শত শত করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে চিকিৎসকের আত্মহত্যা
শত শত করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে 
চিকিৎসকের আত্মহত্যা

শত শত করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে চিকিৎসকের আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘সুনামি’তে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়তে বসেছে। এই অবস্থার মধ্যেও প্রতিদিন লাখো করোনা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীরা। একদিকে দেশটিতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘সার্স-কভ-২’ ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই ভাঙছে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড।

এরই মধ্যে ভারতের দিল্লির একটি প্রাইভেট হাসপাতালের এক আবাসিক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক টুইটবার্তায় ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সাবেক প্রধান ডা. রবি ওয়ানখেদকর বলেন, ডা. বিবেক রাই নামের ওই চিকিৎসক ছিলেন খুবই মেধাবী। উত্তরপ্রদেশের গোরখাপুরে তার বাড়ি। মহামারিকালে শত শত মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে তিনি সহায়তা করেছেন।

এক মাস ধরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তিনি রোগীর সেবা করে কাটিয়েছেন। প্রতিদিন সাত থেকে আটজন আশঙ্কাজনক রোগীকে দেখতে হতো তাকে।

ডা. রবি ওয়ানখেদকর জানান, মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে ওই চিকিৎসক মানসিক বিষণ্নতায় ভোগেন। এরপর হতাশা থেকেই একসময় তিনি আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবেক রাইয়ের স্ত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন তিনি। এ তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যুর জন্য অপবিজ্ঞান, অপরাজনীতি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারা খারাপ প্রশাসনকে দায়ী করেছেন আইএমএর এই সাবেক প্রধান।

তিনি জানান, করোনা রোগী সামলাতে ব্যাপক মানসিক চাপে পড়তে হয়। এ মৃত্যু সে বিষয়টিই সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি ‘সিস্টেমের’ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলা যায়। কারণ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে এই চিকিৎসকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল।

গতকাল শুক্রবার  ২৪ ঘণ্টায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেশটিতে করোনা রোগী শনাক্ত হয় সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২ হাজার ১১০ জন, যা এর আগে আর হয়নি। এ দিন করোনায় মারা যায় ৩ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৫ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে এ সংখ্যা জানা গেছে। শনিবার সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ভারতে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৯ জন। মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬ জন।

news24bd.tv/আলী