মক্কা-মদিনার সেইসব অসাধারণ স্মৃতি এবং ক্বারি শাব্বির আহমেদ
মক্কা-মদিনার সেইসব অসাধারণ স্মৃতি এবং ক্বারি শাব্বির আহমেদ

ক্বারি শাব্বির আহমেদ

মক্কা-মদিনার সেইসব অসাধারণ স্মৃতি এবং ক্বারি শাব্বির আহমেদ

Other

প্রতিটা দিন কিভাবে অতিবাহিত হয় বুঝতে পারি না। জীবিত না অর্ধমৃত সন্দেহ জাগে। ষাট বছরের এই বয়সে এমন দুঃসহ সময় আর আসেনি। এমন কঠিন সময় আর দেখিনি।

মানুষের অনুভূতির একটা লিমিট আছে।  

সেই লিমিট অতিক্রম করে গেছি। তাই নিজেকে আর মানুষ মনে হয় না। অনুভীতিহীন এক জন্তুর মতো মনে হয়। জন্তুরও অনুভূতি আছে। মানুষের অনুভূতি শেষ হয়ে গেছে মনে হয়। নিজেকে চিমটি কেটে দেখি, বুকের স্পন্দন শোনার চেষ্টা করি।  

এতো দুঃখের খবর চারিদিকে। একটা দুঃখ ভোলারও সময় পাইনা। নতুন দুঃখ এসে হানা দেয়। আর নিতে পারি না এই চাপ। প্রতিদিন কেউ না কেউ চলে যাচ্ছে। পরিচিত, ঘনিষ্ট, আত্মীয়। চোখ ভিজে যায়। তখন মনে হয় অনুভূতিগুলো আসলে এখনও শেষ হয়নি। কিছু এখনও অবশিষ্ট আছে। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয়, অপাঙক্তেও মনে হয়।  


আজ ঘুম ভেঙ্গে আর একটা একটা দুঃসংবাদ শুনে মনটা অতিশয় বিষন্ন হয়ে আছে। ২০১৯ সালে আমি আর জেসমিন হজ্জ করেছি। আমরা ভাগ্যবান যে সেই বছর হজ্জ করতে পেরেছিলাম। গত বছর সেভাবে হজ্জ হতে পারেনি কোভিডের জন্য। এ বছরও হবে কিনা জানা নাই। আল ফালাহ নামক এজেন্সির মাধ্যমে আমরা গিয়েছিলাম। সেটা ছিল আল ফালাহর ২৯তম হজ্জ আয়োজন। আল ফালাহর স্বত্বাধিকারি হচ্ছেন ক্বারি শাব্বির আহমেদ।  

চমৎকার একজন প্রাণবন্ত মানুষ। অর্গানাইজড এবং পুরোপুরি ডিজিটালাইজড একটি প্রতিষ্ঠানের কর্নধার তিনি। আমাদের সাথে হজ্জ পালনের প্রতিটা সময় সাথে ছিলেন। হাসিখুশী একজন মানুষ।   সেই গ্রুপে আমরা মাত্র ছয়জন বাংলাদেশি ছিলাম সেবার। আর বাকি সব অন্যান্য দেশের হাজিরা ছিলেন।  


আমাকে সবসময় মল্লিক বলে ডাকতেন। আমি লেখালেখির মানুষ বলে একটু বেশি সমাদর করতেন। মক্কা এবং মদিনায় আমরা পাঁচতারকা হোটেলে ছিলাম। সুযোগ সুবিধা ছিল অসাধারণ। কোভিডের মধ্যেও একদিন কথা হয়েছে। বলেছিলাম, স্যার আবার উমরাহ করতে যেতে চাই।

তিনি বলেছিলেন ইনশাল্লাহ সব ঠিক হোক যেতে পারবে। মনে আছে শেষ দিন যখন বড় শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে আমরা ফিরব সেদিন কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটায় বাস বন্ধ করে দিয়েছিল মক্কা পুলিশ। আমরা ষোল কিলোমিটার ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস গরমে হেঁটে ফিরেছিলাম। আমাদের সাথের দু’একজন তীব্র গরমে জ্ঞান হরিয়েছিলেন। আমাদের সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ হেঁটে ফিরেছিল সেদিন।  


মাদারীপুরে বাল্কহেড-স্পিডবোট সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২৫, পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার

মুখ্যমন্ত্রী হতে যেসব নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে মমতাকে

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ

বার্সার ঘাম ঝরানো জয়ে মেসির জোড়া গোল


ক্বারি সাহেব ছিলেন একটু ওভার ওয়েট। হুইল চেয়ারে চলাচল করতেন। তা সত্বেও তিনি দীর্ঘ পথ আমাদের সাহস যুগিয়েছেন। তার মনের জোর ছিল দুর্দান্ত। অসাধারন ইংরেজি এবং হিন্দীতে বয়ান করতেন। চমৎকার যুক্তিতে সবকিছু সহজ করে দিতেন। কোনো গোঁরামি ছিলনা। একজন পরিপূর্ণ আধুনিক মানুষ ছিলেন। আজ ঘুম ভেঙ্গে শুনলাম তিনি নেই! কোভিড কেড়ে নিয়েছে তাঁকেও (ইন্নালিল্লাহ…রাজেউন)।

চোখটা ভিজে উঠল। চোখের সামনে ভেসে উঠল হজের সব স্মৃতিগুলো। মিনার দিনগুলো, আরাফতের বিদায় হজ, মুজদালিফায় রাত যাপন আর হজ বিল্ডিংএ একসাথে থাকার অসাধারন স্মৃতিগুলো। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় আমার!

জসিম মল্লিক, সাংবাদিক, কানাডা

news24bd.tv নাজিম