জাদুর পাহাড় আয়ারস রক: রঙ বদলের খিলাড়ি

হারুন আল নাসিফ

জাদুর পাহাড় আয়ারস রক: রঙ বদলের খিলাড়ি

আয়ারস রক হচ্ছে বিশাল আকৃতির এক পাহাড়। এটি অন্যান্য পাহাড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ পাহাড়টির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। সকালে এর এক রঙ তো দুপুরে আরেক। এভাবে অষ্টপ্রহর রঙবদলের খেলায় মেতে থাকে এ পাহাড়। এই পাহাড়ের নাম আয়ারস রক। মানুষ এর নাম দিয়েছে যাদুর পাহাড়। 

ভৌগলিকভাবে আয়ারস রকের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায় নরদার্ন টেরিটোরিতে। জায়গাটিকে সবাই উলুরু নামে চেনে। রহস্যে ঘেরা অদ্ভুত এই পাহাড়টি আসলে সম্পূর্ণ একটি প্রস্তর খণ্ড। এর গঠন কাঠামোই অদ্ভুত। 

সকালে সূর্যের রশ্মি পাহাড়ের গায়ে পড়লেই মনে হয় যেন আগুন ধরে গেছে এর গায়ে। রঙয়ের বিচ্ছুরণ হতে থাকে পাহাড় থেকে। সূর্য আলোর আপতন কোণের পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে এই পাহাড়ের রঙ পরিবর্তন হয়। 

পাহাড়ের রঙ হলুদ থেকে কমলা, পরে লাল ও মাঝে মাঝে বেগুনি আবার গাঢ় কালো রঙও ধারণ করে। সারাটা সময়জুড়ে সময় চলে এই রঙ বদলের খেলা। রঙ বদলের এই রহস্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। রঙ বদলের কারণেই পাহাড়টিকে সবাই জাদুর পাহাড় বলে।
পাহাড়টির এমন অদ্ভুত রঙ বদলানোর রহস্য নিয়ে মতবিরোধ আছে অনেকের মাঝে। ধারণা করা হয়, রহস্য লুকিয়ে আছে পাহাড়টির ভৌগোলিক অবস্থানে। অনেকে বলে থাকেন, পাহাড়ের নিচে এক শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে যার কারণে বিভিন্ন কোণে সূর্যের আলো পাহাড়টির ওপরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের রঙ বদল হয়। 

অনেক কল্পকাহিনীও প্রচলিত আছে এই পাহাড়টিকে নিয়ে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পাহাড়ে আগে জাদুকররা বাস করত তারাই জাদু-মন্ত্র দিয়ে এমনটি করে গেছে। তবে এই পাহাড়ের রঙ বদলানোর আসল রহস্য কারো পক্ষে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। 

বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত বহু পর্যটক আসে পাহাড়টিকে দর্শন করতে। তাই অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিদর্শনের সুবিধার্থে পাহাড়ের আশেপাশে ৪৮৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে মাউন্ট দ্য ন্যাশনাল পার্ক গড়ে তুলেছে। দূরবর্তী জায়গা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা যেটি থেকে খুব সহজেই আয়ারস রকের রূপসৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

লেখক : হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv/আলী

 

পরবর্তী খবর

রামসাগর: দেশের বৃহত্তম দিঘি

হারুন আল নাসিফ

রামসাগর: দেশের বৃহত্তম দিঘি

রামসাগর দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দিঘি। এটি জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার (৮,০০০ মি) দক্ষিণে অবস্থিত। তটভূমিসহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার।

দিঘিটির পশ্চিম পাড়ের মাঝখানে একটি ঘাট ছিল। এখন যার কিছু অবশিষ্টাংশমাত্র রয়েছে। বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্ল্যাব দ্বারা নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার এবং ১৮.৩ মিটার। দীঘিটির পাড় ১০.৭৫ মিটার উঁচু।

ঐতিহাসিকদের মতে, দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ (রাজত্বকাল: ১৭২২-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) পলাশীর যুদ্ধের আগে (১৭৫০-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে) এই রামসাগর দিঘি খনন করেছিলেন। তারই নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রামসাগর। দিঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০,০০০ টাকা এবং ১৫,০০,০০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল।

রামসাগর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আসে ১৯৬০ সালে। ১৯৯৫-৯৬ সালে এই দিঘিকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই দিঘি নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন লোককথা। কথিত আছে, ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে প্রচণ্ড এক খরা দেখা দিলে পানির অভাবে নিদারুণ কষ্টে পড়ে হাজার হাজার প্রজা। এসময় দয়ালু রাজা প্রাণনাথ স্বপ্নাদেশ পেয়ে একটি পুকুর খনন করেন। মাত্র ১৫ দিনে এর খনন কাজ সম্পন্ন হয়।

কিন্তু দুঃখ ও আশ্চর্যের বিষয় হলো পুকুরে পানি উঠছিলো না। একসময় রাজা স্বপ্নে দৈববাণী পেলেন যে, তার একমাত্র ছেলে রামকে দীঘিতে বলি দিলে পানি উঠবে। স্বপ্নাদিষ্ট রাজা, দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেন।

তারপর এক ভোরে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোষাকাচ্ছাদিত হয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন সেই দীঘির দিকে। দীঘির পাড়ে পৌঁছে যুবরাজ রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দীঘির তলা থেকে গলগল করে পানি উঠতে লাগলো। চোখের পলকে পানিতে ভরে গেলো দিঘি।

আরো একটি লোককাহিনী হলো: দিঘি খনন করার পর রাজা রামনাথ পানি না উঠলে স্বপ্ন দেখেন রাজা দিঘিতে কেউ প্রাণ বিসর্জন দিলে পানি উঠবে। তখন রাম নামের স্থানীয় এক যুবক দিঘিতে প্রাণ বিসর্জন দেয়। রাজার নির্দেশে সেই যুবকের নামে দিঘির নামকরণ করা হয়।

এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৭টি পিকনিক কর্নার। সেখানে আছে ২টি টয়লেট, ১টি ক্যাফেটেরিয়া, আছে শিশুপার্ক। এছাড়া আছে কিছু হরিণ। এই উদ্যানে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিটের ব্যবস্থা।


আরও পড়ুনঃ


ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

মিষ্টি বিতরণে পুলিশের বাঁধা, ২০ কেজি রসগোল্লা জব্দ

ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় দায়িত্ব: হুথি নেতা

শত বছরের পুরনো বিয়ের রীতি ভাঙলেন ‘হার্ডকোর ফেমিনিস্ট’ যুবক


এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর গড়ে তোলা রামসাগর গ্রন্থাগার নামে ৮ শতাধিক বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে একটি অনুমোদনহীন পাঠাগার আছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অলক্ষে এই উদ্যানটি সন্ত্রাসী এবং মাদকসেবীদের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকব্যবসায়ের স্থান হয়ে উঠেছে এবং কখনো-কখনো তারা পর্যটকদেরও হয়রানিও করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় পিকনিক কর্নারগুলোও ভঙ্গুর, অরক্ষিত এবং প্রায় ব্যবহার-অযোগ্য হয়ে পড়েছে ।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

হারুন আল নাসিফ

মহারাষ্ট্রের লোনার ঝিল: বিস্ময়কর বিরল হ্রদ

লোনার ঝিল ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাই থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূরে বুলধানা জেলার লোনারে অবস্থিত একটি পর্যটন আকর্ষণ। এটি লোনার ক্রেটার নামেও পরিচিত। শুধু স্থানীয় পর্যটক নন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসে এই বিস্ময়কর হ্রদটি দেখতে ভিড় জমান বিজ্ঞানীরাও। প্রাচীন গ্রন্থ পদ্মপুরান ও স্কন্ধ পুরান এবং ষোড়শ শতকে লেখা আইন-ই-আকবরী গ্রন্থেও এই হ্রদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৮২৩ সালে প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে ব্রিটিশ কর্মকর্তা জে. ই. আলেকজান্ডার হ্রদটি পরিদর্শন করেন।

লোনার ঝিল প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হ্রদ নয়। এটি পৃথিবীর কোনো স্থানে অতি-বেগে পতিত উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতে ব্যাসাল্টিক শিলায় সৃষ্ট গর্ত বা ক্রেটারগুলোর অন্যতম। ব্যাসাল্টিক প্রভাবে সৃষ্ট অন্য তিনটি ক্রেটার বা গর্ত রয়েছে দক্ষিণ ব্রাজিলে। উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট এ বিশাল ও গভীর গর্তটি কালক্রমে হ্রদে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা বা উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুটি পূর্বদিক থেকে সেকেন্ডে ১১ মাইল বেগে মহাকাশ থেকে ধেয়ে এসে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি কোণে ভূমিতে আঘাত করেছিলো।

লোনার ক্রেটারটির অবস্থান ডেকান মালভূমিতে। এটি প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ব্যাসাল্ট শিলার বিশাল সমতল। প্রায় ছয় কোটি সাড়ে ৬৫ লাখ বছর আগে এটি গঠন হতে শুরু করে। প্রায় ৩০ হাজার বছর ধরে চলে এ অগ্ন্যুৎপাত। মূল লাভা-বিধৌত অঞ্চলের আয়তন ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার ছিলো বলে ধারণা করা হয়। পরে ক্ষয় ও প্লেটটেকটোনিকের কারণে এটি ছোট হয়ে আসে। এর বর্তমান আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গ কিলোমিটার এবং পুরুত্ব দুই হাজার মিটার বা ছয় হাজার ছয়শ ফুট।

ঊনিশ শতকে যখন এটি আন্তর্জাতিক নজরে আসে তখন কিছু ভূতাত্ত্বিক ব্যাসাল্ট ক্ষেত্রে অবস্থান হওয়ায় এটিকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বলে অভিমত দিয়েছিলেন। তবে, বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভূতাত্ত্বিকরা সন্দেহ করতে শুরু করেন যে এটি উল্কাপিণ্ড, গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অভিঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ স্থানে উচ্চ গতিবেগের অভিঘাতে সৃষ্ট মাস্কেলিনাইট নামক একটি কাঁচ প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের সন্দেহ সত্য পরিণত হয়। ১৯৭৩ সালে সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে হ্রদে এই কাচের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।

গর্তটির বয়স সাধারণত ৫২ হাজার বছর বলে মনে করা হয়। তবে ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, এটির বয়স আনুমানিক পাঁচ লাখ ৭০ হাজার বছর। ২০১৯ সালে আইআইটি বোম্বে পরিচালিত একটি  সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এপোলো প্রোগ্রামের সময় চাঁদের শিলায় প্রাপ্ত খনিজগুলোর সাথে হ্রদের মাটিতে থাকা খনিজগুলোর বেশ মিল রয়েছে। ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে হ্রদটিকে সংরক্ষিত রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়। ভারতের জাতীয় জিও হেরিটেজের তকমাও পেয়েছে লেকটি।

ভূতাত্ত্বিক, বাস্তুবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক, প্রকৃতিবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ হ্রদের বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেছেন। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সাগরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শারীরিক গবেষণা পরীক্ষাগার এ স্থানটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে। ২০০৭ সালে এই হ্রদের জৈব নাইট্রোজেন নির্ধারণ আবিষ্কার হয়। এখানে বসবাসরত অণুজীবগুলো কেবল পিএইচ১১-তেই বেঁচে থাকতে পারে।

হ্রদের পানির রঙ সাধারণত সবুজ। কিন্তু ২০২০ সালের জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে মাত্র দুই-তিনদিনে হ্রদের পানির রঙ বদলে লালচে গোলাপি রঙ ধারণ করে। জানা যায়, আগেও কয়েকবার লোনার হ্রদের পানির রঙে লালচে বা গোলাপি আভা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার রঙের ঘনত্ব বেশি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হৈ চৈ পড়ে যায়। পরিবেশবিদ থেকে বিজ্ঞানী সবাই কারণ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে আগারকার গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় পরিবেশ প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পানির স্তর কমে যাওয়ায় উচ্চ লবণাক্ততার কারণে হ্যালোব্যাকেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায় এবং ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে এই রঙবদল ঘটে।

৭৭.৬৯ হেক্টর আয়তনের হ্রদটি ওভাল বা প্রায় গোলাকার। শীর্ষে এটির পরিধি প্রায় ৮ কিলোমিটার (পাঁচ মাইল)। দেয়ালের মতো হ্রদের পাড় আশপাশের ভূমি থেকে ২০ মিটার বা ৬৫ ফুট উঁচু। প্রায় গোলাকার বেসিন বা অববাহিকা ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি টিলা। বেসিনের পাড়ের ঢাল প্রায় ৭৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করেছে। পাড়ের পাদদেশে হ্রদের পরিধি প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার (তিন মাইল)। হ্রদের গড় ব্যাস ১.২ কিলোমিটার (৩,৯০০ ফুট) এবং এটি ক্রেটার রিমের ১৩৭ মিটার (৪৪৯ ফুট) নীচে অবস্থিত। শীর্ষে উল্কাগর্তের ব্যাস প্রায় ১.৮ কিলোমিটার (৫,৯০০ ফুট)। এর ঢালে রয়েছে অনেক প্রজাতির গাছ-পালা। এছাড়া হ্রদের কিনারে বাজরা, ভুট্টা, ঢেঁড়শ, কলা, পেঁপে ইত্যাদিও চাষ করা হয়।

আরও পড়ুন


ভারতে আজ ১০ হাজার রেমডেসিভির পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতে করোনায় মৃত্যুতে আবারও নতুন রেকর্ড

টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ নিলেন মমতা

আইপিএল স্থগিতে যত টাকা ক্ষতি হলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের


হ্রদের পানি লবণাক্ত এবং ক্ষারযুক্ত। এতে বিভিন্ন লবণ এবং সোডা রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ার সময়, যখন বাষ্পীভবন পানির স্তর হ্রাস করে, তখন এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডা সংগ্রহ করা হয়। হ্রদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে দুটি স্বতন্ত্র অঞ্চল দেখা যায়, একটি বাহ্যিক নিরপেক্ষ (পিএইচ৭) এবং একটি অভ্যন্তরীণ ক্ষারক (পিএইচ১১), এরা একটির সাথে আরেকটি মিশে না। পূর্ণা ও পেঙ্গাঙ্গা নামে দুটি ছোট জলধারা হ্রদে প্রবাহিত হয়। হ্রদের পানির ধারেই দক্ষিণ দিকে একটি মিঠাপানির কূয়া সৃষ্টি রয়েছে।

হ্রদটির আশপাশ বিপুল উদ্ভিদ ও প্রাণীর এক বিশাল আবাসস্থল। এখানে ১৬০ প্রজাতির পাখি, ৪৬ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। আবাসিক পাখির পাশাপাশি এখানে অনেক অতিথি পাখিরও আনাগোনা রয়েছে। রয়েছে ময়ূর ও একাধিক প্রজাতির হরিণ। ভারত সরকার ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর এখানকার ৩.৮৮ বর্গ কিলোমিটার (১.৪৮ বর্গ মাইল) আয়তনের এলাকাকে লোনার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে।

মূল হ্রদ থেকে প্রায় সাতশ মিটার (২,৩০০ ফুট) দূরে একটি ছোট হ্রদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, যে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মূল গর্তটি সৃষ্টি হয়েছিলো তার থেকে ছিটকে আসা একটি ছোট খণ্ডের আঘাতে এটি সৃষ্টি হয়। এর নাম অম্বার হ্রদ। এটিকে কখনো-কখনো ছোট লোনারও বলা হয়। এই হ্রদের কাছে একটি হনুমান মন্দির রয়েছে। এর পাথরের প্রতিমাটি অত্যন্ত চৌম্বকীয় বলে বিশ্বাস করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা এই হ্রদ থেকে পানি সেচে চাষাবাদে ব্যবহার করে থাকেন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

অনলাইন ডেস্ক

ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

সময়টা ২০১৪। জর্জিয়া। ঠিক যেন আধুনিক সময়ের এক রূপকথা। রূপকথার শুরু একদিন বিকেলে। তিন বান্ধবী তাতুলি, টাকো এবং মারিয়াম গ্রামের মেঠো পথ ধরে পান্ডুরি নামে স্থানীয় এক বাদ্য বাজিয়ে গান গাইতে গাইতে হাঁটছিল।

তাদেরই একজন তাতুলি, হাঁটতে হাঁটতে তাদের গানের একটি ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে আপলোড করে। আর তাতেই রূপকথার মতোই নাটকীয়ভাবে ঘুরে গেলো তাদের জীবনের মোড়।

সেই গানটিই তাদের এনে দিলো জনপ্রিয়তা। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই গানটি ইন্টারনেটে দেখে প্রায় কয়েক মিলিয়ন মানুষ।

‘ট্রিও মান্ডিলি’ নামে একটি গ্রুপ খোলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। দিন দিন তাদের জনপ্রিয়তা বাড়তেই থাকে। বর্তমানে তাদের ফেসবুক পেজে ১০ লাখেরও বেশি লাইক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে রয়েছে তাদের অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী। রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলও।

তবে তাদের এই ‘ট্রিও মান্ডিলি’ নামটি হঠাৎ করে আসে নি। ট্রিও মান্ডিলি হল জর্জিয়ায় মেয়েদের মাথায় দেয়ার এক ধরণের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ। প্রিয় মানুষের সাথে ঝগড়া হলে তা মিটানোর জন্য মেয়েরা তাদের সামনে মান্ডিলি বা মাথার স্কার্ফ খুলে মাটিতে ফেলে দেয়।


আরও পড়ুনঃ


সিংহের প্রজনন বন্ধ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা

শপিংয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরদিন কিনলেন নতুন গাড়ি

সভায় সংলাপ দিয়ে শুধু হাততালিই পেলেন মিঠুন?

উত্তর কোরিয়ায় সস্তায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়: কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডসহ তিন প্রজন্মের শাস্তি


২০১৫ সালে ‘উইথ লাভ’ (With Love) নামে তাদের প্রথম গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়। দুই বছর পর এনগুরো (Enguro) নামে তাদের দ্বিতীয় গানের অ্যালবাম বের হয়। এরই মধ্যে বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও রাশিয়ায় তারা বিভিন্ন আমন্ত্রণে গান গেয়েছে।

খুব বেশি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া তিনজন হাঁটতে হাঁটতে গান গায় এবং নিজেরাই তা ধারণ করে। সাধারণত তাদের গানগুলো হয় ট্রাডিশনাল ও ফোক ধরণের।

তবে সম্প্রতি তারা বেশকিছু ভিন্ন ভাষার গানও গেয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

আলুটিলার বিরল প্রকৃতিক সুড়ঙ্গ দেবগুহা

হারুন আল নাসিফ

আলুটিলার বিরল প্রকৃতিক সুড়ঙ্গ দেবগুহা

আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। গা ছমছম অনুভূতি, শিহরণ,  ভয়, সৌন্দর্য্, আলো-আঁধারি আর ঝর্নার সুরে ছান্দিক ব্যাকুলতায় পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে উপভোগ্য এ সুড়ঙ্গের বিকল্প নেই। বলা হয়, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিরীর অন্য কোন দেশেও এ রকম প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ পথের খুব একটা নজির নেই।

খাগড়fছড়ি শহর থেকে ৮কিমি পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চূড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যেই আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গের অবস্থান। স্থানীয় উপজাতীয় ভাষায় সুড়ঙ্গটি ‘মাতাই হাকর’ নামে পরিচিত। মাতাই শব্দের অর্থ দেবতা এবং হাকর শব্দের অর্থ গুহা। সুতরাং মাতাই হাকর শব্দের অর্থ দেবগুহা বা দেবতার গুহা।

পাহাড়ের চূড়া থেকে অনেক নিচে সুড়ঙ্গটির অবস্থান। এক সময় সুড়ঙ্গে প্রবেশ ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এখন অনেক সহজে যাওয়া যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ির নীচে আলুটিলা পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলামাটির ভাঁজে রহস্যময় সুড়ঙ্গটি রহস্যের বিনোদ কাহিনী হয়ে বহুদিন থেকে বহুভাবে মানুষের মনে রোমাঞ্চ, আনন্দ আর অনুভুতির শিহরণ দিয়ে আসছে।

গুহামুখের ব্যাস প্রায় ১৮ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ ফুট। প্রবেশমুখ ও শেষের অংশ আলো-আঁধারিতে সবসময় আচ্ছন্ন থাকে। তবে মাঝখানে নিকষ কালো অন্ধকার। গুহার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত শীতল জলের ঝর্নাধারা রহস্যের মাঝেও যেনো প্রশান্তির পেলব পরশ বুলিয়ে দেয়। গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে এ গুহায় প্রবেশ করাটা একদিকে যেমন ভয়সংকুল তেমনি রোমাঞ্চকরও বটে।

আলুটিলা পাহাড়ের এ সুড়ঙ্গ একাকী ভ্রমণ করতে অনেকেই ভয় পান। ভয়ের কারণ শুধু অন্ধকার নয়, সুড়ঙ্গে বিশ্রামরত শত শত কলাবাদুরের ডাক আর ঝাপটানি এক ভীতকর রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। রাতে বা দিনে অবশ্যই টর্চ, মশাল কিংবা হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে ঢুকতে হয় এই সুড়ঙ্গে। মশাল স্থানীয়ভাবে কিনতে পাওয়া যায়। সুড়ঙ্গ দেখতে হলে দলে ভিড়ে দেখা ভালো।


আরও পড়ুনঃ


ফেলে রাখা ট্রাকে মিললো ২ লাখ ৪০ হাজার টিকা

শপিংয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরদিন কিনলেন নতুন গাড়ি

ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশ সাময়িকভাবে অবৈধ, জেল-জরিমানার বিধান

উত্তর কোরিয়ায় সস্তায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়: কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডসহ তিন প্রজন্মের শাস্তি


পনের টাকার বিনিময়ে মশাল পর্যটন কেন্দ্রে কিনতে পাওয়া যায়। গুহার একদিকে ঢুকে অন্যদিকে গিয়ে বেরোতে সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। এটি উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ। পর্যটন কেন্দ্রটি খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় বাস বা ট্যাক্সিতে যাতায়াত করা যায়।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

মুড়ির বাজার কল কারখানার দখলে, হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ি

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:

মুড়ির বাজার কল কারখানার দখলে,
হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ি

রমজান মাসে মুড়ি ছাড়া বাঙালির ইফতার কল্পনা করা যায় না। ইফতারে অন্য আইটেমের কমতি থাকলেও মুড়ি থাকা চাই। কিন্তু বর্তমানে হাতে ভাজা এই মুড়ির বাজার চলে গেছে কল কারখানার দখলে।

আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের জীবন মানের অগ্রগতির পথে আজ প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক কিছু বিলুপ্ত প্রায়। এই হারানো ঐতিহ্যে গুলোর মধ্যে অন্যতম হল হাতে ভাজা দেশি মুড়ি। কালের পরিক্রমায় আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কিছু কারখানায় মুড়ি উৎপাদিত হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সু-স্বাদু হাতে ভাজা দেশি মুড়ি।

গত কয়েক বছর পূর্বেও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহব্বতপুর, হরিনারায়নপুর, মালিগা বিশ^াসপুর, গিলাবাড়ি গ্রাম গুলো মুড়ির গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিল। ওই গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই মুড়ি ভাজার ধুম লেগে থাকতো। ‘গীগজ’ ধানের মুড়ি যার খ্যাতি ছিল সর্বত্র। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষাপটে যান্ত্রিক কারখানায় তৈরি মুড়ি বাজার দখল হয়ে গেছে। যার ফলে হাতে ভাজা মুড়ি শিল্পের সাথের পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনও হাতে ভাজা দেশি মুড়ি তৈরির কাজে নিয়জিত রয়েছে কিছু নারী ও পুরুষ। তবে কারখানায় উৎপাদিত এলসি মুড়ি সহজলভ্য ও বেশি বাজার জাত করণের ফলে দেশি হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা একেবারে কম।

হরিনারায়ণপুরের সাবিতা সেন জানান, মুড়ির চাল কিনে বাড়িতে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করি। এরপর লবণ দিয়ে রাখি। তার পর রোদে শুকিয়ে হাতে ভাজতে হয়। আর মেশিনে যারা মুড়ি ভাজে তারা হাইড্রোস মিশিয়ে মুড়ি বড় ও সাদা করে কম দামে বিক্রি করে। এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেকা কষ্টকর।

সুব্রত চন্দ্র রায় জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের বেশির ভাগ মুড়ির চাহিদা হরিনারায়ণপুর ও গিলাবাড়ি থেকে মেটানো হয়। অনেক কষ্টে মুড়ি ভেজে হেঁটে মুড়ি বিক্রি করি। ৩ থেকে ৪ দিন মুড়ি বিক্রি করে লাভ হয় ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

মুড়ি ভাজা ছেড়ে দেওয়া শান্তি বর্মণ বলেন, এক মণ পরিমাণের চালের মুড়ি তৈরি করতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। বর্তমানে ধানের দাম বৃদ্ধি, পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত লাকড়ি ক্রয় ছাড়াও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি মুড়ি উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় প্রায় ৬৬ টাকা। হাতে তৈরি মুড়ির রং লালচে হলেও খেতে সুস্বাদু হয়। এছাড়া ২০/২৫ দিন ঘরে রাখলেও এর স্বাদের কোন পরিবর্তন হয় না।

তিনি আরও বলেন, দেশে গড়ে ওঠা মুড়ি কারখানায় মুড়ি তৈরি হওয়ায় এখন হাতে তৈরি মুড়ি শিল্প পিছিয়ে পড়ছে। কারখানায় তৈরি মুড়ি দেখতে সাদা ধবধবে হলেও ২ দিন ঘরে রাখলেই চুপসে যায়। এসব মুড়ি খোলা অবস্থায় প্রতি কেজি ৬৫ টাকা এবং প্যাকেটজাতগুলো ৭৫ টাকায় পাওয়া যায়। যা হাতে তৈরি মুড়ির দামের চেয়ে কম। তাই হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে লাভ তো দূরের কথা আসল দামই তুলতে পারেন না মুড়ির কারিগররা।

মুড়ি শিল্পের সাথে জরিত কারিগরদের দাবি সরকার যদি এই শিল্প বাচাঁতে এগিয়ে আসে তাহলে তাদের জীবিকা রক্ষা পাবে। কারিগরদের সরকারী ভাতা বা অনুদান দিয়ে হাতে ভাজা মুড়ি সকলকে ক্রয় করতে উৎসাহ্ দিতে হবে এমটাই দাবি মুড়ি গ্রামের মানুষগুলোর।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যে ধরে রাখতে সকলকে হাতে ভাজা সুস্বাদু নিরাপদ পুষ্টিকর মুড়ি খাওয়ার আহ্বান জানান।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর