২০তম রোজার তারাবীহ

ড. তুহিন মালিক

২০তম রোজার তারাবীহ

ড. তুহিন মালিক

চলছে পবিত্র রমজান মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান মাসে দিনের বেলায় যেমন রোজা ফরজ, তেমনিভাবে রাতের বেলায় তারাবির নামাজও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

আজ ১৯তম রোজা। আর তাই আজ দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হবে ২০তম তারাবীহ। এ নিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিক।

নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:-

আজ রবিবার এশার নামাজের পর আগামীকালের ২০তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ২৩তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৩তম পারা (সুরা ইয়া-সীনের ২২নং আয়াত থেকে সুরা যুমারের ৩১নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•পবিত্র মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানেনা, তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। [ সুরা ইয়া-সীন-৩৬ ]

•সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। [ সুরা ইয়া-সীন-৪০ ]
•যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫১ ]

•আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিফল পাবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৪ ]

•এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৫ ]

•তারা এবং তাদের সঙ্গিনীরা সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৬ ]

•সেখানে তাদের জন্যে থাকবে ফলমূল এবং থাকবে যা তারা ফরমায়েশ করবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৭ ]

•করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৮ ]

•আর হে অপরাধীরা! আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৯ ]

•হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? [ সুরা ইয়া-সীন-৬০ ]

•এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। [ সুরা ইয়া-সীন-৬৩ ]

•আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৬৫ ]

•মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্র বিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পরে প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। [ সুরা ইয়া-সীন-৭৭ ]

•তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলে দেন, `হও' ; তখনই তা হয়ে যায়। [ সুরা ইয়া-সীন-৮২ ]

•অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৮৩ ]

•তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে। 
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি; ফল-মূল এবং তারা হবে সম্মানিত।
নেয়ামতের উদ্যানসমূহ; তারা মুখোমুখি আসনে আসীন হবে। 
তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সূরাপূর্ণ পাত্র, স্বচ্ছ সুশুভ্র, যা হবে পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
তাতে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না। 
আর তাদের সংগে থাকবে নত, আয়তলোচনা হুরবৃন্দ। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। [ সুরা সাফফাত-৩৮-৪৯ ]

•নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত। [ সুরা সাফফাত-৬০,৬১ ]

•এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ? 
আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি। 
এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে। 
এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত। 
কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ, অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে। [ সুরা সাফফাত-৬২-৬৮ ]

•ইব্রাহীম বললঃ তোমরা নিজেরা যাদেরকে স্বহস্তে খোদাই করে নির্মান কর, তোমরা কি তাদেরই পূজা কর? অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। [ সুরা সাফফাত-৯৫,৯৬ ]

•নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়। [ সুরা সা’দ-২৬ ]

•আমি আসমান-যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছু অযথা সৃষ্টি করিনি। [ সুরা সা’দ-২৭ ]

•জেনে রাখ, অবিমিশ্র এবাদত আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের উপাসনা এ জন্যেই করি যে, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফের, আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। [ সুরা যুমার-৩ ]

•তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন; এবং তিনি তোমাদের জন্যে দিয়েছেন আট প্রকার গৃহপালিত পশু। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সার্বভৌমত্ব তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? [ সুরা যুমার-৬ ]

•যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপের ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত। [ সুরা যুমার-৭ ]


পশ্চিমবঙ্গ কার, জানা যাবে আজ

আজ হতে পারে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন আজ


•হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত। [ সুরা যুমার-১০ ]

•যারা শয়তানী শক্তির পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে। [ সুরা যুমার-১৭ ]

•আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে; এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। [ সুরা যুমার-২৩ ]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

এক ডোজ ভ্যাকসিন নিলে মিলছে ৩৫০ ডলার

শওগাত আলী সাগর

এক ডোজ ভ্যাকসিন নিলে মিলছে ৩৫০ ডলার

নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই নাগরিকরা কোভিডের ভ্যাকসিনের জন্য ছুটছেন। কিন্তু কানাডীয়ান কোম্পানি EACOM Timber Corp তাদের শ্রমিক- ঠিকাদারদের আগ্রহের উপরই বসে থাকতে চায়নি। কোভিডের ভ্যাকসিনের জন্য কোম্পানিটি বিশেষ প্রণোদনা ঘোষনা করেছে- প্রথম ডোজের ভ্যাকসিনের জন্য ২০০ ডলার, দ্বিতীয় ডোজের জন্য ১৫০ ডলার। 

আর এক ডোজের ভ্যাকসিন যারা নেবেন তাদের জন্য ৩৫০ ডলার। 

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্ত এখন ঘোষনা করলেও গত ডিসেম্বর থেকে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং ২০২১ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা নেবেন প্রত্যেকেই এই প্রণোদনা পাবেন।

স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারনে কেউ যদি ভ্যাকসিন নেয়ার অনুপুযুক্ত হন তারাও এই প্রনোদনা পাবেন।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানের ব্যাপারে জনগণের মতামত নেওয়া সমীচীন

শওগাত আলী সাগর

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানের ব্যাপারে জনগণের মতামত নেওয়া সমীচীন

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেশ স্বাধীনতা থেকে পরবর্তী সময়ের অনেক ঘটনার সাক্ষী শান্ত স্নীগ্ধ এ জায়গাটি। এখানকার সবুজ বৃক্ষরাজি বিমোহিত করে মানুষকে। কর্মক্লান্ত বহু মানুষ এখানে হাঁটতে আসেন। আসেন বেড়াতে। এই শহরে এ যেন অক্সিজেন নেওয়ার একটি নির্মল জায়গা। কিন্তু, সেই অক্সিজেনের ভাণ্ডার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক গাছই কেটে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পরিবেশবাদীরাও প্রতিবাদ করছেন। তবে, গাছ কাটা থেমে নেই।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন নতুনদেশ’র প্রধান সম্পাদক, শওগাত আলী সাগর। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু জনগণের ব্যবহারের জায়গা- এখানে যে কোনো ধরনের কাজ করার আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণকে অবহিত করা, তাদের মতামত নেওয়া সমীচীন।’

তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আগে ছিল রেসকোর্স ময়দান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই রেসকোর্স ময়দানেই লাখো মানুষের মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল এখানেই। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সুহৃদ ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরকালে এই রেসকোর্স ময়দানেই ভাষণ দিয়েছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই? কারা, কেন গাছ কাটছেন, এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত কোন পর্যায়ে হয়েছে? সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় কারা ছিলেন, কেউ আপত্তি করেছিলেন কী না- এই সব বিষয়ে কোনো তথ্য কি কোথাও আছে? নিদেনপক্ষে- সোহরাওয়াদী উদ্যান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাটি আসলে কী - এই তথ্য!

সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু জনগণের ব্যবহারের জায়গা- এখানে যে কোনো ধরনের কাজ করার আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণকে অবহিত করা, তাদের মতামত নেওয়া সমীচীন। জনগণকে গুরুত্ব দিলে এটিই করার কথা।

বাই দ্যা ওয়ে, সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানে কী হচ্ছে- তা নিয়ে কোনো মাধ্যম কি বিস্তারিত কোনো রিপোর্ট করেছে? (হয়তো করেছে, আমার চোখ এড়িয়ে গেছে, সেজন্য জানতে চাওয়া)।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রকেট‌‌টি পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে

আনোয়ার সাদী

রকেট‌‌টি পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে

‘এমনিতে মাস্ক পরে ঘরের বাইরে যেতে হয়, এখন কী মাথায় সব সময় হেলমেট দিয়ে রাখবো?’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এমন একটি মন্তব্য দেখে অনেকক্ষন চুপচাপ বসে আছি। আপনারা ভাববেন না, মোটর সাইকেলে চড়ার জন্য এই হেলমেট ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে । বক্তা এখন হেলমেট দিয়ে মাথা বাঁচাতে চাইছেন চীনের তৈরি মহাকাশ যানের ফিরে আসা অংশ থেকে নিজের মাথা বাঁচানোর জন্য। 

এপ্রিলের ২৯ তারিখে চীন একটি রকেট ছুঁড়েছিলো মহাকাশে। তারই একটি অংশ নষ্ট হয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে। ফিরে আসছে বলতে এখনি এটি খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করেনি। এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে। যেমন ঘুরে চাঁদ। আর একটু একটু করে নিচে নামছে। ফলে, এখনি ঠিকঠাক বলা সম্ভব হচ্ছে না, কোথায় এটি নামবে। নামবে মানে আছড়ে পড়বে। 

আশার কথা হলো, পৃথিবীর বাতাসের সান্নিধ্যে এলে তাতে আগুন লেগে যাবে। ধ্বংসাবশেষের বিশাল অংশ হয়তো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিন্তু যতটুকু পুড়বে না, তা যেখানে পড়বে, তা ক্ষতি করার কথা। যদি সাগরে পড়ে, মানুষ বেঁচে গেলো। যদি বিরানভূমিতে পড়ে তাহলেও মানুষ বাঁচবে। যদি লোকালয়ে পড়ে তাহলে বিপদ। তা, যে দেশেই হোক না কেন। 

ধ্বংসাবশেষকে ফলো করার প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তারা বেশ খানিকটা বিরক্ত। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন পরোক্ষভাবে চীনের সমালোচনা করেছেন। তিনি  বলেন  ‘যেকোন পরিকল্পনা এবং অভিযান পরিচালনার সময় এই ধরণের বিষয়গুলি বিবেচনায় নেয়াটা বেশ জরুরি।’ মানে যা পারো না  তা কেন করতে যাও টাইপের মনোভাব আরকী। 

চীনও বসে নেই। তারা তাদের আশঙ্কা, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস সহ নানা কিছূ বলছে। রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে নেমে আসতে এক সপ্তাহ লাগবে। আমি অবশ্য মনে করি এটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামিয়ে আনা উচিত। সেটা গোলা ছুঁড়ে বা অন্যকিছু করে। বিজ্ঞানীদের কাছে নিশ্চয়ই সেই প্রযুক্তি আছে । 

যাহোক, এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। আগেও চীনের রকেটের ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে পৃথিবীতে । সেটা ২০২০ সালের মে মাসের ঘটনা। সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছিলো পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টের গ্রামগুলিতে। সেখানে ৩৯ ফুট দীর্ঘ ধাতব পাইপ ছিলো। আশার কথা সেই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।  এবার কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

 

পরবর্তী খবর

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

ড. তুহিন মালিক

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

যে বাঘটি অতিশয় বৃদ্ধ, দূর্বল, রোগাক্রান্ত, ক্ষীন। সে শিকার করার সব শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে। তার সামনে আপনি যতই ঘোরাঘুরি করুন না কেন। সে আপনাকে আক্রমণের জন্য ছুঁটে আসবে না। তার মানে, সেই বাঘটি যে নম্র ভদ্র বা বাধ্যগত। তা কিন্তু নয়। কারন তার আর আক্রমণ করার কোন শক্তি, সামর্থ্য বা ইচ্ছা নাই। ঠিক তেমনি। আমাদের শক্তি, সামর্থ্য,  ইচ্ছা ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলোকে সেক্রিফাইস করার নামই হচ্ছে ঈমান।

তাই বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ অনেক অনেক বেশি খুশি হন তরুণ যৌবন বয়সের ইবাদতে। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, “যেদিন (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। সেদিন তিনি সাত শ্রেনীর লোককে তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মাঝে একশ্রেনীর হলেন এমন যুবক, যারা যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন।” (বুখারি, ৫০৪) 

এই সাত শ্রেনীর মধ্যে সেই শ্রেনীকেও আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। যারা হচ্ছে— “যে যুবককে কোনো সুন্দরী নারী ব্যভিচারের আহবান করলে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।”

রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে- তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন করা হবে যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছো।” (বুখারি)

আমরা অনেকেই বলি, ‘এত বাচ্চা বয়সে এসব করার কি দরকার আছে!’ অথচ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সমাজ সংস্কারে হিলফুল-ফুযুল গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। হযরত আলী (রাঃ) রাসূল (সাঃ)এর সঙ্গী হয়েছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে। 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা।  আসুন, আল্লাহর জন্য সেরাটাই ভাবি। আল্লাহকে সেরা সময়টা দেই। নগদে পাওয়া সহজলভ্য অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখকে, চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে ছেড়ে দেই। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। 

আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এই সেক্রিফাইসের বিনিময় হচ্ছে একটাই। আর তা হলো- জান্নাত। শুধুমাত্র জান্নাত। খুব বেশী কি দুরে? তারুণ্যের পর যৌবন। এরপর বার্ধক্য। এরপর .... ? এরপর সবই চিরস্থায়ী! হয় চিরস্থায়ী জান্নাত। আর না হয় চিরস্থায়ী জাহান্নাম! 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা। আসুন, যৌবনের অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখের বিনিময়ে। চিরস্থায়ী সুখকে কিনে নেই। আত্মশুদ্ধির এই পবিত্র মাসে এটাই হোক তারুণ্যের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর মৃত্যু কিন্তু কারো বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। বয়সের সিরিয়ালও মানবে না। আসুন, আমরা আল্লাহকে সেরা সময়টাই দেই। সেরা সময়টাকে চিরস্থায়ী জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দেই। বিনিময়ে শুধু চিরস্থায়ী জান্নাতই নয়। বরং দুনিয়াটাও বোনাস হিসাবে পেয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

মারুফ কামাল খান

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

‘শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না।’

এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। তিনি এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন। মারুফ কামালের সেই লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মরহুম সাংবাদিক-রাজনীতিক তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে কিছুকালের জন্য আমি সাংবাদিকতায় ঊর্ধ্বতন সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলাম। সেটা দৈনিক দেশ-এ কাজ করবার সময়। সাবেক ছাত্রনেতা তাহের ঠাকুর পাকিস্তান আমলে দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার ছিলেন। সে যামানায় শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তৈরিতে তিনি বিরাট ভূমিকা রাখেন। স্বনামে 'জনতা সাগরে জেগেছে ঊর্মি' শিরোনামে ইত্তেফাকে শেখ সাহেবের ওপর সিরিজ রিপোর্ট করতেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য এবং শেখ সাহেবের কেবিনেটে তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তাহের ঠাকুর।

মুজিবহত্যার পর মোশতাক সরকারে অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে তাহের ঠাকুরের মন্ত্রীত্বও বহাল থাকে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া খোন্দকার মোশতাকের ভাষণসমূহও ছিল তাহের ঠাকুরেরই লেখা।

সুন্দর অভিজাত চেহারা ছিল তার। কণ্ঠস্বর ছিল চমৎকার। বেশভূষায় সব সময় নিপাট পারিপাট্য বজায় রাখতেন। কথাবার্তায় ছিলেন দারুণ চৌকশ। লিখতেনও দারুণ। অধুনালুপ্ত দৈনিক দেশ-এর শেষ পর্বে তিনি উপদেষ্টা সম্পাদক হিশেবে যোগ দিয়েছিলেন।

তাহের ঠাকুর ১৯৭৫ সালের মুজিবহত্যা ও জেলহত্যায় জড়িত ছিলেন বলে ব্যাপক প্রচার ছিল। আওয়ামী ঘরানার লোকজন তাকে অন্যতম চক্রান্তকারী বলে জানতেন। তবে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এবং সম্পাদকীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়ায় আমি তার প্রবল মুজিবভক্তি ও ভারতপ্রীতির প্রমাণ পেতাম। পরে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুজিবহত্যা ও জেলহত্যা উভয় মামলায় আসামি করে এবং গ্রেফতার করে জেলে রাখে। তবে বিচারে তাহের ঠাকুর বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন।

খুব তুখোড় আড্ডাবাজ লোক ছিলেন তাহের ঠাকুর। অফিসে এসেই আমাকে ডাকতেন। বাসা থেকে পিতলের ঝকঝকে পাত্র ভরে আনতেন সাজানো পান। সেটা খুলতেই সুগন্ধী জর্দার সুরভীতে ঘর মৌ মৌ করতো। তার চেয়ারের পাশে একটা পিকদানিও রাখা ছিল। আমারও তখন পান খাবার নেশা ছিল জব্বর। ধুমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কিংবা আয়েশ করে পান চিবুতে চিবুতে জমে উঠত আড্ডা। তাতে শামিল হতেন সহকর্মীদের অনেকেই।

'নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হয়। তখন আ.লীগের প্রতি তাহের ঠাকুরের অনুকূল মনোভাব আরো পরিস্কার হয়ে যায়। আমরা ছিলাম তখন বিএনপির পাগলপারা সমর্থক। একদিন একটু ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে বললাম, এতো বেশি আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ করেন, কিন্তু ওরা তো আপনাকে খুনি ও চক্রান্তকারী বলে। ওরা ক্ষমতায় এলে তো আপনাকে লটকে দেবে।

আমার ডাক নাম ধরে ডাকতেন তিনি। খানিকটা ম্লান হাসি হেসে বললেন, সোহেল ভাই, একটা কথা বলি শোনেন। মনে রাখবেন, জগতের অনেক কিছুর ফয়সালাই কিন্তু মানুষের হাতে নেই। সেগুলোর ফয়সালা হয় আসমানে। আমরা দুনিয়ার মানুষ এক রকম পরিকল্পনা করি কিন্তু আসমানি ফয়সালায় তা সম্পূর্ণ উলটে যায়।

তারপর তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে একটা মেসাল দিয়ে বললেন, ইন্ডিয়ায় মিসেস গান্ধীর ব্যাপারটা দেখুন। তার দুটি ছেলে। বড়টি রাজিব - ধীরস্থির, শান্ত। খুব রোমান্টিক ও শিল্পবোধসম্পন্ন তরুণ। কিছুটা স্বপ্নচারী। এক বিদেশিনী মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে, সুন্দর বেহালা বাজায়। মিসেস গান্ধী ভাবলেন, এই স্বাপ্নিক ছেলেকে দিয়ে রাজনীতি হবেনা। ও ডানা মেলে আকাশে উড়ুক। রাজিবকে পাইলট বানালেন তিনি।

ছোট ছেলে সঞ্জয়। সে ডানপিটে, একটু উগ্র স্বভাবের। রগচটা ছেলেটা সবার সাথে মেশে। একটু মতের অমিল হলেই মারপিটও করে ফেলে। শ্রীমতি গান্ধী এ ছেলেকেই তার রাজনীতির উত্তরসূরী করলেন।

কিন্তু বিধি বাম। আসমানি ফয়সালা ভিন্ন। যাকে তিনি রাজনীতির মাঠের জন্য তৈরি করলেন, সেই ছেলে একদিন ফ্লাইং ক্লাবের একটা প্লেন নিয়ে আকাশে উড়তে গিয়ে দুর্ঘটনায় হুট করে মরে গেলো। এরপর শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে মিসেস গান্ধী নিজেও নিহত হলেন। তখন আকাশে ওড়া সেই পাইলট ছেলেটিকে মাটিতে নেমে এসে হাল ধরতে হলো মায়ের রাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে। আর রাজনীতিতে নামার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েও রাজিবকে জীবন দিতে হলো অন্তর্ঘাতকের বোমা হামলায়!

তাহলে কী দাঁড়ালো? শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না। সব কিছুর ওপরে যে আসমানি ফয়সালা সেই কুদরতের ওপর আমাদেরকে আস্থা রাখতেই হবে।

অনেক দিন আগের গল্প। স্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বার পেরিয়ে তাহের ঠাকুরও অনেক আগেই গত হয়েছেন। তবুও ঘটনার নানা রকমের অভিঘাত দেখলে এখনো তার সে বয়ান মাঝে মাঝে মনে পড়ে। ভাবতে থাকি, মানুষের পরিকল্পনার বিপরীতে অকল্পনীয় আসমানি ফয়সালা যে কোনো মুহূর্তে আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দিতে পারে।

সেই গভীর আস্থাটা মনের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর