ইতিকাফে যা করা যাবে, যা করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক

ইতিকাফে যা করা যাবে, যা করা যাবে না

ইতিকাফ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো সময় জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহকে খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য মসজিদে এবং নারীদের জন্য ঘরে নামাজের নির্দিষ্ট একটি স্থানে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৫)। আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) আজীবন রমাদান মাসের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ওফাতের (আগে) পরেও তাঁর বিবিগণ (ঘরে) ইতিকাফ করতেন। (বুখারি ও মুসলিম; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬, পৃষ্ঠা: ১২৯)।

ইতিকাফ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ইবাদত। রমজানের শেষ দশক তথা ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ তথা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমাদান পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। কোনো মসজিদ মহল্লায় কয়েকজন বা কোনো একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে। আর কেউই আদায় না করলে সবাই সুন্নাত তরকের দায়ে দায়ী থাকবে। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে যিনি বা যাঁরা আদায় করবেন, শুধু তিনি বা তাঁরাই সওয়াবের অধিকারী হবেন।

ইতিকাফের প্রকারভেদ: ইতিকাফ মূলত তিন প্রকার। এক. ওয়াজিব ইতিকাফ। দুই. সুন্নত ইতিকাফ। তিন. মুস্তাহাব ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন ধরনের ১. ওয়াজিব, ২. মুস্তাহাব, ৩. সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। ইতিকাফ করার মানত করলে তা আদায় করা ওয়াজিব। রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া মানে হলো একটি মহল্লা বা এলাকার সবার পক্ষে অন্তত একজন আদায় করতে হবে। একজনও আদায় না করলে পুরো এলাকাবাসীর গুনাহ হবে। এ ছাড়া রমজানের শেষ ১০ দিন ছাড়া যত ইতিকাফ করা হবে, তা মুস্তাহাব বা নফল।

ইতিকাফের শর্তাবলি: একজন ইতিকাফকারীকে পাঁচটি গুণে গুণান্বিত হতে হবে। অর্থ্যাৎ পাঁচটি গুণ না থাকলে কোনো মানুষ ইতিকাফ করতে পারবে না। ১. মুসলমান হওয়া। ২. বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন হওয়া। ৩. পবিত্র হওয়া। ৪. ইতিকাফের নিয়ত করা। ৫. পূর্ণাঙ্গ সময় (একান্ত আবশ্যক কাজ ছাড়া) ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করা।

ইতিকাফে কী করা যাবে, কী করা যাবে না : শুদ্ধভাবে ইতিকাফ করার জন্য এর বিধান জানা জরুরি। ইতিকাফের শর্ত, আদব ও ইতিকাফে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না এসব বিষয় না জানা থাকলে সঠিকভাবে ইতিকাফ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। শুদ্ধভাবে ইতিকাফ আদায় হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। অন্যতম শর্ত হলো নিয়ত করা। নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ সহিহ হবে না। জামে মসজিদে ইতিকাফ করা। নারীরা নিজ গৃহে নামাজের স্থানে বা অন্য পবিত্র স্থানে ইতিকাফ করবে। এছাড়া ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো মুসলমান হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, অপবিত্রতা এবং হায়িজ ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া। বালিগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ইতিকাফের শর্ত নয়। তাই জ্ঞানবান নাবালিগরাও ইতিকাফ করতে পারবে। নারীর জন্য স্বামীর অনুমতি নিয়ে ইতিকাফ করা জায়েজ। নারীর জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা নাজায়েজ। (বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭২)।


বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

বাংলাবাজার ঘাটে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি

মুখ্যমন্ত্রী হতে যেসব নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে মমতাকে

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ


বিনা ওজরে দিনে বা রাতে সামান্য সময়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়। অনুরূপভাবে নারীরা তার ঘরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের হবে না। পেশাব-পায়খানা ও জুমা আদায় ইত্যাদি ওজরের কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ। ইতিকাফের স্থানে ঘুমাবে ও পানাহার করবে। কোনো কারণে যদি মসজিদ ভেঙে যায় অথবা জোরপূর্বক মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয় তাহলে ইতিকাফকারী ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্য মসজিদে চলে যাবে, এতে ইতিকাফ নষ্ট হবে না। জান বা মালের ক্ষতির আশঙ্কা হলেও এই হুকুম প্রযোজ্য হবে। অসুস্থ ব্যক্তিকে সেবা করার জন্যও মসজিদ থেকে বের হবে না। কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে বা তার জানাজা আদায়ের উদ্দেশ্যে ইতিকাফ থেকে বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য মানতের ইতিকাফের সময় যদি রোগীর সেবা, জানাজার নামাজ ও ইলমের মজলিসে যাওয়ার শর্ত করে, তা হলে এসব তার জন্য জায়েজ হবে।

ইতিকাফকারী ব্যক্তি মুয়াজ্জিন হোক বা অন্য কেউ হোক, আজানের জন্য মিনারে আরোহণ করলে ইতিকাফ নষ্ট হবে না। মিনার মসজিদের বাইরে হলেও। এ ছাড়া ইতিকাফ নষ্ট হওয়ার একটি কারণ হলো সহবাস বা সহবাসের দিকে আকৃষ্টকারী কাজ, তা দিনেই হোক বা রাতেই হোক। স্বপ্নদোষে ইতিকাফ নষ্ট হয় না। কয়েকদিন পাগল বা বেহুশ থাকার ফলে লাগাতার ইতিকাফ করতে না পারলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়। একেবারে চুপ থাকাকে ইবাদত মনে করে সারাক্ষণ চুপ থাকলে ইতিকাফ মাকরুহ হয়। অন্যথায় মুখের গুনাহ থেকে চুপ থাকা বড় ইবাদত। ইতিকাফের স্থানকে ব্যবসাস্থল বানানো মাকরুহ। ওয়াজিব ইতিকাফ যে কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেল তার কাজা করা ওয়াজিব।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

করোনা মুক্তিতে জুমাতুল বিদায়ে দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

করোনা মুক্তিতে জুমাতুল বিদায়ে দোয়া

রমজান মাসের আজ শেষ জুমা। পবিত্র জুমাতুল বিদা। এ দিনকে ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিন জুমা আদায়ের জন্য এলাকার মসজিদে আগেভাগে গিয়ে উপস্থিত হন মুসল্লিরা। 

নামাজে শরিক হতে আগেভাগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। এরপরই ইমাম সাহেবের সংক্ষিপ্ত বয়ানে আবারও মনে করে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যবিধির কথা। 

নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেশের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া করা হয় ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হতে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের সকল মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য।

করোনা মহামারি থেকে রক্ষা দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্ম মতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

জুমাতুল বিদাকে ‘আল-কুদস দিবস’ বলা হয় কেন?

অনলাইন ডেস্ক

জুমাতুল বিদাকে ‘আল-কুদস দিবস’ বলা হয় কেন?

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা বা মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার। দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এ দিনটি আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়।

‘আল-কুদস দিবস’ বলার কারণ:

প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদিদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কবল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য নতুন শপথ গ্রহণ করে থাকেন। তাই মাহে রমজানের ‘জুমাতুল বিদা’ তথা শেষ শুক্রবারকে ‘আল-কুদস দিবস’ বলা হয়।

মাহে রমজানের বিদায়ী শুক্রবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অতি মূল্যবান। এদিন সিয়াম শেষ হয়ে যাওয়ার সতর্কতামূলক দিবস। জুমাতুল বিদা স্মরণ করিয়ে দেয় যে রোজার শেষ প্রান্তে এর চেয়ে ভালো দিবস আর পাওয়া যাবে না। রোজার শুরু থেকে যেসব ইবাদত ব্যস্ততাবশত ফেলে রাখা হয়েছে, যে গুনাহখাতা মাফের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে ভুল হয়েছে, জুমাতুল বিদার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সময়ে এর বরকত হাসিল করা বাঞ্ছনীয়।


মধ্যরাতে হেফাজতের নেতা শাহীনুর পাশা গ্রেপ্তার

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ

কোভিড সার্টিফিকেট জাল, ধ্যাত তাও কি হয় নাকি!

জাতীয় অধ্যাপক হলেন তিন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ


জুমাতুল বিদা এবং শেষ শুক্রবার ‘আল-কুদস দিবস’। জুমাতুল বিদার বিশেষ তাৎপর্য এই যে রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র মহামতি হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহর মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুনর্নির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির পর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হচ্ছে ‘বায়তুল মোকাদ্দাস’ বা ‘মসজিদ আল-আকসা’।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সকল মসজিদের পূর্বসূরী ‌‘উকবা বিন নাফে মসজিদ’

অনলাইন ডেস্ক

এ মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মুসলিম দিগ্বিজয়ী উকবা বিন নাফের নামানুসারে একে উকবা বিন নাফে মসজিদ নামেও ডাকা হয়।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই স্থাপত্য নিদর্শনকে পশ্চিমা ইসলামী বিশ্বের সকল মসজিদের পূর্বসূরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৯ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ভূমিতে বিশাল এ মসজিদটি অবস্থিত।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ফাতেমার ইসলাম গ্রহণের গল্প

রোজার সৌন্দর্যে ​মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক

রোজার সৌন্দর্যে ​মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যে। কাজ করতেন একজন স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে। বেশ কয়েক বছর আগে রোজার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন বিজয়া লক্ষ্মী নামের এক হিন্দু নারী। ইসলাম গ্রহণের পরে এখন তার নাম ফাতেমা নওশাদ। এখন তিনি স্বামীর সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি খালিজ টাইমসকে নিজের ইসলাম গ্রহণ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দেন ফাতেমা নওশাদ। সাক্ষাৎকারে ফাতেমা বলেন, আমার জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়। আমরা পারিবারিকভাবে হিন্দু ধর্মালম্বী হলেও প্রকৃত পক্ষে হিন্দু ধর্মের প্রতি আমরা উদাসিন ছিলাম।

প্রতিবেশী মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে ইসলাম ধর্মের প্রতি আমি ইতিবাচক আকর্ষণ অনুভব করি। ইসলাম গ্রহণের আগেই রমজানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রোজা পালনের অভিজ্ঞতাও আমার আছে। এরই মধ্যে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়। অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করি। যদিও ভারতে মুসলমান ছেলের সঙ্গে হিন্দু মেয়ের বিয়েকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখা হয় না, তারপরও আমার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আমার ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ে নিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি; বরং খুব সুন্দর উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আমি দুবাইতে থাকছি।’

আরও পড়ুন


ফেসবুক: রচনা ও পাঠ

বান্দরবানে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

যে দিন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে চীনের অনিয়ন্ত্রিত রকেট

৯ বছর পর ফাইনালে চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়


ফাতেমা আরো বলেন, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসলিমদের সভ্যতা, শুচিতা ও শালীনতায় মুগ্ধ হতাম। পরে আমি তাদের সম্পর্কে বিস্তর জানতে ও পড়তে শুরু করি এবং শাশ্বত এই ধর্মের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শিখি। আর এভাবেই ইসলামের সর্বজনীন সত্যতা আমার বন্ধ চোখ খুলে দেয়। যে কারণেই আমি বিজয়া লক্ষ্মী থেকে আজ ফাতেমা নওশাদ। তবে অনেকে অভিযোগ করেন, আমি বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছি। আসলে এটি অসত্য। বরং আমি আগে থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি বিয়ের আগেই।’

ফাতেমা নওশাদ বলেন, সর্বপ্রথম কালিমায়ে তাওহিদ পাঠের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যখন আমি মুখে আল্লাহ-রাসুলের নাম নিলাম, তখন স্বর্গীয় এক প্রশান্তি অনুভব করি। বিগত জীবনের চেয়ে আমার বর্তমান জীবন অনেক বেশি সুখী, শান্তিময় ও সুন্দর। আমি যখন ভোরে ঘুম থেকে জেগে ফজরের সালাত আদায় করি, তখন যে নির্মল একটা সতেজতা অনুভব করি, তা আগে কখনো অনুভব করিনি।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

নাজাতের ১০ দিন ও বরকতময় শবে কদর

অনলাইন ডেস্ক

নাজাতের ১০ দিন ও বরকতময় শবে কদর

রমজানের শেষ দশ নাজাত। পবিত্র রমজানে শুরু থেকে এখন অবধি আমল ও শুদ্ধির নূরানি পরিবেশের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত করছি আমাদের রাত-দিন। রহমত -মাগফেরাত শেষে নাজাতের শেষ দশকে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাচ্ছি আমাদের ক্ষমার। জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের। নিয়মিত বিশ দিন সিয়াম সাধনা পালনের পর রোজাদার এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। যেখানে রয়েছে তার জন্য ক্ষমা।

রাসূল (সা.) বলেছেন, “রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।” (মিশকাতুল মাসাবিহ)

এ দশকে আমরা অপেক্ষা করি পবিত্র শবে কদর পাওয়ার। যে শবে কদরে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ রাতেই পবিত্র মক্কা মুকাররমার `গারে হেরায়` অবতীর্ণ হয় পবিত্র কুরআন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে মহানবী রাসূল (সা.) এর কাছে হযরত জিবরাইল (আ.) নিয়ে আসেন এই ঐশ্বরিক বাণী।

আল্লাহ বলেন, “আমি তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনিতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রজনিতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা: আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৪)

অন্যত্র আছে, নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনিতে। আর মহিমান্বিত রজনি সম্পর্কে তুমি কী জান ? মহিমান্বিত রজনি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা: দুখান)

শেষ দশকে পাওয়া পবিত্র এ রাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয় "যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এ রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। মোচন করা হবে তার সমস্ত অপরাধ।

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত, “রাসূল (সা.) এ রাতে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন। (মুসলিম শরীফ)

রাসূল (সা.) বলেন, "তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর। (বুখারী শরীফ)

আরেক হাদীসে আছে, যে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করে। বর্ণনায়: (বুখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

আরও পড়ুন


লাইলাতুল কদরে যে বিশেষ দোয়াগুলো পড়লে মুক্তি মিলবে

যেসব অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

খালেদার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ


নবী করিম (সা.) এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে অন্যান্য রাতের তুলনায় বেশি সময় ও শ্রম দিতেন। শেষ দশক তথা নাজাতের এ দশদিন রাসূল (সা.) ইতিকাফ ও আমলের জন্য পূর্ণ প্রস্ততি গ্রহণ করে স্ত্রী-পরিজন থেকে আলাদা হয়ে সম্পূর্ণই ইবাদাতে মনোযোগী হতেন। নিবিড়ভাবে সমাহিত হতেন খোদার দাসত্বে। বসে যেতেন এতেকাফে।

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন ততদিন তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী-গণ এতেকাফ করেছেন। (বোখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

তাই আমাদের একান্ত কর্তব্য হল আমলে আমলে রমজানের এ শেষ দিনটিকে রাঙিয়ে তোলা। বিশেষ করে এ দশদিন এতেকাফে বসে একমনে ধ্যান করে নিজের পরকালীন মুক্তির পথে দুনিয়ার জীবনে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর হয়ে যাওয়ার অনুশীলন করা।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর