জানে। কখনো কোন কুকুরের কা-কারখানা দেখেও খুব রসিক মনে হয় তাদের। গরুর চাহনির মধ্যেও হাসি থাকতে পারে। একটা বিড়াল যে মগ্নতায় নিজের পরিচর্যা করে সেই মগ্নতা দেখার আনন্দও আছে। একটা ব্যঙের লাফের মধ্যেও হাসি আছে। বার্টান্ড রাসেল একবার একদল আদিবাসীর সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি দেখেছেন তারা কতো ছোট্ট ছোট্ট বিষয়ে খুশি। তাদের কাপড় নেই, পর্যাপ্ত খাদ্য নেই, শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর অথচর তারা সুখি, তারা হাসতে জানে। অথচ জগতের সকল আরাম আয়েশ নিয়েও আমরা কতো বিরক্ত, উদাস, বিষণ্ণ। বাড়িতে খাবার আছে, আলমারিতে কাপড় আছে, কারো কারো একাধিক গাড়ি বাড়ি আছে, কিন্তু মনে সুখ নেই, মুখে হাসি নেই।

একটা গাছ কি বিষণ্ণ হয়, একটা পাখি কি টাকা জমায়, একটা বাঘের কি মনোচিকিৎসক আছে? প্রকৃতিও চিকিৎসা আর এই মহাজগতই আনন্দ। এইটুকু বুঝতে গেলে আমরা হাসতে পারবো সেই তিন সাধকের মতো। আসুন হাসির সাধনা করি।

যারা করোনা নিয়ে আতঙ্কে আছেন, তাদের জানিয়ে রাখি দুঃশ্চিন্তা, আতঙ্ক শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দূর্বল করে। সবল ইমিউন সিস্টেমের জন্য হাসিটা খুব দরকারী। হাসি ফুসফুস আর হৃদয়ের জন্যও উপকারী। আমি নিজে যখন করোনাক্রান্ত ছিলাম ক্রমাগত কপিল শর্মা শো দেখতাম, খুঁজে খুঁজে হাসির সিনেমাগুলো দেখতাম। আইসোলেশনে, নিজের ঘরে বসে একা একাই হাসতাম। যে পাগল বলে বলুক, হাসিটা চলুক, যে কোন পরিস্থিতিতেই, যে কোন সময়েই।

লেখাটা শেষ করছি ওশো’র একটা উদ্ধৃতি দিয়ে, ‘কেবল জীবনকে আরো আমোদের চোখে দেখো। একদম রাশভারী হয়ো না। গুরুগম্ভীর হওয়াটা অনেকটা অন্ধত্বের মতো। ভাবুক, দার্শনিক সাজার চেষ্টা করো না। কেবল একজন মানুষ হয়ে ওঠো। এই পুরো বিশ্ব নানাভাবেই তোমাকে কতো আমোদ-প্রমোদ দেখাচ্ছে, কিন্তু তুমি এতো বেশি রাশভারী যে নিজের হৃদয়ই খুলতে পারো না।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

মিল্লাত হোসেন

বাবা, সমষ্টি ও মি. হাইড বটিকা

ব্যক্তি বাবারা যদি এতো ভালোই হবেন, সমষ্টির এতো দুঃখ কেনে?

১৮৮৬ সালে প্রকাশিত স্কটিশ লেখক রবার্ট লুই স্টিভেনসনের প্রবাদবাক্যে পরিণত হওয়া "স্ট্রেঞ্জ কেস অব ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড" নামের উপন্যাসের মূল চরিত্র ডাক্তার হেনরি জেকিল এমন একটি ঔষধ আবিষ্কার করেন যা সেবন করলে মানুষ তার স্বভাবের বিপরীত রূপ ধারণ করতে পারতেন। এভাবে ড. জেকিল দিনমানে থাকতেন দয়া, মায়া ও মানবিকতায় উদ্ভাসিত একজন আদর্শ মানুষ। সেই তিনিই আবার রাতে ওই ওষুধটি সেবন করে হয়ে উঠতেন ভীষণ খারাপ মানুষ। হেন অপকর্ম 'নেই তিনি করতে পারেন না। আরেকটি ঔষধ সেবনের মাধ্যমে আবার তিনি স্বাভাবিক ড. জেকিলে রূপান্তরিত হতে পারতেন। এভাবে নিজের মধ্যে এক দ্বৈতসত্তাকে ধারণ করতে থাকেন। এই অশুভ সত্তাটির নাম দিলেন তিনি 'মি. হাইড'।

নিজের সন্তানকে পৃথিবীর সব বাবাই ভালবাসেন, এটা বিরল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বলেই দেয়া যায়। পুত্র-কন্যার কাছেও "পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা"ই হন তারা। আজ বাবা দিবসে সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমের সাথে সাথে ঘরোয়া জীবনেও বাবার প্রতি সন্তানদের আবেগ-ভালবাসার প্রকাশ উথলে উঠতে দেখা যাবে।

আমাদের বাবারা বা আমরা নিজেরাও যারা বাবা, তারা নিজ নিজ সন্তানের জন্য যে কোনো কিছু করতে একপায়ে খাড়া সবসময়। ছেলে-মেয়ে নাতি-নাতকুরের জন্য যে কোনো আত্মত্যাগেই প্রস্তুত থাকেন সব বাবাই। মৃত্যুমুখে থাকা পুত্র হুমায়ুনের জন্য সম্রাট বাবুরের "পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়" এর গল্প তো কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে।

ঠিক আছে, মানুষের ইতিহাসে এর অপরিসীম মূল্য আছে বটে, তবে অনেকখানি তলিয়ে দেখলে নেতি'র দিকটাও উঠে আসবে। যুদ্ধজয় বা রাজ্য পরিচালনার দোহাই দিয়ে কিংবা নিছক খামখেয়ালিতে কতো লক্ষ সন্তানকে পিতৃ-মাতৃহারা করেছিলেন, জীবনকে উল্টে দিয়েছিলেন কতো কোটি সন্তানের- সেই হিসেব ইতিহাসে নেই। "আব্বু, তুমি কান্না কত্তেছো যে" আখ্যান রচয়িতাও তো কাজ শেষে হাত-মুখ ধুয়ে ভাত খেয়ে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছেন নিশ্চিতভাবে।

সন্তানকে কী খাওয়াবেন, কোন স্কুলে পড়াবেন, আদব-কায়দা শেখাবেন, তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অহর্নিশ উদ্বিগ্ন পিতৃশ্রেষ্ঠরা অন্যের সন্তানদের প্রতি কেমন আচরণ করেন, কতোটা ভাবেন- সেটাই বিবেচ্য।

শিশুধর্ষক, নকল N95 মাস্ক গছানো, খাবারে ভেজাল দেয়া, পরের হক মেরে খাওয়া, সুপারি কিলার, নারী পাচারকারী, মাদকের কারবারি, যুদ্ধবাজ সেনাপতি-রাজা-বাদশা, দাসব্যবসায়ী, দুইনম্বরী পয়সা কামানো লোকগুলোও সন্তানদের ভালবাসেন, অকৃপণভাবে। আমাদের মাঝে এই বাবারাও আছেন বা চারপাশে কিলবিল করছেন। সংখ্যায় লক্ষ-কোটি হবেন।


আরও পড়ুনঃ

 

ভাল থাকুক বিশ্বের সকল বাবা, যেভাবে দিবসটির শুরু

বিএনপি থেকে শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিষ্কার

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রায়িসিকে অভিনন্দন জানাল হামাস

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর

 


বাস্তবে, বেশিরভাগ বাবাই কিন্তু ড. জেকিল এন্ড মি. হাইড। কাউকে কখনো বুক দেখান তো, কাউকে কখনো পিঠ! নিয়মিত সেবন করেন 'মি. হাইড' বটিকা!

আপনি যদি ভাল বাবা হন তবে অন্যের সন্তানদের প্রতিও ন্যায্য আচরণ করুন। আর ভাল সন্তান হতে চাইলে নিজের বাবাকেও বলুন, আপনার ভালোর জন্য তিনি যেনো অন্যের সন্তানদের অমঙ্গল না করেন।

এই নিক্তিতে যে বাবা উৎরে যেতে পারেন, তাঁকেই লাখো সেলাম।

(মিল্লাত হোসেন, বিচারক)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

আলী রীয়াজ

একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তা পেরেছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই এই কথা জানানো হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে একটি কার্টুন প্রকাশিত হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য’ এই সিদ্ধান্ত। এই খবর পাঠ করেই আমার স্মরণ হল যে, আর কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী। একশো বছরের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়  গিয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে তার একটি উদাহরণ।

যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার উপাচার্য সামান্য ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করতে পারে না, সেই প্রতিষ্ঠান কী করে শেখাবে সহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার? একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকেই না সহ্য করতে পারে তবে বিশ্ববিদ্যালয় শেখাবে কি? একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আসলে যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও, কেবল ক্লাশরুমের চার দেয়ালের মধ্যে শেখায় না। সবচেয়ে বড় কথা, নাগরিকের করের অর্থে চলা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নাগরিকরা কিছু বললে তার জন্যে ‘আইনি’ ব্যবস্থার হুমকি তো পাকিস্তানী আমলে ষাটের দশকেও শোনা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কি কিছুই অর্জন নেই? অবশ্যই আছে। কিন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী।

কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেন ‘ভাবমূর্তি’ একটা বায়বীয় বিষয়। ভাবমুর্তি তৈরি হয় আচরণ দিয়ে, কর্মকাণ্ড দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে কথিত ‘গণরুমে’ শিক্ষার্থীরা অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিকভাবে জীবনযাপন করে, তাঁদের ওপরে নির্যাতনের ঘটনার কথা জানা যায়, তাঁদের বাধ্য করা হয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হয়ে কাজ করতে, এই রকমভাবে প্রাণ সংহার হয় শিক্ষার্থীর - এইসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি কোথায় যায় তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ নেই।

উদ্বেগ নেই এই নিয়েও যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বরাদ্দ খুব সামান্য – মোট ব্যয়ের ৫ শতাংশের মতো। আর সেই বরাদ্দ করা অর্থও ব্যয় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সক্ষম হয় না। ২০১৯-২০ সালে বরাদ্দ করা ৪০ কোটি টাকার মধ্যে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিলো। অথচ ২০১৯-২০২০ সালে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছিলো। এগুলোই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তৈরি করে। 

ভাবমূর্তির ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে স্বাধীনভাবে জ্ঞান উৎপাদন, জ্ঞান বিতরণ,  জ্ঞান চর্চা  এবং সকলের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা – শিক্ষকের, শিক্ষার্থীর; স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করা। এইগুলো নিয়ে ভাবলে ভাবমূর্তি নিজেই গড়ে উঠবে, তার জন্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে না। আর অন্যভাবে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একশোটা ব্যঙ্গচিত্র যা করতে পারতো না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সেটাই পেরেছে।

লেখক : অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

তাসের ঘরের সন্ধানে

মিল্লাত হোসেন

তাসের ঘরের সন্ধানে

আমি তখন ১ম বা ২য় শ্রেণিতে পড়ি। সময়টা সেই হিসেব ১৯৮৪ বা ৮৫ সাল হবে। আমরা থাকি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়, আব্বুর চাকুরিসূত্রে। একদিন দেখলাম, আম্মা কি যেন শব্দ করে পড়ছেন আর হাপুসনয়নে কাঁদছেন। দুই আপা তাকে ঘিরে শুনছে আর কান্নায় সঙ্গত করছে। আমিও যোগ দিলাম-শ্রোতা, দর্শক উভয় হিসেবেই।

বিষয়টা ছিলো, বেকারি থেকে বেলা বিস্কুট বা পাউরুটি আনার কাগজের ঠোঙ্গা, যা আসলে ছিলো ‘তাসের ঘর’ নামক উপন্যাসের কয়েকটা পাতা। খুবই আবেগাক্রান্ত আর বিয়োগাত্মক ছিলো এটা মনে আছে, তবে কাহিনী কী ছিলো সেটা মনে নেই। 

কিছুক্ষণ পর শহর থেকে মেজোমামা আসলেন বেড়াতে। তিনি তখন চিটাগাং পলিটেকনিকের ছাত্র।

মামাকে, কথ্য ভাষার লাইব্রেরিতে (আসলে বইয়ের দোকান) পাঠিয়ে দেয়া হলো তাসের ঘর খুঁজে আনতে। না পেলে বেকারি থেকে আরো কিছু বিস্কুট ঠোঙ্গায় করে কিনে আনতে বলা হলো। বই মেলেনি, ঠোঙ্গায় আরো কয়েকটা পাতা এলো তাসের ঘরের। কান্নাভেজা পাঠের পুনরাবৃত্তি চললো আরেকদিন। এরপর, বেকারি থেকে পুরো বইটাই আনতে গেলে ৮/১০ পাতার মতো পাওয়া গেলো। তীব্র অতৃপ্তিতে বেশ কিছু দিন খোঁজাখুঁজি চলেছিলো। পাওয়া যায়নি। এক সময় যথারীতি সবাই ভুলে গেলেন।

মেজোমামা অনেকদিন এই পৃথিবীতে নেই; আর এই ঘটনাটাও সম্ভবতঃ আমি ছাড়া আর কারো স্মৃতিতেই অবশিষ্ট নেই। আমি ভুললাম না। মাঝেমাঝেই 'তাসের ঘর' উঁকি দেয় আমার মনের ঘরে, স্মৃতির চিলেকোঠায়।

একটু বয়েস হলে খুঁজে পেতে রবীন্দ্রনাথের "তাসের দেশ" পাই, কিন্তু 'তাসের ঘর' পাই না কিছুতেই। আরো পরে একবার রোখ চেপে গেলো। না, এই বার 'তাসের ঘর' খুঁজে বার করতেই হবে!

খোঁজ, খোঁজ, নেমে পড়লাম তাসের ঘরের সন্ধানে। না, এই নামের কোন বইয়ের হদিস পাই না। বুঝলাম, নেহাত সার্চে কাজ হবে না, রিসার্চই করতে হবে।

সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ধরনের ঢাউস মার্কা বই ধরে খুঁজতে হবে। ক'দিন পরে তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এর "তাসের ঘর" নামের ছোটগল্প পেলাম। তিনি সমগ্র বাংলারই অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, তাঁর লেখায় ঢলঢল আবেগ থাকার কথা না। পেলামও না পড়ে। মোটে ৩ পৃষ্ঠায় শেষ নির্মেদ গল্পের ওস্তাদির। এটা ইপ্সিত "তাসের ঘর" যে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে আগে বাড়লাম।

এরপর "তাসের ঘর" নামের সিনেমার খোঁজ পেলাম। তাতে মহানায়ক উত্তমকুমারের দ্বৈত চরিত্র। প্রচণ্ড ধনী ও সমপরিমাণ অসুখী একজনের বেকারত্বের জ্বালায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া look alike এর সাথে জীবনবদলের গল্প। এতেও আবেগ/বেদনা হাত ধরাধরি করে আছে। এই সিনেমাটাই কি 'তাসের ঘর' উপন্যাস অবলম্বনে বানানো হয়েছে? তাহলে বই একটা তো থাকার উচিত। কিন্তু এ তো সিনেমা, আমারটাতো ছাপা বই। সেটা কই? এই রকম কোনো বইয়ের হদিস পাইনি।

একবার মনে হলো, এমন যদি হয় এই বইটা কোন নামগোত্রহীন লেখকের? অনেকেই তো নিজ উদ্যোগে লেখক হিসেবে নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখার জন্য বই ছাপান। কেউ কেউ সিনেমার গল্প নিয়েই সস্তা বই ফেঁদে বসেন। তেমন বই হলে পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

সর্বশেষ  রাডারে ধরা পড়লো বন্দে আলী মিয়া'র এই নামের একটা বই আছে। তিনি উঁচুমাপের বা জনপ্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন না এবং ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে তার বিষাদে ভরপুর কোন বই ঠোঙ্গা হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা মিলিয়ে আমার মনে হলো- ইউরেকা! ইউরেকা!!

কিন্তু আমার উচ্ছ্বাসে কিছুটা জল ঢলে পড়লো যখন জানলাম যে, ওটা উপন্যাস নয় গল্পগ্রন্থ, যার একটা গল্পের নাম "তাসের ঘর"।

আবার মনে হলো, ২০/২৫ পৃষ্টার বড়্গল্পও'তো হতে পারে। কিন্তু, বন্দে আলী মিয়ার বই আজ আর বইয়ের দোকানে মেলে না। পরে জানা গেলো বাংলা একাডেমি তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করেছে। ২য় খণ্ডে আছে "তাসের ঘর"। একুশে বইমেলায় গিয়ে কয়েকবার বাংলা একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটা আউট অভ প্রিন্ট অনেকদিন ধরে। রচনাবলীর ২য় খণ্ডটি এখনো সংগ্রহ করতে পারিনি...'তাসের ঘর'ও এখনো অক্ষত আছে।

আমি সেই গল্পের পাঠক নয়, শ্রোতা ছিলাম মাত্র। তাও এমন শ্রোতা, কাহিনীও যার মনে নাই! ফলে, শেষ হইয়াও শেষ না হওয়ারও ৬৫/৩৫% সম্ভাবনা আছে।

মিল্লাত হোসেন, বিচারক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পরীমনি এবং....

নজরুল ইসলাম​

পরীমনি এবং....

জাঁ জ্যাক রুশো ১৭৬১ এ-র দিকে ‘জুলি বা ল্য নোভেল এলোইজ’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন। সেখানে তিনি নারীর প্রকৃতি, ভুমিকা, অবস্থা নির্দেশ ও ব্যাখা করেন। রুশোর দর্শনে নারী হবে সুন্দরী, প্রেমপূর্ণ তবে অযৌন ও শীতল সতী। নারী পরিপূর্ণ থাকবে লাজনম্র সতীত্বে। নারী আবেদনময়ী হবে কিন্তু সবার জন্য নয় শুধু স্বামীর জন্য। তার মতে সতীত্বের উপর কোনো গুণ থাকতে পারে না। সঠিক পিতৃত্বের ব্যাপারে তিনি তার দর্শন চর্চায় খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে রুশো নিজে ছিলেন কামার্ত ও অনেক অবৈধ সন্তানের দায়িত্বহীন জনক।

সাম্প্রতিক পরীমনি কাণ্ডে আমাদের মধ্যে অনেকে আছি যারা পরীমনির নাচ উপভোগ করি, তার সিনেমা দেখে ফ্যান্টাসিতে ভুগী,  নিদেন পক্ষে পরীমনির লাস্যময়ী ছবি জুম করে দেখে-টেখে  মন্তব্যের ঘরে গিয়ে প্রচণ্ড অশ্লীলভাবে ট্রিট করে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করছি।  এই ব্যাপারটির মধ্যে কেমন জানি একটা ‌‘রুশো রুশো’ গন্ধ আছে।

চর্চিত সংস্কৃতির কথা বলে, যাপিত প্রণালীর দোহাই দিয়ে কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ কোনো দিক থেকেই এটা করার সুযোগ নাই। ইসলামে অপ্রয়োজনে কোনো নারীর ছবি দেখা, নাচ-গান উপভোগ করা কিংবা কল্পনাতেও কিছু  আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশ্ন আসতে পারে, সবাই তাকে এসবের কোনোভাবেই দেখছেন না শুধু তার কাজের জন্য গালি দিচ্ছেন।তাহলে শুনুন। ইসলামে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি নেই।

হাদিসে আছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)।

যারা মনে করছেন এ ধরনের কাজ করে ‘জিহাদ’ করার মতো অশেষ নেকি হাসিল করে ফেলছেন তারা একটি জীবন ব্যাবস্থাকে অন্যদের নিকট হাস্যকরূপে উপস্থাপন করছেন। অথচ ইসলাম  কোনোভাবেই তার অনুমোদন দেয় না।  ইসলাম আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর কোনো ধর্ম নয়। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে ইসলামের ইন্টারফেয়ারেন্স থাকে এবং তা একদম সুস্পষ্টভাবে। সুতরাং পরীমনির বিষয়ে এত সিরিয়াস না-হয়ে নিজের বিষয়ে ভাবি।

আরও পড়ুন:


যে কারণে গাজার ‘আগুনে বেলুন’কে এত ভয় ইসরাইলের

ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মালয়েশিয়ায় করোনায় প্রবাসীর মৃত্যু


আর যারা পরীমনির এসব ব্যাপার- স্যাপার কে আমাদের কৃষ্টি কালচারের সাথে যায় না বলে গালিগালাজ করছেন কিংবা প্রগতিশীলতার কথা বলে সাপোর্ট করছেন তাদের মধ্যেও শত শত বিভাজন বিদ্যমান। যে ধরনের জীবনবোধে অভ্যস্ত সেভাবেই আমাদের সংস্কৃতিকে দেখছেন। ইতালীয় দার্শনিক বেনেদিত্তো ক্রোচের মতে, প্রতিটি জাতির এমন কিছু সামাজিক আবেগ আছে যার মাধ্যমে জাতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্যাসের আকারে পুরোমাত্রায় বিরাজমান থাকে। কিন্তু সেটা আমাদের ক্ষেত্রে  তা কখনো হয়নি। 

নারীবাদীরা বলছেন, ‘পরীমনিকে সাপোর্ট করুন নাহলে একদম চুপ থাকুন।’ এদের কারণে কতিপয়  সাংবাদিকদের অবস্থা হয়েছে দেখার মতো।

তাদের পরীমনিকে খুব প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে, এত রাতে আপনি ওখানে কেন গিয়েছিলেন? কিনতু তা তারা করছে না কারণ এ প্রশ্ন করলে এ সাংবাদিকের  ক্যারিয়ারই শেষ করে দিবে নারীবাদীরা।

এদিকে সাধারণ জনগণ এটাকে দেখছেন আমাদের ‘যাপীত জীবনের সাথে কোনোভাবেই যায় না’ সে কনসেপ্ট থেকে। আবার যারা সো হোয়াট, ডোন্ট মাইন্ড আর খোলামেলা জীবনে অভ্যস্থ তারা বলছে, ‘অসুবিধা কি!’ আসলে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে  দিনের পর দিনে এদেশে নতুন নতুন ভাবাদর্শ তরঙ্গ তুলেছে কিন্তু আমরা মনের দিক থেকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের মতো বারবার বিচ্ছিন্ন থেকে গিয়েছি। আহমদ ছফা ‘বাঙালি মুসলমানদের মন’ এ লিখছেন, ‘অনেক কিছুর সংবাদ সে জানে কিন্তু কোন কিছুকে যুক্তি দিয়ে,মনীষা দিয়ে আপনার করতে জানে না। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে গোঁজামিল দিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। বাঙালি মুসলমান বিমূর্তভাবে চিন্তা করতেই জানে না এবং জানে না এ কথাটি ঢেকে রাখার যাবতীয়  প্রয়াসকে তারা কৃষ্টি- কালচার বলে পরিচিত করতে কুণ্ঠিত হয় না’।

যদিও সো -কল্ড  নারীবাদিদের কথাগুলোকে তেমন গুরত্ব দেওয়ার কিছু নেই তারপরেও এদের দ্বিচারিতাার নীতিটা সামনে আনার জন্য বলি। এদেরই কোনো আত্মজা, ভগিনী, মাতাকে কখনোই এরা রাত দুটোয় কোনো ক্লাবে যেতে দিবেন না। প্রকৃতিগত হোক  বা বৈষয়িক কোনো কারণেই হোক, তারা তা দেবে না। কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদিতা ও ফাঁপরবাজির জন্য তারা গলা ছড়াবেই। প্র্যাকটিক্যাল প্রমানের কথাই যদি বলি, যিনি ছবি বানায় সে রকম একজন পরিচালক সোনানুর রহমানই বলছেন, পরীমনি অহরহ রাত বারটার পর বের হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। বোঝা যাচ্ছে এ জীবনাচরণে তাদেরও প্রশ্ন আছে।

এরাই ডলি সায়নন্তির সাড়া জাগানো - জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা,
লাল শার্ট গায়ে তার বুক খোলা,
সানগ্লাস কপালে.আছে তোলা,
রাখনা কেন ঢেকে ওই দুটি চোখ,
হেই যুবক  গানে কোমর দোলালেও নিজের বোন বা কন্যা কে পাত্রস্থ করতে  ই. ইন্জিনিয়ারিংএ পি. এইচ. ডি. করা বোস্টন ফেরত ছেলেকেই খুঁজবে; ওই যুবককে নয়।

তাই ধর্মীয়ভাবে নিজের পরিশুদ্ধতার বিষয়ে যত্নবান না হয়ে আর সংস্কৃতির ধোঁয়াটে ভন্ডামি করে পরীমনির জীবনাচরণের এনাটমি বাদ দেওয়া উচিত। এটা চূড়ান্তভাবে মানুষ কে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে না। অন্য একটা ঘটনায় তা বোঝা যায় সহজেই। একজন ইসলামি স্কলার নিখোঁজ হওয়ায় অনেকেই তাঁর কোনো বক্তব্য না শুনেই তার জীবনাচার, মানুষকে সঠিক পথে আহবান করার প্রয়াস তাঁকে তাদের  কাছে হিরো বানিয়ে দিয়েছে। এতেই তো পরীমনির জীবনাচরণের পরাজয় ঘটে গেছে। আপনি এত ‘গাইল পারেন ক্যা?’ বরং এ প্রশ্ন করুন পরীমনির জীবনাচরণে দোষ দেখলেন আর ওই স্কলারে স্বস্তি দেখলেন কোন জাস্টিফিকেশনে? উত্তর দেওয়ার আগে চেমফোর্ডের একটা কথা বলে নেই- নারীরা ফাঁসিতে ঝুলার আগেও প্রসাধনটা একটু দেখে নেয়। এটা নারীর স্বভাবজাত কিন্তু  কেউ যখন বেলেল্লাপনায় সবকিছুই উম্মুক্ত করে দেয় সেক্ষেত্রে অন্যদের কথা বলতে পারছি না তবে তা আমার ও আমার সন্তানদের  মনোজগতকে  Toxic করে নিঃসন্হেহে আর ওই স্কলারের ফিলোসোফি মানুষ হিসেবে আমার ভুলগুলো কোথায় এবং তা  রিফর্ম করার চিন্তাটা মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। উত্তরটা এখানেই। 

অতএব, নিজ নিজ আত্মার পরিশোধনের পর সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে বাস্তব জীবনে তার কাঠামো দাঁড় করিয়ে দিন আর সে বার্তাটিই আপনি যার জীব।

লেখক- সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

এমি জান্নাত

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয় না, ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়!

মিডিয়ার লোকজন ভালো হয়না! ভালোরাও খারাপ হয়ে যায়। এইটা মাঝে মধ্যে শুনি। এখানে মিডিয়ার লোকজন বলতে যারা চাকরি করেন তারাসহ শিল্পীদের চৌদ্দগোষ্ঠী যে বোঝানো হয় এইটুকু আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই বুঝবে।

সে যাই হোক, ঠিক কোন কিছিমের পেশার লোকজন ভালো আর ভালোর সঠিক ব্যাখ্যা কী এইটা বহুত আপেক্ষিক ব্যাপার।

সাধারণ জ্ঞান মানে কমনসেন্সে দেখতে গেলে ভালো বলতে যাদের মন ভালো, উদার, কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা, সৎ, পরোপকারী, কোনো কুটিলতা, সমালোচনার মধ্যে নাই এগুলোর সমষ্টি যে মানুষগুলোর মধ্যে আছে তাদেরকে ভালো বলা হয়। কিন্তু এই গুণগুলো থাকার পর বেশিরভাগ মানুষের কাছে ভালো থাকলেও সবার কাছে ভালো থাকা যায় কী?

এই যেমন, আপনি সৎ! অসৎ লোকের কাছে আপনি খারাপ কারণ আপনি তার বিরুদ্ধ পক্ষ। আবার আপনি কারও সাতে পাঁচে নেই, আপনার পাশের একজন নানান রঙ মাখানো সমালোচনার ঝুড়ি নিয়ে এসে পাত্তা পেলো না। তার কাছেও আপনি ঠিক সুবিধার না। আপনিও তার সেই ফুলঝুড়ির একটা অংশ।

যে অন্যের ভালো খারাপের বিচার নিয়ে বসে সে নিজের চেহারা আয়নায় কতটা স্পষ্ট দেখতে পায় আমার জানা নেই। মানুষের কাছে ভালো থাকার চেয়ে সবচেয়ে দরকার নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা। যেটাই করছি, ১০০% দিয়ে করছি কিনা। নিজের সম্পর্কে নিজের হিসাবের অংক মিললো কিনা এই ক্লিয়ারেন্সটা থাকা সবচেয়ে জরুরি।


আরও পড়ুনঃ

আবু ত্ব-হা আদনানকে খুঁজে দিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শুভর আহ্বান

গণপূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়া: সেই আ.লীগ নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি

আবারও মিয়ানমারের গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে সেনাবাহিনী

সুইসদের হারিয়ে সবার আগে শেষ ষোল নিশ্চিত করল ইতালি


শুরুর লাইনে আসি, ভালো খারাপ মানুষের পেশায় থাকে না। রক্তে আর মনে মিশে থাকে। আর তাই যেমন ধর্মশালায় বলাৎকার হয়, পরিবারেও রক্তারক্তি হয়, অন্যদিকে কিছু মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় মন উজার করে। সবটাই হয় কিন্তু মনের তাগিদেই। কোনো পেশায় না, মনের ঘরেই ভালো-মন্দের বসবাস।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর