২২তম রোজার তারাবীহ

ড. তুহিন মালিক

২২তম রোজার তারাবীহ

ড. তুহিন মালিক

চলছে পবিত্র রমজান মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান মাসে দিনের বেলায় যেমন রোজা ফরজ, তেমনিভাবে রাতের বেলায় তারাবির নামাজও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

আজ ২১তম রোজা। আর তাই আজ দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হবে ২২তম তারাবীহ। এ নিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিক।

নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:-

২২তম রোজার তারাবীহ 

আজ মঙ্গলবার এশার নামাজের পর ২২তম রোজার (শবে ক্বদরের সম্ভাবনাময় শেষ দশকের অন্যতম একটি রাত) তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআনের ২৫তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।
২৫তম পারা (সুরা হা-মীম এর ৪৭ আয়াত থেকে সুরা যাসিয়ার শেষ আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো :-
•কেয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণ হতে বের হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। [সুরা হা-মীম-৪৭]
•আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে নেয়। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে। [সুরা হা-মীম-৫১]
•আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। [সুরা শূরা-১৯]
•যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। [সুরা শূরা-২০]
•তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন, পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তিনি তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। [সুরা শূরা-২৫]
•তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল; এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন। [সুরা শূরা-৩০]
•তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। তাদের জন্যে, যারা ঈমান আনে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে। [সুরা শূরা-৩৬]
• যে সবর করে ও ক্ষমা করে দেয়,  নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। [সুরা শূরা-৪৩]
•আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না। [সুরা শূরা-৪৭]
•নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে। [সুরা যূখরুফ-৪]
•আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন। [সুরা যূখরুফ-২৭]
•যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। [সুরা যূখরুফ-৩৬]
•শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সুরা যূখরুফ-৬২]
•বরকতময় তিনিই; নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [সুরা যূখরুফ-৮৫]
•আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। [সুরা দুখান-৩]
•এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। 
আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী।
আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [সুরা দুখান-৪-৬]
•ফেরাউন, সে ছিল সীমালংঘনকারীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। 
আমি জেনেশুনে তাদেরকে বিশ্ববাসীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। [সুরা দুখান-৩১-৩২]
•আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। 
আমি এগুলো অযথা সৃষ্টি করিনি; কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা বোঝে না। [সুরা দুখান-৩৮-৩৯]
•নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে। 
তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে।
এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে সঙ্গি দিব আনতলোচনা হুর। 
তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে।
প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না; এবং আপনার পালনকর্তা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই মহা সাফল্য। [সুরা দুখান-৫১-৫৭]
•সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। [সুরা যাসিয়া-৮]
•যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। [সুরা যাসিয়া-৯]


পুড়ছে সুন্দরবন, এখনও নেভেনি আগুন

মমতার শপথ: কখন শুরু হবে, কারা থাকছেন অনুষ্ঠানে?

 

সংসার ভাঙলো বিল গেটসের

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ


 

•আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। [সুরা যাসিয়া-১৮]
•যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ পরহেযগারদের বন্ধু। [সুরা যাসিয়া-১৯]
•আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। [সুরা যাসিয়া-২২]
•নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [সুরা যাসিয়া-২৭]
•আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য স্বাক্ষ্য দিবে। তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম। [সুরা যাসিয়া-২৯]
•যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য। [সুরা যাসিয়া-৩০]’ 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

ড. তুহিন মালিক

হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে

যে বাঘটি অতিশয় বৃদ্ধ, দূর্বল, রোগাক্রান্ত, ক্ষীন। সে শিকার করার সব শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে। তার সামনে আপনি যতই ঘোরাঘুরি করুন না কেন। সে আপনাকে আক্রমণের জন্য ছুঁটে আসবে না। তার মানে, সেই বাঘটি যে নম্র ভদ্র বা বাধ্যগত। তা কিন্তু নয়। কারন তার আর আক্রমণ করার কোন শক্তি, সামর্থ্য বা ইচ্ছা নাই। ঠিক তেমনি। আমাদের শক্তি, সামর্থ্য,  ইচ্ছা ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলোকে সেক্রিফাইস করার নামই হচ্ছে ঈমান।

তাই বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ অনেক অনেক বেশি খুশি হন তরুণ যৌবন বয়সের ইবাদতে। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, “যেদিন (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। সেদিন তিনি সাত শ্রেনীর লোককে তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মাঝে একশ্রেনীর হলেন এমন যুবক, যারা যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন।” (বুখারি, ৫০৪) 

এই সাত শ্রেনীর মধ্যে সেই শ্রেনীকেও আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। যারা হচ্ছে— “যে যুবককে কোনো সুন্দরী নারী ব্যভিচারের আহবান করলে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।”

রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে- তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন করা হবে যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছো।” (বুখারি)

আমরা অনেকেই বলি, ‘এত বাচ্চা বয়সে এসব করার কি দরকার আছে!’ অথচ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সমাজ সংস্কারে হিলফুল-ফুযুল গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। হযরত আলী (রাঃ) রাসূল (সাঃ)এর সঙ্গী হয়েছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে। 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা।  আসুন, আল্লাহর জন্য সেরাটাই ভাবি। আল্লাহকে সেরা সময়টা দেই। নগদে পাওয়া সহজলভ্য অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখকে, চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে ছেড়ে দেই। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। 

আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এই সেক্রিফাইসের বিনিময় হচ্ছে একটাই। আর তা হলো- জান্নাত। শুধুমাত্র জান্নাত। খুব বেশী কি দুরে? তারুণ্যের পর যৌবন। এরপর বার্ধক্য। এরপর .... ? এরপর সবই চিরস্থায়ী! হয় চিরস্থায়ী জান্নাত। আর না হয় চিরস্থায়ী জাহান্নাম! 

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা। আসুন, যৌবনের অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখের বিনিময়ে। চিরস্থায়ী সুখকে কিনে নেই। আত্মশুদ্ধির এই পবিত্র মাসে এটাই হোক তারুণ্যের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর মৃত্যু কিন্তু কারো বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। বয়সের সিরিয়ালও মানবে না। আসুন, আমরা আল্লাহকে সেরা সময়টাই দেই। সেরা সময়টাকে চিরস্থায়ী জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দেই। বিনিময়ে শুধু চিরস্থায়ী জান্নাতই নয়। বরং দুনিয়াটাও বোনাস হিসাবে পেয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

মারুফ কামাল খান

আসমানি ফয়সালার ওপর আমাদের আস্থা রাখতেই হবে

‘শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না।’

এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। তিনি এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন। মারুফ কামালের সেই লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মরহুম সাংবাদিক-রাজনীতিক তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে কিছুকালের জন্য আমি সাংবাদিকতায় ঊর্ধ্বতন সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলাম। সেটা দৈনিক দেশ-এ কাজ করবার সময়। সাবেক ছাত্রনেতা তাহের ঠাকুর পাকিস্তান আমলে দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার ছিলেন। সে যামানায় শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তৈরিতে তিনি বিরাট ভূমিকা রাখেন। স্বনামে 'জনতা সাগরে জেগেছে ঊর্মি' শিরোনামে ইত্তেফাকে শেখ সাহেবের ওপর সিরিজ রিপোর্ট করতেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য এবং শেখ সাহেবের কেবিনেটে তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তাহের ঠাকুর।

মুজিবহত্যার পর মোশতাক সরকারে অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে তাহের ঠাকুরের মন্ত্রীত্বও বহাল থাকে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া খোন্দকার মোশতাকের ভাষণসমূহও ছিল তাহের ঠাকুরেরই লেখা।

সুন্দর অভিজাত চেহারা ছিল তার। কণ্ঠস্বর ছিল চমৎকার। বেশভূষায় সব সময় নিপাট পারিপাট্য বজায় রাখতেন। কথাবার্তায় ছিলেন দারুণ চৌকশ। লিখতেনও দারুণ। অধুনালুপ্ত দৈনিক দেশ-এর শেষ পর্বে তিনি উপদেষ্টা সম্পাদক হিশেবে যোগ দিয়েছিলেন।

তাহের ঠাকুর ১৯৭৫ সালের মুজিবহত্যা ও জেলহত্যায় জড়িত ছিলেন বলে ব্যাপক প্রচার ছিল। আওয়ামী ঘরানার লোকজন তাকে অন্যতম চক্রান্তকারী বলে জানতেন। তবে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এবং সম্পাদকীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়ায় আমি তার প্রবল মুজিবভক্তি ও ভারতপ্রীতির প্রমাণ পেতাম। পরে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুজিবহত্যা ও জেলহত্যা উভয় মামলায় আসামি করে এবং গ্রেফতার করে জেলে রাখে। তবে বিচারে তাহের ঠাকুর বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন।

খুব তুখোড় আড্ডাবাজ লোক ছিলেন তাহের ঠাকুর। অফিসে এসেই আমাকে ডাকতেন। বাসা থেকে পিতলের ঝকঝকে পাত্র ভরে আনতেন সাজানো পান। সেটা খুলতেই সুগন্ধী জর্দার সুরভীতে ঘর মৌ মৌ করতো। তার চেয়ারের পাশে একটা পিকদানিও রাখা ছিল। আমারও তখন পান খাবার নেশা ছিল জব্বর। ধুমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কিংবা আয়েশ করে পান চিবুতে চিবুতে জমে উঠত আড্ডা। তাতে শামিল হতেন সহকর্মীদের অনেকেই।

'নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হয়। তখন আ.লীগের প্রতি তাহের ঠাকুরের অনুকূল মনোভাব আরো পরিস্কার হয়ে যায়। আমরা ছিলাম তখন বিএনপির পাগলপারা সমর্থক। একদিন একটু ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে বললাম, এতো বেশি আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ করেন, কিন্তু ওরা তো আপনাকে খুনি ও চক্রান্তকারী বলে। ওরা ক্ষমতায় এলে তো আপনাকে লটকে দেবে।

আমার ডাক নাম ধরে ডাকতেন তিনি। খানিকটা ম্লান হাসি হেসে বললেন, সোহেল ভাই, একটা কথা বলি শোনেন। মনে রাখবেন, জগতের অনেক কিছুর ফয়সালাই কিন্তু মানুষের হাতে নেই। সেগুলোর ফয়সালা হয় আসমানে। আমরা দুনিয়ার মানুষ এক রকম পরিকল্পনা করি কিন্তু আসমানি ফয়সালায় তা সম্পূর্ণ উলটে যায়।

তারপর তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে একটা মেসাল দিয়ে বললেন, ইন্ডিয়ায় মিসেস গান্ধীর ব্যাপারটা দেখুন। তার দুটি ছেলে। বড়টি রাজিব - ধীরস্থির, শান্ত। খুব রোমান্টিক ও শিল্পবোধসম্পন্ন তরুণ। কিছুটা স্বপ্নচারী। এক বিদেশিনী মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে, সুন্দর বেহালা বাজায়। মিসেস গান্ধী ভাবলেন, এই স্বাপ্নিক ছেলেকে দিয়ে রাজনীতি হবেনা। ও ডানা মেলে আকাশে উড়ুক। রাজিবকে পাইলট বানালেন তিনি।

ছোট ছেলে সঞ্জয়। সে ডানপিটে, একটু উগ্র স্বভাবের। রগচটা ছেলেটা সবার সাথে মেশে। একটু মতের অমিল হলেই মারপিটও করে ফেলে। শ্রীমতি গান্ধী এ ছেলেকেই তার রাজনীতির উত্তরসূরী করলেন।

কিন্তু বিধি বাম। আসমানি ফয়সালা ভিন্ন। যাকে তিনি রাজনীতির মাঠের জন্য তৈরি করলেন, সেই ছেলে একদিন ফ্লাইং ক্লাবের একটা প্লেন নিয়ে আকাশে উড়তে গিয়ে দুর্ঘটনায় হুট করে মরে গেলো। এরপর শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে মিসেস গান্ধী নিজেও নিহত হলেন। তখন আকাশে ওড়া সেই পাইলট ছেলেটিকে মাটিতে নেমে এসে হাল ধরতে হলো মায়ের রাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে। আর রাজনীতিতে নামার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েও রাজিবকে জীবন দিতে হলো অন্তর্ঘাতকের বোমা হামলায়!

তাহলে কী দাঁড়ালো? শ্রীমতী গান্ধী যে ছেলেকে জমিনে মানুষের রাজনীতির জন্য গড়লেন, সে বিমান দুর্ঘটনায় মরলো। আর বিমান দুর্ঘটনায় মরার আশঙ্কা ছিল যে পাইলট ছেলের, সে কিনা রাজনীতি করতে নেমে প্রাণ দিল ঘাতকের হাতে। কাজেই মানুষের পরিকল্পনা সব সময় কাজ দেয় না। সব কিছুর ওপরে যে আসমানি ফয়সালা সেই কুদরতের ওপর আমাদেরকে আস্থা রাখতেই হবে।

অনেক দিন আগের গল্প। স্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বার পেরিয়ে তাহের ঠাকুরও অনেক আগেই গত হয়েছেন। তবুও ঘটনার নানা রকমের অভিঘাত দেখলে এখনো তার সে বয়ান মাঝে মাঝে মনে পড়ে। ভাবতে থাকি, মানুষের পরিকল্পনার বিপরীতে অকল্পনীয় আসমানি ফয়সালা যে কোনো মুহূর্তে আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দিতে পারে।

সেই গভীর আস্থাটা মনের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

অক্সিজেনের জন্য কত কত মানুষের আহাজারি, কত মৃত্যু!

ইভা দাস

অক্সিজেনের জন্য কত কত মানুষের আহাজারি, কত মৃত্যু!

আমরা সবাই কম-বেশি গাছকে ভালোবাসি। আর অক্সিজেন যে মানুষের জন্য কত দরকারি তা কোভিড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একটু অক্সিজেনের জন্য কত কত মানুষের আহাজারি, কত মৃত্যু!!  আমরা সবই জানি কিন্তু তারপরও ভুলে যাই। 

অনেক বছর আগে যখন সিঙাপুর গিয়েছিলাম তখন সেখানে দেখেছি, এত ছোট্ট একটা দেশ অথচ কতই না উন্নত, ছোট দেশ বলে সেখানে কেউ পারসোনাল সিঙেল বাড়ি বানাতে পারে না, সেখানের সরকার বিশাল বিশাল বিল্ডিং বানায় জনগণের থাকার জন্য। 

সে দেশের একটা বড় অংশ সেখানের জংগল, কিন্তু তারা সেখানে হাত দেয় না। প্রকৃতিকে কেটে তারা অবকাঠামো গড়ে তোলে নি। প্রকৃতিকে তারা প্রকৃতিই রেখেছে আর বাকি অংশে বসতি, উন্নতি সবকিছু। 

বেশ কয়েকটা বড় বড় ঘুর্ণিঝড়ের কাছ থেকে সুন্দরবনের গাছপালা আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছিল। আমরা তারপরও ভুলে যাই, গাছ কেটে অবকাঠামো গড়ে তুলি, কিন্তু যদি কাঠামোটাই না থাকে, তখন?? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কেটে রেস্তোরাঁ আর গাড়ি পার্কিং এর জায়গা তৈরি করা কি এতটাই উন্নতি দেশের জন্য !!!  আমি জানি না, আমার এত জ্ঞান কোথায়? 

এখন খারাপ লাগছে কয়দিন পর সবার মতো আমিও ভুলে যাব। একসময় হয়তো নিজের সন্তানকে দেখিয়ে বলব--এইখানে এক সময় পার্ক ছিল, অনেক বড় গাছ ছিল, পাখির ডাকা-ডাকি ছিল !!

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

সবাই যা ভুলে যায় তা আমার মনে থাকে

জসিম মল্লিক

সবাই যা ভুলে যায় তা আমার মনে থাকে

জসিম মল্লিক

টুকরো স্মৃতি

আলু দিয়ে গরুর মাংসের তরকারি আর ঘন ডাল..

১.

একবার ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছি। গাজী স্টীমারে। তখন দিনে সার্ভিস ছিল স্টীমারের। সকাল এগারোটায় বাদামতলী ঘাট থেকে ছাড়ত সন্ধ্যা ছটায় বরিশাল পৌঁছে যেতো। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন। স্টীমারের তৃতীয় শ্রেণি নিচ তলায়। সেখানে ঘুর ঘুর করছি। তখন দুপুর। খাবারের সময় হয়ে গেছে। স্টীমারে কিচেনও নিচ তলাতে। ইঞ্জিন রুমে পাশেই ছোট্ট একটা রুমে রান্না হয়। গরুর মাংস আর ডাল রান্নার ঘ্রাণ স্টীমারের চারিদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছিল আর আমার পেটে মোচড় দিয়ে উঠছিল তীব্র ক্ষুধা। 

কিন্তু আমার পকেটে পয়সা নাই! হঠাৎ দেখি ইভা। বরিশালের মেয়ে ইভা। সুন্দর গোলগাল দেখতে। চেহারায় একটু অহংকারী ভাব। ইডেন কলেজে পড়ে। সাদা ফতুয়া আর জীন্স পড়া। একটু উদ্ধত শরীর কিন্তু ভাল লাগছিল। বয়সটাই ভাললাগার। স্টীমার তখন চাঁদপুরের কাছে চলে এসেছে। জেলেরা মাঝ নদীতে রুপালী ইলিশ ধরছে। আমি রেলিং ঘেসে দাঁড়িয়ে মেঘনা নদীর বড় বড় ঢেউ দেখছি। 

দুঃসাহসী জেলেরা মাঝ নদী দিয়ে অবলীলায় পার হচ্ছে। একসময় ইভা আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমাদের মধ্যে তেমন কোনো কথা হয়নি সেদিন। কিন্তু সেই পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে অনেক কথা ছিল। ইভা কি কিছু বলতে চেয়েছিল! সেদিন ইভা আমাকে দুপুরের খাবার খাইয়েছিল। আহা কি যে স্বাদ লেগেছিল সেই ভাত আর গরুর মাংসের তরকারি! 

২.

সবাই যা ভুলে যায় তা আমার মনে থাকে। আর একবার আমি সামাদ লঞ্চে বরিশাল যাচ্ছিলাম। ঈদ করতে। আমার যাওয়ার তেমন ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু দুটো কারণে যেতে হচ্ছিল। এক নম্বর মা কষ্ট পাবেন, দুই নম্বর এই সময় হল খালি হয়ে যায়। ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই আমি বরিশাল যাচ্ছি। রাতের দিকে আমার খুউব জ্বর উঠল। সেটা ছিল ডিসেম্বর মাস। কনে কনে ঠান্ডা। 

ত্রিপল দিয়ে লঞ্চের চারিদিকে বন্ধ থাকলেও সামাদ লঞ্চের স্টিলের বডি বরফের মতো হয়ে আছে। আমার সঙ্গে কাঁথা কম্বল কিছু নাই। এখন যখন বরিশাল যাই কত আয়োজন- ভিআিইপি কেবিন, এয়ারকন্ডিশন, এটাচ বাথ, টেলিভিশন, ডাইনিং, লিফট পর্যন্ত আছে। সামাদ লঞ্চেও হয়ত কেবিন ছিল কিন্তু আমি যাচ্ছিলাম ডেকে। একেতো জ্বর তার উপর অভুক্ত আমি গুটিসুটি মেরে একটা হিন্দু পরিবারের পাশেই নির্জিব হয়ে পড়েছিলাম। আমি জ্বরের ঘোরে কোকাচ্ছিলাম দেখে সেই নারী তাদের ভাগের রুটি আর কলা খেতে দিল আমাকে এবং আমার গায়ে একটা কাঁথা পেচিয়ে দিলেন।

৩.

আমি তখন মহসিন হলের ৬৩২ নম্বর রুমে থাকি। আমি কামালের রুমমেট। কামাল তখনই ব্যাস্ত সংবাদিক। দৈনিক জনতায় কাজ করে। সকালে বের হয় রাতে ফেরে। আমি দশদিন ধরে রুমে পড়ে আছি। আমার জ্বর ঠান্ডা কাশি। হিস্টাসিন খেয়ে আমার মাথা ব্লক হয়ে আছে। নিশ্বাস নিতে পারি না। হিস্টাসিনের মতো কুৎসিত ওষুধ যে কে আবিষ্কার করেছে! 

জ্বর মুখে ক্যান্টিনের খাবার ভয়াবহ লাগে! তিন ধরে কামাল নাই। পাবনা গেছে ওদের বাড়িতে। ও থাকলেও কিছু একটা গতি হতো। এদিকে আমার পকেট গড়ের মাঠ। কাল থেকেই আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে এই ভেবে আতঙ্কে আমি অস্থির। মাঝে মাঝে নিচের দোকান থেকে রুটি কলা এনে খাই।


ছাদে মিলল মাদ্রসাছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ

রাশিয়ায় এক ডোজের স্পুটনিক টিকার অনুমোদন

জুমাতুল বিদাকে ‘আল-কুদস দিবস’ বলা হয় কেন?

মধ্যরাতে হেফাজতের নেতা শাহীনুর পাশা গ্রেপ্তার


জেসমিনের সাথে সদ্য পরিচয় হয়েছে আমার। মাঝে মাঝে দেখা হতো। আমার বেশি কথা থাকে না তার সাথে। কি কথা বলব আমি! সে আমার মনে তেমন দাগ কাটতে পারেনি তখনও। সম্পর্কটা দানাও বাঁধেনি। বাঁধার সম্ভাবনাও নাই। তার কথা প্রায়ই ভুলে যাই। শুধু তার হাসি মনে পড়ে। অনেক জোরে জোরে হাসতে পারে। প্রাণখোলা হাসি। 

জ্বরের মধ্যে তার কথা মনে পড়ছিল সেদিন। ইশ্‌ এই সময় কোনো আপনজন কাছে থাকলে কত ভাল হতো! আচ্ছা সে কি আমাকে ক্যাম্পাসে না দেখে চিন্তিত হচ্ছে! এইসব এলেবেলে ভাবছি এমন সময় ক্যান্টিনের বয় আমার রুমে আসল। হাতে একটা ব্যাগ। বলল একজন আপা আপনারে দিতে বলছে। খুলে দেখি তার মধ্যে গরম খিচুড়ি, ডিম ভুনা আর গরুর মাংস…!

জসিম মল্লিক, সাংবাদিক, কানাডা

পরবর্তী খবর

কোভিড সার্টিফিকেট জাল, ধ্যাত তাও কি হয় নাকি!

শওগাত আলী সাগর

কোভিড সার্টিফিকেট জাল, ধ্যাত তাও কি হয় নাকি!

শওগাত আলী সাগর

যে কোনো দেশে ভ্রমণেই এখন কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। এই সার্টিফিকেট কি জাল হয়? কেউ কি ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ভ্রমণ করে! টরন্টোর পিয়ারসন  ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে দুজন ধরা না পরলে মনে হতো- ধ্যাত, তাও কি হয় নাকি!

ডমিনিকান রিপাবলিক থেকে বিমানে টরন্টো নেমে তিনি কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখান। এখানকার অফিসারদের সন্দেহ হলে সার্টিফিকেটটি যাচাই বাছাই শুরু করেন। দেখা যায় কভিড-১৯ টেস্টের ফলাফলটি পাল্টে দেয়া হয়েছে। তাকে ২ হাজার ৫শত ডলার জরিমানা করা হয়। সেটি ছিলো ফেব্রুয়ারির ঘটনা। 

এপ্রিলে আরেকজন ধরা পরেন একই রকমভাবে ফলাফল পাল্টে দিয়ে। তিনি এসেছিলেন নিউইয়র্ক থেকে। তাকে জরিমানা করা হয় ৬ হাজার ৫০০ ডলার।

কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি অবশ্য এখন বলছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জনকে ধরেছে যারা কোভিডের টেস্টের ফলাফল পাল্টে কানাডায় এসেছেন।এদের ৫ হাজার, ৭ হাজার, ১০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। 

প্রতারণা করে যারা ভ্রমণ করেছে তাদের মধ্যে যারা ধরা পরেছে তাদের ব্যাপারে না হয় আমরা জানতে পারলাম। কিন্তু এর বাইরে কি আর ছিলো না? 


খালেদা জিয়াকে যে দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি

জাতীয় অধ্যাপক হলেন তিন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ

যে কারণে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে পার্লামেন্টে এমপি


যারা সত্যি সত্যি কোভিড পজিটিভ, অথচ ভুয়া ডকুমেন্ট দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করছে, বা করেছে। কোভিড ভাইরা, ভ্যারিয়েন্ট এরাই কি নানা দেশে ছড়িয়ে দেয়নি!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর